আইআরএফ সভাপতি মওলা, সাধারণ সম্পাদক সুমন

গোলাম মওলা (বামে) ও সাখাওয়াত হোসেন সুমন।

আইআরএফ সভাপতি মওলা, সাধারণ সম্পাদক সুমন

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি আলী রিয়াজ (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী ইব্রাহিম (দৈনিক ভোরের কাগজ), অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান (ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি), সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান আজিজ (দৈনিক ঢাকাটাইমস), দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন (দৈনিক আজকালের খবর), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান (দৈনিক সংগ্রাম)।

বিমা খাত নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য কাজ করবে এ কমিটি।

নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের গোলাম মওলা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাখাওয়াত হোসেন সুমন।

শনিবার ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সংগঠনের সাধারণ সভা হয়। পরে সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি আলী রিয়াজ (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী ইব্রাহিম (দৈনিক ভোরের কাগজ), অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান (ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি), সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান আজিজ (দৈনিক ঢাকাটাইমস), দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন (দৈনিক আজকালের খবর), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান (দৈনিক সংগ্রাম)।

কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন- রেজাউল হক কৌশিক (দৈনিক ইত্তেফাক), রহিম শেখ (দৈনিক জনকণ্ঠ), গাজী আনোয়ারুল হক (নিউ নেশন), মরিয়ম সেজুতি (দৈনিক ভোরের কাগজ), মাসুদ মিয়া (দৈনিক আমাদের নতুন সময়), রিজাউল করিম (ইটিভি অনলাইন) এবং সালাহ উদ্দিন মাহমুদ (দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)।

অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি রেজাউল হক কৌশিক সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক রহিম শেখ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাঁচজন সদস্যসহ অন্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খরচ কমায় উল্টো ঋণ শোধ করছে সরকার

খরচ কমায় উল্টো ঋণ শোধ করছে সরকার

ঋণ পরিশোধের গতি বেড়েছে সরকারের। ফাইল ছবি

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, সঞ্চয়পত্র থেকে অস্বাভাবিক ঋণ এবং রাজস্ব আয়ে গতি আসায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।

গত অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ধার করেছিল সরকার। কিন্তু এবার ধার না করে উল্টো আগের ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও তছনছ হয়ে যাওয়ায় সরকারের খরচ কমে গেছে। তাই ঋণ শোধ করার এই সুযোগ এসেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, সঞ্চয়পত্র থেকে অস্বাভাবিক ঋণ এবং রাজস্ব আয়ে গতি আসায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পরও বেশ কিছু অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকছে।

ঋণের বোঝা লাঘব করতে সেই অর্থ দিয়ে সরকার আগের ঋণ শোধ করছে বলে অর্থনীতির বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিবছরই সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। মিডিয়াতেও ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হয়। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ বঞ্চিত হওয়ায় বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে অর্থনীতিবিদেরা সমালোচনা করেন। কিন্তু এবার মিডিয়ায় খবরও নেই, সমালোচনা নেই।

রাজস্ব আদায়ে নাজুক অবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের বেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ছিল। তার মধ্যে অর্থবছরের শেষ দিকে এসে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অর্থনীতির সব হিসাব এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় সেই ঋণনির্ভরতা আরও বেড়েছিল।

অর্থবছরের শেষ তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের মত ঋণ সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারপরও ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা নিয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঋণের অংক ছিল ১১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, পরিশোধ করেছে তার চেয়ে বেশি। ফলে সরকারের নিট ঋণগ্রহণ ঋণাত্মক হয়ে গেছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে অর্থাৎ ২০২০ সালের ৩০ জুন তারিখে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

এই হিসাবে গত ১০ মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ১৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা কমেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা প্রচুর ঋণ সহায়তা দেওয়ায় সরকারকে এখন আর ব্যাংক তেমন ঋণ নিতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন খুবই কম। অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে সরকার। তাই ব্যয় কম হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় খুব বেশি ভালো না হলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেই টাকা ধার হিসেবে নিয়ে খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে।

‘তাই সবমিলিয়ে সরকারকে এখন আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। উল্টো অন্যান্য উৎস থেকে যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে, তা খরচ করেও বেঁচে যাচ্ছে। সেই টাকাই শোধ করছে সরকার।’

অর্থনীতির আরেক গবেষক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত দুটি কারণে এবার সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। প্রথমত, মেগা প্রকল্পের বাইরে আপাতত তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার অনেক কমে যাওয়ায় সবাই এখন সঞ্চয়পত্র কিনছে। বিক্রি অস্বাভাবিক বাড়ছে। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পরও অনেক টাকা কোষাগারে থেকে যাচ্ছে। সে কারণে আর ব্যাংকের দারস্ত হতে হচ্ছে না সরকারকে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সরকার যে বাজেট দেয় বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার অর্ধেকও হয়নি। আবার কম খরচে বিদেশি ঋণ পাওয়া গেলেও খরচের ক্ষেত্রে বেশি জবাবদিহিতা থাকায় সরকারি কর্মকর্তারা তা খরচ করতে চান না। সবমিলিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সার্বিক ব্যয় কম।’

বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে, নিট হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে উল্টো ১৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, এই ৯ মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। কিন্তু অর্থবছরের আট মাসেই অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারির সময়েই তার থেকে প্রায় দেড় গুণ ২৯ হাজার ৩১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে ফেলেছে সরকার।

অর্থবছরের বাকি চার মাসে (মার্চ-জুন) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা নিয়ে চিন্তিত আহসান মনসুর।

তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সবচেয়ে বেশি। এটি বিক্রি বেড়ে গেলে সরকারকে গ্রাহকদের বেশি বেশি সুদ দিতে হয়। এতে বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ পড়ে।’

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

তার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ওই অংক ছিল এ যাবতকালে সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া সরকারের সবচেয়ে বেশি ঋণ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিয়েছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ-সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। তার মধ্যে ৪ বিলিয়ন ডলার ছিল শেষের তিন মাসে (এপ্রিল-জুন)।

সেই ধারাবাহিকতা চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও অব্যাহত আছে। এই অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ-সহায়তা এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়েরে চেয়ে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

শেয়ার করুন

করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার

করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার

খামারটি ২০১০ সালে জার্মানিতে হিমায়িত ৬৯টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে রপ্তানির খাতা খোলে। পরে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে জাপানে ১ হাজার ৫০৭টি কুমিরের চামড়া রপ্তানি করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত এক বছরে কুমিরের চামড়ার দাম কমে যায়। ফলে রপ্তানি উপযোগী প্রায় ৫০০ চামড়া পড়ে আছে।

দেশে কুমির চাষ শুরু করে আলোড়ন তোলা খামারটি এখন সংকটের মুখোমুখি। ঋণের বোঝা আর ব্যবস্থাপনা জটিলতা নিয়ে ময়মনসিংহের সেই খামারটি এখন রীতিমতো ধুঁকছে। অন্যদিকে বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজার সংকোচন ঘটেছে। এতে গত এক বছর ধরে রপ্তানির অপেক্ষায় পড়ে আছে অন্তত ৫০০ কুমিরের চামড়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে কুমিরের চামড়া, মাংস, হাড় ও দাঁতের চাহিদা ব্যাপক। প্রতিটি কুমিরের চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে সেখানে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে বাজার বন্ধ থাকায় গত এক বছরে চামড়া রপ্তানি হয়নি।

ভালুকা উপজেলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে উথুয়া ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছে কুমির। ২০০৪ সালে ১৫ একর জায়গায় মাত্র ৭৫টি কুমির দিয়ে খামারটির যাত্রা শুরু হয়। এরই মধ্যে পাঁচবার কুমিরের চামড়া রপ্তানি করে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করেছে খামারটি।

সেখানে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি কুমির রয়েছে। এর মধ্যে প্রজননক্ষম কুমির ১২০টি।

কুমিরের খামার গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। যা সাধারণ ব্যবসায়ীর পক্ষে সম্ভব হয় না। তারপরও ভ্রমণপিপাসু মেজবাহুল হক ও মুশতাক আহমেদ উদ্যোক্তা হয়ে বাংলাদেশে কুমির চাষের স্বপ্ন দেখেন ও বাস্তবায়ন করেন।

খামারটি প্রতিষ্ঠার শুরুতে ৩৬ শতাংশ শেয়ার ছিল মেজবাহুল হকের। আর ১৫ শতাংশ শেয়ার ছিল মুশতাক আহমেদের। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ প্রকল্পের ঋণ নেয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শেয়ার ছিল তখন ৪৯ শতাংশ।

করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার

খামারটি ২০১০ সালে জার্মানিতে হিমায়িত ৬৯টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে রপ্তানির খাতা খোলে। পরে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে জাপানে ১ হাজার ৫০৭টি কুমিরের চামড়া রপ্তানি করা হয়। তখন প্রতিটি চামড়ার মূল্য ধরা হয় ৫০০ ডলার করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত এক বছরে কুমিরের চামড়ার দাম কমে যায়। ফলে রপ্তানি উপযোগী প্রায় ৫০০ চামড়া পড়ে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতি বছর খামারটি থেকে কুমিরের ১ হাজার চামড়াসহ মাংস রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।

খামার সূত্রে জানা যায়, কুমিরের খাবার, বাচ্চা প্রজনন ও পরিচর্যার কাজে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন পড়ায় কার্যত ভালুকার খামারটি সংকটে পড়ে। ২০১২ সালে খামারের শেয়ার ছাড়তে বাধ্য হন মূল উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদ। মালিকানায় চলে আসেন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার।

২০১৩ সালের দিকে খামারের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর রেপটাইলস ফার্মের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ বের করে নেন পিকে হালদার, যা এখন পর্যন্ত শোধ হয়নি। আর্থিক খাতের আলোচিত এই ঋণখেলাপি পালিয়েছেন বিদেশে। ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব সোমেরও হদিস নেই। সব মিলিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে খামারটির কার্যক্রম।


করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার

প্রতিকূলতা না কাটলেও খামারে কুমির চাষ অব্যাহত রয়েছে।

খামারটির ব্যবস্থাপক ডা. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ নিউজবাংলাকে জানান, ২০০৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে ১৫টি পুরুষ কুমিরসহ ৭৫টি কুমির এনে চাষ শুরু হয়। প্রথম দিকে কুমির বাঁচিয়ে রাখা, ডিম পাড়ানো, ডিম সংরক্ষণ এবং বাচ্চা ফোটানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশয় দেখা দেয়। তবে অল্পদিনেই কুমিরগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে ওঠে।

খামারে থাকা কুমিরগুলো ৮ থেকে ১০ বছর বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে। বছরে একবার বর্ষাকালে গড়ে ৪৫ থেকে ৬০টি ডিম দেয় কুমির। এসব ডিমের ৮০ শতাংশ থেকে বাচ্চা পাওয়া যায়। কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ৮০ থেকে ৮৫ দিন লাগে।

ভালুকার খামারটিতে কুমিরগুলোর ডিম ফোটানোর জন্য অত্যাধুনিক ইনকিউবেটর রয়েছে। এ ছাড়া কুমিরের বাচ্চার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে হ্যাচারি ও পৃথক শেড। চামড়া প্রসেসিং জোন, চামড়া মজুত রাখার জন্য চিলিং রুম, ব্রিডার পুকুর রয়েছে এ খামারে।

করোনায় সংকটে সেই কুমির খামার

ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কুমিরের খামার করা ব্যয়বহুল ব্যবসা। বাণিজ্যিকভাকে কুমির চাষে কেউ যদি মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করেন তাহলে সফলতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ভালুকার কুমির খামার ময়মনসিংহের গর্ব। এই খামারটিতে পরিকল্পনামাফিক বিনিয়োগ করতে পারলে কুমির চাষে সফলতা কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা একেএম রুহুল আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে কুমির চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ শর্ত মেনে আবেদন করলে আমরা অনুমোদন দেব। এর জন্য প্রয়োজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। কারণ প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করতে হয় কুমিরের খামারে। তবে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।’

শেয়ার করুন

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

ঈদের পর দিন পুঁজিবাজারের লেনদেনের চিত্রে হাসি ফুটেছে বিনিয়োগকারীদের মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হলে খুবই ভালো। বর্তমানে যেভাবে পুঁজিবাজার পরিচালিত হচ্ছে তাতে কমিশনের উদ্যোগ অনেকটাই কার্যকর হচ্ছে। তবে ভালো পুঁজিবাজারের সঙ্গে যেন ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

পুঁজিবাজারে ‘পরিণত আচরণ’ নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে আশাবাদের মধ্যে ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন বাজার নিয়ে আস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার পুঁজিবাজারে লেনদেন ঈদের আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম হলেও এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা গত এক দশকেও দেখা যায়নি। ২০১১ সালের পর কোনো ঈদের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হলো এদিন।

রোববার ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

এ নিয়ে টানা ১০ কার্যদিবস পুঁজিবাজারে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলো।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা পুঁজিবাজারের আস্থার প্রতিফলন। আমরা দেখেছি, ২০১১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে যে লেনদেন হয়, তা গত ১০ বছরে দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আগে কখনও ঈদের আগে ক্রমাগত হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়নি। আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকের উত্থান থাকলেও হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়নি।’

গত বছরের শেষ দিকে বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বাজারে দেখা দেয় চাঙাভাব। সক্রিয় হতে শুরু করেন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া বহু বিনিয়োগকারী। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার চেষ্টাও চলছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা উত্থানের পর বিএসইসির একটি সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে বিনিয়োগকারীদের খুশি করলেও সেদিনের পর থেকেই কমতে থাকে বাজার।

মার্জিন ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আদেশ জারির পর থেকেই বাজার পড়তে থাকে। ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্ট থেকে কমতে কমতে একপর্যায়ে ৫ হাজার ১০০ পয়েন্টের মতো হয়ে যায়।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

সূচক কমার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা বন্ধ করে দেন। ফলে যে বাজারে টানা ১০ কার্যদিবস প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, সেখানে একপর্যায়ে ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে।

তবে লকডাউন শুরু হওযার আগে আগে বিএসইসি জানায়, মার্জিন ঋণের সুদহার বেঁধে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত চলতি বছর আর এটি কার্যকর হবে না। আবার আনুপাতিক হারে আগের চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ নেয়ার ব্যবস্থাও হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের পর গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর থেকে বাজারে দেখা দেয় ইতিবাচক মনোভাব। অথচ লকডাউনে লেনদেন বন্ধ থাকবে গুজবে এর আগে টানা কয়েক দিন বড় পতন হয়। এক দিনে সূচক পড়ে পৌনে ২০০ পয়েন্টের বেশি।

এবার ঈদের আগে আগেও পুঁজিবাজারে ছিল চাঙাভাব। অন্যান্য বছর বিনিয়োগকারীরা এই সময় শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেন। তবে এবার তা হয়নি। বিক্রির চাপ কম থাকায় শেয়ারের দাম বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা ব্যাংক, আর্থিক খাত, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দেখা দেয় চাঙাভাব।

ঈদের পর প্রথম কয়েক দিন সাধারণত শেয়ার কম কিনে বাজার পর্যবেক্ষণে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে কয়েক দিন বাড়ে না সূচক ও লেনদেন।

কিন্তু এবার ঈদের ছুটি শেষে বড় খাতগুলোর মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং প্রকৌশল নিয়েও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারও কিনছেন দ্রুতগতিতে। লকডাউনের কারণে লেনদেন হচ্ছে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এর মধ্যেই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলো, যদিও বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এখন ঈদের ছুটিতে।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম

বিএসইসির কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি এই আস্থা ধরে রাখুক। এবং কমিশনও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও কীভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখা যায় সে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হলে খুবই ভালো। বর্তমানে যেভাবে পুঁজিবাজার পরিচালিত হচ্ছে তাতে কমিশনের উদ্যোগ অনেকটাই কার্যকর হচ্ছে। তবে ভালো পুঁজিবাজারের সঙ্গে যেন ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

ঈদ শেষে লেনদেন খতিয়ান

২০১৬ সালে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস ৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৪৮০ কোটি টাকা। এবং ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ১৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৩১৪ কোটি টাকা।

২০১৭ সালে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস ৩১ আগস্ট লেনদেন হয়েছিল ৮৫২ কোটি টাকা। এবং ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ৪ সেপ্টেম্বর লেনদেন হয়েছিল ৬৬৭ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে ঈদের পর ১৮ জুন প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ৪৮৫ কোটি টাকা। আর পুঁজিবাজারে ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে ১২ জুন লেনদেন হয়েছিল ৪৫৭ কোটি টাকা।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন
গত ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর থেকেই পুঁজিবাজারে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে

২০১৯ সালে ঈদের পর ৯ জুন প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি টাকা। ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে ৩০ এপ্রিল লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি টাকা।

২০২০ সাল দেশের করোনা পরিস্থিতে ঈদুর ফিতরে বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারের লেনদেন। তবে চালু ছিল ঈদুর আজহার সময়। ২০২০ সালের ঈদুর আজহার আগের দিন সর্বশেষ কার্যদিবস ৩০ ‍জুলাই লেনদেন হয়েছিল ৫৮০ কোটি টাকা। আর ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস ৩ আগস্ট লেনদেন হয়েছিল ৬৭২ কোটি টাকা।

খাতওয়ারি লেনদেনে ফিরেছে আস্থা

এক দশক ধরেই ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রবণতা চলছে। এর মধ্যে গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের পর এই খাতের শেয়ারের দাম একেবারে তলানিতে নেমে আসে।

তখন কথা ছড়িয়েছিল যে, করোনায় ব্যাংকের মুনাফা কমে যাবে এবং লভ্যাংশ পাওয়া যাবে না। তবে বছর শেষে দেখা গেল করোনাকালে মুনাফা বেশি করার পর লভ্যাংশও বেশি দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

চলতি বছর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত যে ২৭টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ২৩টি কোম্পানি ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা কেবল নগদে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি আছে বোনাস শেয়ার।

চলতি বছর প্রথম তিন মাসের আয়ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যে ২০টি ব্যাংক প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ১৫টিই আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি আয় করেছে। একটি ব্যাংক প্রায় তিন গুণ, একটি দেড় গুণ, একটি দ্বিগুণ এবং আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি আয় করেছে।

ঈদের পর এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেনে নতুন স্বপ্ন

একই পরিস্থিতি বস্ত্র খাতে। করোনার প্রাদুর্ভাবে এই খাতেও আয় ভালো হবে না ভেবে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অভিহিত মূল্যের আশেপাশে বা তার চেয়ে নেমে গেছে।

প্রান্তিক প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, করোনাকালে এবার গত বছরের চেয়ে বেশি আয় করছে অনেক কোম্পানি। তবে এটাও ঠিক যে, এই খাতেই লোকসানি কোম্পানি অনেক।

ঘুমিয়ে থাকা বস্ত্র খাতও ঈদের আগে হঠাৎ একদিন লাফ দিয়ে এরপর দুই দিন স্থিতিশীল থেকে আবার লাফ দেয়।

ঈদের পর প্রথম লেনদেনে সেই আস্থা ধরে রেখে আবারও উত্থানে ফিরেছে ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের।

লকডাউনে যেভাবে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

লকডাউনের শুরুতে আতঙ্ক কাজ করলেও প্রায় এক মাসের লকডাউনে স্বস্তিতে ছিল পুঁজিবাজার। ৫ মে লকডাইন শুরু হওয়ার আগের দিন এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচকের পতন হলেও লকডাউন শুরু হওয়ার পর সূচক বেড়েছে। এদিন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বাড়ে ৮৮ পয়েন্ট। ৬ এপ্রিল বাড়ে আরও ১০৩ পয়েন্ট।

৭ এপ্রিল বাড়ে ৫৫ পয়েন্ট।

এদিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল ও ৯ এপ্রিল পর্যায়ক্রমে ৮২ পয়েন্ট ও ৯০ পয়ন্টে কমে আসে সূচক।

কিন্তু কেন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে সেটি ব্যাখ্যা আসার পর অনেকটা স্থিতিশীল হয় ১১ এপ্রিল থেকে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির পর লেনদেনে সূচক বাড়ে ৯০ পয়েন্ট। তারপর টানা ১০ কার্যদিবস ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত উত্থান ছিল সূচকের।

দুই সপ্তাহ উত্থান শেষে ২৬ এপ্রিল এক দিন বেশ বড় দরপতনই দেখে পুঁজিবাজার। সেদিন সূচক হারায় ৬৩ পয়েন্ট।

এরপর আবার তিন কার্যদিবস যথাক্রমে ৩৯, ১৮ ও ৪১ পয়েন্ট বাড়ার পর এক দিন সূচক কমে ছয় পয়েন্ট।

এরপর দুই-এক দিন উঠানামা হলেও ঈদের আগে টানা বেড়েছে সূচক।

৪ মে থেকে চার কার্যদিবসে যথাক্রমে ২৪, ৫৩, ১৮, ৩৯, ৭৯ ও ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ঈদের ছুটিতে যায় পুঁজিবাজার।

লকডাউনের এ সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে পাঁচ গুণ। লকডাউন শুরু হওয়ার পর ৫ এপ্রিল পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ২৩৬ কোটি টাকা। ঈদে পুঁজিবাজার বন্ধ হওয়ার আগে ১২ মে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এই সময়ে টানা ৯ দিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে।

শেয়ার করুন

২২ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রেমিট্যান্স

২২ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় রেমিট্যান্স

রোজার ঈদের আগে চলতি মে মাসের ১২ দিনে (১-১২ মে) ১২২ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে কখনোই এত কম সময়ে এর বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

চলতি অর্থবছর শেষ হতে আরও দেড় মাস বাকি। এরই মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ২২ বিলিয়ন (২ হাজার ২০০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের আশা, অর্থবছর শেষে এবার রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

রোববার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সের অঙ্ক বাড়ছে। ঈদের আগে ১২ দিনেই ১২২ কোটি ডলারের বেশি দেশে এসেছে।

ঈদের পরও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত ছিল। রোজার ঈদের আগে তা আরও বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, রোজার ঈদের আগে চলতি মে মাসের ১২ দিনে (১-১২ মে) ১২২ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে কখনোই এত কম সময়ে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

তার আগে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২ হাজার ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের (২০ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

সব মিলিয়ে এই অর্থবছরের ১০ মাস ১২ দিনে (২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১২ মে) ২ হাজার ১৮৯ কোটি (প্রায় ২২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

গত এপ্রিল মাসে ২০৬ কোটি ৭০ লাখ (২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮৯ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ (২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল এক বছরে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যেও বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন প্রবাসীরা। এই কঠিন সময়েও আমাদের অর্থনীতি যে শক্ত অবস্থায় আছে তাতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে এই রেমিট্যান্স। সেজন্য আমি আবারও আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

‘সব মিলিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে’, বলেন অর্থমন্ত্রী।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে। ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

এই বছরের মার্চ মাসে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের মার্চের চেয়ে ৫০ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার এসেছিল।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই অর্থবছরের প্রথম মাস গত বছরের জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক মাসের হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। মহামারির আঁচ বিশ্বের অর্থনীতিতে লাগার পর গত বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স কমলেও এরপর আবার বেড়েছে।

গত আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছিল ২১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে আসে ২০৫ কোটি ডলার।

এ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে ১৭৮ কোটি ডলারে নেমে আসে।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ। তবে দেখা গেছে, পাশের দেশ ভারতে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা ১ কোটির বেশি বাংলাদেশির পাঠানো এই অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

রিজার্ভ ৪৪.৫ বিলিয়ন ডলার

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। কিন্তু গত ৪ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

গত কয়েক দিনে তা আবার বেড়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে।

রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

শেয়ার করুন

করোনার উৎপত্তি নিয়ে বারকাতের তত্ত্ব

করোনার উৎপত্তি নিয়ে বারকাতের তত্ত্ব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত। ফাইল ছবি

এই অর্থনীতিবিদের দাবি, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাই মূলত চলমান অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনা মহামারির জন্য দায়ী। আর এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপত্তি বা উদ্ভব হয়েছে প্রকৃতিকে অতিশোষণ এবং অন্যায্য-অন্যায় বিশ্বায়নের কারণে।

দেশি-বিদেশি অনেকেই অনেকভাবে করোনাভাইরাসের উৎস খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তাদের সেসব বিশ্লেষণে স্থান পাচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত নানা দিক। এবার করোনার উৎপত্তির নেপথ্যে অর্থনৈতিক যোগসূত্র পাওয়ার তত্ত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত।

এই অর্থনীতিবিদের দাবি, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাই মূলত চলমান অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনা মহামারির জন্য দায়ী। আর এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎপত্তি বা উদ্ভব হয়েছে প্রকৃতিকে অতিশোষণ এবং অন্যায্য-অন্যায় বিশ্বায়নের কারণে।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে নীতিগত বিষয়াদি ইস্যুতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে গত ৯ এপ্রিল বাজেট প্রস্তাবের সূচনা বক্তব্যে ড. বারকাত এই নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, যা সেদিন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

নিজের করোনা তত্ত্ব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আবুল বারকাত বলেন, বিশ্ব এখন একই সঙ্গে দুই মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্রথম মহাবিপর্যয় হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা। আর দ্বিতীয় মহাবিপর্যয় হলো করোনা উদ্ভূত মহামারি। তবে চলমান অর্থনৈতিক যে মহামন্দার কথা বলা হচ্ছে, তার সব কিছুর পেছনেই করোনাকেই দায়ী করা হচ্ছে, যা একেবারে সঠিক নয়। এর মূল কারণও নয়।

তিনি দাবি করেন, এর মূল কারণ হচ্ছে রেন্টসিকার-পরজীবী-লুটেরা-জোম্বি করপোরেশন-স্বজনতুষ্টিবাদী মুক্তবাজার পুঁজিবাদ। এটি এমনই এক সিস্টেম যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চক্রের বিধান অনুযায়ী প্রতি ৩০-৪০ বছর পরপর পুঁজিবাদী অর্থনীতি সিস্টেমে মহামন্দা (গ্রেট ডিপ্রেশন, গ্রেট স্লোডাউন) ক্রাইসিস অবশ্যম্ভাবী। আর এ সূত্র অনুয়ায়ী সেটা ঘটার কথা ২০১৯-২০ সালের দিকেই। সেটিই ঘটেছে বিশ্বব্যপী।

আবুল বারকাত বলেন, কিন্তু যে ঘটনা ইতিহাসে কখনও একই সঙ্গে ঘটেনি- তা ঘটেছে এবার। তা হলো একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা আর অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণজনিত মহামারি; যার শেষ গন্তব্য জানা নেই; যার শেষ অভিঘাতও কারও জানা নেই। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশই এখন ‘অর্থনৈতিক-সামাজিক-শিক্ষাগত-স্বাস্থ্যগত-রাজনৈতিক’ এই বহুমুখী মহাবিপর্যয়কর অবস্থায় ‘মহামন্দা রোগে’ আক্রান্ত, যা পৃথিবীর ইতিহাসে এবারই প্রথম।

এই তত্ত্বকে ভিত্তি ধরে অর্থনীতিবিদ ড. বারকাত বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বাজেটের প্রসঙ্গ সামনে আনেন।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন রাখেন এ ধরনের অবস্থায় একই সঙ্গে সংঘটিত অর্থনীতির কাঠামোগত বিপর্যয় বা মহামন্দা এবং করোনার মহাবিপর্যয় থেকে মুক্ত হয়ে আলোকিত মানুষ সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন ‘শোভন সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র বিনির্মাণে’ জাতীয় বাজেটটি কেমন হবে বা হওয়া উচিত? অবশ্য এ প্রশ্নের জবাবও তিনি দিয়েছেন।

এই অর্থনীতিবিদ জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশের অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্র-সরকার সব কিছুকেই সর্বপ্রথম করোনার আগের (প্রাক-অসুস্থ) অবস্থায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজেটপ্রণেতাদের প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হবে যে, ২০২১ সালের এই মাসে আমরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের অবস্থায় নেই। কারণ এই সময়ের অর্থনীতিতে, সমাজে, মানুষের সাহস-হতাশায়, রাষ্ট্রে-সরকারে- সর্বত্র যথেষ্ট মাত্রায় পরিবর্তন হয়েছে।

অবশ্য এ স্বীকৃতিতেও যে খুব বেশি কিছু যাবে-আসবে তা নয়। তবে এটা হবে নির্মোহ সত্য স্বীকার করার মতো মুক্তি। তার দাবি, এ স্বীকৃতিতেও খুব যায়-আসে না, কারণ করোনার পূর্বাবস্থাও সুখকর ছিল না।

বারকাত জানান, সেই সময়টি ছিল রেন্টসিকার-দুর্বৃত্ত-লুটেরা-পরজীবী নিয়ন্ত্রিত মুক্ত বাজার পুঁজিবাদের অর্থনীতির, যা মুক্তও নয়, দরিদ্রবান্ধবও নয়। সেখানে আয় বৈষম্য, ধনসম্পদ বৈষম্য, শিক্ষা বৈষম্য ও স্বাস্থ্য বৈষম্য ছিল ক্রমবর্ধমান।

এ পরিস্থিতিতে কেমন বাজেট হওয়া উচিত তার সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রীকেই নেয়ার পরামর্শ রাখেন ড. বারকাত।

তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর বাজেট বৈষম্যহীন আলোকিত মানুষ সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে করবেন, নাকি মুক্তবাজার আর করপোরেট-স্বার্থীয় সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রকদের বিশ্বায়নের হাতে ছেড়ে দেবেন- এ সিদ্ধান্তটা নিতে হবে।

‘অন্যথায় আমরা গতানুগতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাব। এতে জিডিপি বাড়লেও বাড়তে পারে; মাথপিছু আয় বাড়লেও বাড়তে পারে। কিন্তু বৈষম্য-অসমতা নিরসন হবে না; হবে না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অভীষ্ট বাস্তবায়ন’, বলেন আবুল বারকাত।

শেয়ার করুন

রূপালী ব্যাংক কি লভ্যাংশ দিতে পারবে

রূপালী ব্যাংক কি লভ্যাংশ দিতে পারবে

বোর্ড সভা ঘোষণার আগে আগে রূপালী ব্যাংকের দাম বৃদ্ধি লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনার কারণে কি না- এমন প্রশ্নে ব্যাংকটির একজন উপমহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেব। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনেই এ বছর লভ্যাংশ দেয়া যাবে।’ব্যাংকটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শওকত জাহান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে জানা যাবে।’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিতে পারবে কি না সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে এই প্রশ্ন উঠেছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বৈঠক করার আগে ব্যাংকটির শেয়ার দরে হঠাৎ উল্লম্ফনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

গত ছয় কার্যদিবসে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২২ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা ৬০ পয়সা। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

এর মধ্যে একদিন দাম কমেছে। আর পাঁচ দিন বেড়েছে।

ব্যাংকটির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছেন, তাদের লভ্যাংশ বিতরণে বাধা নেই। যদিও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না। বলেন, এটি পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য ব্যাংকটি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের লভ্যাংশের সেই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনা সংকটের মধ্যে ব্যাংকের তারল্য প্রবাহ ও মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী রাখতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাদে বাংকগুলা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ হবে বোনাস, ১৫ শতাংশ হবে নগদ।

এভাবে কোনো ব্যাংককে সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে ১২ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ আর কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার সুযোগ দেয়া হয়।

পরে ১৬ মার্চ আরেক আদেশে লভ্যাংশের সীমা কিছুটা বাড়িয়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাদে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ লভ্যাংশের সীমা ৩৫ শতাংশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১০ দশমিক ৬২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ হবে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

এই প্রজ্ঞাপন আসার পর তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত পর্ষদ বৈঠক করেছে ২৭টি। এর মধ্যে কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

আর সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। তবে তাদের আর্থিক সক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যূনতম সীমার চেয়ে ভালো ছিল। কারণ তারা আড়াই শতাংশ স্টক লভ্যাংশের পাশাপাশি সমান সংখ্যক নগদ লভ্যাংশও দিয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন কত, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আর পরিচালনা পর্ষদও এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা আহ্বান করেনি।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দিয়ে আদেশ জারির পর কয়েকটি অনলাইন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় যে, এবারও রূপালী ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এরপর ব্যাংকটির শেয়ারদর কমে যেতে থাকে।

গত ১৭ জানুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৩১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ৪ মে দাম দাঁড়ায় ২২ টাকা ১০ পয়সা। কিন্তু পরদিন থেকে দেখা দেয় উল্লম্ফন।

দুই দিনেই দাম বাড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর এক দিন ৫০ পয়সা দাম কমলেও পরের দুই দিন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে যায় দাম।

পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর একদিন বাড়তে পারবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। ১১ ও ১২ মে দুই দিন এই সর্বোচ্চ পরিমাণে দাম বাড়ার পর বিক্রেতাও ছিল না।

রূপালীর শেয়ার দাম ২৯ টাকা ৩০ পয়সা দাম নিয়ে শুরু হয় ঈদের ছুটি। তিন দিন পর রোববার এক পর্যায়ে দাম কিছুটা কমে ২৮ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু শেষ বেলায় দাম আবার বেড়ে হয় ২৯ টাকা ৩০ পয়সা।

বোর্ড সভা ঘোষণার আগে আগে রূপালী ব্যাংকের দাম বৃদ্ধি লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনার কারণে কি না- এমন প্রশ্নে ব্যাংকটির একজন উপমহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেব। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনেই এ বছর লভ্যাংশ দেয়া যাবে।’

তার এই বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাংকটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শওকত জাহান খান অবশ্য মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে জানা যাবে।’

২০২০ সালের ২৮ জুন লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করেছিল রূপালী ব্যাংক।

গত ২৮ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের শেষ বৈঠক অনুযায়ী ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৫০ পয়সা। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তখন শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে রূপালীর খেলাপি ঋণের হার ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এসময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ৮২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৬৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

শেয়ার করুন

লকডাউনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে আগের সময়েই

লকডাউনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে আগের সময়েই

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঢাকায় একটি শাখা ও ঢাকার বাইরে প্রতি জেলায় সর্বোচ্চ একটি শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো খোলা রাখা যাবে।

আগামী ২৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে চলমান লকডাউনের সময়। এ সময়ে সীমিত পরিসরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঢাকায় একটি শাখা ও ঢাকার বাইরে প্রতি জেলায় সর্বোচ্চ একটি শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো খোলা রাখা যাবে।

সার্কুলারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, মেয়াদপূর্তিতে স্থায়ী আমানত নগরায়ন, ঋণের কিস্তি জমাসহ গ্রাহকদের জরুরি আর্থিকসেবা দেয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় জনবলের বিন্যাস ও উপস্থিতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে ঠিক করতে পারবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৪টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শেয়ার করুন