× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
১৭ দেশ  থেকে এসেছে ছোলা
hear-news
player
google_news print-icon

১৭ দেশ থেকে এসেছে ছোলা

১৭-দেশ থেকে-এসেছে-ছোলা
রোজা উপলক্ষে যত ছোলা আমদানি হয়েছে তার বেশির ভাগই আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। ছোলা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত থেকেও আমদানি হয়েছে। এর বাইরে কানাডা, ইথিওপিয়া, ভুটানসহ ১৫টি দেশ থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে।

ইফতারিতে রোজাদারদের পছন্দের খাবার হচ্ছে ছোলা ভাজা। এ জন্য রমজান উপলক্ষে প্রতিবছর ছোলার আমদানির ধুম পড়ে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি, রমজান উপলক্ষে ১৭টি দেশ থেকে ছোলা আমদানি করেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কোন কোন দেশ থেকে হচ্ছে সেটির ধারণা পাওয়া যায় চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামার চিত্র দিয়ে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে, আর রপ্তানি হয় ৯১ শতাংশ। আর আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসে ছাড়পত্র দেয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তথ্যমতে, রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে ১৬ দেশ থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া কিছু আমদানিকারক পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি করেছেন। অর্থাৎ রমজান উপলক্ষে ১৭টি দেশ থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে।

রোজা উপলক্ষে যত ছোলা আমদানি হয়েছে তার বেশির ভাগই আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। ছোলা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত থেকেও আমদানি হয়েছে। এর বাইরে কানাডা, ইথিওপিয়া, ভুটানসহ ১৫টি দেশ থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ছোলা আমদানি হয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) ছোলা আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৯৫ হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপ পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, চলতি অর্থবছর শেষ হতে এখনও তিন মাস বাকি। তবে রমজানের ছোলা ইতিমধ্যে চলে এসেছে। তাই আগামী তিন মাসে তেমন ছোলা আমদানি হবে না। ফলে গতবারের তুলনায় এবার ছোলা আমদানি কমতে পারে।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, রোজার মাসে দেশে ছোলার চাহিদা ৮০ হাজার টন। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, রোজা উপলক্ষে পর্যাপ্ত ছোলা আমদানি হয়েছে। তাই এই পণ্যটির দাম বাড়ার সম্ভাবনা আর নেই।

দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এখন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ছোলা। রমজানের আগের সপ্তাহেও একই দাম ছিল। নতুন করে পণ্যটির দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর রমজানকে কেন্দ্র করে ছোলার দাম ওঠানামা করে। এবার সেটা হয়নি। ছোলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে।’

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ছোলার চাহিদা কম কেন জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের রোজার সময়ে করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির ছিল, তাই ছোলার চাহিদা ছিল কম। গতবার আমদানি করা অনেক ছোলা এখনও রয়ে গেছে। আর এবারও আমদানি বেশি হয়েছে। তাই ছোলার বাজার পড়তির দিকে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে এ বছর ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম বাড়িয়েছে টিসিবি। রমজান উপলক্ষে সংস্থাটি সাশ্রয়ী মূল্যে ২৬ হাজার ৫০০ টন ভোজ্যতেল, ১৮ হাজার টন চিনি, ১২ হাজার টন মসুর ডাল, ৮ হাজার টন ছোলা ও ৬ হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি করবে, যা গত বছরের চেয়ে বেশি। এসব পণ্য এখন বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Transactions in the capital market are increasing little by little

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

অল্প অল্প করে বাড়ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন একটি ব্রোকারেজ হাউসে এক বিনিযোগকারী। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টি। আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শেষ কর্মদিবসেও উত্থানের মধ্য দিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তিন কর্মদিবস সূচকে পয়েন্ট যোগ হলো। সেই সঙ্গে দিনের চেয়ে বেড়ে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো লেনদেনও।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রভাব শুরু হওয়া পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে ফের সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে।

১৫ কর্মদিবস আগে ৯ নভেম্বর সর্বশেষ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হয়েছিল ডিএসইতে। এরপরে তিন কর্মদিবস ৭০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হলেও ক্রমেই তা তলানিতে ঠেকে।

৮ কর্মদিবসে পরে ২১ নভেম্বর সর্বপ্রথম লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। হাতবদল হয় ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

পরে আরও তিনবার ৩০০ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়, যা গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

এমনকি ২৪ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ থাকার পরও এর চেয়ে কম লেনদেন হয়নি।

রোববার ৪১৬ কোটির বেশি লেনদেন হলেও সোমবারই আবার লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যাওয়ায় হতাশা ঘিরে ধরে। এরপর ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস সূচক ও দুই কর্মদিবস লেনদেন বাড়ে।

ডিএসইতে হাতবদল হয় ৪৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

মঙ্গলবারের তুলনায় ১১৫ কোটি টাকা বেড়ে বুধবার হাতবদল হয়েছিল ৪৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। ২৩টি কোম্পানির শেয়ারদর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৬১টির। আগের দিন দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল ৫১টির।

আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধি বেশি হলেও এসব কোম্পানি সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

দিনভর উত্থান-পতনের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ৭২টির, যা আগের দিন ছিল ৮৬। ২৩৪টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার দুই-একটি বাদে সবই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে।

বিপুল বিক্রয়াদেশের বিপরীতে এসব শেয়ারের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ রকম ১২১টি শেয়ারের লেনদেন হয় ১ থেকে ১ হাজারের নিচে।

মাত্র ৬১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয় কোটি টাকার বেশি, হাতবদল হয় ৩৮৬ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি আড়াই শতাধিক কোম্পানির লেনদেন হয় শত কোটির নিচে। এ রকম ২৫৭টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের সংশোধনে মানুষের বড় রকমের লোকসান হয়েছে। যাদের মার্জিনে ঋণে বিনিয়োগ ছিল তাদের ফোর্স সেল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যখন বড় ধরনের পতন হয়, তখন বাজারে বায়ার তৈরি হয়ে যায়।’

এ উত্থানটা আরও বেশি হতে পারত বলে মনে করেন ব্রোকারদের এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাজার যেভাবে ওঠার দরকার ছিল, সেভাবে ওঠেনি। যে পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তাতে আরও বেশি বায়ার তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না ফ্লোর প্রাইসের কারণে। ফলে অনেকেই সাইডলাইনে আছেন।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বসুন্ধরা পেপার। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, পূবালী ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ওরিয়ন ফার্মা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী পেপার।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে সি-পার্ল। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিকন ফার্মার দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মার কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, ই-জেনারেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, মুন্নু সিরামিকস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস ও সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্সের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৪৮৫ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসরের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল হাক্কানি পাল্প। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৬৩ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৫৮ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল বসুন্ধরা পেপার, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও ফাইন ফুডস।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর কমেছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর কমে সি-পার্লের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭৮ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ১৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপরেই দর কমেছে ই-জেনারেশনের। ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৬২ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল জুট স্পিনার্স, মুন্নু সিরামিকস, শমরিতা হসপিটাল, নাভানা ফার্মা, ইস্টার্ন ক্যাবলস, আমরা টেকনোলজিস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে বসবে ডিএসই
ঝড়ের গতিতে দর কমছে বিপিএমএল-ওরিয়ন ইনফিউশনদের
৫৫ কোম্পানি পাচ্ছে আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sonali Banks agreement with Chittagong Port Authority

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সোনালী ব্যাংকের

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সোনালী ব্যাংকের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
সোনালী ব্যাংকের পক্ষে বুধবার চুক্তিতে সই করেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুভাষ চন্দ্র দাস, এফসিএমএ, এফসিএ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে সই করেন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শাহজাহান।

সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিবিধ ফি ও চার্জ আদায়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তিতে সই করেছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকের পক্ষে বুধবার চুক্তিতে সই করেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুভাষ চন্দ্র দাস, এফসিএমএ, এফসিএ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে সই করেন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শাহজাহান।

চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড রুমে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. মুছা খাঁন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

এ চুক্তির ফলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীরা ঘরে বসে অনলাইনে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে যাবতীয় ফি ও চার্জ পরিশোধ করতে পারবেন।

সোনালী ই-সেবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে ২ মিনিটে ব্যাংক হিসাব খোলা যায়। সোনালী ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে দিন-রাত যেকোনো সময় ব্যাংকিং লেনদেন করা যায়।

আরও পড়ুন:
পটুয়াখালীতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-সিইওর শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সোনালী ব্যাংক চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা
জিয়াউল হাসান আবারও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Financial institutions also have mountains of defaulted loans

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপি ঋণের পাহাড়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপি ঋণের পাহাড়
আহসান মনসুর বলেন, ‘বিতরণ করা এসব ঋণের বেশির ভাগই অসৎ উপায় অবলম্বন করে দেয়া হয়েছে। এমন লোকদের ঋণ দেয়া হয়েছে, যারা পরবর্তী সময়ে এসব টাকা আর পরিশোধ করছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে জড়িত থাকে। এসব ঋণ এখন আর ফেরত আসছে না।’

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআইএস) খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এই অঙ্ক মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৭০ হাজার ৪১৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি প্রান্তিকেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। তিন মাস আগে জুন পর্যন্ত দেশের ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা, যা ছিল বিতরণ করা ঋণের ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণে বেড়েছে ১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এপ্রিল শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিতরণ করা এসব ঋণের বেশির ভাগই অসৎ উপায় অবলম্বন করে দেয়া হয়েছে। এমন লোকদের ঋণ দেয়া হয়েছে, যারা পরবর্তী সময়ে এসব টাকা আর পরিশোধ করছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে জড়িত থাকে। এসব ঋণ এখন আর ফেরত আসছে না। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আর্থিক খাত দুর্বল হওয়ার কারণ খেলাপি ঋণ বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আর্থিক খাতে নানা রকমের কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব খেলাপি ঋণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যেসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, সেসব বিষয়ে তারা এড়িয়ে যায়।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের শাস্তি দেয়। আর যারা খারাপ কাজ করে তাদের বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।’

আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোভিডের সময় ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছিল। ফলে সে সময় খেলাপিরা কিছুটা হলেও চাপমুক্ত ছিল। তখন খারাপ লোনগুলোকে খেলাপির আওতায় আনা হয়নি। এখন সেগুলো বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানকে অনেক বেশি ঋণ দিয়েছে। যখন ঋণ সুদে-আসলে পাওয়ার কথা, তখন আর ফেরত পাচ্ছে না। ফলে খেলাপির সংখ্যা বাড়ছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। জুন শেষে খেলাপি ‍ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের প্রায় ৮ শতাংশ। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর নয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৩১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯,১৩৯ কোটি টাকা
সোয়া লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়বে: বিএবি
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ল ১০ হাজার কোটি টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Reserves fell below 34 billion

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ
বাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির ফলেই রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা।

আমদানি কমার পরও বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বুধবার রিজার্ভ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রির ফলে দিন শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩৮৬ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার বিক্রি করা হয়েছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সোমবার বিক্রি করা হয় ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

বাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির ফলেই রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রিজার্ভ থেকে ৬০৫ কোটি (৬.০৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগে ১ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার; এক বছর আগে গত বছরের ২৩ নভেম্বর এই সূচকের পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের আগস্টে এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭ নভেম্বর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ৮ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৩৫ কোটি (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করার পর রিজার্ভ নেমে আসে ৩৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে।

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমায় রিজার্ভ কমেছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় বেশ কমেছে। এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও কমছে। সেস কারণে আমদানি ব্যয় কমার পরও রিজার্ভ কমছেই।

‘রিজার্ভ কমতে কমতে কিন্তু বেশ নিচে নেমে এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে কিন্তু ১২ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এই সূচককে আর কমাতে দেওয়া যাবে না। যে করেই হোক রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি আসবে বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। হুন্ডি বন্ধ করতে হবে।’

কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি

আড়াই বছরের করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর থেকে রিজার্ভের প্রধান এই দুই সূচকেও দুঃসংবাদ এসেছে।

রিজার্ভ বাড়াতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে গতি আনতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবৈধ হুন্ডি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; দেশের স্বার্থে জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

কিন্তু তাতে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ছে না অর্থনীতিরি গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো চলতি নভেম্বর মাসেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

অথচ চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৭ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি মাসের বাকি ৫ দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো নভেম্বর মাসেও দেড় বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স আসবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। আর সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম এসেছে ১ শতাংশের মতো।

গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ (১.৪৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এর আট মাস পর সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আসে অক্টোবরে।

তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই চার মাসে ১১৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি আয়েও হোঁচট

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

আর এই দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণেই আমদানি ব্যয় কমার পরও রিজার্ভ নেমেছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২০ সালের ৩০ জুনের পর যা সর্বনিম্ন। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি খাতে ব্যয় হয়েছে ৬ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আমদানি কমছে

কয়েক মাস আগেও অর্থনীতির উদ্বেগজনক সূচক ছিল অস্বাভাবিক আমদানি। গত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে আমদানি খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি ডলার খরচ হয়েছিল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সেই প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে। আরও খুশির খবর হচ্ছে, এই তিন মাসে পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

হুন্ডি বাড়ায় কমছে রেমিট্যান্স

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধভাবে হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর কারণ, সেখানে ডলারের দর বেশি পাওয়া যায়। প্রতি ডলারের বিপরীতে তিন থেকে চার টাকার ব্যবধান অনেককেই এভাবে অর্থ পাঠানোতে আগ্রহী করছে।’

তিনি বলেন, খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দর এখন ১১২ থেকে টাকা। ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। তার সঙ্গে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হয়ে পাওয়া যায় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে, যার নামে পাঠান তিনি ১১৩ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।

সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন আহসান এইচ মনসুর। তার মূল্যায়ন, এ কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম আসছে।

দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান মনসুর বলেন, ‘মূলত হুন্ডি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সূচক কমছে। এটা বন্ধ করতে হবে। হুন্ডি কারবারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে কিন্তু রেমিট্যান্স বাড়বে না; রিজার্ভ আরও কমে যাবে।’

৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

৫ মাসে ৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায় গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে মোট ৬ দশমিক শূন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ১০ লাখ (৭.৬২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটির দর। দুর্বল হচ্ছে টাকা।

অথচ তার আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজার থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই অঙ্কও ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সে ভাটায় ‘হুন্ডির প্রভাব’, রিজার্ভ আরও কমার শঙ্কা
৩৪ বিলিয়নে নামল রিজার্ভ
৪ মাসেই ৫ বিলিয়ন বিক্রি, তারপরও ডলার নেই ব্যাংকে
রিজার্ভ থেকে ডলার পাবে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো
রিজার্ভ এখনও বিএনপি আমলের ১২ গুণ: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
NBR in search of new taxpayers in big cities

বড় শহরে নতুন করদাতার সন্ধানে এনবিআর

বড় শহরে নতুন করদাতার সন্ধানে এনবিআর সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ে বুধবার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘সম্ভাব্য করদাতা গাড়ির মালিকদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে বিআরটিএ-র সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। আর বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের শনাক্ত করতে ডিপিডিসির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে নতুন করদাতা বাড়বে আশা করা যায়।’

করের আওতা বাড়াতে রাজধানী ঢাকা ও এর বাইরে দেশের বড় বড় শহরে নতুন করদাতা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। বড় বড় শহরগুলোতে যাদের বাড়ি-গাড়ি আছে কিংবা ফ্ল্যাটের মালিক কিন্তু করের আওতায় নেই, তাদেরকে শনাক্ত করে করের আওতায় আনা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বুধবার জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান।

সেগুনবাগিচায় এনবিআর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল-সিএজি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ‘প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাপনা ও কর নেট সম্প্রসারণ: প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন এনবিআর সদস্য (কর-নীতি) ড. সামস উদ্দিন আহমেদ।

বক্তব্য দেন এনবিআরের সদস্য (শুল্ক নীতি) মাসুদ সাদিক, সদস্য প্রদ্যুৎ কুমার ও কর কমিশনার ফজুলল হক।

আয়কর আদায় বাড়াতে ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সিএজি বলেন, ‘এটি নিশ্চিত করা হলে কর কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আর থাকবে না। কর আদায় ব্যবস্থা সহজ করতে হলে ডিজিটালাইজেশনের কোন বিকল্প নেই।’

বিদেশি পরামর্শকের পরিবর্তে দেশীয় কর্মকর্তাদের দিয়ে ডিজিটালাইজেশন করার পরামর্শ দেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে করদাতা শনাক্তকরণে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি, বিআরটিএ-র সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি করেছি। তিতাসসহ আরও কয়েকটি সরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হবে। ডোর টু ডোর না গিয়ে ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে এ কাজটি করা হচ্ছে, যাতে করদাতাদের মাঝে কোনো ধরনের ভয়ভীতির সৃষ্টি না হয়।’

তিনি জানান, সম্ভাব্য করদাতা গাড়ির মালিকদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে বিআরটিএ-র সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। আর বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের শনাক্ত করতে ডিপিডিসির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে নতুন করদাতা বাড়বে আশা করা যায়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে মোট রাজস্বে আয়করের অংশ ৩৪ শতাংশ। আমরা এটাকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছি। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে করের আওতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ জন্য ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

‘গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় কর আহরণ বাড়ানো যাবে না। প্রয়োজন বড় ধরনের সংস্কার। কর ব্যবস্থাকে যত সহজ করা যাবে নেট তত বেশি বাড়বে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে এনবিআর।’

আয়কর আইন খুবই জটিল মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা সহজ করা কঠিন। তবে সংস্কারের সুযোগ আছে। বিগত সময়ে যেসব সংস্কার হয়েছে সেগুলো সফল হয়নি। এখন থেকে যেসব সংস্কার করা হবে সেগুলো কার্যকর হবে। আমরা নিজেরাই নিজেদের মতো করে সংস্কার করব।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
৩২৭ কোটিতে তিন কাস্টম হাউসে বসছে ৬ অত্যাধুনিক স্ক্যানার
কাস্টমসের ওয়ান স্টপ সেবা মিলবে কবে?
ভ্যাট: ৫০ শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এনবিআর নজরদারিতে
শুরু হলো কর সেবা মাস

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Secretaries should step down from BATB board Planning Minister

বিএটিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের সরে আসা উচিত: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিএটিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের সরে আসা উচিত: পরিকল্পনামন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বুধবার সেমিনারে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারপ্রধান দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আমি মনে করি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) পরিচালনা পর্ষদে যেসব সচিব আছেন তাদের সরে আসা উচিত। এই কোম্পানিতে সরকারের যে বিনিয়োগ আছে সেখান থেকেও বের হয়ে আসা দরকার।’

বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের বেরিয়ে আসা উচিত। তামাক নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের নীতিতে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হয় সেজন্যই এমন পদক্ষেপ থাকা উচিত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি কনফারেন্স রুমে বুধবার এক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারপ্রধান দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট মানে আমাদের সবার কমিটমেন্ট। তাই আমি মনে করি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পরিচালনা পর্ষদে যেসব সচিব আছেন তাদের বের হয়ে আসা উচিত। সময়-সুযোগ হলে বিষয়টি আমি তুলব।’

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে সরকারের যে বিনিয়োগ আছে সেখান থেকেও বের হয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিএটিবিতে সরকারের একেবারেই সামান্য শেয়ার আছে। আমি এটা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে মানি ট্রান্সফারের বিষয়ে শুধু তামাক খাত নয়, অন্য খাতগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নবম পঞ্চবার্ষিকীতে কীভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।’

‘তামাক কোম্পানির সিএসআর: মিথ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইপিএইচআরসি)।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ও একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। তিনি ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর, মিথ ও বাস্তবতা: বিএটিবি-র ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন।

সুশান্ত সিনহা বলেন, ‘বছরে মাত্র ৬ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করে ফলাও করে প্রচার করে বিএটিবি। সরকার যখন তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন সিএসআরে ব্যয় বৃদ্ধি করে বিএটিবি। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬২টি দেশ সিএসআর নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কোম্পানি নামে-বেনামে কৌশলে তাদের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি যেসব পলিসি নিয়ে কাজ করছি সেগুলো সরকারের জন্য খুবই দরকারি হলেও এসব খাতে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা ট্যাক্স নিয়ে কথা শুনতে চান না।’

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি)-এর সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, ‘যখন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন তামাক কোম্পানি সিএসআর বাড়িয়ে দেয়- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্ডিংস। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে এনটিসিসি ইতোমধ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের উচিত প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় সহায়তা করা।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘তামাক কোম্পানির রাজস্ব দেয়া নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি হয়। এ খাত থেকে টাকা এলেও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তামাকের বিকল্প খাত থেকে রাজস্ব আয় করতে সরকারকে নতুন খাতের খোঁজ করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স বাড়ানোর কথা বললে তামাক কোম্পানি নানা ধরনের তথ্য প্রচার করে। তারা সিএসআর নিয়ে প্রচার বাড়ায়। তাদের ব্যবসা প্রতিবছর বহু গুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বিএটিবিসির ইপিএস ২১ নয়, ৭.১৭ টাকা
ব্যাপক মুনাফা দিল বিএটিবিসির শেয়ার
বিএটিসিবির ফ্লোর প্রাইস সমন্বয় যেভাবে
৮০০ শতাংশ লভ্যাংশেও বিএটিবিসির এমন পতন!
বিএটিবিসির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস কত হবে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Capital market is not a source of long term funding DSE Chairman

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না: ডিএসই চেয়ারম্যান মঙ্গলবার ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়। পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং সুন্দর হওয়া জরুরি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও): প্রসেসেস অ্যান্ড প্রসিডিউরস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে মঙ্গলবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য দুদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমি।

ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার দেশের শিল্পোন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ার কথা থাকলেও সেই অবস্থানে যেতে পারছে না। এর অন্যতম একটি কারণ হলো, দেশে মূল অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়। ফলে কিছু অমিল লক্ষ্য করা যায়।’

পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করাই লক্ষ্য জানিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির মূল উৎসে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করছি।’

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলনের নিরাপদ ও টেকসই উৎস হয়ে ওঠার জন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে আইপিও নির্ধারিত হয়৷ কাজেই ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্টগুলো যেন অধিকতর স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কাজ করছে৷ আগামী দিনগুলোতে চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মগুলো আরও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। তখন স্টেটমেন্টগুলোর সঠিকতা নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা দূরীভূত হবে।’

আইপিও প্রক্রিয়ার ভুল সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘বিগত নয়-দশ বছরে দেশে শতাধিক কোম্পানির আইপিও এসেছে। এর অনেকগুলো বর্তমানে ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে। এখানে যেসব ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে তা নির্ধারণপূর্বক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা আইপিওর প্রসেস ও প্রসিডিউর সম্পর্কে হাতে-কলমে শিখবেন। ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগাবেন। আপনাদের অ্যাটিটিউড পজিটিভ হলেই দেশ উপকৃত হবে। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আইপিও-র প্রসেস, প্রসিডিউর এবং বিধি ও প্রবিধান সবই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে। তারপরও এই প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব হলো প্রশিক্ষক যারা রয়েছেন তাদের প্রয়োগিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা৷’

আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক করপোরেট হাউজ রয়েছে, যাদের আইপিওর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আইপিও প্রসেসিং সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকায় ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ ও নলেজ লেভেল সমৃদ্ধ হবে।’

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির প্রধান সৈয়দ আল আমিন রহমান এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাবলিক অফারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, আইপিও ব্যবস্থাপনায় ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডাররাইটার ও রেজিস্টারের ভূমিকা, ইলেক্ট্রনিক সাবসক্রিপশন সিস্টেম, আইপিওর আবেদন প্রক্রিয়া ও শেয়ার বরাদ্দ, ডিরেক্ট লিস্টিং ও পাবলিক অফারের ডকুমেন্ট প্রসপেক্টাসের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার: অন্ধকারে আশার ক্ষীণ আলো
পুঁজিবাজারের লভ্যাংশে করমুক্তির দাবি
পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিএমবিএ’র ৬ প্রস্তাব
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: বিএসইসি চেয়ারম্যান
খাদের কিনারে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে