ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে জটিলতা কাটেনি

ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে জটিলতা কাটেনি

সোমবার একাধিক ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ত্রুটির কারণে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর রোববার আন্তব্যাংক চেক লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে আন্তব্যাংক ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তর করা যাচ্ছে না এখনও।

প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা ইলেকট্রনিক উপায়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন করতে পারছেন না।

সোমবার একাধিক ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ত্রুটির কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার আন্তব্যাংক চেক লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে আন্তব্যাংক ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তর করা যাচ্ছে না এখনও।

কর্মকর্তারা জানান, সোমবারও বিইএফটিএন-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন করা যায়নি। সার্ভার সমস্যার কারণে টানা ছয় দিন এ সেবা বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে আইটি বিপর্যয়ের কারণে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) ও আন্তব্যাংক চেক লেনদেনে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। রোববার থেকে কিছু চালু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে চেক ক্লিয়ারিং, আরটিজিএস সেবা চালু আছে; তবে বিইএফটিএন করতে সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র, উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতাসহ অনেকগুলো সেবার লাখ লাখ ইনপুট দিতে হয় বিএফটিনের মাধ্যমে। এসব ফান্ড ট্রান্সফার করতে গিয়ে টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় চেক প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা-বিএসিপিএস এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তহবিল স্থানান্তর নেটওয়ার্ক বা ইএফটিএন সার্ভারে ত্রুটির কারণে লেনদেন বাধাগ্রস্ত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। করোনার কারণে চলমান লকডাউনের মধ্যে বিষয়টি ভোগান্তি তৈরি করেছে।

বিটিসিএলের মতিঝিল এলাকার লাইন কাটা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চেক ক্লিয়ারিংসহ কয়েকটি সেবা বন্ধ ছিল। রোববার এটি সচল হয়েছে।

প্রথম দিন উচ্চ মূল্যমানের বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি চেক লেনদেন বন্ধ ছিল।

আর গত বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক কোনো চেকই লেনদেন হয়নি। ফলে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের গ্রাহকের চেক জমা দেয়া হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।

রোববার টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আন্তব্যাংক চেক লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। এদিন রেকর্ড ১ লাখ ৪৬ হাজার চেক নিষ্পত্তি হয়েছে।

বিএসিপিএস ও ইএফটিএন ব্যবহার করে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়। এর মধ্যে আন্তব্যাংক চেক নিষ্পত্তি হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

আর ইএফটিএনের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে গ্রাহকের দৈনিক গড়ে দুই হাজার কোটি টাকার মতো পরিশোধ হয়ে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি ডাটা সেন্টারের মধ্যে সংযোগকারী ফাইবার অপটিক্যাল কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এরপর মাইক্রোসফট ও ভিএমওয়্যার-এই দুইটি প্রযুক্তি টিম এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

আন্তব্যাংক চেক লেনদেন ও ইএফটিএন- এই দুটিই ব্যাংকিং সেক্টরের আর্থিক খাতে লেনদেনের অন্যতম বড় দুটি মাধ্যম। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আইটি বিপর্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

আরও পড়ুন:
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর ফরাহ নাছের
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হচ্ছেন ফরাহ নাছের
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন
বিজ্ঞাপনে আক্রমণাত্মক শব্দ নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য