ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

ঈদের পর দিন পুঁজিবাজারের লেনদেনের চিত্রে হাসি ফুটেছে বিনিয়োগকারীদের মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হলে খুবই ভালো। বর্তমানে যেভাবে পুঁজিবাজার পরিচালিত হচ্ছে তাতে কমিশনের উদ্যোগ অনেকটাই কার্যকর হচ্ছে। তবে ভালো পুঁজিবাজারের সঙ্গে যেন ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণ’ নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে আশাবাদের মধ্যে ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন বাজার নিয়ে আস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার পুঁজিবাজারে লেনদেন ঈদের আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম হলেও এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা গত এক দশকেও দেখা যায়নি। ২০১১ সালের পর কোনো ঈদের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হলো এদিন।

রোববার ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

এ নিয়ে টানা ১০ কার্যদিবস পুঁজিবাজারে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলো।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা পুঁজিবাজারের আস্থার প্রতিফলন। আমরা দেখেছি, ২০১১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে যে লেনদেন হয়, তা গত ১০ বছরে দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আগে কখনও ঈদের আগে ক্রমাগত হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়নি। আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকের উত্থান থাকলেও হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়নি।’

গত বছরের শেষ দিকে বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বাজারে দেখা দেয় চাঙাভাব। সক্রিয় হতে শুরু করেন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া বহু বিনিয়োগকারী। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার চেষ্টাও চলছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা উত্থানের পর বিএসইসির একটি সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে বিনিয়োগকারীদের খুশি করলেও সেদিনের পর থেকেই কমতে থাকে বাজার।

মার্জিন ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আদেশ জারির পর থেকেই বাজার পড়তে থাকে। ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্ট থেকে কমতে কমতে একপর্যায়ে ৫ হাজার ১০০ পয়েন্টের মতো হয়ে যায়।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

সূচক কমার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা বন্ধ করে দেন। ফলে যে বাজারে টানা ১০ কার্যদিবস প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, সেখানে একপর্যায়ে ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে।

তবে লকডাউন শুরু হওযার আগে আগে বিএসইসি জানায়, মার্জিন ঋণের সুদহার বেঁধে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত চলতি বছর আর এটি কার্যকর হবে না। আবার আনুপাতিক হারে আগের চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ নেয়ার ব্যবস্থাও হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের পর গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর থেকে বাজারে দেখা দেয় ইতিবাচক মনোভাব। অথচ লকডাউনে লেনদেন বন্ধ থাকবে গুজবে এর আগে টানা কয়েক দিন বড় পতন হয়। এক দিনে সূচক পড়ে পৌনে ২০০ পয়েন্টের বেশি।

এবার ঈদের আগে আগেও পুঁজিবাজারে ছিল চাঙাভাব। অন্যান্য বছর বিনিয়োগকারীরা এই সময় শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেন। তবে এবার তা হয়নি। বিক্রির চাপ কম থাকায় শেয়ারের দাম বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা ব্যাংক, আর্থিক খাত, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দেখা দেয় চাঙাভাব।

ঈদের পর প্রথম কয়েক দিন সাধারণত শেয়ার কম কিনে বাজার পর্যবেক্ষণে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে কয়েক দিন বাড়ে না সূচক ও লেনদেন।

কিন্তু এবার ঈদের ছুটি শেষে বড় খাতগুলোর মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং প্রকৌশল নিয়েও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারও কিনছেন দ্রুতগতিতে। লকডাউনের কারণে লেনদেন হচ্ছে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এর মধ্যেই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলো, যদিও বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এখন ঈদের ছুটিতে।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম

বিএসইসির কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি এই আস্থা ধরে রাখুক। এবং কমিশনও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও কীভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখা যায় সে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হলে খুবই ভালো। বর্তমানে যেভাবে পুঁজিবাজার পরিচালিত হচ্ছে তাতে কমিশনের উদ্যোগ অনেকটাই কার্যকর হচ্ছে। তবে ভালো পুঁজিবাজারের সঙ্গে যেন ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

ঈদ শেষে লেনদেন খতিয়ান

২০১৬ সালে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস ৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৪৮০ কোটি টাকা। এবং ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ১৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৩১৪ কোটি টাকা।

২০১৭ সালে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস ৩১ আগস্ট লেনদেন হয়েছিল ৮৫২ কোটি টাকা। এবং ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ৪ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৬৬৭ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে ঈদের পর ১৮ জুন প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ৪৮৫ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারে ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে ১২ জুন লেনদেন হয়েছিল ৪৫৭ কোটি টাকা।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর থেকেই পুঁজিবাজারে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে

২০১৯ সালে ঈদের পর ৯ জুন প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি টাকা। ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে ৩০ এপ্রিল লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি টাকা।

২০২০ সাল দেশের করোনা পরিস্থিতে ঈদুর ফিতরে বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারের লেনদেন। তবে চালু ছিল ঈদুর আজহার সময়। ২০২০ সালের ঈদুর আজহার আগের দিন সর্বশেষ কার্যদিবস ৩০ ‍জুলাই লেনদেন হয়েছিল ৫৮০ কোটি টাকা। আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ৩ আগস্ট লেনদেন হয়েছিল ৬৭২ কোটি টাকা।

খাতওয়ারি লেনদেনে ফিরেছে আস্থা

এক দশক ধরেই ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রবণতা চলছে। এর মধ্যে গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের পর এই খাতের শেয়ারের দাম একেবারে তলানিতে নেমে আসে।

তখন কথা ছড়িয়েছিল যে, করোনায় ব্যাংকের মুনাফা কমে যাবে এবং লভ্যাংশ পাওয়া যাবে না। তবে বছর শেষে দেখা গেল করোনাকালে মুনাফা বেশি করার পর লভ্যাংশও বেশি দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

চলতি বছর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত যে ২৭টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ২৩টি কোম্পানি ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা কেবল নগদে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি আছে বোনাস শেয়ার।

চলতি বছর প্রথম তিন মাসের আয়ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যে ২০টি ব্যাংক প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ১৫টিই আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি আয় করেছে। একটি ব্যাংক প্রায় তিন গুণ, একটি দেড় গুণ, একটি দ্বিগুণ এবং আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি আয় করেছে।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

একই পরিস্থিতি বস্ত্র খাতে। করোনার প্রাদুর্ভাবে এই খাতেও আয় ভালো হবে না ভেবে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অভিহিত মূল্যের আশেপাশে বা তার চেয়ে নেমে গেছে।

প্রান্তিক প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, করোনাকালে এবার গত বছরের চেয়ে বেশি আয় করছে অনেক কোম্পানি। তবে এটাও ঠিক যে, এই খাতেই লোকসানি কোম্পানি অনেক।

ঘুমিয়ে থাকা বস্ত্র খাতও ঈদের আগে হঠাৎ একদিন লাফ দিয়ে এরপর দুই দিন স্থিতিশীল থেকে আবার লাফ দেয়।

ঈদের পর প্রথম লেনদেনে সেই আস্থা ধরে রেখে আবারও উত্থানে ফিরেছে ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের।

লকডাউনে যেভাবে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

লকডাউনের শুরুতে আতঙ্ক কাজ করলেও প্রায় এক মাসের লকডাউনে স্বস্তিতে ছিল পুঁজিবাজার। ৫ মে লকডাইন শুরু হওয়ার আগের দিন এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচকের পতন হলেও লকডাউন শুরু হওয়ার পর সূচক বেড়েছে। এদিন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বাড়ে ৮৮ পয়েন্ট। ৬ এপ্রিল বাড়ে আরও ১০৩ পয়েন্ট।

৭ এপ্রিল বাড়ে ৫৫ পয়েন্ট।

এদিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল ও ৯ এপ্রিল পর্যায়ক্রমে ৮২ পয়েন্ট ও ৯০ পয়ন্টে কমে আসে সূচক।

কিন্তু কেন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে সেটি ব্যাখ্যা আসার পর অনেকটা স্থিতিশীল হয় ১১ এপ্রিল থেকে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির পর লেনদেনে সূচক বাড়ে ৯০ পয়েন্ট। তারপর টানা ১০ কার্যদিবস ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত উত্থান ছিল সূচকের।

দুই সপ্তাহ উত্থান শেষে ২৬ এপ্রিল এক দিন বেশ বড় দরপতনই দেখে পুঁজিবাজার। সেদিন সূচক হারায় ৬৩ পয়েন্ট।

এরপর আবার তিন কার্যদিবস যথাক্রমে ৩৯, ১৮ ও ৪১ পয়েন্ট বাড়ার পর এক দিন সূচক কমে ছয় পয়েন্ট।

এরপর দুই-এক দিন উঠানামা হলেও ঈদের আগে টানা বেড়েছে সূচক।

৪ মে থেকে চার কার্যদিবসে যথাক্রমে ২৪, ৫৩, ১৮, ৩৯, ৭৯ ও ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ঈদের ছুটিতে যায় পুঁজিবাজার।

লকডাউনের এ সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে পাঁচ গুণ। লকডাউন শুরু হওয়ার পর ৫ এপ্রিল পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ২৩৬ কোটি টাকা। ঈদে পুঁজিবাজার বন্ধ হওয়ার আগে ১২ মে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এই সময়ে টানা ৯ দিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমদানি পণ্য আমরা রপ্তানি করছি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

আমদানি পণ্য আমরা রপ্তানি করছি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেছেন, ‘উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দ্বিতীয় ধাপে যেখানে আমাদের হাই টেক ও হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে যেতে হবে, সেখানে ওয়ালটন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা যেসব পণ্য আমদানি করতাম, এখন তা রপ্তানি করছি। বাংলাদেশে যে সব কিছুই সম্ভব, সেটা ওয়ালটনের মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারব।’

শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

সে সময় তিনি ওয়ালটনের তৈরি নতুন মডেলের একটি স্মার্ট টেলিভিশন উন্মোচন করেন। বিএসইসি চেয়ারম্যান ওয়ালটনের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে হাই-এফিশিয়েন্ট ইনভার্টার কম্প্রেসরের প্রোটোটাইপ পরিদর্শন করেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়ালটন কারখানা একটি গ্রিন টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন কমপোনেন্ট তৈরি হচ্ছে। কাঁচামাল থেকে একটি সম্পূর্ণ পণ্য কীভাবে ওয়ালটন তৈরি করছে, সেটা নিজ চোখে দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। ওয়ালটনকে দেখে বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। ওয়ালটন সবদিক থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।’

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, ‘ওয়ালটন টেকসই, ক্রমবর্ধমান ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে নেক্সট ফেইজে নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে আসা দরকার। এতে দেশের শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। সর্বোপরি রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন নার্সিং করে যাবে।’

এর আগে অতিথিরা কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছলে তাদের স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম, এস এম মাহবুবুল আলম, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

নির্বাচনি এলাকায় সোমবার ব্যাংক বন্ধ

নির্বাচনি এলাকায় সোমবার ব্যাংক বন্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকাধীন যেসব স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সে সকল স্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখা বন্ধ থাকবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ-নির্বাচন, ঝালকাঠি পৌরসভা ও দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনসহ সারা দেশে ২০৪ ইউনিয়নের নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকায় তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা সোমবার বন্ধ থাকবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে ।

সার্কুলারে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকাধীন যেসব স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সে সকল স্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখা বন্ধ থাকবে।

সার্কুলারে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাংকের শাখায় কর্মরত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

ঢাকা চেম্বারে বসছে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’

ঢাকা চেম্বারে বসছে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’

দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশস্থ ভিয়েতনাম দূতাবাসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশে সরকার নানাবিধ সুবিধা প্রদান করছে, যেগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নে ভিয়েতনাম দূতাবাস ঢাকা চেম্বার কার্যলায়ে ‘ভিয়েতনাম ডেস্ক’ স্থাপন করবে।

বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচ-মেকিং, ক্রেতা-বিক্রেতার সম্মেলন, বাণিজ্য মেলা আয়োজন, পণ্য ও সেবা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে যৌথ গবেষণা পরিচালনায়ও একযোগে কাজ করবে দেশটি।

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশস্থ ভিয়েতনাম দূতাবাস কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ফাম ভিয়েত চিয়েন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রিজওয়ান বলেন, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশে সরকার নানাবিধ সুবিধা প্রদান করছে, যেগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

‘কৃষি, খাদ্য-প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, চামড়া, পাট, হালকা প্রকৌশল এবং হ্যান্ডিক্রাফ্ট প্রভৃতি শিল্পে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য দূতাবাসের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

জবাবে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ফাম ভিয়েত চিয়েন স্বাক্ষরিত সহযোগিতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যেখানে দুদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে মবিন এবং সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

হালকা প্রকৌশল শিল্প নিয়ে আশাবাদী সরকার

হালকা প্রকৌশল শিল্প নিয়ে আশাবাদী সরকার

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বাহিনী তৈরির মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ফলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হবে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বা হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদনের খাতকে রপ্তানিমুখী করা সম্ভব হলে দেশে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় খাত। সরকার এ খাতটিকে রপ্তানিমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে রোববার ভার্চুয়াল পরামর্শক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বাহিনী তৈরির মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ফলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হবে। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে ‘বর্ষপণ্য-২০২০’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে এ খাতের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। বিদেশেও হালকা প্রকৌশল পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে খাতটির উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। সেদিন বেশি দূরে নয়।

পরামর্শক কর্মশালায় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান ছাড়াও শিল্প মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. আব্দুল রহিমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

বিমার ৬০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের ধারণ করতে হবে: আইডিআরএ

বিমার ৬০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের ধারণ করতে হবে: আইডিআরএ

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন, ‘তাদের পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এজন্য হঠাৎ করে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। তবে যেহেতু এটি আইনগত বিষয়, তাই জটিলতা থাকলেও আইগনত বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দেবো।’

আইনগতভাবেই বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন।

বিমা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) এর সঙ্গে রোববার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিমা আইন ২০১০-এর ২১(৩) ধারার তফসিল-১-এ বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ আসবে উদ্যোক্তাদের কাছ থাকে। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

সাধারণ বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তারা দেবেন। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ৬০ শতাংশ না থাকায় এমন চিঠিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে। পুঁজিবাজার থেকে বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার কিনবেন এমন ধারণায় হু হু করে দাম বাড়তে থাকে বিমার শেয়ারের।

এ বিষয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, এখানে দুটি বিষয় আছে। একটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, অপরটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছাড়া। যেসব বিমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা আছে। তা হচ্ছে আইনগত নির্দেশনা আর অপারেশন কার্যক্রম।

‘তাদের পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এজন্য হঠাৎ করে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। তবে যেহেতু এটি আইনগত বিষয়, তাই জটিলতা থাকলেও আইগনত বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দেবো।

‘তবে যেসব বিমা কোম্পানি এখনও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি তারা যখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাবে তখন তাদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পরিপালন না থাকলে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেবো না।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫০ বিমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ছয়টির উদ্যোক্তাদের শেয়ার রয়েছে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি। ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে ৪৪টি কোম্পানির উদ্যোক্তাদের শেয়ার।

মত বিনিময় সভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নন লাইফের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু জটিলতা আছে। আমরা সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ করছি। এ সেক্টরেও যাতে শৃঙ্খলা ফিরে সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যার সুফল আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে।’

জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এখানে ইতোমধ্যে নিচের দিকে ১৭ জন জনবলেল অনুমোদন পাওয়া গেছে। আর ৪০ জনকে দেয়া হবে। তখন কাজের অনেকটা গতি আসবে।’

জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অভিযোগ আসে। আমরা সবগুলোরই তদন্ত করি। সানলাইফের ক্ষেত্রে দাবি পরিশোধ না করার বিষয়ে নজরে আসলে, আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি।’ তিনি জানান, ইতোমধ্যে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের সম্পদ বিক্রি করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করেছে। বাকি দাবিগুলোও পরিশোধ করবে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, লাইফ বিমা কোম্পানির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করায় কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। গত বৃহস্পতিবার জারিকৃত এ সংক্রান্ত সার্কুলারটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

বিমা খাতের একচ্যুয়ারি সমস্যা দীর্ঘ দিনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ মে বিমা দিবসে একচ্যুয়ারি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বলেছেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে একচ্যুয়ারি প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা একটি স্কলারশিপ প্রোগামেরও আয়োজন করেছি, যা পাঁচজনকে দেয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনজনকে পাওয়া গেছে। প্রতি জনের ৫ কোটি টাকা স্কলারশিপ ঘোষণা করার পরও আগ্রহী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ খাতের উন্নয়নে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইআরএফ সভাপতি গোলাম মওলা। সঞ্চালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন সুমন।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে স্বস্তি

আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে স্বস্তি

ধারণা করা হয়েছিল, কোনো কোম্পানিতে ফ্লোর প্রাইস না থাকায় কিছুটা ধাক্কা লাগবে পুঁজিবাজারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আবারও আস্থার পরিচয় দিলেন। পতন নয়, বরং উত্থানে স্বাভাবিক ছিল পুঁজিবাজার। বেড়েছে সূচক।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান শেয়ার দরের প্রান্তসীমা তথা ফ্লোর প্রাইস থেকে বের হয়ে রোববার প্রথম লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। করোনার মহামারিতে পুঁজিবাজারে দরপতন ঠেকাতে ২০২০ সালের মার্চে বেঁধে দেয়া হয় প্রতিটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তৃতীয় পর্যায়ে পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে। ফলে রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ফ্লোর প্রাইসহীন লেনদেন হয়েছে।

ধারণা করা হয়েছিল, কোনো কোম্পানিতে ফ্লোর প্রাইস না থাকায় কিছুটা ধাক্কা লাগবে পুঁজিবাজারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আবারও আস্থার পরিচয় দিলেন। পতন নয়, বরং উত্থানে স্বাভাবিক ছিল পুঁজিবাজার। বেড়েছে সূচক।

চলতি বছরের করোনা পরিস্থিতি যখন উদ্বেগ আকার ধারণ করে, তখন সরকারের লকডাউন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে পুঁজিবাজারেও লেনদেন সময় কমিয়ে আনা হয়।

৫ এপ্রিল লকডাউনের আগে সংক্রামক পতনে ছিল পুঁজিবাজার। লকডাউনেও সেই পতন আরও ত্বরান্বিত হবে, এমন গুজব ছিল পুঁজিবাজারে। তবে ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছিল ফ্লোর প্রাইসকে।

লকডাউনের মধ্যে যখন পুঁজিবাজারের লেনদেন ও সূচকের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল, তখন ৭ এপ্রিল বাতিল করা হয় ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। তার পরদিন যে লেনদেন হয়েছিল, তখন ঢালাওভাবে কোম্পানির শেয়ার দর পতনের কমেছিল সূচক।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে ভরসা ছিল, কোম্পানির শেয়ার যতই পতন হোক ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামবে না। হঠাৎ ফ্লোর প্রাইস বাতিল করার আতঙ্কে ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর আরও কমবে, এমন ভাবনায় বেড়ে যায় শেয়ার বিক্রি।

যদিও এ আতঙ্ক বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানিরগুলোর শেয়ার আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লেনদেন হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের এমন আস্থার ৬৬ কোম্পানির বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উঠে আসে ফ্লোর প্রাইসের ওপরে।

৩ জুন দ্বিতীয় দফায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে। তবে এবার ফ্লোর প্রত্যাহারের ফলে ঢালাও শেয়ার বিক্রি দেখা যায়নি। কিছু কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও পরবর্তী কয়েক দিনেই এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পাশাপাশি দরও বেড়েছে।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বাতিল করা হয় পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। বিএসইসির এমন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা ছিল, পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস রোববার ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের পতন হবে পুঁজিবাজারে।

কিন্তু রোববার লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং আগের কার্যদিবসের মতো স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। সূচকও বেড়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে বিনিয়োগকারীদের তারল্য এতদিন আটকে ছিল। এখন সেগুলো মুক্ত হয়েছে। যেসব কোম্পানির অনেক বেশি ফ্লোর প্রাইস ধরা হয়েছিল, সেগুলোর কোনো লেনদেন হতো না, এখন হবে।

তিনি বলেন, যারা বেশি দামে শেয়ার কিনেছিল, তাদের জন্য ফ্লোর প্রাইস ভালো ছিল। কিন্তু যারা পুঁজিবাজারে নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা করেন, তারা লেনদেন হওয়া কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করেন। ফলে এখন আর কারো তারল্য আটকে থাকবে না। লেনদেনের মাধ্যমে যৌক্তিক দামে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে।

রোববার লেনদেনে ভালো অবস্থানে ছিল তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো। লেনদেনে ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির। কমেছে ৭টির। দর পাল্টায়নি চারটির।

দর কমেছে বিমা খাতের। এদিন লেনদেনে ৫০টি বিমা কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির। দর কমেছে ৭টির এবং একটির দর পাল্টায়নি।

বস্ত্র খাতের কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৪টির। কমেছে ৩২টির।

ব্যাংকের শেয়ার দরে উত্থান

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের উত্থান দেখা গেছে। এদিন এ খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। ব্যাংকের পাশাপাশি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও শেয়ার দরে উত্থান দেখা গেছে। এদিন নন ব্যাংক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।

রোববার লেনদেনে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের ৭.১৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৫১ শতাংশ। প্রতিটি শেয়ার ৭৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৩ টাকা ৩০ পয়সা। স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৩.১৩ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ২.৯৮ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৬৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিটি শেয়ার ৩৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা ১০ পয়সা।

ফার্স্টসিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ২ শতাংশ। এবি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১.১৩ শতাংশ। যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১ শতাংশের কিছু বেশি।

এক্সিম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে এক শতাংশের কম।

দর কমলেও লেনদেনে এগিয়ে বিমা

রোববার তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ঢালাওভাবে কমলেও লেনদেনে এগিয়ে ছিল। রোববার বিমা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৪২২ কোটি টাকা।

এদিন বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ। তারপর আছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ।

দর বাড়ার চেয়ে কমার তালিকায় বেশি ছিল বিমার শেয়ার। এদিন সবচেয়ে বেশি দর কমেছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৯.০৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৬৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬২ টাকা ১০ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৬.৬০ শতাংশ। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.৭৭ শতাংশ। তাক্বাফুল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.১৬ শতাংশ। স্ট্যন্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪.৩৫ শতাংশ।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.৬০ শতাংশ। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.৫৩ শতাংশ। ঢাকা ইন্সুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.০৩ শতাংশ।

এ ছাড়া ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর তিন শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আগ্রহ ছিল বস্ত্র খাতেও

রোববার লেননদেনে বস্ত্র খাতের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের ছিল বাড়তি আগ্রহ। এদিন লেনদেন তালিকাভুক্ত ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে দিনে যতটা বাড়া সম্ভব।

এদিন সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে মুন্নু ফেব্রিক্সের ১০ শতাংশ। এ ছাড়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ। সম্প্রতি কোম্পানিটিকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট (ওটিসি) থেকে মূল মার্কেটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর শেয়ার দর ১৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ টাকা। নিউলাইন ক্লোথিং লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.১১ শতাংশ।

রোববার বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা।

সূচক ও লেনদেন

প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯ পয়েন্টে।

শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৫ দশমিক ৬৬ পয়ন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৭ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬টির, দর কমেছে ১৭৯টির। দর পাল্টায়নি ৩৮টির। লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৮৩ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ১৫৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৭০ টাকা। একইভাবে প্রতি গ্রাম ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতনী ৪ হাজার ২৬৫ টাকা।

টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর এবার দেশের বাজারে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বিশ্ববাজারে বড় দরপতন হওয়ার পর এবার দেশে ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হলো ১ হাজার ৫১৬ টাকা, হ্রাসকৃত এই নতুন দাম রোববার থেকে বাজারে কার্যকর হবে।

স্বর্ণের দাম কমানোর ফলে দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসার অচলাবস্থা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন বাজুস-সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ মে থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়, যা শনিবার পর্যন্ত বহাল ছিল।

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৭০ টাকা। একইভাবে প্রতি গ্রাম ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতনী ৪ হাজার ২৬৫ টাকা।

এই নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৬৬ টাকা ৮৮ পয়সা। শনিবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭ টাকা ৬০ পয়সা। শনিবার পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল ৭০ হাজার ৩৩৩ টাকা।

আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম হবে ৬০ হাজার ৬৯ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমান দাম রয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৪ টাকা।

প্রতি ভরি সনাতনী স্বর্ণের নতুন দাম হবে ৪৯ হাজার ৭৪৬ টাকা ৯৫ পয়সা। এ ক্যাটাগরির স্বর্ণের বর্তমান দাম ৫১ হাজার ৬২ টাকা।

অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। এতে আগের মতোই দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ২২৫ টাকা ও সনাতনী প্রতি ভরি ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।

এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় মে মাসে দেশের বাজারে দুই দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ায় বাজুস।

ওই সময় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুস জানায়, করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও নানা জটিল সমীকরণের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক জটিলতা (উপকরণ কর রেয়াত) ও নানা ধরনের দাপ্তরিক জটিলতার কারণে গোল্ড ডিলাররা স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারছে না। তা ছাড়া চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় দেশীয় বুলিয়ান/পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে বিশ্ববাজারের ওপর। বিশ্ববাজারে বাড়লে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়। ঠিক তেমনি বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমে স্বর্ণের দাম।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার পর এখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় কমেছে। সেই হ্রাসকৃত দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারেও এখন স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমানো হলো।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাকালীন বিশ্ব অর্থনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে অস্থির আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে অচলাবস্থা কাটাতে ও ভোক্তাসাধারণের কথা চিন্তা করে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে বাজুস নির্ধারিত মূল্যতালিকায় স্বর্ণ বিক্রির অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছুটি শেষে চাঙা ব্যাংক-বস্ত্র, বিমায় ভাটা
পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণে’ নতুন আশাবাদ
ব্যাংক ও বস্ত্র খাতে সুদিন নিয়ে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার কাল চলবে, ফের লেনদেন রোববার
ব্যাংক, বিমায় চাঙা পুঁজিবাজারে ‘ঈদ উপহার’

শেয়ার করুন