সিগারেট রপ্তানিতে আগ্রহ বিএটিবিসির, বড় হচ্ছে কারখানা

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কার্যালয়। ছবিটি কোম্পানির ভিডিও থেকে নেয়া

সিগারেট রপ্তানিতে আগ্রহ বিএটিবিসির, বড় হচ্ছে কারখানা

পুঁজিবাজারে ১৯৭৭ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি দেশের সিগারেট বাজারের সিংহভাগ দখল করে আছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার মতো। কোম্পানিটি এখন ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করতে চাইছে। এবং এর অংশ হিসেবে দেশের বাইরেও বাজার ধরার চেষ্টায় আছে।

বাংলাদেশ থেকে সিগারেট রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড (বেট বাংলাদেশ) সাভারে তাদের কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯২ কোটি টাকা।

বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মূল্য সংবেদনশীল এই তথ্যটি বৃহস্পতিবার জাতীয় দৈনিক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েসবাইটে দেয়া হবে।

এরই মধ্যে তথ্যটি বেট বাংলাদেশের ওয়েবেসাইটে পোস্ট করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে ১৯৭৭ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি দেশের সিগারেট বাজারের সিংহভাগ দখল করে আছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার মতো।

মহামারির বছরে এই আয় আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ৯৩৬ কোটি টাকার মতো। তার আগের বছর আয় ছিল ১ হাজার কোটি টাকার মতো।

কোম্পানিটি এখন ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করতে চাইছে। এবং এর অংশ হিসেবে দেশের বাইরেও বাজার ধরার চেষ্টায় আছে।

সিগারেট রপ্তানিতে আগ্রহ বিএটিবিসির, বড় হচ্ছে কারখানা
সিগারেট রপ্তানির উদ্দেশ্যে ১৯২ কোটি টাকায় কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তি

কোম্পানির পরিকল্পনা জানতে কোম্পানি সচিব আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

গত তিন বছরে কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন তিন গুণ করেছে। ৬০ কোটি টাকা থেকে ১৮০ কোটি টাকায় উত্তীর্ণ এই মূলধন আরও তিন গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর শেষে তাদের বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশ বোনাস অর্থাৎ একটির বিপরীতে দুটি করে শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্তর মধ্য দিয়ে বাড়ছে এই পরিশোধিত মূলধন।

এর পাশাপাশি অর্থবছরের জন্য ৬০০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি মোট ৬০ টাকা নগদ মুনাফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর মধ্যে ৩০ টাকা অন্তর্বর্তী মূলধন হিসেবে আগেই পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা।

আগামী ৩ মার্চ রেকর্ড ডেটের পর কারা এই শেয়ার ও নগদ মূলধন পাবেন তা নিশ্চিত হবে। তবে ২৮ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হওয়ার পরে তা বিনিয়োগকারীদের হিসাবে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আগুনের পরও উৎপাদন চলবে মোজাফফর স্পিনিং মিলে

আগুনের পরও উৎপাদন চলবে মোজাফফর স্পিনিং মিলে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় ভুলতা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রতিষ্ঠানটির নতুন স্পিনিং ওয়াওহাউজে (রিং ইউনিটি) আগুন লাগে। ডিএসই থেকে জানানো হয়, ৬-৭ ঘণ্টার আগুনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিল অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সার্বিক উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় ভুলতা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রতিষ্ঠানটির নতুন স্পিনিং ওয়াওহাউজে (রিং ইউনিটি) আগুন লাগে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে রোববার জানানো হয়, ৬-৭ ঘণ্টার আগুনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে। এতে কাঁচা তুলা, সুতাসহ ওয়ারহাউজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে কোম্পানির সচিব হারিছ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অগ্নিকান্ডে কোম্পানির ওয়ারহাউজটি পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ওয়ারহাউজে থাকা আড়াইশ টন সুতা ও চারশ টন তুলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

এমন ক্ষতিতেও কোম্পানির উৎপাদনের কোনো বিঘ্ন হবে না বলে জানান হারিছ আলম।

ডিএসই ওয়েব সাইটে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাঁচা তুলা, সুতা এবং ওয়ারহাউজ শেড বিমার আওতায় রয়েছে। বিমা কোম্পানি কারখানা জরিপ করার জন্য জরিপকারী নিয়োগ দেবে।

এ বিষয়ে হারিছ আলম বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বিমা চুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। তারা জরিপকারী নিয়োগ দেয়ার পর প্রকৃত ক্ষতি ও বিমার আওতায় কত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে সেটি জানা যাবে।

২০১৪ সালে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই বছর পর্যন্ত ‘এ’ ক্যাটাগরি ভুক্ত থাকালেও তারপর আর ভালো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

২০১৪ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৫ সালে দিয়েছে ১৫ শতাংশ। তারপরও আর কোনো সময়ই ৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারিনি বিনিয়োগকারীদের।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে কোম্পানিট ২ শতাংশ বোনাস এবং ২০২০ সালের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এ উত্তরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড তৈরি হবে। এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যোগ হবে।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠলে নানা সুবিধা হারানোর পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে হাজির হবে। তবে এর বিপরীতে অনেক আপেক্ষিক ও অদৃশ্য সম্ভাবনার দরজাও খুলে যাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

তাৎক্ষণিক দেখা বা ভোগ করা না গেলেও এসব অদৃশ্য সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে উন্নয়ন সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

বিশ্লেষকেরা এ সংক্রান্ত পর্যালোচনায় সম্ভাবনাগুলোকে চার ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তারা বলেছেন, এ উত্তরণের কারণে বাংলাদেশের সামনে যেসব সুযোগ উন্মোচন হবে, তা সময়াবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে উন্নয়নশীল দেশের স্থিতি টেকসই হবে। পাশাপাশি ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উন্নত দেশে পা রাখার যাত্রাকেও সহজ করবে।

আপেক্ষিক এই সম্ভাবনাগুলো হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি বাড়া, উত্তরণের ধাক্কা সামলাতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, বিশ্বায়নের অবাধ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়া এবং এই তিন কারণে দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া। এটি দেশে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি কমাবে এবং উন্নত দেশের অবকাঠামো তৈরির পথ সুগম করবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল ব্র্যান্ড তৈরি হবে। এটা এক ধরনের আপেক্ষিক সুফল।

‘এ ধরনের পদোন্নতি বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যোগ হয়।’

উদ্যোক্তাদের মধ্যে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উদ্যোক্তারা এতদিন অগোছালো ছিল। সনাতনী ধরনের উৎপাদনে যুক্ত ছিল। এখন এই উত্তরণের প্রভাবে দেশে ছোট-বড় সব উদ্যোক্তার মধ্যে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সনাতনী চেতনার পরিবর্তন ঘটবে। এটা করতেই হবে।

‘এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। উৎপাদন কর্মকাণ্ডে মনস্তাত্ত্বিক এই পরিবর্তনের প্রভাব মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গতি সঞ্চার করবে।’

প্রতিযোগী সক্ষমতার উন্নয়ন বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পাওয়ার পরও পরবর্তী ৫ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা নিতে পারবে বাংলাদেশ। এ সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে। উৎপাদক এবং শ্রমিক সবার কর্মদক্ষতারই উন্নয়ন ঘটবে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটবে। সংযোজিত হবে বিশ্বের সব আধুনিক যন্ত্রপাতির।

‘এতে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। এসবের প্রভাবে বাংলাদেশের শিল্পপণ্য উৎপাদনে অনেক বৈচিত্র্য আসবে, যা বিশ্বায়নের অবাধ প্রতিযোগিতায় উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াবে।’

বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নশীলের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করলেও এর দরুণ আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে তার সম্ভাবনার মূল্য সীমাহীন।’

তার দাবি, ‘সরকার বিনিয়োগ উন্নয়নে যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে আগামীতে ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নতি ঘটেবে। এর ফলে দেশে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে।

‘এটা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে। আমদানিতেও গতি সঞ্চার হবে। এসবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। তবে এর সবকিছুই নির্ভর করছে আমরা কতটা নিজেকে সক্ষম করে তুলতে পারছি তার ওপর।’

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশের সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছেছে। এ জন্য বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপি বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে চূড়ান্ত ঘোষণার পর শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় মূল্যায়ন শেষে শুক্রবার মধ্য রাতে এ ঘোষণা দেয়ার পর শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবণ থকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে এ খুশির খবর দিয়ে বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়ার বাংলাদেশ।’

উত্তরণের এই ঘটনাকে এক ‘অনন্য অর্জন’ বলে মন্তব্য করেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এলডিসির তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশের সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এই অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছেছে। এ জন্য বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন। এতে আরও উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি, এই অর্জন বড় ভূমিকা রাখবে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটে উন্নয়নশীল দেশের কাতারভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় মূল্যায়ন শেষে শুক্রবার রাতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সিডিপির সুপারিশের পর সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশের কী করা উচিত, চ্যালেঞ্জসমূহ কী- সব বিষয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে। তারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন। এতে আরও উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি, এই অর্জন বড় ভূমিকা রাখবে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় জোর দিতে হবে: আহসান এইচ মনসুর

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এলডিসি থেকে আগেই বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো। আরও আগে স্বীকৃতি পেলে বেশি খুশি হতাম।’

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। তবে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। গরিব দেশগুলোকে সহজ শর্ত ও কম সুদে ঋণ দেয় উন্নয়ন সহযোগীরা। এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।

‘অবশ্য এখন আর বাংলাদেশকে গরিব দেশ হিসেবে দেখে না দাতারা। ২০১৬ সাল থেকে মিশ্রিত দেশ (ব্লেনডেড) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নমনীয় ঋণ এবং কিছু ক্ষেত্র বাজারভিত্তিক ঋণ দেয় তারা।’

ঋণ পরিশোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যে ধরনের সক্ষমতা থাকা দরকার, বাংলাদেশের তা আছে বলে মন্তব্য করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে সস্তা ঋণ সুবিধা বাতিল হলেও তেমন অসুবিধা হবে না।

‘আমরা অত গরিব নই, যতটা ভাবা হয়। সক্ষমতা বাড়ছে। আরও বাড়াতে হবে। আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হতে পারে বাজার সুবিধা নিয়ে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। তখন বিশ্ব বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।’

তিনি বলেন, প্রস্তুতি পর্বে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় রয়েছে, তাই এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। সময় বাড়িয়ে প্রস্তুতি না নিয়ে ঘুমালে কোনো লাভ হবে না। শিল্পকারখানার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।’

বিশ্বে বাংলাদেশের মার্যাদা বাড়াবে: . মোস্তাফিজুর রহমান

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পান্নত দেশ-এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের মার্যাদা বাড়াবে। দেশের ভাবমূর্তি ব্র্যান্ডিংয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এটি দেশের জন্য বড় অর্জন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রবাসে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তাদের জন্যও এ অর্জন সহায়ক হবে। এ ছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই পেতে যে ক্রেডিট রেটিংয়ের প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

‘একই সঙ্গে বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করতে চান বা বিদেশে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী তাদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।’

তবে উন্নয়নশীল দেশে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলেও মনে করছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজেটে যেসব খাতে ভর্তুকি সুবিধা দেয়া হয়, তা আর থাকবে না। কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় পণ্য রপ্তানির সুবিধা থাকবে না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদনে মেধাস্বত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। দেশীয় পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এত দিন যে প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিলাম সেখান থেকে বের হয়ে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক চ্যালেঞ্জ সামাল দেয়া যাবে।

এ অর্জন স্বাধীনতা-উত্তর অর্থনীতির বড় মাইলফলক: গোলাম মোয়াজ্জেম

এলডিসি থেকে উত্তরণকে দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাইলফলক বলে মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘এত দিন বাংলাদেশকে উদীয়মান ও বিকাশমান শক্তি হিসেবে আকার-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়েছে। এবার সেটার বাস্তব প্রতিফলন ঘটল।’

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘কৃষি, সেবা, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্সে অগ্রগতি- সব মিলিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। জাতিসংঘের ঘোষণার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘উত্তরণের ফলে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শক্তিশালী অবস্থান রাখার সুযোগ অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সে কারণে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, রপ্তানি, সেবা খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে।

‘প্রস্তুতি পর্বে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানি ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক দিয়ে রপ্তানি করতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।’

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ওষুধ খাতের পেটেন্ট সুবিধা যাতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকে সে বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।’

নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে: শামস মাহমুদ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে এটা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেকগুলো উপাদান থাকে। ব্যবসার পরিবেশকে উপযুক্ত করার জন্য সরকারের অনেক নীতি থাকে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হলে এসব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’

এলডিসি থেকে উত্তরণে অনেকগুলো সমস্যা তৈরি হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এগুলো সমাধানে ভূমিকা নিতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে অগ্রাধিকার বাণিজ্যসহ মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

শামস মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে, কিন্তু গত তিন বছর ধরে একটা পণ্যের যে দর থাকে সেটা কমছে। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে যেসব ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যেত সেগুলো আর থাকবে না।’

রাজস্ব বিভাগে সংস্কারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে না। সরকার যেসব বিনয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

ই-অকশন চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টমস

ই-অকশন চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টমস

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

উদ্বোধনের পর একটি নিলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও ওয়েবসাইটে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে পুরোনো পদ্ধতিতেই নিলাম করে যাচ্ছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

ই-অকশন (অনলাইন নিলাম) চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ফিরে গেল পুরোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। ফলে ই-অকশনের সুবিধা এখনই পাচ্ছেন না নিলামে অংশগ্রহণকারীরা।

পুরোনো প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় দেশের কাস্টম হাউসগুলোতে ই-অকশন চালুর উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২৭ অক্টোবর এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (মূসক নীতি) সদস্য মাসুদ সাদিক।

উদ্বোধনের পর একটি নিলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও ওয়েবসাইটে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতেই নিলাম করে যাচ্ছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (নিলাম) ফয়সাল বিন রহমান বলেন, অনলাইন নিলামের জন্য কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সেই প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব অনলাইন নিলামে ফেরার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অনলাইন নিলামে অংশগ্রহণকারীরা পণ্যের দর, তালিকা, ছবি দেখতে পাবেন নিজ কর্মস্থলে বসে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পূরণ করে ঘরে বসেই নিলামে অংশ নেয়া যাবে। দেখতে পাবেন কোন ক্যাটালগের সর্বোচ্চ বিডার বা দরদাতা কে হয়েছেন। এতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে নিলামকাজ সম্পন্ন হবে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো অনলাইন নিলামের আয়োজন করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সেই নিলামে ১৬ লট পণ্যের মধ্যে ১২ লট পণ্যই অবিক্রীত রয়ে গেছে। নতুন নিয়ম হওয়ায় অনেক পুরোনো বিডারই এ নিলামে অংশ নেননি।

এদিকে অনলাইন নিলাম নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা হতাশ। তাদের মতে, অনলাইন নিলাম অবশ্যই ভালো পদ্ধতি। তবে এর জন্য যতটুকু মান অর্জন করার কথা বিডার কিংবা কাস্টম– কেউই তা অর্জন করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিয়মিত বিডার এবং আর রেজা প্রতিষ্ঠানের মালিক সৈয়দ জহিরুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দরপত্রের সাথে আমরা ব্যাংক পে-অর্ডার জমা করে দিতাম। যারা লোয়েস্ট বিডার তাদের পে-অর্ডার ৪ থেকে ৬ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত পেতাম। কিন্তু ই-অকশনের ক্ষেত্রে নিয়ম করা হয়েছে, দরপত্র জমা দেয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। এতে বিডারদের সময়ক্ষেপণ হবে এটি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ই-অকশনে যারা সর্বোচ্চ বিড করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই কেবল ব্যাংক পে-অর্ডার জমা দিতে হবে– এই নিয়ম রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত ই-অকশনের কোনো সুফল পাচ্ছি না।’

আর অ্যান্ড এইচ সিন্ডিকেটের কর্ণধার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অনলাইন নিলামে অংশ নিইনি। কারণ, ওই নিলামে পে-অর্ডারের টাকা কখন ফেরত পাওয়া যাবে, তা বলা হয়নি। সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি বা দুটি কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু কাস্টমস ২০০ থেকে ৩০০ আইটেমের নিলাম ডাকে। এতে ৪৫০-৫০০ জন অংশ নেন। পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করা কঠিন কাজ।’

উপকমিশনার ফয়সাল বিন রহমান বলেন, ‘প্রথম নিলামে কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। আমরা যেভাবে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দিতে চেয়েছিলাম, সেভাবে দেয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ই-পেমেন্ট পদ্ধতি এখনও ই-অকশনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। আরও কিছু ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার নিলামযোগ্য পণ্য পড়ে আছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে নিলামযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য পড়ে রয়েছে। এতে আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার রাখতে প্রায়ই স্থান সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। তাই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ নিলাম প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ হিসেবে ই-অকশনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। তাদের মতে, এ পদ্ধতিতে নিলামপ্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুততর হবে।

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

পোশাক খাতে নতুন সংগঠন বায়লার আত্মপ্রকাশ

পোশাক খাতে নতুন সংগঠন বায়লার আত্মপ্রকাশ

শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশনের (বায়লা) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা।

বায়লার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার হোসেন সায়েম আর সাধারণ সম্পাদক ইনডেট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল শাহরিয়ার আহমেদ।

দেশে পোশাক শিল্প খাতে যুবা উদ্যোক্তাদের নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জাতীয় রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের পশ্চাৎসংযোগ এবং অগ্রগামী শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত যুবা উদ্যোক্তারা সংঘটিত হয়ে নতুন এই সংগঠনের নাম দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশন (বায়লা)।

শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশনের (বায়লা) প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার হোসেন সায়েম। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইনডেট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল শাহরিয়ার আহমেদ। তাদের নেতৃত্বে সংগঠনটিতে ১৬ জন বোর্ড মেম্বার ছাড়াও শতাধিক সদস্য রয়েছেন। তবে প্রতিদিনই এক সদস্য সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

যাত্রার শুরুতে সংগঠনের নেতারা জানান, ‘এর সব সদস্য অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়সী। সংগঠনটি নতুন প্রযুক্তির প্রসার ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে (আরএমজি) আরো এগিয়ে নিতে তরুণ নেতৃত্ব হিসাবে কাজ করবে।’

এছাড়া পোশাক শিল্পের নান্দনিকতা বৃদ্ধির এবং নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। নতুন নতুন সুযোগ ও সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চাৎ সংযোগ এবং অগ্রগামী শিল্পের উন্নয়নের লক্ষেও খাতসংশ্লিষ্ট নেতৃস্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ করে সব শিল্পের উন্নয়নে বায়লার কাজ করে যাওয়ার কথা জানানো হয়।

বায়লার বাকি বোর্ড মেম্বারদের মধ্যে হাসিন আরমান ট্রেজারার, সাকিব আহমেদ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, রাফি মাহমুদ ও এম কে আলম ভাইস প্রেসিডেন্ট, আকিব জাফরি শারীফ অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি।

বায়লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট একেএম সেলিম ওসমান এমপি, বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী এবং বিজিএমইএ-এর সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান।

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ

চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

আমরা যেসব দেশ থেকে কোটামুক্ত, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিলাম, সেসব দেশের সঙ্গে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে সেগুলো সরকারের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই সম্মানের এই অর্জনের সুফল পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

‘বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুনভাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে এই অর্জন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের রেটিং বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনা সহজ হবে।’

টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আনোয়ার পারভেজ একাধারে ইভেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান।

দেশের গার্মেন্টস শিল্প এখনও অনেক দেশ থেকে কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে বিদ্যমান সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হলে সমাধান কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সুযোগসুবিধা এখন ছাড় দিতে হবে। এ জন্য আমরা যেসব দেশ থেকে কোটামুক্ত, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিলাম, সেসব দেশের সঙ্গে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’

এ জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। সরকারকে এ জন্য অ্যাকশন-প্ল্যান তৈরি করতে হবে।’

‘আমরা ক্রমশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে যাচ্ছি। আমরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও প্রবেশ করেছি। যেখানে টিকে থাকতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন। দক্ষ জনবল প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম দফায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করে। তারপর নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেতে হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সিডিপির দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও বাংলাদেশ প্রতিটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মানদণ্ডের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। সে অনুযায়ী ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা বাংলাদেশের।

করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠাসহ সব প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্ন করতে বাড়তি দুই বছর সময় পেয়েছে বাংলাদেশ।

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে যে আমরা বাড়তি দুই বছর সময় পেয়েছি। আমাদের এটা মনে রাখতে হবে সময় চলে যায়। তাই সময় পাওয়া গেছে এ জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলে হবে না। আমাদের কর্মপরিকল্পনাগুলো এখনই চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নে নেমে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনার বছরে চমক আইপিডিসিরও
মহামারির বছরে আইডিএলসির আয় দেড়গুণ, লভ্যাংশ ৩৫%
বেক্সিমকো নিয়ে হুলুস্থুল থামছেই না
লভ্যাংশই শেয়ারে মূল কথা নয়: রবি
এক দিনের উত্থানের পর আবার পতন

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg