চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, দ্বিগুণ হলো ভাড়া

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, দ্বিগুণ হলো ভাড়া

‘রমজানকে কেন্দ্র করে আমদানি বাড়ছে। প্রতিনিয়ত পণ্য আসছে। কিন্তু আমদানিকারকরা বন্দরের ইয়ার্ডে পণ্যভর্তি কনটেইনার ফেলে রেখেছে। তাই রমজানে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে এফসিএলে (ফুল কনটেইনার লোড) জট লেগেছে। এগুলো সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাতে কাজ না হওয়ায় স্টোররেন্ট বা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বন্দরের সব ইয়ার্ড মিলে ৪৯ হাজার একক কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা আছে। যেখানে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৪০ হাজার একক। কনটেইনার দ্রুত ডেলিভারি না নিলে কয়েক দিনের মধ্যে বন্দর পণ্য ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এফসিএল সরিয়ে নিতে নোটিশ দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতেও কাজ না হওয়ায় স্টোররেন্ট বাড়িয়ে দেয়া হয়।

বন্দরের এই স্টোররেন্ট সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম।

নিউজবাংলাকে এনামুল করিম বলেন, ‘রমজানকে কেন্দ্র করে আমদানি বাড়ছে। প্রতিনিয়ত পণ্য আসছে। কিন্তু আমদানিকারকরা বন্দরের ইয়ার্ডে পণ্যভর্তি কনটেইনার ফেলে রেখেছে। তাই রমজানে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘ল্যান্ডিং ডেটের ১১তম দিন থেকে দ্বিগুণ স্টোররেন্ট কার্যকর হবে। দৈনিক ডেলিভারির ক্ষেত্রে ধীরগতির কারণে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য স্টোররেন্ট দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

রেগুলেন্স ফর ওয়ার্কিং অব চিটাগাং পোর্ট (কার্গো অ্যান্ড কনটেইনার) ২০০১-এর ১৬০ ধারা অনুযায়ী এই স্টোররেন্ট আরোপ করা হয়। এখন থেকে কমন ল্যান্ডিং ডেটের পর ১১তম দিন থেকে প্রযোজ্য স্ল্যাবর স্বাভাবিক ভাড়ার ওপর দ্বিগুণ হারে স্টোররেন্ট আরোপ করা হবে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, জাহাজ থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ কনটেইনার নামছে, সেই গতিতে বন্দর থেকে ছাড় না নেয়ায় বন্দরে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিকী ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক ছিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে হারে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো হচ্ছে, সেই হারে বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি দিতে পারছে না। বন্দরে প্রতিবছর কনটেইনার ওঠানামার প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু নিজেদের সক্ষমতা না বাড়িয়ে দ্বিগুণ স্টোররেন্ট আরোপ করল বন্দর। এতে করে বন্দর দিয়ে আসা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে ব্যবসায়ীরা।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমদানিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড

আমদানিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড

আমদানিতে ব্যস্ত চট্রগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

অক্টোবরে আমদানি বেড়েছে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ৬২.৫০ শতাংশ। আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকে জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

রপ্তানি আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। এতে অর্থনীতিতে গতি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

গত অক্টোবরে ৭১১ কোটি (৭.১১ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ৬১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য আমদানিতে এতো বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। বাড়ছে ডলারের চাহিদা। এতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে পড়েছে টান। বেড়ে যাচ্ছে ডলারের দাম; কমছে টাকার মান।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ৬৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল, যা ছিল এক মাসের হিসাবে এতোদিন সর্বোচ্চ। তার আগের মাস আগস্টে আমদানি হয়েছিল ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য।

আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকে জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার আমদানি সংক্রান্ত হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২ হাজার ৫৮৩ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ২৩ লাখ (১৭.০৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের (২০১৯-২০) জুলাই-অক্টোবর চেয়ে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম।

করোনা মহামারির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় দ্বিতীয়ার্ধে এসে আমদানি বাড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ৬৫ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড আমদানি খরচ নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে চালু হয়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে আমদানি। এখন প্রতি মাসেই রেকর্ড হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘মঙ্গল’ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর করোনা মহামারির মধ্যেই দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। প্রথম দিকে আমদানি কমলেও পরে বেড়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তাই আমদানি বাড়ছে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো।

‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ সব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।

‘এসব কারণেই গত অর্থবছরে আমদানি খাতে খরচ প্রথমবারের মতো ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এবার আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

‘এতে উদ্বেগের কিছু নেই। করোনার পর বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সে কারণে রপ্তানিতেও রেকর্ড হচ্ছে। দেশের ভেতরেও চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব খাতে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ সব পণ্যের প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই আমদানিতে জোয়ার এসেছে।

‘এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমদানি বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া। বিনিয়োগ বাড়া মানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া।
‘তবে, আমদানির আড়ালে যাতে এক পণ্যের জায়গায় অন্য পণ্য না আসে, বিদেশে টাকা পাচার না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আগামী বছর থেকেই যান চলাচল হবে। মেট্টোরেলও পুরোদমে চালু হবে। কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজও শেষ হবে। এই তিনটি বড় প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হয়েছে। আরও কয়েকটির কাজ চলছে।

‘সে পরিস্থিতিতে ২০২৩ সাল থেকে অন্য বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আর এসব উন্নয়নযজ্ঞকে কেন্দ্র করেই বিনিয়োগের ছক কষছেন উদ্যোক্তারা। সে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পণ্য সরঞ্জাম আমদানি করছেন তারা। এতেই বাড়ছে আমদানি।’

তিনি বলেন, ‘স্বস্তির জায়গা হচ্ছে আমাদের রিজার্ভ এখনও সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। রপ্তানিও আয় ভালো আসছে। তবে, রেমিট্যান্স কিন্তু অনেক কমে গেছে। যে কারণে যদি রপ্তানিও কমে যায়, তাহলে কিন্তু রিজার্ভও কমে যাবে। ফলে সরকারের এখন রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।’

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। সে কারণে প্রচুর অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে রপ্তানিসহ অন্যান্য খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানিতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২১ শতাংশ। আর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, এই পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।

রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স কমায় ও আমদানির উল্লম্ফনে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর পর থেকে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সম্মেলন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘সাফল্যের এই প্রবণতা ২০২২ সালে ব্যাংকিং খাতে নিজেদের অবস্থানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সে জন্য প্রত্যেককে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।’

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সম্মেলন-২০২১ হয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী।

সম্মেলনে ব্যাংকটির সব শাখা পরিচালক, জোনাল হেড এবং প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা ২০২১ সালের ব্যাংকের ব্যবসায়িক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা এবং ২০২২ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যাংক ব্যবসায় উন্নয়নের কলাকৌশল এবং চ্যালেঞ্জের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী করোনার বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের সামগ্রিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাংকের শাখা পরিচালক এবং জোনাল প্রধানদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘সাফল্যের এই প্রবণতা ২০২২ সালে ব্যাংকিং খাতে নিজেদের অবস্থানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সে জন্য প্রত্যেককে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।’

২০২২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংককে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংকের তালিকায় নিয়ে যেতে করোনা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সার্বিক বাণিজ্যিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরিকল্পিত ব্যবসা ও নতুন নতুন ব্যবসায়িক পণ্য প্রচলন করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

১০০তম উপশাখা খুলল এসআইবিএল

১০০তম উপশাখা খুলল এসআইবিএল

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী বৃহস্পতিবার ভোলার বোরহানউদ্দিনে ৯৯তম ও চাঁদপুরের রূপসা বাজারে ১০০তম উপশাখার উদ্বোধন করেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ১০০তম উপশাখা উদ্বোধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ৯৯তম ও চাঁদপুরের রূপসা বাজারে ১০০তম উপশাখার কার্যক্রম শুরু হয়।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপশাখা দুটির উদ্বোধন করেন।

এ সময় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাসের চৌধুরী, মো. সিরাজুল হক ও মো. সামছুল হক, কোম্পানি সচিব আব্দুল হান্নান খান, মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন ডিভিশনের প্রধান মো. মনিরুজ্জামান এবং ব্রাঞ্চেস কন্ট্রোল অ্যান্ড জেনারেল ব্যাংকিং ডিভিশন প্রধান সাইফ আল-আমীন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ভোলা ও চাঁদপুর শাখার ব্যবস্থাপকসহ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

বেসরকারি ঋণ প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি

বেসরকারি ঋণ প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি

ফাইল ছবি

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে সমান তালে। সব কিছু করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। সে কারণে অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোর মতো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

মহামারি করোনায় ধাক্কায় তলানিতে নামার পর গতি ফিরছে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে।

গত কয়েক মাস অল্প অল্প করে বাড়লেও অক্টোবর মাসে বেশ খানিকটা বেড়ে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে উঠে এসেছে এই ঋণ প্রবৃদ্ধি। তবে এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে রয়ে গেছে এই সূচক।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে সমান তালে। সব কিছু করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। সে কারণে অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোর মতো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার দেশে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাই মাসে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল, তাতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর শেষে উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যের চেয়ে এখনও ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ পয়েন্ট কম ঋণ নিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছে। এর অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। গত বছরের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তা আরও কমতে থাকে।

প্রতি মাসেই কমতে কমতে মে মাসে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে ব্যাংকের ঋণ বাড়তেই থাকে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসেবে এরপর তা সব সময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এমনকি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা দুই অঙ্কের নিচে (ডাবল ডিজিট), ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এর পর গত দুই বছর ধরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) অবস্থান করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুলাই ও আগস্টে এই সূচক ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৮ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের অক্টোবর শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির সময় সরকারের প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে, অর্থনীতিতে গতি ফিরে এসেছে। উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে বিনিয়োগ করছেন। সে কারণেই বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে।’

আগামী দিনগুলোতে বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘তবে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন কিভাবে বিস্তার লাভ করে তার উপর নির্ভর করছে সব কিছু।’

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংকিং খাতেও চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঋণের চাহিদা বাড়ছে। সে কারণেই বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

ফুডপান্ডার সঙ্গে এবি ব্যাংকের চুক্তি

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।   

ফুডপান্ডা বিজনেসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যাংকটির নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে ফ্রি গিফট ভাউচার দেবে এবি ব্যাংক।

ফুডপান্ডা বাংলাদেশের হেড অব কর্পোরেট সেলস সৈয়দ ফায়েদ মুনাইম ও এবি ব্যাংকের হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড সেগমেন্ট মো. রেজাউল শাহরিয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুর রহমান ও ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সেলস ডিরেক্টরশাহরুখ হাসনাইনসহ প্রতিষ্ঠান দুটির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমল এলপিজির

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কমেছে। ফাইল ছবি

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ডিসেম্বরে কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এটি আগের মাসের চেয়ে ৮৫ টাকা কম।

নভেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩১৩ টাকা।

অন্যদিক যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাস কেজিপ্রতি ৫৭.২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি বৃহস্পতিবার নতুন এই দর ঘোষণা দিয়েছে।

ভার্চুয়াল এই দর ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, কমিশনের সদস্য মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান ও মো. কামরুজ্জামান।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড়া ৯৫.৯১ টাকা এবং মূসকসহ সর্বোচ্চ ১০২.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে প্রতি মাসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে। সৌদির দর ওঠানামা করলে এলপিজির মূল্য ওঠানামা করবে।

আমদানিকারকের অন্যান্য কমিশন ও খরচ অপরিবর্তিত থাকবে। নভেম্বর মাসে সৌদি সিপির দর ছিল প্রোপেনে ৮৭০ ডলার এবং বিউটেনে ৮৩০ ডলার।

চলতি মাসে এলপিজির দর কমে যথাক্রমে টনপ্রতি ৭৯৫ ও ৭৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি, কিন্তু বাস্তবে সেই দরের কমই প্রতিফলন লক্ষ্যণীয়।

কোথাও বেশি দরে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে কম দরে বিক্রির খবর মিলেছে। ১২ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন।

গত এপ্রিল ঘোষিত দরে এলপিজির আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৩৫৯ দশমিক ৪০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই কমিশন বাড়িয়ে অক্টোবরে করা হয় ৪৪১ টাকা। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ টাকা করা হয়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রপ্তানি, নভেম্বরে বেড়েছে ৩১ শতাংশ

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

রেমিট্যান্স নিম্নমুখী হওয়ার মধ্যে অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে রপ্তানি আয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আয় এমনকি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না।

সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ৪০৪ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) হিসাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন (১ হাজার ৯৭৯ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

তবে এই সুবাসের মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যদি করোনার এই নতুন ধরন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রপ্তানি বাণিজ্যেও আগের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা টাকার হিসাবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

এ পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। এ হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক ছাড়াও কৃষি প্রক্রিয়াজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানি বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে সাড়ে ১৭ শতাংশ।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত, ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এরমধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৮৯৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৬৮৭ কোটি ডলার। আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা আছে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই আমরা খুশি। এত দ্রুত করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব, ভাবতে পারিনি। তবে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। জানি না, কী হবে। যদি ওমিক্রন সার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের রপ্তানি আবার থমকে যাবে। আর যদি, তেমনটা না হয়, তাহলে এই ইতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওমিক্রনকে গভীরভাবে পর‌্যবেক্ষণ করছি। সবকিছুই নির্ভর করছে করোনার এই নতুন ধরনের উপর। যদি ওমিক্রনের ছোবল বিশ্বে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে আগামী দিনগুলোতেও রপ্তানি আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা অর্থবছর শেষ করতে পারব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান
করোনায় জাহাজ আসা কমেছে ২ শতাংশ
২২ টনের জায়গায় এক টন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শোকজ
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চায় ভারত
ভারতীয় পণ্য ওঠানামায় কতটা সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর

শেয়ার করুন