‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

‘নগদ’-এ ১৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

এই দফায় প্রায় ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার পরিবারকে ঈদ উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমেই উপহার পাবেন ১৪ লাখ ৯৭ হাজার পরিবার।

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পেশায় কাজ হারানো পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঈদ উপহার বিতরণ শুরু হয়েছে।

১৫ লাখ পরিবারকে দেয়া হচ্ছে এই উপহার। এর মধ্যে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমেই উপহার পাবেন ১৪ লাখ ৯৭ হাজার পরিবার।

জি টু পি পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে, যা ঈদের আগেই বিতরণ শেষ করবে দেশের অন্যতম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটর ‘নগদ’।

রোববার ভোলা, চট্টগ্রাম এবং জয়পুরহাট জেলায় ১৫টি পরিবারকে ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ জেলা থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনারসহ ভাতাভোগীরা অংশ নেন। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) আহমদ কায়কাউস।

‘নগদ’ ছাড়া আরও দুটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব মিলে এই দফায় প্রায় ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার পরিবারকে ঈদ উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই দফায় ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মোট সুবিধাভোগীর ৪৫ শতাংশ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করা হবে।

বাকি দুটি অপারেটরের একটি ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং অপর একটি কোম্পানি অবশিষ্ট অংশ বিতরণ করবে।

প্রথম দিন প্রায় ১১ হাজার জন সুবিধাভোগীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

সরকারি সাহায্যের এই টাকা ক্যাশআউটের ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের বাড়তি কোনো খরচ লাগছে না। মোট ক্যাশআউট খরচের ১৫ টাকা দেবে সরকার, বাকি অংশ বহন করবে ‘নগদ’।

সুবিধাভোগীরা প্রত্যেকে প্রতি হাজারে ‘নগদ’-এর অ্যাপ বহির্ভূত ক্যাশআউট রেট হাজারে ১৪ টাকা ৯৪ পয়সা হিসেবে মোট সাড়ে ৩৭ টাকা পাবেন।

ফলে প্রত্যেকের ‘নগদ’ ওয়ালেটে জমা হবে মোট ২ হাজার ৫৩৭ টাকা, যা তিনি ক্যাশআউট না করেও প্রয়োজনে যেকোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ বিষয়ে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র এবং কাজ হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতেই সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী। ডিজিটাল সেবার প্রতি তার বাড়তি আগ্রহের কারণে এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোনে সরকারের অনুদান পেতে পারছেন দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ’।

তানভীর এ মিশুক আরও বলেন, ‘নগদ’-এর সেবার প্রতি আস্থা রেখে আগের বারের মতো এবারও ঈদ উপহারের সবচেয়ে বড় অংশটি বিতরণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘নগদ’। সব নিয়ম মেনে সবচেয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারের দেয়া তালিকা অনুসারে সব সুবিধাভোগীর কাছে নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।

‘‘নগদ’ সব সময়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম পরিচালনা করে। সে ধারাবাহিকতা এক্ষেত্রেও বজায় থাকবে’।

গত বছরও ঈদের আগে কোভিডের কারণে কাজ হারানো ৫০ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭ লাখ পরিবারের কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয় ‘নগদ’।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী

করের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

এনবিআরের এক সেমিনারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘করের টাকা জনগণ দেয়। এই টাকা যাতে মিসইউজ না হয়। যেজন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের দেয়া করের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হয়।’

জনগণের করের টাকা যাতে অপব্যবহার না হয় সেজন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পাশাপাশি তিনি সবাইকে কর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করের টাকা জনগণ দেয়। এই টাকা যাতে মিসইউজ না হয়। যেজন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

করের টাকা সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দেয়া করের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হয়। উন্নয়নের চাহিদা মেটানোর জন্য যোগ্য সবাইকে কর দেয়া দরকার। যত বেশি আয়কর দেয়া যাবে, দেশ তত বেশি উন্নত হবে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ রহমাতুল মুনিম। ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আয়করের ভূমিকা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, কর আহরণ বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করতে হবে। অডিটের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমদানিনির্ভর দেশ থাকতে চাই না। মেড ইন বাংলাদেশের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।’

ভুয়া অডিট রিপোর্ট বন্ধ হওয়ায় খেলাপি ঋণ হার কমে যাবে বলে জানালেন আইসিএবির মাহমুদুল হাসান খসরু। ন্যূনতম কর হার তুলে দেয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি বলে মত দেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে আরও বিনিয়োগের প্রস্তাব করে এনবিআরের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, এখন ১০০ টাকা রাজস্ব আদায়ের জন্য খবর হয় ৪০ পয়সা। এখানে আরও বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ মেয়াদে রিটার্ন আরও ভালো পাওয়া যাবে।

এনবিআরের আরেক সদস্য মাসুদ সাদিক জানান, এবার ৫০ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামীতে লক্ষ্য হবে ৮০ শতাংশ উন্নীত করা।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা বলেন, ‘টেক্স নেট বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিল করছি।’

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

আশুলিয়ায় স্বপ্নের আউটলেট

আশুলিয়ায় স্বপ্নের আউটলেট

স্বপ্ন সুপারশপের নতুন শাখা চালু হয়েছে সাভারের আশুলিয়ায়। ছবি: সৌজন্যে

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নতুন আউটলেটটি আশুলিয়ার মেইন রাস্তার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্বোধন করা হয়।

দেশের জনপ্রিয় রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ এবার সাভারের আশুলিয়া তাদের শাখা চালু করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নতুন আউটলেটটি আশুলিয়ার মেইন রাস্তার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্টর মাসুদ রানা, সুমাইয়া লিজা, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, ইসহাক মোল্লা, স্বপ্নের জোনাল অপারেশন ম্যানেজার সাজিদ আহমেদ ও স্বপ্নের হেড অফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট রাজিবুল হাসান প্রমুখ।

আউটলেটের উদ্বোধন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য মাসব্যাপী আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করেছে স্বপ্ন। শাখাটি থেকে হোম ডেলিভারির জন্য যোগাযোগ করা যাবে এই নম্বরে ০১৭৩১-৬৬৪৯১১।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ

আয়কর দেন না বেশির ভাগ মানুষ

আয়কর রিটার্ন জমা দেন না অনেকেই। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্তত ৪ কোটি লোক কর দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদদের মতে, এ দেশে যোগ্য করদাতা কমপক্ষে ৩ কোটি। অথচ নিয়মিত করদাতার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ লাখের মতো।

দেশে প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর আহরণ আগের চেয়ে বেড়েছে, কিন্তু তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। যাদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের অধিকাংশকে এখনও করের আওতায় আনতে না পারাকে এর প্রধান কারণ বলে মনে করেন রাজস্ব বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতির আকার বা জিডিপির হিসাবে কী পরিমাণ কর আহরণ হওয়া উচিত, তার গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয়, প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ কর সংগ্রহ হতে পারে, তার চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, গত অর্থবছরে কর আদায় হয় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের প্রায় ৩৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফাঁকি রোধ করতে পারলে, আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে, করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এবং সর্বোপরি কর বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনা গেলে আরও ৫০ হাজারে কোটি টাকা বেশি কর আহরণ করা সম্ভব। বাস্তবতা হচ্ছে, এ সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আয় অনুপাতে কর দেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশে কতজনের আছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এনবিআর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জরিপ করেনি। তবে ধারণা করা হয়, সামর্থ্যবান বেশির ভাগ এখনও করের আওতার বাইরে।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের ২০১৬ সালের এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৬৯ লাখ লোকের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে। আর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্তত ৪ কোটি লোক কর দেয়ার সামর্থ্য রাখে।

বিশেষজ্ঞসহ অর্থনীতিবিদদের মতে, এ দেশে যোগ্য করদাতা কমপক্ষে ৩ কোটি।

বিত্তবানদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের কাছ থেকে খুব কমই কর আদায় হয়। আইন অনুযায়ী, বাড়িগাড়িসহ ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে নিয়মিত আয়করের সঙ্গে অতিরক্তি কর দিতে হয়, যা ‘সারচার্জ’ নামে পরিচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, দেশে এমন করদাতার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। অর্থাৎ মাত্র ১৫ হাজার লোক সারচার্জ দিতে সাড়া দিয়েছেন। পরিসংখ্যানে বলে, সামর্থ্যবানদের মাত্র দশমিক ২৫ শতাংশ সারচার্জ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোটিপতির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা বেড়েছে এমন বিত্তবানের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও এদের অনেকেই করের আওতার বাইরে।

রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ হিসাবমতে, দেশে করদাতা শণাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেন মাত্র ২৫ লাখ। অর্থাৎ ৬৪ ভাগই রিটার্ন জমা দেন না।

আয়কর বিশেষজ্ঞ, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে সামর্থ্যবান সবাইকে করের আওতায় এনে আদায় নিশ্চিত করতে হবে। কর মেলার মতো সারা বছর রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধ করতে পারেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এমন বাস্তবতায় এনবিআরের উদ্যোগে মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জাতীয় আয়কর দিবস। জনগণকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশে প্রথম আয়কর দিবস উদযাপিত হয় ২০০৮ সালে।

যারা রিটার্ন জমা দেন, তারা সবাই কর দেন না। এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, ‘শূন্য’ অর্থাৎ কোনো কর আসে না এমন সংখ্যা মোট জমা পড়া রিটার্নের ১৫ শতাংশ। সে হিসাবে নিয়মিত করদাতার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ লাখের মতো। অর্থাৎ ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে ১ শতাংশেরও কম ব্যক্তি কর দেন।

সক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ করের আওতার বাইরে থাকাকে এ দেশের কর-সংস্কৃতির বড় দুর্বলতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই হার মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। তাদের অর্ধেকই করের আওতার বাইরে। শ্রমশক্তির প্রায় ৬০ ভাগই কৃষিনির্ভর।

তবে কৃষি থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত। বড় একটি অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চাকুরে। তাদের কাছ থেকেও কর আসে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। আবার রপ্তানি ও শিল্প খাতে আছে কর মওকুফ সুবিধা। এ ছাড়া আয় গোপন করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকি দেয়া হয়।

রয়েছে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অদক্ষতা। সব মিলিয়ে মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের করযোগ্য আয় নেই কিংবা তারা কর আদায়ের আওতার বাইরে। তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী আয়কর আদায় হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি ও কোম্পানি- এ দুই শ্রেণির করদাতা থেকে আয়কর আদায় হয়। এর মধ্যে মোট আয়কর আদায়ের ৬০ শতাংশ আসে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ ব্যক্তি শ্রেণির কর, যদিও সংখ্যার দিক থেকে ব্যক্তি শ্রেণি করদাতার সংখ্যাই বেশি। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম হলেও এ খাত থেকেই বেশি কর আদায় হয়।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, যাদের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের সবাইকে কর দিতে এগিয়ে আসতে হবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, কর আদায় বাড়াতে হলে ইতিমধ্যে যাদের ই-টিআইএন আছে তাদের সবাইকে রিটার্ন জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিবিড় তদারকি করতে হবে।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

করোনায় ক্ষুধা নির্মূল চ্যালেঞ্জে: এডিবি  

করোনায় ক্ষুধা নির্মূল চ্যালেঞ্জে: এডিবি  

করোনায় ভেঙে পড়েছে এশিয়া অনেক দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ছবি: এডিবি

করোনার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিকে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও বৈরি আবহাওয়ায় এই সংকট দেখা দেয়।এর প্রভাবে বেড়েছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমেছে মানুষের আয়।      

এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্যকে মহামারি করোনা শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালে এশিয়াজুড়ে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি।

‘কোভিড-১৯ মহামারির কারণে উন্নয়নশীল এশিয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পরিস্থিত’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন সোমবার প্রকাশ করে এডিবি।

এতে বলা হয়েছে, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ বরাদ্দ থাকে খাদ্যের যোগানের পেছনে। খাদ্যের মূল্য আকস্মিক বেড়ে গেলে বিপুল জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব পড়ে।

করোনার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিকে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও বৈরি আবহাওয়ায় এই সংকট দেখা দেয়। আর এতেই বেড়েছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া কমেছে মানুষের আয়।

এডিবি বলছে, এই পরিস্থিতে ক্ষুধা নির্মূলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, করোনার ছোবলে এশিয়ায় অপুষ্টির শিকার জনসংখ্যা ২০১৯ সালের ৩৬ কোটি ১৩ লাখ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪১ কোটি ৮০ লাখে এসে ঠেকেছে।

বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে লকডাউন, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও খাদ্য রপ্তানিকারক কিছু দেশে আরোপিত বিধিনিষেধ খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধিও খাদ্যের মূল্যকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উৎপাদন কম যাওয়াকেও অন্যতম কারণ মনে করছে এডিবি।

২০১৯-২০২০ এর মধ্যে এশিয়ার ৪১ দেশের মধ্যে খাদ্যমূল্য বেড়েছে ২৯ দেশে। যার মধ্যে ১৭ দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই অবস্থা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোতে।

পাকিস্তানের বেড়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১০ দশমিক ৬, কিরগিজস্তানে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ ও ভুটানে বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে এডিবির প্রতিবেদন বলছে, করোনার এই এক বছরে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি প্রশ্নে অনেটায় স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। ২০১৯ সালের বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২০ সালেও তা একই ছিল।

ভারতে ২০১৯ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২০-এ তা বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ।

বেকারত্ব বেড়েছে, কমেছে কর্মঘণ্টা

করোনার কারণে এই এক বছরে এশিয়ায় এডিবির ২৩ সদস্য দেশের মধ্যে ২১টিতেই বেকারত্ব বেড়েছে। কর্মঘণ্টা কমেছে ৪ শতাংশের কাছাকাছি। ১৬ দেশের বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

প্রতিবেদনে ফিলিপাইন, হংকং, চীন, আজারবাইজান, ভুটান ও ইন্দোনেশিয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধির হার উল্লেখ করা হলেও, বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে

২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে ২৭০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বেশিরভাগ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ ছাড়া তুরস্কের দুটি কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি, চীনের তিনটি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করবে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে সৌদি আরব, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৭০ কোটি (২ দশমিক ৭ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ঢাকায় দুই দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন শেষে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, যে সব খাতে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ঔষধ, সিমেন্ট ও হাসপাতাল খাত। খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এ বিনিয়োগ আসবে।

বেশিরভাগ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ ছাড়া তুরস্কের দুটি কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি, চীনের তিনটি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদেরকে নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনে অভিভূত হয়েছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে।’

দুদিনের এই সম্মেলন রোববার ঢাকায় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি আদর্শ গন্তব্য বলে অবহিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকার কর প্রণোদনাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান। এখানে নীতি হচ্ছে উদার। আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্বের মধ্যে স্বীকৃত।’

এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি উদাত্ত আহব্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে দ্বিধা করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে পারলাম। বিশ্ববাসীও বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেছ, কীভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এটা একটি নতুন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।’

অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের ট্রান্সপোর্ট বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার চোখ খুলে গেছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্মিত হন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বাংলাদেশ অবশ্যই এশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগের হাব হবে।’
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরকে পুরোপুরি বদলে ফেলব। আমি ঢাকা সিটিকে পুরো বদলে ফেলব। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন এবং বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করুন।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ফরেন চেম্বারের সভাপতি রূপালী চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানকে সঙ্গে নিয়ে ডিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় যোগ দেয় তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯-২০ অর্থবছরের দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৩৩.৪১ মিলিয়ন, আর রপ্তানি ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন ডলার।

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি উৎকৃষ্ট গন্তব্যস্থল বলেছেন ঢাকা সফররত তুরস্কের উচ্চ পর্যায়ের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতি ও আইনি কাঠামো এবং সার্বিকভাবে বাণিজ্যিক পরিবেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য সহায়ক বলেও মনে করেন তারা।

বর্তমানে তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

সফরের ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় যোগ দেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন তারা।

আলোচনায় তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল-এর চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাবে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিত বেশ কম। এ পরিস্থিতিতে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের টেকসই উন্নয়ন জরুরি।’

তিনি জানান, তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি তুরস্কে একটি ‘বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করেন হুলিয়া জেডিক।

বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে পৃথিবীর ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। দুই দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ করে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে বেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করে তার দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি দূত।

তুরস্কের উৎপাদিত যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হলেও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বেশি হারে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

তুরস্কের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর কেনান কালাইসি জানান, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। শিগগির বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে তুরস্কের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল কে স্বাগত জানান ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৩৩.৪১ মিলিয়ন, আর রপ্তানি ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের অবকাঠামো, নির্মাণ, রেলওয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, জাহাজ-নির্মাণ, কৃষি এবং হোম এমপ্লায়েন্স প্রভৃতি খাত বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অন্তত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। বলেন, তুরস্কের উদ্যেক্তারা এসব খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

নির্বাচনে সায়েম সোবহান আনভীর নেতৃত্বাধীন পুরো প্যানেল জয়লাভ করেছে। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক দিলীফ কুমার আগরওয়ালা।

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি।

সোমবার রাজধানীর বায়তুল মোকারম মার্কেটে বাজুস কার্যালয়ে ২০২১-২০২৩ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির ৩৫ সদস্যের নির্বাহী সদস্য দ্বারা পরিচালিত হয়।

নির্বাচনে সায়েম সোবহান আনভীর নেতৃত্বাধীন পুরো প্যানেল জয়লাভ করেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দিলীফ কুমার আগরওয়ালা। তিনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। টানা চার বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন আগরওয়ালা।

রিহ্যাব সভাপতি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই পরিচালক আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ডের সদস্য ছিলেন এফবিসিসিআইর আরেক পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও ঢাকা চেম্বারের পরিচালক হোসেন এ শিকদার।

বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড ও আরিশা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর গণমাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত স্বর্ণের গহনা অচিরেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হবে।

কমিটিতে যারা

নবনির্বাচিত ৭ জন সহসভাপতি হলেন- মেসার্স দি আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার গুলজার আহমেদ, নিউ জেনারেল জুয়েলার্স লিমিটেডের আনোয়ার হোসেন, অলংকার নিকেতনের এম এ হান্নান আজদ, জড়োয়া হাউজের বাদল চন্দ্র রায়, সিরাজ জুয়েলার্সের দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন, এল রহমান জুয়েলার্সের আনিসুর রহমান দুলাল এবং আমিন জুয়েলার্সের কাজী নাজনীন ইসলাম নিপা।

নির্বাচিত ৯ জন সহসম্পাদক হলেন- গোল্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার মাসুদুর রহমান, ফেন্সী ডায়মন্ডের সমিত ঘোষ অপু, ভেনাস ডায়মন্ড কালেকশনের বিধান মালাকার, রিজভী জুয়েলার্সের জয়নাল আবেদীন খোকন, নিউ সোনারতরী জুয়েলার্সের লিটন হাওলাদার, মেসার্স বৈশাখী জুয়েলার্সের নারায়ণ চন্দ্র দে, মনি মালা জুয়েলার্সের তাজুল ইসলাম লাভলু, গোল্ড কিং জুয়েলার্সের এনামুল হক ভুঞা লিটন এবং পূরবী জুয়েলার্সের মুক্তা ঘোষ।

কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন কুন্দন জুয়েলারি হাউজ ও জায়া গোল্ডের কর্ণধার উত্তম বণিক।

নতুন কমিটির ১৬ জন সদস্য হলেন, গ্রামীণ ডায়মন্ড হাউজের কর্ণধার ও বাজুসের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার রায়, শারমিন জুয়েলার্স ও ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভাসের কর্ণধার এবং বাজুসের বিদায়ী সভাপতি এনামুল হক খান দোলন, সুলতানা জুয়েলার্সের মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, ডায়মন্ড সী’র ইমরান চৌধুরী, পি সি চন্দ্র জুয়েলার্সের পবিত্র চন্দ্র ঘোষ, জুয়েলারি হাউজের রিপনুল হাসান, রহমান জুয়েলার্সের মজিবুর রহমান খান, লিলি জুয়েলার্সের বাবলু দত্ত, রজনীগন্ধা জুয়েলার্সের শহিদুল ইসলাম, পার্ল ওয়েসিস জুয়েলার্সের জয়দেব সাহা, সাজনী জুয়েলার্সের ইকবাল উদ্দিন, শতরূপা জুয়েলার্সের কার্তিক কর্মকার, আফতাব জুয়েলার্সের উত্তম ঘোষ, শৈলী জুয়েলার্সের ফেরদৌস আলম শাহীন, জারা গোল্ডের কাজী নাজনীন হোসেন জারা এবং রয়েল মালাবার জুয়েলার্সের আসলাম খান।

আরও পড়ুন:
নগদে গ্রাহক ৪ কোটি, দৈনিক লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪৫ শতাংশ বিতরণ করবে ‘নগদ’
নগদের মাধ্যমে ফি দেবে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা
কম খরচে লেনদেনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নগদ’

শেয়ার করুন