স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

‘বাজেটে টাকা বরাদ্দের একটা ভূমিকা আছে। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পুরোনো মডেলের। এটা দিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ সম্ভব নয়। সংস্কার অবশ্যই করতে হবে।’

স্বাস্থ্য খাতে দুর্বলতা অনেক আগের হলেও, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এর নাজুক চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং অব্যবস্থাপনার চাদরে ঢাকা চিরচেনা জনগুরুত্বপূর্ণ খাতটি দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করোনাকালে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে পরিষ্কার হয়ে গেছে, স্বাস্থ্য খাতকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর এখনই উপযুক্ত সময়। বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।

করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য বাজেটের দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সব মহল থেকে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবির পরিপ্রক্ষিতে চলতি অর্থবছরে একটি বড় স্বাস্থ্য বাজেট ঘোষণা করে সরকার, অনুন্নোয়ন ও উন্নয়ন মিলে যার আকার ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

এর বাইরে করোনা রোধে সুরক্ষাসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্য খাতের জন্য টাকার কোনো সমস্যা হবে না। যখন যা দরকার, তাই দেয়া হবে।

সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অন্যান্য খাতের তুলনায় বাজেটে স্বাস্থ্য খাত বরাবরই কম গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এটাও সত্য, যা বরাদ্দ দেয়া হয়, তা খরচ করতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ খাতে সক্ষমতার প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি বাস্তবায়নের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের-আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থ ব্যয়ে যে কয়টি মন্ত্রণালয় বেশি পিছিয়ে, তার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্যতম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ৪১ শতাংশ। সব মিলে গড়ে খরচ হয়েছে ৩১ শতাংশ।

অর্থবছরের ৯ মাস সময় পার হলেও সিংহ ভাগ টাকা এখনও অব্যয়িত রয়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী? গত অর্থবছরে একই সময়ে গড়ে ব্যয় হয় ৩৫ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, দাতাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাদের নানা শর্তের কারণে অর্থ ছাড়ে জটিলতা তৈরি হয় অনেক ক্ষেত্রে। এ ছাড়া কেনাকাটায় প্রক্রিয়াগত সমস্যা আছে। এ ছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলেছে। এ সব কারণে অর্থ ব্যয় কম হয়েছে। তবে বছরের বাকি সময়ে বাস্তবায়ন সন্তোষজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেছেন, এডিপিতে মোট বরাদ্দের ৮৪ শতাংশ অর্থ খরচ হয় সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয়ে। যার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্যতম।

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সব মন্ত্রণালয়ের গড় বাস্তবায়নের হার ৪২ শতাংশ হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনেক নিচে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থহীন ব্যয়ের অভিযোগগুলোরও সমাধান করতে হবে। এ খাতকে ঢেলে সাজাতে দীর্ঘমেয়াদে একটি রোডম্যাপ বা পথনকশা করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয় সেটাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। আবার বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় ভৌত অবকাঠামো, বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে।

‘প্রকৃত পক্ষে রোগীর সেবার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। তবে এটাও ঠিক শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না। সেই সঙ্গে এ খাতে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার করতে হবে।’

বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এডিপির আওতায় মোট ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ৫০টি। বাকি ২৩টি স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের।

গত অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে স্বাস্থ্য খাতে সাকল্যে বরাদ্দ দেয়া হয় ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২৩ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সাকল্যে বরাদ্দ ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা বলেছেন, সংশোধিত বাজেটে এ খাতে কোনো টাকা কমানো হয়নি। মূল বাজেটে যা বরাদ্দ দেয়া আছ, তাই বহাল রাখা হয় সংশোধিত বাজেটে।

বর্তমানে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ শতাংশ। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে এ খাতে বরাদ্দ বর্তমানের চেয়ে কমপক্ষে ৪ শতাংশে উন্নীত করার পরামর্শ দেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক অর্থ সচিব, বর্তমানে কম্পোট্রোলার অডিটর জেনারেল (সিএজি) মুহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম। এ খাতে অবকাঠামো ও গবেষণায় দুর্বলতা প্রকট। দুর্নীতিও একটা বড় সমস্যা। এ সব বিষয়ে নজর দিতে হবে।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের (এসকাফ) ২০১৮ সালের জরিপে বলা হয়েছে, জিডিপি অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৫২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, ‘বাজেটে টাকা বরাদ্দের একটা ভূমিকা আছে। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পুরোনো মডেলের। এটা দিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ সম্ভব নয়। সংস্কার অবশ্যই করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শাহ মনির হোসেন বলেন, কোভিড-পরবর্তী জনস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে এ খাতে অবকাঠামো শক্তিশালী ও মানবসম্পদের ঘাটতি পূরণ করতেই হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার করতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইহতেশামুল হকের মতে, জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে স্বপ্ন দেখার সুযোগ নেই। এটা কমপক্ষে জিডিপির ৩ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘অর্থ আত্মসাত’: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘অর্থ আত্মসাত’: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও তিন ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকা আত্মসাৎ করেন। তারা ব্যাংকের প্রকৃত বেনিফিশিয়ারির অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাননি। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১২২টি লেনদেনের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। 

১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে ব্যাংক এশিয়ার দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. ফজলুল বারী বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মামলাটি করেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপ পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন ব্যাংক এশিয়া চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার ফাস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভিপি ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র অফিসার এহতেশাম উদ্দিন জাহান আনসারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পিঅ্যান্ড আর ট্রেডার্সের মালিক জাহান আনসারী, রিটজ মেরিন এন্টারপ্রাইজের মালিক এমদাদুল হাসান ও সেভেন সিজ বিডির মালিক তারেজকুজ্জামান।

এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও তিন ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকা আত্মসাৎ করেন। তারা ব্যাংকের প্রকৃত বেনিফিশিয়ারির অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাননি। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১২২টি লেনদেনের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করায় তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন ২০১২ এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

শাহজালাল সার কারখানায় ৩৮ কোটি টাকা ‘আত্মসাত’

শাহজালাল সার কারখানায় ৩৮ কোটি টাকা ‘আত্মসাত’

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরিসহ প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করেন কমিশনের উপপরিচালক নূর ই আলম।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

তিনি জানান, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের হিসাব বিভাগীয় প্রধান (বরখাস্ত) খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল এবং প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদ।

অন্য আসামিরা হলেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের স্ত্রী মেসার্স টিআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক হালিমা আক্তার, মেসার্স রাফী এন্টারপ্রাইজের মালিক নূরুল হোসেন, ফালগুনী ট্রেডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম ইসমাইল খান, মেসার্স আয়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক, মেসার্স এন আহমদ অ্যান্ড সন্সের মালিক নাজির আহমদ, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের মালিক হেলাল উদ্দিন, মেসার্স ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের মালিক জামশেদুর রহমান খন্দকার এবং মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক আহসান উল্লাহ চৌধুরী।

মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরিসহ প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা আরিফ।

মামলার বিষয়ে শাহজালাল সার কারখানার কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পরই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানা (এনজিএলএফ) দীর্ঘ দিন লোকসান গোনায় ওই কারখানার পাশেই প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।

২০১৭ সালে প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে কারখানাটি। তবে নানা কারণেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে ব্যয় হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ৯টি ব্যাংক।

বেসরকারি ৯টি ব্যাংক এ বাবদ ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৮ টাকা অনুদান দিয়েছে। অনুদানের এ টাকা ব্যয় হবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলায়।

৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের সাথে চুক্তি সই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে লাগানো হবে।

উদ্যোগ দুটির মূল কার্যক্রম হলো- মাস্ক বিতরণ এবং মেডিক্যাল সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে রিসিলিয়েন্স গঠন এবং লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা পরিবারগুলোতে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়া’।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ‘করপোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকগুলো ব্র্যাকের ‘ডাকছে আবার দেশ’ এবং ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ দুইটি কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে।

এ ৯টি ব্যাংকের প্রতিশ্রুত টাকা থেকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগের অধীনে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। যা দিয়ে ৭২ হাজার ১৬০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

বাকি অর্থ দিয়ে ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং অন্যান্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এই রোগের উপসর্গযুক্ত ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি জেলায় কমিউনিটিকে সংযুক্তিকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচারণা এবং ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভুল তথ্য ও গুজব নিরসনেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ।

‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগটির মাধ্যমে প্রথম দফায় করোনার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলায় ৫০ হাজার পরিবারে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তার এই তহবিল গঠিত হয়েছে ব্র্যাকের কর্মীদের একদিনের বেতন এবং এর সঙ্গে ব্র্যাকের সমপরিমাণ অর্থের অনুদান মিলিয়ে।

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত  প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসাবে সরকার। বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এদিন বৈঠক শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আহ ম মুস্তফা কামাল ।

তবে এতে কত টাকা ব্যয় হবে, কবে কাজ শুরু হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে পরের বৈঠকে এর ব্যাখ্যা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার সব হাসপাতালেই অক্সিজেন সংকট চলছে। জেলা পর্যায়েও একই পরিস্থিতি।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই চাহিদা ৩০০ টনে পৌঁছাবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।‘

তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনার প্রস্তাব নাকচ অর্থমন্ত্রীর

বৈধ পথ বা ব্যাকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এর ওপর বর্তমানে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পেছনে এটি অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয়।

এ খাতে অতিরিক্ত আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে সেটি যথেষ্ঠ বলেও দাবি করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শাটডাউনের কারণে এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গণটিকা দান কর্মসূচি আবার শুরু হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এর ফলে আগামীতে রেমিট্যান্সের তেজি ভাব অব্যাহত থাকবে।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অর্থনেতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে, বাকি নয়টি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে।

শেয়ার করুন

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়ল

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়ল

সিএসআরের টাকা বিতরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বলছে, ‘১৪ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলো জেলা প্রশাসক বা এনজিও বা এমএফআই এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কিংবা সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।’

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) টাকা বিতরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে নির্দিষ্ট থাকা অর্থ বিতরণের সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বলছে, ‘১৪ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলো জেলা প্রশাসক বা এনজিও বা এমএফআই এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কিংবা সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।’

বিশেষ এ কার্যক্রমের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে হত-দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এ বিশেষ কাজকে বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছে সেই সার্কুলারে।

সার্কুলারে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন তদারকি নিশ্চিতের লক্ষ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে জুনের বিতরণের প্রথম প্রতিবেদন ১০ আগস্টের মধ্যে দিতে হবে।

অন্য পাক্ষিক প্রতিবেদন (প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখ ভিত্তিক) প্রতি পক্ষকাল শেষ হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

টিকা নিশ্চিতের শর্তে ভারতে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব

টিকা নিশ্চিতের শর্তে ভারতে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব

ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালাতে প্রস্তাব দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত এরই মধ্যে আমাদের সাথে ফ্লাইট চলাচলে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির মাধ্যমে ফ্লাইট শুরু করা যায় কি না তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতের শর্ত রেখে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে বুধবার পাঠানো হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত এরই মধ্যে আমাদের সাথে ফ্লাইট চলাচলে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির মাধ্যমে ফ্লাইট শুরু করা যায় কি না তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ১৪ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ১ মে ১২টি ছাড়া সব দেশের সঙ্গেই আকাশপথ খুলে দেয়া হয়। এই ১২টি দেশের মধ্যে ছিল ভারত।

পরে বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশের তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন হলেও ভারতের সঙ্গে আকাশ পথ বন্ধই রয়েছে।

সবশেষ ৫ জুলাই থেকে ভারতসহ ৮টি দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বেবিচক।

এর আগেও গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ। পরে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

সম্প্রতি ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল শুরু বিষয়ে আগ্রহ দেখায় ভারত। এ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি প্রস্তাবও দেয়া হয় দেশটির তরফ থেকে।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন আগস্ট থেকে ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে গত ২৭ জুলাই গণমাধ্যমকে ধারণা দিয়েছিলেন।

তখন তিনি বলেন, ‘আমরা সীমিত আকারে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়েছি। আগস্টের কোনো একটা সুবিধাজনক সময়ে এটা শুরু করার ব্যাপারে আশা রাখি।

‘আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের কোভিড সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকি। যেহেতু ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে, সে অনুযায়ী আমরা মনে করছি, বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করতে পারি আমরা।’

ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি কতদুর এগুলো জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে আমরা আমাদের কিছু শর্তের কথা তাদের জানিয়েছি। এর মধ্যে সব যাত্রীর যেন টিকা থাকে সে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

‘কোন কোন ক্যাটাগরির যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইট চলাচল করা যাবে সে বিষয়েও তাদের দেয়া চিঠিতে দেয়া হয়েছে। তবে শুরুতে অবশ্যই সীমিত আকারে ফ্লাইট শুরু হবে।’

তিন দেশি এয়ারলাইনস বিমান, নভো এয়ার ও ইউএস বাংলা এয়ার ছাড়াও ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালিয়ে থাকে। ভারতের এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইনডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা ও গোএয়ার।

শেয়ার করুন

কম সুদে ঋণ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা

কম সুদে ঋণ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা

নারী উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। ফাইল ছবি

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুদ কমাতে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নারী উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ দিতে সুদ হার কমানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ দেযার ক্ষেত্রে সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সাল শেষে সিএমএসএমই খাতের নিট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির ন্যূনতম ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একই সার্কুলারে নারী উদ্যোক্তাদের ‘স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হয়।’

‘পরে, করোনা মহামারির কারণে নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা সহজীকরণে সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৩ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়।’

সার্কুলারে নারী উদ্যোক্তা পর্যায়ে দেয়া ঋণ বা বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪ সাল শেষে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করতে হবে।

এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়নের সুদ বা মুনাফার হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শেয়ার করুন