বাংলাদেশ-ভারত পাটযুদ্ধ: মোদির সফরে অবসানের আশা

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ-ভারত পাটযুদ্ধ: মোদির সফরে অবসানের আশা

বাংলাদেশের প্রতি টন পাটসুতা, চট ও বস্তা রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ভারতের রাজস্ব বিভাগ ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের গেজেট প্রকাশ করে। এর মধ্যদিয়ে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধ। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনাময় পাট খাত।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে বাংলাদেশ-ভারতের পাটযুদ্ধ। বাংলাদেশের পাট শিল্পের অগ্রগতির জন্য শিগগিরই এ যুদ্ধের অবসান আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে দুই দেশের পাটযুদ্ধের সন্তোষজনক নিষ্পত্তির আশা করছেন তারা।

বাংলাদেশের প্রতি টন পাটসুতা, চট ও বস্তা রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ভারতের রাজস্ব বিভাগ ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে গেজেট প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধ। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনাময় পাট খাত।

দীর্ঘ এ সময়ে বাংলাদেশ দফায় দফায় পাটযুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারতের প্রতি আবেদন জানিয়েছে। নীতিনির্ধারক পর্যায়ে অনেকবার আলোচনা ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। তাতে আশ্বাসও মিলেছে। শেষ পর্যন্ত ফল মেলেনি।

পাটযুদ্ধ শুরুর আগে ভারতে ব্যাটারিযুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৪ সালে গাড়ির ব্যাটারি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত।

সংক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আপিল ট্রাইব্যুনালে যায়। ভারতও সেখানে সমানতালে লড়ে। তবে এ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ভারতকে হটিয়ে বাংলাদেশই বিজয় ছিনিয়ে আনে।

শিগগিরই পাটযুদ্ধেরও সমাপ্তি চায় বাংলাদেশ। তবে এবার ব্যাটারির মতো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার জন্য এখনও ডব্লিউটিওর আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়া হয়নি। যদিও সেখানে যাওয়ার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি বাংলাদেশের রয়েছে। বাংলাদেশ চায় উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি।

কারণ যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি পাটে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসিয়েছে ভারত, তা যথাযথ হয়নি। বাংলাদেশ আশা করছে, ভারত তার সিদ্ধান্ত সংশোধন করবে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

পাটে অ্যান্টি ডাম্পিংয়ে এই যখন পরিস্থিতি, তখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে সহায়ক শক্তি হিসেবে ভারতের জন্যও সময়টি ঐতিহাসিক। এ উপলক্ষে আজ দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এ সফরকে ঘিরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলে যাওয়ার প্রত্যাশার কথা বলেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে আগাম আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে বাংলাদেশে আসা ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পসচিব অনুপ ধাওয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দাবি করেন, যেসব পণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং আরোপ করা আছে, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর যৌক্তিক সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে এমন কিছু করতে, যা উভয় দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তার বক্তব্যে আশ্বস্ত হন পাট খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, নরেন্দ্র মোদি এবারের বাংলাদেশ সফরে পাটযুদ্ধ পরিসমাপ্তির একটা সবুজ সংকেত দেবেন। সরকারে বিভিন্ন স্তরের বক্তব্যেও পাটে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে বলে অনেকে আশায় বুক বেঁধেছেন।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বশীল বিভিন্ন মহল জানায়, সফরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও অমীমাংসিত অনেক বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তবে সেখানে ভারত পাটে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক তুলে নেয়ার মতো কোনো সবুজ সংকেত থাকবে না। অর্থাৎ পাট ইস্যুতে নমনীয়তার বিষয়ে ভারতের আগের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ফলে দুই দেশের পাটযুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে বাণিজ্য বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনা হবে। এর মধ্যে নতুন আরও কয়েকটি বর্ডার হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত অন্যতম। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উন্নয়ন ও বিদ্যমান বাধা দূর করা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি সই হবে।

সরকারপ্রধানদের নির্দেশ অনুযায়ী আগামীতে এ চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলবে। সেখানে বাংলাদেশি পাটে ভারতের আরোপিত অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার ইস্যুতেও আলোচনার সুযোগ থাকবে।

গুণ-মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে ভারতের বাজারে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশি পাট ও পাট পণ্য রপ্তানি হতো। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাফটার আওতায় বাংলাদেশ ভারতে শূন্য শুল্কে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।

কিন্তু হঠাৎ করেই ভারত সাফটা চুক্তিকে অকার্যকর করে পাট রপ্তানি কমাতে বাংলাদেশি পাট ও পাট পণ্যে সেই শূন্য অবস্থা থেকে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৩৫১ দশমিক ৭২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক ধার্য করে দেয়।

এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিযোগ ছিল, তাদের স্থানীয় বাজারের চেয়ে কম দামে পাট রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। সমজাতীয় পণ্য কোনো রপ্তানিকারক দেশ আমদানিকারক দেশের স্থানীয় বাজারের তুলনায় কম মূল্যে রপ্তানি করলে সেখানে ডাম্পিং হয়েছে বলে ধরা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত স্থানীয় সমজাতীয় পণ্য খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশ যে প্রতিরক্ষণমূলক শুল্ক ব্যবস্থা নেয় সেটাই হলো-অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক।

তবে এর সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে, যার ২০ শতাংশ গেছে ভারতে।

ইপিবির এই তথ্যের সূত্র টেনে পাট ও পাট পণ্য রপ্তানিকারকরা দাবি করছেন, যে বছর অ্যান্টি ডাম্পিং পদক্ষেপ নেয় ভারত, ওই বছর বাংলাদেশ যে পরিমাণ পাট রপ্তানি করেছে তা ভারতীয় বাজারের ৮ শতাংশ, যা ভারতের যুক্তিকে যৌক্তিক প্রমাণ করে না।

তারা আরও দাবি করেন, নিয়ম হলো অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের আগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, যেটা ভারত করেনি।

ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি) অধিদপ্তর ২০১৬ সালের অক্টোবরে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশে বাংলাদেশি উৎপাদকরা পাট রপ্তানিতে যে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাচ্ছেন সেই বিষয়টিকেও বড় করে দেখেছেন।

বাংলাদেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেলের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য জট খোলার একটি পথ তৈরি হবে। তবে পাটে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখনই হবে না। কারণ ভারত এ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার হতে চায়। আরও সময় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মাসে প্রথম দিকে দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হলে জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশকে নতুন করে প্রস্তাব দিতে। আমরা এখন সেদিকেই যাচ্ছি।’

চার বছর পার হয়ে গেছে, কোনো সমাধান আসছে না। বাংলাদেশ সংক্ষুব্ধ হয়ে ডব্লিউটিওতে যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডব্লিউটিও সেলের এই মহাপরিচালক বলেন, ‘যাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। তার আগে আমরা দুই দেশের মধ্যকার আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাই। দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেই বিষয়টির সমাধান আশা করছে বাংলাদেশ।’

কোয়ালিটি জুট ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মালেক এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা প্রত্যাহারে সরকার ভারতের সঙ্গে নিবিড় চেষ্টা চালাচ্ছে। সর্বশেষ আশ্বাস মিলেছিল, এ বছরই একটা সিদ্ধান্ত আসবে। ফলে আমরাও আশা করেছিলাম, হয়তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এর একটা সুরাহা হবে। সেটি না হলে সৃষ্ট জটিলতা আরও দীর্ঘসূত্রতায় গড়াবে।’

বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেজিইএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও শ্যামল বাংলা জুটেক্স লিমিটেডের কর্ণধার লুৎফর রহমান বলেন, ‘যেকোনো দেশের জন্যই অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বাণিজ্য সম্পসারণে বড় বাধা। ভারত আমাদের প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বেশি। আবার বাণিজ্য ব্যবধানও বেশি, যা ভারতের অনুকূলে।’

‘বাণিজ্য পরিবেশ থাকলে দুই দেশের জন্যই টেকসই বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। আমরা আশা করব বিবাদমান এ সমস্যা শিগগির দূর হবে।’

শেয়ার করুন

ভুল নম্বরে বিকাশ, উদ্ধার করে দিল পুলিশ

ভুল নম্বরে বিকাশ, উদ্ধার করে দিল পুলিশ

হারুনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে উদ্ধার করা টাকা তুলে দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২ এপ্রিল রাত ৯টায় তার পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা এবং খরচ ৪০০ টাকা একটি নম্বরে পাঠাতে গিয়ে ডিজিটের ভুলে অন্য একটি নম্বরে পাঠিয়ে দেন মুদি দোকানি হারুন। সেই ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে রাজি না হলে জিডি করেন তিনি। পরে দিনাজপুর থেকে সে টাকা উদ্ধার করে হারুনের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

ভুল করে একজনের বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে বিপাকে পড়া মুদি দোকানির ত্রাণকর্তা হলো পুলিশ। সেই টাকা ফিরিয়ে এনে তার হাতে তুলে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ায়।

জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ সুধিরাজপুর এলাকার মুদি দোকানি হারুন অর রশিদ বিকাশে টাকা পাঠানোর কাজও করেন।

গত ২ এপ্রিল রাত ৯টায় তার পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা এবং খরচ ৪০০ টাকা একটি নম্বরে পাঠাতে গিয়ে ডিজিটের ভুলে অন্য একটি নম্বরে পাঠিয়ে দেন।

টাকাটি যায় দিনাজপুরের একজনের কাছে। যার হিসাবে টাকা গেছে, তাকে অনুরোধ করে টাকাটি ফিরিয়ে দিতে বলেন হারুন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি হননি তিনি। এরপর ৫ এপ্রিল মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন হারুন।

এরপর কাজ শুরু করে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, দিনাজপুর জেলার সদর থানার সহায়তায় সেখানকার পারগাঁও গ্রামের সেই ব্যক্তির কাছ থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরের দিকে হারুন অর রশিদকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে তার হাতে সেই টাকা তুলে দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁন ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টাকা হাতে পেয়ে যারপরনাই খুশি ব্যবসায়ী হারুন। তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, টাকাটা ফেরত না পেলে ব্যবসার পুঁজিই শেষ হয়ে যেত।

যেভাবে উদ্ধার হলো টাকা

ভুল করে কারো নম্বরে টাকা চলে গেলে তিনি নিজে থেকে না দিলে টাকা উদ্ধারের সুযোগ নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব তথ্য প্রমাণ দেয়ার পর সেই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে রাখা হয়। এর ফলে তিনি আর টাকা তুলতে পারেননি।

পরে সেই ব্যক্তিকে দিনাজপুরের পুলিশ চাপ দিলে তিনি টাকা ফেরত দিতে রাজি হন।

কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আশরাফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিরপুর থানায় জিডি হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তে উদঘাটন করা সম্ভব হয় দিনাজপুরের আশিক নামের ওই অ্যাকাউন্টের মালিককে।’

তিনি বলেন, ‘আশিক যখন টাকা ফেরত দিতে রাজি না হয়, তখন বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে রাখা হয়। পরে ইমেইল করে জিডির কপি পাঠানো হয় দিনাজপুর সদর থানায়। একই সঙ্গে বিকাশ ট্রানজেকশন এর প্রমাণও দেখানো হয়।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সব প্রমাণ দেখানোর পর স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত আশিক কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে পুরো টাকাটা ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন।’

শেয়ার করুন

করোনা: বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা চায় ডিসিসিআই

করোনা: বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা চায় ডিসিসিআই

দেশে কর ব্যবস্থা টেকসই ও সহনশীল হওয়া চাই। শুল্ক বা করের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না থাকলে, তা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করবে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না করে কী হারে রাজস্ব বাড়ানো যায় তার একটি দিক-নির্দেশনা বাজেটে থাকা দরকার। এমন অভিমত প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের। তবে ঘন ঘন করের হার বাড়ানো-কমানো ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

ব্যবসায়ীদের অন্যতম এই সংগঠনটি বলেছে, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ হচ্ছে- আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং জ্বালানি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাত। বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা হচ্ছে আসছে বাজেটে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা : অর্থবছর ২০২১-২২’ শীর্ষক ওয়েবিনারে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রধান অতিথি এবং ব্র্যাক-এর চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। ডিসিসিআইর আয়োজনে যৌথ সহযোগিতা দেয় দৈনিক সমকাল এবং চ্যানেল ২৪।

প্রাক বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা, শিল্পায়নের বিকাশ এবং উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে যেতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে কার্যকর পদক্ষেপ থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। যে বাজেটে বেসরকারিখাতের প্রত্যাশাই গুরুত্ব পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এর সুফল সব জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। কিন্তু শুল্ক বা করের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না থাকলে, তা ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করবে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না করে কী হারে রাজস্ব বাড়ানো যায় তার একটি দিকনির্দেশনা সরকার বাজেটে নিশ্চয় রাখবে। দেশে কর ব্যবস্থা টেকসই ও সহনশীল হওয়া চাই। সেটা ৭-১০ বছরের জন্য হলে ভাল হয়। তাহলে দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানো প্রয়োজন। তবে তা সম্ভব হচ্ছে না বিভিন্ন খাতকে বিভিন্ন হারের কর অব্যাহিত দেয়ার কারণে। ফলে জিডিপিতে করের অবদান কমছে। কিন্তু সবাইকে মনে রাখতে হবে করের হার নির্ধারণ ও সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

‘সেই সঙ্গে নাগরিকদের ওপর আরোপিত ট্যাক্স সেই নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে নজর দেয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন পর্যায়ে মূসক আদায়ের ফলে অনেক ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে এর হার বেড়ে যায়। তবে ঘন ঘন করের হার বাড়ানো-কমানো ঠিক নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট শুধুমাত্র কর আহরণের বিষয় নয়, এটি সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি রূপরেখা। বর্তমানে আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছি। বাজেটে এ ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং পরিস্থিতি উত্তরণের একটি সুনিদিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। সেই সাথে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে।’

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এসএমই খাতেও গুরুত্ব থাকার বিকল্প নেই। এ খাতের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইন্সটিটিউট (এমএফআই) গুলোকে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রণোদনা প্যাকেজ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো যায়, সে লক্ষ্যেও একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি জরুরি।

‘দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স এর পর আমাদের প্রবৃদ্ধির নিয়ামকগুলো কী হবে, সেগুলোকেও চিহ্নিত করার পরামর্শ রাখেন তিনি।’

ওয়েবিনারে চারটি খাতের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

‘আর্থিক খাত’ সেশনের আলোচনায় আইপিডিসি এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। অন্যান্যের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর সিইও নাসের এজাজ বিজয়, নগদ-এর সিইও রাহেল আহমেদ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম অংশগ্রহণ করেন।

‘শিল্প ও বাণিজ্য’ সেশনের আলোচনায় বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ, বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক, বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. মো. মাসুদুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

‘ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট’ সেশনের আলোচনায় কেপিএমজি-এর সিনিয়র পার্টনার আদিব হোসেন খান, এফসিএ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস পলিসি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. মাসুদ সাদিক এবং সদস্য (কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

‘অবকাঠামো (জ্বলানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য)’ সেশনের আলোচনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুর রহমান, প্রাইভেট ই জেড অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম এবং বুয়েট-এর পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম অংশগ্রহণ করেন।

মো. ফাইজুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকবছর আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ক্রমাগত অগ্রগতি হচ্ছে। তবে এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অগ্রাধিকার জরুরি। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও দরকার কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।’

এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, ‘অবকাঠামো খাতের চলমান প্রকল্পসমূহের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও উন্নয়ন হবে। ইপিজেড এলাকায় বিদ্যুৎ, জ্বলানি, গ্যাস সংযোগ ও রাস্তাঘাট তৈরির কাজ সময় মতো শেষ করতে হবে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের কী ধরনের জ্বালানি প্রয়োজন, সেটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করে সে মাফিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বস্তবায়ন খুবই জরুরি।

শেয়ার করুন

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ৫ টাকার নিচে, সেগুলোর দাম কমতে পারবে না, যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা কমতে পারবে এক দিনে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক দিনে শেয়ারের দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ। তবে দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগের মতোই ১০ শতাংশের সীমা থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ার মূল্য ৫ টাকার নিচে নেমে গেছে, সেগুলোর দাম কার্যত কমতে পারবে না। কারণ, কোনো কোম্পানির দাম কমা বা বাড়ার সময় সর্বনিম্ন হিসাব হয় ১০ পয়সা করে। ৫ টাকার নিতে যেসব শেয়ারের দাম, সেগুলোর ২ শতাংশ ১০ পয়সার চেয়ে কম।

বিনিয়োগকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ বলেছে।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউনের মধ্যেই ৬৬টি কোম্পানির এই সর্বনিম্ন দাম প্রত্যাহার কার নেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার এসব কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগের ব্যাপক দরপতন হয়। ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফেসবুকে পুঁজিবাজার বিষয়ক নানা ফেসবুক পেজে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, লকডাউনের মধ্যে যখন বাজার নিয়ে আতঙ্ক, তখন কেন এই ফ্লোর প্রত্যাহার করতে হলো।

রোববার দ্বিতীয় কার্যদিবসে আরও বেশি দরপতনের শঙ্কা যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, তখন বিএসইসি এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে।

নিশ্চিত করে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইস থাকায় আমাদের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) সদস্য। সেখানে আমাদের ক্যাটাগরি ‘এ’। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লোর প্রাইসের মাধ্যমে বাজার ম্যানিপুলেট করায় আমাদের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘কিন্ত করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমরা দর পতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এগুলেঅর শেয়ার দর দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারবে, তবে কমবে ২ শতাংশ করে।’

এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কিছুটা কমবে বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু এই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সেটা মানতে হবে। আর এখন বিএসইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এতেও সম্ভাব্য বেশি লোকসান থেকে রক্ষা পাবে বিনিয়োগকারীরা।

কোন কোম্পানির কত কমতে পারবে

বস্ত্র খাতের কোম্পানি আর এন স্পিনিং এর সবশেষ দাম ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এর দুই শতাংশ হয় ৭.৪ পয়সা। কিন্তু ১০ পয়সার কমে কোনো শেয়ারের দাম কমা বা বাড়ার সুযোগ নেই। তাই ফ্লোর প্রত্যাহার করা হলেও এই কোম্পানির শেয়ার দর কমতে পারবে না।

এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ৫ থেকে ১০ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। যেসব কোম্পানির শেয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকার কম সেগুলোর দাম কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা, যেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, যেগুলোর দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, যেগুলোর দাম ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকার কম, সেগুলো সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা, যেগুলোর দম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকার ভেতর, সেগুলোর দর সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, যেগুলোর দম ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকার কম, সেগুলোর এক টাকা, যেগুলোর দর ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকার কম সেগুলোর সর্বোচ্চ এক টাকা ১০ পয়সা, যেগুলোর দর ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে, সেগুলোর দর এক দিনে সর্বোচ্চ এক টাকা ২০ পয়সা কমতে পারবে।

শেয়ার করুন

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রাক-বাজেট আলোচনায় চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন নেতারা।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে চার খাতে গুরুত্ব দেয়ায় আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

২০২১-২২ অর্থছরের বাজেটে কোন খাতে সরকারের বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত, সে বিষয়ে মতামত জানাতে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। অনলাইনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এই প্রাক-বাজেট আলোচনা।

এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

এ ছাড়া আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

ডিসিসিআইয়ের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ট্যাক্সেশন ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো (জ্বাালানি, লজিস্টিক ও স্বাস্থ্য) এই চার খাতে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে ‘খোলা’ পুঁজিবাজারও

কঠোর লকডাউনে খোলা থাকছে পুঁজিবাজার, তবে লেনদেন করতে হবে অনলাইনে। ফাইল ছবি

ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে: নিউজবাংলাকে বিএসইসি চেয়ারম্যান

চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার কঠোর লকডাউনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সে সময়ও পুঁজিবাজার খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আবার জানিয়েছে, ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজার খোলা থাকবে। ব্যাংকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন এবারও তারা ব্যাংক খোলা রাখবেন।

শনিবার বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম এক খুদেবার্তায় বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারিকালসহ সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারের সব লেনদেন যথাবিহিত অব্যাহতভাবে চালু থাকবে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আভাস পেয়েছি, এখন যেভাবে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চালু আছে, সেভাবেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে লেনদেন দুই ঘণ্টাই চালু থাকবে।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ গত বছরের চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার শুরু হয় সাত দিনের লকডাউন। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু থাকা, যানবাহন চলতে থাকা আর মানুষের ঘরের বাইরে আসার প্রবণতায় লকডাউন আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর মধ্যে আবার বিপণিবিতান চালু হয়েছে, মহানগরগুলোতে চলছে বাসও। খোলা আছে পুঁজিবাজারও। লেনদেন চলছে দুই ঘণ্টা। তবে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে যেতে পারে না। তাদের অর্ডার দিতে হয় মোবাইল বা অ্যাপে।

আবারও কঠোর লকডাউনের কথা জানিয়েছে সরকার। ১৪ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে। ফাইল ছবি

এর মধ্যে শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন দেয়া হবে। এবার জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে, কোনো গাড়িও চলতে দেয়া হবে না। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ঘরের বাইরে যাওয়াও। আর রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিস্তারিত জানানো হবে।

লকডাউন কঠোর হলে ব্যাংকের কী হবে, এই প্রশ্নের জবাব জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।…কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায়, সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির অবস্থান বিবেচনায় নিলে বলাই যায়, কঠোর লকডাউনেও চালু থাকছে পুঁজিবাজার। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে রোববারের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই।

চলমান লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে বেলা ২টা পর্যন্ত। কঠোর লকডাউনে সময়সীমা কী হবে, সে সিদ্ধান্ত রোববার জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর বিএসইসি জানিয়েছে, ব্যাংকের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় নির্ধারিত হবে।

৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাত ও ব্যাংকে লেনদেনের সময়সীমা ঠিক করে দেয়ার পর বিএসইসি জানায়, পুঁজিবাজারে লেনদেন চলচে দুই ঘণ্টা; সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

সিদ্ধান্তে বিলম্বের কী ক্ষতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিতে এক দিন দেরি হলেও তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু পুঁজিবাজারে কী প্রভাব পড়ে, সেটা দেখা গেছে গত রোববার।

গত সোমবার থেকে লডকাউন শুরুর তিন দিন বাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও লকডাউনের আগে দিন লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে আতঙ্কে সূচক পড়ে প্রায় ২০০ পয়েন্ট।

তবে সেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত জানায়, লকডাউনে আড়াই ঘণ্টা ব্যাংক চালু থাকবে। আর বিএসইসি আগেই জানিয়েছিল ব্যাংক চালু থাকলে চলবে পুঁজিবাজারের লেনদেনও।

কঠোর লকডাউন হলেও খোলা থাকবে ব্যাংক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আসতে এক দিন দেরি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দরপতনে যে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়, সে জন্য কেউ দুঃখও প্রকাশ করেনি।

লকডাউনের আগের দিন আতঙ্কে সূচক কমে ১৮১ পয়েন্ট। দরপতনের পর ঠিকই বিএসইসি সক্রিয় হয়ে বাজারে তারল্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়ায়। এক টাকার বিপরীতে ৫০ পয়সার জায়গায় ঋণসীমা বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়। এর ফলে ঋণ নেয়ার পর শেয়ারমূল্য কমে যাওয়ায় যারা ফোর্সড সেলের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তারা সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হন।

অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তটি রোববারের আগেই নিতে পারলে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আসার আগে কেবল রোববার লেনদেন বন্ধ রাখা হলে বিনিয়োগকারীদের এত বড় লোকসানের মধ্যে পড়তে হতো না।

শেয়ার করুন

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

এলএনজি স্থানান্তরে এক্সিলারেট এনার্জির মাইলফলক

জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরে মাইলফলক অতিক্রম করেছে এক্সিলারেট এনার্জি। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

জাহাজ থেকে জাহাজে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থানান্তরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের মাইলফলক অতিক্রম করল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে জাহাজে (এসটিএসপদ্ধতি) করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর করে আসছে এক্সিলারেট এনার্জি। শনিবার তারা এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

২০১৮ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি করে এক্সিলারেট এনার্জি।

এসটিএস প্রোটোকল ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ঘনমিটার এলএনজি স্থানান্তর করেছে।

এক্সিলারেট এনার্জির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ক্যাল ব্যানক্রফট জানান, বঙ্গোপসাগরে ২০০০তম জাহাজ স্থানান্তরের যে মাইলফলক স্থাপন করেছে এক্সিলারেট এনার্জি এর মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বজুড়ে সুনাম ও জাহাজের ক্রুদের কঠোর পরিশ্রম।

তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে সাফল্যের সঙ্গেই এলএনজি স্থানান্তরে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারবে এক্সিলারেট এনার্জি।’

দেশের গ্যাস ঘাটতি মেটাতে এবং শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। ইতিমধ্যে কাতার, সুইজারল্যান্ড ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে এলএনজি আমদানির জন্য।

শেয়ার করুন

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনায় এবারও বৈশাখী ব্যবসায় সর্বনাশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে লকডাউনসহ কঠোর পদক্ষেপে ধস নেমেছে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেচাকেনায়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

আর্থিক লেনদেনের দিক থেকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ। পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে এই উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও ব্যবসায় দেখা যাচ্ছে ভাটা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার লকডাউনে পড়ে গত বছর নববর্ষের বেচা মাটি হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। বছর ঘুরে আবার যখন পয়লা বৈশাখ দরজায়, তখন দেশজুড়ে মহমারির দ্বিতীয় ঢেউ। আবারও লকডাউন।

ঢাকাসহ সারা দেশের বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে রমনা বটমূলের বর্ষবরণ। অনলাইনে বা ভার্চুয়াল বর্ষবরণ হতে পারে। তাতে কেনাকাটা কীভাবে হবে?

বর্ষবরণের উৎসব ঘিরে দেশি পোশাকের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া মেলার আগে-পরে ফুল থেকে শুরু করে মাটির গয়না, গৃহসামগ্রী, খেলনা, মিষ্টিসহ দেশি খাবারের ধুম পড়ে।

গ্রামগঞ্জে ঘটা করে আয়োজন হয় বৈশাখী মেলার, দোকানে দোকানে হালখাতার।

লকডাউনে উৎসব বন্ধ হওয়ায় বৈশাখের বাণিজ্যে সর্বনাশ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

দুই বছর আগেও চৈত্রের শেষ সপ্তাহে দেশীয় পোশাকের দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিপণিবিতানগুলো ঘুরে নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনেছেন উৎসবপ্রিয় মানুষ।

ক্রেতার এ ঘোরাঘুরিতে মুড়িমুড়কি, আইসক্রিম ও খাবারের দোকানেও বাড়তি আয়ের জোগান দিত। কিন্তু করোনার প্রভাবে গত বছর থেকে বদলে গেছে সেই চিত্র।

বৈশাখী অর্থনীতির আকার

আর্থিক লেনদেনের দিক দিয়ে পয়লা বৈশাখকে রোজার ঈদের পরই বড় উৎসব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ উৎসব ঘিরে বাণিজ্যের আকার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গবেষণা বা জরিপের হিসাব নেই।

পোশাক থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে বৈশাখী উৎসবকেন্দ্রিক মৌসুমি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদশে দোকান মালিক সমিতি। কেউ কেউ বৈশাখী অর্থনীতির আকার সব খাত মিলিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকাও মনে করেন।

ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মনে করে, এ সময় শুধু পোশাকই বিক্রি হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। তবে এর আকার যাই হোক না কেন, পরপর দুই বছর এ বাণিজ্য নেমেছে তলানিতে। মাথায় হাত পড়েছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উদ্যোক্তার।

গেল বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ বছরও ভালোই প্রস্তুতি ছিল তাদের। কিন্তু গেলবারের একই সময়ে লকডাউনে অভিজাত শপিং মল থেকে ফুটপাতের সব দোকান বন্ধ থাকায় লাভের আশা লোকসানের নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, বৈশাখী উৎসব মূলত দেশি উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক। পোশাক থেকে শুরু করে সব পণ্যই দেশে উৎপন্ন হয়। কিন্তু গত বছরের লকডাউনের জেরে দেশীয় ফ্যাশনের দোকানি থেকে শুরু করে তাঁতি, কুমার, কুটিরশিল্প ব্যবসায়ীরা পুঁজি খুইয়েছেন।

দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোর বড় আয়োজন থাকে বৈশাখ ঘিরে। কিন্তু তাদের এবারের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যবসায় সামনের দিনে কী হয়, তা নিয়ে আশঙ্কায় সময় কাটছে উদ্যোক্তাদের।

দেশব্যাপী এই সংগঠনের ২৫ লাখ সদস্য আছেন। কম-বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের ঋণ বা প্রণোদনার কোনো ব্যবস্থা গতবারও ছিল না। কখনোই থাকে না। করোনায় সবকিছু সচল থাকলেও ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান ও শপিং মল বন্ধ ছিল। এখন তা বৈশাখের আগের দিন পর্যন্ত খুলে দেয়া হয়েছে। তবে কতটুকু কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফ্যাশন হাউজ সারা লাইফ স্টাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক শেখ রাহাত অয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উৎসবভেদে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। গত বছর তো কীভাবে কাটল তা বলা যাবে না। এবার বাড়তি বিনিয়োগ ও নতুন ডিজাইন নিয়ে ফিরে আসার একটা চেষ্টা ছিল। কিন্তু তাও হচ্ছে না।

‘আবার সারার একটা সুনাম আছে। এক বছরের পোশাক পরের বছর ব্যবহারও করা যায় না। কারণ প্রতিবছরই ক্রেতার ধরন ও পছন্দ পরিবর্তন হয়। পোশাকের ডিজাইনেও নতুনত্ব আসে। তাই বিকল্প হিসেবে অনলাইন বিক্রি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দোকানপাট বা শপিং মল খুলে দেয়া হলেও অনিশ্চয়তা যাবে বলে মনে হয় না। সাধারণত বৈশাখের পোশাকের প্রয়োজন হয় উৎসবের জন্য। কিন্তু করোনায় উৎসবের আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা থাকলে মানুষ কিনবে কেন?

‘কিনলেও তা হবে অনেক কম। তা ছাড়া করোনার প্রকোপ যে হারে বাড়ছে, তাতে মার্কেট খুলে দিলেও মানুষজন ভয় কাটিয়ে কতটুকুই বা মার্কেটমুখী হবে?’

বৈশাখ ঘিরে ফুলের চাহিদাও থাকে প্রচুর। এবার তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। শাহবাগের ফুলের দোকান ‘ফুল মেলা’র স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি-বৈশাখ এসব দিনে প্রচুর ফুল বেচাকেনা হয়। কিন্তু গতবার বৈশাখী উৎসেরব কোনো চিহ্নও ছিল না। ফুল বিক্রিও ছিল হাতে গোনা। এবারও একই অবস্থা হবে দশটির জায়গায় একটি বিক্রি হবে। একে রমনায় বৈশাখী মেলা হবে না, তার ওপর এবার পয়লা বৈশাখে পবিত্র রমজানেরও শুরু। তাই বৈশাখের উৎসবও তেমন থাকবে না, বিক্রিও থাকবে না।

মাটির পণ্য বিক্রেতা মো. জাকির প্রায় এক যুগ ধরে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বৈশাখ এলে মাটির গয়না, পেয়ালাসহ জিনিসপত্রের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। চৈত্রের শেষ দিকে ও বৈশাখের দিন মেলাসহ বেশ কিছু দিন খুব বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছর মেলা হয়নি। আয়ও হয়নি। এবারও একই অবস্থা; মেলা হবে না। লকডাউনের কারণে গত কয়েকদিন ভ্যান নিয়েও রাস্তায় বসতে পারেননি তিনি।

রাজধানীসহ জেলা শহরে বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ অন্যতম অনুষঙ্গ। ফলে ইলিশ কেনার এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বাড়তি ইলিশের জোগান দিতে দেড়-দুই মাস আগে থেকে মাছ মজুত করেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে যায়। এবারও বৈশাখের আগে বাজারে প্রচুর ইলিশ এসেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সুজন বলেন, সাধারণত বৈশাখের সময় ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকত। ফলে দামও চড়া থাকত। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও এ সময় ইলিশের ক্রেতা কম, বিক্রিও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ঘিরে প্রতিবছরই অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কারণ এটি সার্বজনীন উৎসব। রোজার ঈদের পরেই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় এ সময়। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। অনলাইনে কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগই লসে থাকবে।

‘শপিংমল খুলে দিলেও মানুষজন আগের মতো শপিং মলমুখী হবে কি না তাও দেখার বিষয়। কারণ করোনা যে হারে বাড়ছে তাতে মানুষ একান্ত প্রয়োজন বা জীবিকার তাগিদ ছাড়া তেমন বের হবেন না। এতে শেষ পর্যন্ত এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না অনেকে। এ ক্ষেত্রে বিক্রি বাড়াতে অনলাইন মার্কেটিংয়ে জোর দিতে হবে। এদিকে সরকারের নজর দিতে হবে।’

শেয়ার করুন