রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক

টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবির বলেন, ‘ঢাকায় ১০০টি ও চট্টগ্রামে ২০টি জায়গায় ট্রাকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন বিক্রির জন্য চিনি বরাদ্দ থাকবে ৮০০-১২০০ কেজি, মশুরডাল ৬০০-৭৫০ কেজি, সয়াবিন তেল ১২০০-১৫০০ লিটার, পেঁয়াজ ৩০০-১০০০ কেজি, ছোলা ৪০০-১০০০ কেজি ও খেজুর ১০০ কেজি।’

রমজান সামনে রেখে সারা দেশে ৫০০ ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তি পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

পণ্য বিক্রির জন্য ঢাকায় ১০০টি জায়গায় ও চট্টগ্রামে ২০টি জায়গায় বিক্রয় কার্যক্রম চালানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে চিনি, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর ভর্তুকি দামে বিক্রি হবে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবির ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার রমজানে ঢাকায় ১০০টি ও চট্টগ্রামে ২০টি স্থানে ট্রাকে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন বিক্রির জন্য চিনি বরাদ্দ থাকবে ৮০০-১২০০ কেজি, মশুরডাল ৬০০-৭৫০ কেজি, সয়াবিন তেল ১২০০-১৫০০ লিটার, পেঁয়াজ ৩০০-১০০০ কেজি, ছোলা ৪০০-১০০০ কেজি ও খেজুর ১০০ কেজি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোক্তাপর্যায়ে সয়াবিন তেল বিক্রি হবে লিটারে ১০০ টাকা। ভোক্তারা সর্বনিম্ন দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার পর্যন্ত সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। পেঁয়াজ বিক্রি হবে ২০ টাকা কেজি, কিনতে পারবেন প্রয়োজন অনুযায়ী। ছোলা বিক্রি হবে ৫৫ টাকায়, যা সর্বোচ্চ ৩ কেজি পর্যন্ত কেনা যাবে। প্রতি কেজি খেজুর কেনা যাবে ৮০ টাকায়। মশুর ডাল ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ দুই কেজি এবং চিনি সর্বোচ্চ চার কেজি কিনতে পারবেন ৫৫ টাকা কেজিতে।’

টিসিবি জানিয়েছে, ঢাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য জায়গাগুলো হলো কামরাঙ্গীরচর, লোহার পুল, প্রেস ক্লাব, বাবুবাজার, শ্যামলী ওভারব্রিজ, মৌচাক, সিপাইবাগ বাজার, জুরাইন ও সেগুনবাগিচা বাজার, উত্তরা বাংলাদেশ মেডিক্যাল, কালশি মোড়, বনশ্রী বাজার, ফার্মগেট খামারবাড়ি, কাওরানবাজার, মিরপুর-১ কাঁচাবাজার, ২৩০ গুদাম, ৩৪৪ গুদাম, ডিসি অফিস, শিকদার মেডিক্যাল, মিরপুর কমার্স কলেজ, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, মহাখালী সাততলা বস্তি, মোহাম্মদপুর টাউনহল, দয়াগঞ্জ স্টাফ কোয়ার্টার, নিউমার্কেট, আজমপুর বাজার, আশকোনা হাজিক্যাম্প, সোয়ারীঘাট, পলাশনগর জামে মসজিদ, বাসাবো বাজার, উত্তরা ১২ খালপাড়, কচুক্ষেত রজনীগন্ধা মার্কেট, শনির আখড়া, রায়ের বাজার, বছিলা র‍্যাব অফিসের সামনে, মধ্যবাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, গুলশান-১ কাঁচাবাজার, ইপিজেড, শাহবাগ বারডেম, সাঁতারকুল, বাইপাইল, আশুলিয়া, মিরপুর-৭ মিল্কভিটা, খিলক্ষেত বটতলা, গোড়ানবাজার, টঙ্গী কাঁচাবাজার, ৬০ ফিট রেডিও, লালবাগ থানা, সিপাইবাগ বাজার, মিরপুর-১০ গোলচক্কর, ধানমন্ডি সরকারি কলোনি, নন্দীপাড়া কৃষিব্যাংক, মতিঝিল বক চত্বর, খিলগাঁও রেলগেট, কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট, পিএসসি কলোনি, রামপুরা বাজার, গাবতলী বাসস্পট, মানিকদিবাজার, ভাষানটেক, শাহজাহানপুর বাজার, যাত্রাবাড়ী বাসস্টপ, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর দিগন্ত সমবায় সমিতি, হাতিরপুল বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংক, শান্তিনগর বাজার, হাজারীবাগ ঢাকা, ইসিবি চত্বর, কল্যাণপুর নতুন বাজার, বনানী কড়াইল বস্তি, রাজলক্ষ্মী ও জসীমউদ্দিন, কামাড়পাড়া বাসস্টপ, আশকোনা হাজিক্যাম্প, ইত্তেফাক মোড়, শ্যামলী আশা টাওয়ার, মতিঝিল সরকারি কলোনি, ভিকারুন্নেসা ১০নং গেট, মুগদা মেডিক্যাল ও সারুলিয়া বাজার।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ৫ টাকার নিচে, সেগুলোর দাম কমতে পারবে না, যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা কমতে পারবে এক দিনে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক দিনে শেয়ারের দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ। তবে দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগের মতোই ১০ শতাংশের সীমা থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ার মূল্য ৫ টাকার নিচে নেমে গেছে, সেগুলোর দাম কার্যত কমতে পারবে না। কারণ, কোনো কোম্পানির দাম কমা বা বাড়ার সময় সর্বনিম্ন হিসাব হয় ১০ পয়সা করে। ৫ টাকার নিতে যেসব শেয়ারের দাম, সেগুলোর ২ শতাংশ ১০ পয়সার চেয়ে কম।

বিনিয়োগকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ বলেছে।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের মধ্যেই ৬৬টি কোম্পানির এই সর্বনিম্ন দাম প্রত্যাহার কার নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার এসব কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগের ব্যাপক দরপতন হয়। ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফেসবুকে পুঁজিবাজার বিষয়ক নানা ফেসবুক পেজে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, লকডাউনের মধ্যে যখন বাজার নিয়ে আতঙ্ক, তখন কেন এই ফ্লোর প্রত্যাহার করতে হলো।

রোববার দ্বিতীয় কার্যদিবসে আরও বেশি দরপতনের শঙ্কা যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, তখন বিএসইসি এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে।

নিশ্চিত করে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইস থাকায় আমাদের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) সদস্য। সেখানে আমাদের ক্যাটাগরি ‘এ’। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইসের মাধ্যমে বাজার ম্যানিপুলেট করায় আমাদের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘কিন্ত করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমরা দর পতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এগুলেঅর শেয়ার দর দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে, তবে কমবে ২ শতাংশ করে।’

এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কিছুটা কমবে বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু এই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সেটা মানতে হবে। আর এখন বিএসইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এতেও সম্ভাব্য বেশি লোকসান থেকে রক্ষা পাবে বিনিয়োগকারীরা।

কোন কোম্পানির কত কমতে পারবে

বস্ত্র খাতের কোম্পানি আর এন স্পিনিং এর সবশেষ দাম ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এর দুই শতাংশ হয় ৭.৪ পয়সা। কিন্তু ১০ পয়সার কমে কোনো শেয়ারের দাম কমা বা বাড়ার সুযোগ নেই। তাই ফ্লোর প্রত্যাহার করা হলেও এই কোম্পানির শেয়ার দর কমতে পারবে না।

এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা, যেগুলোর দর ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকার কম সেগুলোর সর্বোচ্চ এক টাকা ১০ পয়সা, যেগুলোর দর ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে, সেগুলোর দর এক দিনে সর্বোচ্চ এক টাকা ২০ পয়সা কমতে পারবে।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রাক-বাজেট আলোচনায় চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন নেতারা।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে চার খাতে গুরুত্ব দেয়ায় আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

২০২১-২২ অর্থছরের বাজেটে কোন খাতে সরকারের বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত, সে বিষয়ে মতামত জানাতে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। অনলাইনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এই প্রাক-বাজেট আলোচনা।

এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

এ ছাড়া আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে খোলা থাকছে পুঁজিবাজার, তবে লেনদেন করতে হবে অনলাইনে। ফাইল ছবি

ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে: নিউজবাংলাকে বিএসইসি চেয়ারম্যান

চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার কঠোর লকডাউনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সে সময়ও পুঁজিবাজার খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আবার জানিয়েছে, ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজার খোলা থাকবে। ব্যাংকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন এবারও তারা ব্যাংক খোলা রাখবেন।

শনিবার বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম এক খুদেবার্তায় বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারিকালসহ সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারের সব লেনদেন যথাবিহিত অব্যাহতভাবে চালু থাকবে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে, সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ গত বছরের চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার শুরু হয় সাত দিনের লকডাউন। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু থাকা, যানবাহন চলতে থাকা আর মানুষের ঘরের বাইরে আসার প্রবণতায় লকডাউন আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর মধ্যে আবার বিপণিবিতান চালু হয়েছে, মহানগরগুলোতে চলছে বাসও। খোলা আছে পুঁজিবাজারও। লেনদেন চলছে দুই ঘণ্টা। তবে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে যেতে পারে না। তাদের অর্ডার দিতে হয় মোবাইল বা অ্যাপে।

আবারও কঠোর লকডাউনের কথা জানিয়েছে সরকার। ১৪ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে। ফাইল ছবি

এর মধ্যে শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন দেয়া হবে। এবার জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে, কোনো গাড়িও চলতে দেয়া হবে না। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ঘরের বাইরে যাওয়াও। আর রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিস্তারিত জানানো হবে।

লকডাউন কঠোর হলে ব্যাংকের কী হবে, এই প্রশ্নের জবাব জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।…কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায়, সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির অবস্থান বিবেচনায় নিলে বলাই যায়, কঠোর লকডাউনেও চালু থাকছে পুঁজিবাজার। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে রোববারের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই।

চলমান লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে বেলা ২টা পর্যন্ত। কঠোর লকডাউনে সময়সীমা কী হবে, সে সিদ্ধান্ত রোববার জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর বিএসইসি জানিয়েছে, ব্যাংকের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় নির্ধারিত হবে।

৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাত ও ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমা ঠিক করে দেয়ার পর বিএসইসি জানায়, পুঁজিবাজারে লেনদেন চলচে দুই ঘণ্টা; সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

সিদ্ধান্তে বিলম্বের কী ক্ষতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিতে এক দিন দেরি হলেও তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু পুঁজিবাজারে কী প্রভাব পড়ে, সেটা দেখা গেছে গত রোববার।

গত সোমবার থেকে লডকাউন শুরুর তিন দিন বাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও লকডাউনের আগে দিন লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে আতঙ্কে সূচক পড়ে প্রায় ২০০ পয়েন্ট।

তবে সেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত জানায়, লকডাউনে আড়াই ঘণ্টা ব্যাংক চালু থাকবে। আর বিএসইসি আগেই জানিয়েছিল ব্যাংক চালু থাকলে চলবে পুঁজিবাজারের লেনদেনও।

কঠোর লকডাউন হলেও খোলা থাকবে ব্যাংক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আসতে এক দিন দেরি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দরপতনে যে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়, সে জন্য কেউ দুঃখও প্রকাশ করেনি।

লকডাউনের আগের দিন আতঙ্কে সূচক কমে ১৮১ পয়েন্ট। দরপতনের পর ঠিকই বিএসইসি সক্রিয় হয়ে বাজারে তারল্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়ায়। এক টাকার বিপরীতে ৫০ পয়সার জায়গায় ঋণসীমা বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়। এর ফলে ঋণ নেয়ার পর শেয়ারমূল্য কমে যাওয়ায় যারা ফোর্সড সেলের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তারা সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হন।

অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তটি রোববারের আগেই নিতে পারলে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আসার আগে কেবল রোববার লেনদেন বন্ধ রাখা হলে বিনিয়োগকারীদের এত বড় লোকসানের মধ্যে পড়তে হতো না।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরে মাইলফলক অতিক্রম করেছে এক্সিলারেট এনার্জি। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

জাহাজ থেকে জাহাজে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থানান্তরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের মাইলফলক অতিক্রম করল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে জাহাজে (এসটিএসপদ্ধতি) করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর করে আসছে এক্সিলারেট এনার্জি। শনিবার তারা এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

এসটিএস প্রোটোকল ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ঘনমিটার এলএনজি স্থানান্তর করেছে।

এক্সিলারেট এনার্জির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ক্যাল ব্যানক্রফট জানান, বঙ্গোপসাগরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের যে মাইলফলক স্থাপন করেছে এক্সিলারেট এনার্জি এর মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বজুড়ে সুনাম ও জাহাজের ক্রুদের কঠোর পরিশ্রম।

তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে সাফল্যের সঙ্গেই এলএনজি স্থানান্তরে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারবে এক্সিলারেট এনার্জি।’

দেশের গ্যাস ঘাটতি মেটাতে এবং শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। ইতিমধ্যে কাতার, সুইজারল্যান্ড ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে এলএনজি আমদানির জন্য।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে লকডাউনসহ কঠোর পদক্ষেপে ধস নেমেছে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেচাকেনায়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

আর্থিক লেনদেনের দিক থেকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে এই উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও ব্যবসায় দেখা যাচ্ছে ভাটা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার লকডাউনে পড়ে গত বছর নববর্ষের বেচা মাটি হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। বছর ঘুরে আবার যখন পয়লা বৈশাখ দরজায়, তখন দেশজুড়ে মহমারির দ্বিতীয় ঢেউ। আবারও লকডাউন।

ঢাকাসহ সারা দেশের বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে রমনা বটমূলের বর্ষবরণ। অনলাইনে বা ভার্চুয়াল বর্ষবরণ হতে পারে। তাতে কেনাকাটা কীভাবে হবে?

বর্ষবরণের উৎসব ঘিরে দেশি পোশাকের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া মেলার আগে-পরে ফুল থেকে শুরু করে মাটির গয়না, গৃহসামগ্রী, খেলনা, মিষ্টিসহ দেশি খাবারের ধুম পড়ে।

গ্রামগঞ্জে ঘটা করে আয়োজন হয় বৈশাখী মেলার, দোকানে দোকানে হালখাতার।

লকডাউনে উৎসব বন্ধ হওয়ায় বৈশাখের বাণিজ্যে সর্বনাশ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

দুই বছর আগেও চৈত্রের শেষ সপ্তাহে দেশীয় পোশাকের দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিপণিবিতানগুলো ঘুরে নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনেছেন উৎসবপ্রিয় মানুষ।

ক্রেতার এ ঘোরাঘুরিতে মুড়িমুড়কি, আইসক্রিম ও খাবারের দোকানেও বাড়তি আয়ের জোগান দিত। কিন্তু করোনার প্রভাবে গত বছর থেকে বদলে গেছে সেই চিত্র।

বৈশাখী অর্থনীতির আকার

আর্থিক লেনদেনের দিক দিয়ে পয়লা বৈশাখকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের আকার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গবেষণা বা জরিপের হিসাব নেই।

পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে বৈশাখী উৎসবকেন্দ্রিক মৌসুমি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদশে দোকান মালিক সমিতি। কেউ কেউ বৈশাখী অর্থনীতির আকার সব খাত মিলিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকাও মনে করেন।

ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মনে করে, এ সময় শুধু পোশাকই বিক্রি হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। তবে এর আকার যাই হোক না কেন, পরপর দুই বছর এ বাণিজ্য নেমেছে তলানিতে। মাথায় হাত পড়েছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উদ্যোক্তার।

গেল বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ বছরও ভালোই প্রস্তুতি ছিল তাদের। কিন্তু গেলবারের একই সময়ে লকডাউনে অভিজাত শপিং মল থেকে ফুটপাতের সব দোকান বন্ধ থাকায় লাভের আশা লোকসানের নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, বৈশাখী উৎসব মূলত দেশি উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক। পোশাক থেকে শুরু করে সব পণ্যই দেশে উৎপন্ন হয়। কিন্তু গত বছরের লকডাউনের জেরে দেশীয় ফ্যাশনের দোকানি থেকে শুরু করে তাঁতি, কুমার, কুটিরশিল্প ব্যবসায়ীরা পুঁজি খুইয়েছেন।

দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোর বড় আয়োজন থাকে বৈশাখ ঘিরে। কিন্তু তাদের এবারের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যবসায় সামনের দিনে কী হয়, তা নিয়ে আশঙ্কায় সময় কাটছে উদ্যোক্তাদের।

দেশব্যাপী এই সংগঠনের ২৫ লাখ সদস্য আছেন। কম-বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের ঋণ বা প্রণোদনার কোনো ব্যবস্থা গতবারও ছিল না। কখনোই থাকে না। করোনায় সবকিছু সচল থাকলেও ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান ও শপিং মল বন্ধ ছিল। এখন তা বৈশাখের আগের দিন পর্যন্ত খুলে দেয়া হয়েছে। তবে কতটুকু কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফ্যাশন হাউজ সারা লাইফ স্টাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক শেখ রাহাত অয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উৎসবভেদে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। গত বছর তো কীভাবে কাটল তা বলা যাবে না। এবার বাড়তি বিনিয়োগ ও নতুন ডিজাইন নিয়ে ফিরে আসার একটা চেষ্টা ছিল। কিন্তু তাও হচ্ছে না।

‘আবার সারার একটা সুনাম আছে। এক বছরের পোশাক পরের বছর ব্যবহারও করা যায় না। কারণ প্রতিবছরই ক্রেতার ধরন ও পছন্দ পরিবর্তন হয়। পোশাকের ডিজাইনেও নতুনত্ব আসে। তাই বিকল্প হিসেবে অনলাইন বিক্রি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দোকানপাট বা শপিং মল খুলে দেয়া হলেও অনিশ্চয়তা যাবে বলে মনে হয় না। সাধারণত বৈশাখের পোশাকের প্রয়োজন হয় উৎসবের জন্য। কিন্তু করোনায় উৎসবের আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা থাকলে মানুষ কিনবে কেন?

‘কিনলেও তা হবে অনেক কম। তা ছাড়া করোনার প্রকোপ যে হারে বাড়ছে, তাতে মার্কেট খুলে দিলেও মানুষজন ভয় কাটিয়ে কতটুকুই বা মার্কেটমুখী হবে?’

বৈশাখ ঘিরে ফুলের চাহিদাও থাকে প্রচুর। এবার তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। শাহবাগের ফুলের দোকান ‘ফুল মেলা’র স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি-বৈশাখ এসব দিনে প্রচুর ফুল বেচাকেনা হয়। কিন্তু গতবার বৈশাখী উৎসেরব কোনো চিহ্নও ছিল না। ফুল বিক্রিও ছিল হাতে গোনা। এবারও একই অবস্থা হবে দশটির জায়গায় একটি বিক্রি হবে। একে রমনায় বৈশাখী মেলা হবে না, তার ওপর এবার পয়লা বৈশাখে পবিত্র রমজানেরও শুরু। তাই বৈশাখের উৎসবও তেমন থাকবে না, বিক্রিও থাকবে না।

মাটির পণ্য বিক্রেতা মো. জাকির প্রায় এক যুগ ধরে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বৈশাখ এলে মাটির গয়না, পেয়ালাসহ জিনিসপত্রের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। চৈত্রের শেষ দিকে ও বৈশাখের দিন মেলাসহ বেশ কিছু দিন খুব বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছর মেলা হয়নি। আয়ও হয়নি। এবারও একই অবস্থা; মেলা হবে না। লকডাউনের কারণে গত কয়েকদিন ভ্যান নিয়েও রাস্তায় বসতে পারেননি তিনি।

রাজধানীসহ জেলা শহরে বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ অন্যতম অনুষঙ্গ। ফলে ইলিশ কেনার এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বাড়তি ইলিশের জোগান দিতে দেড়-দুই মাস আগে থেকে মাছ মজুত করেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে যায়। এবারও বৈশাখের আগে বাজারে প্রচুর ইলিশ এসেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সুজন বলেন, সাধারণত বৈশাখের সময় ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকত। ফলে দামও চড়া থাকত। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও এ সময় ইলিশের ক্রেতা কম, বিক্রিও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ঘিরে প্রতিবছরই অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কারণ এটি সার্বজনীন উৎসব। রোজার ঈদের পরেই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় এ সময়। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। অনলাইনে কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগই লসে থাকবে।

‘শপিংমল খুলে দিলেও মানুষজন আগের মতো শপিং মলমুখী হবে কি না তাও দেখার বিষয়। কারণ করোনা যে হারে বাড়ছে তাতে মানুষ একান্ত প্রয়োজন বা জীবিকার তাগিদ ছাড়া তেমন বের হবেন না। এতে শেষ পর্যন্ত এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না অনেকে। এ ক্ষেত্রে বিক্রি বাড়াতে অনলাইন মার্কেটিংয়ে জোর দিতে হবে। এদিকে সরকারের নজর দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

‘স্বপ্ন’ এখন আফতাবনগরে

‘স্বপ্ন’ এখন আফতাবনগরে

উদ্বোধন উপলক্ষে স্বপ্নের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাসব্যাপী বিভিন্ন অফার। বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি ছাড়াও থাকছে নগদ মূল্যছাড়।

রাজধানীর আফতাবনগরে উদ্বোধন হয়েছে দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্নের আউটলেট।

আফতাবনগর মেইন রোডের ১, ৩, ৫ প্লটে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আউটলেটটির উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, স্বপ্নের হেড অব বিজনেস এক্সপানশন জহিরুল ইসলাম, বিভাগীয় সেলস ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার, হেড অব ইনভেনটরি অ্যান্ড ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট রবিউল আলমসহ আরও অনেকে।

উদ্বোধন উপলক্ষে স্বপ্নের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাসব্যাপী বিভিন্ন অফার। বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি ছাড়াও থাকছে নগদ মূল্যছাড়।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির রিটেইল এক্সপ্যানশন বিভাগের পরিচালক সামসুদ্দোহা শিমুল বলেন, স্থানীয়দের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্য রাখা হয়েছে নতুন এই আউটেলেটে; রয়েছে হোম ডেলিভারি সেবা।

‘আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ পরিবেশে গ্রাহকরা নিয়মিত বাজার করবেন। আমরা তাদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং মূল্যায়ন আশা করব। গ্রাহকের চাহিদা ও সন্তুষ্টিকে সব সময় অগ্রাধিকার দেয় স্বপ্ন।’

আফতাবনগরের নতুন এই আউটলেট থেকে হোম ডেলিভারির জন্য ০১৩১৩-০৫৪৯৮৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউনেও ব্যাংক খোলা

কঠোর লকডাউনেও ব্যাংক খোলা

অত্যাবশ্যকীয় সেবা বিধায় কঠোর লকডাউনেও ব্যাংক চালু থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে। এ সংকটের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায় সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আগামী সপ্তাহে থেকে এক সপ্তাহের জন্য জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এমনকি সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রেখে কঠোর লকডাউন দেয়া হলেও ব্যাংক বন্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে জরুরি সেবা হিসেবেই দেখার কথা জানিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে নির্ভর করে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু থাকবে কি না। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আগেই জানিয়েছে, ব্যাংক চালু থাকলে বন্ধ হবে না পুঁজিবাজারও।

গত সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিন থেকেই শিথিল লকডাউনের তৃতীয় দিন থেকে দেশের সব মহানগরে চালু করে দেয়া হয় বাসও। অন্যান্য যানবাহন চলছে প্রথম দিন থেকেই।

এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিদিনই রেকর্ড করতে থাকায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানানো হয়েছে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এটা কমপ্লিট লকডাউন, কঠোর লকডাউন। ফলে কোনো অফিস আদালত খোলা থাকবে না। সেখানে শুধু জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছুই বন্ধ থাকবে।’

লকডাউনের এক সপ্তাহ সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইব যে, এই এক সপ্তাহ মানুষজন একদম ঘরে থাকবে। সেভাবে মানুষ প্রস্তুতি নিয়ে থাকবে। এক সপ্তাহ কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলবে।’

এবারের লকডাউনে যানবাহন তো বটেই বন্ধ থাকবে সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান। আগামী রোববার এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ব্যাংক চলবে কি না- এই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সংকটের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায় সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

চলমান লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে দুপুর দুইটা পর্যন্ত।

৩ এপ্রিল লকডাউনে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকের তুলনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবশ্য আরও একটু বেশি সময় খোলা থাকছে। সেগুলোতে লেনদেন চালু থাকছে বেলা দুইটা পর্যন্ত।

কঠোর লকডাউনেও একই সময়সীমা থাকবে কি না- এমন প্রশ্নও ছিল সিরাজুল ইসলামের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘রোববার সরকারের নির্দেশনা জারি হওয়ার পর কীভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাব।’

তবে পূর্ণাঙ্গ সময়ের জন্য না, ব্যাংকে লেনদেন সীমিত আকারে লেনদেন চালু রাখা হবে-এটি নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন