× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
hear-news
player
google_news print-icon

আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক

আতঙ্ক-থাকলেও-ফ্লোর-প্রত্যাহারের-প্রভাব-ইতিবাচক
কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফ্লোর প্রত্যাহারের পর পর লেনদেনে গতি এসেছে। কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কয়েক দিন সময় লেগেছে, কোনো কোনো কোম্পানির লেনদেনে গতি আসতে আসতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে গেছে। তবে এখন প্রায় সব শেয়ারেরই বেশ ভালো পরিমাণে লেনদেন হচ্ছে। যেগুলোর দাম ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে নিচে নেমে গেছে, সেগুলোর বেশির ভাগের দাম কমেছে খুবই কম।

পুঁজিবাজারে ৬৬ কোম্পানির সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও দেড় মাস পর হিসেব করলে দেখা যাবে, প্রায় অর্ধেক পরিমাণ শেয়ারের দাম ফ্লোর থেকে বেড়েছে। যেগুলোর দাম কমেছে, সেগুলোর অনেকগুলোর দামও ফ্লোরের আশপাশেই আছে।

তবে যে ৬৬ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হতো না বললেই চলে, তার সবগুলোই এখন প্রতিদিন বেশ ভালো পরিমাণ হাতবদল হচ্ছে।

এসব কোম্পানির লেনদেনে গতি আসায় বাজারেও লেনদেনে প্রভাব পড়েছে। আর এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সব শেয়ারেই ফ্লোর প্রাইস পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও আসেনি।

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর শেয়ার দরে ধস ঠেকাতে সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে গত ৬ এপ্রিল হঠাৎ করেই বিএসইসির বিজ্ঞপ্তি আসে। জানানো হয় ৭ এপ্রিল থেকে ৬৬ কোম্পানির শেয়ারের কোনো সর্বনিম্ন মূল্য থাকবে না।

এই সিদ্ধান্ত আসার পর শেয়ারগুলোর পতন ঘটতে থাকে ঢালাওভাবে। আর শেয়ারধারীদের পুঁজিরক্ষায় পরদিনই বিএসইসি দেয় নতুন সিদ্ধান্ত। এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থাকলেও দর হারানোর সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ বেঁধে দেয়া হয়।

নিউজবাংলা সম্প্রতি হিসাব করে দেখেছে ৬৬ কোম্পানির মধ্যে দুইটির লেনদেন হয়নি। এর একটির লেনদেন স্থগিত, আর একটির লেনদেনের সাম্প্রতিক ইতিহাস নেই।

বাকি শেয়ারগুলোর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত দর বেড়েছে ৩০টির। কমেছে ৩৪টির।

কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফ্লোর প্রত্যাহারের পর পর লেনদেনে গতি এসেছে। কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কয়েক দিন সময় লেগেছে, কোনো কোনো কোম্পানির লেনদেনে গতি আসতে আসতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে গেছে। তবে এখন প্রায় সব শেয়ারেরই বেশ ভালো পরিমাণে লেনদেন হচ্ছে।

জানতে চাইলে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে সেগুলো এখন লেনদেন হচ্ছে। দামের উত্থানপতনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করছে। এটা ভালো দিক।’

তিনি বলেন, ‘বিএসইসি যদি সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দিয়ে তাহলে যেন বর্তমানে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ কমার সুবিধাটি অব্যাহত রাখে।’

আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক

গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরু হলে সব শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেয় বিএসইসি

লেনদেন বাড়ার চিত্র

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগে মেট্রো স্পিনিং মিলসের শেয়ার ১ এপ্রিল ১ হাজার ৩০, ৫ এপ্রিল ১৪ হাজার ৮২১টি হাতবদল হয়। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন ছিল ২৪ হাজার ৭১১টি। তবে পরে লেনদেন বাড়তে বাড়তে ১৮ মে পৌঁছেছে ৭১ লাখ ১৪ হাজার ৪৯১টি।

এই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ২০ পয়সা। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ।

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগে কাট্টলী টেক্সটাইলের লেনদেন হতো না বললেই চলে। তবে এখন দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে কয়েক গুণ।

ফ্লোর প্রত্যাহারের দুই দিন আগে ৫ মে লেনদেন হয় ৭০১টি। ৭ এপ্রিল লেনদেন বেড়ে হয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৬২। এরপর বাড়তে বাড়তে ১২ মে হাতবদল হয় ১ কোটি ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫১টি। ১৬ মে হাতবদল হয় আরও ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৪টি।

কাট্টলীর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৯ টাকা ৩০ পয়সা। প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

ফ্লোর ওঠার আগের দিন প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৯ হাজার ৩৪২টি। ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯২টি। আর ৯ মে হাতবদল হয় ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৩৪টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১০ পয়সা।

বিমা খাতে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে চাঙা ভাবের মধ্যেও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লেনদেনের গতি ছিল কম। ফ্লোর ওঠার আগে এমনও দিন গেছে কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি, কোনো দিন হয়েছে ১০৬টি।

তবে ফ্লোর ওঠার পর ২৮ এপ্রিল ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৯৭টি, ১২ মে ২৩ লাখ ৫২৬টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪০ টাকা। ‍বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা।

ফ্লোর ওঠার আগে রূপালী ব্যাংকের ১ এপ্রিল শূন্য, ৪ এপ্রিল ১৮৫, ৫ এপ্রিল ২২০ শেয়ার লেনদেন হয়।

তবে ৭ এপ্রিল ফ্লোর ওঠার দিন ১৫ হাজার ৫৫০টি শেয়ার হাতবদল হয়। ১২ মে হয় সর্বোচ্চ লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি শেয়ার।

এই ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৪০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ১০ পয়সা।

ফ্লোর ওঠার আগে ৫ এপ্রিল এস্কয়ার নিট কম্পোটিজ লেনদেন ছিল ৩৪ হাজার ৬৬০টি শেয়ার। তবে ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৬টি শেয়ার। এরপর বাড়তে বাড়তে ১৬ মে হাতবদল হয় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৯টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৯০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগে ৪ ও ৫ এপ্রিল ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শূন্য, ৬ এপ্রিল হাতবদল হয় ১ হাজার ৩০০ শেয়ার। ফ্লোর তুলে নেয়ার পর ৭ এপ্রিল কেনাবেচা হয় ৩ হাজার ৪৫০টি। তবে ৫ মে সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ৭ লাখ ১১ হাজার ৮১৭টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪০ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮০ পয়সা।

৪ এপ্রিল আইপিডিসি ফিন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয় ২২ হাজার ৩৮৬টি। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় ৮৪ হাজার ২৩টি শেয়ার। ১৯ মে বেড়ে হয় ছয় লাখ ৭ হাজার ৭৯৩টি।

কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৫০ পয়সা।

৪ এপ্রিল ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন ছিল ৩৪ হাজার ৬২৮টি। ফ্লোর ওঠার দিন হাতবদল হয় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৩টি। আর ৫ মে হয় সর্বোচ্চ লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ১২টি।

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা।

ফিনিক্স ফিন্যান্সের শেয়ার ১ থেকে ৪ এপ্রিল একটিও লেনদেন হয়নি। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় ২০০টি। এরপর গতি পেয়ে একপর্যায়ে ৩ মে হাতবদল হয় ২ লাখ ৯ হাজার ৯৩৩টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

২৮ মার্চ এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের ৪ হাজার ৪৩৮টি ইউনিট হাতবদল হয়। ৪ এপ্রিল হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৩টি। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন হয় ১০ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৪টি।

সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ৪ মে ২৫ লাখ ১৭ হাজার ৯০৫টি।

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৩০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের লেনদেন ছিল একেবারেই তলানিতে। ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় তিনটি শেয়ার। পরে বেড়ে ১৬ মে লেনেদেন হয় ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ২২২টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

৪ এপ্রিল বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের ৪৯২টি, ৬ এপ্রিল হাতবদল হয় এক হাজার ৬০৫। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন হয় ১১ হাজার ৫৪২টি। ১২ মে হয় সর্বোচ্চ ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯টি হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৪০ পয়সা।

ফ্লোর তোলার আগের দিন আর এন স্পিনিংয়ের লেনদেন ছিল ৭৩ হাজার ৮০১টি। পরদিন হাতবদল হয় ৯৭ হাজার ৪৫১টি। লেনদেন পরে কমে গেলেও আবার বাড়তে বাড়তে ২০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫১টিতে উঠে ৬ মে।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগের দিন আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিট হাতবদল হয় নয় হাজার পাঁচটি। পরদিনই হয় এক লাখ তিন হাজার ৩৮১টি। আর ১২ মে সর্বোচ্চ লেনদেন। হাতবদল হয় এক লাখ ৯১ হাজার ১৪০টি।

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বেঙ্গল উন্ডশন থার্মোপ্লাস্টিসের কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় ছয় হাজার ৫০৮টি। ১২ মে দুই লাখ এক হাজার ৪৭৪টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সা।

সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালেসের শেয়ার ফ্লোর প্রত্যাহারের দুই দিন আগে ৫ এপ্রিল শূন্য ও ৬ এপ্রিল ১৭১টি হাতবদল হয়। ৭ এপ্রিল হয় ১২ হাজার ২৩৯টি। আর সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ১৬ মে ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৪১১টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১২ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪০ পয়সায়।

২১ মার্চ থেকে শুরু হরে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন ছিল একেবারেই কম। ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৭৩২টি। সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ১২ মে ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২টি।

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। বুধবার তা দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা।

দেশবন্ধু পলিমারের শেয়ার ৪ এপ্রিল ১১৫টি, ৫ এপ্রিল ১৩ হাজার ১০টি শেয়ার হাতবদল হয়। ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় দুই লাখ চার হাজার ৯৮১টি। ১৬ মে হাতবদল হয় ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৩টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমনকি ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত ইভেন্স টেক্সটাইলের লেনদেন ছিল খুবই কম। ৭ এপ্রিলও কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। তবে লেনদেন বাড়তে বাড়তে ১৬ মে উঠে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৬৭০টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা।

১ এপ্রিল ৮৫, ৪ এপ্রিল ১১টি ও ৫ এপ্রিল একটি শেয়ার লেনদেন হয় হামিদ ফেব্রিক্সের। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৭০টি। পরে বাড়তে বাড়তে আট লাখ ৭৯ হাজার ২১৭টি শেয়ার লেনদেন হয় ১৬ মে।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩০ পয়সা।

প্যাসিফিক ডেনিমের শেয়ার ১১ মার্চ থেকে লেনদেন হতোই না বললে চলে। ১ এপ্রিল এক হাজার ৫০৩, ৪ এপ্রিল এক হাজার ৩৬৭, ৫ এপ্রিল শূন্য, ৬ এপ্রিল চার হাজার ৪৬৯টি শেয়ার হাতবদল হয়। ৭ এপ্রিল হয় এক হাজার ৬৭৬টি।

এরপর বাড়তে বাড়তে ১২ মে ৫১ লাখ এক হাজার ৮৩৭টি আর ১৬ মে ৫২ লাখ দুই হাজার ১৬টি শেয়ার লেনদেন হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

সাফকো স্পিনিং এর শেয়ার ১ এপ্রিল লেনদেন হয় এক হাজার ২৪৫টি, ৫ এপ্রিল ১০১, ৬ এপ্রিল ছয় হাজার ৮৪৫টি। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন ছিল ৫০০টি। তবে লেনদেন বেড়ে ১৬ মে হয় আট লাখ তিন হাজার ১১১টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লোর প্রত্যাহারের পরেও ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত জাহিন স্পিনিং মিলসের লেনদেন ছিল একেবারেই কম। কোনো কোনোদিন কোনো শেয়ারই কেনাবেচা হয়নি।

৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় দুইশটি শেয়ার। তবে বাড়তে বাড়তে ১৬ মে হাতবদল হয় ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯১টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লোর প্রত্যাহারের পরেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত রিং সাইন টেক্সটাইলের লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় কেবল ৫০টি। তবে ২৯ এপ্রিল থেকে বাড়তে থাকে লেনদেন। ১৯ মে হাতবদল হয় এক কোটি ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬২টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বুথবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা।

২৪ মার্চ থেকে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের লেনদেনের খরা ছিল। ৫ এপ্রিল শূন্য, ৬ এপ্রিল দুই হাজার ১০৪টি আর ৭ এপ্রিল ৫টি শেয়ার হাতবদল হয়। ১৬ মে লেনদেন বেড়ে হয় ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮১।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সায়।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন ছিল না বললেই চলে। ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় কেবল ৫টি শেয়ার। তবে ১৩ এপ্রিল থেকে গতি পায় লেনদেনে। ৯ মে হাতবদল হয় ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৯টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা।

৪ এপ্রিল শূন্য, ৫ এপ্রিল ৬৬৩, ৬ এপ্রিল ৫ এমনকি ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি কুইন সাউথ টেক্সটাইলের। তবে পরে বাড়তে বাড়তে ১৬ মে হাতবদল হয় আট লাখ ৬ হাজার ২৯৫টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লোর প্রত্যাহারের পর ৭ এপ্রিল পর্যন্ত শাসা ডেনিমের শেয়ার লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় মাত্র ২০টি শেয়ার। তবে এরপর ১৬ মে ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬৮টি শেয়ার লেনদেন হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৮০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগের দিন ৬ মে অলেম্পিক একসেসরিসের লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ১৩২টি শেয়ার। পরদিন ফ্লোর উঠে যাওয়ার দিন হাতবদল হয় ১৪ হাজার ৪৭৯টি শেয়ার।

সর্বোচ্চ হাতবদল হয় ১৮ মে এক লাখ ৭২ হাজার ৭২২টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা।

৪ এপ্রিল নাভানা সিএনজির দুই হাজার ১১১, পরদিন আট হাজার ৮৯৭, ৬ এপ্রিল ২২ হাজার ৮৩০টি শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন দরপতন হলে শেয়ারের লেনদেন কমে আসে। হাতবদল হয় ছয় হাজার ৭৮৭টি। তবে ১৭ মে হাতবদল হয় দুই লাখ ৭৫ হাজার ২৩৩টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৩ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।

আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক

ফ্লোর প্রাইস থেকে কমেছে যেগুলো

২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এমএল ড্রাইংয়ের লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ফ্লোর তুলে দেয়ার দিন একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি। তবে ২৯ এপ্রিল থেকে গতি পায় লেনদেনে। ১২ মে সর্বোচ্চ ৫১ লাখ ৭০ হাজার ৬৪১টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৫০ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন ছিল তলানিতে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল কোনো শেয়ারই হাতবদল হয়নি। তবে ২৯ এপ্রিল থেকে লেনদেনে গতি আসে। আর ১৭ মে সর্বোচ্চ ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২১ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলের লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ফ্লোর তুলে নেয়ার দিন ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় ৪৪৫টি। ২৮ এপ্রিল হয় ১০টি। তবে এরপর লেনদেনে আসে গতি। ২ মে লেনদেন হয় আট রাখ ৫৬ হাজার ৭১৮টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৬০ পয়সা।

৫ এপ্রিল আরএসআরএম স্টিল মিলসের ৩০টি, পরদিন ১২টি আর ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল ৩৫০টি শেয়ার হাতবদল হয়। লেনেদেন বাড়তে বাড়তে ২৯ এপ্রিল ৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৬টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৯০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল ফ্লোর উঠার দিন পর্যন্ত ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোডের লেনদেন ছিল তলানিতে। ফ্লোর উঠার দিন হাতবদল হয় ২০১টি শেয়ার। তবে ২২ এপ্রিল থেকে গতি পায় লেনদেনে। ২৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ তিন লাখ ৯৬ হাজার ৭৬২টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো কোনো দিন কেপিসিএলের এমনকি একটি শেয়ারও হাতবদল হয়েছে। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় ২১ হাজার ৩৬৫টি শেয়ার। পরে বাড়তে বাড়তে ২৯ এপ্রিল হাতবদল হয় ৩৯ লাখ ১৪ হাজার ২৭৫টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৩০ পয়সা।

২২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হাতবদল হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল খুবই কম। ফ্লোর প্রাইস ওঠিয়ে দেয়ার দিনও কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। ১৫ এপ্রিল থেকে হাতবদল হতে শুরু করে কোম্পানিটির শেয়ার। সর্বোচ্চ হাতবদল হয় ১৯ মে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৩টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ২৪ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সা।

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্লোর উঠানোর আগে লেনদেনে কোনো গতি ছিল না। যেদিন ফ্লোর প্রাইস ওঠিয়ে দেয়া হয় সেদিনও কোম্পানিটির মাত্র ৩৯৫টি শেয়ার লেনেদেন হয়। তবে সর্বোচ্চ হাতবদল হয়েছে ১৬ মে, ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৬টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৬ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ১০ পয়সায়।

৪ এপ্রিল ফার ক্যামিকেলের এক হাজার, ৫ এপ্রিল শূন্য, ৬ এপ্রিল পাঁচশটি শেয়ার লেনদেন হয়। ফ্লোর উঠার পর ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় তিন হাজার ৫৫০টি। এরপর বাড়তে বাড়তে ১৬ মে হাতবদল হয় ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৮টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২০ পয়সা।

৪ এপ্রিল গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রোর ৭০০, ৫ এপ্রিল শূন্য, ৬ এপ্রিল এক হাজার চারশ শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ২৫৪টি। এরপর ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত লেনদেনে দেখা দেয় খরা। পরে ২০ এপ্রিল হাতবদল হয় ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৬টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের লেনদেনে ছিল খরা। ফ্লোর উঠার দিন হাতবদল হয় ৬৪৭টি শেয়ার। তবে এরপর বাড়তে বাড়তে ১২ মে পৌঁছে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৫টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের লেনদেন ছিল তলানিতে। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। তবে ২৯ এপ্রিল থেকে লেনদেনে আসে গতি। আর ২ মে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৬টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা।

১ ও ৪ এপ্রিল নাহী অ্যালুমিনিয়ামের শূন্য, ৫ এপ্রিল ৫০, ৬ এপ্রিল ১০৩টি শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় এক হাজারটি শেয়ার। আর এরপর বাড়তে বাড়তে ১৬ মে উঠে ১২ লাখ ৩৬ হাজার ২৯২টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৭ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সায়হাম কটনের লেনদেন ছিল তলানিতে। এরপর বাড়তে বাড়তে ২ মে হাতবদল হয় ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৮৩টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৬ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন ছিল তলানিতে। ৭ এপ্রিল ফ্লোর উঠার দিন হাতবদল হয় ৫০০টি শেয়ার। ১৬ মে হাতবদল হয় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৯২টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৫ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা।

১ এপ্রিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ১৩১টি, ৩ এপ্রিল এক হাজার একটি, ৫ এপ্রিল ১৪ হাজার ৬৬০টি, ৬ এপ্রিল ২১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়।

ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৯৭০টি। ১৮ মে হয় সর্বোচ্চ লেনদেন। হাতবদল হয় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৩টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা ৯০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সায়হাম টেক্সটাইলের লেনদেন একেবারে তলানিতে। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। তবে ২৯ এপ্রিল থেকে গতি পায় লেনদেনে। ২ মে সর্বোচ্চ ২৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৩টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে একদিন ৮ মার্চ ১৯ হাজারের কিছু বেশি শেয়ার লেনদেন ছাড়া ৭ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরা ফিন্যান্সে আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন হয় ১৮৭টি শেয়ার।

লেনদেন বাড়তে থাকে ১৩ এপ্রিল থেকে। ২০ এপ্রিল সর্বোচ্চ এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের লেনদেন ছিল না বললেই চলে। ফ্লোর উঠার দিন হাতবদল হয় এক হাজার ৩২৫টি। ১২ এপ্রিলের পর বাড়তে বাড়তে ১২ মে লেনদেন পৌঁছে ৩৪ লাখ ৫ হাজার ৩৫০টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪০ পয়সা।

১ এপ্রিল উসমানিয়া গ্লাস শিটের ২০০, ৪ এপ্রিল একটি শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর উঠার দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় এক হাজার ১৩০টি। পরদিনই হয় গত এক দেড় মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ৩০ হাজার ৮৪৫টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা।

৪ এপ্রিল সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের ২০৫টি, ৬ এপ্রিল ৭৫২টি এবং ফ্লোর প্রত্যাহারের দিক ৭ এপ্রিল হাতবদল হয় ৪৮০টি শেয়ার। এরপর বাড়তে বাড়তে ১৭ মে লেনদেন পৌঁছে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৫টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৮০ পয়সা।

২৪ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইউনিক হোটেলের লেনদেন ছিল তলানিতে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় ৫১টি শেয়ার। তবে পরে গতি পায়। ৬ মে সর্বোচ্চ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬৭২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ২০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ ছাড়া ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সিলভা ফার্মার লেনদেন ছিল তলানিতে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় এক হাজার ১৪টি শেয়ার। তবে ১৬ মে হাতবদল হয় সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৮টি শেয়ার।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৮ টাকা ৩০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩০ পয়সা।

১ এপ্রিল দুলামিয়া কটনের ১৫০, ৪ এপ্রিল শূন্য, ৫ এপ্রিল ৪৮, ৬ এপ্রিল ১১৫ শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। তবে পরে ১৮ মে লেনদেন বেড়ে হয় ২৬ হাজার ১৬০টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ৪৮ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নূরানী ডাইংয়ের বলার মতো কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। ৭ এপ্রিল ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন হয় কেবল এক হাজার শেয়ার। পরে বাড়তে বাড়তে ১৬ মে লেনদেন হয় ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৪টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৭ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক

১ এপ্রিল ইয়াকিন পলিমারের ৯৫৬, ৪ এপ্রিল এক হাজার ৭৫০, পরদিন চার হাজার ৪৫০, ৬ এপ্রিল তিন হাজার ২৮২টি শেয়ার হাতবদল হয়। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন ৭ এপ্রিল লেনদেন হয় সাত হাজার ৬৫টি শেয়ার। আর সর্বোচ্চ হাতবদল হয় ২ মে নয় লাখ ৯৫ হাজার ২১৯টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দর দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা।

৪ এপ্রিল শূন্য, ছয় এপ্রিল তিনটি শেয়ার হাতবদল হয় এএফসি এগ্রো বায়োটেকের। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় ৫০০ টি। ১৬ এপ্রিল লেনদেন বেড়ে হয় নয় লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৯টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৭ টাকা। বুধবার তা দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৪০ পয়সায়।

আরগন ডেনিমের শেয়ার ৪ ও ৫ এপ্রিল লেনদেন হয়নি একটিও। ফ্লোর প্রত্যাহারের আগের দিন ৬ এপ্রিল ১০৩টি হাতবদল হলেও প্রত্যাহারের দিনও কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। পরে জট খোলার পর নিয়মিত হাতবদল হতে থাক শেয়ার। ১৬ মে সর্বোচ্চ ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭০২টি শেয়ার হাতবদল হয়।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

১ ও ৪ এপ্রিল বিচ হ্যাচারির শূন্য, ৫ এপ্রিল ৮০, ৬ এপ্রিল ৭৪৩টি শেয়ার হাতবদল হয়। ৭ এপ্রিল লেনদেন বেড়ে হয় ১৩ হাজার ২৩৫টি। সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ৪ মে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৯০টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ২০ পয়সা।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৫ এপ্রিল ৩০২, ৬ এপ্রিল লেনদেন হয়েছে একটি। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হয় চার হাজার। ১৬ মে লেনদেন হয় ১০ লাখ ৫১ হাজার তিনটি।

লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস ছিল ২০ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

২৪ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ডেসকোর লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন হাতবদল হয় ৪৩০টি। তবে ১৫ এপ্রিল হাতবদল হয় দুই লাখ তিন হাজার ৪০০টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার তা দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা।

৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল গ্লোবাল হ্যাভি ক্যামিকেলের কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি। ৪ এপ্রিল হয় দুটি, ৫ এপ্রিল ৪৮১ আর ৬ এপ্রিল আবার কোনো শেয়ার হাতবদল হয়নি।

ফ্লোর প্রত্যাহারের দিন লেনদেন হয় ৫ হাজার ৯৭৬টি। এরপর বাড়তে বাড়তে ১২ মে হয় ৮২ হাজার ৬৮২টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩১ টাকা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা।

ফ্লোর প্রত্যাহারের আগে বেশ কয়েকদিন কোনো লেনদেন না হওয়া এডভান্ট ফার্মার শেয়ার হাতবদল হয়নি ফ্লোর প্রত্যাহারের দিনও। ১৮ এপ্রিল তিন হাজার ৪২৭টি শেয়ার হাতবদলের পর বাড়তে থাকে লেনদেন। ১৬ মে হাতবদল হয় ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫০টি।

কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস ছিল ২২ টাকা ৮০ পয়সা। বুধবার দাম দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত
ফ্লোর প্রত্যাহারে দাম কমল ঢালাও
৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হলো
ফ্লোর প্রাইস, ডিএসইর ভুলে শাহজালালের শেয়ারধারীদের ক্ষতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The driver claimed that he did not know that anyone was trapped in the car

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে পেছন থেকে ধাওয়া করে থামানো হয় আজাহার জাফরের প্রাইভেটকার। ছবি: নিউজবাংলা
জনতার পিটুনিতে আহত গাড়িচালক ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, কেউ তার গাড়ির সঙ্গে আটকে আছেন, সেটা তার জানা ছিল না। তবে পুলিশ বলছে, তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত গৃহবধূ রুবিনা আক্তারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহ। পুলিশের কাছে তার দাবি, গাড়িতে একজন আটকে থাকার বিষয়টি টেরই পাননি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানা পুলিশের কাছে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। তবে পুলিশ বলছে, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি থামেননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গাড়িটি আটকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফরকে পিটুনি দেয় জনতা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য আমরা পাইনি। গাড়িতে লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো কাগজ ছিল না।’

প্রতি সপ্তাহে নিজ বাসা তেজগাঁও তেজকুনি পাড়া থেকে হাজারিবাগে যেতেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। অন্যান্য সপ্তাহের মতো শুক্রবার ননদের স্বামীর মোটরসাইকেল চড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালকক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহাবাগ থানার পুলিশ পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় রুবিনার ভাগ্নে আশিকুর রহমান রাতুলের সঙ্গে। তিনি জানান, রুবিনার স্বামী মারা গেছেন দু বছর আগে। তাদের এক ছেলে রয়েছে। সে ক্লাস এইটে পড়ে।

রাতুল বলেন, ‘আমরা মামলা করব। আমার খালাকে হত্যা করা হয়েছে। থানায় যাচ্ছি।’

রুবিনার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শহিদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিহত মহিলা দেবরের সঙ্গে বাইকে করে শ্বশুর বাড়ি থেকে তার বাপের বাড়ি হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘এরপরও উনি গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে চলে যান। তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। উনি টিএসসি পৌঁছলে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি না থামিয়ে আরও জোরে গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে থামতে বাধ্য করে। এই সম্পূর্ণ সময় সেই নারীটি গাড়ির সঙ্গে ছেঁচড়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তাই আমরা একটা মামলা নেব। উনার গাড়িটা সিজ করেছি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

কোন আইনে মামলা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা সেই শিক্ষকের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। সম্ভবত ওনার স্ত্রীর নম্বর। তিনি ওনার অবস্থা জানার পর মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে তিনি গাড়ি চালানোর সময় সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সেগুলোসহ আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’

আরও পড়ুন:
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
People cannot walk freely in the mountains

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে এক গণসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘পাবর্ত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বিতারণের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই বাহিনী, সেই বাহিনী, পঞ্চম বাহিনী গড়ে তোলে সমাধান নয়। যাদের সাথে চুক্তি করেছেন, তাদের সঙ্গে আরও বসেন।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উষাতন তালুকদার।

তিনি আরও বলেন,‘সন্তু লারমাকে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী। তিনি দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিক বলে ২৫ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অপক্ষো করে আছেন। সরকারকে বুঝতে হবে। সন্তু লারমা হয়তো মান অভিমান, ক্ষোভ, দুঃখ-বেদনার দুই-একটি কথা বলেছেন বলে কি উনি আপনাদের শত্রু হয়ে গেলেন নাকি?

‘পাহাড়ের মানুষ বাংলাদেশকে ক্ষতি করবে না। বরং আদিবাসীরা বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছে। নারী ফুটবল খেলোয়ার রিতুপর্ণা চাকমা, গোলরক্ষক রূপনা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনুচিং, আনাই, ময়মনসিংহের মারিয়া মান্ডা ও বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা– এরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হয় দিনটি।

গণসমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মামুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা ও যুব হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী শান্তি দেবী তনচংগ্যা।

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এত বড় শক্তিশালী নয় যে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। বরং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরে স্বার্থ আদায় করে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচন না করে নিজেদের দলীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের চেয়ারে বসানো হচ্ছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের লোকেরা ভোগ করছেন। সরকার চাইলে এসব কিছু সমাধান দিতে পারত। ভূমি কমিশন আইন হলেও সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় এ কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন হচ্ছে না। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ভূমি সমস্যা নিরসন হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
It will be murder case DC Ramana

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে চালককে আটকে পিটুনি দেয় পথচারীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীকে প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারী দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন। তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ওই নারী সড়কে পড়ে যান ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘তবে চালক গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে তাকে নিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে থামানো যায়নি। উনি টিএসসি পৌঁছালে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি গাড়ি না থামিয়ে নীলক্ষেত মোড়ের দিকে চলে যান। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে থামায়।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ওই শিক্ষকের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। তবে ঘটনা জানাতে যোগাযোগের পর থেকে মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে সাবেক ওই শিক্ষক সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সে বিষয়ে জানা যেত।’

নিহতদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করতে আসেননি জানিয়ে ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘উনারা হয়তো ব্যস্ত আছেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার শিকার নারীর পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নারী রুবিনা আক্তার তিনি গৃহবধূ ছিলেন। থাকতেন তেজগাঁওয়ে। তার ১২ বছরের একটি ছেলে আছে। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন।

অন্যদিকে গাড়িচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহ।

আরও পড়ুন:
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Metrorail recruitment exam postponed due to nepotism allegations

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে মেট্রোরেলের টিকিট মেশিন অপরাটের পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার মেট্রোরেলের স্বত্বাধিকারী সরকারি মালিকানাধীন ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’ পরীক্ষা স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেট্রোরেলের টিকেট মেশিন অপারেটর পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা ছিল, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকতে হবে। নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরাও উপস্থিত হয়েছিলেন।

ডিএমটিসিএল-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কথা ছিল পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত ছিল ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ মিনিট দেরিতে।

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো কোনো কক্সে মাত্র এক মিনিট পরও তা নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

এ অবস্থায় ১১টার পর পরীক্ষার্থীরা বাইরে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরীক্ষার্থীদের অনেকেই রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দূর-দুরান্ত থেকে এসেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা নেয়ার নামে হয়রানি করেছে।

এক পর্যায়ে স্থগিত না করা পর্যন্ত পরীক্ষার হল ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা বলেন, ‘এর আগেও এমন অনেক পরীক্ষা হয়েছে। পরে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

পরীক্ষার্থীদের অনেকে জানান, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে তারা মেট্রোরেলের পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক কর্মকর্তা এসে পরীক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিতে সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘টিকিট মেশিন অপারেটর পদে ১৬২৫ আবেদনকারী ছিল। সবার পরীক্ষা এক জায়গায় হওয়ার কথা ছিল। টোটাল পরীক্ষাটা আমরা এই পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করেছি।’

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা

এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে আবারও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি-না জানতে চান ওই কর্মকর্তার কাছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সবাই আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের পরে মেট্রোরেলের উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই যেসব কাজ করবেন তাদের জন্যই এই পরীক্ষা। যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, আপনাদের মনে প্রশ্ন এসেছে, এটাকে নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটা স্থগিত করেছে।’

দ্রুত পরীক্ষার নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই আপনাদের জানাব। আপনাদের সব আবেদন আমাদের কাছে রেডি করা আছে।’

কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে পরীক্ষার হল ছাড়েন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ৬ লাইন
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে যাত্রী উঠবে কীভাবে
মেট্রোরেল: কলকাতায় ১০ বাড়িতে ফাটল, ঘরছাড়া শতাধিক
রেলে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের বিরোধিতায় অস্থায়ী শ্রমিকেরা
মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dont scare A League by showing rally Farooq Khan

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে শুক্রবার বি‌কে‌লে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের স‌ম্মেল‌ন উদ্বোধন করেন কর্নেল (অব.) ফারুক খান। ছবি: নিউজবাংলা
ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

বিএন‌পি‌ নেতাদের উ‌দ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, ‘স‌মাবেশ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না। আওয়ামী লীগ জা‌নে কীভা‌বে স‌মাবেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের মাধ্যমে জিততে হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হয়।’

শুক্রবার বি‌কে‌লে গাজীপু‌রের টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের ত্রি-বা‌র্ষিক স‌ম্মেল‌নে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক খান বলেন, ‘ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এখনই কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক খান।

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই দুই থানায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আজমত উল্লাহ খান।

বিএনপি সূত্র জানায়, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিভাগীয় সমাবেশ করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত আটটি সমাবেশ হয়েছে। শনিবার নবম সমাবেশটি হচ্ছে রাজশাহীতে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Brazil defeated Argentina in the field

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল খেলার আগে দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা। ছবি: নিউজবাংলা
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দল সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। িএ ম্যাচে ব্রাজিল দল জয়লাভ করেছে।

শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় প্রথম থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল সমর্থকরা। খেলা শুরুর ১০ মিনিটে রাজুর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক দল। এরপর আর্জেন্টিনা সমর্থক দল তাদের আক্রমণ শক্তিশালী করার চেষ্টা করলে ১৬ মিনিটে রাজুর আরও একটি গোল হজম করে তারা।

দুই গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা দল চেষ্টা চালাতে থাকে গোল পরিশোধ করার। খেলার ২০ মিনিটে আসে সফলতাও। গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের জাহিদ। পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ব্রাজিল সমর্থক দল জয়ী হয়।

খেলা শেষে ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়ক নাজমুল সাগর বলেন, ‘আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেললাম। বিভাগের প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মজবুত করতে আজকের এ প্রীতি ম্যাচ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের অধিনায়ক তাজ হাসান বলেন, ‘একটি খেলায় হার-জিত থাকবেই। খেলা খেলার জায়গায়। এর জন্য আমাদের বন্ধুত্ব বা ভাইয়ের সম্পর্ক নষ্ট হোক এটা আমরা চাই না। প্রীতি ম্যাচ আনন্দ করার জন্যই।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে খেলা যেন এই মাঠের মধ্যেই থাকে। এ খেলার জন্য কেউ কারোর ওপর মনোমালিন্য যেন না হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার।

আরও পড়ুন:
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক
জবি ক্যাম্পাসে বদ্ধ নর্দমা, মশার রাজত্ব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Another girls body hanging in the washroom of the madrasa after a month and a half

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

নরসিংদীর মাধবদীতে একই মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ছাত্রীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনাকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে সবশেষ ঘটনাটিকে মৃত শিশুর পরিবার হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচরে কুঁড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগারে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া যায় ১০ বছরের মাইশা আক্তারের ঝুলন্ত দেহ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর এই মাদ্রাসার শৌচাগারে পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সি আফরিন আক্তারের ঝুলন্ত দেহ।

মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত মাইশার বাড়ি মাধবদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিচারের পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বন্ধের দাবিও তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন: মেয়েকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠালেন বাবা, পেলেন মৃতদেহ


মাদ্রাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে শৌচাগারের পানির পাইপের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে হুজুর ও খাদেমকে জানায়। শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিই মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেই। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাদ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন হয়।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, আমি বলতে পারছি না।

‘মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে বলেই শুনেছি, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেছেন।’

শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

‘বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনাদর মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। সবাই গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

শিশুর ফুপা আইনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটা হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

মাইশার মায়ের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতে জড়িত; তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার রাতেই পরিদর্শন করেছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার ওসি।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইশার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

দেড় মাস আগে মৃত আফরিনের বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী থানার দড়িগাজীরগাঁও এলাকায়। সে ওই মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়ত। তার বাবার নাম ডালিম মিয়া।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসানউল্লাহ সে সময় নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন সকাল ৮টার কিছু আগে আফরিনকে নিয়ে আসেন তার বাবা ডালিম। আফরিন মাদ্রাসার গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিল না। তাকে জোর করে ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডালিমকে।

মাদ্রাসার গেটম্যান ইদ্রিস আলী সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, “বাড়ি থেকে নির্যাতন করে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন বাবা। এ সময় আফরিন বলছিল, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করব না, বেশি জোর করলে ফাঁস লাগিয়ে মারা যাব।’

“তখন আমার সামনেই তার বাবা বলছিল, ‘মরলে মাদ্রাসার ভেতরেই মর, আমি এসে মরদেহ নিয়ে যাব।’ এর আগেও অনেকবার জোর করে মেয়েকে এখানে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।”

শিক্ষক আসানউল্লাহ ও আফরিনের সহপাঠীরা জানায়, মাদ্রাসায় এসে সকালে যথারীতি ক্লাস করছিল আফরিন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চারতলার শৌচাগারে যায় সে। এরপর আর ক্লাসে ফিরে না আসায় কয়েকজন ছাত্রী তাকে খুঁজতে যায়।

তারা শৌচাগারে আফরিনকে দেয়ালের পাইপের সঙ্গে নিজের ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা গিয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আফরিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আছে কি না জানতে ওসিকে কল করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে কল কেটে দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে. এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিউজবাংলাকে জানান, ওই ঘটনায় আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
শিশু পর্নোগ্রাফি: গুগলের তথ্যে ধরা বরগুনার মাদ্রাসাছাত্র
যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ, হারপিক পান তরুণীর
ডেমরায় কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ
শিশুকে মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণ, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার
মা-মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা: অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

p
উপরে