কর ছাড়েও ‘কমবে না’ ভোজ্য তেলের দাম

কর ছাড়েও ‘কমবে না’ ভোজ্য তেলের দাম

শীর্ষস্থানীয় ভোজ্যতেল উৎপাদক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে জানান, অগ্রিম কর প্রত্যাহার হলেও এতে উৎপাদক ও আমদানি পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের করের ভার কমবে না। ফলে তাতে মূল্য সংশোধনেরও সুযোগ নেই।

রমজানে ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এতে ভোক্তা পর্যায়ে দামে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই অগ্রিম কর প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বর্তমানে অগ্রিম কর দিতে হচ্ছে ৫ শতাংশ হারে।

ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে কোনো পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহার হলে তার সুফল বাজারপর্যায়ে ভোক্তার মূল্যের ওপর পড়ার কথা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে বাজারে তেলের দাম কমবে না।

বর্তমানে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়েও মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে।

আগে এক স্তরে শুধু আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলেই চলত। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত এ সুযোগ বহাল ছিল। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তে সেটি তুলে নেয়া হয়।

কর ছাড় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শীর্ষস্থানীয় ভোজ্যতেল উৎপাদক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে জানান, অগ্রিম কর প্রত্যাহার হলেও এতে উৎপাদক ও আমদানি পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের করের ভার কমবে না। ফলে তাতে মূল্য সংশোধনেরও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামতেলে উৎপাদক ও আমদানি পর্যায়ে সরকারকে অগ্রিম কর দিতে হয়। যা বছর শেষে সার্বিক করের হিসাব সমন্বয় করা হয়। এখন এই আদেশের ফলে সেই আগাম করটি এখন আগাম দিতে হবে না। কিন্তু বছর শেষে ঠিকই সমন্বয় করতে হবে।’

সিটি গ্রুপের এই কর্মকর্তার জানান, যদি এটা বাজারে অগ্রিম কর না হয়ে অন্যান্য কর প্রত্যাহার হতো তাহলে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমতো। এখন সেই সুযোগ আছে কি না তা নির্ভর করবে সংশোধিত সিদ্ধান্ত অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড নামে এনবিআরের সংরক্ষিত যে সফটওয়্যার আছে সেখানে কী নির্দেশনা রয়েছে তার ওপর। সেটা পরিষ্কার হতে আরও সময় লাগবে বলে।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মাওলা নিউজবাংলাকে বলেন, কর প্রত্যাহার হলে তো দাম কিছু কিছু কমবেই। কিন্তু দেখতে হবে সেটা কোন কর। ব্যবসায় লেনদেনের স্থিতি বুঝে প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা অগ্রিম কর সরকারকে আগাম দিয়ে আসছে। বছর শেষে সেটা কম হলে আরও দিতে হয়। আর বেশি হলে সরকার তার অন্যান্য করের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা নিজ অ্যাকাউন্ডে ফেরত দেয়। তাই এ কর প্রত্যাহারে বাজার ভোক্তা পর্যায়ে দাম কতটা কমবে সেটি নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তাহলে এই কর প্রত্যাহারে লাভ কী হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লাভ আছে অন্য জায়গায়। এতে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থের সংকট কিছুটা হলেও দূর করবে। আগাম কর হিসেবে সরকারকে যে টাকা আগাম দিতে হতো, এখন সেটা আগাম পরিশোধ না করে এই টাকা ব্যবসার অন্যখাতে খরচ করতে পারবেন। সুবিধা বলতে এইটুকুই।’

এর আগে রোজার মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত জানিয়ে মন্ত্রী পরিশোধের বৈঠকে আমদানিতে কর ছাড় চেয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আর বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর বিবেচনা করবে।

কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের ওই বৈঠকে কর কমানোর প্রস্তাব করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামটা এখন অনেক বেশি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়বাজারে ভোজ্যতেল আমদানিতে যে কর রয়েছে তা একটু কমানো হোক। তাহলে বাজারে দামটাও কম থাকবে।

এর আগে রোজার মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সহংতি জানিয়ে মন্ত্রী পরিশোধের বৈঠকে আমদানিতে কর ছাড় চেয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আর বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর বিবেচনা করবে।

কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের ওই বৈঠকে কর কমানোর প্রস্তাব করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামটা এখন অনেক বেশি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়বাজারে ভোজ্যতেল আমদানিতে যে কর রয়েছে তা একটু কমানো হোক। তাহলে বাজারে দামটাও কম থাকবে।

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।'

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রাজধানীর হোটেল সোনাগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।

‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

'বিভিন্ন এলাকায় সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কীভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে, সেসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি, মাসখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি একটা সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।’

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর
'ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যে সকল দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও ২০২০ সালে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দীর্ঘ লকডাউন ও ঈদের ছুটিকে দায়ী করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন ও ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণশ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি থাকে। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।’

পৌরসভাগুলোর সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলো তাদের সংকট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ভালো, তবে এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে তারা নিজেরাই নাগরিক সেবা দিতে পারে।

‘সমাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিমধ্যে নগর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জ্ঞান পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বিছানা পেতে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে কিছু শিশু। হাসপাতালের ভেতরে গেলে বারান্দা, মেঝেতেও দেখা যায় শিশুদের।

শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই আছে একাধিক শিশু। কোনো কোনো বেডে দেখা যায় চারজন শিশুকেও।

শিশুদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া বাড়ায় জায়গা দিতে পারছে না হাসপাতালটি। কয়দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা।

৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি আছে ১৮৭ শিশু। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ২০৩ জন শিশু।

তিন বছরের আয়েশাকে কোলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম। এসেছেন সদর উপজেলার জামালপুর থেকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মেয়ের ডায়রিয়া। যে বেড দিয়েছে সেখানে আরও দুইটা বাচ্চাকে রাখা হয়েছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মর্জিনা খাতুন জানান, তারা এক বেড চারজন ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের বেলা নানাভাবে সময় কেটে যায়। রাতে পড়তে হয় সমস্যায়। পালা করে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

সালন্দরের সবেদা বেগম বলেন, ‘গাছতলাতেই ভালো আছি। ভেতরে এত মানুষ! গরমে টেকা যায় না।’

হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি থাকে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ জন থাকছে। নবজাতকও আছে। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে।’

এ সময় শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। শিশুরা ঘেমে গেলে দ্রুত তাদের ঘাম মুছে জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল ও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘এই হাসপাতালে শিশু সেবার মান উন্নত হওয়ায় আশপাশের জেলার মানুষও এখানে আসেন। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে জব্দ মাইক্রোবাস।

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘মাইক্রোবাস চালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

হাতিরঝিল এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। তার সঙ্গে আসা তিশান নামে এক ব্যক্তি জানান, লেকের মাই টিভি ভবন এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন মনির।

পরে পুলিশ জানায়, যে মাইক্রোবাসে করে মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল তারই ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন তিনি।

ততক্ষণে মাইক্রোবাসটি অ্যাম্বুলেন্স পার্কি লটে ফেলে সটকে পড়েছেন মনিরকে হাসপাতালে আনা চালক ও অন্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয় তাকে। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসাদের একজন পথচারী তিশান বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাসায় যাচ্ছিলাম। পরে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লোকটা পড়ে আছে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার (মনির) কাছে দুটি মোবাইল ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা, তার বাড়ী চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার লকমোতা গ্রামে। পিতার নাম হাজিল উদ্দিন। নিহতের মোবাইল থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তার ফুফাতো বোনের জামাই রিপন পাটোয়ারী দুঃসংবাদ পেয়ে ঢামেকে এসে বোনজামাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

‘তিনি জানিয়েছেন,নিহত ব্যক্তি গাড়ির চালক ছিলেন।’

তবে তিশানের এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসটির চালক পালিয়ে যাওয়ার পর।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢামেক থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করেন হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আল ইমরান।

তিনি বলেন, ‘মাইক্রোবাস চালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন রুবেল, আবু সাঈদ, শাহীন শাহিদ ও আশিকুল ইসলাম ইসাহাক। তারা ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট।

পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি জাল টাকার কারবার করে আসছিল। বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তারা জাল নোটগুলো ছড়িয়ে দিত। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চার ব্যক্তিকে বুধবার বিকেলে আটক করা হয়।’

এ চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুর সহপাঠীদের রাখা হচ্ছে পর্যবেক্ষণে। নজরদারিতে থাকছে তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে সরাসরি ক্লাস শুরু হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনার আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিশু শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বুধবার করোনা শনাক্ত হওয়া পাঁচ শিশু উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনি এলাকার বাহাদুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভীন নিউজবাংলাকে জানান, আক্রান্তদের মধ্যে দুজন চতুর্থ ও তিনজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার সদস্য।

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ৮৪ ও পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ৭৬ জন। বুধবার তারা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা হয়। সূচি অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢোকানো হয়।

‘আক্রান্ত পাঁচ ছাত্রী গত ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লাসে উপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের স্কুলপড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিনজন ছাত্রী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে। ওই দিনই পাঁচ শিশুর করোনা পরীক্ষার নমুনা দেওয়া হয়। বুধবার আমরা জানতে পারি তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।’

তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছে বলে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক রিক্তা বানু জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের থাকা শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ১৬ সেপ্টেম্বর জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যদের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ৫ ছাত্রী আক্রান্ত হয়।

সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত ১৩ ছাত্রীকে আলাদা রাখা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ ফেরদৌস বলেন, ‘বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার রকিবুল আলম চয়ন বলেন, সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের আক্রান্তের দিন থেকেই শারীরিক অবস্থা পর্যক্ষেণ করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে সুস্থ আছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আমরা সব বিদ্যালয় সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। যদি কোনো শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার নমুনা পরীক্ষা করছি।

‘যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাৎক্ষণিক সেই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে।’

গোপালগঞ্জে দুই বিদ্যালয়ে আক্রান্ত দুই শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১০২ নম্বর বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোনালিসা ইসলামের করোনা শনাক্ত হয় ২১ মঙ্গলবার। এরপর ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে অন্য শ্রেণিতে পাঠদান চলছে।

মোনালিসার মা মিতু খানম নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘এতদিন আমার মেয়ে সুস্থ ছিল। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। এরপর ১৪ তারিখ থেকে তার হালকা জ্বর, মাথাব্যথা। সে জন্য পরদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।

‘এক সপ্তাহেও মেয়ের জ্বর না কমায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষা করাই। ওই দিনই পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি।’

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী ও তার মা দুজনেরই করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মানিকগঞ্জে পৌর এলাকার এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বুধবার করোনা উপসর্গে মারা গেছে।

ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে বুধবার রাতে সুবর্ণা ইসলাম রোদেলা নামে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন
মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে মৃত্যু হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোদেলা ছবি: সংগৃহীত

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রোদেলা জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও খেয়েছে সে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শ্বাসকষ্ট, গলা ও বুকে ব্যথায় অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত মুন্নু জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, রোদেলা করোনায় আক্রান্ত ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর আগে ওই বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী করোনা পজিটিভ হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়। এরপর ওই শ্রেণির ৫৮ শিক্ষার্থীর করোনা পরীক্ষায় সবার নেগেটিভ আসে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি রহিম শুভ,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আজিজুল হাকিম ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন মুন্না।

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু  

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু  

টঙ্গী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, মহাসড়ক অবরোধ শেষে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় রেল সড়কে টায়ার, ঝুট, কাঠ জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এতে সারা দেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে।

বন্ধ থাকার দেড় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

অবরোধকারীরা চলে গেলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেললাইন থেকে জ্বলন্ত টায়ার, ঝুট ও কাঠ অপসারণ করা হয়। এর পরপরই ট্রেন চলাচল স্বাভবিক হয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

টঙ্গী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, মহাসড়ক অবরোধ শেষে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় রেল সড়কে টায়ার, ঝুট, কাঠ জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এতে সারা দেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধকারীরা চলে গেলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, রেললাইনে অগ্নিসংযোগ করায় কোনো ট্রেন ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে পারেনি। এতে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। অবরোধের মুখে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে টঙ্গী স্টেশন এলাকা থেকে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

এর আগে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্তত চারটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এই বিক্ষোভে মেয়রের পদ কেড়ে নেয়া, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।

বেলা তিনটার দিকে টঙ্গী হোসেন মার্কেট, চেরাগ আলী, স্টেশন রোড, বোর্ড বাজারে অবরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

নেতা-কর্মীরা সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দাবি করে বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করবেন না।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। গত রাতে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেছেন, যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তার পুরোটাই বানোয়াট। ‘সত্যটা’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা এই ভিডিও ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

অনলাইনে যারা এখনও ভিডিওটি পোস্ট করে রেখেছেন, তাদের সেটি সরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মেয়রের দাবি, বঙ্গবন্ধুকে তিনি অন্তরে ধারণ করেন। তার অস্তিত্ব এবং ভালোবাসা হলেন তিনি।

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু


গাজীপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এই বানোয়াট ভিডিও ছড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা এই অন্যায় কাজ করছে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে, যারা বিজ্ঞ আইনজীবী তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

ফেসবুকে যারা ভিডিওটি ছড়াচ্ছেন তাদের সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শও দেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় কয়েক শ নেতা-কর্মী নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। সেই মহান নেতাকে নিয়ে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কুরুচিপূর্ণ ও আশালীন মন্তব্যে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার এই বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’

টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদকে নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্যের কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং দেশমাতৃকার প্রশ্নে এক বিন্দু ছাড় নয়।’

টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর থেকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে কীভাবে ধ্বংস করা যায়, নেতা-কর্মীদের কীভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা যায় সেই অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতাকে নিয়ে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। অবিলম্বে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।’

ভিডিওতে যা দেখা যায়, যা শোনা যায়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়রকে দেখা গেলে বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছেন, সেটি জানা যায়নি। কারাই বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছেন, সেটিও অজানা।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভটা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু


বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

ভীষণ ক্ষুব্ধ গাজীপুর আওয়ামী লীগ

এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বুধবার বিকেল থেকে গাজীপুরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা মেয়রের বিরুদ্ধে আইনি ও দলীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলছেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নিউজবাংলাকে বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর যা বলেছেন তা রাষ্ট্রবিরোধী। এটা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

গাজীপুর আওয়ামী লীগ মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জানিয়েছে আজমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাকেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

গুলশানে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় রাজধানীর গুলশানের তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গুলশান-২ এলাকায় বৃহস্পতিবার র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযানের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে জান্নাত ফার্মার ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন রিজবুকে ২ লাখ, ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-১-এর ম্যানেজার শাহাদাত আলমকে দেড় লাখ ও ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-২-এর ম্যানেজার আব্দুল হামিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিন ফার্মেসি থেকে জব্দ করা ওষুধ ধ্বংস করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
রমজানে ভোজ্য তেলের দাম কমাতে কর ছাড়
ভোজ্য তেলে কর ছাড় চাইল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়াল সরকার
যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল
সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেঁধে দিল সরকার

শেয়ার করুন