বিপণিবিতানে ভিড়, সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বিপণিবিতানে ভিড়, সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি রেখে ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’

লকডাউনের পঞ্চম দিনে শুক্রবার শপিংমল খোলার অনুমতি মিললেও শুরুতে ক্রেতা না পেয়ে হতাশ ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিকেল হতেই পাল্টে যায় চিত্র। বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার ভিড় হতে থাকে।

এমনিতেই কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে জনমানুষের ভিড় সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ হাজার ৪৬২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের।

সংক্রমণ বাড়ার এই সময়ে গণপরিবহন ও বিপণিবিতান খুলে দেয়ার কারণে সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধ মেনে চলার দিকে অনেকেই উদাসীন। সড়কেও বেড়েছে মানুষের সংখ্যা।

রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, গুলিস্তানের বিপণিবিতান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। গায়ে-গায়ে ঘেঁষে আছে মানুষ। ফুটপাতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। এ কারণে অনেক মার্কেটসংলগ্ন রাস্তায় যানজট দেখা দেয়।

News-Market-3

তবে করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

‘সরকারের এদিকে কোনো লক্ষ্য নেই। সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে বড় বিষয় স্বাস্থ্যবিধি পালন করা। কিন্তু সেই বিষয়ে যা যা করার তা করছে না সরকার।’

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি রেখে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’

শুক্রবার বিপণিবিতান খুলে দিলে নিউমার্কেট এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এর আগে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকার সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ৪ এপ্রিল। ১৮টি বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও শপিংমল বন্ধ থাকার কথা বলা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, গত চার দিন শপিং মল, দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকলেও অলিগলির সব দোকানপাটই খোলা ছিল। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি।

News-Market-1

বুধবার থেকে গণপরিবহন চলাচল উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মার্কেট খুলে দেয়ার কথা বলা হয়।

নিউমার্কেট এলাকায় কেনাকাটা করতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এতে বলা হয়, ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চালের দাম না কমার আভাস মিলমালিকদের

চালের দাম না কমার আভাস মিলমালিকদের

কুষ্টিয়ার খাজানগরের একটি রাইস মিলে চাল ভরানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুষ্টিয়া চালকলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ‘এবার ধান নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা প্রবণতা হয়েছে কম দামে বেচবেন না। গত বছর তারা ভালো ধানের দাম মণে ১৪০০ টাকাও পেয়েছেন।’

ধান কাটা শুরু হওয়ার পর কয়েক দিন দাম কিছুটা কম হলেও আবার বেড়ে গেছে ধানের দাম। এ কারণে চালের দাম খুব একটা কমবে না বলে আভাস দিয়েছেন কুষ্টিয়ার চালকলমালিকরা।

কুষ্টিয়ার চালকলগুলোর গেটে সরু মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫১ টাকা কেজিতে। শহরের খুচরা বাজারে সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। নতুন ধান ওঠায় এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের ৭০ ভাগ মিল চালু হয়েছে। বন্ধ মিল চালু করার পর সবাই একযোগে ধান কিনতে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি মিলমালিকদের।

কুষ্টিয়ার খাজানগরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধানচালের মোকাম। মোকামটিতে প্রায় ৩৫০টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে বড় অটো রাইস মিল আছে ৫৫টি। বাকিগুলো হাসকিং মিল। ধান সংকটে গত মার্চ-এপ্রিলে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সব মিলের কার্যক্রম। এক মাস বন্ধ থাকার পর নতুন ধানে এরই মধ্যে ৭০ ভাগ চালকল চালু হয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়া চালকলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান।

কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার মিলে বস্তাবন্দি চাল

সরেজমিনে দেখা যায়, খাজানগর মোকামে আবার বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে অনেক মিলেই।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে খাজানগর মোকাম থেকে প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক চাল যাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।’

ফ্রেশ এগ্রো নামের একটি অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক মো. ওমর ফারুক। একই সঙ্গে তিনি জেলা মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার মিল চালু হলো দুই মাস পর। মিলগেটে এখন ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ টাকা কেজি দরে।’

তিনি বলেন, ‘এবার প্রথম থেকেই ধানের দাম বেশি। আটাশ ধান কিনেছি ১১০০ টাকা মণ। মিনিকেট পড়ছে ১১৩০ থেকে ১১৪০ টাকা মণ।’

কুষ্টিয়া চালকলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ‘এবার ধান নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা প্রবণতা হয়েছে, কম দামে বেচবেন না। গত বছর তারা ভালো ধানের দাম মণে ১৪০০ টাকাও পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে ১১৬০ টাকা আর উত্তরাঞ্চল থেকে ১১৪০ টাকা মণ মিনিকেট ধান কিনতে হচ্ছে।’

ফোর স্টার রাইস মিলের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, বন্ধ মিল চালু করতে মালিকরা একযোগে ধান কিনছেন। কিন্তু কৃষকরা ধান বিক্রির ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। প্রয়োজন মেটানোর জন্য অল্প করে ধান বিক্রি করছেন তারা।

কুষ্টিয়া সদরের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কেরু মণ্ডল শনিবার স্থানীয় উজানগ্রাম হাটে ধান বিক্রি করেছেন। তিনি একাশি জাতের ধান বাজারে ১০৭০ টাকা মণ বিক্রি করেছেন।

কেরু মণ্ডল জানান, বাজারে মিনিকেট ও আটাশ জাতের ধান ১১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ধান কাটা চলছে। এখনও বিক্রি শুরু করিনি। ভালোমতো শুকিয়ে দেখেশুনে বিক্রি করলে দাম পাওয়া যায়।’

ধানের বাজার এবার ভালো চলছে বলেও জানান তিনি।

ফোর স্টার রাইস মিলের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের দাম বেশি থাকায় কমছে না চালের দামও। খাজানগরে অটোমেটিক মিলের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৫৫০ থেকে ২৬০০ টাকায়।’

তিনি জানান, হাসকিং মিলের মিনিকেট চালের ৪০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। হাসকিং মিলের চালও কালার সর্টার মেশিন দিয়ে পলিশ করে এক নম্বর হিসেবে বিক্রি করা হয়।

চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না জানান আরও কয়েকজন মিলমালিক।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আরিফ বলেন, ‘পুরাতন মিনিকেট চাল ৬২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন আসা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকা কেজিতে। ভাত ভালো হয় না বলে এখনও নতুন চালের বিক্রি বাড়েনি।

একই রকম দাম জানিয়েছেন বাজারের অন্য বিক্রেতারাও।

এবার সরকারিভাবে সংগ্রহ করা ধানচালের দামও বাড়ানো হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম তাহসিনুল হক বলেন, ‘এবার মিলমালিকদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি চাল কিনবে সরকার। গতবার এই দর ছিল ৩৬ টাকা।’

তিনি জানান, এই দামে খুশি হয়েছেন মিলমালিকরা। জেলায় মোট সিদ্ধ চাল কেনা হবে ৩৪ হাজার ৪৪৬ টন। আর ২৭ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৯৭৭ টন ধান কেনা হবে। গত বছর ধানের দাম ছিল ২৬ টাকা কেজি।

এসএম তাহসিনুল হক বলেন, ‘এখনও বাজারে ধানের দাম বেশি। পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হলে দাম কমে আসবে। তখন কৃষকদের কাছ থেকে ১০৮০ টাকা মণে ধান কেনা হবে।

তিনি বলেন, ‘ধান ও চালের বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে সে বিষয়ে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

কুষ্টিয়া জেলা বাজার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কোথা থেকে কত করে ধান কিনছেন মিলমালিকরা আর চাল কী দামে বিক্রি করছেন তা মনিটরিং করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মিলগুলো উৎপাদনে গেলেও নতুন চাল বিক্রি বাড়েনি। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বা মুনাফা বাড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

করোনা: এবারও ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ

করোনা: এবারও ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ

দেশে করোনা সংকট মোকাবিলায় জরুরি চাহিদা মেটাতে থোক বরাদ্দ থেকে অর্থের জোগান দেয়া হবে। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার শুরুতে গত বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছিল স্বাস্থ্য খাতের জন্য। এবারও তা রাখা হচ্ছে মূলত টিকা কেনার জন্যে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ থাকছে। করোনার সংকট মোকাবিলায় যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটাতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে নিয়মিত যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়, এই বরাদ্দ তার বাইরে। মূলত করোনার টিকা কিনতে বাড়তি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি সুরক্ষাসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও কেনা যাবে এ তহবিল থকে।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রক্ষিতে এটি মোকাবিলায় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ বাবদ রাখা হয়েছিল। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এবং তা আগের চেয়ে ভয়াবহ। এটি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে ১৬ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী লকডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা সহসাই যাচ্ছে না এবং তৃতীয় ঢেউ যে আসবে না, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। ফলে করোনা নিয়েই থাকতে হবে। কিন্তু এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। করোনা প্রতিরোধে টিকার কার্যক্রমসহ চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বেশ কিছু টাকা ফেরত যায়, খরচ করার অপরাগতার জন্য। স্বাস্থ্য বিভাগে উপযুক্ত, যোগ্য মানুষের অভাব রয়েছে। এ খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। কমাতে হবে দুর্নীতি। তা হলে সক্ষমতা বাড়বে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ জন্য ‘বাড়তি’ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে থোক বরাদ্দ থেকে মূলত টিকা কেনার জন্য ব্যয় করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের ১২ কোটি জনগণকে করোনার টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। ফলে সবাইকে টিকা দেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকার পরবর্তী চালান দিতে ভারতের বিলম্বের কারণে বাংলাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার বিষয়ে গত ডিসেম্বরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়। সিরাম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে এ টিকা সরবরাহ করছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ডোজ ৫ ডলার করে সিরামের প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার কথা বাংলাদেশকে। গত ২৫ জানুয়ারি ৫০ লাখ ডোজের প্রথম চালান দেশে এসেছে। এর বাইরে ভারত সরকার আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার দেয়।

চাহিদা অনুযায়ী টিকা তৈরি করতে না পারায় সিরামের পরের চালান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশে করেনার টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টিকা সংগ্রহের বিকল্প পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চীন ও রাশিয়ার উদ্ভাবিত টিকা আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে টাকার কোনো সমস্যা হবে না। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের নির্দিষ্ট সীমা দেয়া হলেও করোনায় সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়। প্রয়োজনে যা দরকার, তাই দেয়া হবে।

গত সপ্তাহে ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় যা কিছু করণীয়, তার সব কিছু সরকার করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী বাজেটে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই স্বাস্থ্য খাতের।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল -ফাইল ছবি

আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়

চলতি অর্থবছরে করোনা মোকাবিলায় থোক বরাদ্দের ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার খরচ করেছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর বড় একটি অংশ খরচ হয় সিরামের টিকা কেনায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তরা বলেছেন, অবশিষ্ট টাকা রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা কেনায় ব্যয় করা হবে। শিগগিরই এ টাকা ছাড় করা হবে।

চলতি অর্থবছরে অনুন্নয়ন এবং উন্নয়ন মিলে স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত গড়ে বরাদ্দের মাত্র ৩২ শতাংশ খরচ হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, টিকা কেনার প্রস্তুতি চলছে। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও ডাক্তার, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া করোনায় মৃত্যুজনিত কারণে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানী ভাতা দেয়া হবে।

এসব ব্যয় নির্বাহের ফলে অর্থবছর শেষে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে মত প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা।

গবেষণায় বরাদ্দের এক টাকাও খরচ হয়নি

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সমন্বিত একটি গবেষণা তহবিল গঠন করা হয়। এ তহবিলে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থবছরের দশ মাস পার হলেও গবেষণা কাজে এক টাকাও খরচ হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেছেন, গবেষাণায় কীভাবে টাকা খরচ করা হবে, কোথায় খরচ করা হবে– সে বিষয়ে আলদা নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এ নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত হ্ওয়ার পর তহবিলের টাকা ছাড় হবে।

এ তহবিলের অগ্রগতি নিয়ে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়।

অর্থমন্ত্রণালয় থেকে টাকা খরচ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিগগিরই এ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। তারপর প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কার্যকর হবে।

শেয়ার করুন

রপ্তানি কমেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

রপ্তানি কমেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কমেছে পণ্য রপ্তানি। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বন্দর নির্ভর। দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ এবং রপ্তানির ৯১ শতাংশই চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এ বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি কমছে, আমদানি বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে রপ্তানি কমেছে। করোনাভাইরাসের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়াতে এমন পরিস্থিতি বলে মনে করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। তবে বন্দরে পণ্য আমদানি বেড়েছে।

শিপিং লাইন অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার গেছে ৫৫ হাজার ৮৮৩ টিইইউ (টোয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) বা একক। মার্চ মাসে গেছে ৬০ হাজার ৮৫২ একক। এক মাসে পণ্যভর্তি কন্টেইনার রপ্তানি কমেছে চার হাজার ৯৬৯ একক।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল এপ্রিল মাসে। গতবছর এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি এবং রপ্তানি দুই খাতেই বড় ধরনের ধস নেমেছিল। পণ্য রপ্তানিতে অবস্থা বেশি খারাপ ছিল। এ বছরেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কেমন চলছে তার বড় একটি ধারণা পাওয়া যায় চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামার চিত্র দিয়ে। কারণ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ হয়, আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই এ পথে যায়।

তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ের আঘাত পোশাক খাত কাটিয়ে উঠলেও দ্বিতীয় ঢেউ আবারও ধাক্কা দিয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য পোশাক। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার বেশিরভাগ হচ্ছে পোশাক।

বিজিএমইএ চট্টগ্রামের সাবেক পরিচালক ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আতিক বলেন, ‘নিত্যদিন অর্ডার বাতিল হচ্ছে। নতুন অর্ডার আসছে না। সবমিলিয়ে আবারও বিপদে পোশাক খাত। এজন্য রপ্তানি কমে গেছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর

এদিকে মার্চের তুলনায় এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজও কম ভিড়েছে। মার্চে বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ভিড়েছে ১১৫টি, আর এপ্রিলে ভিড়েছে ১১১টি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রয়েছে। পরিবহন, যান্ত্রিক, মেরিন, নিরাপত্তা বিভাগের শতভাগ জনবল দিয়ে কাজ চলছে। পণ্য উঠানামায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্দর সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে। করোনার কারণে কাজে ধীরগতি হয়নি। মূলত উৎপাদন কমে যাওয়াতে রপ্তানি কমেছে।’

তবে রপ্তানি কমলেও মার্চের তুলনায় এপ্রিলে পণ্য আমদানি বেড়েছে। বন্দরে মার্চ মাসে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার এসেছে ১ লাখ ১৭ হাজার একক। এপ্রিলে এসেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ একক। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পণ্যভর্তি কন্টেইনার আসা বেড়েছে দেড় হাজার একক।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ফোরামের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামা স্বাভাবিক ছিল। লকডাউনের মধ্যে এপ্রিলেও স্বাভাবিক ছিল। ব্যবসায়ীরা বন্দরের কাজে সন্তুষ্ট।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অফিস ও আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ আছে। তবে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চলছে। এরপর ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনায় অতিথিশূন্য তারকা হোটেল

করোনায় অতিথিশূন্য তারকা হোটেল

পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা

ঢাকার চার ও পাঁচতারকা মানের বেশ কয়েকটি হোটেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ব্যবসা এখন ৮০ শতাংশ কমে গেছে।

করোনার কারণে দেশের পাঁচতারকা অভিজাত হোটেলগুলো অতিথিশূন্য হয়ে পড়েছে। শহরের ছোট-বড় আবাসিক হোটেলগুলোর সবগুলোতে খরা।

গত বছর মার্চ মাসের লকডাউনের পর থেকে একের পর এক বাতিল হয়েছে হোটেলের রুম ও অনুষ্ঠানের আগাম বুকিং। বিদেশি অতিথিদের বুকিং বাতিলের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনও বাতিল করা হয়েছে।

গত বছরের শেষের দিক থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও লকডাউনে আবার হোটেল ব্যবসায় ধস নেমেছে। ফ্লাইট বন্ধের কারণে বিদেশি অতিথি নেই। আগের বুকিং আদেশগুলোও বাতিল হয়ে গেছে একে একে। এ অবস্থায় এসব হোটেলের পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষের। কর্মী ছাঁটাইও হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) তথ্য মতে, দেশে এখন ১৭টি পাঁচতারকা হোটেলসহ তিন ও চারতারকাবিশিষ্ট মোট ৫০টি হোটেল আছে।

ঢাকার চার ও পাঁচতারকা মানের বেশ কয়েকটি হোটেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ব্যবসা এখন ৮০ শতাংশ কমে গেছে। তারা বলছেন, বাংলাদেশে পর্যটক এমনিতেই কম আসে। অতিথিদের বেশির ভাগই এনজিও কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী। কিন্তু করোনার কারণে সশরীরে না এসে ভার্চুয়ালি কাজ সেরে নিচ্ছেন তারা। তাই হোটেলগুলো এখন ফাঁকাই পড়ে থাকছে।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা

দেশি-বিদেশি অতিথি ছাড়াও এসব হোটেলের আয়ের একটি বড় উৎস ভেন্যু হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন। করোনা আতঙ্কে এসব প্রদর্শনীও বাতিল হয়েছে একের পর এক। আগামীতে কখন এগুলো শুরু হবে, তার ঠিক নেই। এরকম অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন হোটেল মালিকেরা।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা)-এর সাধারণ সম্পাদক মহাসিন হক হিমেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছরের মার্চে বিদেশি ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্দিন। শহরের ভেতর যেসব বিজনেস হোটেল আছে, সেগুলো গত এক বছরে ১০-২০ শতাংশ ব্যবসা করেছে। আর এখন ব্যবসা করছে ৫-১০ শতাংশ। স্বাভাবিক সময়ে এই মৌসুমে হোটেলগুলোতে ৮০ শতাংশ অতিথি থাকত।’

মহাসিন হক হিমেল নিজে চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের প্রধান।

তিনি আরও বলেন, ‘টুরিস্ট স্পটগুলো বন্ধ থাকায় এবং পাবলিক পরিবহন না চলায় কক্সবাজার, সিলেটসহ টুরিস্ট এলাকার হোটেলও বন্ধ হয়ে গেছে। করপোরেট অফিসগুলোর মিটিং, কনফারেন্স, একজিবিশন এখন হয় না। সব অফিস বিদেশিদের সঙ্গে জুম মিটিং করে।

‘হোটেলের আয় বলে আর কিছুই হয় না। অথচ এই পরিস্থিতিতেও কর্মচারীদের বেতনভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলসহ নানা ধরনের খরচ বহন করে যেতে হচ্ছে। এভাবে কত দিন চলতে পারব, আমরা জানি না।’

গত এক বছরে হোটেল ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার উপরে হবে বলে অনুমান করেন মহাসিন হক হিমেল। তিনি জানান, সরকারের কাছে বারবার প্রণোদনা চেয়েও তারা কিছু পাননি।

পাঁচতারা হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’-এর মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক শাহিদ উজ সাদিক বলেন, ‘গত বছর এই সময় আমাদের জন্য খারাপ ছিল। অক্টোবর থেকে এই বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আমাদের সময় ভালো গেছে। এখন আবার খারাপ যাচ্ছে। বাইরে থেকে গেস্ট আসা আপাতত বন্ধ আছে। আমরা চেষ্টা করছি লোকাল মার্কেট নিয়ে টিকে থাকতে। এখন কিছু লোকাল গেস্ট আছেন। হোটেলের ফুড কোর্ট, জিম, সুইমিংপুলসহ আমাদের সবই খোলা আছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর এক পাঁচতারকা হোটেল কর্মকর্তা বলেন, ‘এই করোনা মহামারিতে শুধু আমাদের হোটেলেই নয়, বেশ কিছু বড় হোটেলে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।’

তবে বিহার সাধারণ সম্পাদক মহাসিন হক হিমেল বলেন, চাকরি ছাঁটাইয়ের কথা তার জানা নেই। যেসব মালিক আর পেরে উঠছেন না, তারা কর্মীদের ছুটিতে পাঠাচ্ছেন বলে তারা জেনেছেন।

হোটেল আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
হোটেল আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচতারকা হোটেলগুলো সামান্য কিছু ব্যবসা পেলেও অন্যান্য শহরের তারকা হোটেলগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। বগুড়ায় অবস্থিত পাঁচতারকা মানের হোটেল ‘মম ইন’-এর ভারপ্রাপ্ত হেড অব সেলস খন্দকার আল মোছাব্বির অনেকটা হতাশার সুরে বলেন, ‘এই লকডাউনে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত বাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমাদের হোটেল এক প্রকার ফাঁকা পড়ে আছে। ৫ শতাংশ অতিথি আসে এখন। বাকি ফাঁকাই পড়ে থাকে।’

শেয়ার করুন

আন্তব্যাংক চেক নিষ্পত্তিতে সময় বাড়ল

আন্তব্যাংক চেক নিষ্পত্তিতে সময় বাড়ল

বিএসিএইচ এর মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার বেশি) এবং রেগুলার ভ্যালু চেকের (৫ লাখ টাকার কম) নিকাশ ব্যবস্থা চালু থাকবে। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকার বেশি অংকের চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য সকাল সা‌ড়ে ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এসব চেক দুপুর ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। আর যেকোনো রেগুলার চেক দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউজে পাঠাতে হবে। এসব চেক বেলা আড়াইটার ম‌ধ্যে নিষ্পত্তি হ‌বে।

চলমান বিধিনিষেধেনিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলা‌দেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিধিনিষেধের সময় নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস, স্বয়ংক্রিয় চেক নিকাশ ঘর (বিএসিএইচ) এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন)- এই তিন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।

এসব সেবার মাধ্যমে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বা অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে অর্থ পরিশোধ ও স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বিএসিএইচ এর মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার বেশি) এবং রেগুলার ভ্যালু চেকের (৫ লাখ টাকার কম) নিকাশ ব্যবস্থা চালু থাকবে। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকার বেশি অংকের চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য সকাল সা‌ড়ে ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এসব চেক দুপুর ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।

আর যেকোনো রেগুলার চেক দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউজে পাঠাতে হবে। এসব চেক বেলা আড়াইটার ম‌ধ্যে নিষ্পত্তি হ‌বে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের দিনগুলোতে এই সময়ে চেক ক্লিয়ারিং করবে বিএসিএইচ।

আরটিজিএস-এর লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সেবা আগের নিয়মে চলবে।

শেয়ার করুন

এবার নতুন শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে লাগাম

এবার নতুন শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে লাগাম

নতুন কোম্পানির শেয়ারে লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার দর ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানি আর আগে থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির সরোর্চ্চ সীমা বা সার্কিট ব্রেকারে আর কোনো পার্থক্য থাকছে না।

এখন থেকে সব কোম্পানির শেয়ার দরই সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে এক দিনে।

দেড় বছর ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানির শেয়ার প্রথম দুই কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কমে বাড়তে পারত। তবে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দুই কার্যদিবসে এই পরিমাণ বাড়ার কারণে পরে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ কারণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে কোনো নতুন কোম্পানির শেয়ার দর আর এত বেশি বাড়তে পারবে না। অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রে যে সার্কিট ব্রেকার থাকে, নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রেও সেই পরিমাণ সার্কিট ব্রেকারই থাকবে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল –ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ নভেম্বর ২০১৯ সালে কোম্পানির শেয়ারে দরের ভিত্তিতে যে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি এখন নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার দুদিন ৫০ শতাংশ করে শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়। তৃতীয় দিন তা স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকারে যুক্ত হয়।

এতে অনেক কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এবং বিনিয়োগকারীরা শেয়ার দর বৃদ্ধিতে বিভ্রান্ত হয়ে বিনিয়োগ করেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে নতুন কোম্পানি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করার দিন থেকেই সার্বিক ব্রেকার অনুযায়ী শেয়ারের দর বাড়বে এবং কমবে।

এবার নতুন শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে লাগাম
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়

গত ১৪ নভেম্বর ২০১৯ সালের বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার দর ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে।

১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো ৫ শতাংশ এবং ৫০০০ টাকার উপরে কোম্পানির শেয়ার দরের কোম্পানিগুলো দিনে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার দর বাড়ার সুযোগ দেয়া হয়।

ওই আদেশেই নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম দুই কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দাম বাড়ার সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু সম্প্রতি তালিকাভুক্ত মীর আক্তার হোসেন কোম্পানির শেয়ারমূল্য প্রথম কার্যদিবসে ৫৪ টাকা থেকে বেয়ে হয়ে যায় ৮১ টাকা। পরের দিন তা উঠে যায় ১১৭ টাকায়। কিন্তু এরপর তা কমতে কমতে নামে ৫৬ টাকায়।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের দামও ৩১ টাকা দুই কার্যদিবসে ৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে এক পর্যায়ে তা ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু পরে নেমে আসে ৩৬ টাকায়।

তবে ৫০ শতাংশ দাম বাড়ার সীমা নির্ধারণের আগে আরও বেশি দাম বাড়ার ঘটনা ঘটেছে। কারণ, তখন এর আগে প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারের কোনো মূল্যসীমা থাকত না।

মূল্যসীমা না থাকায় প্রথম দিনে ১৬ গুণ অর্থাৎ ১৬০০ শতাংশ দাম বাড়ার ইতিহাসও আছে। ২০০৯ সালে ১০০ টাকায় তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফের দাম প্রথম দিনই এক হাজার ৬০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে অভিহিতমূল্য ১০ টাকা করা হয়। এখন শেয়ারের দর ৬০ টাকার ঘরে।

২০১৭ সালে ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত বিবিএস ক্যাবলের দামও প্রথম দিন ৭০ টাকার বেশি ছাড়িয়ে যায়। পরে তা ১০০ টাকার ঘরও পেরিয়ে যায়। এখন সেটির দাম ৫৪ টাকা।

নানা সময় দেখা যায়, নতুন শেয়ারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে কারসারি করা হয়। বিনিয়োগতারীরা শেয়ারের মৌলভিত্তি বিবেচনা না করে আরও বাড়বে ভেবে কিনে ফেলেন। আর এ কারণে পরে ক্ষতির মুখে পড়েন।

এ কারণে প্রথম দিন অফুরন্ত দাম বৃদ্ধির সুযোগ বাতিল করা হয়।

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সরাসরি ব্যাংকে

কুরিয়ারে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সরাসরি ব্যাংকে

গত কয়েক বছরে অনলাইন কেনাকাটা বাড়ায় ক্যাশ অন ডেলিভারি দেয়া কুরিয়ার সার্ভিসের সংখ্যাও বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বর্তমানে কুরিয়ার সেবা দেয়া সার্ভিসের নিজস্ব মাসুলসহ পণ্যমূল্য সংগ্রহ করে থাকে। এরপর মাসুল নিজের কাছে রেখে পণ্যমূল্য বিক্রেতাকে ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াই নগদে প্রদান করে। এর ফলে নানা ধরনের আর্থিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় এখন থেকে এসব লেনদেন ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।

ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা এখন থেকে বিক্রেতার হাতে হাতে দেয়া যাবে না। পাঠাতে হবে সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্টস সিস্টেমস বিভাগ।

ডাক বিভাগের লাইসেন্সধারী কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবারের মতো এ নীতিমালা করল বাংলাদেশ ব্যাংক। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, অনলাইন বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে ক্রেতার ক্রয়াদেশের বিপরীতে কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে পণ্য সরবরাহ করে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে। ডাক বিভাগের লাইসেন্স আছে এবং কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এমন কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নিয়ম মেনে পণ্য ডেলিভারি সংক্রান্ত লেনদেনের জন্য ব্যাংকে সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। নির্দিষ্ট ভাউচারের বিপরীতে সরবরাহ করা অর্থ এই হিসাব থেকে লেনদেন করা যাবে।

কুরিয়ার সার্ভিসের সেবার বিপরীতে মাসুল এবং বিক্রেতার পণ্যের মূল্য আলাদা করে জমা হবে। এরপর পণ্যের মূল ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে।

বর্তমানে কুরিয়ার সেবা দেয়া সার্ভিসের নিজস্ব মাসুলসহ পণ্যমূল্য সংগ্রহ করে থাকে। এরপর মাসুল নিজের কাছে রেখে পণ্যমূল্য বিক্রেতাকে ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াই নগদে প্রদান করে।

কুরিয়ারে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সরাসরি ব্যাংকে
সড়কে প্রায়ই চোখে পড়ে এই ধরনের ডেলিভারি ম্যানের চলাচল। তারা পণ্য বাসায় পৌঁছে দিয়ে টাকা এনে মার্চেন্টকে পৌঁছে দেন

এর ফলে নানা ধরনের আর্থিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় এখন থেকে এসব লেনদেন ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের পণ্য ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবস্থায় ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। পণ্যমূল্য সংগ্রহ করে তা বিক্রেতাকে দিচ্ছে। পাশাপাশি এক ব্যবসায়ী থেকে অন্য ব্যবসায়ীর কাছে মূল্য ঘোষিত পার্সেল বিতরণ ও কন্ডিশন বুকিং ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এধরনের লেনদেনের অর্থ কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে।

এখন থেকে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে এধরনের লেনদেন পরিচালনা এবং কুরিয়ারের লেনদেন একটি নীতি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য ‘কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মূল্য ঘোষিত পণ্য বা পার্সেল বিতরণ হতে উদ্ভূত নগদ অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন পদ্ধতি’ শীর্ষক নীতিমালা করা হলো।’

এতে বলা হয়েছে, সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা কন্ডিশন বুকিংয়ের বিপরীতে সংগৃহীত পণ্যমূল্য জমা, পণ্য পরিবহনের কুরিয়ার ফি, বিক্রেতার পক্ষে অর্থ গ্রহণ ও তাকে স্থানান্তর বাবদ সার্ভিস চার্জ এবং বিক্রেতার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

শুধুমাত্র ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের লাইসেন্সধারী এবং কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিএসএবি) সদস্য প্রতিষ্ঠানকে এ সেবা দেয়া যাবে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভাউচারের বিপরীতে ক্রেতার কাছ থেকে এধরনের অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। পণ্যের ঘোষিত মূল্যের ভাউচার সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেন্ট্রাল ডাটা সিস্টেমে দৈনিক ভিত্তিতে সংরক্ষণ করতে হবে।

কুরিয়ারে ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সরাসরি ব্যাংকে
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে ডেলিভারি ম্যান পণ্য পৌঁছে দিয়ে যে টাকা নিয়ে আসেন, তা মার্চেন্টের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দিতে হবে

পণ্য বিক্রেতার ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব না থাকলে বিক্রেতাদের প্রাপ্য অর্থের তালিকা ব্যাংকে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিক্রেতার পক্ষে নগদ অর্থ নিজেদের সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে পরিশোধ করতে পারবে।

তবে এ নগদ উত্তোলনের পরিমাণ কোনভাবেই একক পণ্যমূল্য বাবদ ৫ হাজার টাকার বেশি হবে না।

এ ধরনের লেনদেনের তথ্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে কোনো ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়লে সংশ্লিষট প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে ওই ব্যাংক। এছাড়া কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা থাকতে হবে। অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের উৎপত্তি হলে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তি করবে।

শেয়ার করুন