উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশাল অর্জন’ শীর্ষক লাইভ ওয়েবিনারে অংশ নেয়া অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এর আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে এক সময় যারা সমালোচনা করেছে তাদের জন্য এখন বাংলাদেশ একটি উদাহরণ। এই অর্জনের কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশাল অর্জন’ শীর্ষক লাইভ ওয়েবিনার করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। এতে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপ উপাচার্য ড. শেখ মামুন খালেদ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত।

সুবিধা হারালেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই: মির্জ্জা আজিজ

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কারণে ২০২৬ সালের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের কিছু সুবিধা হারানোর শঙ্কা থাকলেও উদ্বেগের কিছু দেখছেন না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।

‘কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সেটি মোকাবিলার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। এখন দরকার পরিকল্পনা নিয়ে সময়াবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষম করে তোলা। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বৈষম্য কমিয়ে সুষম প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা।’

যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে বাংলাদেশ সেসব ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলে বিশ্বাস দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই অর্থনীতিবিদের।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীলে উত্তরণের প্রথম সুপারিশ পেয়েছিল তখনই বলেছিলাম, আমাদের অর্থনৈতিক যে সক্ষমতা সেটা ২০২১ সালের চূড়ান্ত রিভিউতেও অটুট থাকবে। এখন আমি আশাবাদী, উন্নয়নশীলের যে চ্যালেঞ্জ আসবে সেটাও আমরা মোকাবিলা করতে পারব। এ নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই: আহসান মনসুর

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী সময় মোকাবিলা এবং দেশকে আরও এগিয়ে নিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

‘উন্নয়নশীলের চূড়ান্ত ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে হলে অনেক কিছুর সঙ্গেই আপস করতে হবে। সুরক্ষা নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উদার বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালকের মতে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে বাংলাদেশ যে পর্যায়ে এসেছে সেটি সত্যিই গর্বের বিষয়। কারণ, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা বৈশ্বিক উন্নয়নে অনেক বড় বিষয়। এ অর্জন কারও একার নয়। দেশের আপামর জনগণের।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর

আহসান মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশ যে ধারাবাহিক গতিতে এগোচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা এলডিসি থেকে বের হতে পারতাম। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি অতিরিক্ত সুরক্ষা নীতি ও সক্ষমতার অভাবে। এখন ২০২৬ সালের পর আমরা চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাব। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।’

বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং বাড়বে: মোস্তাফিজুর

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের যে ব্র্যান্ডিং হবে তাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এর ফলে যে ব্র্যান্ডিং হবে তার কারণে আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা আছে বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংয়ের কথা বলি, সরকার কোনো সলভেন্ট বন্ড ইত্যাদি যদি রেইজ করতে চায় তাহলে সেগুলোতে রিস্ক পারসেপশান মিলে… ইতিবাচক ফলাফল পাব বলে আশা করি।’

চারটি অভিঘাতের সম্ভাবনা তুলে ধরেন মোস্তাফিজুর। বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের বাজার সুবিধা। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক সে সম্পর্কের মধ্যে একটা পরিবর্তন হবে। তৃতীয়ত, আমাদের অভ্যন্তরীণ নিজস্ব নীতিমালার ওপর প্রভাব। চতুর্থত, এনভায়রনমেন্ট বা যেগুলোতে শৈথিল্য আছে সেখানে আমাদের অনেক বড় পরিবর্তন হবে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান

‘ওই নিয়ম নীতিগুলো যদি আমরা মেনে না চলি, তাহলে আমাদের ডব্লিউটিওতে যে ডিসপিউট সেটলমেন্ট বডি আছে সেখানে অন্যান্য দেশ আমাদের বিরুদ্ধে কেইস নিয়ে আসতে পারে এবং সেটার ফলে নেতিবাচক একটা প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে পারে।’

মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ডলার কঠিন নয়: শিবলী রুবাইয়াত

বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার ডলারে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হবে না বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সবাই চাই ভালোর দিকে যেতে। মাথাপিছু আয় সাড়ে পাঁচশ ডলার ১২ বছরের মধ্যে চারগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রবণতা ধরে রাখা গেলে এটা পাঁচ হাজার ডলারে অর্জন করা কঠিন হবে না।’

মাথাপিছু আয় বাড়লে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে বলেও জানান দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান। বলেন, ‘এখন থেকেই দক্ষতা বাড়াতে হবে। পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। উৎপাদনশীলতা নির্ভর অর্থনীতিতে যেতে হবে। মানব সম্পদের দক্ষাতার বিষয়ে নজর দিতে হবে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম

‘উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে পণ্যের খরচ কমিয়ে আনা জরুরি। এটা নিশ্চিত করতে পারলে শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করলেও কোনো অসুবিধা হবে না। সেজন্য অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে হবে।’

পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই: মামুন খালেদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানা চিত্র তুলে ধরেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপ উপাচার্য ড. শেখ মামুন খালেদ। তার মতে, এখন কেবল এগিয়ে যেতে হবে। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘এখন ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হতে হলে কী কী প্যারামিটার অর্জন করতে হবে সেদিকে নজর দিতে হবে। মানুষ এগিযে যাবে, কখনও পিছিয়ে যেতে পারে না। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।’

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপ উপাচার্য ড. শেখ মামুন খালেদ

প্রধানমন্ত্রী দিন বদলের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেটা করতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন মামুন খালেদ। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছেন। কারণ তিনি জানেন বাংলাদেশকে যদি ডিজটাল না করা হয়, তাহলে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ব।

‘সেজন্য তিনি টেকনোলজি ফ্রেন্ডলি দেশ হিসেবে পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার যে লিডারশিপ সেটা প্রধানমন্ত্রীর আছে। এজন্য তিনি পেরেছেন।’

এক লাফে দেশ সমৃদ্ধ হবে না: এ আরাফাত

বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে হবে; সেখানে এক লাফে যাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত।

তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ আছে বলে আমরা এগিয়ে যাব না, সেটি আমরা মনে করি না। এগিয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য মর্যাদার এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় অপরচুনিটি।’

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত

উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে হলে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হয় জানিয়ে এ আরাফাত বলেন, ‘২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার আমাদের যে গোল, আমরা কিন্তু এক লাফে সেখানে যেতে পারব না। আমাদের কিন্তু প্রসেসে যেতে হবে। কাজেই আমাদের স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হতে হবে, সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েলি উন্নত দেশের কাতারে যেতে হবে।’

বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ: চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

আলোচনায় অংশ নেয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘যে বাংলাদেশ এক সময় পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্রপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল; অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময়। এটা কেবলই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী এবং জাদুকরি নেতৃত্বের কারণে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। কোভিড সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব তাকে জায়গা করে দিয়েছে বিশ্বের সেরা ৩ নেতার কাতারে। তার হাত ধরেই আজ আমরা স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।’

বক্তব্যে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত জানান, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির তিনটি সূচকেই পাসের চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে বাংলাদেশ। এই তিনটি সূচক হলো- মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি সূচকের যে কোনো দুটি অর্জনের শর্ত ছিল। তবে তিনটিতেই উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বিশেষজ্ঞরা জানালেন করণীয়
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

তিনি বলেন, ‘এক সময় যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ দিত, তারাই এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে এক যুগে বদলে গেছে বাংলাদেশ, বিশ্ব দরবারে জায়গা করে নিয়েছে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে।

‘আর এই অর্জনের কাণ্ডারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্বের কাছেই এখন তার পরিচিতি- দারিদ্র্য দূরীকরণের জাদুকর।’

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বিজয়ের মাসকে বরণ করে নিতে সিলেটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বিশাল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ফেস্টুন-ব্যানার, শিশুদের হাতে ছোটছোট পতাকা, খেলনা রাইফেল-গ্রেনেড। কেউ আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদলে সেজে ভাষণে মগ্ন।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে প্রথম দিন এভাবেই বরণ করে নিয়েছে সিলেটবাসী।

বাঙালির গৌরবান্বিত এ মাসের বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। এতে মুক্তিযোদ্ধা, স্কুলশিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘বিজয়ের পঞ্চাশে; আমরা মাতি উল্লাসে’ এই শ্লোগানে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয় বর্ণিল এই শোভাযাত্রা। নগর প্রদক্ষিণ শেষে তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

এই চেতনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা করেন।

শোভাযাত্রায় পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোশরাফ হোসেই ভূ্ইয়া, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিমশনার নিশারুল আরিফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবোজিৎ সিনহাসহ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন।

বিজয়ের মাস উদযাপনে শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দুইদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউ নির্বাচনে জয়ীদের একাংশের উচ্ছ্বাস। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

দেশে রিপোর্টারদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতৃত্বে এসেছেন নজরুল ইসলাম মিঠু ও নূরুল ইসলাম হাসিব।

আগামী এক বছরের জন্য সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন তারা।

দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে সংগঠনটির নির্বাচন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

সভাপতি পদে মিঠুর প্রাপ্ত ভোট ৪৪৯টি। সাধারণ সম্পাদক পদে হাসিব পান ৫০০টি ভোট।

সহসভাপতি পদে ৩৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ওসমান গনি বাবুল। ৮৩২ ভোট পেয়ে যুগ্ম সম্পাদক হন শাহনাজ শারমীন। ৬৭৮ ভোট পেয়ে অর্থ সম্পাদক হন এস এম এ কালাম।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল কাফি। ৭১৫ ভোট পেয়ে দপ্তর সম্পাদক হন রফিক রাফি।

৮৫৯ ভোট পেয়ে নারীবিষয়ক সম্পাদক হন তাপসী রাবেয়া আঁখি। অন্যদিকে ৭২৩ ভোটে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন কামাল উদ্দিন সুমন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হন কামাল মোশারেফ। আপ্যায়ন সম্পাদক হন মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

মাকসুদা লিসা ৭২৩ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক, নাদিয়া শারমিন ৯৭৩ ভোট পেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কামরুজ্জামান বাবলু ৭৮০ ভোট পেয়ে কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন হাসান জাবেদ, মাহমুদুল হাসান, সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো. আল আমিন, এস কে রেজা পারভেজ, তানভীর আহমেদ এবং ছলিম উল্লাহ মেজবাহ।

এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে একটি ভোট বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

রংপুরের হাজিরহাট রব্বানীর চরে শুরু হয়েছে তিন দিনের জেলা ইজতেমা। জেলার কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদ কমিটি এর আয়োজন করেছে।

জাতীয় কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা জিয়া বিন কাশেমের বয়ানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ইজতেমা শুরু হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজন কমিটির আরেক সদস্য মোস্তাফিজার রহমান সুমন জানান, সাদপন্থি তাবলিগ জামাতের হাজার হাজার অনুসারী ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশি বক্তারাও বয়ান করবেন। আগামী শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে।

ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের টহল আছে বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাজ্জাদ হোসেন।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, ‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

সাভারে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পুড়ে যাওয়া তাজরীন গার্মেন্টসের ফটকে বুধবার সকাল ৭টার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এদিন প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা
তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের এই দিনে প্রথম প্রহরে আমরা তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। বরাবরের মতোই এই কর্মসূচিতে শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন।

‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে আজকের এই দিনে আমরা আবারও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।’

তিনি জানান, দিনটিতে প্রতিবারই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়। বুধবার গাজীপুর ও নিশ্চিন্তপুরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নাচে-গানে উদযাপিত হয়েছে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহীয় বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান খাসি সেং কুটস্নেম। খাসিয়ারা নিজস্ব আয়োজনে ১২২ তম বছরকে বিদায় জানিয়েছেন।

কমলগঞ্জেের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাগুরছড়া খাসি পুঞ্জি মাঠে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই উৎসব। নাচ-গানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও আলোচনা সভারও।

ব্রিটিশ আমল থেকে খাসিয়ারা প্রতি বছরের ২৩ নভেম্বর এই অনুষ্ঠান করে আসছেন।

মাগুরছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী ও খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, খাসি সেং কুটস্নেম উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর রয়েছে বৈচিত্র্যময় জীবনগাঁথা। প্রাচীন খাসি সমাজে দেবতার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্য দিয়েই এ উৎসব পালিত হত। এরই ধারাবাহিকতায় এখন নিজেদের বিশেষ বর্ণিল পোশাকে সেজে এই সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবটি উদযাপন করে। দিনভর চলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

খাসিয়া তরুণী সালভেশন বলেন, ‘আমাদের এ উৎসব একটা মিলনমেলার মতো। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা সবাই জড়ো হই। এ বছর করোনার কারণে উপস্থিতি কম। তারপরও যতটুকু হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

আদিবাসী রক্ষা আন্দোলনের নেতা ফিলা ফতমি বলেন, ‘খাসিরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন টিলা এলাকায় তাদের বসবাস। দরিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও তারা অত্যন্ত নিরীহ। তারা প্রকৃতির পূজারী।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুচিয়াঙ, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি প্রধান ফিলা পত্মী, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, চা শ্রমিক নেতা পরিমল বাড়াইকসহ অনেকে।

উৎসব দেখতে জড়ো হন বাঙালি এবং বিদেশী পর্যটকরাও।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

সেনানিবাসের এম আর চৌধুরী প্রাঙ্গণে রোববার বিকেলে এই সম্মাননা দেয়া হয়।

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনে কেক কাটার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হারুন।

অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এরিয়া কমান্ডার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কঠোর আত্মত্যাগ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি দমন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা৷

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

মানুষের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম ভালো মাধ্যম ভাষা। ভাষা এমন এক সেতু যার মধ্য দিয়ে মানুষ তার চিন্তা, অনুভূতি, ধারণা, অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করতে পারে।

শান্তিকামী একদল মানুষ বিশ্বাস করে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বা কথা বলার মধ্য দিয়ে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই মানুষে মানুষে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে এসেছে ‘বিশ্ব হ্যালো দিবস’।

যাকে খুব অপছন্দ তাকেও ‘হ্যালো’ সম্ভাষণ জানিয়ে কাছে টানার সুযোগ নিতে পারেন আজ। মাত্র ১০ জন মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উদযাপন করতে পারেন ৪৯তম হ্যালো দিবস।

যেভাবে এল দিনটি

১৯৭০ সাল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক, অজানা আশঙ্কা। মুখোমুখি অবস্থানে ইসরায়েল ও মিশর। মিশরের সমর্থনে আছে সিরিয়াও। যুদ্ধপরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে পুরো জনপদ।

তখনও কিছু মানুষ বলছিলেন, যুদ্ধ নয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে এই বিরোধের নিষ্পত্তি করুন। তাহলে প্রাণহানি যেমন থামানো যাবে, বিশ্বের সীমিত সম্পদের ক্ষতিও ঠেকানো যাবে।

তিন বছর ধরে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে, ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর শুরু হয় অক্টোবর বা ইয়োম কিপপুর যুদ্ধ। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে হাজার হাজার সেনা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। অনেক সেনা সদস্যরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

যুদ্ধ বেঁধে গেলেও আলোচনার মধ্য দিয়ে যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন অ্যারিজোনা স্টেস ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক ব্রায়ান ম্যাককরমেক এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজেুয়েট মাইকেল ম্যাককরমেক। আর সেই বিশ্বাসটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেন তারা।

যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দিনটির সম্ভাবনা অনুধাবন করতে পেরেছেন ৩১ নোবেল জয়ী। তাই দিনটি উদযাপনের পাশাপাশি যারা বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখতে চান, তাদের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ: কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার আজ
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন