ইউনিলিভারের একটি শেয়ার কিনে যে পরিমাণ লভ্যাংশ পাবেন বিনিয়োগকারীরা, একই টাকায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার কিনলে পাওয়া যাবে তার প্রায় ছয়গুণ, আর মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার কিনলে পাওয়া যাবে প্রায় পাঁচ গুণ।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার প্রতি ৩০ টাকা (৩০ টাকা অন্তর্বর্তী মিলেছে আগেই) লভ্যাংশ তারাই পেয়েছেন যারা ১৫৫৪ টাকায় রেকর্ড ডেটে শেয়ার ধরে রেখেছেন।
অন্তবর্তীকালীন লভ্যাংশ পরবর্তী কোম্পানিটির ইল্ড ১.৯৩। সঙ্গে যে একটি শেয়ারে দুটি বোনাস মিলেছে, সেটি দামের সঙ্গে সমন্বয় হয়েছে।
একই টাকায় কেউ সিটি ব্যাংকের শেয়ার কিনলে লভ্যাংশ পাবেন সাড়ে তিনগুণ। আর তুলনামূলক কম লভ্যাংশ ঘোষণা করা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনলে পাবেন দেড়গুণের বেশি।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো শেয়ার প্রতি ২৫ থেকে ৬০ টাকা লভ্যাংশ দিলেও ক্রমাগত বাড়ছে শেয়ারের দাম। কোনো কোনো কোম্পানির ১০ টাকার শেয়ার ছাড়িয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকার বেশি। অথচ তুলনামূলক ডিভিডেন্ট ব্যাংকের শেয়ারের চেয়ে কম।
এরপরও ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, ব্যাংকে স্থায়ী সঞ্চয় বা এফডিআরের চেয়ে শেয়ার কিনলে অনায়াসে বেশি লাভ করা যায়।
আর এখনও যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি সেসব ব্যাংকের পরিসংখ্যানও ভালো মুনাফার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেয়ারধারীরাও আশা করছেন ভালো মুনাফা।
ব্যাংকে কম টাকায় বেশি লাভ
চলতি বছর এখন পর্যন্ত আটটি ব্যাংক তাদের শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ওয়ান ব্যাংকসহ আগের বছরের তুলনায় লভ্যাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।
ব্যাংক এশিয়া গত বছরের চেয়ে বেশি আয় করেও সমান লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর মার্কেন্টাইল ব্যাংক সমান আয় করে শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা কম লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করা ব্যাংকের মধ্যে চারটি যে হারে লভ্যাংশের প্রস্তাব করেছে তা যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিম বা এফডিআরের হারের চেয়ে বেশি। এগুলো হলো মার্কেন্টাইল, সিটি, প্রিমিয়ার ও যমুনা ব্যাংক। আর ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ এফডিআরের সুদ হারের প্রায় সমান।
এছাড়া, প্রতিটি ব্যাংকটি নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারধারীরা।
ডাচ বাংলা ব্যাংক ২০২০ সালের জন্য তার শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ বোনাস ও শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর দেড় টাকা নগদের পাশাপাশি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ৫৭ টাকা ৭০ পয়সায়।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবার শেয়ার প্রতি ৭০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে যাচ্ছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ২১ টাকা ৯০ পয়সায়।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবার শেয়ার প্রতি এক টাকা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে যাচ্ছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি এক টাকা ১০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৩ টাকা ৭০ পয়সায়।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা ২০১৫ সালে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন। ২০১৬ সালে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছেন তারা। ২০১৯ সালে আবার পেয়েছেন ৮.৩৩ শতাংশ নগদ মুনাফা (ইল্ড) এবং পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার।
ব্যাংক এশিয়ার এবার শেয়ার প্রতি এক টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে। আগের বছরও তারা সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৭ টাকা ২০ পয়সায়।
প্রিমিয়ার ব্যাংক এবার শেয়ার প্রতি এক টাকা ২৫ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে যাচ্ছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সায়।
সিটি ব্যাংক এবার শেয়ার প্রতি এক টাকা ৭৫ পয়সা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে যাচ্ছে। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ২৬ টাকা ২০ পয়সায়।
সিটি ব্যাংক আগের বছর শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
২০১৫ সালে ১০ দশমিক ৭৮, ২০১৬ সালে ৮ দশমিক ৮২, ২০১৭ সালে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ নগদ (ইল্ড) মুনাফার পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস, ২০১৮ সালে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ নগদ (ইল্ড) এর পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ ইল্ড মুনাফা পাওয়া গেছে।
যমুনা ব্যাংক ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ার প্রতি এক টাকা ৭৫ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৮ টাকা ৮০ পয়সায়।
আগের বছর শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
ওয়ান ব্যাংক মহামারির বছরে আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ মুনাফা কম করেও শেয়ারধারীদেরকে ১৫ শতাংশ বেশি লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।
২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা নগদ এবং সাড়ে ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১১টি বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ এবার লভ্যাংশের পরিমাণ মোট ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটির শেয়ারধারীরা শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ৫ টি অর্থাৎ সর্বমোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
ওয়ান ব্যাংকে ২০১৫ সালে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ ইল্ড মুনাফার পাশাপাশি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ৬ দশমিক ১ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি ১০ শতাংশ বোনাস, ২০১৭ সালে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ বোনাস পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালে ব্যাংকটির ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছেন।
লভ্যাংশে বহুজাতিক কোম্পানির চিত্র
বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৮ সালে কোম্পানিটি ১০০ শতাংশ বোনাস ও ২০০ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২০ টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তখন কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় তিন হাজার টাকা হয়ে যায়।
বার্জার পেইন্টের ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ ইল্ড মুনাফা, ২০১৬-১৭ সময়ে ইল্ড মুনাফা ছিল ২ দশমিক ৮১ শতাংশ, ২০১৮ সালে দশমিক ৯৫ ইল্ড মুনাফার পাশাপাশি ১০০ শতাংশ বোনাস, ২০১৯ সালে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ইল্ড মুনাফা এবং ২০২০ সালে ইল্ড মুনাফা ছিল ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
পুঁজিবাজারের আরেক বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ লিমিটেড (বেট বাংলাদেশ) বছর শেষে শেয়ারধারীদের যে রিটার্ন দিয়েছে তা ব্যাংকের কাছাকাছি হলেও তুলনামূলক বিচারে অনেক ব্যাংকের চেয়ে কম।
বিএটিবিসির ২০১৬ সালে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ ইল্ড মুনাফা, ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ইল্ড মুনাফা, ২০১৮ সালে ১.১ দশমিক ১৬ শতাংশ ইল্ড মুনাফার পাশাপাশি ২০০ শতাংশ বোনাস, ২০১৯ সালে ১ দশমিক ১৩ ইল্ড মুনাফা এবং ২০২০ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ইল্ড মুনাফার পাশাপাশি ২০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।
ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেড তাদের শেয়ারধারীদের বছর শেষে রিটার্ন দেয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট হার ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ ইল্ড মুনাফা আকারে প্রদান করেছে।
ম্যারিকো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শেয়ারধারীরা সর্বোচ্চ ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ইল্ড মুনাফা আকারে পেয়েছেন। এবং ২০১৬ সালে সর্বনিম্ম ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ ইল্ড মুনাফা পেয়েছেন শেয়ারধারীরা।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কার্যালয়
লভ্যাংশ ঘোষণা না করা সিংহভাগ ব্যাংকই লোভনীয়
২০১৫ সালে এক্সিম ব্যাংকে বিনিয়োগ করে শেয়ারের মূল্যের অনুপাতে ১৩.৯৫ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। ২০১৬ সালে এই হার ছিল ১২.৮২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কিছুটা কমলেও বর্তমানে সঞ্চয়ী সুদহারের চেয়ে বেশি ছিল। ওই বছর মুনাফার ইল্ড ছিল ৭.২৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল ৮.৪৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে ছিল ১০ শতাংশ।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ২০১৫ সালে ৬.৮ শতাংশ নগদের (ইল্ড) পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ১২.৫৮ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬.২২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭.৫৪ এবং ২০১৯ সালে ৭.৫৬ শতাংশ নগদ (ইল্ড) মুনাফা পাওয়া গেছে।
ইস্টার্ন ব্যাংকে ২০১৫ সালে ৬.৯৯ ইল্ড মুনাফার পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ৬.০৯ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস, ২০১৭ সালে ৩.৯১ শতাংশ ইল্ড, ২০১৮ সালে ৫.৫৬ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ৪.৫২ শতাংশ ইল্ড মুনাফা পাওয়া গেছে।
এনসিসি ব্যাংকে ২০১৫ সালে ১৪.০১ শতাংশ ইল্ড মুনাফা, ২০১৬ সালে ১২.০৭ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭.৩৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৩.৪৪ শতাংশ নগদ ইল্ড ও পাঁচ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ১২.৫০ শতাংশ ইল্ড মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) এর বিনিয়োগকারীরা ২০১৫ সালে ৯.৩৯ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ৭.০৪ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬.৩৬ শতাংশ ইল্ড মুনাফা পেয়েছেন। ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ৩.৭৬ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি পাঁচ শতাংশ বোনাস পেয়েছেন তারা।
উত্তরা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা ২০১৫ সালে ৮.৮১, ২০১৬ সালে ৮.১০, ২০১৭ সালে ৫.৬৭, ২০১৮ সালে ৭.০২ শতাংল ইল্ডের পাশাপাশি দুই শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ২.৫৭ শতাংশ ইল্ডের পাশাপাশি ২৩ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছেন।
কিছু কিছু ব্যাংক এই সময়ে কেবল বোনাস শেয়ার দিয়েছে লভ্যাংশ হিসেবে। কোনো কোনো ব্যাংক বোনাস ও নগদ মিলিয়ে লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে সেগুলোর কোনোটির ইল্ড হিসাব করা যায় না। আবার যেগুলো মিশ্র লভ্যাংশ দিয়েছে, সেগুলোর ইল্ড কম ছিল।
শেয়ারের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে যে আর্থিক মুনাফা তাকে পুঁজিবাজারে বলে ইল্ড।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুল রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের মুনাফার সঙ্গে পুঁজিবাজারের মুনাফা হিসাব করা একটু জটিল। কারণ ব্যাংকে টাকা রাখলে এক বছর শেষ হওয়ার পর মুনাফা পাওয়া যায়। কিন্তু পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে কেউ চাইলে রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ার কিনে তিন থেকে চার মাসের মধ্যেও লভ্যাংশ পেতে পারে।
‘এছাড়া পুঁজিবাজারে বোনাস লভ্যাংশও পাওয়া যায়। চাইলে কিনে লেনদেনেও মুনাফা করা যায়। ফলে যে কোনো দিক দিয়েই হিসাব করলে ব্যাংকের চেয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ লাভজনক। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল বিবেচনা করতে হবে।’
করোনা মহামারিতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিরতণসহ মন্দ ঋণের পরিমাণ কম হওয়ায় মুনাফা হয়েছে আগের বছরের চেয়ে বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবে ২০২০ সালে মুনাফার বিপরীতে ভালো লভ্যাংশ পাবার প্রত্যাশা ছিল ব্যাংকের শেয়ারধারীদের।
কিন্ত ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে লভ্যাংশ ঘোসণার সীমা বেধে দেয়ার পর সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তীতে তা সংশোধন করে জানায়, শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদসহ ৩৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে ব্যাংকগুলো। যেখানে আগে দেয়া হয়েছিল ৩০ শতাংশ।
বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা হওয়ায় এই নীতিমালায় নগদ মুনাফা বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ উপকার হতে পারে।
অধ্যাপক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আগেও বলেছি। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়গুলো বোঝে না। তারা দেখে কোনো কোম্পানি কত লভ্যাংশ দিল। কিন্তু কোনো কোম্পানি বছর শেষে কত হারে লভ্যাংশ দিলো বা আগামীতে কত দিতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকের শেয়ারের যে দর তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেধে দেয়া হারেই লভ্যাংশ দিলে তাতেই লাভবান হবে ব্যাংকের শেয়ারধারীরা।’
জাতীয় দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে এক জমকালো ডিনারে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ২৪ জন ক্রেতা। দেশজুড়ে চলমান ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর আওতায় এই সুবিধা পান তাঁরা।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ২৪ এ ‘নেক্সট লেভেল ডিল’ অফারের আওতায় ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি ফ্যান কিনে ক্রেতাদের জন্য রয়েছে মিলিয়নিয়ার বা নগদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে ডিনার করার সুবিধা। এরই ধারাবাহিকতায় সিজন-২৪ এ ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসি কিনে এই সুবিধা পেয়েছেন ২৪ জন ক্রেতা। তাদের মধ্যে ২ জন পেয়েছেন থাইল্যান্ড ভ্রমণের ট্রাভেল কুপন।
গত শুক্রবার (২৭ জুন, ২০২৬) রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৪ জন গ্রাহকের সম্মানে এক জমকালো ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে গ্রাহকেরা ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। পাশাপাশি অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন।
সেসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেকের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং সিনিয়র এডিশনাল এক্সিকিউটভি ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
ডিনার অনুষ্ঠানে চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি ওয়ালটন ব্র্যান্ডের টার্গেট থাকে গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা ও আনন্দ দেয়া। বাড়তি সুবিধা দেয়ার কারণে ওয়ালটন ও তার গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার জায়গা আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। ক্রেতাদের এই আস্থায় ভর করেই ওয়ালটন আজ এতোবড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে ডিনারসহ আনন্দঘন এই মুহুর্তটি গ্রাহকরা জীবনে একটি সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। ওয়ালটন পণ্যের গ্রাহকদের জন্য এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী চলমান ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন, ২০২৬। ক্যাম্পেইনের এই সিজনে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ওয়ালটন ফ্রিজ এবং এসি কিনে মিলিয়নিয়ার অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন ৬ জন ক্রেতা। তারা হলেন: ভালুকার খোকন মিয়া, রাজধানীর মাহমুদুল হাসান, নাটোরের গৃহবধূ আফরোজা বেগম, বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার।
মিলিয়নিয়ারের পাশাপাশি তাসকিন এবং মিমের সঙ্গে ডিনারের সুযোগ পেয়েছে ২৪ জন। এছাড়াও এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ভাউচারসহ আর্জেন্টিনার ফ্যান জার্সি ফ্রি পেয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।
সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ধনুয়া উচ্চবিদ্যালয়ে একটি অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি হাতে-কলমে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (এইচএসই) মাহাদী হাসান। প্রশিক্ষণে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়, জীবন রক্ষার উপায়, বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে স্থানত্যাগের বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অভিভাবক প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩১০ জন অংশগ্রহণ করেন। নানা ইন্টারেক্টিভ প্রদর্শনী ও ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অগ্নি নিরাপত্তার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। এতে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অগ্নি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জননিরাপত্তার বিষয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ ছিল বৈদ্যুতিক ত্রুটি। তাই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, নিরাপদে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক ব্যবহারিক জ্ঞান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অর্থবহ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশজুড়ে জননিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এনার্জিপ্যাক।
প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি চিরন্তন নিয়ম ছিল— বাজারে নতুন মডেলের ডিভাইস এলেই পুরনো মডেলগুলোর দাম কমতে শুরু করত। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য ও দ্রুত বিস্তারের কারণে সেই প্রচলিত চেনা ট্রেন্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন পণ্যের পাশাপাশি বাজারে থাকা কয়েক বছর পুরনো ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং গেমিং কনসোলের দামও উল্টো হু হু করে বাড়ছে। শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামোর বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে ডিভাইসগুলোর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের প্রভাবশালী প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট তাদের বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিভাইস ও গেমিং কনসোলের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। বাজারে আসার পর কয়েক বছর পার হয়ে যাওয়া পণ্যের ক্ষেত্রেও এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। যেমন— অ্যাপল সম্প্রতি তাদের বাজারে থাকা ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এর মূল কারণ হিসেবে টেক জায়ান্টগুলো জানাচ্ছে, এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোর চাহিদা বিশ্বজুড়ে রকেটের গতিতে বাড়ছে। আর এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলো পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ এবং মেমোরি কার্ড। ফলে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ডিভাইসের গতি নির্ধারণী উপাদান ‘র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি’ বা র্যামের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বিশ্লেষকরা বর্তমানের এই সংকটময় পরিস্থিতিকে ‘র্যামাগেডন’ নামে অভিহিত করছেন; কারণ একসময়ের অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য এই উপাদানটির দাম এখন লাগামহীন।
একই সংকটের অজুহাতে আরেক মার্কিন জায়ান্ট মাইক্রোসফট তাদের প্রায় পাঁচ বছর পুরনো ‘এক্সবক্স সিরিজ এস’ এবং ‘এক্সবক্স সিরিজ এক্স’ গেমিং কনসোলের দাম কমপক্ষে ১০০ ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী আগস্ট মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিটি মূলত গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এক্সবক্স কনসোলের টানা তৃতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি। এই ধারাবাহিক সমন্বয়ের ফলে বাজারে থাকা পুরনো মডেলের একটি নতুন কনসোলের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ গেমার ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের পকেটে বড় ধরনের টান ফেলবে।
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টা থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ায় প্রধান মূল্যসূচকসহ বাকি দুটি সূচকেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বেলা ১১টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ২ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে। এছাড়া বাছাইকৃত ব্লু-চিপ বা বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে।
বাজারের এই দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের গতি ছিল বেশ সন্তোষজনক। প্রথম দেড় ঘণ্টা বা মধ্যদুপুর পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৫৬৫ কোটি ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও ইনস্ট্রুমেন্টগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; যার মধ্যে ১৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, ১৫২টির দর কমেছে এবং ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কর রেয়াত বা ট্যাক্স বেনিফিট নেওয়ার জন্য অর্থবছর শেষের এই সময়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে লেনদেনের এই গতি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি বাজারে তাদের ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং নতুন ওষুধ দ্রুত বাজারে আনার লক্ষ্যে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
ডিএসইতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ‘সি টু সি ফার্মা লিমিটেড’ নামক একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন সংক্রান্ত একটি বিশেষ চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলগত চুক্তির আওতায় এখন থেকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে তাদের ফর্মুলা ও মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ উৎপাদন করবে সি টু সি ফার্মা।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বাজারে স্কয়ারের ওষুধের যে বিপুল ও বর্ধিত চাহিদা রয়েছে, তা নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে আরও দ্রুত মেটানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে নতুন নতুন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বাজারে নিয়ে আসা এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হবে। এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ এই চুক্তির একটি অনুলিপি সরবরাহ করার জন্য স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে অনুরোধ জানিয়েছে, তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সেই চুক্তির অনুলিপি এখনো স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে পৌঁছায়নি।
উল্লেখ্য, সুদীর্ঘকাল ধরে দেশের ওষুধ খাতে আধিপত্য বিস্তার করে রাখা স্কয়ার ফার্মা ১৯৯৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৮৮৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৫৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গতকাল রোববার (২৮ জুন) লেনদেন শেষে ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ২২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে কোম্পানির উৎপাদন ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে না নামায় এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান থাকায় নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতেও কঠোর ও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবারও সংকোচনমূলক নীতির ধারা অব্যাহত রাখার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বহুল আলোচিত নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এই নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন অর্থবছরের বড় বাজেট, প্রণোদনা কর্মসূচি, তারল্য সহায়তা এবং ডলার ক্রয়ের কারণে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি হয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে; তাই এই মুহূর্তে নীতি সুদহার কমিয়ে সম্প্রসারণমূলক বা সহজ নীতিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সরকার নতুন অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম এই সতর্ক অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, “বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমিয়ে বাজার সহজ করা সমীচীন হবে না। রাজস্বনীতি যেখানে সম্প্রসারণমুখী, সেখানে মুদ্রানীতিও সহজ করা হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সতর্ক বা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছে।”
অন্যদিকে ভিন্ন মত পোষণ করে পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, “শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। করব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বর্তমানে উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে। আমার মতে, নীতি সুদহার ১ শতাংশ কমিয়ে ৯ শতাংশে আনা হলে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগে গতি ফিরত।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে যায় এবং নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসের মুদ্রানীতিতেও এটি ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থবছর শুরুর আগেই সময়োপযোগী একটি মুদ্রানীতি দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’ (BGIS) জারির মাধ্যমে বাজার থেকে ৫,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার। ২৭৩ দিন মেয়াদি এই ইজারা সুকুক বন্ড বা ইসলামিক ট্রেজারি বিলের নিলামে ইসলামী ব্যাংক ও শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে অভূতপূর্ব ও রেকর্ড ভাঙা আগ্রহ দেখা গেছে। সরকারের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় এবার ১০ গুণেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৬,৬০৭ কোটি টাকার বিড (আবেদন) জমা পড়েছে। দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ বা বিনিয়োগের গতি ধীর থাকায়, ইসলামী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুকুককে সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।
রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক বার্ষিক ৯.৩৬ শতাংশ ভাড়া (মুনাফা) হারে প্রথমবারের মতো এই স্বল্পমেয়াদি সুকুক নিলামের আয়োজন করে। এই ইস্যুর বিপরীতে জমা পড়া ৫৬,৬০৭ কোটি টাকার বিশাল তহবিল থেকে সরকার কেবল তার নির্ধারিত ৫,৫০০ কোটি টাকা গ্রহণ করেছে। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’-এর বিপরীতে এই সুকুক বা ইসলামিক বন্ডটি জারি করা হয়েছে। এই নিলামে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক একাই ৪,৪০০ কোটি টাকার আবেদন করেছিল, তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ব্যাংকটি প্রোপোরশনেট (অনুপাতিক) হারে মাত্র ৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছে।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকগুলো সরকারের ঘাটতি বাজেট মেটাতে যেভাবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে দেদারসে বিনিয়োগের সুযোগ পায়, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সেই বিকল্প খুবই সীমিত। ফলে সুকুকই তাদের জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যম। তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও উল্লেখযোগ্য আবেদন এসেছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তি পর্যায়ের সকল গ্রাহকের আবেদনই (যেমন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ৬ কোটি টাকা) শতভাগ অনুমোদন করেছে।
সুকুকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি ‘ইজারা সুকুক’। যার ফলে ২৭৩ দিনের মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা মূল অর্থের সঙ্গে এককালীন অর্জিত মুনাফা বা ভাড়া ফেরত পাবেন। এতে সাধারণ নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত মোট ১১ বার সুকুক জারি করেছে, যার মধ্যে আগের ১০টিই ছিল ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি বন্ড। আর ১১তম এই সুকুকটি ছিল দেশের প্রথম স্বল্পমেয়াদি ইজারা সুকুক। সব মিলিয়ে সরকার এই ইসলামিক ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৫৩,৫০০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করল। যার মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৫টি সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে তোলা হয়েছে ২৯,৫০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সরকার সুকুকের বাজার থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দূরদর্শী পরিকল্পনা করছে, যা দেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য