ব্যাংক খাতই সৃষ্টি করেছে বিশাল উদ্যোক্তা শ্রেণি

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং খাতের অনেকটা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংক খাতই সৃষ্টি করেছে বিশাল উদ্যোক্তা শ্রেণি

ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আর ৪৬০ কোটি টাকার আমানত নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের ব্যাংক খাত। ৫০ বছরে এটি দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক মুক্তি ছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের অন্যতম স্বপ্ন। তাই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ প্রথমেই নজর দেয় অর্থনীতি নির্মাণে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেশ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার যে মহাসড়কে উঠে এসেছে, এর অন্যতম কৃতিত্ব ব্যাংক খাতের। স্বাধীনতার পর ব্যাংকের অর্থায়নে দেশে গড়ে উঠেছে বিশাল উদ্যোক্তা শ্রেণি, যাদের হাত ধরে বিস্তৃত হয়েছে বেসরকারি খাত।

১৯৭০-এর দশকে ঋণ ব্যবস্থার প্রাথমিক কাজ ছিল মূলত বাণিজ্য এবং সরকারি খাতে অর্থায়ন, যা ছিল মোট ঋণের প্রায় ৭৫ ভাগ। ধীরে ধীরে ব্যাংক খাতের বিস্তৃতি বেড়েছে। আজকের যে অর্থনৈতিক উত্তরণ, তার পেছনে রয়েছে ব্যাংক খাতের অসামান্য অবদান।

১৯৭২ সালে ১ টাকার নোট প্রচলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নিজস্ব কাগজের মুদ্রা চালু হয়। স্বাধীনতার মাত্র তিন মাসের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভারত থেকে ছাপানো হয় ১ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নোট। পরে ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ এসব নোটকে নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে অবমুক্ত করা হয়।

খেলাপি ঋণ, অর্থ লোপাটসহ নানা সমালোচনা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় অবদান এই ব্যাংকিং খাতেরই।

দেশের ৫০ বছরে অসংখ্য উদ্যোক্তা সৃষ্টি করেছে ব্যাংক খাত, রেকর্ড বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তার ফসল। দেশে উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাংকের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন তিনি।

ব্যাংক গঠনের ইতিহাস

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে হাত দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয়করণ করা হয় ব্যাংক খাত।

স্টেট ব্যাংক অফ পূর্ব পাকিস্তানের শাখা নিয়ে গঠন করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয়করণের মাধ্যমে ১২টি ব্যাংক একীভূত করে রূপান্তর করা হয় ছয়টি সরকারি ব্যাংকের।

ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান ও ব্যাংক অফ ভাওয়ালপুর লিমিটেডকে একত্র করে সোনালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়; অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সমন্বয়ে; জনতা ব্যাংকের যাত্রা শুরু ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের সংযুক্তির মধ্য দিয়ে; রূপালী ব্যাংক স্থাপিত হয় মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডকে একত্র করে; পূবালী ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে অস্ট্রেশিয়া ব্যাংক ও ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংককে একসঙ্গে করে এবং উত্তরা ব্যাংকের যাত্রা শুরু ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশনের পরিবর্তিত নামে। এ সময়ে প্রতিটি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫ কোটি টাকা।

এভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম।

এ ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বাইরে এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়।

এ ছাড়া শিল্প ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করা হয়। দীর্ঘ ও মাঝারি মেয়াদি শিল্পঋণ দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ অনুসারে যাত্রা শুরু করে শিল্প ব্যাংক। কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষক ও জেলেদের মাঝে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।

এক দশক পর ১৯৮২ সালে যুক্ত হয় ব্যক্তিমালিকানায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

কালের বিবর্তনে হিসাব খোলা, ঋণ বিতরণ এবং লেনদেনে লেজার খাতার বদলে জায়গা করে নিয়েছে প্রযুক্তি বা ডিজিটাল ব্যাংকিং।

বর্তমান অবস্থা

ব্যাংক পুনর্গঠনের পরই ঋণ কার্যক্রম জোরদার করে বঙ্গবন্ধু সরকার। পাকিস্তানিদের দায় নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ কোটি টাকা, ১৯৭২ সালে যা ছিল ৪৬০ কোটি টাকা।

শূন্য থেকে শুরু করা বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায়, ওই সময় যা ছিল ২৮৯ কোটি টাকা।

এর ফলে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বেসরকারি খাতে।

ব্যাংক খাতই সৃষ্টি করেছে বিশাল উদ্যোক্তা শ্রেণি
প্রায় প্রতিটি ব্যাংকই এখন এনেছে নিজেদের ডিজিটাল ওয়ালেট, হাতের মুঠোয় থাকা ফোনের ব্যাংকের লেনদেন সারতে পারছেন ব্যবহারকারীরা।

উদ্যোক্তা তৈরিসহ স্বাধীনতার পর কৃষির উন্নয়নে গুরুত্ব দেন বঙ্গবন্ধু। এটিকে আদর্শ মেনে শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠায় জোর দেয়া হয়। এর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বাড়ছে কৃষি খাতে, যা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করেছে।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি এবং ভোক্তা ঋণের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ব্যাংকিং খাতের।

দেশে এখন ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক ও নয়টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।

এসব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ১০ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

এক দশক আগেও মোট জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশই ছিল ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ঋণের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) বা গ্রাম্য মহাজনই ছিল ভরসা। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতে যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন ব্যাংকিং সেবা।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন যেন একদম হাতের মুঠোয়। ব্যাংকবহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এমএফএস। ২০১১ সালে চালু হওয়া এ সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ১৬টি ব্যাংক।

এরপর যুক্ত হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ব্যাংকের শাখা খোলা সম্ভব নয়, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা খুলে কাজ চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এ সেবাটি চালু হয়েছে ২০১৩ সালে। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেবাটি। দেশের ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে।

এ ছাড়া রয়েছে বুথ ব্যাংকিং, উপশাখার মতো নিত্যনতুন ব্যাংকিং ধারণা।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকায় চালু করা বিশেষ হিসাবও। কৃষক, অতিদরিদ্র, পথশিশুর হিসাব, স্কুল ব্যাংকিংসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্যাংকে হিসাব খোলার মাধ্যমে সেবার আওতায় এসেছে।

ফলে আর্থিক সেবার আওতায় চলে এসেছে ৭০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী।

নতুন করে ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে ভার্চুয়াল ব্যাংক, ডিজিটাল শাখাসহ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বিভিন্ন সেবা।

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা থেকেই দেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করা হয়। ২০১১ সালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস চালু করা হয়। পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। সে সময় প্রযুক্তির উন্নয়নে করা বিনিয়োগই করোনা মহামারিতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে ব্যাংক ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ব্যাপক মাত্রায় জোর দিয়েছে, যার ফল করোনা মহামারিতে গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা পেয়েছেন। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে না গিয়েও গ্রাহকেরা সেবা নিতে পেরেছেন।

‘ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যাংক নিত্যনতুন সেবা চালু করছে। এতে আগামী দিনে দেশে ব্যাংকিং সেবার আওতা আরও বড় হবে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, উপশাখাসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীও ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।’

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভুল নম্বরে বিকাশ, উদ্ধার করে দিল পুলিশ

ভুল নম্বরে বিকাশ, উদ্ধার করে দিল পুলিশ

হারুনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে উদ্ধার করা টাকা তুলে দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২ এপ্রিল রাত ৯টায় তার পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা এবং খরচ ৪০০ টাকা একটি নম্বরে পাঠাতে গিয়ে ডিজিটের ভুলে অন্য একটি নম্বরে পাঠিয়ে দেন মুদি দোকানি হারুন। সেই ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে রাজি না হলে জিডি করেন তিনি। পরে দিনাজপুর থেকে সে টাকা উদ্ধার করে হারুনের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

ভুল করে একজনের বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে বিপাকে পড়া মুদি দোকানির ত্রাণকর্তা হলো পুলিশ। সেই টাকা ফিরিয়ে এনে তার হাতে তুলে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ায়।

জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ সুধিরাজপুর এলাকার মুদি দোকানি হারুন অর রশিদ বিকাশে টাকা পাঠানোর কাজও করেন।

গত ২ এপ্রিল রাত ৯টায় তার পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা এবং খরচ ৪০০ টাকা একটি নম্বরে পাঠাতে গিয়ে ডিজিটের ভুলে অন্য একটি নম্বরে পাঠিয়ে দেন।

টাকাটি যায় দিনাজপুরের একজনের কাছে। যার হিসাবে টাকা গেছে, তাকে অনুরোধ করে টাকাটি ফিরিয়ে দিতে বলেন হারুন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি হননি তিনি। এরপর ৫ এপ্রিল মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন হারুন।

এরপর কাজ শুরু করে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, দিনাজপুর জেলার সদর থানার সহায়তায় সেখানকার পারগাঁও গ্রামের সেই ব্যক্তির কাছ থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরের দিকে হারুন অর রশিদকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে তার হাতে সেই টাকা তুলে দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁন ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টাকা হাতে পেয়ে যারপরনাই খুশি ব্যবসায়ী হারুন। তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, টাকাটা ফেরত না পেলে ব্যবসার পুঁজিই শেষ হয়ে যেত।

যেভাবে উদ্ধার হলো টাকা

ভুল করে কারো নম্বরে টাকা চলে গেলে তিনি নিজে থেকে না দিলে টাকা উদ্ধারের সুযোগ নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব তথ্য প্রমাণ দেয়ার পর সেই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে রাখা হয়। এর ফলে তিনি আর টাকা তুলতে পারেননি।

পরে সেই ব্যক্তিকে দিনাজপুরের পুলিশ চাপ দিলে তিনি টাকা ফেরত দিতে রাজি হন।

কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আশরাফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিরপুর থানায় জিডি হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তে উদঘাটন করা সম্ভব হয় দিনাজপুরের আশিক নামের ওই অ্যাকাউন্টের মালিককে।’

তিনি বলেন, ‘আশিক যখন টাকা ফেরত দিতে রাজি না হয়, তখন বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে রাখা হয়। পরে ইমেইল করে জিডির কপি পাঠানো হয় দিনাজপুর সদর থানায়। একই সঙ্গে বিকাশ ট্রানজেকশন এর প্রমাণও দেখানো হয়।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সব প্রমাণ দেখানোর পর স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত আশিক কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে পুরো টাকাটা ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন।’

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

করোনা: বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা চায় ডিসিসিআই

করোনা: বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা চায় ডিসিসিআই

দেশে কর ব্যবস্থা টেকসই ও সহনশীল হওয়া চাই। শুল্ক বা করের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না থাকলে, তা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করবে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না করে কী হারে রাজস্ব বাড়ানো যায় তার একটি দিক-নির্দেশনা বাজেটে থাকা দরকার। এমন অভিমত প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের। তবে ঘন ঘন করের হার বাড়ানো-কমানো ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

ব্যবসায়ীদের অন্যতম এই সংগঠনটি বলেছে, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ হচ্ছে- আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং জ্বালানি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাত। বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা হচ্ছে আসছে বাজেটে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা : অর্থবছর ২০২১-২২’ শীর্ষক ওয়েবিনারে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রধান অতিথি এবং ব্র্যাক-এর চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। ডিসিসিআইর আয়োজনে যৌথ সহযোগিতা দেয় দৈনিক সমকাল এবং চ্যানেল ২৪।

প্রাক বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা, শিল্পায়নের বিকাশ এবং উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে যেতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে কার্যকর পদক্ষেপ থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। যে বাজেটে বেসরকারিখাতের প্রত্যাশাই গুরুত্ব পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এর সুফল সব জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। কিন্তু শুল্ক বা করের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না থাকলে, তা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করবে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না করে কী হারে রাজস্ব বাড়ানো যায় তার একটি দিকনির্দেশনা সরকার বাজেটে নিশ্চয় রাখবে। দেশে কর ব্যবস্থা টেকসই ও সহনশীল হওয়া চাই। সেটা ৭-১০ বছরের জন্য হলে ভাল হয়। তাহলে দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানো প্রয়োজন। তবে তা সম্ভব হচ্ছে না বিভিন্ন খাতকে বিভিন্ন হারের কর অব্যাহিত দেয়ার কারণে। ফলে জিডিপিতে করের অবদান কমছে। কিন্তু সবাইকে মনে রাখতে হবে করের হার নির্ধারণ ও সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

‘সেই সঙ্গে নাগরিকদের ওপর আরোপিত ট্যাক্স সেই নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে নজর দেয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন পর্যায়ে মূসক আদায়ের ফলে অনেক ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে এর হার বেড়ে যায়। তবে ঘন ঘন করের হার বাড়ানো-কমানো ঠিক নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট শুধুমাত্র কর আহরণের বিষয় নয়, এটি সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি রূপরেখা। বর্তমানে আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছি। বাজেটে এ ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং পরিস্থিতি উত্তরণের একটি সুনিদিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। সেই সাথে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে।’

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এসএমই খাতেও গুরুত্ব থাকার বিকল্প নেই। এ খাতের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইন্সটিটিউট (এমএফআই) গুলোকে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রণোদনা প্যাকেজ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো যায়, সে লক্ষ্যেও একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি জরুরি।

‘দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স এর পর আমাদের প্রবৃদ্ধির নিয়ামকগুলো কী হবে, সেগুলোকেও চিহ্নিত করার পরামর্শ রাখেন তিনি।’

ওয়েবিনারে চারটি খাতের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

‘আর্থিক খাত’ সেশনের আলোচনায় আইপিডিসি এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। অন্যান্যের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর সিইও নাসের এজাজ বিজয়, নগদ-এর সিইও রাহেল আহমেদ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম অংশগ্রহণ করেন।

‘শিল্প ও বাণিজ্য’ সেশনের আলোচনায় বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ, বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক, বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. মো. মাসুদুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

‘ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট’ সেশনের আলোচনায় কেপিএমজি-এর সিনিয়র পার্টনার আদিব হোসেন খান, এফসিএ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস পলিসি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. মাসুদ সাদিক এবং সদস্য (কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

‘অবকাঠামো (জ্বলানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য)’ সেশনের আলোচনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুর রহমান, প্রাইভেট ই জেড অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম এবং বুয়েট-এর পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম অংশগ্রহণ করেন।

মো. ফাইজুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকবছর আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ক্রমাগত অগ্রগতি হচ্ছে। তবে এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অগ্রাধিকার জরুরি। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও দরকার কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।’

এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, ‘অবকাঠামো খাতের চলমান প্রকল্পসমূহের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও উন্নয়ন হবে। ইপিজেড এলাকায় বিদ্যুৎ, জ্বলানি, গ্যাস সংযোগ ও রাস্তাঘাট তৈরির কাজ সময় মতো শেষ করতে হবে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের কী ধরনের জ্বালানি প্রয়োজন, সেটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করে সে মাফিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বস্তবায়ন খুবই জরুরি।

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ৫ টাকার নিচে, সেগুলোর দাম কমতে পারবে না, যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা কমতে পারবে এক দিনে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক দিনে শেয়ারের দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ। তবে দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগের মতোই ১০ শতাংশের সীমা থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ার মূল্য ৫ টাকার নিচে নেমে গেছে, সেগুলোর দাম কার্যত কমতে পারবে না। কারণ, কোনো কোম্পানির দাম কমা বা বাড়ার সময় সর্বনিম্ন হিসাব হয় ১০ পয়সা করে। ৫ টাকার নিতে যেসব শেয়ারের দাম, সেগুলোর ২ শতাংশ ১০ পয়সার চেয়ে কম।

বিনিয়োগকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ বলেছে।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের মধ্যেই ৬৬টি কোম্পানির এই সর্বনিম্ন দাম প্রত্যাহার কার নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার এসব কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগের ব্যাপক দরপতন হয়। ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফেসবুকে পুঁজিবাজার বিষয়ক নানা ফেসবুক পেজে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, লকডাউনের মধ্যে যখন বাজার নিয়ে আতঙ্ক, তখন কেন এই ফ্লোর প্রত্যাহার করতে হলো।

রোববার দ্বিতীয় কার্যদিবসে আরও বেশি দরপতনের শঙ্কা যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, তখন বিএসইসি এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে।

নিশ্চিত করে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইস থাকায় আমাদের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) সদস্য। সেখানে আমাদের ক্যাটাগরি ‘এ’। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইসের মাধ্যমে বাজার ম্যানিপুলেট করায় আমাদের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘কিন্ত করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমরা দর পতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এগুলেঅর শেয়ার দর দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে, তবে কমবে ২ শতাংশ করে।’

এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কিছুটা কমবে বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু এই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সেটা মানতে হবে। আর এখন বিএসইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এতেও সম্ভাব্য বেশি লোকসান থেকে রক্ষা পাবে বিনিয়োগকারীরা।

কোন কোম্পানির কত কমতে পারবে

বস্ত্র খাতের কোম্পানি আর এন স্পিনিং এর সবশেষ দাম ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এর দুই শতাংশ হয় ৭.৪ পয়সা। কিন্তু ১০ পয়সার কমে কোনো শেয়ারের দাম কমা বা বাড়ার সুযোগ নেই। তাই ফ্লোর প্রত্যাহার করা হলেও এই কোম্পানির শেয়ার দর কমতে পারবে না।

এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা, যেগুলোর দর ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকার কম সেগুলোর সর্বোচ্চ এক টাকা ১০ পয়সা, যেগুলোর দর ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে, সেগুলোর দর এক দিনে সর্বোচ্চ এক টাকা ২০ পয়সা কমতে পারবে।

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রাক-বাজেট আলোচনায় চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন নেতারা।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে চার খাতে গুরুত্ব দেয়ায় আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

২০২১-২২ অর্থছরের বাজেটে কোন খাতে সরকারের বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত, সে বিষয়ে মতামত জানাতে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। অনলাইনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এই প্রাক-বাজেট আলোচনা।

এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

এ ছাড়া আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে খোলা থাকছে পুঁজিবাজার, তবে লেনদেন করতে হবে অনলাইনে। ফাইল ছবি

ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে: নিউজবাংলাকে বিএসইসি চেয়ারম্যান

চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার কঠোর লকডাউনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সে সময়ও পুঁজিবাজার খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আবার জানিয়েছে, ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজার খোলা থাকবে। ব্যাংকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন এবারও তারা ব্যাংক খোলা রাখবেন।

শনিবার বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম এক খুদেবার্তায় বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারিকালসহ সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারের সব লেনদেন যথাবিহিত অব্যাহতভাবে চালু থাকবে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে, সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ গত বছরের চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার শুরু হয় সাত দিনের লকডাউন। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু থাকা, যানবাহন চলতে থাকা আর মানুষের ঘরের বাইরে আসার প্রবণতায় লকডাউন আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর মধ্যে আবার বিপণিবিতান চালু হয়েছে, মহানগরগুলোতে চলছে বাসও। খোলা আছে পুঁজিবাজারও। লেনদেন চলছে দুই ঘণ্টা। তবে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে যেতে পারে না। তাদের অর্ডার দিতে হয় মোবাইল বা অ্যাপে।

আবারও কঠোর লকডাউনের কথা জানিয়েছে সরকার। ১৪ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে। ফাইল ছবি

এর মধ্যে শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন দেয়া হবে। এবার জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে, কোনো গাড়িও চলতে দেয়া হবে না। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ঘরের বাইরে যাওয়াও। আর রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিস্তারিত জানানো হবে।

লকডাউন কঠোর হলে ব্যাংকের কী হবে, এই প্রশ্নের জবাব জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।…কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায়, সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির অবস্থান বিবেচনায় নিলে বলাই যায়, কঠোর লকডাউনেও চালু থাকছে পুঁজিবাজার। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে রোববারের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই।

চলমান লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে বেলা ২টা পর্যন্ত। কঠোর লকডাউনে সময়সীমা কী হবে, সে সিদ্ধান্ত রোববার জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর বিএসইসি জানিয়েছে, ব্যাংকের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় নির্ধারিত হবে।

৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাত ও ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমা ঠিক করে দেয়ার পর বিএসইসি জানায়, পুঁজিবাজারে লেনদেন চলচে দুই ঘণ্টা; সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

সিদ্ধান্তে বিলম্বের কী ক্ষতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিতে এক দিন দেরি হলেও তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু পুঁজিবাজারে কী প্রভাব পড়ে, সেটা দেখা গেছে গত রোববার।

গত সোমবার থেকে লডকাউন শুরুর তিন দিন বাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও লকডাউনের আগে দিন লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে আতঙ্কে সূচক পড়ে প্রায় ২০০ পয়েন্ট।

তবে সেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত জানায়, লকডাউনে আড়াই ঘণ্টা ব্যাংক চালু থাকবে। আর বিএসইসি আগেই জানিয়েছিল ব্যাংক চালু থাকলে চলবে পুঁজিবাজারের লেনদেনও।

কঠোর লকডাউন হলেও খোলা থাকবে ব্যাংক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আসতে এক দিন দেরি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দরপতনে যে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়, সে জন্য কেউ দুঃখও প্রকাশ করেনি।

লকডাউনের আগের দিন আতঙ্কে সূচক কমে ১৮১ পয়েন্ট। দরপতনের পর ঠিকই বিএসইসি সক্রিয় হয়ে বাজারে তারল্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়ায়। এক টাকার বিপরীতে ৫০ পয়সার জায়গায় ঋণসীমা বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়। এর ফলে ঋণ নেয়ার পর শেয়ারমূল্য কমে যাওয়ায় যারা ফোর্সড সেলের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তারা সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হন।

অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তটি রোববারের আগেই নিতে পারলে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আসার আগে কেবল রোববার লেনদেন বন্ধ রাখা হলে বিনিয়োগকারীদের এত বড় লোকসানের মধ্যে পড়তে হতো না।

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরে মাইলফলক অতিক্রম করেছে এক্সিলারেট এনার্জি। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

জাহাজ থেকে জাহাজে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থানান্তরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের মাইলফলক অতিক্রম করল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে জাহাজে (এসটিএসপদ্ধতি) করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর করে আসছে এক্সিলারেট এনার্জি। শনিবার তারা এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

এসটিএস প্রোটোকল ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ঘনমিটার এলএনজি স্থানান্তর করেছে।

এক্সিলারেট এনার্জির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ক্যাল ব্যানক্রফট জানান, বঙ্গোপসাগরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের যে মাইলফলক স্থাপন করেছে এক্সিলারেট এনার্জি এর মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বজুড়ে সুনাম ও জাহাজের ক্রুদের কঠোর পরিশ্রম।

তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে সাফল্যের সঙ্গেই এলএনজি স্থানান্তরে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারবে এক্সিলারেট এনার্জি।’

দেশের গ্যাস ঘাটতি মেটাতে এবং শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। ইতিমধ্যে কাতার, সুইজারল্যান্ড ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে এলএনজি আমদানির জন্য।

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে লকডাউনসহ কঠোর পদক্ষেপে ধস নেমেছে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেচাকেনায়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

আর্থিক লেনদেনের দিক থেকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে এই উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও ব্যবসায় দেখা যাচ্ছে ভাটা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার লকডাউনে পড়ে গত বছর নববর্ষের বেচা মাটি হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। বছর ঘুরে আবার যখন পয়লা বৈশাখ দরজায়, তখন দেশজুড়ে মহমারির দ্বিতীয় ঢেউ। আবারও লকডাউন।

ঢাকাসহ সারা দেশের বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে রমনা বটমূলের বর্ষবরণ। অনলাইনে বা ভার্চুয়াল বর্ষবরণ হতে পারে। তাতে কেনাকাটা কীভাবে হবে?

বর্ষবরণের উৎসব ঘিরে দেশি পোশাকের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া মেলার আগে-পরে ফুল থেকে শুরু করে মাটির গয়না, গৃহসামগ্রী, খেলনা, মিষ্টিসহ দেশি খাবারের ধুম পড়ে।

গ্রামগঞ্জে ঘটা করে আয়োজন হয় বৈশাখী মেলার, দোকানে দোকানে হালখাতার।

লকডাউনে উৎসব বন্ধ হওয়ায় বৈশাখের বাণিজ্যে সর্বনাশ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

দুই বছর আগেও চৈত্রের শেষ সপ্তাহে দেশীয় পোশাকের দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিপণিবিতানগুলো ঘুরে নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনেছেন উৎসবপ্রিয় মানুষ।

ক্রেতার এ ঘোরাঘুরিতে মুড়িমুড়কি, আইসক্রিম ও খাবারের দোকানেও বাড়তি আয়ের জোগান দিত। কিন্তু করোনার প্রভাবে গত বছর থেকে বদলে গেছে সেই চিত্র।

বৈশাখী অর্থনীতির আকার

আর্থিক লেনদেনের দিক দিয়ে পয়লা বৈশাখকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের আকার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গবেষণা বা জরিপের হিসাব নেই।

পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে বৈশাখী উৎসবকেন্দ্রিক মৌসুমি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদশে দোকান মালিক সমিতি। কেউ কেউ বৈশাখী অর্থনীতির আকার সব খাত মিলিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকাও মনে করেন।

ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মনে করে, এ সময় শুধু পোশাকই বিক্রি হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। তবে এর আকার যাই হোক না কেন, পরপর দুই বছর এ বাণিজ্য নেমেছে তলানিতে। মাথায় হাত পড়েছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উদ্যোক্তার।

গেল বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ বছরও ভালোই প্রস্তুতি ছিল তাদের। কিন্তু গেলবারের একই সময়ে লকডাউনে অভিজাত শপিং মল থেকে ফুটপাতের সব দোকান বন্ধ থাকায় লাভের আশা লোকসানের নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, বৈশাখী উৎসব মূলত দেশি উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক। পোশাক থেকে শুরু করে সব পণ্যই দেশে উৎপন্ন হয়। কিন্তু গত বছরের লকডাউনের জেরে দেশীয় ফ্যাশনের দোকানি থেকে শুরু করে তাঁতি, কুমার, কুটিরশিল্প ব্যবসায়ীরা পুঁজি খুইয়েছেন।

দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোর বড় আয়োজন থাকে বৈশাখ ঘিরে। কিন্তু তাদের এবারের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যবসায় সামনের দিনে কী হয়, তা নিয়ে আশঙ্কায় সময় কাটছে উদ্যোক্তাদের।

দেশব্যাপী এই সংগঠনের ২৫ লাখ সদস্য আছেন। কম-বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের ঋণ বা প্রণোদনার কোনো ব্যবস্থা গতবারও ছিল না। কখনোই থাকে না। করোনায় সবকিছু সচল থাকলেও ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান ও শপিং মল বন্ধ ছিল। এখন তা বৈশাখের আগের দিন পর্যন্ত খুলে দেয়া হয়েছে। তবে কতটুকু কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফ্যাশন হাউজ সারা লাইফ স্টাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক শেখ রাহাত অয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উৎসবভেদে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। গত বছর তো কীভাবে কাটল তা বলা যাবে না। এবার বাড়তি বিনিয়োগ ও নতুন ডিজাইন নিয়ে ফিরে আসার একটা চেষ্টা ছিল। কিন্তু তাও হচ্ছে না।

‘আবার সারার একটা সুনাম আছে। এক বছরের পোশাক পরের বছর ব্যবহারও করা যায় না। কারণ প্রতিবছরই ক্রেতার ধরন ও পছন্দ পরিবর্তন হয়। পোশাকের ডিজাইনেও নতুনত্ব আসে। তাই বিকল্প হিসেবে অনলাইন বিক্রি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দোকানপাট বা শপিং মল খুলে দেয়া হলেও অনিশ্চয়তা যাবে বলে মনে হয় না। সাধারণত বৈশাখের পোশাকের প্রয়োজন হয় উৎসবের জন্য। কিন্তু করোনায় উৎসবের আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা থাকলে মানুষ কিনবে কেন?

‘কিনলেও তা হবে অনেক কম। তা ছাড়া করোনার প্রকোপ যে হারে বাড়ছে, তাতে মার্কেট খুলে দিলেও মানুষজন ভয় কাটিয়ে কতটুকুই বা মার্কেটমুখী হবে?’

বৈশাখ ঘিরে ফুলের চাহিদাও থাকে প্রচুর। এবার তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। শাহবাগের ফুলের দোকান ‘ফুল মেলা’র স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি-বৈশাখ এসব দিনে প্রচুর ফুল বেচাকেনা হয়। কিন্তু গতবার বৈশাখী উৎসেরব কোনো চিহ্নও ছিল না। ফুল বিক্রিও ছিল হাতে গোনা। এবারও একই অবস্থা হবে দশটির জায়গায় একটি বিক্রি হবে। একে রমনায় বৈশাখী মেলা হবে না, তার ওপর এবার পয়লা বৈশাখে পবিত্র রমজানেরও শুরু। তাই বৈশাখের উৎসবও তেমন থাকবে না, বিক্রিও থাকবে না।

মাটির পণ্য বিক্রেতা মো. জাকির প্রায় এক যুগ ধরে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বৈশাখ এলে মাটির গয়না, পেয়ালাসহ জিনিসপত্রের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। চৈত্রের শেষ দিকে ও বৈশাখের দিন মেলাসহ বেশ কিছু দিন খুব বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছর মেলা হয়নি। আয়ও হয়নি। এবারও একই অবস্থা; মেলা হবে না। লকডাউনের কারণে গত কয়েকদিন ভ্যান নিয়েও রাস্তায় বসতে পারেননি তিনি।

রাজধানীসহ জেলা শহরে বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ অন্যতম অনুষঙ্গ। ফলে ইলিশ কেনার এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বাড়তি ইলিশের জোগান দিতে দেড়-দুই মাস আগে থেকে মাছ মজুত করেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে যায়। এবারও বৈশাখের আগে বাজারে প্রচুর ইলিশ এসেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সুজন বলেন, সাধারণত বৈশাখের সময় ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকত। ফলে দামও চড়া থাকত। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও এ সময় ইলিশের ক্রেতা কম, বিক্রিও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ঘিরে প্রতিবছরই অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কারণ এটি সার্বজনীন উৎসব। রোজার ঈদের পরেই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় এ সময়। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। অনলাইনে কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগই লসে থাকবে।

‘শপিংমল খুলে দিলেও মানুষজন আগের মতো শপিং মলমুখী হবে কি না তাও দেখার বিষয়। কারণ করোনা যে হারে বাড়ছে তাতে মানুষ একান্ত প্রয়োজন বা জীবিকার তাগিদ ছাড়া তেমন বের হবেন না। এতে শেষ পর্যন্ত এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না অনেকে। এ ক্ষেত্রে বিক্রি বাড়াতে অনলাইন মার্কেটিংয়ে জোর দিতে হবে। এদিকে সরকারের নজর দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক
কর্মীদের অনৈতিক সর্ম্পক এড়িয়ে চলতে বলল সোনালী ব্যাংক
সব ধরনের শর্ত মেনেই বিনিয়োগ করেছে পদ্মা ব্যাংক
‘নেতৃত্বগুণে সফল পদ্মা ব্যাংক’
২০০ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন