কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়, বরং অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধের তাগিদ এসেছে বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে।
তারা বলেছেন, উৎস বন্ধ না করে বার বার এ সুযোগ দেওয়া হলে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। বরং লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।
মঙ্গলবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে এমন অভিমত উঠে এসেছে বিশিষ্টজনের কাছ থেকে।
‘কালো টাকা সাদা হচ্ছে: অর্থনীতির লাভ, না ক্ষতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের– এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।
সরকারি কর্মকর্তা, রাজস্ব ও কর বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন ওই সংলাপে অংশ নেন।
সৎ ও নিয়মিত করদাতারা বেশি হারে কর দেবে। আর কালো টাকার মালিকরা কম হারে কর দিয়ে টাকা সাদা করবে। এটা সঠিক নীতি নয়। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর সংস্কারের উপর গুরুত্ব দেন বক্তরা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার ফলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন। বিশেষ এই সুবিধা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে হবে।’
মূল প্রবন্ধে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অবৈধ আয়ের উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা।
‘কালো টাকা লালন করার সংস্কৃতি থেকে সরে না এলে আয় ও সম্পদ বণ্টনের ক্রমবর্ধমান বৈষম্য থেকে বাংলাদেশের মুক্তি মিলবে না।’
এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) আলমগীর হোসেন অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা মূলধারায় নিয়ে আসার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন।
উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ কর সুবিধার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা দিলে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে সাহায্য করবে।’
এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘কালো টাকা আয়ের মূল কারণ হল সুশাসনের অভাব। কালো টাকা রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাড়াতে হবে।’
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অন্যায্যবোধকে প্রশ্রয় দেয়। সীমিত আকারে এই সুযোগ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর ক্ষতি আছে।’
ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির– ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগের ফলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।’
কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দেন মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাবিথ আউয়াল।
কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত আয়ের পার্থক্য স্পষ্ট করার প্রস্তাব করেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান।
দেশের সরকারি চাকুরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামো কার্যকর করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে তিনটি পৃথক ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয় সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে পাওয়া এমন তথ্যে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপ শুরু হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে, যেখানে মূল বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ—সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এই তিন স্তরের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের ওপর এককালীন বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য একটি টেকসই আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই পে স্কেলে বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে বেতন বৈষম্য কমাতে। সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
নতুন পে স্কেলের সুফল কেবল বর্তমান চাকুরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। বিশেষ করে যারা তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে বলবৎ থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সাথে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি নিবিড়ভাবে কাজ করছে। কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলেই এই রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে।
তবে বেতন বৃদ্ধির এই সম্ভাবনার মাঝেও সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাঁদের দাবি, এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত সকল তথ্য কেবল বিভিন্ন মাধ্যম ও সূত্রের ওপর ভিত্তি করে জানা যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীরা প্রকৃত চিত্র নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। তবুও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার এই খবরকে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ও স্বস্তির আভাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৯৭ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলে ৬২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৫ দশমিক ৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। মূলত সরবরাহ সংকট কাটার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় এই দরপতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা এবং এর জবাবে হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাল্টা আক্রমণের ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তীতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত হলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে, যা দাম কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
এদিকে তেলের বাজারে দরপতন ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মজুত হ্রাসের তথ্য নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমেছে। বর্তমানে মার্কিন তেলের মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে। বাজার বিশ্লেষকরা যেখানে মজুত মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেখানে মজুত হ্রাসের হার দ্বিগুণ হওয়ায় বাজারে এক ধরনের অস্থিরতার আভাস রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘হাইতং ফিউচার্স’ বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে জানিয়েছে যে, তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আবারও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাওয়া এবং বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে বাজারকে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান স্বস্তি স্থায়ী না হলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে তেলের বাজার পুনরায় অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি জ্বালানি তেলের বাজারে পড়ছে। যদিও বর্তমানে দাম কিছুটা কমেছে, তবে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর অস্থিরতা এবং বড় দেশগুলোর মজুত কমে যাওয়া ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিবিড়ভাবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ যেকোনো ছোটখাটো সংঘর্ষ তেলের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটাতে পারে। আগামী সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববাজারের এই গতিধারা বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৪০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই রপ্তানি আয় আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের মে মাসের তুলনায় এই আয় ৭ শতাংশ কম, কারণ গত বছর একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৪ কোটি ডলারের পণ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, মে মাসে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং শিপিং প্রক্রিয়ায় ধীরগতির ফলে বার্ষিক ভিত্তিতে রপ্তানি আয় কিছুটা নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতে মে মাসে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ইপিবির তথ্য বলছে, গত মাসে পোশাক খাত থেকে মোট আয় এসেছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশেরও বেশি কম। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে। পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্য রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে কিছু প্রচলিত ও অপ্রচলিত খাতে রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মে মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এই আয়ের অর্ধেকের বেশি এসেছে পাট সুতা রপ্তানি থেকে। হোম টেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানিও ৪ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি করে ২ কোটি ৯২ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের (জুলাই-মে) চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এটি গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম, যেখানে গত বছর আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ে ২৫ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে টানা কয়েক মাস মন্দা ভাব বজায় ছিল। গত এপ্রিলে আয় আবার ৩৩ শতাংশ বাড়লেও মে মাসের এই সাময়িক ধীরগতি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বছর শেষে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন মাশুল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে। তাঁদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই সংকট নিরসনে এবং দেশের স্টিল ও রি-রোলিং শিল্প বাঁচানোর স্বার্থে সরকারের কাছে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনা-পরবর্তী সময় থেকেই দেশের শিল্প খাত এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, চলতি মূলধনের অভাব এবং গ্যাস-বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে অনেক কারখানা এখন লাভের বদলে লোকসানে চলছে। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং ডিমান্ড মাশুল ১২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হলে শিল্পের আর্থিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বড় কারখানাগুলো সরাসরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক্সট্রা হাই টেনশন (ইএইচটি) লাইনের গ্রাহক এবং তারা নিজস্ব সাবস্টেশনে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে। ফলে এসব কারখানায় কার্যত কোনো সিস্টেম বা ট্রান্সমিশন লস নেই। তা সত্ত্বেও ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচের কারণে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল আগে থেকেই অনেক বেশি ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ইএইচটি-১ গ্রাহকের ক্ষেত্রে অফ-পিক সময়ের মূল্য প্রতি ইউনিটে ৯ দশমিক ৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৩৯ টাকা এবং পিক টাইমের মূল্য ১৫ দশমিক ৮২ টাকা করা হয়েছে। ব্যয়ের এই বিশাল পার্থক্য সমন্বয় করা কারখানাগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএসএমএ আরও উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে জ্বালানির দাম কমতির দিকে থাকলেও দেশীয় বাজারে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি একমুখী নীতিকে নির্দেশ করে। শিল্প খাতের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর পড়বে। শিল্পকে অতিরিক্ত চাপের মুখে রেখে টেকসই অর্থনীতি গঠন করা সম্ভব নয় বলেই সংগঠনটি মনে করে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা বর্তমান বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
পরিশেষে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে, বিদ্যুতের বর্তমান মূল্যকাঠামো এখন কেবল একটি ট্যারিফ ইস্যু নয়, বরং এটি শিল্পের টিকে থাকার মৌলিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। স্টিল শিল্পের মতো ভারী শিল্পগুলো দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের মেরুদণ্ড, তাই এই খাত দুর্বল হয়ে পড়লে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইস্পাত খাতের পক্ষ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প মালিকরা মনে করেন, যথাযথ নীতি সহায়তা এবং বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা হলে এই খাত পুনরায় সচল হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখতে পারবে।
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক পর্যালোচনা বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘প্রগতি’ নামক বিশেষ স্কিমটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বেসরকারি ব্যাংক কর্মী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পেনশন সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, যেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর প্রতিটি শাখায় সর্বজনীন পেনশনের জন্য আলাদা ডেস্ক স্থাপন করতে হবে এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে তাঁদের কর্মীদের প্রগতি স্কিমে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
‘প্রগতি’ স্কিমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী নিজে এবং বাকি ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করবে। ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক চাঁদা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে এবং ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পাবেন। এই স্কিমের আওতায় জমা দেওয়া চাঁদার ওপর যেমন আয়কর রেয়াত পাওয়া যাবে, তেমনি প্রাপ্ত পেনশনও সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত থাকবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকায় বিনিয়োগের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে জমানো অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে তোলার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শ্রমজীবী মানুষের অধিকাংশেরই অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক সুরক্ষা নেই। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রগতিসহ চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত সদস্যের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকায়। বর্তমানে ২৪টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের চাঁদা সংগ্রহ করছে। পেনশন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বেসরকারি ব্যাংক খাতের প্রায় এক লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই স্কিমে যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করতে ভবিষ্যতে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু এবং নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশনের সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও ব্যাংকের আউটসোর্সিং কর্মীদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারি ব্যাংকে নিজস্ব পেনশন ব্যবস্থা থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকে এই সুযোগ নেই, তাই প্রগতি স্কিমটি এই খাতের শূন্যতা পূরণে একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করবে।
সদ্য সমাপ্ত মে মাসে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে বড় হোঁচট খাওয়ায় সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আলোচিত মাসে গত বছরের একই মাসের তুলনায় সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। বুধবার (৩ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি রয়েছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই মাসে যা হয়েছিল ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি বছরের মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই মাসে যা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি হয় ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
প্রসঙ্গত, টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমার পর গত এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে মে মাসে আবারও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সর্বশেষ ঋণমান বা ক্রেডিট রেটিং ঘোষণা করা হয়েছে। আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি (আলফা রেটিং) কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ (AA+) এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ (ST-1) হিসেবে প্রত্যয়ন করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির সার্বিক গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন মান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই তিন মাসে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ পয়সা। এছাড়া ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস (পুনর্মূল্যায়িত) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ২৫ পয়সায়। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এটি কোম্পানির একটি ইতিবাচক আর্থিক অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ হিসাব বছরের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোম্পানিটি তার বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৮ পয়সা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল, যদিও সে সময় শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। কোম্পানিটির সম্পদমূল্য বা রিজার্ভের মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে পুনর্মূল্যায়নের পর এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯১ পয়সায়।
কোম্পানিটির মূলধনী কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৬৪টি। শক্তিশালী এই আর্থিক ভিত্তির কারণেই রেটিং সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চমানের ঋণমান প্রদান করেছে, যা আর্থিক সক্ষমতা ও দায় পরিশোধের ক্ষমতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
শেয়ারধারণের বিন্যাস অনুযায়ী, কোম্পানির মোট শেয়ারের সিংহভাগ বা ৬০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার। অবশিষ্ট ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল এবং নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। নতুন এই ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য