সরকারি ব্যয়, ভোগ বাড়াতেই হবে: ড. মোয়াজ্জেম

সরকারি ব্যয়, ভোগ বাড়াতেই হবে: ড. মোয়াজ্জেম

সংক্রমণের শুরুর দিকে ঝুঁকি নিয়ে অর্থনীতি খুলে দেয় সরকার। এর সুফলও মিলেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক, কৃষি এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে কম সময়ে  ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনীতি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো আর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এক নয়।

করোনার কারণে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া ক্ষত কাটাতে আরও এক বছর লাগবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি মনে করেন, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও এখনও পুনরুদ্ধার হয়নি। পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হলে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প-এমএমই, গ্রামীণ অর্থনীতিসহ ‘লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা, অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিই আগামীতে অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ হবে।

সরকারি ব্যয় ও ভোট বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এই অর্থনীতিদিব বলেন, যত বেশি ব্যয় হবে, তত বেশি ভোগ সৃষ্টি হবে। চাঙ্গা হবে অর্থনীতি।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, আগামী বাজেট ভাবনাসহ নানা বিষয় নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন এই অর্থনীতিবিদ।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী ?

করোনার প্রথম দিকে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। কঠিন সময় পার হয়ে ধীর ধীরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি গতি আগের চেয়ে শ্লথ হয়েছে।

এই বার্তা আমাদের মতো দেশে খুবই গুরুত্ব বহন করে। কারণ, অনেকেই এখনও কর্মহীন। তাদের পক্ষে টিকে থাকাইটাই কঠিন। অর্থনীতি গতিশীল থাকলে মানুষের আয় রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়।

সংক্রমণের শুরুর দিকে ঝুঁকি নিয়ে অর্থনীতি খুলে দেয় সরকার। এর সুফলও মিলেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক, কৃষি এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে কম সময়ে ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনীতি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো আর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এক নয়।

ঘুরে দাঁড়ানোর চালেঞ্জ কাটিয়ে উঠা গেছে। এখন পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তবে এটা ঠিক, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এ অর্জনকে কীভাবে দেখছেন ?

দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা ও বিশ্বব্যাপী হুন্ডি বন্ধের ফলে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ।

প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠানোর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ স্ফীত হয়েছে। এটি চার হাজার ৩০০ কোটি ডলার (৪৩ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। আবার আমদানি কম হওয়ায় রির্জাভ বেড়েছে।

শাপলা চত্বর

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এর একটি ইতিবাচক দিক আছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়কালে বেশি রিজার্ভ থাকার কারণে সহজেই অর্থ পাওয়া গেছে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। কারণ, তারা মনে করে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে বাংলাদেশের।

চলতি অর্থবছরে আট মাস চলছে সামনে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী ?

এ মুহূর্তে অর্থনীতির দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো ভোগ ব্যয় চাঙ্গা করা। অন্যটি রাজস্ব আদায় বাড়ানো।

মানুষ কাজ হারিয়েছে, কাজ কম পাচ্ছে, কম আয় করছে। ফলে যে মাত্রায় গতিশীল হওয়ার দারকার অর্থনীতি, সেটি হচ্ছে না।

অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় না বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে না। এ জন্য বেসরকারি বিনিয়োগের দিকে না থাকিয়ে কর্মসৃজনমূলক প্রকল্প নিতে হবে সরকারকে।

দ্ধিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। আমদানি–রপ্তানি কামার কারণে রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কম রাজস্ব আহরণ সরকারের জন্য বড় দুর্ভাবনা।

ব্যয় কমার কারণ কী ?

সম্পদের সীমাবদ্ধতা তেমন নেই। কারণ, রাজস্ব আহরণ কম হলেও ব্যাংক এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি থকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে সরকার। বিদেশি ঋণও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সরকারের সম্পদের ঘাটতি আছে,- এমনটি বলার সুযোগ নেই।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। যেসব প্রকল্পে কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, সেগুলো প্রাধিকার দিয়ে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কিন্তু এখানে বড় দুর্বলতা আছে। দেখা যায়, অনেক বড় প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দেয়া হলেও তা ঠিকমতো খরচ করতে পারে না। টাকা ফেরত যাচ্ছে। অর্থবছরের শুরুতে ব্যয়ের দিকে বেশি নজর দিলে এ অবস্থা হতো না।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ কি যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন ?

প্রণোদনা ঘোষণার ফলে স্বস্তি দেখা দেয় অর্থনীতিতে। কিন্তু দুর্বল দিক হচ্ছে পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য দেয়া ঋণের শতভাগ ব্যয় হলেও পিছিয়ে ক্ষুদ্র,অতিক্ষুদ্র,মাঝারি ও কৃষিখাত। অথচ এসব খাতই অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি।

পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হলে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা সুবিধা দিতে হবে। ক্ষুদ্র,অতিক্ষুদ্রসহ এসএমই, সেবা ,অ-প্রাতিষ্ঠানিক, গ্রামীণ অর্থনীতিকে এ সুবিধা দিতে হবে।

ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে ক্ষুদ্রঋণ দানকারি সংস্থার, এনিজও এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমিতির মাধ্যমে ঋণসহায়তা দিতে হবে। ঋণসুবিধার পাশাপাশি কর সুবিধা দেয়া যেতে পারে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কোন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত?

কর্মসংস্থানের জন্য রপ্তানিমুখী খাতের অবশ্যই গুরুত্ব রয়েছে। এর বাইরে কৃষিভিত্তিক, এসএমই, পরিবহন, পর্যটন খাতে বেশি সুবিধা দিতে হবে। সহজ শর্ত ও কম সুদে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি এসব খাতের কর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি খাতে আরও বিনিযোগ বাড়াতে হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য। এখন থেকে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে বলে দিতে হবে, তারা যাতে এমন প্রকল্প প্রস্তাব রাখে যেখানে বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন -জিডিপি কত হতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?

বিগত অর্থবছরের উপর ভিত্তি করে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রাক্কলণ করা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এটি অর্জন সম্ভব নয়।

পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপাত্ত নেই। ফলে এ বছর জিডিপি কত হবে তা হিসাব করা কঠিন।

গত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক ছিল। এর পর থেকে কয়েক মাস স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতি। ফলে প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়।

সেই অবস্থান থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখনও আগের চেহারায় ফিরে যেতে পারেনি। আশা করা যাচ্ছে, গত অর্থবছরের মতো বা তার কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হতে পারে এবছর।

অর্থনীতি আগের চেহারায় ফিরে পেতে আর কত সময় অপেক্ষা করতে হবে ?

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটি বড় সাফল্য আমাদের জন্য। মানুষ পুরো আয় করতে না পারলেও রোজগার বন্ধ হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজের সুযোগ সীমিত এখনও। যারা চাকরি হারিয়েছে কাজ পায়নি তারা।

যারা এখনও বেকার বা অর্ধ বেকার বা পূর্ণ আয় করতে পারছেন না, এদের স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে যেতে সময় লাগবে।

কিন্তু আশার দিক হলো, স্বল্প আয় ও খেটেখাওয়া মানুষ আয়- রোজগার করছে। এদের সংখ্যাই বেশি। অর্থনীতি পুরোপুরি সচল হতে ২০২১ সাল লাগবে।

এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে আন্তর্জাতিক বাজারে নানা সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শুল্ক দিয়ে ওই দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। এ সুবিধা না থাকায় পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি খুবে বেশি না হলেও খারাপ করছে না বাংলাদেশ।

গার্মেন্টস
এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখন থেকেই ঠিক করার আহ্বান অর্থনীতিবিদদের। ছবি: নিউজবাংলা

শুল্কসুবিধা না থাকলে আমরা পারব না, এ ধারণা ঠিক না। দেশের উদ্যোক্তরা এখন যথেষ্ঠ সামর্থ্য অর্জন করেছেন। খরচ কীভাবে কমানো যায় সেই দিকে নজর দিচ্ছেন তারা। উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি করছে, যাতে আরও বেশি মুনাফা করা যায়।

শুল্ক সুবিধা উঠে গেলে অবশ্যই বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়বে। কিন্তু কিন্তু এটি না হলে যে সক্ষমতা হারিয়ে যাবে তা ভাবার কারণ নেই। অতীতে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ।

এ জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে।

এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার বড় একটা হাতিয়ার হতে পারে এফডিআই। এ সুযোগটি যেন কোনোভাবেই অবহেলা না করা হয়।

এলডিসি থেকে উত্তরণে দুই বছর সময় চেয়েছে বাংলাদেশ প্রস্ততি পর্বে এ সময় কি পর্যাপ্ত ?

স্বাভাবিক সময়ে ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ। করোনার কারণে অর্থনীতি দুর্বল হওয়ায় তা থেকে পিছিয়েছে। এ জন্য সরকার দুই বছর সময় চেয়েছে এবং বাড়তি সময় চাওয়াটা যুক্তিসঙ্গত।

আরও সময় নিলে ভালো হতো। তবে সরকার মনে করছে, কাজটি দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবে এবং অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সেই বিবেচনায় দুই বছর সময় যুক্তিসঙ্গত।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিঅ্যান্ডএ, ফ্যামিলি টেক্সকেও বাঁচানোর উদ্যোগ

সিঅ্যান্ডএ, ফ্যামিলি টেক্সকেও বাঁচানোর উদ্যোগ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৫ সালে। দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয় কোম্পানির উৎপাদন। আট বছর আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ১০০ শতাংশ অর্থাৎ একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার লভ্যাংশ দিয়ে চমক দেখায় ফ্যামিলি টেক্স। পরে ঘোষণা না দিয়ে প্রায় সব শেয়ার বেচে দেন উদ্যোক্তা পরিচালকরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর উৎপাদন বন্ধ হয়ে ডুবতে বসা সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও পরিচালকদের দ্বন্দ্বে লোকসানিতে পরিণত হওয়া ফ্যামিলিটেক্সকেও চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রোববার এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগে ভালো ছিল, কিন্তু নানা কারণে এখন কার্যক্রম নেই এমন কোম্পানিগুলোকেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

একই দিন বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। এর আগে রিং সাইন টেক্সটাইলেও নতুন পর্ষদ গঠন করে সেটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।

ফ্যামিলিটেক্সে জন্য বিএসইসির মনোনীত পরিচালক হলেন কাজী আমিনুল ইসলাম, ড. সামির কুমার শীল, ড. গাজী মোহাম্মদ হাসান জামিল, ড. মো. জামিল শরিফ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ এহসান এবং ড. মো. ফরজ আলী।

এ ছয়জন স্বতন্ত্র পরিচালকের মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজী আমিনুল ইসলাম।

আর সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দায়িত্ব পেয়েছেন সাতজন। চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথকে। প্রাথমিকভাবে বাকিদের নাম নিশ্চিত করতে পারেনি নিউজবাংলা

দুই বছর পর থেকে বন্ধ সিঅ্যান্ডএ

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৫ সালে। ১০ টাকা মূল্যের সাড়ে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে তোলা হয় ৪৫ কোটি টাকা। দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয় কোম্পানির উৎপাদন।

কোম্পানির বন্ধের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়, তৈরি পোশাক ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী কারখানা সংস্কারে বন্ধ রাখা হবে উৎপাদন। তারপর আর চালু হয়নি কোম্পানির কার্যক্রম।

এমন অবস্থায় সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১০ মার্চ ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানি পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান কোম্পানির ফ্যাক্টরি, প্রধান কার্যালয় সবই বন্ধ। পরিদর্শনে যাওয়া ডিএসইর প্রতিনিধিরা কারখানায় প্রবেশ করতে না পারায় কোম্পানির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু অবগত হতে পারেননি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের –সিএসই কর্তৃপক্ষও কারখানা পরিদর্শনে গেলে একইভাবে কারখানা বন্ধ পান।

২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প জোনে সাতটি প্লট নিয়ে নিটিং, ডাইং ও প্রিন্টিংয়ের জন্য রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উৎপাদন শুরু করে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল।

তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের শেয়ারের দর ১২০ শতাংশ বা ১০ টাকার শেয়ার ওঠে ২২ টাকায়। বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১ টাকা ৯০ পয়সায়।

কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে ২০১৫ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। তারপর ২০১৭ সালে কোম্পানিটি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বিএসইসির শেয়ার ধারণের নিয়ম অনুযায়ী কোম্পনির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। কিন্তু কোম্পানিটি তা পরিপালন করেনি। এ ছাড়া মোট শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের সব শেষ মূল্য ২ টাকা মাত্র।

ফ্যামিলি টেক্সের প্রায় সব শেয়ারই বেচে দিয়েছেন উদ্যোক্তার

আট বছর আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ১০০ শতাংশ অর্থাৎ একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার লভ্যাংশ দিয়ে চমক দেখায় এই কোম্পানিটি।

ওই বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৭ টাকা ২৬ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ছিল ২১ টাকা ৭২ পয়সা।

কিন্তু এর পর থেকে কোম্পানিটির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। ২০১৪ সালের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ এবং পরের তিন বছর পাঁচ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ দেয়। এরপর থেকে লোকসানের জন্য আর কোনো লভ্যাংশই দেয়নি।

গত বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১৫ পয়সা করে লোকসান দেয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিক অর্থাৎ ছয় মাসে লোকসান দিয়েছে ১৩ পয়সার কিছু বেশি।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকরা আরেকটি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেন। পুঁজিবাজারে ঘোষণা না দিয়েই উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন।

এই বিষয়টি তদন্তে ডিসেম্বরের শেষে একটি তদন্ত কমিটি করে বিএসইসি। তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, সেটি এখনও জানা যায়নি। আর এ জন্য পরিচালকদের তেমন কোনো শাস্তিও পেতে হয়নি।

কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে এখন মাত্র ৪.০২ শতাংশের মালিক কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে মালিকপক্ষ।

এই কোম্পানির ৭৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার দরও একেবারে তলানিতে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের সব শেষ মূল্য ২ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

‘সামাজিক সুরক্ষা ভাতার যোগ্য ৪৬ শতাংশই বঞ্চিত’

‘সামাজিক সুরক্ষা ভাতার যোগ্য ৪৬ শতাংশই বঞ্চিত’

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাওযার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ৪৬ শতাংশ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় হচ্ছে : পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ৪৬ শতাংশ মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম।

রোববার এক সংলাপ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন এ জ্যেষ্ঠ সচিব।

তিনি বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় হচ্ছে।’

তবে অপচয় কমিয়ে আনতে এ খাতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ভাতা পরিশোধ পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। যোগ্যদের শনাক্তে শক্তিশালী ডাটা ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আশা করা যাচ্ছে এ খাতে অনিয়ম অনেক কমবে।’

‘করোনার প্রভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপটি অনলাইনে আয়োজন করে যৌথভাবে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) ও ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি)। ড.শামসুল আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উপর গুরুত্বারোপ করে ড.শামসুল আলম বলেন‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে,যেটি বর্তমানে ২ দশমিক ৬ শতাংশে আছে।

তবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, শিক্ষা ব্যয় জিডিপির ৬ শতাংশে নিয়ে যাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য খাতে এখন ব্যয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সেটি বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির উচ্চতর পর্যায়ে গেছে। করোনায় কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে মত দেন ড.আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (এএসডি) নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরী বলেন, ‘করোনায় একটা বড় ক্ষতি হলো, অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

অনেকে কাজে চলে গেছে, অনেকের বাল্য বিয়ে হয়ে গেছে। তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়,সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে।

সংলাপ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।

করোনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে কীভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে করণীয় তুলে ধরে মাহফুজ কবীর বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।’

মূল প্রবেন্ধর ওপর আরও আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, রোগতত্ত্ববিদ ও মানিকগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত শর্মী, উন্নয়ন কর্মী তাহমিনা শিল্পী, প্রতীক যুব সংসদের নির্বাহী প্রধান সোহানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

ইউনাইটেড এয়ারকে ফেরাতে বোর্ড পুনর্গঠন বিএসইসির

ইউনাইটেড এয়ারকে ফেরাতে বোর্ড পুনর্গঠন বিএসইসির

কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার আগে ইউনাইটেড এয়ারের মালিকপক্ষ পুঁজিবাজারে উচ্চমূল্যে প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে

‘এটা একটি গুরু দায়িত্ব। ভেঙে পড়া একটি এয়ারলাইন্সকে টেনে তোলা খুবই কঠিন কাজ। আমরা চেষ্টা করব বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আগের জায়গায় নিয়ে আসা। প্রথম কাজই হবে বিনিয়োগকারীদের যে অর্থ লগ্নি করা আছে তার নিরাপত্তা দেয়া।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। এর অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবে আর থাকছেন না তাসবিরুল আলম চৌধুরী। তাকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কাজী ওয়াহিদুল আলমকে।

ওয়াহিদুলের এভিয়েশন ব্যবসায় বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। তিনি বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পর্যটন ও এভিয়েশন বিষয়ক একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক।

নতুন পর্ষদের এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস ও মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ।

এই সিদ্ধান্তে পাঁচ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়া হাজার হাজার মানুষ তাদের নাই হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরে পাওয়ার আশা ফিরে পেল।

রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই নির্দেশনায় বস্ত্র খাতের দুই বন্ধ প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলও ফ্যামিলি টেক্সের পরিচালনা পর্ষদও পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বিএসইসি দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ ও লোকসানি কোনো প্রতিষ্ঠানের বোর্ড পুনর্গঠন করে সেটিকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিল। এর আগে বস্ত্র খাতের রিং সাইন টেক্সটাইলের বোর্ড পুনর্গঠন করে সেটিকে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

15

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছেন, পুনর্গঠন করা বোর্ড কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোম্পানির সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর, এফডিআরসহ কোনো কিছুর পরিবর্তন করতে পারবেন না।

কাজী ওয়াহিদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা একটি গুরুদায়িত্ব। ভেঙে পড়া একটি এয়ারলাইনসকে টেনে তোলা খুবই কঠিন কাজ। আমরা চেষ্টা করব বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আগের জায়গায় নিয়ে আসা। প্রথম কাজই হবে বিনিয়োগকারীদের যে অর্থ লগ্নি করা আছে তার নিরাপত্তা দেয়া।’

প্রতিষ্ঠানটির অনেক দেনা ও লোকসানে আছে, সেখানে থেকে কীভাবে উত্তরণ হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এখনও কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাইনি। আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে আগের জায়গায় নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।’

তবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, তারা এখনও বিষয়টি জানেন না। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এমনকি কোনো চিঠিও আসেনি। নির্দেশনার চিঠি পাওয়া গেলেই বিস্তারিত বলা যাবে।’

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। …আগে ভালো ছিল, কিন্তু নানা কারণে এখন কার্যক্রম নেই এমন কোম্পানিগুলোকেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউনাইটেড এয়ার পরিচালনা পর্ষদের বাদ পড়া চেয়ারম্যান তাসবিরুল আলম চৌধুরীর অবস্থান কোথায়, সেটি এখন নিশ্চিত নয়। তিনি বারবার কোম্পানিটিকে আবার চালুর করার উদ্যোগের কথা বলেছেন নানা সময়। আর এতে পুঁজিবাজারে মাঝে মধ্যে শেয়ার দরে উল্লম্ফনও হয়েছে। কিন্তু শেষ অবধি আর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

শেয়ার বেচে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা

বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রথম প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এয়ার। ২০১০ সালে পুঁজিবাজার যখন চাঙা, তখন সেটি তালিকাভুক্ত হয়। শুরুর দিকে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে।

সে সময় ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে কোম্পানিটির অবস্থা খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে উদ্যোক্তা পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে কোম্পানিটিই বন্ধ করে দেন।

৮২০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৮২ কোটি শেয়ারের মধ্যে বাদ পড়া উদ্যোক্তা পরিচালকদের কেবল আড়াই শতাংশ শেয়ার ছিল। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হতো তাদের হাতে।

পাঁচ বছর ধরে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত না করা, বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়া, নিয়মিত এজিএম না করার কারণে সম্প্রতি পুঁজিবাজারের মূল মার্কেট থেকে ইউনাইটেড এয়ারকে সরিয়ে দেয়া হয়। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে কোম্পানিটি লেনদেন হচ্ছে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে।

সেখানে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির আদেশ দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, কিন্তু কেউ কিনতে রাজি হচ্ছেন না।

কোম্পানিটি ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়ার পর ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত নাই হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কোম্পানিটিকে নতুন করে চালু করতে পারলেই কেবল এই শেয়ার আবার তার মূল্য ফিরে পাবে।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

ঋণ দিয়ে তদারকিতেও থাকতে হবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে

ঋণ দিয়ে তদারকিতেও থাকতে হবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে

কিস্তিভিত্তিক প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কিস্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে পরবর্তী কিস্তি ছাড় করতে বলেছে। কোনো ঋণের অর্থ মজুরিপত্রে উল্লেখিত খাতের পরিবর্তে অন্য কোথাও ব্যবহৃত হলে ব্যাংককে কারণ উদ্ঘাটনসহ তা রোধকল্পে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ব্যবহারে কড়া নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুসারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিলে সেই টাকা যথাযথ খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তার তদারকি করতে হবে।

এক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ করা যাবে না, এক কারণ দেখিয়ে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে টাকা ব্যবহার করা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ হলে আটকে দেয়া হবে কিস্তি।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহককে যে উদ্দেশ্যে ঋণ দেয়া হয়েছে বা হবে সে উদ্দেশ্যেই ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নিয়মিত তদারকি করার কথা বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিস্তিভিত্তিক প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কিস্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে পরবর্তী কিস্তি ছাড় করতে বলেছে। কোনো ঋণের অর্থ মজুরিপত্রে উল্লেখিত খাতের পরিবর্তে অন্য কোথাও ব্যবহৃত হলে ব্যাংককে কারণ উদ্‌ঘাটনসহ তা রোধকল্পে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এক ঋণের টাকা অন্য ঋণের দায় পরিশোধে বা সমন্বয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং তদারকির বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ঋণ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং তা সংশ্লিষ্ট ঋণ নথিতে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে ঋণ বা বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিয়ে কোনো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে তা তাৎক্ষণিক বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগকে জানাতে হবে।

এর আগে ব্যাংকের ঋণ ব্যবহারেও এমন নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

প্রকল্পে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

প্রকল্পে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতির পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

প্রকল্প পরিচালকদের নিজ নিজ প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে কাজের গতি ও তদারিক বাড়াতে নির্দেশ দেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মাজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব নির্দেশনা রয়েছে সে অনুযায়ী প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মোট ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৪টি বিনিয়োগ প্রকল্প, তিনটি কারিগরি সহায়তা এবং একটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প।

সময়াবদ্ধ কর্মসূচির মধ্যে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মাজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্প পরিচালকদেরই বেশি তৎপর থাকতে হবে।

এজন্য প্রকল্প পরিচালকদের নিজ নিজ প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে কাজের গতি ও তদারিক বাড়াতে নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব নির্দেশনা রয়েছে সে অনুযায়ী প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে।

দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন কার্যক্রম বাড়াতে হবে। করোনার কারণে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ধীরগতি ছিল, এখন কাজের গতি বাড়িয়ে তা পূরণ করতে হবে।

রোববার শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতির পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব কে এম আলী আজমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকার প্রকল্পের পরিচালকরা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এ সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩টি কারিগরি সহায়তা এবং ১টি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প রয়েছে।

সব মিলিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ৩ হাজার ৪০৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যেখানে সরকারিখাতে (জিওবি) এক হাজার ২৭৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা, প্রকল্প সাহায্যখাতে দুই হাজার ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নখাতে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর বিপরীতে ১ হাজার ১২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভায় জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি ৩২.৮৯ শতাংশ যা জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতির চেয়ে বেশি। জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতির হার ২৮.৪৫ শতাংশ।

সভায় আরও জানানো হয়, রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৭টি গুদাম নির্মাণ কাজ চলতি বছরের মার্চে শেষ হবে। এছাড়াও এ প্রকল্পের বাকি গুদাম নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এছাড়া চলতি বছরের জুনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোট ৪৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে সভায় জানানো হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিমের পরিদর্শনকৃত ৪টি প্রকল্পের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রকল্পের কাজের গুণগতমান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পে কাজের তদারকি বাড়াতে হবে। সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার জন্য বাফার গোডাউনের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

বিশেষ সুবিধার আসক্তি থেকে বের হতে হবে: দেবপ্রিয়

বিশেষ সুবিধার আসক্তি থেকে বের হতে হবে: দেবপ্রিয়

সিডিপির অন্যতম সদস্য ড. দেবপ্রিয় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর প্রস্তুতি পর্বে একটি ‘উত্তরণকালীন কৌশলপত্র’ প্রণয়নের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেন।

অন্য দেশের কাছ থেকে বেশি সুবিধা আনার মানসিকতা বদলে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ভার্চুয়াল সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

শুক্রবার রাতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি তথা সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা শেষে মূল্যায়নে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। শনিবার এই খুশির খবর এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিকে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ স্বীকৃতি পেলেও উন্নয়নশীল দেশের মর্যদা পেতে বাংলাদেশকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

সিডিপির অন্যতম সদস্য ড. দেবপ্রিয় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর প্রস্তুতি পর্বে একটি ‘উত্তরণকালীন কৌশলপত্র’ প্রণয়নের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেন।

উত্তরণের পর প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশের করণীয় কী, তা জানাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ড. দেবপ্রিয়। এ সময় এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর আগামীতে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘এখন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষ সুবিধার আসক্তি থেকে বের হতে হবে। মূল জায়গাটা হতে হবে দেশের পরিবর্তন।’

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বিশ্বের কাছ থেকে বেশি সুবিধা আনতে হবে, এমন মানসিকতার পরিবর্তন করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে। দাঁড়াতে হবে নিজেদের পায়ে।

‘এ জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। জোর দিতে হবে কর আহরণে। মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।’

দেবপ্রিয় বলেন, জাতিসংঘ বলেছে, উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা আছে। এ জন্য পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছে তারা। এগুলো হলো অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন থেকে বের হয়ে আসা।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী যে কৌশলপত্র তৈরি করা হবে তাতে উল্লিখিত বিষয় যুক্ত করতে হবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ভুটান এরই মধ্যে কৌশল তৈরি করেছে জানিয়ে খ্যাতনামা এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের তো কৌশলপত্রের অভাব নেই। এসবের মধ্যেও এলডিসি উত্তরণকালীন কৌশল কীভাবে তৈরি করা যায়, তা এখন থেকে ভাবতে হবে।’

এই কৌশলপত্র তৈরিতে ২০১৬ সালে গঠন করা জাতীয় টাস্কফোর্সকে দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করে তিনি জানান, টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করতে হবে। এতে বাণিজ্য, ইআরডি, পরিকল্পনা কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

বিভ্রান্ত পুঁজিবাজারের ‘রাজা’ দুর্বল কোম্পানি

বিভ্রান্ত পুঁজিবাজারের ‘রাজা’ দুর্বল কোম্পানি

ঢাকা স্টক একচেঞ্জের একটি ব্রোকারেজ হাউসে উৎসুক এক বিনিয়োগকারী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে প্রায়ই কারসাজি হয়। যখন পুঁজিবাজারে টানা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়, তখনই এই ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ছয়টি কোম্পানির চারটি লোকসানি। এর তিনটি গত ১০ বছরে কখনও লভ্যাংশ দিতে পারেনি, সামনে দিতে পারবে এমন সম্ভাবনাও কম।

বিপুল পরিমাণ লোকসান, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ঋণাত্মক, এই অবস্থাতেও কোম্পানিগুলোর দাম বেড়েছে এক দিনে যতটুকু বাড়া সম্ভব ততটুকুই।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিন আর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে এই ঘটনাটিই ঘটল।

মাসজুড়েই পুঁজিবাজার হতাশা ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। ক্রমাগত দরপতনের বৃত্ত ভেঙে গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে প্রায় ১০০ পয়েন্ট সূচক পুনরুদ্ধার হওয়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজারের আচরণের দিকে দৃষ্টি ছিল বিনিয়োগকারীদের।

তবে সপ্তাহের শুরুতেই আবার হতাশ হতে হলো তাদের। কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দর। দর ধরে রাখতে পারছে না ভালো কোম্পানি। গতি নেই লেনদেনে। কিন্তু মন্দ শেয়ার হিসেবে পরিচিত দুর্বল কোম্পানির শেয়ারধারীদের পোয়াবারো।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে প্রায়ই কারসাজি হয়। যখন পুঁজিবাজারে টানা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়, তখনই এই ঘটনা ঘটে।

কী খবর আছে দুর্বল কোম্পানির

জিলবাংলা সুগার মিল, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেড ক্যাটাগরির একটি কোম্পানি। ডিএসইর ওয়েবসাইটে এই কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু রোববার এই কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এই কোম্পানির মূল্যসীমা অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি বাড়ার সুযোগ নেই। কিন্তু শতাংশের হিসাবে ১০-এর নিচেই থাকে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির হিসাবটি।

জিলা বাংলা সুগার মিলের খোঁজখবর দেয়ার জন্য দায়িত্বে থাকা কোম্পানি সচিব লাইলি আক্তারও অবাক হয়েছেন যখন জেনেছেন শেয়ারের দর বেড়েছে ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? কোম্পানি যেমন ছিল, এখন তেমনি আছে। কোনো অগ্রগতির খবর নেই।’

তিনি বলেন, ‘লোকসানে থাকায় লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু তারপরও কেন শেয়ারের দর এভাবে বাড়ছে তা জানা নেই।’

জেড ক্যাটাগরির আরেক কোম্পানি সাভার রিফ্যাক্টরিজ লিমিটেড। বিবিধ খাতে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও লভ্যাংশ দেয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তারপরও বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় থাকা এই কোম্পানির শেয়ার দরও রোববার বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এমন খবরে কোম্পানির সচিব বেলায়েত হোসেন খানও হতবাক হয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘আজও দাম বেড়েছে?’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি আছেন যারা এ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ান। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি না। তবে কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই যার কারণে শেয়ারের দর বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির আগের সমস্যাগুলো এখনও আছে। কাঁচামাল কিনতে না পারা, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকা, চেষ্টা করা হচ্ছে ভালো কিছু করার। কিন্তু কতটুকু হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

রোববার জেড ক্যাটাগরির এই দুই কোম্পানি নয়, ছিল শ্যামপুর সুগার মিল, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ফ্যামিলিটেক্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৮ শতাংশ।

পতনের মধ্যেও কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাজার বিশ্লেষকরা যা বলছেন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমাদের যেসব খবরাখবর আছে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে। সূচক পড়ে যাওয়ার পেছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব অনেক বেশি। গত ডিসেম্বরের পর বিনিয়োগকারীরা যেভাবে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থাশীল হয়েছিল এখন ততটা নেই।

তিনি বলেন, ‘দুর্বল কোম্পানি নিয়ে কিছু বলার নেই। কিছু বিনিয়োগকারী আছেন যারা এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করেন। কিছু দিন পর আবার এগুলোর দরপতন হয়। কিন্তু এটা সার্বিক পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতিকর। যারা স্বল্প সময়ে মুনাফা নিতে আগ্রহী তারা ভুলে এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।’

লেনদেনে বেক্সিমকো, রবি, বেট বাংলাদেশ

লেনদেনের শীর্ষে আবার ঘুরেফিরে বেক্সিমকো লিমিটেড, রবি আজিয়াটা ও বেট বাংলাদেশ-বিএটিবিসি।

বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকার। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার। কোম্পানির শেয়ার দর ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৮০ টাকা ৫০ পয়সা।

রবির ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার দর ৪৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা।

বেট বাংলাদেশ- বিএটিবিসির ৩ লাখ ৩৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২ কোটি টাকায়।

সবচেয়ে বেশি লেনদেনের তালিকায় ছিল সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা, ওয়ালটন, জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার।

খাতভিত্তিক লেনদেন

রোববার লেনদেন ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির। আর দর কমেছে ১১টির। পাল্টায়নি ছয়টির।

প্রকৌশল খাতেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর পাল্টায়নি। তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর পাল্টায়নি ২০টির, দর বেড়েছে ৯টির। বাকি ১৩টির দর কমেছে।

ব্যাংকবহির্ভূত ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ছয়টির। পাল্টায়নি চারটির। দর কমেছে ১৩টির।

বিমা খাতেও ৪৯টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে সাতটির। দর পাল্টায়নি নয়টির। আর দর কমেছে ৩৩টির।

রাজধানীর একটি ব্রোকারেজ হাউসে উৎসুক বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সূচক ও লেনদেন

ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৪ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩.০৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ১২০টির ও পাল্টায়নি ১২৬টির দর।

ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬০ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছিল ৭৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিএসইর লেনদেন কমেছে ৮৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে- সিএসই প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৬ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬০৩ পয়েন্টে।

লেনদনে হওয়া ২২৯টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ৮০টির, পাল্টায়নি ৭৪টির। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি টাকা।

আগ্রহ ও অনাগ্রহের কোম্পানি

রোববার ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

জিকিউ বলপেনের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

নতুন শেয়ার ই জেনারেশন লিমিটেডের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এসোসিয়েট অক্সিজেনের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এছাড়া এ তালিকায় ছিল দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনালী আঁশ, বিডিল্যাম্প, ডোমিনেস স্টিল।

দর কমার শীর্ষে ছিল প্রাইম ফিন্যান্স, যার শেয়ার দর রোববার কমেছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

লংকাবাংলা ফিন্যান্সের শেয়ার দর কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গোল্ডেনসন, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, মাইডাস ফিন্যান্সও ছিল সর্বাধিক দর বৃদ্ধির তালিকায়।

আরও পড়ুন:
উহানের সেই ‘অপয়া’ মার্কেট করোনার উৎস নয়  

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg