মসলার দ্বিগুণ দাম নিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা

খুচরা বাজারে মসলা বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারের দ্বিগুণ দামে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মসলার দ্বিগুণ দাম নিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা

খুচরা বাজারে দাম বেশি হওয়া প্রসঙ্গে পাইকারী ব্যবসায়ীরা দুটি কারণের কথা বলছেন। প্রথমত, খুচরা বিক্রেতারা দুই তিন কেজি মসলা কিনে নিলে মাসভর বিক্রি করেও শেষ করতে পারেন না, যা পাইকারিতে প্রতিদিন বিক্রি হয় কেজি-কেজিতে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের নজর থাকে পাইকারি দোকানগুলোতে। খুচরা পর্যায়ে এর মনিটরিং হয় না বললেই চলে।

খাবার মুখরোচক করতে গরম মসলার জুড়ি নেই। তবে তাতে ভোজনরসিকদের গুণতে হয় চড়া দাম। আমদানিনির্ভর হওয়ার কারণে সাধারণত দেশে সব ধরনের মসলার দাম আকাশছোঁয়া। তাই ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রয়োজন বেশি হলেও কেনা হয় খুব হিসাব করে এবং কম পরিমাণে।

তবে দেশে মসলার দাম এখন গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সেই দাম আরও কমে যায় রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি মার্কেটে ঢুঁ মারলে!

এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা, জয়ত্রী, জয়ফল, কাজুবাদাম, আখরোট, কিসমিস, আলু বোখারা ইত্যাদি রন্ধনকর্মে গরম মসলা হিসাবে পরিচিতি।

খুচরাবাজারে এখন প্রতি কেজি এলাচের দাম মানভেদে ৩৬শ থেকে ৪ হাজার টাকা। স্থানভেদে এটা কোথাও কোথাও ৫ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু মৌলভীবাজারে পুরো এক কেজি মসলাই আপনি কিনে আনতে পারেন ২০০০-২২০০ টাকার মধ্যে, যা আপনার সারা বছরের চাহিদা মেটাবে।

মৌলভীবাজার মসলা ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, এখানে আড়াই শতাধিক মসলার দোকান রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক খুচরা দোকান এবং ২০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলো পাইকারি বিক্রেতা।

মসলার আরেকটি বড় আমদানিকারক বাজার হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। সেখানেও রয়েছে প্রায় ৪০টি বড় আমদানিকারক এবং শতাধিক পাইকারি দোকান। এ দুই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকার মসলা কেনাবেচা হয়।

মসলার মধ্যে সবচেয়ে দামি হচ্ছে এলাচ। এটি সাধারণত আমদানি হয়ে থাকে গুয়েতেমালা ও ভারত থেকে। লবঙ্গ আসে ইন্দোনেশিয়া ও মাদারগাস্কার থেকে। চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আসে দারুচিনি। এ ছাড়া জয়ফল ও জয়ত্রী আসে শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। আর ভারত, আফ্রিকা, সিরিয়া ও তুরস্ক থেকে আমদানি হয় জিরা।

MOHALA-BAZER-12
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাজুবাদাম বিক্রি হয় ৭০০ থেকে ৮৮০ টাকায়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মৌলভীবাজার মসলার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেদায়েত অ্যান্ড ব্রাদার্সের তথ্য অনুযায়ী এলাচের বিভিন্ন জাত ও মানভেদে দাম ভিন্ন। সাধারণত চার ধরনের এলাচ পাওয়া যায়। আমদানিকারক থেকে পাইকারি পর্যায়ে মানভেদে এ এলাচের সর্বনিম্ন হাতবদল দাম হচ্ছে মাত্র এক হাজার ৯৮০ টাকায়। এর থেকে আরও উন্নতমানের প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হয় যথাক্রমে দুই হাজার ১০০ টাকা, দুই হাজার ১৮০ টাকা ও দুই হাজার ২৫০ টাকায়।

এই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি করে ৫৩০ টাকা, দারুচিনি ৩১৫ টাকা, ১০ কেজি প্যাকের প্রতি কেজি পাটনা জিরা ২৬০ টাকা এবং ইরানি ৩৬০ টাকা, জয়ফল ৫০০ টাকা, জয়ত্রী দুই হাজার ১০০ টাকা, আখরোট মানভেদে ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা এবং কাজুবাদাম ৭০০ থেকে ৮৮০ টাকায়।

এ প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসাবে তারা যে দামে মসলা সরবরাহ দেন, পাইকারি বিক্রেতারা সেই দাম থেকে কেজিপ্রতি কয়েক টাকা লাভ রেখে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।’

পাইকারি মসলা বিক্রেতা কামরুজ্জামান জানান, তার দোকানে মানভেদে এলাচের পাইকারি দাম হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৩২০ টাকা, লবঙ্গ ৫৮০ টাকা, জয়ত্রী দুই হাজার ১৫০ টাকা, জয়ফল ৫৫০-৬০০ টাকা, কিসমিস ২২০-২৫০ টাকা, আখরোট এক হাজার ৫০ টাকা এবং কাজুবাদাম ৬২০ টাকা।

মানভেদে কেজিপ্রতি সামান্য কয়েক টাকা হেরফের ছাড়া মৌলভীবাজারের অন্যান্য পাইকারি দোকানগুলোতেও মোটাদাগে গরম মসলার দাম একই।

সাথী এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মো. সবুজ জানান, ‘মসলার বাজার ভাল না। প্রতিটি মসলার পাইকারি দাম প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তা সত্বেও আগের তুলনায় বিক্রি এখনও ৬০-৭০ ভাগ কম হচ্ছে।’

মসলার দাম কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পাইকারী মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েত উল্লাহ নিউজবাংলাকে জানান, উৎপাদনকারী দেশগুলোতে গত বছর মসলার ভাল ফলন হয়েছে। তবে করোনার প্রভাবে চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সেই ফলনের অনেকটা এখনও উদ্বৃত্ত। তা ছাড়া মসলার নতুন উৎপাদন মৌসুমও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে মসলার সরবরাহ ব্যাপক বেড়েছে। সেই তুলনায় আমদানিকারক দেশগুলো থেকে মসলার চাহিদাপত্র খুব একটা যাচ্ছে না।

পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলার খুচরা বাজারে মনিটরিং নেই প্রশাসনের। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তিনি জানান, মসলার মাত্র ৪০ শতাংশ ভোগ করে সাধারণ ক্রেতা। বাকি ৬০ ভাগের ভোগ হয়ে থাকে সাধারণত বিয়েশাদি, জন্মদিন, পিকনিকসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া রেস্তোরাঁগুলোতে মসলার বড় চাহিদা থাকে। করোনার কারণে সামাজিক উৎসবে ভাটা পড়েছে। একই কারণে মানুষ এখন বাইরের খাবারের চেয়ে ঘরের খাবারই বেশি পছন্দ করছে। ফলে মসলার বাজারে স্থানীয় চাহিদার বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরও দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবার মসলার দাম প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ কম। আর খুচরা পর্যায়ে এখন মসলার যে দাম, মৌলভীবাজারে পাইকারি দাম তার প্রায় অর্ধেক। আগামী উৎপাদন মৌসুম পর্যন্ত এই কমতি দামের প্রভাব দেশীয় বাজারে থাকবে।

খুচরা বাজারে দাম বেশি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর দুইটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, খুচরা বিক্রেতারা দুই তিন কেজি মসলা কিনে নিলে মাসভর বিক্রি করেও শেষ করতে পারেন না, যা পাইকারিতে প্রতিদিন বিক্রি হয় কেজি-কেজিতে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের নজর থাকে পাইকারি দোকানগুলোতে। খুচরা পর্যায়ে এর মনিটরিং হয় না বললেই চলে।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা গ্রহণ করতে হলে বাংলাদেশকে ২৭টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এ জন্য একটি ‘ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক কমিটি’ গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।'

বেক্সিট পরবর্তী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘কৌশলগত কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বুধবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎতে এ প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই’র সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

এ সময় ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা গ্রহণ করতে হলে বাংলাদেশকে ২৭টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পালন করতে হলে ইইউ এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এ জন্য একটি ‘ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক কমিটি’ গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।'

রিজওয়ান রাহমান আরও বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণ ও কোভিড-১৯ এর প্রভাবের কারণে দেশের বেসরকারি খাত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, রফতানি বাড়াতে হলে কর প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি দিতে হবে।‘

করোনা মহামারির কারণে গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে বলে জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি।

এফডিআই বাড়াতে শিল্পনীতি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা সহ বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে –এমন সংশ্লিষ্ট সব নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় খুবই জরুরি বলে মত দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।

ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, ‘দেশে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমানো ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এ সেবার কার্যকর প্রয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থায় দক্ষ জনবল নিয়োগে গুরুত্ব দিতে হবে।'

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজস্ব আদায় অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। তবে বাংলাদেশের জিডিপিতে করের অবদান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কম।'

কর সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য যোগ্য সবাইকে করের আওতায় আনার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর-সংস্কৃতি খুবই দুর্বল। এই মানসিকতা দূর করতে হবে।'

চলতি অর্থবছরে বাড়তি ৫৫ হাজার জনকে করের আওতায় আনার কথা জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, দুর্বল রাজস্ব কাঠামোর কারণে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

বেশি পরিমাণে রাজস্ব আয় বাড়াতে পুরো রাজস্ব বিভাগকে ডিজিটালাইজড এবং কার্যকর সংস্কারের উপর জোর দেন তিনি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান সালমান এফ রহমান।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

চামড়া খাতেই ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব

চামড়া খাতেই ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ফুটওয়্যার এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি বাড়াতে ইসিফোরজে নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

দেশের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব্স (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আওতায় ‘লিংকেজ ওয়ার্কশপ অন লেদার সেক্টর’ শীর্ষক ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ‘হোটেল ৭১’ এ ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব জানান, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ফুটওয়্যার এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইসিফোরজে নামক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্যই এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে এসব খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়রনশীল দেশে উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি আমরা। তবে এর জন্য বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। রপ্তানি বাণিজ্যে দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রপ্তানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য খাতসংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিষেশ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) এবং ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মো. মমিনুল আহসান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিলের সমন্বয়ক মো. আব্দুর রহিম।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

মূল্য পতনের বৃত্ত ভাঙল ব্যাংক খাতে

মূল্য পতনের বৃত্ত ভাঙল ব্যাংক খাতে

একটি ব্রোকারেজ হাউজে শেয়ারের লেনেদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেদিন জানায়, ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদে আর সমপরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে। শর্তভেদে কোনো কোনো ব্যাংক সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে। এই ঘোষণার পর ব্যাংক খাতে টানা দরপতন হয়েছে। বাজার বাড়ুক বা কমুক, এই খাতে বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে।

টানা মূল্য পতনের ধারা থেকে অবশেষে বের হয়ে এলো পুঁজিবাজারে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যাংকিং খাত। দর বৃদ্ধির হার খুব বেশি না হলেও সিংহভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধিই এই খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংক ও বিমায় ভর করে বাড়ল মূল্য সূচক। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণায় সীমা বেঁধে দেয়ার পর আর্থিক খাতের প্রায় সব কটি শেয়ারেরই দর হারিয়েছে।

আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সিদ্ধান্তে জানায়, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যত মুনাফাই করুক না কেন, তারা শেয়ারধারীদের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না। আর যাদের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা কোনো লভ্যাংশই দিতে পারবে না।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেদিন জানায়, ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদে আর সমপরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে। শর্তভেদে কোনো কোনো ব্যাংক সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।

এই ঘোষণার পর ব্যাংক খাতে টানা দরপতন হয়েছে। বাজার বাড়ুক বা কমুক, এই খাতে বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে।

প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের শেয়ার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ দর হারানোর পর অবশেষে থামল সেই পতন।

তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে বেড়েছে ২৩টি ব্যাংকের শেয়ারের দর। কমেছে পাঁচটির আর পাল্টায়নি দুটির দর।

আবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টেনে নেয়ার পর এই খাতের ২২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ১৬টি, পাঁচটি অপরিবর্তিত আছে। একটির দর বেড়েছে সামান্য।

এই খাতের আরও একটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হলেও সেটি অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় স্থগিত আছে লেনদেন।

লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, পুঁজিবাজারে এমনিই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর খুব বেশি ওঠা-নামা করে না। লভ্যাংশ দেয়ার সময় হলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারের প্রতি আগ্রহী হন। কিন্তু এমন সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের লভ্যাংশের সীমা নির্ধারণ করে দেয়াটা বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কাম্য নয়। তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারে, বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করে দিতে পারে। কিন্ত কোনো কোম্পানির সামর্থ্য আছে, তাকে লভ্যাংশ দেয়া থেকে বিরত করে ফান্ডামেন্টাল ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসিকেও এগুলোর দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

লেনদেন

সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক কমলেও পরে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় সূচক বাড়ে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে।

এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন পতনের পর সূচক বাড়ল দুই দিন। আগের দিনও ৬৭ পয়েন্ট সূচক বেড়েছিল।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৫ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩৪৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ৬৩টির, পাল্টায়নি ১১৫টির।

লেনদেন হয়েছে মোট ৭৪৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৩০ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে-সিএসই বৃহস্পতিবার ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ২২০টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৫টির, কমেছে ৬৪টির, পাল্টায়নি ৬১টির। মোট লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেন

বৃহস্পতিবার খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বিমা খাত।

এই খাতের ৪৯টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির। পাল্টায়নি তিনটির। আর কমেছে দুটির দর।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৫টির, কমেছে দুটির। অপরিবর্তিত আছে চারটির।

প্রকৌশল খাতেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। ৪২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ২২টির, কমেছে তিনটির, অপরিবর্তিত আছে ১৭টির দর।

লেনদেনে ঘুরেফিরে চার কোম্পানি

পুঁজিবাজারে দিনের লেনদেনে ঘুরেফিরেই আসছে চার কোম্পানি। বেক্সিমকো লিমিটেড, রবি, লংকাবাংলা ফিন্যান্স ও বেট বাংলাদেশ-বিএটিবিসি।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়।

রবির ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।

লংকাবাংলা ফিন্যান্সের ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ১৯ লাখ টাকায়।

বেট বাংলাদেশ-বিএটিবিসির ২ লাখ ৭১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়।

এই চার কোম্পানির মোট ২৭৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, যার মোট লেনদেনের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

এ ছাড়া এ তালিকায় ছিল সামিট পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম, ওরিয়ন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা।

আগ্রহ ও অনাগ্রহের কোম্পানি

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে-ডিএসই দর বৃদ্ধির দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল আরামিট সিমেন্ট, যার দর বেড়েছে ৯.৯৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৮৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার দর বেড়েছে ৯.৮০ শতাংশ।

নতুন তালিকাভুক্ত ই পাওয়ার জেনারেশনের ৯.৭৭ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ডের দর বেড়েছে ৯.৩০ শতাংশ।

এছাড়া সামিট পাওয়ারের ৭.৪৮ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ৬.৬৯ শতাংশ দর বেড়েছে।

দরপতনের দিক দিয়ে বৃহস্পতিবার শীর্ষে ছিল প্রাইম লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড, যার দর কমেছে ৫.৫৫ শতাংশ। সিএনএ টেক্সটাইলের দর কমেছে ৫ শতাংশ। আইডিএলসি’র দর কমেছে ৪.৭৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি দরপতন হওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টিই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে তারা তা দিতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

আইডিএলসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি সাড়ে তিন টাকা, আইপিডিসি ফিন্যান্স ১ টাকা ২০ পয়সা ও বিডি ফিন্যান্স ৬০ পয়সা নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে নিজেরাই তারা এখন নিশ্চিত নয় এই লভ্যাংশ দেয়া যাবে কি না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠান যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইডিএলসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে কোনো অবস্থাতেই শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার বেশি লভ্যাংশ দেয়া যাবে না।

একইভাবে আইপিডিসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা আর বিডি ফিনান্স ৬০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ছয়টি করে বোনাস শেয়ার দিতে পারবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

তারা শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার নিচে লভ্যাংশের প্রস্তাব করলেও বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত নীতিমালায় আরও বেশ কিছু শর্তের কারণে এই প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, যেসব আথিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করবে না।

যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ শতাংশের কম এবং খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের এর বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

যেসব আথিক প্রতিষ্ঠান সংরক্ষিতব্য সংস্থান (প্রভিশন সংরক্ষণ) না রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ঘাটতি সমন্বয় করে ডেফারেল সুবিধা (প্রভিশন সংরক্ষণে অতিরিক্ত সময় না নেয়া) ভোগ করছে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে।

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?
করোনাকালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ আয় করেছে আইডিএলসি

এই নীতিমালা জারির আগেই তিনটি প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফেলার পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না, এই নীতিমালা তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে কি না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, আর এক সপ্তাহ পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

কোম্পানিগুলো বোর্ড সভায় যে লভ্যাংশ ঘোষণা করে, সেটি অবশ্য চূড়ান্ত নয়। বার্ষিক সাভারণ সভায় শেয়ারধারীরাই তা অনুমোদন করে। বাংলাদেশে ঘোষিত লভ্যাংশ পরিবর্তনের ইতিহাস বিরল হলেও একেবারে যে হয়নি, এমনও নয়।

আইডিএলসি ও বিডি ফিন্যান্সের ৩১ মার্চ ও আইপিডিসির বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ এপ্রিল।

কী বলছে প্রতিষ্ঠানগুলো

আইডিএলসি ফিন্যান্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এমন নীতিমালা জারি করেছে। কিন্তু তার আগেই আমরা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক যদি মনে করে, আগে ঘোষিত লভ্যাংশ এই নীতিমালার বাইরে থাকবে তাহলে তো সমস্যা নেই।

‘তারপরেও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করব। এর মাঝে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তা অবশ্যই বিনিয়োগাকরীদের জানানো হবে।’

বিডি ফিন্যান্সের কোম্পানি সচিব মুন্সি আবু নাঈম বলেন, ‘আমরা ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় শর্ত সাপেক্ষে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন আমরা ৬ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারব কি না, সেটি দেখতে হবে।’

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?
করোনার বছরে আয়, ঘোষিত লভ্যাংশ সবই বেড়েছে বিডি ফিন্যান্সের

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আমাদের চিঠি দেয় যে, যে নীতিমালা অনুযায়ী লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে, তাহলে তাই করা হবে।’

যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নীতিমালা যেহেতু জারি করা হয়েছে, সেটা সবার জন্য মানা করা আবশ্যক। যারা ইতিমধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাদেরও মানতে হবে।

আবু আহমেদ বলছেন ‘অন্যায়’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অযাচিত বলেছেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগ সীমা, প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করলে সেখানে থেকে কত লভ্যাংশ দেবে, সেটা সেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিষয়। এখানে সীমা বেধে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইডিএলসি যখন লভ্যাংশ ঘোষণা করল, তখন বিনিয়োগকারীরা ৭০ টাকার বেশি দামে আইডিএলসির শেয়ার কিনেছে। বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসাব করেই নতুন বিনিয়োগ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর এক দিনে দাম কমল ৩ টাকা ৩০ পয়সা। এখন তাদের লোকসানের দায় কে নেবে?’

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আনম আতাউল্লাহ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের সক্ষমতা নেই তারা যদি লভ্যাংশ দেয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আটকাতে পারে। কিন্তু যে কোম্পানির সক্ষমতা আছে তাকে তা দিতে দেয়া উচিত। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একধরনের সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় থাকেন বছর শেষে কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দেবে। এটাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণ। কিন্তু সেখানেও যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে সার্বিক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।’

আর্থিক খাতে দরপতন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে নীতিমালা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার আর্থিক খাতের শেয়ারের ব্যাপক মূল্য পতন হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে সূচক বাড়লেও সবচেয়ে বেশি দরপতন হওয়া ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ১০টিই আর্থিক খাতের।

এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত আছে দীর্ঘদিন ধরে। দুটির শেয়ার দর আছে ফ্লোর প্রাইসে। অর্থাৎ এর চেয়ে আর দাম কমতে পারবে না।

বাকি ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানই দর হারিয়েছে এক দিনে। দর ধরে রাখতে পেরেছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। আর সামান্য দাম বেড়েছে কেবল সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির, যেটির কর্মপন্থা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো নয়।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক

এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্লাটফর্মের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। অনলাইনে বৈঠকটির আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, পিপিপি অফিসের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. নাওকী, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও জাপান সরকারের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিষ্টার নোমুরা মাসাফুমি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কে চাপ আরও বাড়বে। ফলে সড়কটিকে চার লেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জাপানের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার বলেন, তারা এ প্রকল্পে সহায়তা করতে চায়। তবে তার আগে সমীক্ষা চালানোর কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পিপিপি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবীনগর –পাটুরিয়া সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ফলে একে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমরা বলেছি, সড়কটিকে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করতে হলে প্রচুর অর্থের দরকার, যা বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে জাপান সরকার।’

২০৩০ সালে এর কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আরেক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আধুনিকায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। দেশটির মিৎসুবিসি করপোরেশন এ প্রকল্পটি উন্নয়নে কাজ করবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি ফ্লাটফর্মের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ফ্লাটফর্ম গঠন করা হয়।

গত চার বছর ধরে নিয়মিত এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনার কারণে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে এই বৈঠকটি জাপানে হবে।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে পোশাক মালিকদের আরও সময়

প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে পোশাক মালিকদের আরও সময়

একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি

১ হাজার ৯৯২ পোশাকশিল্পের ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে এ তহবিল থেকে ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। দুই শতাংশ সুদের এই টাকা জানুয়ারি থেকে ১৮ কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে কার্যত আরও আট মাস সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

মহামারির মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে কম সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধে পোশাকশিল্প মালিকদের আরও সময় দেয়া হয়েছে।

ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ দুই বছরে ১৮টি সমান কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে। এখন তারা আগামী আগস্ট পর্যন্ত সময় পেলেন।

‍বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনাটি সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ‍কিন্তু নির্দেশনাটি ১ মার্চ ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনায় খুশি পোশাক কারখানা ডিজাইন অ্যান্ড সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহাঙ্গীর আলম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই ঋণ পরিশোধ শুরু করতে হয়েছিল কারখানার মালিকদের। অনেকেই ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তিও পরিশোধ করে দিয়েছেন। কিন্তু রপ্তানি পরিস্থিতি খারাপ থাকায় শিল্পমালিকদের পক্ষে এখনই এই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। আরও সময় দেয়াতে তাদের সুবিধা হলো।’

তবে মোট ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড ছাড়া ১৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের শর্ত বহাল থাকবে। এই ঋণের অন্যান্য শর্তও অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রেস পিরিয়ডের সময় ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর বড় ধরনের ধাক্কা খায় অর্থনীতি। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে বিভিন্ন খাতের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার ২০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রথম প্যাকেজটিই ছিল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন দেয়ার জন্য।

এ প্যাকেজের আওতায় নেয়া ঋণের জন্য মাত্র দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

১ হাজার ৯৯২ পোশাকশিল্পের ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে এ তহবিল থেকে ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

রিজার্ভ রেকর্ড ৪৪ বিলিয়ন ডলার

রিজার্ভ রেকর্ড ৪৪ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ মাসের বেশি সময়ের আমদানি-ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি-ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। সাধারণভাবে কোনো দেশে ছয় মাসের আমদানি দায় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলে সেটিকে আপৎকালীন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিতে ধীরগতি ও বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রিজার্ভে একটার পর একটা রেকর্ড কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সরকারকে সাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

করোনা শুরুর পর যত দ্রুত রিজার্ভ বাড়ছে, এর আগে কখনও এমন হয়নি। মূলত বিদেশি মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত মার্চের পর এক বছরের কম সময়ে রিজার্ভে যোগ হয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর মাস গত মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি মাসে হুহু করে বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে।

রিজার্ভে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে গত ৩০ ডিসেম্বর। আর ৪২ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করেছিল ১৫ ডিসেম্বর। এর আগে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়ায় গত ৮ অক্টোবর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ডলার। আগের বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে এসেছিল ১২৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার বা ২০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের সাত মাসে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৪৯১ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ সাত মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৮৬ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
সিরাজের খোদাইয়ে নকশা ফোটে পাথরে
গোলমেলে মসলা চিনবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg