কর্মসংস্থানে ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

কর্মসংস্থানে ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

৫ বছর গ্রেসসহ ৩০ বছরে স্বল্প সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর এক বছরে চলমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে এ নিয়ে মোট ৭৫ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এরই মধ্যে দুই কিস্তির টাকা ছাড় করেছে সংস্থাটি।

করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে ওয়াশিংটনভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদানকারি সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

সংস্থার বোর্ড সভায় এ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে দুই পক্ষের চুক্তি সই হবে।

শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

চলমান ‘উন্নয়ন নীতি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির’ আওতায় এই অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, যার মাধ্যমে করোনায় অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ, নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মানসম্মত কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে স্বল্প সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর গত এক বছরে চলমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে এ নিয়ে মোট ৭৫ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীর সবচেয়ে বড় অংশীদার বিশ্বব্যাংক। এরই মধ্যে দুই কিস্তির টাকা ছাড় করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বোন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও কমে গেছে কর্মসংস্থানের গতি, বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতের। কভিড-১৯ এর কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এর অভিঘাত বেশি পড়েছে গরিব ও নারীদের ওপর।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার কারণে বাংলাদেশে অনেক লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে। কাজ হারিয়েছে শ্রমিকরা। অনানুষ্ঠানিক খাতের অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে, যাতে শ্রমিকরা তাদের কাজ ফিরে পান। ফলে তাদের আয়-রোজগারের পথ তৈরি হবে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে অর্থনীতি।

চলমান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ লাখ লোকের চাকরি সুরক্ষা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া দেশটির ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি বাড়াবে, খরচ কমাবে ও শ্রম বাজার চাঙা করবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্রামীণফোনের আয় কমেছে

গ্রামীণফোনের আয় কমেছে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রান্তিকের শেষভাগে জিপির রাজস্ব আয়ে আগের বছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ৩.৭ শতাংশ, যার ফলে ইবিআইটিডিএ (পরিচালন আয়) মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৬২.৭ শতাংশ। এ সময়ে ২৫.৬ শতাংশ মার্জিন নিয়ে কর পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯০ কোটি টাকা।’

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তিন হাজার ৪৮১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে মোবাইল ফোন অপারেটোর গ্রামীণফোন (জিপি)। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন দশমিক সাত শতাংশ কম।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছে। এর ফলে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রান্তিক শেষে জিপির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৭ লাখ। এর মধ্যে ৪ কোটি ১৭ লাখ গ্রাহক অর্থাৎ মোট গ্রাহকের ৫১.৭ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ প্রান্তিকের শেষভাগে আমাদের রাজস্ব আয়ে আগের বছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ৩.৭ শতাংশ, যার ফলে ইবিআইটিডিএ (পরিচালন আয়) মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৬২.৭ শতাংশ। এ সময়ে ২৫.৬ শতাংশ মার্জিন নিয়ে কর পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯০ কোটি টাকা।’

জিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ‘২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নিলামে ১০.৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অধিগ্রহণ করার ফলে গ্রামীণফোনের স্পেকট্রামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭.৪ মেগাহার্টজে। প্রথম প্রান্তিকে ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক নিয়ে আমরা ৮ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করেছি।’

আজমান বলেন, ‘বাজার পরিচালন, উদ্ভাবন, সহজ সেবা ও গ্রাহক স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং গ্রাহকদের সক্ষমতা বাড়ানো ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের পরিবেশ তৈরিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ১০.৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অধিগ্রহণ করেছে। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা (লাইসেন্স ও লিজ ছাড়া)। গ্রামীণফোনের সাইটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৫২টি।’

শেয়ার করুন

এফবিসিসিআই নির্বাচন স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ

এফবিসিসিআই নির্বাচন স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা আবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে নির্বাচন কেন স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে ১৪ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক বরাবর একটা আবেদন করি। ওই আবেদনটি তারা নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে আবেদন করি।

‘আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশনের পরিচালককে আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রুল জারি করেছেন।’

আগামী ৫ মে এফবিসিসিআই ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে পরিচালক পদের ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

ওই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বাংলাদেশ ফুড স্টাফ ইমপোর্টার অ্যান্ড সাপ্লায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন।

এফবিসিসিআই সম্প্রতি যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে আনোয়ার হোসেনের নাম নেই।

বাণিজ্য বিধিমালা ১৯৯৪ এর রুলস অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধন চেয়ে দরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই তাতে সাড়া না দেয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন আনোয়ার হোসেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার একই আদালত এফবিসিসিআই-এর ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল।

একই সঙ্গে আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে তৈরি করা ভোটার তালিকা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

গত ১৩ মার্চ প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সংশোধনসাপেক্ষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয় ২৪ মার্চ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পরিচালক পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল ৩১ মার্চ।

৮ এপ্রিল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১১ এপ্রিল ছিল প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন। ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২১ এপ্রিল ছিল প্রত্যাহারে শেষ দিন।

৫ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পরিচালক পদে সাধারণ সদস্যদের ভোটগ্রহণ শেষে ফল প্রকাশ করা হবে বলে তফসিলে ঘোষণা করে এফবিসিসিআই।

শেয়ার করুন

দেশে তৈরি নতুন ফোনের প্রি-বুকিং নিচ্ছে ওয়ালটন

দেশে তৈরি নতুন ফোনের প্রি-বুকিং নিচ্ছে ওয়ালটন

ওয়ালটন সেলুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান বলেন, ‘প্রিমো এইচএমসিক্স’ মডেলের ওই ফোনটির দাম ৮ হাজার ৮৯৯ টাকা। তবে ই-প্লাজায় প্রি-বুক দেয়া ক্রেতারা এটি পাবেন ৭ হাজার ৮৯৯ টাকায়। ই-প্লাজা থেকে কেনা সব মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোনে রয়েছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা।

নতুন মডেলের আরও একটি ফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়ালটন, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী ব্যাটারিসহ আকর্ষণীয় ফিচার।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঘরে বসেই ওয়ালটনের নিজস্ব অনলাইন শপ ই-প্লাজা থেকে বিনা মূল্যে ফোনটির প্রি-বুক দেয়া যাবে। প্রি-বুকে থাকছে এক হাজার টাকার মূল্যছাড়।

ওয়ালটন সেলুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান বলেন, ‘প্রিমো এইচএমসিক্স’ মডেলের ওই ফোনটির দাম ৮ হাজার ৮৯৯ টাকা। তবে ই-প্লাজায় প্রি-বুক দেয়া ক্রেতারা এটি পাবেন ৭ হাজার ৮৯৯ টাকায়। ই-প্লাজা থেকে কেনা সব মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোনে রয়েছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা।

ওয়ালটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৬০০০ মিলি-অ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারির ‘প্রিমো এইচএমসিক্স’ মডেলের ফোনটি একবার চার্জে ৫০ দিন পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই মোডে সচল থাকবে। এই ফোনে ৪৬ ঘণ্টা ভয়েস কলিং, ৩০ ঘণ্টা মিউজিক প্লেব্যাক, ১৮ ঘণ্টা ওয়েব ব্রাউজিং, ১৪ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক ও ৯ ঘণ্টা ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন গ্রাহক।

ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১০ গো অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.৬ গিগাহার্টজ গতির এআরএম কোর্টেক্স-এ৫৫ অক্টাকোর প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে ২ জিবি র‌্যাম ও পাওয়ার ভিআর জিই৮৩২২ গ্রাফিক্স। ফলে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, থ্রিডি গেমিং ও দ্রুত ভিডিও লোড ও ল্যাগ-ফ্রি ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা পাওয়া যাবে।

ফোনটির অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৩২ গিগাবাইটের, যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
ফোনটির পেছনে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত এফ ২.০ অ্যাপারচারসমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির এআই ডুয়াল ক্যামেরা। এর ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা দেবে উজ্জ্বল, ঝকঝকে রঙিন ছবি। আর ডেপথ সেন্সর পোরট্রেইট ফটোগ্রাফি করবে আরও উন্নত।

বাংলাদেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে ৩০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট সুবিধাসহ এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে ওয়ালটন।

শেয়ার করুন

বিমা অফিস চালাতে হবে ২৫ শতাংশ জনবলে

বিমা অফিস চালাতে হবে ২৫ শতাংশ জনবলে

বিমা কোম্পানি খোলা রাখা বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। ফাইল ছবি

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকাল দশটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা থাকবে। তবে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ  রাখতে হবে অফিসে। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারঘোষিত বিধিনিষেধে বিমা কোম্পানির অফিসও সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে খোলা থাকলেও অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ২৫ শতাংশ জনবল নিয়ে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক এস এম শাকিল আখতারের সই করা সোমবারের এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকাল দশটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো খোলা থাকবে। তবে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ রাখতে হবে অফিসে।

জীবন বিমার ক্ষেত্রে কোম্পানির মেয়াদপূর্তি ও মৃত্যু দাবি যথাসময়ে পরিশোধের জন্য কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার স্বল্প সময়ের জন্য খোলা রাখে সরকার। মঙ্গলবার কঠোর বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিনে আরও সাত দিন চলমান বিধিনিষেধ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএ) আইডিআরের কাছে সীমিত পরিসরে বিমা কোম্পানির অফিস খুলে রাখার আবেদন করে চিঠি দেয়।

চিঠিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আদলে সব বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে ও সীমিত সময়ের জন্য খোলার অনুমোদন চেয়েছিল বিআইএ।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিআরএ।

শেয়ার করুন

স্কুল না পেরিয়েই ভারতের কনিষ্ঠতম ধনী নিখিল

স্কুল না পেরিয়েই ভারতের কনিষ্ঠতম ধনী নিখিল

ভারতের কনিষ্ঠতম ধনী নিখিল কামাথ। ছবি: সংগৃহীত

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে সহায়তা করার জন্য নিখিল কামাথ গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান জিরোধা। শেয়ার বাজারের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড কেনাবেচায় দালালির কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। পুরোনো ফোন কিনে তা আবার বেশি দামে বিক্রি করতেন নিখিল। বন্ধুর সঙ্গে সেই কাজ করতে গিয়ে স্কুলে ঠিকমতো যাননি তিনি।

কিন্তু বিধি বাম। একদিন ধরা পড়লেন স্কুলশিক্ষক মায়ের কাছে। কাছে থাকা ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন টয়লেটে। মার খান মায়ের হাতে।

জোর করে ঘরে আটকে রাখা হলো নিখিলকে। সোজা রাস্তায় চলতে বাধ্য করা হয় তাকে। করা হলো ডিগ্রি অর্জনে জোরাজুরি। তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিখিল হয়তো সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেন ব্যবসা করবেন।

একদিন বিরক্ত হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন তিনি। সেই নিখিলই এখন ভারতের কনিষ্ঠতম কোটিপতি। ২৪ হাজার কোটি রুপি সম্পদের মালিক নিখিল কামাথের বয়স মাত্র ৩৪ বছর।

আনন্দবাজারের খবর থেকে জানা গেছে, নিখিল কামাথ পড়াশোনা ছেড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাড়ি থেকে চলে যান। প্রথমে কাজ শুরু করেন এক কল সেন্টারে। সেখানে তার বেতন ছিল ৮ হাজার টাকা।

কাজ করতে হতো বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। দিনের অন্য সময়টা কাজে লাগাতে শুরু করেন নিখিল।

শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড- এসব নিয়ে বরাবরই কৌতূহল ছিল তার। বিষয়গুলোর গভীরে ঢুকতে প্রচুর পড়াশোনা শুরু করেন সে সময়টায়।

এরপর তিনি শেয়ার বাজার নিয়েই কাজ করার সংকল্প করেন। গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান জিরোধা। মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাহায্য করে তার সংস্থা। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড কেনাবেচায় দালালির কাজও করে।

নিখিলেন বাবা রঘুনাথ কামাথ ছিলেন ব্যাংক কর্মী। ছেলের ইচ্ছা পূরণে অবশ্য অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন তিনি। শুধু বাবা নয়, তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন কল সেন্টারের সহকর্মীরাও।

জিরোধা ছাড়াও তার রয়েছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান, ট্রু বেকন। বর্তমানে জিরোধার দৈনিক টার্নওভার প্রায় ১ কোটি ডলার।

২০২০ সালে ফোর্বসের প্রথম ১০০ ধনীর তালিকায় জায়গা করে নেন নিখিল। আর ২০২১ সালে হুরানের বৈশ্বিক ধনীর তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে ভারতের তরুণ ধনী হিসেবে স্থান পেয়েছেন নিখিল। শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, একজন সফল দাবাড়ুও নিখিল। খেলেছেন জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ।

শেয়ার করুন

আস্থা ফিরছে পুঁজিবাজারে, লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি

আস্থা ফিরছে পুঁজিবাজারে, লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি

ব্রোকারেজ হাউজে লেনদেনের সময় মোবাইল ফোনে শেয়ারের দর বাড়া কমার চিত্র দেখছেন এক বিনিয়োগকারী। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৬ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকার। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকার।

টানা ছয় দিনের মতো সূচকের উত্থানে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন। বেড়েছে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর।

মঙ্গলবার গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হাজার কোটি টাকা লেনদেন দেখলেন বিনিয়োগকারীরা।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলমান লকডাউনে হাজার কোটি টাকা লেনদেন নতুন আস্থার পরিচয় দিল পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীরা এ সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে শেয়ার বিক্রির চেয়ে শেয়ার ক্রয় বা বাজার পর্যবেক্ষণে মনোযোগী ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে হাজার কোটি টাকার লেনদেনে পৌঁছাল পুঁজিবাজার।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকার। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকার।

উত্থানে সূচক ও লেনদেন

লেনদেন গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সূচকও পৌঁছেছে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ সূচক ছিল এ পর্যায়ে। তারপর থেকে মূলত কমতে থাকে সূচকের উত্থান। সে সূচক ৪ এপ্রিল নেমে আসে ৫ হাজার পয়েন্টে।

মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ছিল সূচকের উত্থান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সূচক বাড়ার হার।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭১ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২১ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩৬ দশমিক ১২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৩টির, কমেছে ৯৮টির। দর পাল্টায়নি ৬৩টির।

মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৯৭ কোটি টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৬০২ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৯টির, কমেছে ৭৭টির। দর পাল্টায়নি ৩১টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকের ভাষ্য

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেনে যেহেতু বেড়েছে সেহেতু এটা ভালো সংকেত। এখন যাদের মুনাফা আছে তারা চাইলে শেয়ার বিক্রি করতে পারে।’

এমন বাজারে বিনিয়োগকারীদের লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করতে পরমার্শ এই বিশ্লেষকের।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে করোনার এই মহামারিতে নাস্তানাবুদ, সেখানে আমাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্স বাড়ছে, রিজার্ভ বাড়ছে। ফলে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

‘পুঁজিবাজারে যখন পতন হয় তখন বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে পড়ে যান। সূচক পতন বা লেনদেন কমে আসা এটি পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা সে সময়টিতে শেয়ার বিক্রি না করলে বাজার স্বাভাবিকভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবে, যেটি এ সময়টিতে দেখা যাচ্ছে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাণহীন পুঁজিবাজারে এখন যেভাবে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে সেটি কত দিন অব্যাহত থাকবে সেটিই দেখার বিষয়।’

হাজার কোটি টাকা লেনদেন দেখিয়ে আবার নতুন বিনিয়োগ করলে সে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তিনি সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা কিছু মুনাফা পেলে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো বিষয়।’

শেয়ার করুন

বৈদেশিক শ্রমবাজারের মেঘ কাটছে না

বৈদেশিক শ্রমবাজারের মেঘ কাটছে না

করোনা সংক্রমণের মধ্যেই বিদেশ যেতে শ্রমিকরা বিমান টিকিট পেতে বিক্ষোভ করেন রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে। ছবি; সাইফুল ইসলাম

দেশে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হওয়ায় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইনে থাকা ৫ লাখ প্রবাসীর কর্মসংস্থানে ফেরা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এমনিতেই প্রথম দফার করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার। গত এক বছরে চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ৯ লাখেরও বেশি। করোনার প্রভাব কমায় কিছু প্রবাসী শ্রমিক কর্মস্থলে ফেরতও গেছেন। কিন্তু এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাড়ে ৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার প্রথম ধাক্কাই এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রবাসী শ্রমবাজারের গন্তব্য দেশগুলো। এরই মাঝে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রবাসী শ্রমবাজার নিয়ে আশা জেগে উঠছিল। এখন তাতে আবার শঙ্কার মেঘ।

দেশে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হওয়ায় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইনে থাকা ৫ লাখ প্রবাসীর কর্মসংস্থানে ফেরা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, নতুন বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অনেক শ্রমিক বাইরে গেছেন। নতুন আশা জাগছিল। কিন্তু এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের কারণে চিন্তায় পড়েছেন লাখ লাখ শ্রমিক।

এরই মাঝে অনেক দেশে করোনা বেড়ে গেছে। অনেক দেশে আগের পরিস্থিতি বিরাজমান। ফলে বৈদেশিক শ্রমবাজার খুললেও শঙ্কা কাটেনি। করোনা পরিস্থিতি না কেটে যাওয়া পর্যন্ত শ্রমবাজার আগের অবস্থায় ফেরার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটির) অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাফরিজা শ্যামা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মী যাওয়া কিছুটা কমেছে। আসলে কর্মী যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। আর শ্রমবাজারের সুখবর নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।’

শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবাসী ডেস্কের দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৪ জন দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ১৯ হাজার ১৭২ জন ফিরে এসেছেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬ জন, ওমান থেকে ২৪ হাজার ৪৫৭ জন, কুয়েত থেকে ১৫ হাজার ২২৭ জন, বাহরাইন থেকে ৪ হাজার ৪৮৪ জন, কাতার থেকে ৪৯ হাজার ২৫২ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১৭ হাজার ১০৬ জন, মালদ্বীপ থেকে ১৫ হাজার ৯৭৭ জন ও সিঙ্গাপুর থেকে ৮ হাজার ৪২৪ জন ফিরেছেন।

বিএমইটির তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বিভিন্ন দেশে গেছেন ৮৫ হাজার ২৪২ জন কর্মী।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৬৯ হাজার ৯৮৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫৯ হাজার ১৩৯ জন এবং মার্চে ৫২ হাজার ৯১ জন প্রবাসী শ্রমিক কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। তিন মাসে মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২১৮ জন। এরপর চার মাসেরও বেশি সময় করোনার কারণে থমকে ছিল শ্রমবাজার। আগস্টে বৈদেশিক শ্রমবাজার আবার সচল হলে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কর্মী বিদেশে যান।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলছিলেন, ‘যারা ফেরত এসেছেন, দেশে তাদের আয়ের পথগুলো কী হবে, তা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। এ ছাড়া যারা বিদেশ যাচ্ছেন, তাদের যাওয়ার পদ্ধতি আরও নিরাপদ করার জন্য সরকারি উদ্যোগ থাকা দরকার।

বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার কারণে অভিবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাই বিপদে আছেন। যেসব শ্রমিক দেশে এসে করোনার কারণে আটকে আছেন, তাদের দ্রুত কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা উচিত।

এদিকে, ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরাতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে শনিবার থেকে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট অনুমোদন দেয় সরকার। এই পাঁচ দেশ হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ মোট ১২টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে। এগুলো হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি ও ফ্লাই দুবাই।

এরই মধ্যে দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এই পাঁচ দেশের আট গন্তব্যে বিমান ও চার দেশের চার গন্তব্যে ফ্লাইট ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

তবে প্রবাসী শ্রমিকেরা অনেকে ফিরে এলেও করোনায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমাগত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৮৬০ কোটি ৪৮ লাখ (১৮.৬০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (জুলাই-জুন) চেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

প্রতিবছর দেশে যে রেমিট্যান্স আসে, তার প্রায় অর্ধেক পাঠান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।

শেয়ার করুন