ব্রোকারেজ হাউজ ব্যবসায় সাকিব আল হাসান

ব্রোকারেজ হাউজ ব্যবসায় সাকিব আল হাসান

৩০টি নতুন ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেখানে সাকিবের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং রয়েছে।

পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউজ) ব্যবসা করার অনুমতি পেলেন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান।

বুধবার ৩০টি নতুন ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেখানে সাকিবের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম।

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। অনুমোদন পাওয়ার পর এখন রেজিস্ট্রেশন ফি ও জামানতের টাকা দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য হিসেবে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হবেন সাকিল আল হাসান।

প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে রয়েছেন কাজী সাদিয়া হাসান।

ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেক হচ্ছে যেখান থেকে বেনিফিশারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলাসহ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন।

ডিএসই ব্রোকারেজ হাউজের সদস্য হিসেবে অনুমোদন পেতে ৫৪টি আবেদনের মধ্যে ৩০টির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন ৩০টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ফলে ডিএসইর সদস্যভুক্ত মোট ব্রোকারেজ হাউজের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮০টি।

বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব

দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের শুভেচ্ছা দূতের দায়িত্ব পালন করছেন ক্রিকেট মাঠের এই অলরাউন্ডার।

কমিশনের ৬১২তম সভায় সাকিব আল হাসানকে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন বিএসইসির চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কমিশনের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে আছেন সাকিল আল হাসান।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) দেশের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, খেলোয়াড় বা নামিদামি ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাকিব আল হাসানকে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নেয় কমিশন।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনিয়োগ করুন বাংলাদেশের আইটি খাতে  

বিনিয়োগ করুন বাংলাদেশের আইটি খাতে  

সানফ্রান্সিসকোর সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে হয় ১০ দিনব্যাপী রোডশোর সমাপনী। ছবি: নিউজবাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে রোডশোতে একাধিক বক্তা বলেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের পরই সম্ভাবনাময় আইটি খাত। একদিকে দেশীয় বাজারে আইটি খাতের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রপ্তানি খাতেও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এসব বিষয় সামনে রেখে বিনিয়োগবান্ধর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে এ খাতে বিনিয়োগে বিদেশি ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত রোডশোর বক্তারা।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের পরই সম্ভাবনাময় আইটি খাত। একদিকে দেশীয় বাজারে আইটি খাতের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রপ্তানি খাতেও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এসব বিষয় সামনে রেখে বিনিয়োগবান্ধর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ১০ দিনের রোড শোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তারা বলেন, আইটি খাতে বিনিয়োগ করলে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।

সানফ্রান্সিসকোর সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে রোডশোর মূল বিষয় ছিল ‘রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়াল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেয়র লিসা এম গিলমোর। বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। বিভিন্ন উৎপাদনশীল কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা, মিডিয়া এবং বিদ্যুৎ খাতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে নেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এই অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত। আর প্রবাসীদের সব ধরনের জটিলতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে যাচ্ছি।’

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, মুদ্রার বিনিময় হার, যুব শ্রমশক্তি এবং ইকো সিস্টেম সবকিছুই বিনিয়োগ উপযোগী।’

তিনি বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ বিজনেসের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাপক বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ।

‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার রয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। কম মূল্যে শ্রমিক, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অন্যান্য সেবা মিলছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের প্রথম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে রপ্তানিতে বিভিন্ন দেশে উচ্চ শুল্ক দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করলে চীন, ভারত, ইউরোপ ও জাপানের বাজার থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে পারবে।’

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতি পরিস্থিতি নিয়ে শিবলী বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে বেশ কিছু সংস্কার হয়েছে। আর এসব সংস্কারের সুফল মিলছে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইটিভিত্তিক স্টার্টআপকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এবারের বাজেটেও বিভিন্ন সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ২৯টি হাইটেক পার্কের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব পার্কে ইউটিলিটি সুবিধা সবচেয়ে বেশি।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে। করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সরকার। এগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

‘সবকিছু মিলে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে আর্কষণীয় পরিবেশ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তুলে ধরতে গিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ। একই পূর্বাভাস দিয়েছে আরেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ। আর মোট জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিকে সাপোর্ট দিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬০ ডলার। বর্তমানে তা ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

করোনার মধ্যেও ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুসারে করোনার মধ্যে ২৩ দেশ অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক অবস্থানে থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমশক্তি ৭ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কোটিই বয়সে তরুণ। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

এ সময়ে হাতে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে নাগরিকদের কাছে নগদ টাকা। চাহিদামতো দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট ক্রয়, দেশে ও বিদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ—সবই হচ্ছে এ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। সময়মতো বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিস্তি না দিলেই গুনতে হবে চড়া জরিমানা।

‘করোনা মহামারি চলছে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে শাটডাউন দিয়েছে সরকার। এই মুহূর্তে কী করে ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধ করব? বের হলেই তো রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে জবাবদিহি করতে হবে। হেনস্তার শিকার হতে হবে। কিন্তু সময়মতো কিস্তি জমা না দিলেও আছে জরিমানার খড়্গ।’

আক্ষেপের সুরে এসব কথা জানান বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী আতিয়া খানম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবারের পর রোববারও ব্যাংক বন্ধ ছিল। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে কোন শাখা খোলা, সেটা জানেন না তিনি। এখন বিল কীভাবে দেবেন, সেটা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। কারণ সপ্তাহে মাত্র সোম, মঙ্গল আর বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখা খোলা।

এ সময়ে হাতে নগদ টাকা না থাকলেও ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে নাগরিকদের কাছে নগদ টাকা। চাহিদামতো দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট ক্রয়, দেশে ও বিদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ—সবই হচ্ছে এ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। সময়মতো বিল পরিশোধ করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিস্তি না দিলেই গুনতে হবে চড়া জরিমানা।

গত বছর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর লম্বা একটা সময় ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর চলতি বছর ৫ এপ্রিল এক সপ্তাহের লকডাউন চলাকালে ক্রেডিট কার্ডধারীদের বিল পরিশোধে ভোগান্তির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনায় রাখলেও এরপর দফায় দফায় শাটডাউনে সেটি নিয়ে ভাবা হয়নি। সময়মতো বিল পরিশোধ না করা হলে জরিমানা না নেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

কঠোর বিধিনিষেধে ব্যাংকের সব শাখাও খোলা থাকবে না। সব ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দেয়ার পদ্ধতিও নেই। ফলে এবার সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দেয়ার কোনো একক তারিখ নেই। একেকজনের ক্ষেত্রে এটি একেক রকম। তবে নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারলে সেখানে বিলম্ব ফি ছাড়াও উচ্চ হারে সুদ গুনতে হয়। এ কারণে গ্রাহকরা কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধে জোর দিয়ে থাকেন।

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

ক্রেডিট কার্ডের বিল অনলাইনেও জমা দেয়া যায়। তবে সবাই অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করেন না। তারা ব্যাংকে গিয়েই টাকা পরিশোধ করেন।

পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বিকাশের মাধ্যমে সহজেই কার্ডের বিল পরিশোধ করা গেলেও সবাই সেটা বোঝেন না। দেশে ইস্যু হওয়া ভিসা ও অ্যামেক্স ব্র্যান্ডের সব ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করা যাবে বিকাশের মাধ্যমে। এর বিপরীতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১ শতাংশ মাশুল গুনতে হবে।

এবার শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর বিধিনিষেধে সরকার অনেক কঠোর। মানুষকে ঘরে রাখতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বের হওয়ায় মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, বিধিনিষেধ চলাকালে শুক্র ও শনিবারের পাশাপাশি ব্যাংক বন্ধ থাকবে রোববার ও বুধবার। বাকি দিন সবগুলো শাখা খুলবে না। প্রতিটি ব্যাংক প্রয়োজন অনুসারে শাখা খোলা রাখতে পারবে।

ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো দিতে না পারলে জরিমানার পাশাপাশি অনেক বেশি হারে সুদ দিতে হয়। ব্যাংকে সুদহার ৯ শতাংশ হলেও কার্ডের সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে আয় কমে গেছে। কোম্পানি বন্ধ থাকার কারণে লোকসান গুনতে হবে। সামনে অবস্থা আরও খারাপ হবে কি না, বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে গত মাসে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা ঋণ নিয়েছি। এই মুহূর্তে কিস্তি দেয়া সম্ভব নয়। বিলম্ব ফি ও চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপ হলে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।’

ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

বাংলাদেশে গত এক দশকে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।

শাটডাউন: ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে ভোগান্তি

২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক ছিল ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭১, যা চলতি মে মাসে বেড়ে হয়েছে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৪। ফলে এক বছরে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪১৩।

গত মে মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৭১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ বছর মে মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশে ইস্যু হওয়া ১৭ লাখ ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশই ভিসা ও অ্যামেক্স ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে ভিসা কার্ড রয়েছে প্রায় সব ব্যাংকের। আর অ্যামেক্স কার্ড এককভাবে বাজারে এনেছে দ্য সিটি ব্যাংক। এর বাইরে আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের কার্ড চালু রয়েছে দেশে।

ব্যাংকাররা যা বললেন

দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে কার্ড সেবায় শীর্ষে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অনেকে শাখায় গিয়ে সেবা নিতে চাইছেন না। ফলে বিকল্প সেবা মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কিস্তি শোধে এবার কোনো ছাড়ের নির্দেশনা নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেয়নি। ’

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বেশ কিছুদিন ধরে শাখা থেকে সীমিত লেনদেন চলছে। এ জন্য কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে ব্যাংকগুলো বেশ আগ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। আগে কার্ডের ব্যবহার করতেন না- এ রকম অনেকেই এখন এদিকে ঝুঁকছেন। করোনার এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেকোনো নির্দেশ পরিপালন করা হয়। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশনা দিলে সেটা মানা হবে।’

ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধে কোনো ছাড় দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালায় অন্য যেকোনো ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বেশি সুদ নিতে পারবে বলে জানানো হয়।

২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মানে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। তবে এই নির্দেশনাও অমান্য করে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত।

ফলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না বলে নতুন নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

এতে আরও বলা হয়, ক্রেডিট কার্ডে সুদ আরোপ শুরু হবে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের পর। বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়।

আর ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটায় ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা সুদে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকে। অর্থাৎ প্রতি ৩০ দিনের খরচের ওপর বিল তৈরি করে ওই বিল পরিশোধের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে কোনো সুদ আরোপ করা হয় না। আর এই সময় পার হয়ে গেলে ওই বিলের ওপর সরল হারে সুদ আরোপ করে ব্যাংক। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে এই সুদহার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।’

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে সেই ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা তার অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করছে। এতে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুসরণীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা না হলে প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়।’

সোমবার দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রণোদনার ঋণ যাতে যথাযথ ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

‘করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হয়, সেজন্য এসব ঋণের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।’

এর আগে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে একই ধরনের নির্দেশনা দেয়।

১ আগস্ট রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের আরেকটি চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার যে ঋণ বিতরণ করেছে, সেই ঋণ কোথায় গেছে, কারা নিয়েছে, তা ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে। যদি এই প্রণোদনার টাকা যাদের প্রয়োজন তারা না পেয়ে থাকেন, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তরা না পেয়ে অন্য কেউ পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ঋণগ্রহিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সব মিলিয়ে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছোট ও বড় ব্যবসায়ীরা (বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত) স্বল্প সুদে ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের মোট সুদের অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধন জোগান দেয়ার জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের মতো এসব ঋণের সুদহারও হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ দেবেন গ্রাহক। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময়ও প্রণোদনা ঋণের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি বলেন, ‘এটা অনস্বীকার্য যে, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম অনেকটা শিথিল থাকায় প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কিছু অপব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’

‘এ প্রসঙ্গে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, বর্তমানে করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরেজমিনে পরিদশর্ণ/নিরীক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্থ হলেও প্রযুক্তিনির্ভর অফ-সাইট নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর টাকা যে উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে, তা যেন অন্য কোন উদ্দেশে ব্যবহৃত হতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নজরদারি বাড়িয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

‘একইসঙ্গে, করোনা পরিস্থিতির কাঙ্খিত উন্নতির সাথে সাথেই প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে সরেজমিনে নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদারকরণের পাশাপাশি এর ব্যবহার ও ফলাফল বিষয়ে বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’

এছাড়া আর্থিক খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বিদেশে অর্থপাচার রোধকল্পে বিএফআইইউয়ের মাধ্যমে আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ফজলে কবির।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

ফেরত গেল উন্নয়নের ৩৭ হাজার কোটি টাকা

ফেরত গেল উন্নয়নের ৩৭ হাজার কোটি টাকা

২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এডিপির ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ফেরত গেছে। ছবি: সংগৃহীত

করোনায় ব্যয় কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে শুধু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পগুলোও পুরো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বিশাল এডিপি নিয়ে তার পুরোটা খরচ করতে না পারায় সরকারের সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের শুরু থেকেই ধীরগতি ছিল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। মাঝামাঝিতে এসে কিছুটা কাটছাঁট করে আকার ছোট করা হয় উন্নয়ন বাজেটের। শেষ দুই মাসে ব্যয় কিছুটা বাড়লেও বছরের শেষটাও আশাব্যঞ্জক হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এডিপির ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ফেরত গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যদিও বছরের শুরু থেকে বলা হয়েছিল, করোনার সময় সরকারের ব্যয় কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকেই এডিপিতে স্থান দেয়া হয়েছে। সেগুলোতেই বরাদ্দ দেয়া হবে। তবে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও পুরো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এমনকি কাজে বিলম্ব যেন না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে উন্নয়নের পেছনে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে বছরের মাঝামাঝিতে এসে তা কমিয়ে সংশোধিত এডিপি ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় নামানো হয়। অথচ গত জুন শেষে তা থেকে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

জাতীয়ভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশে। বাকি ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ পেয়েও খরচ করতে পারেনি সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

বিশাল এডিপি নিয়েও তার পুরোটা খরচ করতে না পারায় বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এডিপির যে বাস্তবায়ন হার, তাতে কেবল সংখ্যা বা আর্থিক দিক পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়, তাও খতিয়ে দেখা উচিত। আবার কাজের মান কেমন, তাও দেখা উচিত। এসব বিবেচনায় নিলে এডিপির বাস্তবায়ন চিত্রে হতাশা ছাড়া কিছুই মিলবে না।

বিশ্লেষকরা বলেন, বছরের শুরুতে বরাদ্দ পেলেও তখন খরচ না করে বছরের শেষের জন্য রেখে দেয়া হয়। এতে শেষ সময়ে যেনতেনভাবে অর্থ খরচ করা হয়। এতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হয় না, অর্থব্যয়ের পর তা কোনো কাজেই আসে না। তবে এডিপির কম ব্যয়ের পেছনে করোনার কিছুটা প্রভাবও রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বছরের শুরুতে এডিপির আকার কত বাড়ানো যায় তার একটা প্রবণতা থাকে। কিন্তু আকার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন হার এবং কোয়ালিটি, এই দুটি যদি বৃদ্ধি না হয়, তাহলে টাকার অঙ্কে এডিপি কত বড় হলো তাতে অর্থনীতির কিছু আসে-যায় না। বরাবরই আমরা বলে আসছি, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, কোনগুলো জাতীয় অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোতে নজর দিতে হবে।’

অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর প্রকল্পের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই আকার ও প্রকল্প সংখ্যায় এডিপি যতটা ভারী হচ্ছে, সেই তুলনায় বাস্তবায়নকারীরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। যদিও প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন থেকে শুরু করে কী কাজ করা হবে, কী কেনাকাটা হবে, কীভাবে কেনাকাটা হবে, কী ধরনের লোকবল লাগবে- সবই ঠিক করা থাকে। কিন্তু কাজ শুরুর পর দেখা যায়, সব ক্ষেত্রে অস্পূর্ণতা। মাঝপথে লোকবলের পরিবর্তন হয়, সংশোধন করতে হয়, কাজে দেরি হয়। প্রতিবছরই এ ধরনের একটা চিত্র দেখা যায়। সরকার এ থেকে বের হবে কবে?’

সক্ষমতা কম থাকার পাশাপাশি করোনাও এডিপিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বড় এডিপি নেয় সরকার, কিন্তু ব্যয় করতে পারে না। সক্ষমতার অভাব তো রয়েছেই, এবার করোনার কারণে খরচ একটু কম হয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু কিছু প্রকল্পে কাজ হচ্ছে।’

কোন অংশে কত ফেরত গেল

গত অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। বছর শেষে এ খাত থেকে অব্যয়িত থেকে যায় ২২ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার মতো। খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা।

বৈদেশিক সহায়তা থেকে নেয়ার জন্য ধার্য করা হয়েছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। তা থেকে রয়ে গেছে ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। খরচ হয়েছে ৫২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।

বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ছিল ১১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষের হিসাবে তা থেকে ব্যয় হয়নি ৭ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

শেষ দুই মাসে ব্যয়

বরাবরই দেখা যায়, বছরের শুরুতে কাজের তেমন গতি থাকে না। শেষ দিকে অর্থব্যয় লাফিয়ে বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু জুনে এডিপির খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ। এর আগে মে মাসে খরচ হয়েছিল ১৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বা ৯.২৭ শতাংশ। এতে শেষ দুই মাসেই খরচ হয়েছে ৭০ হাজার ৩২১ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ। আর বাকি ১০ মাসে খরচ হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছর তা থেকে কিছুটা উন্নতি হলেও তা গত বছর বাদে ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে বড় দুর্বলতা হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলোর গাফিলতি। বছরের শুরুতে কাজ না করলেও দেখা যায়, শেষ মাসে প্রচুর টাকা ছাড় করে মন্ত্রণালয়গুলো হিসাব দেখায় বাস্তবায়ন বেড়েছে। এতে কাজ মানসম্মত হয় না। এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না। এ জায়গায় মনিটরিং ও জবাবদিহি জোরদার করতে হবে।’

বাস্তবায়ন হারে শীর্ষে যারা

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, এডিপি বাস্তবায়নে সবার চেয়ে এগিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভাগটি মোট বরাদ্দের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হারও ১০১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয় ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৮৮ শতাংশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৮৯ শতাংশ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৮৯ শতাংশ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ৯৭ শতাংশ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রায় ৮৭ শতাংশ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৮৫ শতাংশ এবং সেতু বিভাগ প্রায় ৮৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

ব্যয়ের হারে তলানিতে যারা

ব্যয়ের দিক দিয়ে সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৪১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪৭ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৪৮ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগ ৫০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

ভ্যাট পরামর্শক লাইসেন্স পেতে আবেদন আহ্বান

ভ্যাট পরামর্শক লাইসেন্স পেতে আবেদন আহ্বান

এনবিআর বলেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। অনলাইন ও প্রচলিত প্রথা দুই ভাবে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।  

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরামর্শক লাইসেন্স পেতে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর বলেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। অনলাইন ও প্রচলিত প্রথা দুই ভাবে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

সোমবার এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ভ্যাট পরামর্শক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে যারা আগ্রহী, তাদের কাছে থেকে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

তিনি আরও জানান, আগ্রহী ব্যক্তিকে অনলাইনে কিংবা প্রচলিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

এনবিআর বলেছে, ২০১২ সালের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে ভ্যাট পরামর্শক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় দলিল ও সনদ দিয়ে লাইসেন্স অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে এবং কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে কোনো বিষয়ে স্নাতক সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে।

সরকারি বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে চাকরিরত, চাকরি থেকে অপসারিত, বরখাস্তকৃত ব্যক্তি আবেদন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া কিংবা ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যার সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়নি, এমন ব্যক্তি এবং ইতোপূর্বে যাদের ভ্যাট পরামর্শক, ভ্যাট এজেন্ট ক্লিয়ারিং ও ফরোয়ার্ডিং, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স বা আয়কর পরামর্শকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এমন ব্যক্তিরা আবেদন করার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আবেদনপত্রের সঙ্গে বয়স নির্ধারণের জন্য এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সত্যায়িত সনদ, তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি এবং ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট দিতে হবে।

আবেদনপত্র বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা ও পরীক্ষার সময়সূচি কাস্টমস একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং সুবিধাজনক সময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২৩ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২৩ বিলিয়ন ডলার

২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ১০ লাখ (৬০.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর আগে কখনই এক অর্থবছরে এতো বেশি অর্থের পণ্য আমদানি করেনি বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি বাড়া মানে দেশে বিনিয়োগ বাড়া, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে পণ্য বাণিজ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়েছে। এই অর্থবছরের শেষের কয়েক মাসে আমদানিতে উল্লম্ফনের কারণে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান এই চূড়ায় উঠেছে।

সোমবার বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি লাখ (প্রায় ২৩ বিলিয়ন) ডলার। এই অঙ্ক ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।

করোনা মহামারির কারণে আমদানি কমায় কিছু দিন পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি নিম্মমুখী ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমদানি বাড়ায় এই ঘাটতি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

আর এর ফলে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।

তবে আমদানি বাড়াকে অর্থনীতির জন্য ‘ভালো’ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতির দুই গবেষক আহসান এইচ মনসুর ও জায়েদ বখত। তারা বলেছেন, আমদানি বাড়া মানে দেশে বিনিয়োগ বাড়া, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া।

প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ।

মহামারির কারণে আমদানি কমায় ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশ খানিকটা কম ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর ঘাটতি ছিল ৬৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৮২২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সেই ঘাটতি বেড়ে ৯৭৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারে ওঠে। আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-মার্চে তা আরও বেড়ে হয় ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-এপ্রিল সময়ে ছিল ১৭ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।

অর্থবছর (জুলাই-জুন) শেষ হয়েছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি নিয়ে। এর আগে কোনো অর্থবছরেই এত বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েনি বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে ঘেঁটে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ১০ লাখ (৬০.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর আগে কখনই এক অর্থবছরে এতো বেশি অর্থের পণ্য আমদানি করেনি বাংলাদেশ।

অন্যদিকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৭৮৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। এ হিসাবেই বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি (প্রায় ২৩ বিলিয়ন) ডলার।

গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর আমদানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

সেবা বাণিজ্যে ঘাটতিও বেড়েছে

২০২০-২১ অর্থবছর শেষে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই ঘাটতি ছিল ২৫৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিও বাড়ছে

শেষ পর্যন্ত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) বড় ঘাটতি নিয়েই শেষ হলো ২০২০-২১ অর্থবছর। নয় মাস পর্যন্তও (জুলাই-মার্চ) অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে ঘাটতি (ঋণাত্মক) দেখা দেয়।

তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-এপ্রিল সময়ে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৯৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। জুলাই-মে সময়ে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার হয়। অর্থবছর শেষে তা আরও বেড়ে ৩৮০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠেছে।

অথচ অর্থবছরের ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ১৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-মার্চ সময়ে উদ্বৃত্ত মাত্র ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নেমে আসে।

আমদানি বাড়ায় লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত কমছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএসস) গবেষক রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সবাই বুঝতে পেরেছে, করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। সে কারণে আমদানিতে যে মন্দাভাব ছিল, সেটা আর নেই। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো। পদ্মা সেতু, মেট্টোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ মহামারির মধ্যেও এগিয়ে চলছে। এ সব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে মোটা অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেল, খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে।’

এ সব কারণেই আমদানি খাতে খরচ প্রথমবারের মতো ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানান জায়েদ বখত।

আরেক অর্থনীতিবিদ গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি বাড়া মানে দেশে বিনিয়োগ বাড়া, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া।

‘কিন্তু মহামারির কঠিন এই সংকটের সময়ে কী হয়, সেটা এখন দেখার বিষয়। আমদানি যেটা বাড়ছে, সেটা যদি বিনিয়োগে না আসে, তাহলে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।’

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৫১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ

মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত ছিল। অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে এই সূচক।

সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্য

তবে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালেন্স) বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শেষ করেছে বাংলাদেশ। বছর শেষে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৯২৭ কোটি ৪০ লাখ (৯.২৭ বিলিয়ন) ডলার। আগের বছরের এই উদ্বৃত্ত ছিল ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

আর্থিক হিসাবেও বড় উদ্বৃত্ত

আর্থিক হিসাবেও (ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকাউন্ট) বড় উদ্বৃত্ত ছিল। অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। জুলাই-নভেম্বর সময়ে তা ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্তে চলে আসে। ছয় মাসে সেই উদ্বৃত্ত বেড়ে হয় ২২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সাত মাসে তা আরও বেড়ে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়। আট মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ৫৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। নয় মাস শেষে তা আরও বেড়ে ৬৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার হয়।

১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে সেই উদ্বৃত্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারে উঠে। অর্থবছর শেষ হয় ১ হাজার ৩০৮ কোটি (১৩.০৮ বিলিয়ন) ডলার নিয়ে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের এই ১১ মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ৭৮০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের।

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতির তথ্য জানাতেও তারা প্রস্তুত।

‘সাইক্লোন’ এর মতো ডিসকাউন্ট অফারে লোকসানি ব্যবসা আর করছে না ইভ্যালি। ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় এই ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বদলেছে ব্যবসার ধরন। নতুন স্লোগানে শুরু হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন' এবং 'টি ১০' ক্যাম্পেইন।

বহুল আলোচিত ই-কমার্স সাইটটি গত ৩০ মে এবং ২ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যাম্পেইনের আওতায় বাজারে প্রচলিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের প্রতি অর্ডার থেকেই ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে যোগ হচ্ছে মুনাফা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতি জানাতেও তারা প্রস্তুত।

তবে এখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখিত ছয় প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে তৈরি নয় ইভ্যালি। গত ৩১ জুলাই এক লিখিত জবাবে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

এর আগে গত ১৯ জুলাই ইভ্যালিকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই নোটিশে ছয় প্রশ্ন উল্লেখ করে ১ আগস্টের আগেই এগুলোর জবাব চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রশ্ন ছিল, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা চলতি সম্পদ থাকার কারণ কী? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে আছে কি না। থাকলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে দিতে হবে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ কত, গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া অর্থের বিনিময়ে যে পণ্য দেয়ার কথা, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তৃতীয় প্রশ্ন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ কত এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

চতুর্থত, ব্যবসা শুরুর পর থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত অর্থ পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে?

পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা কী?

এবং ষষ্ঠ প্রশ্ন ছিল, ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো ব্যবসা পদ্ধতি বা কার্যক্রম ইভ্যালিতে এখনও আছে কি না, থাকলে কী?

এ বিষয়ে ইভ্যালির দেয়া জবাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেষ তিনটি প্রশ্নের আংশিক উত্তর দিয়েছে ইভ্যালি। বাকিগুলোর পূর্ণাঙ্গ জবাবের জন্য জন্য চাওয়া হয়েছে ছয় মাস সময়।

চিঠিতে দায়-দেনা, মূলধন ও পাওনা পরিশোধ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে ইভ্যালির বিষয়ে যে ঘাটতি তথ্য এসেছে, তা প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে না। কেননা, ওই সময় তদন্ত দল ইভ্যালির কাছ থেকে যেসব হিসাব চেয়েছিল, সময় স্বল্পতা এবং তাদের প্রদত্ত ফরম্যাট অনুযায়ী ইভ্যালি সম্পূর্ণরূপে তখন তা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও মার্চেন্টদের দায়-এর সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। এর কারণ হিসেবে ইভ্যালি বলেছে, প্রতিটি মার্চেন্টের অর্ডারের বিপরীতে ডেলিভারির বর্তমান অবস্থা যাচাই, ডেলিভারি করা পণ্য গ্রাহকের যথাযথভাবে পাওয়ার নিশ্চয়তার প্রমাণ, ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের অভিযোগ নিষ্পত্তি, পূর্ববর্তী বিলের সমন্বয়সহ নানা বিষয়াদি এর সঙ্গে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ৫ হাজারের বেশি মার্চেন্টের জন্য হিসাব সম্পন্ন করা একটি সময় সাপেক্ষ বিষয়।

ইভ্যালি বলেছে, ‘এ অবস্থায় আমরা একটি তৃতীয় নিরপেক্ষ নিরীক্ষক দ্বারা আমাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বিবরণী এবং কোম্পানির ভ্যালুয়েশনসহ উপস্থাপন করতে চাই। এর জন্য ছয় মাস সময় চাই। নিরীক্ষা শেষ করার সময় পেলে চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীতে আমাদের যাবতীয় হিসাব, যথা, কোম্পানির মোট সম্পদ, দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের মোট দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ক্রেডিট লাইনের যাবতীয় বিবরণ প্রদান করা হবে।’

তবে এই সময়ের মধ্যে ইভ্যালি আগের প্রতিশ্রুত পণ্যের ডেলিভারি ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর তারা পণ্য ডেলিভারির অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে দিতে প্রস্তুত।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল

চিঠিতে বর্তমান ব্যবসা পদ্ধতি ও আগের লোকসানি অবস্থা থেকে উত্তরণের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইভ্যালি ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমান অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে ইভ্যালি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যে প্রচুর ডিসকাউন্ট দেয়া বন্ধ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাম্পেইন ‘সাইক্লোন’ অফার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ৩০ মে শুরু করা হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন’ এবং ২ জুলাই থেকে চলছে ‘টি ১০’ ক্যাম্পেইন। এসব ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে গ্রাহকরা এমআরপি মূল্যে পণ্য কিনছেন। ফলে এই বিক্রয়লব্ধ কার্যক্রমে ইভ্যালি প্রতি অর্ডারে মুনাফা অর্জন করছে।’

পাশাপাশি মার্চেন্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টার কথাও জানানো হয়েছে চিঠিতে। এতে বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে আমরা ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ চুক্তি করেছি। যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ বিনিয়োগ হবে। এই অর্থ ইভ্যালির বর্তমান আলোচ্য ঘাটতি পুরোপুরি নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমাদের ন্যূনতম ছয় মাস সময় দরকার। এই সময়ের মধ্যে আমরা ভোক্তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুত বকেয়া পণ্য সরবরাহ শেষ করবো। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এবং চাহিদা অনুযায়ী তথ পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপনে সক্ষম হবো।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও সেল) এবং ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালি মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের যে ধরনের চাহিদা ছিল, চিঠিতে তারা পরিপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ করেনি। তারা পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছে। ইভ্যালিকে সময় দেয়া হবে কিনা, দিলে সেটি কতদিন বা কত মাস এবং গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেসব প্রশ্নের সমাধান মিলবে এ সম্পর্কিত কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে। এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।’

আরও পড়ুন:
পিএসএলে নয় সাকিব খেলবেন মোহামেডানে
আইপিএল থেকে আগেই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ
সাকিবের ছেলের নাম এইজাহ
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

শেয়ার করুন