রোজা-লকডাউন: নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতি

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আসছে লকডাউন। মাছের বাজারে চলছে বেচাকেনা। ছবিটি মোহাম্মদপুরের টাউন হল থেকে রোববার তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

রোজা-লকডাউন: নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতি

মোহাম্মদপুরের টাউন হলের মুদি দোকানি মো. সুমন জানান, সামনে রোজা, তার ওপর লকডাউন। তাই গত দুইদিন ধরে ক্রেতা বেশি আসছে। তবে গত বছরের লকডাউনের মতো কেউ ৬ মাসের বাজার এক সঙ্গে করছে না। বেশিরভাগই এক মাসের বাজার করে নিচ্ছেন।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনের খবরের প্রভাব রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে পড়েনি। রোজা ও লকডাউন ঘিরে অধিকাংশ পণ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও অস্বাভাবিক নয়।

সারা দেশে লকডাউন হচ্ছে সোমবার এমন ঘোষণা আসে শনিবার দুপুরে। এর পরই মূলত বাজারে ক্রেতারা ভিড় শুরু করেন। তবে রোববার বাজার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

রাজধানী মোহাম্মদপুরের টাউন হলের মুদি দোকানি মো. সুমন নিউজবাংলাকে জানান, সামনে রোজা, তার ওপর লকডাউন। তাই গত দুইদিন ধরে ক্রেতা বেশি আসছে। তবে গত বছরের লকডাউনের মতো কেউ ৬ মাসের বাজার এক সঙ্গে করছে না। যার মাসে ২৫ কেজি চাল লাগে তিনি ৪০ কেজির বস্তা নিচ্ছেন। বেশিরভাগই এক মাসের বাজার করে নিচ্ছেন।

নিত্যপণ্যের দামের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেঁয়াজ, রসুন, চাল, পাউডার দুধ, ডালসহ সব নিত্যপণ্যে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আহামরি বাড়েনি।

সবজি বিক্রেতা মকবুল হোসেন জানান, কাঁচা বাজারে তেমন চাপ নেই। লকডাউনে কাঁচা বাজার খোলা থাকবে বলে চাপ কম। তবে শনিবার একটু চাপ ছিল।

মাছ বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে হুট করে বাজারে মানুষের চাপ বেড়ে যায়। লকডাউনের কথা শুনে সবাই বেশি বেশি মাছ কিনছে। আজও ভিড় আছে, তবে গতকালের চেয়ে কম।

মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে মাছের দাম বেড়েছে বলেও জানান সাইফুল।

মাংস বিক্রেতা জনি জানান, আজ স্বাভাবিক আছে মাংসের বাজার। দাম আগের মতোই রয়েছে।

মুরগি বিক্রেতা রেজাউল করিম বলেন, ‘শনিবার দুপুরে মুরগি কিনতে মানুষের ভিড় ছিল খুবই। আজ তেমন নেই। দাম অবশ্য আগের থেকে বাড়েনি।’

আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, আলু ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে ক্রেতার চাপ স্বাভাবিক রয়েছে।

সারা দেশে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার। রোববার লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। সোমবার থেকে কার্যকর হবে লকডাউন। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকবে গণপরিবহন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অবশেষে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ এনবিএলের

অবশেষে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ এনবিএলের

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিয়েছে এনবিএল।

অর্থবছর শেষ হওয়ার সাড়ে ছয় মাস শেষ হওয়ার দিন ২০২০ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা বিষয়ে বৈঠক করার কথা জানিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল।

আগামী ৩০ জুন এই সভা হবে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধনের ব্যাংকটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দু-একটি বহুজাতিক কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। আর তাদের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরের পরের কয়েক মাস পুঁজিবাজারে লেনদেনে গতি পায়।

নিয়ম অনুযায়ী জীবন বিমা ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভা করতে হয়।

তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ কর্মদিবস বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই ১২০ কর্মদিবস সাধারণত ৬ মাস হয়ে থাকে। আর এই সময়ের পুরোটাই নিয়েছে এনবিএল।

গত বছরও ব্যাংকটি ৩০ জুন লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভা করেছিল। সে সময় করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে পুঁজিবাজার ৬৬ দিন বন্ধ ছিল।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার।

ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিএল এর কোম্পানি সচিব কাইসার রাশিদ।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগের পরিচালন মুনাফাই আগের বছরের তুলনায় কমে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনবিএল। এই কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

আবার চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এবার পরিচালন মুনাফা কম হলেও চূড়ান্ত মুনাফা বেশি হয়েছে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই। এখন এনবিএলের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, সেটি আগেভাগে প্রকাশ করায় আইনি বাধা আছে। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পরেই সেটি প্রকাশ করা হবে।

তৃতীয় প্রান্তিকের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অবশ্য কম। সে সময় তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় ছিল ৬৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটি গত বছর পরিচালন মুনাফা করেছে ৯৮০ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৯৫০ কোটি টাকা।

তবে এই মুনাফা থেকে ঋণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ আর ৪০ শতাংশ কর পরিশোধের পর চূড়ান্ত মুনাফার ঘোষণা আসবে। কত টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়ে আগেভাগে কোনো তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠানই দেয় না।

২০১৯ সালে এনবিএল শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪১ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৫০ পয়সা দেখা হয় নগদে, আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পেয়েছেন প্রতি ২০টিতে আরও একটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সবচেয়ে পুরোনো ও বড় ব্যাংকগুলোর একটি হলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার মূল্য একেবারেই তলানিতে। প্রতিবছর লভ্যাংশ ঘোষণা করে, এমন কোম্পানির মধ্যে এত কম দামে আর কোনো শেয়ার বিক্রি হয় না।

বুধবার ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা করে। অর্থাৎ অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে ২৩ শতাংশ কমে আছে দাম।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক গতি পরিবর্তনের পরামর্শ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক গতি পরিবর্তনের পরামর্শ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের

বাংলাদেশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সাফল্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরবর্তী দশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের এখন গতি পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

করোনাভাইরাস উত্তর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের এখন গতিপথ পরিবর্তনের সময়, যার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যে বৈচিত্র্য আসবে এবং রপ্তানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

বুধবার প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং বিশ্বব্যাংক প্রণীত ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়গনস্টিক (সিপিএসডি)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পরামর্শ দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতগুলো আরও শক্তিশালী করা দরকার। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অর্থনীতির সম্ভাবনার বন্ধ দরজাও খুলবে। উন্নয়নশীল বিশ্বে যেখানে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল, বাংলাদেশের সেখানে ৭০ শতাংশ। ফলে একটি বিস্তৃত বেসরকারি খাত গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে দেশের আর্থিকখাতে নতুন দফার সংস্কার শুরু করতে হবে।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সাফল্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরবর্তী দশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের এখন গতি পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

‘বাংলাদেশকে এখন নতুন দফার সংস্কার শুরু করতে হবে। এই সংস্কার এজেন্ডার প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণ।’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অর্থনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে সুযোগগুলো কাজে লাগালে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আগামীর বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। বিনিয়োগ সম্ভাবনার এই খাতগুলো হচ্ছে: পরিবহন ও লজিস্টিকস, জ্বালানি, আর্থিক সেবা, হালকা প্রকৌশল, কৃষি বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে একটি ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা, বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে নিযুক্ত আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নারসহ আরও অনেকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য এবং সরকারের দূরদর্শী নীতির সহায়তায় রেমিট্যান্সের তেজি প্রবাহ বাংলাদেশের দৃঢ় ও প্রাণবন্ত প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, এমনকি অতিমারির সময়েও।

বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা (২০২১-৪১) অনুযায়ী সরকার ২০৩১ সাল নাগাদ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে সবার কর্মসংস্থান ও চরম দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিপিএসডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। পাশাপাশি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা থেকে বের হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ভার্চুয়াল সংলাপে দাবি করা হয়, এই প্রতিবেদনের ফলাফল বাংলাদেশ সরকারের সাথে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কের কৌশলগত উপাদান প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে, যা বাজার সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের পথ দেখাবে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘করোনার অতিমারির প্রতিকূল প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে মন্দার কবলে পড়েনি। সেই সঙ্গে ইতিবাচক জিডিপি প্রবৃদ্ধিও এসেছে গত বছর। কারণ, আমরা এই অতিমারির সমস্ত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।’

সালমান এফ রহমান জানান, সিপিএসডি রিপোর্টের সুপারিশগুলো ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে যেতে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা বলেন, ‘অতিমারি বাংলাদেশের ওপর কঠিন আঘাত হেনেছে। দেশটি এখন করোনা উত্তরণের পর্যায়ে থাকায় সংস্কারের প্রয়োজনীতা আরও দৃঢ়ভাবে দেখা দিয়েছে।

‘এখন দরকার একটি মজবুত আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ৭০ শতাংশের বেশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে এই বেসরকারি খাতের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার দরকার, যাতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি গুনগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।’

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। আরও প্রাণবন্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। একই সঙ্গে একটি বলিষ্ঠ ও অত্যাধুনিক বেসরকারি খাত গড়ে তুলতে হবে, যা করোনা পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের জন্য খুবই জরুরি। যেখানে সরকারের বেশির ভাগ সম্পদের প্রয়োজন হবে সামাজিক খাতের জন্য।’

বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে নিযুক্ত আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার বলেন, ‘এটা সুস্পষ্ট যে, গুনগত স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে এবং স্বাস্থ্য পরিসেবার দক্ষতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেননা একই পর্যায়ের উন্নয়নে থাকা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কম মাত্রার।’

তিনি বলেন, ‘এর বাইরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের তৈরি পোশাকের বাজারে মনোযোগ দিতে পারে ও নতুন প্রযুক্তির প্রবর্তন করতে পারে এবং পাদুকা, চামড়া, ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং কৃষিবাণিজ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।’

শেয়ার করুন

‘নগদ’-এর লাইসেন্স: আরও সময় চায় ডাক বিভাগ

‘নগদ’-এর লাইসেন্স: আরও সময় চায় ডাক বিভাগ

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ পরিচালনার জন্য যে অন্তর্বর্তীকালীন অনুমোদন দেয় তার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে নগদ-এর পরিচালন সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং পাঁচ কোটি গ্রাহকের সেবা অব্যহত রাখার জন্যেই বৈঠক থেকে সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে বর্ধিত সময়ের জন্যে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর অন্তর্বর্তীকালীন অনুমোদনের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে ডাক অধিদপ্তর।

মূলত ডাক বিভাগের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে নগদ-কে পরিচালনার জন্যে সরকারের দিক থেকে প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চললেও এক্ষেত্রে আইন সংশোধনসহ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের মতো দীর্ঘ মেয়াদি বিষয় জড়িত। আর সে কারণে নগদ-এর সেবা পরিচালনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তির মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করতে সম্প্রতি আবেদন করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসনের সভাপতিত্বের বৈঠকেই সময় বৃদ্ধির জন্যে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোভিডের কারণে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকা এবং সে কারণে বৈঠক করতে না পারার কারণেও সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের কার্যক্রম শেষ করতে বাড়তি সময় লেগেছে।

সূত্র জানিয়েছে, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের জন্যে এরই মধ্যে মেমরেন্ডাম অব অ্যাসোশিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোশিয়েশন এবং ভেন্ডর অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া তৈরি হলেও সেটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ পরিচালনার জন্য যে অন্তর্বর্তীকালীন অনুমোদন দেয় তার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে নগদ-এর পরিচালন সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং পাঁচ কোটি গ্রাহকের সেবা অব্যহত রাখার জন্যেই বৈঠক থেকে সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে বর্ধিত সময়ের জন্যে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিনের সই করা আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এ আবেদন পর্যালোচনা করবে। বিচার-বিবেচনা করে দেখবে তাদের আরও সময় দেয়া যায় কিনা।’

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে উদ্বোধন হয় ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা ‘নগদ’| শুরু থেকেই উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী সেবা নিয়ে বাজারে যাত্রা করা নগদ মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ৫ কোটির বেশি গ্রাহক পেয়ে গেছে।

সারাদেশে ১ লাখ ৫৫ হাজার এজেন্ট ও ২ লাখ ৩৮ হাজার উদ্যোক্তার মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে সেবা দিয়েছে ‘নগদ’।

এই সফলতার কারণে ‘বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো’ নগদ-এ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানাা গেছে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ইলেক্ট্রনিক কেওয়াইসি’র প্রচলন করা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে *১৬৭# ডায়াল করে মুহূর্তেই অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতির কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায় সেবাটি।

বর্তমানে এমএফএস অপারেটরটি দৈনিক সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করছে।

এছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা বিতরণও করা হয় নগদ-এর মাধ্যমে ।

শেয়ার করুন

‘ছোটদের’ কম সুদে ‍ঋণ দিতে ২৫২০ কোটির নতুন প্রণোদনা

‘ছোটদের’ কম সুদে ‍ঋণ দিতে ২৫২০ কোটির নতুন প্রণোদনা

৩০ কোটি ডলার বা ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকার এই পুনঅর্থায়ন তহবিল করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি সামলে উঠতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তহবিলের পুরো অর্থ এআইআইবি দেবে। তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর। সুদের হার ৪ শতাংশ; ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) সুদের চার্জ নির্ধারিত হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি সামলে উঠতে আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্যাকেজটির নাম হচ্ছে, ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্রাইসিস রেসপন্স ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট (সিইসিআরএফপি)

২ হাজার ৫২০ কোটি টাকার এই প্যাকেজের অর্থ জোগান দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা এশীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)।

এক বছরের বেশি সময়ের মহামারিতে যে সব ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ঘুরে দাঁড়াতে এই তহবিল থেকে ঋণ দেয়া হবে। তিন বছর মেয়াদের এ ঋণের সুদের হার হবে ৪ শতাংশ।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এই তহবিলের একটি নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৩০ কোটি ডলার বা ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকার এই পুনঅর্থায়ন তহবিল করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি সামলে উঠতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

তহবিলের পুরো অর্থ এআইআইবি দেবে। তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর। সুদের হার ৪ শতাংশ; ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) সুদের চার্জ নির্ধারিত হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল সরকার সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটাকে অনুসরণ করেই এই নতুন প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে ২০ হাজার কোটি টাকার আগের তহবিলের পুরোটা এখনও বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বার বার তাগাদা এবং কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও সেই ঋণ বিতরণে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।

অথচ বড় উদ্যোক্তাদের জন্য যে ৪১ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল তার সবটা গত বছরেরর ডিসেম্বরেই মধ্যে বিতরণ হয়ে গেছে।

গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৯টি তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সম্পৃক্ত।

তবে মোট ১২টি তহবিল বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার আকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হলেন ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন গ্রাহক। কৃষি খাতের ৫ হাজার কোটি টাকা তহবিলের ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, ঋণ পেয়েছেন ২ লাখ গ্রাহক। নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।

শিল্প ও সেবা খাতের বড় বড় উদ্যোক্তাদের ৪১ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল ছিল তার পুরোটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তবে এই ঋণের সুবিধাভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ার করুন

টাকা সাদা করার সুযোগ জানতে ধৈর্য ধরুন

টাকা সাদা করার সুযোগ জানতে ধৈর্য ধরুন

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

যে অর্থবছরটি শেষ হতে হচ্ছে তাতে নগদ টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, জমি সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন খাতে ঢালাও ভাবে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কোনো প্রশ্নে ছাড়াই কালো টাকার সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৩০ জুন।

কালো টাকা সাদা করার বর্তমান সুযোগ বহাল রাখা হবে কি হবে না, তা জানার জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আহ ম মুস্তফা কামাল।

আগামী ২৯ জুন অর্থবিল পাশ হবে । ওই দিন পর্যন্ত ধৈর্য ধরার কথা বলেন তিনি।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যতদিন অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ থাকবে ততদিন কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হবে।

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে ধারণা করা হয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিদ্যমান সুযোগটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গত ৩ জুন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। এমন কি অর্থবিলেও দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচানার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এর ব্যাখাও দেন অর্থমন্ত্রী। চলমান সুযোগটি বহাল রাখার আভাস দিলেও পরিস্কার করে কিছু বলেননি তিনি।

বুধবার একই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংবাদিকদের বলেন, এর জন্য ২৯ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ওই দিন অর্থবিল পাশের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে বিদ্যমান সুযোগটি থাকবে, কি থাকবে না।

যে অর্থবছরটি শেষ হতে হচ্ছে তাতে নগদ টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, জমি সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন খাতে ঢালাও ভাবে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কোনো প্রশ্নে ছাড়াই কালো টাকার সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৩০ জুন।

এখন সুযোগটি আরও এক বছরের জন্যবহল রাখা হবে কি হবে না, তা নিয়ে সরকারি শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন অর্থমন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্বান্ত। এ জন্য সরকারের শীর্ষ মহলের সবুজ সংকেত লাগবে।

এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের মে পর্যন্ত সরকারের দেয়া এ সুযোগটি গহণ করে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। এর বিপরীতে সরকার কর পেয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা আছে

নতুন বাজেট বাস্তবায়নে অর্থনীতিতে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি-না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমি শঙ্কিত নই। কারণ, চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা যাবে।’ এ জন্য অনেক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্ধিগ্ন নন অর্থমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, ঘাটতি বেশি হলেও তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ করোনাকালে আমরা বিদেশ থেকে অনেক অর্থ পাবো বলে আশা করছি।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সম্প্রতি করোনা মহামারির ক্ষতি কাঠিয়ে উঠতে সরকারের কাছ থেকে নেয়া ২০ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ পরিশোধের সময় আরও বাড়ানোর আবেদন করেছে। সরকারের কাছ থেকে আপনি এ চিঠি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এখনও পাই নি। পেলে বিষয়টি দেখব।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখভাল করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্বান্ত নেয়া হবে। এদিকে রিজার্ভ চুরির বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি মামলাধীন। ফলে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।

শেয়ার করুন

নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি

নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই) ১৭ জুন অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠিতে নির্মাণ খাতের বর্তমান অবস্থা ও এ থেকে উত্তরণের প্রস্তাব তুলে ধরে।

রড-সিমেন্টসহ অন্যান্য উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি নির্মাণ খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় এই শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কর কমানোসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি লিখেছেন ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই) ১৭ জুন অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠিতে নির্মাণ খাতের বর্তমান অবস্থা ও এ থেকে উত্তরণের কথা তুলে ধরে।

নির্মাণ খাত হচ্ছে বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম শিল্প। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১০ শতাংশের বেশি। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দেশের নির্মাণশিল্পে অস্থিরতা চলছে, যা এখনও অব্যাহত। নতুন বাজেটে এ খাতের জন্য সরকার কিছুটা করসুবিধা দিলেও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তাতে তেমন কাজে আসবে না।

ভবিষ্যতে এ শিল্পের সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এতে করে দেশের উন্নয়ন কাজকর্ম বিশেষে করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা।

বিএসিআইয়ের সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদারের সই করা চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নির্মাণশিল্পের জন্য কিছু করপ্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যাতে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। পর্যবেক্ষণসমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।

‘বিএসিআইর প্রতিনিধিরা মনে করেন, একদিকে যেমন নির্মাণশিল্প খাতটির অস্তিত্বের প্রশ্ন, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজন কর আহরণ করা। এমতাবস্থায় নির্মাণ খাতকে নিশ্চিত ধ্বংস হতে রক্ষা করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’

এ জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু দাবি উল্লেখ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠিতে।

যোগাযোগ করা হলে বিএসিআই সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশীয় নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছি। আশা করছি সরকার আমাদের ডাকে সাড়া দেবে এবং নির্মাণ খাতকে গভীর সংকট থেকে উদ্ধার করবে।’

এবারের বাজেটে ঠিকাদার ব্যবসায়ীদের উৎসে করহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এতে সর্বনিম্ন করহার ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এই করপ্রস্তাব কার্যকর হলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হবেন।

অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠিতে বিএসিআই বলেছে, ‘প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঠিকাদারদের বিলের ওপর সর্বোচ্চ করহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং অর্থমন্ত্রী এটি কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাজেট ঘোষণায় দেখা গেছে, কর কমানো হয়নি; বরং আরও বাড়ানো হয়েছে।’

বিএসিআই আরও বলেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ করহার সাড়ে ৩২ শতাংশ। অথচ নতুন বাজেটে নির্মাণ খাতে এ করহার ৫ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়, যা প্রকারান্তরে মোট করভার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়াবে।

এ অবস্থায় নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিল থেকে আয়কর কাটার হার ৪ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।

শেয়ার করুন

টিকা কিনতে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

টিকা কিনতে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

ঋণের এই ৯৪ কোটি ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৭ কোটি ডলারের জন্য বাংলাদেশকে নিয়মিত হারে (২ শতাংশ) সুদ দিতে হবে। বাকি ৪৭ কোটি ডলারের জন্য সুদের হার ঠিক হয়েছে আলোচনার ভিত্তিতে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কিনতে বাংলাদেশের জন্য ৯৪ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে যে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ঋণ দিচ্ছে এই উন্নয়ন সংস্থাটি।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার এডিবির বোর্ডসভায় এই ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এই সহায়তা কোভিড মোকাবিলায় অবদান রাখবে বলে আমরা মনে করি।’

মঙ্গলবার ম্যানিলাভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে সহযোগিতা করার জন্য গত ডিসেম্বরে এডিবি ৯০০ কোটি ডলারের যে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ভ্যাকসিন একসেস ফ্যাসিলিটি’ চালু করেছিল, তার আওতায় এই অর্থ পাবে বাংলাদেশ।

প্রতি মার্কিন ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।

গত এপ্রিলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এডিবি এই ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল। করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে ঋণ হিসেবে এটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তা।

করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে এডিবির কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার চেয়ে গত নভেম্বরে চিঠি দিয়েছিল সরকার। তবে আলোচনার ভিত্তিতে তার চেয়ে বেশিই পাচ্ছে বাংলাদেশ।

ঋণের এই ৯৪ কোটি ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৭ কোটি ডলারের জন্য বাংলাদেশকে নিয়মিত হারে (২ শতাংশ) সুদ দিতে হবে। বাকি ৪৭ কোটি ডলারের জন্য সুদের হার ঠিক হয়েছে আলোচনার ভিত্তিতে। তবে সেই হার কত তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

সেখানে বলা হয়, এই ঋণের টাকায় বাংলাদেশ আনুমানিক ৪ কোটি ৪৭ লাখ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে পারবে। ২০২৪ সালের মধ্যে দুই কোটির বেশি মানুষকে ওই টিকা দেয়া যাবে।

এই ঋণের অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ কোভিড টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স বা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে অথবা সরাসরি উৎপাদনকারীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় টিকা কিনতে পারবে।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘ভাইরাস সংক্রমণের চক্রকে ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর পাশাপশি অর্থনীতির ওপর মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে টিকাদান কর্মসূচি।

‘কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশেকে এডিবির ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই ঋণ, যাতে ভাইরাস থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া যায়, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবিকার ক্ষেত্রে নতুন করে গড়ে তোলা যায়, অর্থনীতিকে আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় নিয়ে যাওয়া যায়।’

শেয়ার করুন