প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম

প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বেশি জরুরি: ড. সেলিম

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান। প্রবৃদ্ধির বির্তকে না গিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় বেশি নজর এবং মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান মনে করছেন, শুধু রপ্তানি খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব, দারিদ্র্য পরিস্থিতি, আয়-বৈষম্যসহ অর্থনীতির নানা বিষয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ইকনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু কাওসার

বর্তমান অর্থনীতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

করোনাভাইরাস দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এই অভিঘাত অপ্রত্যাশিত। অর্থনীতিতে এমন সংকট আগে কখনও দেখা যায়নি। অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার কারণে কঠিন সময় পার হয়েছে, তবু সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

লকডাউন দেয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে অবস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাতের দিকে যথাযথ নজর দেয়া গেলে সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব যাবে।

করোনার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে একে কীভাবে দেখছেন?

সংকটকালীন অর্থনীতির জন্য অবশ্যই এটা ভালো খবর। তবে রপ্তানির জন্য রিজার্ভ বাড়েনি, বরং করোনায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে রপ্তানি খাতে। বৈধ চ্যানেল এবং সরকারের দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়ায় রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। রিজার্ভ বৃদ্ধির এটি অন্যতম কারণ।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আমদানি কমে গেছে। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সম্পর্ক রয়েছে। আমদানি কমায় ডলারের চাহিদাও কমেছে। ফলে রিজার্ভ বাড়ার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের অর্ধেকের বেশি পার হয়েছে, আগামীতে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজন বিবেচনায় তিনটি বড় খাত হলো দারিদ্র্য, অসাম্য ও শ্রমবাজার। করোনা এই তিনটি খাতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবে অনেকেই নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি অসাম্য বেড়েছে।

অসংখ্য গরিব পরিবারের ছেলেমেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য আরও প্রকট হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সঠিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এখন প্রধান কাজ ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা।

করোনা সংকটে তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ কি পর্যাপ্ত?

এটা অবশ্যই সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রণোদনার সুফল মিলেছে, ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে।

তবে প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু খাতে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে সুবিধা বেশি পেলেও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাতে হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়। এই প্যাকেজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি আরও বাড়বে।

আগামী অর্থবছরের (২০২১‌-২০২২) বাজেটে কোন খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত?

জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনে দুটি বড় খাত হচ্ছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। গত দুই দশক ধরে এ দুটি খাতের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে করোনার প্রভাব বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক পরিসরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রপ্তানি খাতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে অর্থনীতি পনুরুদ্ধার সম্ভব নয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে রপ্তানি খাতের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে হবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সে অনুযায়ী নীতি ও সহায়তা প্রদান করতে হবে।

রাজস্ব আহরণের অবস্থা ভালো নয়, করোনাকালে আরও খারাপ হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হলে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে। ফলে রাজস্ব খাতে কার্যকর সংস্কারের পদক্ষেপ থাকতে হবে আগামী বাজেটে।

কোন ধরনের সংস্কার করলে অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে?

কর ও ভ্যাটে বাস্তবমুখী ও কার্যকর সংস্কার করতে হবে। আর্থিক খাতে নজর দিতে হবে। সংকটের সময়ে সংস্কারের বড় ধরনের সুযোগ থাকে। চাইলে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে সরকার। সংস্কারের বিষয়ে সরকারের নির্দিষ্ট কমিটমেন্ট থাকাতে হবে বাজেট।

ব্যাংক খাতে কমিশন গঠন নিয়ে কথা উঠেছিল। উদ্যাগ নেয়া হলেও পরে বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হলে কমিশন গঠন জরুরি।

করোনায় দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বেসরকারি জরিপে উঠে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

সানেমের সাম্প্রতিক জরিপে দেশে দারিদ্র্যহার দ্বিগুণ বাড়ার তথ্য গ্রহণ করেনি সরকার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

করোনাকালে দেশে দারিদ্র্য বাড়লেও এ বিষয়ে কোনো জরিপ হয়নি। কতটা দারিদ্র্য বেড়েছে, এর সমাধানে কোন ধরনের নীতি সহায়তা নেয়া প্রয়োজন, সে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দেশব্যাপী জরিপ করেছে সানেম। তথ্য উপাত্তের বিষয়ে যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু এটাকে প্রত্যাখ্যান করা ঠিক নয়। প্রকৃত চিত্রের জন্য বরং আরও ব্যাপকভিত্তিক জরিপের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চাইলে এটা করতে পারে। এখনও সময় আছে।

কোন পদ্ধতিতে এই জরিপ করা হয়েছে?

দেশব্যাপী প্রায় ছয় হাজার পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের মতামত নেয়া হয়। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা ছিল। ঝুঁকি এড়াতে টেলিফোনে মতামত নেয়া হয়। ছয় হাজার খানা জরিপ কিন্তু কম সংখ্যা নয়। আমাদের উদ্যোগগুলো অবাস্তব নয়। বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, এতে কোনো ধরনের ভুল নেই।

গরিব ধনীর মধ্যে আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে জরিপের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে এর কারণ কী?

নতুন করে যারা গরিব হয়েছেন তারা নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। করোনা সেই সব কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। শহরের বিভিন্ন হোটেল–রেস্তরাঁসহ ছোট ছোট কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবিকা নির্বাহে অনেকেই নানান কাজ করছিলেন, করোনার কারণে হঠাৎ করে কাজ চলে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় আয়-রোজগার।

ক্ষেত্রবিশেষে ধনীদেরও ক্ষতি হয়েছে, তবে গরিবের তুলনায় কম। অর্থাৎ ধনীদের আয় অতটা কমেনি, যতটা কমেছে গরিবের। সামগ্রিকভাবে করোনাকালে আয়–বৈষম্য বেড়েছে।

প্রবৃদ্ধি বাড়লেও জনগণ কী সুফল পাচ্ছে?

উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেই এর সুফল পাওয়া যাবে তা ঠিক না। প্রবৃদ্ধি হতে হবে ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)। গত কয়েক বছর ধরে শ্রম বাজারের ওপরে যে তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস তাতে দেখা গেছে, জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কমেছে কর্মসংস্থান।

কর্মসংস্থান না হলে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। মুষ্ঠিমেয় বেশি সুবিধা পাবে। তাই, প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেসব খাতে কাজের সম্ভাবনা সেসব খাতে বেশি করে নীতি-সহায়তা দিতে হবে। ফলে মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ আরও বাড়বে।

বর্তমান সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা ভালো উদ্যোগ। এতগুলো হয়তে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, তবে আগামী কয়েক বছরে মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এসব খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কর্মসংস্থান না বাড়লে প্রবৃদ্ধির সুফল পাবে না সাধারণ মানুষ

বৈষম্য বাড়ার কারণ কী?

উচ্চ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্যের সম্পর্ক আছে। যেসব দেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সেসব দেশেও বৈষম্য বাড়ছে। এর একটা কারণ হতে পারে নীতি প্রণয়নে অসঙ্গতি।

বাংলাদেশে কর নীতিতে সমস্যা আছে। ধনীদের ওপর কর আরোপের বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। পাশাপাশি গরিবের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি ও তাদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। শহরের লোক যেভাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা পাচ্ছে, গ্রামে সে ভাবে পাচ্ছে না। এসব বিষয়ে নজর না দিলে বৈষম্য কমবে না।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি কত হতে পারে?

এটা বলা কঠিন। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক আছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফ ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়েছে। মতভেদ আছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।

প্রবৃদ্ধির হার কত হলো সে বিষয়ে বিতর্ক না করে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায়। এ জন্য সঠিক নীতি ও কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও এসএমই খাত পুনরুদ্ধারের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সে ক্ষেত্র প্রবৃদ্ধি কম হলেও তা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। প্রবৃদ্ধির হারের দিকে না তাকিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি ত্বরান্বিত করাই হচ্ছে বেশি জরুরি।

অর্থনীতি আগের চেহারায় ফিরতে কত সময় অপেক্ষা করতে হবে?

সংকট এখনও আছে। কারণ, করোনা বিদায় নেয়নি, নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এবং যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে। ফলে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। পৃথিবীর সব মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে আরও সময় লাগবে।

সহসাই এখান থেকে মুক্তি মিলবে না। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশে এখন প্রয়োজন মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা। বাজেট এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাইরে কমপক্ষে দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে, যেখানে থাকবে সংকট মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। অর্থনীতির আগের চেহারায় ফিরে আসতে আরও দুই বছর লাগবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চামড়া খাতেই ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব

চামড়া খাতেই ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ফুটওয়্যার এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি বাড়াতে ইসিফোরজে নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

দেশের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব্স (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আওতায় ‘লিংকেজ ওয়ার্কশপ অন লেদার সেক্টর’ শীর্ষক ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ‘হোটেল ৭১’ এ ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব জানান, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ফুটওয়্যার এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইসিফোরজে নামক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্যই এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে এসব খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়রনশীল দেশে উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি আমরা। তবে এর জন্য বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। রপ্তানি বাণিজ্যে দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রপ্তানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য খাতসংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিষেশ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) এবং ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মো. মমিনুল আহসান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিলের সমন্বয়ক মো. আব্দুর রহিম।

শেয়ার করুন

মূল্য পতনের বৃত্ত ভাঙল ব্যাংক খাতে

মূল্য পতনের বৃত্ত ভাঙল ব্যাংক খাতে

একটি ব্রোকারেজ হাউজে শেয়ারের লেনেদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেদিন জানায়, ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদে আর সমপরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে। শর্তভেদে কোনো কোনো ব্যাংক সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে। এই ঘোষণার পর ব্যাংক খাতে টানা দরপতন হয়েছে। বাজার বাড়ুক বা কমুক, এই খাতে বেশিরভাগ শেয়ারর দর কমেছে।

টানা মূল্য পতনের ধারা থেকে অবশেষে বের হয়ে এল পুঁজিবাজারে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যাংকিং খাত। দর বৃদ্ধির হার খুব বেশি না হলেও সিংহভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধিই এই খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংক ও বিমায় ভর করে বাড়ল মূল্য সূচক। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণায় সীমা বেঁধে দেয়ার পর আর্থিক খাতের প্রায় সব কটি শেয়ারেই দর হারিয়েছে।

আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সিদ্ধান্তে জানায়, ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যত মুনাফাই করুক না কেন, তারা শেয়ারধারীদেরকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি দেড় টাকার বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না। আর যাদের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি তারা কোনো লভ্যাংশই দিতে পারবে না।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেদিন জানায়, ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদে আর সমপরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে। শর্তভেদে কোনো কোনো ব্যাংক সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।

এই ঘোষণার পর ব্যাংক খাতে টানা দরপতন হয়েছে। বাজার বাড়ুক বা কমুক, এই খাতে বেশিরভাগ শেয়ারর দর কমেছে।

প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের শেয়ার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ দর হারানোর পর অবশেষে থামল সেই পতন।

তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে বেড়েছে ২৩টি ব্যাংকের শেয়ারের দর। কমেছে পাঁচটির আর পাল্টায়নি দুটির দর।

আবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণায় লাগাম টেনে নেয়ার পর এই খাতের ২২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ১৬টি, পাঁচটি অপরিবর্তিত আছে। একটির দর বেড়েছে সামান্য।

এই খাতের আরও একটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হলেও সেটি অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় স্থগিত আছে লেনদেন।

লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, পুঁজিবাজারে এমনিই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর খুব বেশি উঠা-নামা করে না। লভ্যাংশ দেয়ার সময় হলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারের প্রতি আগ্রহি হয়। কিন্ত এমন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ দেয়ার সীমা নির্ধারণ করে দেয়াটা বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কাম্য নয়। তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারে, বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহিৃত করে দিতে পারে। কিন্ত কোনো কোম্পানির সামর্থ্য আছে, তাকে লভ্যাংশ দেয়ার থেকে বিরত করে ফান্ডমেন্টাল ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসিকেও এগুলোর দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

লেনদেন

সকাল ১০ টায় লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক কমলেও পরে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় বাড়ে সূচক।

দিনশেষ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে।

এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন পতনের পর সূচক বাড়ল দুই দিন। আগের দিনও ৬৭ পয়েন্ট সূচক বেড়েছিল।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৫ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩৪৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ৬৩টির, পাল্টায়নি ১১৫টির।

লেনদেন হয়েছে মোট ৭৪৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৩০ কোটি টাকা। এ হিসেবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে-সিএসই বৃহস্পতিবার ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ২২০টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৫টির, কমেছে ৬৪টির ও পাল্টায়নি ৬১টির। মোট লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

খাত ভিত্তিক লেনদেন

বৃহস্পতিবার খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বিমা খাত।

এই খাতের ৪৯টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির। পাল্টায়নি তিনটির। আর কমেছে দুটির দর।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৫টির, কমেছে দুটির। অপরিবর্তিত আছে চারটির।

প্রকৌশল খাতেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। ৪২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ২২টির, কমেছে তিনটির, অপরিবর্তিত আছে ১৭টির দর।

লেনদেনে ঘুরে ফিরে চার কোম্পানি

পুঁজিবাজারে দিনের লেনদেনে ঘুরে ফিরেই আসছে চার কোম্পানি। বেক্সিমকো লিমিটড, রবি, লংকাবাংলা ফিন্যান্স ও বেট বাংলাদেশ-বিএটিবিসি।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়।

রবির ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।

লংকাবাংলা ফিন্যান্সের ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ১৯ লাখ টাকায়।

বেট বাংলাদেশ-বিএসটিবিসির ২ লাখ ৭১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়।

এই চার কোম্পানির মোট ২৭৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, যার মোট লেনদেনের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

এছাড়া এ তালিকায় ছিল সামিট পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম, ওরিয়ানফার্মা, বেক্সিমকোফার্মা।

আগ্রহ ও অনাগ্রহের কোম্পানি

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে-ডিএসই দর বৃদ্ধির দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল অরামিট সিমেন্ট, যার দর বেড়েছে ৯.৯৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৮৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার দর বেড়েছে ৯.৮০ শতাংশ।

নতুন তালিকাভুক্ত ই পাওয়ার জেনারেশনের ৯.৭৭ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ডের দর বেড়েছে ৯.৩০ শতাংশ।

এছাড়া সামিটপাওয়ারের ৭.৪৮ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ৬.৬৯ শতাংশ দর বেড়েছে।

দর পতনের দিক দিয়ে বৃহস্পতিবার শীর্ষে ছিল প্রাইম লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড, যার দর কমেছে ৫.৫৫ শতাংশ। সিএনএ টেক্সটাইলের দর কমেছে ৫ শতাংশ। আইডিএলসি’র দর কমেছে ৪.৭৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি দর পতন হওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টিই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

শেয়ার করুন

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে তারা তা দিতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

আইডিএলসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি সাড়ে তিন টাকা, আইপিডিসি ফিন্যান্স ১ টাকা ২০ পয়সা ও বিডি ফিন্যান্স ৬০ পয়সা নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে নিজেরাই তারা এখন নিশ্চিত নয় এই লভ্যাংশ দেয়া যাবে কি না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠান যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইডিএলসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে কোনো অবস্থাতেই শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার বেশি লভ্যাংশ দেয়া যাবে না।

একইভাবে আইপিডিসি ফিন্যান্স শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা আর বিডি ফিনান্স ৬০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ছয়টি করে বোনাস শেয়ার দিতে পারবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

তারা শেয়ারপ্রতি দেড় টাকার নিচে লভ্যাংশের প্রস্তাব করলেও বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত নীতিমালায় আরও বেশ কিছু শর্তের কারণে এই প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, যেসব আথিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করবে না।

যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ শতাংশের কম এবং খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের এর বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

যেসব আথিক প্রতিষ্ঠান সংরক্ষিতব্য সংস্থান (প্রভিশন সংরক্ষণ) না রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ঘাটতি সমন্বয় করে ডেফারেল সুবিধা (প্রভিশন সংরক্ষণে অতিরিক্ত সময় না নেয়া) ভোগ করছে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে।

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?
করোনাকালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ আয় করেছে আইডিএলসি

এই নীতিমালা জারির আগেই তিনটি প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফেলার পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না, এই নীতিমালা তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে কি না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, আর এক সপ্তাহ পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

কোম্পানিগুলো বোর্ড সভায় যে লভ্যাংশ ঘোষণা করে, সেটি অবশ্য চূড়ান্ত নয়। বার্ষিক সাভারণ সভায় শেয়ারধারীরাই তা অনুমোদন করে। বাংলাদেশে ঘোষিত লভ্যাংশ পরিবর্তনের ইতিহাস বিরল হলেও একেবারে যে হয়নি, এমনও নয়।

আইডিএলসি ও বিডি ফিন্যান্সের ৩১ মার্চ ও আইপিডিসির বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ এপ্রিল।

কী বলছে প্রতিষ্ঠানগুলো

আইডিএলসি ফিন্যান্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এমন নীতিমালা জারি করেছে। কিন্তু তার আগেই আমরা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক যদি মনে করে, আগে ঘোষিত লভ্যাংশ এই নীতিমালার বাইরে থাকবে তাহলে তো সমস্যা নেই।

‘তারপরেও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করব। এর মাঝে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তা অবশ্যই বিনিয়োগাকরীদের জানানো হবে।’

বিডি ফিন্যান্সের কোম্পানি সচিব মুন্সি আবু নাঈম বলেন, ‘আমরা ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় শর্ত সাপেক্ষে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন আমরা ৬ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারব কি না, সেটি দেখতে হবে।’

ঘোষিত লভ্যাংশ কি দিতে পারবে তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান?
করোনার বছরে আয়, ঘোষিত লভ্যাংশ সবই বেড়েছে বিডি ফিন্যান্সের

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আমাদের চিঠি দেয় যে, যে নীতিমালা অনুযায়ী লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে, তাহলে তাই করা হবে।’

যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নীতিমালা যেহেতু জারি করা হয়েছে, সেটা সবার জন্য মানা করা আবশ্যক। যারা ইতিমধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাদেরও মানতে হবে।

আবু আহমেদ বলছেন ‘অন্যায়’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অযাচিত বলেছেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগ সীমা, প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করলে সেখানে থেকে কত লভ্যাংশ দেবে, সেটা সেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিষয়। এখানে সীমা বেধে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইডিএলসি যখন লভ্যাংশ ঘোষণা করল, তখন বিনিয়োগকারীরা ৭০ টাকার বেশি দামে আইডিএলসির শেয়ার কিনেছে। বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসাব করেই নতুন বিনিয়োগ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর এক দিনে দাম কমল ৩ টাকা ৩০ পয়সা। এখন তাদের লোকসানের দায় কে নেবে?’

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আনম আতাউল্লাহ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের সক্ষমতা নেই তারা যদি লভ্যাংশ দেয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আটকাতে পারে। কিন্তু যে কোম্পানির সক্ষমতা আছে তাকে তা দিতে দেয়া উচিত। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একধরনের সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় থাকেন বছর শেষে কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দেবে। এটাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণ। কিন্তু সেখানেও যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে সার্বিক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।’

আর্থিক খাতে দরপতন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে নীতিমালা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার আর্থিক খাতের শেয়ারের ব্যাপক মূল্য পতন হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে সূচক বাড়লেও সবচেয়ে বেশি দরপতন হওয়া ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ১০টিই আর্থিক খাতের।

এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত আছে দীর্ঘদিন ধরে। দুটির শেয়ার দর আছে ফ্লোর প্রাইসে। অর্থাৎ এর চেয়ে আর দাম কমতে পারবে না।

বাকি ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানই দর হারিয়েছে এক দিনে। দর ধরে রাখতে পেরেছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। আর সামান্য দাম বেড়েছে কেবল সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির, যেটির কর্মপন্থা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো নয়।

শেয়ার করুন

এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক

এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সাভারের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কটি চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাপান সরকার এতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্লাটফর্মের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। অনলাইনে বৈঠকটির আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, পিপিপি অফিসের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. নাওকী, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও জাপান সরকারের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিষ্টার নোমুরা মাসাফুমি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে নবীনগর থেকে পাটুরিয়া সড়কে চাপ আরও বাড়বে। ফলে সড়কটিকে চার লেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জাপানের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার বলেন, তারা এ প্রকল্পে সহায়তা করতে চায়। তবে তার আগে সমীক্ষা চালানোর কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পিপিপি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবীনগর –পাটুরিয়া সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ফলে একে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমরা বলেছি, সড়কটিকে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করতে হলে প্রচুর অর্থের দরকার, যা বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে জাপান সরকার।’

২০৩০ সালে এর কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আরেক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আধুনিকায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। দেশটির মিৎসুবিসি করপোরেশন এ প্রকল্পটি উন্নয়নে কাজ করবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি ফ্লাটফর্মের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ফ্লাটফর্ম গঠন করা হয়।

গত চার বছর ধরে নিয়মিত এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনার কারণে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে এই বৈঠকটি জাপানে হবে।

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে পোশাক মালিকদের আরও সময়

প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে পোশাক মালিকদের আরও সময়

একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি

১ হাজার ৯৯২ পোশাকশিল্পের ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে এ তহবিল থেকে ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। দুই শতাংশ সুদের এই টাকা জানুয়ারি থেকে ১৮ কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে কার্যত আরও আট মাস সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

মহামারির মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে কম সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধে পোশাকশিল্প মালিকদের আরও সময় দেয়া হয়েছে।

ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ দুই বছরে ১৮টি সমান কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে। এখন তারা আগামী আগস্ট পর্যন্ত সময় পেলেন।

‍বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনাটি সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ‍কিন্তু নির্দেশনাটি ১ মার্চ ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনায় খুশি পোশাক কারখানা ডিজাইন অ্যান্ড সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহাঙ্গীর আলম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই ঋণ পরিশোধ শুরু করতে হয়েছিল কারখানার মালিকদের। অনেকেই ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তিও পরিশোধ করে দিয়েছেন। কিন্তু রপ্তানি পরিস্থিতি খারাপ থাকায় শিল্পমালিকদের পক্ষে এখনই এই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। আরও সময় দেয়াতে তাদের সুবিধা হলো।’

তবে মোট ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড ছাড়া ১৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের শর্ত বহাল থাকবে। এই ঋণের অন্যান্য শর্তও অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রেস পিরিয়ডের সময় ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর বড় ধরনের ধাক্কা খায় অর্থনীতি। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে বিভিন্ন খাতের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার ২০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রথম প্যাকেজটিই ছিল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন দেয়ার জন্য।

এ প্যাকেজের আওতায় নেয়া ঋণের জন্য মাত্র দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

১ হাজার ৯৯২ পোশাকশিল্পের ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে এ তহবিল থেকে ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

রিজার্ভ রেকর্ড ৪৪ বিলিয়ন ডলার

রিজার্ভ রেকর্ড ৪৪ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ মাসের বেশি সময়ের আমদানি-ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি-ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। সাধারণভাবে কোনো দেশে ছয় মাসের আমদানি দায় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলে সেটিকে আপৎকালীন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিতে ধীরগতি ও বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রিজার্ভে একটার পর একটা রেকর্ড কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সরকারকে সাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

করোনা শুরুর পর যত দ্রুত রিজার্ভ বাড়ছে, এর আগে কখনও এমন হয়নি। মূলত বিদেশি মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত মার্চের পর এক বছরের কম সময়ে রিজার্ভে যোগ হয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর মাস গত মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি মাসে হুহু করে বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে।

রিজার্ভে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে গত ৩০ ডিসেম্বর। আর ৪২ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করেছিল ১৫ ডিসেম্বর। এর আগে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়ায় গত ৮ অক্টোবর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ডলার। আগের বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে এসেছিল ১২৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার বা ২০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের সাত মাসে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৪৯১ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ সাত মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৮৬ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

শেয়ার করুন

এবার পেছাল অনুমোদন পাওয়া আইপিও

এবার পেছাল অনুমোদন পাওয়া আইপিও

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

পর পর কয়েকটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে যাওয়ার পর নতুন করে আর আইপিও অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সোনালী লাইফের মার্চে টাকা তোলার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে দুই মাস।

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকটের কারণে আপাতত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আপাতত অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এবার অনুমোদিত আইপিওর চাঁদার তারিখ পিছিয়ে দেয়া হলো।

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মার্চে টাকা তোলার যে সিদ্ধান্ত ছিল, সেটি পেছানো হয়েছে দুই মাস।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মে মাসে কোম্পানিটি আইপিও মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে। আর ওই মাসের কত তারিখ থেকে টাকা জমা নেয়া হবে, সেটি জানানো হবে পরে।

বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজার থেকে এক কোটি ৯০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে।

বাজার থেকে তোলা টাকা দিয়ে কোম্পানিটি সরকারি ট্রেজারি বন্ড, ফিক্সড ডিপোজিট,পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে বলে প্রসপেকটাসে বলা আছে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শর্ত লঙ্ঘন করায় তিন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর আইপিও কোটা বাতিল করা হয়েছে।

নিয়মিত আইপিও আসায় পুঁজিবাজারে তারল্য সমস্যা বাড়ায় গেল কয়েক মাস ধরে আইপিও প্রক্রিয়ার ধীর গতির দাবি ছিল বিনিয়োগকারীদের।

এর মধ্যে পর পর কয়েকটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে যাওয়ার পর নতুন করে আর আইপিও অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।

গত এক মাস ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের খরা ও টানা দরপতনের জন্য নানা কারণ রয়েছে। একটি একের পর এক আইপিও অনুমোদনও এর একটি কারণ বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।

গত ডিসেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ই জেনারেশন, মীর আকতার হোসাইন লিমিটেড, এনার্জিপ্যাক, রবি ও তাওফিকা অ্যাগ্রো।

এর বাইরে দেশ জেনারেলের ইন্স্যুরেন্সের ১৬ কোটি ও এনআরবিসি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহে আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণে নিলাম চলছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের। একই প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজার থেকে ৫০ কোটি টাকা তুলতে চাইছে ইনডেক্স অ্যাগ্রো লিমিটেড।

দুই মসের মধ্যে এতগুলো আইপিও আসায়ে দুই কারণে পুঁজিবাজারের লেনদেনে টান পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিটি আইপিওর ক্ষেত্রে শেয়ারের জন্য ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। লটারির পর বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হয় ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা এখনও ফেরত আসেনি বিনিয়োগকারীদের হিসাবে।

এর বাইরে রবি, এনার্জি প্যাক, মীর আকতারে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করে বিপুল পরিমাণে লোকসানে আছেন বিনিয়োগকারীরা। এই অংকটা এখন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

তিন কোম্পানির আইপিও কোটা বন্ধ

কমিশন সভায় বেঙ্গল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিএপিএম এডভাইজারি লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেটের আইপিও কোটা সুবিধা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকের বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হলে মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জরিমানা

কমিশন সভায় নেক্সাস ও ফার্স্ট সিকিউরিটিজকে দুই লাখ টাকা করে এবং এমটিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে সিকিউরিটিজ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এই জরিমানা করার কথা জানানো হলেও বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

এছাড়া ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারী সিরাজুল হক, নাসিমা বেগম, এমএ আহাদ, আয়েশা তাসনিম ঈশিতাকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg