করোনার উৎপত্তি নিয়ে বারকাতের তত্ত্ব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত। ফাইল ছবি

করোনার উৎপত্তি নিয়ে বারকাতের তত্ত্ব

এই অর্থনীতিবিদের দাবি, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাই মূলত চলমান অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনা মহামারির জন্য দায়ী। আর এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপত্তি বা উদ্ভব হয়েছে প্রকৃতিকে অতিশোষণ এবং অন্যায্য-অন্যায় বিশ্বায়নের কারণে।

দেশি-বিদেশি অনেকেই অনেকভাবে করোনাভাইরাসের উৎস খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তাদের সেসব বিশ্লেষণে স্থান পাচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত নানা দিক। এবার করোনার উৎপত্তির নেপথ্যে অর্থনৈতিক যোগসূত্র পাওয়ার তত্ত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত।

এই অর্থনীতিবিদের দাবি, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাই মূলত চলমান অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনা মহামারির জন্য দায়ী। আর এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপত্তি বা উদ্ভব হয়েছে প্রকৃতিকে অতিশোষণ এবং অন্যায্য-অন্যায় বিশ্বায়নের কারণে।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে নীতিগত বিষয়াদি ইস্যুতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে গত ৯ এপ্রিল বাজেট প্রস্তাবের সূচনা বক্তব্যে ড. বারকাত এই নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, যা সেদিন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

নিজের করোনা তত্ত্ব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আবুল বারকাত বলেন, বিশ্ব এখন একই সঙ্গে দুই মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্রথম মহাবিপর্যয় হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা। আর দ্বিতীয় মহাবিপর্যয় হলো করোনা উদ্ভূত মহামারি। তবে চলমান অর্থনৈতিক যে মহামন্দার কথা বলা হচ্ছে, তার সব কিছুর পেছনেই করোনাকেই দায়ী করা হচ্ছে, যা একেবারে সঠিক নয়। এর মূল কারণও নয়।

তিনি দাবি করেন, এর মূল কারণ হচ্ছে রেন্টসিকার-পরজীবী-লুটেরা-জোম্বি করপোরেশন-স্বজনতুষ্টিবাদী মুক্তবাজার পুঁজিবাদ। এটি এমনই এক সিস্টেম যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চক্রের বিধান অনুযায়ী প্রতি ৩০-৪০ বছর পরপর পুঁজিবাদী অর্থনীতি সিস্টেমে মহামন্দা (গ্রেট ডিপ্রেশন, গ্রেট স্লোডাউন) ক্রাইসিস অবশ্যম্ভাবী। আর এ সূত্র অনুয়ায়ী সেটা ঘটার কথা ২০১৯-২০ সালের দিকেই। সেটিই ঘটেছে বিশ্বব্যপী।

আবুল বারকাত বলেন, কিন্তু যে ঘটনা ইতিহাসে কখনও একই সঙ্গে ঘটেনি- তা ঘটেছে এবার। তা হলো একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা আর অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণজনিত মহামারি; যার শেষ গন্তব্য জানা নেই; যার শেষ অভিঘাতও কারও জানা নেই। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশই এখন ‘অর্থনৈতিক-সামাজিক-শিক্ষাগত-স্বাস্থ্যগত-রাজনৈতিক’ এই বহুমুখী মহাবিপর্যয়কর অবস্থায় ‘মহামন্দা রোগে’ আক্রান্ত, যা পৃথিবীর ইতিহাসে এবারই প্রথম।

এই তত্ত্বকে ভিত্তি ধরে অর্থনীতিবিদ ড. বারকাত বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বাজেটের প্রসঙ্গ সামনে আনেন।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন রাখেন এ ধরনের অবস্থায় একই সঙ্গে সংঘটিত অর্থনীতির কাঠামোগত বিপর্যয় বা মহামন্দা এবং করোনার মহাবিপর্যয় থেকে মুক্ত হয়ে আলোকিত মানুষ সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন ‘শোভন সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র বিনির্মাণে’ জাতীয় বাজেটটি কেমন হবে বা হওয়া উচিত? অবশ্য এ প্রশ্নের জবাবও তিনি দিয়েছেন।

এই অর্থনীতিবিদ জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশের অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্র-সরকার সব কিছুকেই সর্বপ্রথম করোনার আগের (প্রাক-অসুস্থ) অবস্থায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজেটপ্রণেতাদের প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হবে যে, ২০২১ সালের এই মাসে আমরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের অবস্থায় নেই। কারণ এই সময়ের অর্থনীতিতে, সমাজে, মানুষের সাহস-হতাশায়, রাষ্ট্রে-সরকারে- সর্বত্র যথেষ্ট মাত্রায় পরিবর্তন হয়েছে।

অবশ্য এ স্বীকৃতিতেও যে খুব বেশি কিছু যাবে-আসবে তা নয়। তবে এটা হবে নির্মোহ সত্য স্বীকার করার মতো মুক্তি। তার দাবি, এ স্বীকৃতিতেও খুব যায়-আসে না, কারণ করোনার পূর্বাবস্থাও সুখকর ছিল না।

বারকাত জানান, সেই সময়টি ছিল রেন্টসিকার-দুর্বৃত্ত-লুটেরা-পরজীবী নিয়ন্ত্রিত মুক্ত বাজার পুঁজিবাদের অর্থনীতির, যা মুক্তও নয়, দরিদ্রবান্ধবও নয়। সেখানে আয় বৈষম্য, ধনসম্পদ বৈষম্য, শিক্ষা বৈষম্য ও স্বাস্থ্য বৈষম্য ছিল ক্রমবর্ধমান।

এ পরিস্থিতিতে কেমন বাজেট হওয়া উচিত তার সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রীকেই নেয়ার পরামর্শ রাখেন ড. বারকাত।

তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর বাজেট বৈষম্যহীন আলোকিত মানুষ সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে করবেন, নাকি মুক্তবাজার আর করপোরেট-স্বার্থীয় সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রকদের বিশ্বায়নের হাতে ছেড়ে দেবেন- এ সিদ্ধান্তটা নিতে হবে।

‘অন্যথায় আমরা গতানুগতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাব। এতে জিডিপি বাড়লেও বাড়তে পারে; মাথপিছু আয় বাড়লেও বাড়তে পারে। কিন্তু বৈষম্য-অসমতা নিরসন হবে না; হবে না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অভীষ্ট বাস্তবায়ন’, বলেন আবুল বারকাত।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাড় দিয়েও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

ছাড় দিয়েও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ।

স্বাভাবিক হয়নি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। দীর্ঘমন্দায় দেশের অর্থনীতি। ঘুরে দাঁড়াতে নানামুখী সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও বাড়ছে খেলাপি ঋণ। গেল ডিসেম্বরের চেয়ে মার্চে খেলাপি বেড়েছে ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ।

ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

মোট খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।

গেল বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো মোট ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে খেলাপি ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

২০২০ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ২ হাজার ৫৭৪ কোটি।

সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ

মার্চ শেষে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এ সময়ে সরকারি ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। অর্থাৎ সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশই খেলাপি।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক

রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। এ অঙ্ক বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মার্চ পর্যন্ত বিশেষায়িত তিন ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকগুলো খেলাপি মোট ঋণের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এ সময়ে দেশে কার্যরত বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৮ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেড়েছে।

বিদেশি ব্যাংক

বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া, বিদেশি ৯ ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

বিশেষ সুবিধা

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এই সঙ্কটকালে ঋণ খেলাপিদের আরও সুবিধা দিয়েছে সরকার। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়নি কাউকে।

অর্থাৎ ২০২০ সালজুড়েই কোনো ঋণের শ্রেণিমান পরিবর্তন করা হয়নি। কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ঋণের কিস্তি বা খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মানে হচ্ছে, এই এক বছর কেউ কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেনি। যে ঋণ যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতে আছে। যে খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছে, সেটা কিছু উদ্যোক্তা নিজ উদ্যোগেই দিয়েছে।

চলতি মার্চে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ শুরু হলে আবারও ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এবার আগের মতো গণসুবিধা না দিয়ে কিছুটা কৌশলী ভূমিকা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরে ঋণ পরিশোধ না করেও বিশেষ সুবিধায় যারা খেলাপি হননি, তাদের জন্য নতুন করে সুবিধা দিয়ে গত ২৪ মার্চ সার্কুলার জারি করা হয়। এতে বলা হয়, যেসব চলমান ঋণের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নতুন করে নবায়ন করা হয়নি, এসব ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করলেই ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত রাখতে হবে।

এছাড়া যেসব গ্রাহকের ২০২০ সালের সুদ বকেয়া রয়েছে তাদের চলতি বছরের মার্চ থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৬টি কিস্তির ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত যে সুদ আসে, তাও ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। আগে চলমান ঋণের কিস্তি প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হতো। এ ছাড়া তলবি ঋণ চলতি মার্চ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। এভাবে শোধ হলে খেলাপি করা যাবে না।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণ খেলাপিদের মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে পরিশোধের সুযোগও দেয় সরকার।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, এর আগে খেলাপিদের অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নতুন করে প্রণোদনার ঋণ নিতে চাওয়ার ফলে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে কিছু টাকা আদায় হয়েছিল। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঋণগ্রহীতা ঋণের কিস্তি শোধ না করলেও তাকে খেলাপির তালিকায় দেখানো যাবে না, পুরো ২০২০ সাল এমন সুবিধা পেয়েছেন ঋণ গ্রাহীতারা।

তার মতে, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনে বিভিন্ন নীতিমালার শর্ত শিথিলতা আনা হয়। এতে করে গত এক বছরে ঋণের কিস্তি না দিয়েও নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি হয়নি। এতে সে সময়ে খেলাপি কিছুটা কমেছিল।

তবে এখন ব্যাংকগুলোকে সতর্ক হবে বলে মন্তব্য করেন সালেহ উদ্দিন। বলেন, ‘ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে’-এমন নিয়ম করতে হবে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

বেতন-ভাতায় খরচ বাড়ছে, সেবা বাড়ছে না

বেতন-ভাতায় খরচ বাড়ছে, সেবা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতর বৃদ্ধির চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

১১ বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ। কিন্তু জনগণকে দেয়া তাদের সেবার মান বাড়েনি। কমেনি দুর্নীতি।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ চলতি অর্থবছর থেকে প্রায় ৬ শতাংশ।

প্রতিবছরই বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হলেও প্রশ্ন ওঠে; জনগণকে দেয়া তাদের সেবার মান কি বেড়েছে, কমেছে কি দুর্নীতি?

অর্থনীতিবিদ সাধারণ মানুষ একবাক্যে স্বীকার করেন, সরকারি সেবার মান বাড়েনি, দুর্নীতি তো কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল হোসেন একটি বাড়ি বানিয়েছেন তিন বছর আগে। এখনও সব ইউটিলিটি সেবার সংযোগ পাননি। দপ্তরে দপ্তরে দরখাস্ত দিয়ে ঘুরছেন। শুধু বাসা-বাড়ি নয়, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্প-কলকারখানায় সময়মতো অত্যাবশকীয় সেবা মিলছে না।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘আমাদের দেশে শিল্পায়নে এখনও বড় বাধা অবকাঠামো দুর্বলতা।’

প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। বেতন-ভাতার বাইরে পেনশন খাতেও বিশাল অংকের ব্যয় হয়।

নতুন বাজেটে বেতন ভাতায় বরাদ্দ দেয় হয় ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা এবং পেনশন বাবদ ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৭ হাজার ৩২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের সাড়ে ১৯ শতাংশ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, করপোরেট ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ জনপ্রশাসনে বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ চাকরিজীবী আছেন, যারা নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। আর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সংখ্যা সাত থেকে আট লাখের মতো।

প্রতি বছর বাজেটে এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ নিয়ে সবার মনে একটি প্রশ্নই জাগে, সরকারি সেবার মানও কি বরাদ্দের সঙ্গে বাড়ছে?

একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, উত্তরটি হবে, নিশ্চয়ই না।

বলা হয়ে থাকে, সরকারি চাকরিজীবীরা অনিয়ম আর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে দেশ। এর প্রধানতম কারণ, সরকারি খাতে কম বেতন। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, জনগণসহ সংশ্লিষ্টমহলের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর দাবি ওঠে।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে পে কমিশন গঠন করে, যাতে সরকারি খাতে বেতন আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের জন্য অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়। এ ছাড়া তাদের ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য অল্প সুদে ঋণ নেয়ার সুবিধা ও দেয়া হয়।

নতুন বেতন স্কেল (অষ্টম) ২০১৫ সালে পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছিল এবং এর জন্য সরকারকে তখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ করতে হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনের জন্য বাজেটে ২৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নতুন বেতন স্কেল চালু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৪৩ কোটি টাকায়।

এর পর থেকে প্রতিবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছেই।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেতন-ভাতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৬৬ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকার মধ্যে ভাতা ৩৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন বাবদ ২৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ও কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ ১১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।

বর্তমানে ২০টি গ্রেডে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রেড-১ সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ৮ হাজার ২৬০ টাকা।

এর বাইরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, বেতন বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে, সেবার মান বাড়বে এবং দুর্নীতি কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষক, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেতন বাড়লেই যে দুর্নীতি কমবে, তার সাথে আমি একমত নই। মানুষ দুর্নীতি করে অভাবের কারণে নয়। ঘুষ নেয়া যাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, তাদের বেতন বাড়িয়ে দিলেও এ অভ্যাস থেকে বের হতে পারবে না।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া এবং যতটা সম্ভব কর্মকাণ্ডকে ডিজিটালাইজ করা হলে দুর্নীতি রোধ করা যাবে বলে মত দেন এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক।

‘বিশ্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতার’ সবশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সেবা খাত আরও নিচে নেমে গেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এর দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২০-এ বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ শুধুমাত্র আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ নিচের দিক থেকে ১২তম স্থান দখল করেছে। সূচকে উচ্চক্রম (ভালো থেকে খারাপের দিকে) অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল দেখা যায়নি। দুর্নীতিও কমেনি। বাড়েনি সরকারি সেবার মান।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা নিচ্ছে, সরকারের উচিত তাদের ওপর প্রতিবছর নির্দিষ্ট সেবা বিষয়ে জরিপ করা। এটা করা হলে সেবার মান বাড়াতে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর চাপ বাড়বে।

১১ বছরে বেতন-ভাতার খরচ বৃদ্ধি ২৩০%
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ২১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। আর নতুন বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এ প্রস্তাব ঠিক রেখে বাজেট পাস হলে ১১ বছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ হবে। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে ২৩০ শতাংশ বাড়ছে।

নানা ধরনের ভাতা

সরকারি চাকরিতে নানা ধরনের ভাতা রয়েছে। যেমন ধোলাই ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ও দুর্গম ভাতা, বিশেষ ভাতা, অবসর ভাতা, কিট ভাতা, রেশন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, ইন্টার্নি ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা, মহার্ঘ্য ভাতা, অধিকাল ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা ইত্যাদি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সব ভাতা সবাই পান না।

এর মধ্যে দেশের ভেতরে ভ্রমণ ভাতা দেয়া হয় এলাকা ও কিলোমিটার অনুযায়ী। বিদেশে ভ্রমণে করলে প্রতিদিনের থাকা-খাওয়ার জন্য ভাতা দেয়া হয়। আর বিশেষ ভাতা দেওয়া হয় বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

পণ্য ছাড়ে ৮ শর্ত, ব্যবসায়ীদের আপত্তি 

পণ্য ছাড়ে ৮ শর্ত, ব্যবসায়ীদের আপত্তি 

রাজস্ব বাড়াতে নতুন নিয়ম জারির কথা বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শর্ত মানতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতির পাশাপাশি এ পথে আমদানিতে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

অনিয়ম ঠেকিয়ে রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা আনতে আমদানিতে আট শর্ত জারি করেছে যশোরের বেনাপোলা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব শর্ত মানতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতি বাড়ার পাশাপাশি এপথে আমদানিতে আগ্রহ হারাতে পারেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত শর্ত জারির চিঠি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

শর্তগুলো হলো-

১. একটি সুনির্দিষ্ট ও ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট (সুনির্দিষ্ট বর্ণনা, মার্কস নম্বর, আর্ট নম্বর, পার্ট নম্বর ও ব্র্যান্ড নামসহ) এবং সুস্পষ্ট কান্ট্রি অফ অরিজিন থাকা বাধ্যতামূলক। আমদানি করা পণ্য চালানের বিপরীতে দাখিল করা বাণিজ্যিক দলিলের সঙ্গে ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট এবং কান্ট্রি অফ অরিজিন দাখিল করতে না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২. আমদানি করা পণ্য চালানের প্রতিটি প্যাকেজে একের বেশি আইটেম মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। একটি প্যাকেজে শুধু একটি আইটেম আমদানি করা যাবে।

৩. বিভিন্ন ধরনের পণ্যের প্রতি চালানে এক হাজারের বেশি প্যাকেজ আমদানি করা যাবে না।

৪. একটি পণ্যের চালান টু হুইলার, থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার পার্টস মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। পৃথক পৃথক পণ্য চালান আমদানি করতে হবে।

৫. ফেব্রিক্স কিংবা অন্য কোনো পণ্যের সাধারণ ঘোষণা না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে যেমন শাড়ি, প্যান্টিং, কটন, সিনথেটিক, ওড়না, সিনিল ভেলভেট ফেব্রিক্স প্রভৃতি নামে ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান আমদানি করতে হবে।

৬. একই পণ্য চালানে ৩৫টির অধিক আইটেম আমদানি করা যাবে না।

৭. সীমান্তে এন্টিপয়েন্টে পণ্য চালান রিসিভ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিক কর্তৃক সংশিষ্ট প্রতিনিধিকে দেয়া এনওসি দাখিল করতে হবে।

৮. অননুমোদিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা তাদের প্রতিনিধি বা কর্মচারীকে কাস্টমস হাউজে প্রবেশ এবং আমদানি করা পণ্য চালান খালাস কাজে নিয়জিত করা যাবে না।

আট শর্তের বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘কাস্টমস কর্তৃক নির্দেশিত শর্তের কয়েকটি যৌক্তিকতা আছে। তবে এর অধিকাংশ শর্ত নিয়ম মেনে আমদানি করতে গেলে বাণিজ্যে ধীরগতি নামবে। এছাড়া খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের কারণে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাবেন অনেক ব্যবসায়ী।’

যশোর চেম্বার অফ কর্মাসের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমসের জারি করা শর্তের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র আমদানিকারকরা আর ব্যবসা করতে পারবেন না। কারণ এতে কনসাইনমেন্ট প্রতি আনুষঙ্গিক খরচ দ্বিগুণ হারে বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে আমদানি পণ্যের ওপর।’

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ডেপুটি কমিশনার শামিমুর রহমান বলেন, ‘আট শর্ত মেনে পণ্য আমদানি হলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনি অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।’

তিনি জানান, খুব দ্রুত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

দেশে চালু থাকা ১২টি স্থলবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে বেনাপোল বন্দরের কাস্টমস হাউস থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি।

প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও আট হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়।

আমদানি বাণিজ্য থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায় সরকার। বন্দরে বিভিন্ন নিয়ম জারির কারণে এ পথে ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধ করেছেন। একারণে গত কয়েক বছরে রাজস্ব আয়ও অনেক কমে এসেছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বাড়াতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে।

‘ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন তার জন্যই তো বাজেট হবে। জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা।’

তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে গত বছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে লোক হাসিয়েছিলেন। এবার তিনি দাবি করছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশের কথা। যদিও বিশ্বব্যাংকের মতে এটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

‘প্রবৃদ্ধি মানেই যে সু-সরকার, সুশাসন বা জনগণের সরকার তা নয়। তার প্রমাণ ১৯৬৮ এবং ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের আমলে পূর্ব পাকিস্তানের দুটি উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ এবং ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।’

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কেবলই বাড়ছে। ২০১২ সাল থেকে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত খরচ ৬০ শতাংশ থেকে ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ২৮ শতাংশের পুরোটাও সরকারের ব্যয় নয়, এর একটা বড় অংশ এনজিও থেকে আসে। প্রতি বছর স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান ৬৬ লাখ মানুষ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনও ভারত থেকে তিন কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই বছর শেষ হওয়ার আগে তারা কোনোরকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা রাখা হয়েছে। করোনার মধ্যেই সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট ডেটা, ‘ইলেকট্রনিক গ্যাজেট’ কেনা ইত্যাদি খাতে খরচ অনেক বেড়েছে। নানা দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। সহজে শনাক্ত করা যায় বলে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদেরই আয়করের প্রধান টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ট্রাস্ট আইনের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আয়কর বসানো বেআইনি এবং এটা পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি-এর ওপর ধার্য হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছে না।

‘লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত। একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

সবার শেষে এনবিএল

সবার শেষে এনবিএল

‘আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই বোর্ডসভা করতে হবে। আমরা সেটি করব এবং বোর্ডসভার পরবর্তী যেসব কার্যক্রম আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হবে না। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আগেভাগেই লভ্যাংশ ঘোষণার সুনাম থাকলেও এবার তালিকায় সবার শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল। অর্থবছরের সাড়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভার তারিখই জানায়নি ব্যাংকটি।

যদিও ব্যাংকটির কোম্পানি সচিব নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তাদের লভ্যাংশ ঘোষণার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নথিপত্র বাংলাদেশে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসেই সভা করা হবে।

এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত ২৯টি ব্যাংক তাদের লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। আর একটি ব্যাংক আগামী ২১ জুন সভা করতে যাচ্ছে। তবে এনবিএলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি; যদিও এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই তাদের লভ্যাংশ ঘোষণা হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দু-একটি বহুজাতিক কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। আর তাদের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরের পরের কয়েক মাস পুঁজিবাজারে লেনদেনে গতি পায়।

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়।

তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিতে যাচ্ছে এনবিএল।

গত বছরও ব্যাংকটি ৩০ জুন লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করেছিল। সে সময় করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে পুঁজিবাজার ৬৬ দিন বন্ধ ছিল।

ব্যাংকটি কবে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে- জানতে চাইলে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোম্পানি সচিব কাইসার রাশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা কারণে আমাদের এ বছর বোর্ডসভা করতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে আমরা এখন সবকিছু গুছিয়ে এনেছি।’

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার।

কোম্পানি সচিব বলেন, ‘আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জুনের মধ্যেই বোর্ডসভা করতে হবে। আমরা সেটি করব এবং বোর্ডসভার পরবর্তী যেসব কার্যক্রম আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হবে না। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগের পরিচালন মুনাফাই আগের বছরের তুলনায় কমে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনবিএল। এই কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা অনেক বেড়েছে।

আবার চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এবার পরিচালন মুনাফা কম হলেও চূড়ান্ত মুনাফা বেশি হয়েছে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই। এখন এনবিএলের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, সেটি আগেভাগে প্রকাশ করায় আইনি বাধা আছে। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পরেই সেটি প্রকাশ করা হবে।

তৃতীয় প্রান্তিকের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অবশ্য কম। সে সময় তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় ছিল ৬৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটি গত বছর পরিচালন মুনাফা করেছে ৯৮০ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৯৫০ কোটি টাকা।

তবে এই মুনাফা থেকে ঋণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ আর ৪০ শতাংশ কর পরিশোধের পর চূড়ান্ত মুনাফার ঘোষণা আসবে। কত টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়ে আগেভাগে কোনো তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানই দেয় না।

২০১৯ সালে এনবিএল শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪১ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৫০ পয়সা দেখা হয় নগদে, আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পেয়েছেন প্রতি ২০টিতে আরও একটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সবচেয়ে পুরোনো ও বড় ব্যাংকগুলোর একটি হলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার মূল্য একেবারেই তলানিতে। প্রতিবছর লভ্যাংশ ঘোষণা করে, এমন কোম্পানির মধ্যে এত কম দামে আর কোনো শেয়ার বিক্রি হয় না।

মঙ্গলবার ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা করে। অর্থাৎ অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে ২২ শতাংশ কমে আছে দাম।

গত দুই বছরে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দাম ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা আর সর্বনিম্ন দাম ছির ৬ টাকা ৮০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের একমাত্র লোকসানি কোম্পানি আইসিবি ইসলামীর দাম এর চেয়ে কম আছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

এবার তুরস্কের বাজারে রিভ অ্যান্টিভাইরাস

এবার তুরস্কের বাজারে রিভ অ্যান্টিভাইরাস

বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও দেশে রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহারকারী রয়েছেন। রিভ অ্যান্টিভাইরাসের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। ২০১৭ সাল থেকে ভারত ও নেপালে রপ্তানি শুরু হয়, পরবর্তীতে যা আফ্রিকাতেও সম্প্রসারিত হয়।

বাংলাদেশি বহুজাতিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমসের সাইবার সিকিউরিটি পণ্য রিভ অ্যান্টিভাইরাস এখন থেকে পাওয়া যাবে তুরস্কের বাজারে।

তুরস্কে রিভ অ্যান্টিভাইরাস বিক্রয় ও বিপণনের দায়িত্ব পেয়েছে ভিপিএনটাইম টেকনোলজি।

এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে বিক্রয় ও বিপণন সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী তুরস্কে রিভ অ্যান্টিভাইরাস, রিভ ইন্টারনেট সিকিউরিটি, রিভ টোটাল সিকিউরিটি, রিভ মোবাইল সিকিউরিটি পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তার জন্য পাওয়া যাবে রিভ এন্ডপয়েন্ট সিকিউরিটি ও রিভ এন্ডপয়েন্ট ক্লাউড।

তুরস্কে রিভ অ্যান্টিভাইরাসের প্রসার সম্পর্কে রিভ গ্রুপের গ্রুপ সিইও এম রেজাউল হাসান বলেন, ‘আমাদের সাইবার সিকিউরিটি ব্র্যান্ড রিভ অ্যান্টিভাইরাসের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

‘ক্রমাগত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের পণ্যের মানোন্নয়ন করে চলেছি, যা আস্থা বাড়াচ্ছে।’

বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও দেশে রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহারকারী রয়েছেন। রিভ অ্যান্টিভাইরাসের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। ২০১৭ সাল থেকে ভারত ও নেপালে রপ্তানি শুরু হয়, পরবর্তীতে যা আফ্রিকাতেও সম্প্রসারিত হয়।

২০১৯ সালে ইউরোপের ইউক্রেন, বেলারুস ও মলদোভাতেও রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ডিস্ট্রিবিউটর নিযুক্ত হয়।

এ ছাড়া বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও দেশে রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহারকারী রয়েছেন। সম্প্রতি তুরস্কের বাজারে যাত্রা শুরুর করল রিভ অ্যান্টিভাইরাস।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ
প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম
অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত: মন্ত্রী
রপ্তানিতে ভারতের ‘শিক্ষণীয়’ বাংলাদেশ

শেয়ার করুন