ব্রিফকেসে বাজেট কেন

ব্রিফকেসে বাজেট কেন

সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের নানান প্রথা। এগুলোর কোনো কোনোটির উৎস কয়েক শ বছর।

বাজেট ঘোষণার দিন পত্রিকায় প্রায়ই একটি ছবি ছাপা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে প্রবেশ করছেন ব্রিফকেস হাতে।

এই ছবি দেখে মানুষ ‍বুঝতে পারে অর্থমন্ত্রী বাজেট দেয়ার জন্য সংসদে ঢুকছেন। ব্রিফকেসের ভেতর থাকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার কপি।

কিন্তু ব্রিফকেসে বাজেট কেন? কেন অন্য কোনো ধরনের ফোল্ডারে নয়? অনেকের মনে এ প্রশ্ন। এর পেছনে ইতিহাস খুঁজলে জানা যায় অজানা কাহিনি।

‘বাজেট’ শব্দটি ইংরেজি। বাংলায় এর পরিভাষা এখনও তৈরি হয়নি। সরকারি কাজে সর্বত্রই ইংরেজি বাজেট শব্দটিই ব্যবহার হয়।

বাংলা একাডেমির অভিধানে বলা হয়, ১৯০২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় বাজেট শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে মধ্যযুগের ইংরেজি শব্দ ‘বুজেট’ থেকে। বুজেট শব্দের অর্থ ‘মানিব্যাগ’ বা টাকার থলে।

অর্থনীতি গবেষক ও সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খান রচিত ‘বাংলাদেশ বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’ বইয়ে উল্লেখ ‌আছে, রবার্ট ওয়ালপুল নামে যুক্তরাজ্যের একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন ১৭২৫ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত। তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে সারা বছরই ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে কর হ্রাসের প্রস্তাব পেতেন।

সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে নতুন করারোপ বা করহার পরিবর্তনের পরামর্শ আসত। নতুন ব্যয়ের দাবিও বিভিন্ন মহল তার কাছে পাঠাত। এসব দাবি তিনি একটি বুজেট বা মানিব্যাগে ভরে রাখতেন।

অর্থবছরের শেষ দিকে যখন বাজেট তৈরি শুরু হতো, তখন তিনি মানিব্যাগ থেকে সেসব নোট বের করে সেগুলোর ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করতেন। ইতিহাস বলে, এভাবে বাজেট-ব্যবস্থার উৎপত্তি মানিব্যাগ থেকে।

শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়। ফলে বাজেট-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাড়তে থাকে। এত বেশি দাবি আসে যে, এসব প্রস্তাব শুধু একটি মানিব্যাগে সংকুলান সম্ভব হয় না। ফলে মানিব্যাগের জায়গায় আসে ব্রিফকেস।

ড. আকবর আলি খান বলেন, বাজেট গোপন রাখা হয়। কোনো কারণে বাজেট ফাঁস হয়ে গেলে অর্থমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হয়। কাজেই সংসদে পেশ করার আগে বাজেট গোপন রাখতে হয়।

সব দেশেই অর্থমন্ত্রীদের ব্রিফকেস সঙ্গে নিয়ে সংসদে বাজেট ঘোষণার রেওয়াজ দেখা যায়। তবে ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তার প্রথম বাজেটটি ঘোষণার সময় ব্রিফকেসের পরিবর্তে লালসালুতে মোড়া বাজেট ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে সংসদে ঢুকেছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যের লাল শাড়ির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে ওই বছরের বাজেট ডকুমেন্ট সাজিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক, ঋণ নিতে আগ্রহ নেই

হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক, ঋণ নিতে আগ্রহ নেই

হলের পরিবেশ ভালো হলে আর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিনেমা চালালে যে মুনাফা ভালোই হয়, তা দেখিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স। ফাইল ছবি

সিনেমা হল তৈরি, সংস্কারের জন্য তহবিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোগান দিলেও ঋণ দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে গত চার মাসে কোনো ব্যাংক থেকে একটি আবেদনও পড়েনি। ঋণ নেয়ার সময় আছে আর ৯ মাস। এই বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যাবে ৪ শতাংশ সুদে। তবে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইছেন, সুদহার আরও কমিয়ে ২ শতাংশ করা হোক। আবার শিল্প টিকিয়ে রাখতে ঋণ নয়, অনুদান দেয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ। সাধারণত চলচ্চিত্র শিল্পে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা নেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর। এ কারণে ব্যাংকগুলো এমন ঋণে স্বস্তিবোধ করছে না।

সিনেমা হল তৈরি, সংস্কারের জন্য এক হাজার কোটি টাকার তহবিল নিয়ে বসে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঋণ নিতে কেউই আগ্রহী নয়।

গত বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল, চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য বিশেষ তহবিল করবেন তিনি। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই তহবিল করার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানানো হয়, প্রথমে দেয়া হবে ৫০০ কোটি টাকা, এরপর চাহিদা থাকলে দ্বিতীয় ধাপে দেয়া হবে আরও ৫০০ কোটি টাকা।

তহবিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোগান দিলেও ঋণ দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে গত চার মাসে কোনো ব্যাংক থেকে একটি আবেদনও পড়েনি। ঋণ নেয়ার সময় আছে আর ৯ মাস।

এই বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যাবে ৪ শতাংশ সুদে। তবে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইছেন, সুদহার আরও কমিয়ে ২ শতাংশ করা হোক।

আবার শিল্প টিকিয়ে রাখতে ঋণ নয়, অনুদান দেয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

নব্বইয়ের দশক থেকে চলচ্চিত্রশিল্প জৌলুস হারাতে শুরু করে। জেলায় জেলায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল। করোনা পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে হয়েছে নতুন অনুঘটক। সিনেমা হল চালানোর চেয়ে বিপণিবিতান বা অন্য প্রতিষ্ঠান করলে আয় ভালো হয়। তাই হলের মালিকরা হাঁটছেন ওই পথেই।

তবে হলের পরিবেশ ভালো হলে আর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিনেমা চালালে যে মুনাফা ভালোই হয়, তা দেখিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স আর যমুনার মাল্টিপ্লেক্স। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানও ভালো নেই। তাই অন্যরা এই মুহূর্তে বিনিয়োগে যেতে চাইছেন না।

হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক, ঋণ নিতে আগ্রহ নেই

সিনেমা হল তৈরি, সংস্কারের জন্য এক হাজার কোটি টাকার তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আবেদন করার এখনও অনেক সময় আছে। গত কয়েক মাসে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখন আগের চেয়ে আরও সতর্ক হয়েছে।’

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী বলেন, ‘সাধারণত চলচ্চিত্রশিল্পে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা নেই ব্যাংকগুলোর। এ কারণে ব্যাংকগুলো এমন ঋণে স্বস্তিবোধ করছে না।’

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল নিউজবাংলাকে জানান, তহবিল গঠনের পর সুদহার ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে।

ঋণ মিলবে যে যে খাতে

চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হলগুলোর জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও মেশিনারি, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ক্রয় এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণের উদ্দেশে এই তহবিল থেকে ঋণ মিলবে।

বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যমান সিনেমা হলসহ নতুনভাবে নির্মিত সিনেমা হলগুলোও এই তহবিলের আওতায় ঋণসুবিধা পাবে।

তহবিলের আওতায়ে একজন সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

ঋণের সুদে ছাড়

সার্কুলারে বলা হয়, বিভাগীয় শহরের জন্য এই ঋণের সুদহার ৫ শতাংশ ও এর বাইরের এলাকার জন্য সাড়ে ৪ শতাংশ। আর এই ঋণ শোধ করা যাবে আট বছর পর্যন্ত। প্রথম বছরে ঋণ পরিশোধে ছাড় মিলবে (গ্রেস পিরিয়ড)।

তবে চলতি মূলধন বাবদ কোনোরূপ ঋণ দেয়া হবে না। এ ছাড়া এ তহবিলের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে কোনোভাবেই অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এই পুনঃ অর্থায়নের অর্থ দেবে।

মূলত ব্যাংকগুলো এই ঋণ প্রদান করবে, এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃ অর্থায়ন নিতে পারবে। আর সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ব্যাংকগুলোর হিসাব থেকে কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিচার-বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে এই ঋণ দিতে হবে।

তহবিলে কেন অনীহা

ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, শিল্প খাত হিসেবে চলচ্চিত্র খাতে ব্যাংকারদের জানাশোনা অনেক কম। এ জন্য এ খাতের ঋণ বিতরণেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না বেশির ভাগ ব্যাংক।

তিনি বলেন, শুধু ঋণ দিলেই হবে না, ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকতে হলে সেই ঋণের অর্থ আবার ফেরত আনতে হবে।

প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল নিউজবাংলাকে বলেন, সার্কুলারে বলা হচ্ছে ঋণ পরিশোধে সময় পাওয়া যাবে ৮ বছর। এটা ১২ বা ১৫ বছর করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঋণ নিতে জায়গা মর্টগেজ দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এটা শিথিল করার অনুরোধ করেছি। কোনো ব্যাংক না দিতে চাইলে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে। কারণ, এটা সরকার ঘোষিত তহবিল।’

পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার নিউজবাংলাকে বলেন, সিনেমা হলমালিকদের ঋণ দেয়া হলেও সিনেমা তৈরির জন্য তহবিল প্রয়োজন। শুধু হল নির্মাণ করলে হবে না, সিনেমাও তো লাগবে। এ জন্য এফডিসির মাধ্যমে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।

এ জন্য শুধু হলমালিকদের না চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। যে ঋণ এফডিসির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নিয়মিত পরিচালকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাতে করে হলমালিকরা ভালো ছবি পাবেন এবং দর্শক হলে ফিরতে শুরু করবে।

তিনি বলেন, রুগ্‌ণ চলচ্চিত্রশিল্পকে টেনে তুলতে ঋণ দিয়ে তেমন সফলতা আসবে না। ওই তহবিল অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হলে চলচ্চিত্রপাড়ায় সুদিন ফিরতে পারে।

বহুবিধ সংকটে এই শিল্প

করোনাকালে সিনেমা হল বন্ধ ছিল টানা সাত মাসের বেশি। এরপর গেল বছরের অক্টোবরে হল খুলে দেয়ার পরও অধিকাংশ হলের মালিক হল খোলেননি।

হলমালিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ বিল, কর্মীদের বেতন-ভাতা সবই দিতে হয়েছে। অনেক মালিক ভাড়া করে হল চালান, তাদের প্রতি মাসে উচ্চমূল্যের ভাড়া গুনতে হয়েছে।

হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে ব্যাংক, ঋণ নিতে আগ্রহ নেই

১৯৫৪ সালে শুরু হওয়া মধুমিতা সিনেমা হলটি মাগুরা জেলার প্রথম হল। দেনার দায়ে যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন হলটির মালিক বাবুল মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

নব্বইয়ের দশকে দেশে প্রায় দেড় হাজার সিনেমা হল চালু ছিল। বিভিন্ন সংকটে বন্ধ হতে হতে বর্তমানে মাত্র ১৫০টি হল চালু আছে। তবে এসব হলেও তেমন দর্শক মিলছে না। মূলত উন্নত প্রদর্শনকেন্দ্র না থাকা এবং ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতই নাজুক যে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত আসবে কি না, এমন অনিশ্চয়তায় করোনার গত এক বছরে নতুন সিনেমা নির্মাণের সাহস পাচ্ছেন না কেউ।

২০১২ সালের ৩ এপ্রিল চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এ খাত শিল্প হিসেবে কোনো সুবিধাই পায়নি। ফলে এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বেশির ভাগ মানুষ।

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

টিকা কিনতে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

টিকা কিনতে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

ঋণের এই ৯৪ কোটি ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৭ কোটি ডলারের জন্য বাংলাদেশকে নিয়মিত হারে (২ শতাংশ) সুদ দিতে হবে। বাকি ৪৭ কোটি ডলারের জন্য সুদের হার ঠিক হয়েছে আলোচনার ভিত্তিতে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কিনতে বাংলাদেশের জন্য ৯৪ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে যে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ঋণ দিচ্ছে এই উন্নয়ন সংস্থাটি।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার এডিবির বোর্ডসভায় এই ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এই সহায়তা কোভিড মোকাবিলায় অবদান রাখবে বলে আমরা মনে করি।’

মঙ্গলবার ম্যানিলাভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে সহযোগিতা করার জন্য গত ডিসেম্বরে এডিবি ৯০০ কোটি ডলারের যে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ভ্যাকসিন একসেস ফ্যাসিলিটি’ চালু করেছিল, তার আওতায় এই অর্থ পাবে বাংলাদেশ।

প্রতি মার্কিন ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।

গত এপ্রিলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এডিবি এই ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল। করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে ঋণ হিসেবে এটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা।

করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে এডিবির কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার চেয়ে গত নভেম্বরে চিঠি দিয়েছিল সরকার। তবে আলোচনার ভিত্তিতে তার চেয়ে বেশিই পাচ্ছে বাংলাদেশ।

ঋণের এই ৯৪ কোটি ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৭ কোটি ডলারের জন্য বাংলাদেশকে নিয়মিত হারে (২ শতাংশ) সুদ দিতে হবে। বাকি ৪৭ কোটি ডলারের জন্য সুদের হার ঠিক হয়েছে আলোচনার ভিত্তিতে। তবে সেই হার কত তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

সেখানে বলা হয়, এই ঋণের টাকায় বাংলাদেশ আনুমানিক ৪ কোটি ৪৭ লাখ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে পারবে। ২০২৪ সালের মধ্যে দুই কোটির বেশি মানুষকে ওই টিকা দেয়া যাবে।

এই ঋণের অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ কোভিড টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স বা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে অথবা সরাসরি উৎপাদনকারীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় টিকা কিনতে পারবে।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘ভাইরাস সংক্রমণের চক্রকে ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর পাশাপশি অর্থনীতির ওপর মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে টিকাদান কর্মসূচি।

‘কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশেকে এডিবির ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই ঋণ, যাতে ভাইরাস থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া যায়, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবিকার ক্ষেত্রে নতুন করে গড়ে তোলা যায়, অর্থনীতিকে আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় নিয়ে যাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রে ধসে উজ্জ্বল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রে ধসে উজ্জ্বল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা টাকা হারিয়েছে বুধবার। ছবি: নিউজবাংলা

তিন প্রান্তিকেই যে পরিমাণ আয় করেছে বেশির ভাগ ফান্ড, সেই পরিমাণ আয় গত ১০ বছরের কোনো বছরেই করতে পারেনি ফান্ডগুলো। আবার ১ এপ্রিল থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে সূচক বেড়েছে ৭৫০ পয়েন্টের বেশি। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়, এই প্রান্তিকেও ব্যাপক আয় করবে তারা। ফলে এবার ইউনিট মূল্যের তুলনায় বেশ ভালো পরিমাণে লভ্যাংশ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমা খাতের শেয়ার দর যেভাবে বেড়েছিল লাফিয়ে লাফিয়ে, সেভাবেই এখন দাম কমছে ধপাস করে। আকর্ষণীয় মুনাফা ও লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দর ধরে রাখতে পারছে না ব্যাংক খাত। টানা উত্থানের পর পতন বস্ত্র খাতেও।

সব মিলিয়ে সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে বড় পতন পুঁজিবাজারে। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম একটি খাত। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের যেগুলোর লেনদেন হয়েছে, দাম বেড়েছে তার প্রতিটির।

অর্থবছর শেষের আর পাঁচ কর্মদিবস বাকি। ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টি কী পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, তার হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের যে হিসাব প্রকাশ হয়েছে, তাতে সিংহভাগের আয় হয়েছে ব্যাপক।

তিন প্রান্তিকেই যে পরিমাণ আয় করেছে বেশির ভাগ ফান্ড, সেই পরিমাণ আয় গত ১০ বছরের কোনো বছরেই করতে পারেনি ফান্ডগুলো।

আবার ১ এপ্রিল থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে সূচক বেড়েছে ৭৫০ পয়েন্টের বেশি। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়, এই প্রান্তিকেও ব্যাপক আয় করবে তারা। ফলে এবার ইউনিট মূল্যের তুলনায় বেশ ভালো পরিমাণে লভ্যাংশ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হচ্ছে না গত ১৬ মে থেকে। বাকিগুলোর মধ্যে দুটি ছিল সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির তালিকায়। আর ২০টি কোম্পানির ছয়টি ছিল এই খাতের।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর চেয়ে বেশি দাম বাড়া সম্ভব ছিল না।

সব মিলিয়ে বড় পতনের দিন ১১টি ফান্ডের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি।

অন্য খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝড় বেছে বিমা খাতে, এরপর ব্যাংকে। আর তৃতীয় অবস্থানে বস্ত্র খাত।

বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৭টি। অন্যদিকে ব্যাংক খাতের ৩১টির মধ্যে ২৪টি, বস্ত্রের ৫৮টির মধ্যে ৪১টি কোম্পানি দর হারিয়েছে।

ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রে ধসে উজ্জ্বল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল, বিদ্যুৎ, জ্বালানিও হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতে ছিল মিশ্র প্রবণতা।

দিন শেষে সূচক পড়েছে ৬৯ পয়েন্ট, তবে লেনদেন আবার ছাড়িয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।

পতনে শীর্ষ বিমা খাত

উচ্ছাশার বিমার শেয়ারের পতন থামছেই না। পতন এতটাই বেশি ছিল যে, দিনের সর্বোচ্চ পতন হওয়া দশটির মধ্যে সাতটি ছিল বিমার।

সবচেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের। ৯.৮২ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি। আট কর্মদিবসে দাম ২১৫ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৬৪ টাকা ৪০ পয়সায়।

প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৯.০৯ শতাংশ।

প্রগতি ইন্স্যরেন্সের ৮.৮৩ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ৮.৭৫ শতাংশ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮.৫৫ শতাংশ, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের ৮.২০ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৭.৯৩ শতাংশ।

বিমা খাতের লেনদেন হয়েছে ২১০ কোটি টাকা, যা আগের দিনে ছিল ৩৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ব্যাংকে আগ্রহে আরও ভাটা

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ১০ পয়সা দাম বৃদ্ধি ছাড়া আর স্বস্তি কেবল এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংকের দর ধরে রাখা।

কমেছে বাকি সব কটির দর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে লভ্যাংশের আগে উড়তে থাকা রূপালী ব্যাংক। পর পর দুই দিন দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের পকেট ফাঁকা করেছে কোম্পানিটি।

গত বছর লভ্যাংশ দিতে না পারা ব্যাংকটি এবার লভ্যাংশ দেবে গুজবে শেয়ার পর ৪০ টাকা ছাড়িয়ে যায় গত সপ্তাহে। তবে এখন কমতে কমতে ৩৩ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ডাচবাংলা ব্যাংক ১ টাকা ৭০ পয়সা, এনআরবিসি ১ টাকা ৬০ পয়সা, ইবিএল ১ টাকা ১০ পয়সা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৫০ পয়সা, ব্র্যাক ব্যাংক ৪০ পয়সা দর জারিয়েছে।

ব্যাংক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। আগের দিন যা ছিল ১৫৩ কোটি টাকার বেশি।

সকালে ঊর্ধ্বমুখী লাফ, বিকেলে পতন বস্ত্র খাতে

গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বস্ত্র খাতের শেয়ার দরও সকালে অনেক বেড়ে যায়। ১০ শতাংশ বা আশেপাশে দাম বেড়ে যায় অনেকগুলো কোম্পানির। তবে দুপুরের পর থেকেই দেখা যায় উল্টো চিত্র।

দিন শেষে এই খাতও হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের। বরং সকালে উচ্চমূল্যে কিনে বিকেলেই আবার বড় লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

পতনের দিনও ‍তিনটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ১০টি কোম্পানির তিনটি ছিল মালেক স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিক্স ও তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল।

ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রে ধসে উজ্জ্বল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

এর মধ্যে মুন্নু ও তমিজউদ্দিন ১২ বছর পর ওটিসি মার্কেট থেকে ফিরে আসার পর প্রতিদিন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি দাম হয়ে গেছে। আর মালেক স্পিনিং তার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো ও তিন প্রান্তিকে ব্যাপক মুনাফা করার তথ্য জানানোর পর থেকে উল্লম্ফনে আছে।

আগের দুই দিনের মতো এদিনও সবচেয়ে বেশি লেনদেন লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে। এদিন মোট ৩৮৬ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৭৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আগ্রহের নতুন মাত্র মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

বুধবার এক প্রকার চমক দিয়ে দর বৃদ্ধির তালিকায় ওঠে এসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো।

আইসিবি সেকেন্ড এনআরবির পরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৮.১২ শতাংশ। ৭ টাকা ৩০ পয়সা দরের এই ফান্ডটি বুধবার লেনদেন শেষে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা।

আইসিবি এ্যাম্পোয়ার প্রভিডেন্ট ফান্ড ওয়ান, স্কিম ওয়ান এর দর বেড়েছে ৬.৭৫ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এসইএমএল লেকটার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের দর বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ। ইউনিটি প্রতি দর ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা।

ব্যাংক, বিমা, বস্ত্রে ধসে উজ্জ্বল মিউচ্যুয়াল ফান্ড
বুধবার ঢাকা স্টকএক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

এমবিএল ফাস্র্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৬.২৫ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দর ৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর বেড়েছে ৫.৬১ শতাংশ। এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের ইউনিট প্রতি দর বেড়েছে ৫.০৫ শতাংশ। এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান এর দর বেড়েছে ৫ শতাংশ।

বুধবার মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি টাকা।

অন্যান্য প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ২১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে, ২০৬ কোটি ৪২ টাকা হাতবদল হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে ২০৬ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে।

সূচক ও লেনদেন

বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৯ দশমকি ৮৯ পয়ন্টে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৬ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে।

মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ১৯৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। মোট লেনদেন হয়েছে ১৩৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

এলএনজি আমদানিতে ৪ কোম্পানিকে অনুমোদন

এলএনজি আমদানিতে ৪ কোম্পানিকে অনুমোদন

কোম্পানি চারটি হচ্ছে : জাপানের আটিওসিএইচইউ করপোরেশন, সিঙ্গাপুরের গুনভর সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেপিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।

দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য ৪টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বুধবার এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরক্তি সচিব শামসুল আরেফিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করবে চারটি কোম্পানি।

কোম্পানি চারটি হচ্ছে : জাপানের আটিওসিএইচইউ করপোরেশন, সিঙ্গাপুরের গুনভর সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেপিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পেঁয়াজ, রসুন, মশুর ডাল, ছোলা, মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল, চিনি, ইত্যাদি পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০২৩ সালের ২৬ মে পর্যন্ত দুই বছর বাড়ানোর নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবারের সভায় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটিতে দুটি এবং ক্রয়কমিটিতে ১৪টিসহ এক হাজার ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য দরপ্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:

# স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ।

# বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সিগন্যালিংসহ রেল লাইন সংস্কার ও নির্মাণ শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের দর প্রস্তাবের অনুমোদন।

# খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ভারতের বাগডিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ প্রদান।

# ‘যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের দর প্রস্তাবের অনুমোদন।

# বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক ‘সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচ’ প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীন টার্ন-কী পদ্ধতিতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়নের দরপ্রস্তাবে অনুমোদন

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক গতি পরিবর্তনের পরামর্শ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক গতি পরিবর্তনের পরামর্শ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের

বাংলাদেশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সাফল্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরবর্তী দশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের এখন গতি পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

করোনাভাইরাস উত্তর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের এখন গতিপথ পরিবর্তনের সময়, যার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যে বৈচিত্র্য আসবে এবং রপ্তানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

বুধবার প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং বিশ্বব্যাংক প্রণীত ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়গনস্টিক (সিপিএসডি)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পরামর্শ দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতগুলো আরও শক্তিশালী করা দরকার। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অর্থনীতির সম্ভাবনার বন্ধ দরজাও খুলবে। উন্নয়নশীল বিশ্বে যেখানে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল, বাংলাদেশের সেখানে ৭০ শতাংশ। ফলে একটি বিস্তৃত বেসরকারি খাত গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে দেশের আর্থিকখাতে নতুন দফার সংস্কার শুরু করতে হবে।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সাফল্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরবর্তী দশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের এখন গতি পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

‘বাংলাদেশকে এখন নতুন দফার সংস্কার শুরু করতে হবে। এই সংস্কার এজেন্ডার প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণ।’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অর্থনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে সুযোগগুলো কাজে লাগালে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আগামীর বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। বিনিয়োগ সম্ভাবনার এই খাতগুলো হচ্ছে: পরিবহন ও লজিস্টিকস, জ্বালানি, আর্থিক সেবা, হালকা প্রকৌশল, কৃষি বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে একটি ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা, বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে নিযুক্ত আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নারসহ আরও অনেকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য এবং সরকারের দূরদর্শী নীতির সহায়তায় রেমিট্যান্সের তেজি প্রবাহ বাংলাদেশের দৃঢ় ও প্রাণবন্ত প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, এমনকি অতিমারির সময়েও।

বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা (২০২১-৪১) অনুযায়ী সরকার ২০৩১ সাল নাগাদ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে সবার কর্মসংস্থান ও চরম দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিপিএসডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। পাশাপাশি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা থেকে বের হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ভার্চুয়াল সংলাপে দাবি করা হয়, এই প্রতিবেদনের ফলাফল বাংলাদেশ সরকারের সাথে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কের কৌশলগত উপাদান প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে, যা বাজার সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের পথ দেখাবে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘করোনার অতিমারির প্রতিকূল প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে মন্দার কবলে পড়েনি। সেই সঙ্গে ইতিবাচক জিডিপি প্রবৃদ্ধিও এসেছে গত বছর। কারণ, আমরা এই অতিমারির সমস্ত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।’

সালমান এফ রহমান জানান, সিপিএসডি রিপোর্টের সুপারিশগুলো ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে যেতে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা বলেন, ‘অতিমারি বাংলাদেশের ওপর কঠিন আঘাত হেনেছে। দেশটি এখন করোনা উত্তরণের পর্যায়ে থাকায় সংস্কারের প্রয়োজনীতা আরও দৃঢ়ভাবে দেখা দিয়েছে।

‘এখন দরকার একটি মজবুত আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ৭০ শতাংশের বেশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে এই বেসরকারি খাতের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার দরকার, যাতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি গুনগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।’

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। আরও প্রাণবন্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। একই সঙ্গে একটি বলিষ্ঠ ও অত্যাধুনিক বেসরকারি খাত গড়ে তুলতে হবে, যা করোনা পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের জন্য খুবই জরুরি। যেখানে সরকারের বেশির ভাগ সম্পদের প্রয়োজন হবে সামাজিক খাতের জন্য।’

বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে নিযুক্ত আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার বলেন, ‘এটা সুস্পষ্ট যে, গুনগত স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে এবং স্বাস্থ্য পরিসেবার দক্ষতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেননা একই পর্যায়ের উন্নয়নে থাকা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কম মাত্রার।’

তিনি বলেন, ‘এর বাইরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের তৈরি পোশাকের বাজারে মনোযোগ দিতে পারে ও নতুন প্রযুক্তির প্রবর্তন করতে পারে এবং পাদুকা, চামড়া, ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং কৃষিবাণিজ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।’

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

আইপিওতে আসছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স

আইপিওতে আসছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের বিমা দাবির চেক বিতরণ। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স এই সময়ে মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কর দেয়ার পর ২০১৯ সালে আয় হয় ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এর মাধ্যমে গত ছয় মাসে তিনটি বিমা কোম্পানির অনুমোদন দিল বিএসইসি।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৯০৪টি শেয়ার ছেড়ে মোট ১৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৪০ টাকা তুলবে।

বুধবার কোম্পানিটির এ-সংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা টাকায় ফিক্সড ডিপোজিট, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ফ্লোর কিনবে কোম্পানিটি। এ টাকা থেকেই মেটানো হবে আইপিওর ব্যয়ও।

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয়েছে ৯৩ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৬ টাকা ০২ পয়সা।

বিএসইসি জানায়, ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমে কোম্পানিটির সাধারণ শেয়ারের চাঁদা গ্রহণ শুরুর অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকে এলিজিবল বা যোগ্য ইনভেস্টরদের হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ থাকবে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বীকৃত পেনশন ফান্ড ও স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগ থাকতে হবে ৫০ লাখ টাকা। আর অন্য এলিজিবল ইনভেস্টরদের থাকতে হবে এক কোটি টাকার বিনিয়োগ।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ২০০০ সালের ২৪ আগস্ট থেকে দেশে বিমা ব্যবসার শুরু করে। নিয়মানুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে হয়, না হলে প্রতিদিনের দেরির জন্য গুনতে হয় জরিমানা।

কিন্তু ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের সময় লেগে গেল ২০ বছর। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (ইডরা) কাছে সময় চেয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে কোম্পানিটি।

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স এই সময়ে মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কর দেয়ার পর ২০১৯ সালে আয় হয় ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে বিমা কোম্পানিগুলোর সনদ বাতিল করা হবে। ওই হুঁশিয়ারির দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বাজারে এসেছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সসহ মাত্র তিনটি কোম্পানি।

এর আগে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর অনুমোদন দেয়া হয় দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, যা ২৯ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে।

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর অনুমোদন দেয়া হয় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের, যার মাধ্যমে আনুপাতিক হারে শেয়ার বণ্টনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কোম্পানিটি আগামী ৩ জুলাই থেকে লেনদেন শুরু করবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর আহমেদ পল্টু ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন।

বর্তমানে দেশে জীবন ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে ৭৮টি বিমা কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫০টি। বাকি ২৮টি এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি। ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্ত হওয়ার পর পুঁজিবাজারে বিমা কোম্পানির সংখ্যা হবে ৫১টি।

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন

অবশেষে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ এনবিএলের

অবশেষে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ এনবিএলের

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিয়েছে এনবিএল।

অর্থবছর শেষ হওয়ার সাড়ে ছয় মাস শেষ হওয়ার দিন ২০২০ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা বিষয়ে বৈঠক করার কথা জানিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল।

আগামী ৩০ জুন এই সভা হবে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধনের ব্যাংকটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দু-একটি বহুজাতিক কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। আর তাদের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরের পরের কয়েক মাস পুঁজিবাজারে লেনদেনে গতি পায়।

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়।

তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিয়েছে এনবিএল।

গত বছরও ব্যাংকটি ৩০ জুন লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভা করেছিল। সে সময় করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে পুঁজিবাজার ৬৬ দিন বন্ধ ছিল।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার।

ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিএল এর কোম্পানি সচিব কাইসার রাশিদ।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগের পরিচালন মুনাফাই আগের বছরের তুলনায় কমে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনবিএল। এই কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

আবার চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এবার পরিচালন মুনাফা কম হলেও চূড়ান্ত মুনাফা বেশি হয়েছে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই। এখন এনবিএলের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, সেটি আগেভাগে প্রকাশ করায় আইনি বাধা আছে। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পরেই সেটি প্রকাশ করা হবে।

তৃতীয় প্রান্তিকের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অবশ্য কম। সে সময় তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় ছিল ৬৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটি গত বছর পরিচালন মুনাফা করেছে ৯৮০ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৯৫০ কোটি টাকা।

তবে এই মুনাফা থেকে ঋণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ আর ৪০ শতাংশ কর পরিশোধের পর চূড়ান্ত মুনাফার ঘোষণা আসবে। কত টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়ে আগেভাগে কোনো তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানই দেয় না।

২০১৯ সালে এনবিএল শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪১ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৫০ পয়সা দেখা হয় নগদে, আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পেয়েছেন প্রতি ২০টিতে আরও একটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সবচেয়ে পুরোনো ও বড় ব্যাংকগুলোর একটি হলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার মূল্য একেবারেই তলানিতে। প্রতিবছর লভ্যাংশ ঘোষণা করে, এমন কোম্পানির মধ্যে এত কম দামে আর কোনো শেয়ার বিক্রি হয় না।

বুধবার ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা করে। অর্থাৎ অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে ২৩ শতাংশ কমে আছে দাম।

আরও পড়ুন:
বাজেট নিয়ে গোপনীয়তা কেন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় আরও ১২ লাখ
বাজেটে বিশাল ঘাটতি, সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সামাজিক সুরক্ষায় এবার বরাদ্দ অনেক বাড়ছে

শেয়ার করুন