আইপিওতে সবার শেয়ার এপ্রিলেই

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

আইপিওতে সবার শেয়ার এপ্রিলেই

এখন পর্যন্ত আইপিওর শেয়ার বিতরণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই এই শেয়ার পেয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইপিও আন্ডার সাবস্ক্রাইবড থাকলেও বাংলাদেশে শেয়ারের কয়েক গুণ আবেদন জমা পড়ে। বিনিয়োগকারীদের অর্থের একটি বড় অংশই আটকে যায়। টাকা ফেরত পেতে সময় লাগে।

আগামী এপ্রিল থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করলেই পাওয়া যাবে শেয়ার। সেই পথেই হাটছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি)।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সাক্ষরিত চিঠিতে প্রযুক্তি উন্নয়নে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসই, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসই ও সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি অব বাংলাদেশ-সিডিবিএলকে।

বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করলেও বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে এ সংক্রান্ত এক কমিটির সভায় ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলর আনুপাতিক শেয়ার বন্টন কার্যকর করতে আগামী জুন পর্যন্ত সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল।

তবে বিএসইসি ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়ায় এখন আর বিষয়টি পেছানোর বলে জানান সংস্থাটির মুখপাত্র রেজাউল করিম।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক গণপ্রস্তাব-আইপিও আবেদন করলেই শেয়ার পেতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকতে হবে ২০ হাজার টাকা। আর আবেদন করতে হবে ১০ হাজার বা তার গুণিতক হারে, যা নির্দেশনা আকারে প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

এ সংক্রান্ত আরেক সভায় একজন বিনিয়োগকারী তার একটি হিসেব থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার আবেদন করতে পারবে বলেও আলোচনা হয়। যদিও এটি এখনও বিএসইসির কমিশন সভায় চূড়ান্ত হয়নি।

এখন পর্যন্ত আইপিওর শেয়ার বিতরণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই এই শেয়ার পেয়ে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইপিও আন্ডার সাবস্ক্রাইবড থাকলেও বাংলাদেশে শেয়ারের কয়েক গুণ আবেদন জমা পড়ে। বিনিয়োগকারীদের অর্থের একটি বড় অংশই আটকে যায়। টাকা ফেরত পেতে সময় লাগে।

আবার লাখ লাখ বিও হিসাব ব্যবহার হয় কেবল আইপিওর জন্য। বিএসইসি মনে করছে, নতুন পদ্ধতিতে আর কেবল আইপিওর জন্য বিও হিসাব থাকবে না। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওটিসিতে ৩ দিনেই শেষ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ার

ওটিসিতে ৩ দিনেই শেষ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ার

২৮ ফেব্রুয়ারি খবর আসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পুরাতন বোর্ড বাতিল করে কোম্পানিটিতে সাত সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালকে দায়িত্ব দিয়েছে। এরপরই কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে ব্যাপক আগ্রহ বাড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

পুঁজিবাজারের দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানি হিসেবে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) লেনদেন হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বোর্ড পুনর্গঠনের খবরে তিন দিনেই ৭৮ লাখ শেয়ার বিক্রি হয়ে গেছে।

গত ১৩ জানুয়ারি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোম্পানিটিকে জেড ক্যাটাগরি থেকে ওটিসিতে স্থানান্তর করে। তারপর একের পর এক আসতে থাকে কোম্পানির শেয়ার বিক্রির আদেশ।

এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি খবর আসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পুরাতন বোর্ড বাতিল করে কোম্পানিটিতে সাত সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালকে দায়িত্ব দিয়েছে।

এর ফলে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবে আর থাকছেন না তাসবিরুল আলম চৌধুরী। তাকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কাজী ওয়াহিদুল আলমকে।

এভিয়েশন ব্যবসায় বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া ওয়াহিদুলের। তিনি বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি পর্যটন ও এভিয়েশন বিষয়ক একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন পর্ষদের আরও আছেন এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস ও মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ।

বিএসইসির এমন সিদ্ধান্তে পাঁচ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ ইউনাইটেডে এয়ারওয়েজে বিনিয়োগ করা হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বিনিয়োগ করা অর্থ আবার ফিরে পাবার প্রত্যাশা শুরু হয়।

এমন খবরের তিন দিন পরেই ওটিসি মার্কেটে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিক্রির আদেশ দেয়া ৭৮ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি হয়ে গেছে গত ৩ মার্চ।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, এদিন এক কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৩৮০ টাকায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০টি শেয়ার বিক্রি হয়েছে।

বর্তমানে এই কোম্পানির ১৭ হাজার ৬৮০টি শেয়ার বিক্রির অপেক্ষায় আছে, যা বিক্রির আদেশ দেয়া হয়েছে গত ৪ মার্চ।

গত সপ্তাহের রোববার বস্ত্র খাতের দুই বন্ধ প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও ফ্যামিলি টেক্সের পরিচালনা পর্ষদও পুনর্গঠন করা হয়েছে। যার প্রভাবে টানা তিন কার্যদিবস এই কোম্পানিগুলো উঠে এসেছিল দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায়। এর আগের বিএসইসি বস্ত্র খাতের আরেক কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলের বোর্ড পুনর্গঠন করেছে।

তহবিল সংকটের আশ্বাস বিএসইসির

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পুনরায় চালুর জন্য গঠন করা নতুন বোর্ড শুরুতেই তহবিল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএসইসির কাছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিএসইসির সহায়তা চেয়েছে নতুন পর্ষদ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের প্রধান কাজী ওয়াহিদ উল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহে নতুন বোর্ড নিয়ে বসব। তখন কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ধারনা পাব। তবে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকবে কোম্পানিটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার। চেষ্টা থাকবে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষা দেয়ার।’

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোম্পানিটির নতুন র্বোড আমাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা তাদের সব ধরনের আইন কানুন সম্পর্কে অবহিত করেছি। তাদের বক্তব্যও আমরা শোনেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি কোম্পানি চালুর করতে কিছু সমস্যা থাকবেই। যে কোনো সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের সহযোগিতা তাদের করা হবে।

কোম্পানির আর্থিক অবস্থা

২০১০ সালে পুঁজিবাজার যখন চাঙা, তখন কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। শুরুর দিকে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। তবে ২০১৫ সালের পর খারাপ অবস্থায় যেতে থাকে কোম্পানিটি। এক পর্যায়ে উদ্যোক্তা পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানিটিই বন্ধ করে দেন।

৮২০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৮২ কোটি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে আছে মাত্র আড়াই শতাংশ শেয়ার। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে কথা উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের পর কোম্পানিটির আর কোনো আর্থিক বিবরণী তৈরি হয়নি। সেখানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির কোনো আয় নেই। তবে ২০১৬ সালের রেভিনিউ দেখানো হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানের কোনো সেল নেই ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। বর্তমানে ওটিসিতে কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে এক টাকা ৯০ পয়সায়।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল

যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল

ব্যাপক সম্ভাবনা নিয়ে দেশে রাইস ব্র্যান ওয়েলের উৎপাদন শুরু হলেও ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এই ভোজ্যতেলের বাজার। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিপুল সম্ভাবনার রাইস ব্র্যান অয়েল প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। চালের কুঁড়া থেকে তৈরি এ তেল বেশি পুষ্টিকর হওয়া সত্ত্বেও সয়াবিন ও পাম অয়েলকে সরিয়ে বাজার তৈরি করতে পারেনি।   

বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে দেশে যাত্রা শুরু করেছিল চালের কুঁড়া থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেল রাইস ব্র্যান অয়েল। কিন্তু দেড় দশক না যেতেই থুবড়ে পড়েছে খাতটি। সয়াবিন ও পাম অয়েলের জায়গা দখল করতে পারেনি এটি। মুনাফা না থাকায় পিছু হটতে শুরু করেছেন উৎপাদকেরা।

একে একে দেশে ২০টি প্রতিষ্ঠান রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনে এসেছে। তবে ব্যবসা করতে পারছে না কেউই। বরং বাজার চাহিদা তৈরির প্রতিযোগিতায় রাইস ব্র্যানকে টেক্কা মেরে সয়াবিন ও পাম অয়েলের ব্যবহার আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

স্থায়ীভাবে ক্রেতা তৈরি করতে পারেনি রাইস ব্র্যান। ব্যাপক বাজার চাহিদা তৈরি করতে না পারায় বাস্তব রূপ পায়নি এ খাতের সম্ভাবনা।

অন্যদিকে রাইস ব্র্যানের তুলনায় সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেশ কম, সরবরাহ বেশি। ঘর থেকে বের হলেই বিভিন্ন আকৃতির বোতলে যেকোনো মুদি দোকানেই মেলে এসব তেল।

রাইস ব্র্যানের চিত্র এর বিপরীতমুখী। যারা আগ্রহ নিয়ে এই তেল ব্যবহারে এগিয়ে এসেছিলেন, তারা ফের সয়াবিনে ফিরে গেছেন। এর অন্যতম কারণ, দোকানগুলোতে এই তেল খুব বেশি পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও ক্রেতার চাহিদামতো বোতলের সাইজ পাওয়া যায় না। রাইস ব্র্যান অয়েলের বেশির ভাগ বোতলই পাঁচ লিটারের।

এখনও যারা এই ভোজ্যতেল ব্যবহার করছেন, তাদের অনেকেরই ঝোঁক দেশি রাইস ব্র্যানের পরিবর্তে বিদেশ থেকে আমদানি করা সানফ্লাওয়ার অয়েলে বা অন্য তেলে। ফলে ক্রেতা সংকটে দিন দিন বাজার হারাচ্ছে রাইস ব্র্যান। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উৎপাদনে।

আশানুরূপ মুনাফার দেখা না পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন উৎপাদকেরা। কেউ কেউ রাইস ব্র্যান উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। কেউ করছেন সক্ষমতার আংশিক উৎপাদন। সেটাও বছরের সব সময় হচ্ছে না। কেউ আবার বড় অংকের পুঁজি বাঁচাতে রাইস ব্র্যান অয়েল পরিশোধন বা রিফাইন থেকে মুখ ফিরিয়ে ওই কারখানায় সস্তা দরের সয়াবিন পরিশোধনের দিকে হাত বাড়িয়েছেন।

কেউ আবার রাইস ব্র্যানে থেকেও ব্যয়বহুল পরিশোধনে না গিয়ে এর অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল উৎপাদনে ঝুঁকছেন, যা উৎপাদকেরা অপেক্ষাকৃত কম দামে রপ্তানি করছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশ থেকে ২০ হাজার টন ক্রুড রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানি হয়েছে। এখানেও মিলছে না ন্যায্যমূল্য। যদিও ভারত, চীনসহ আমদানিকারক দেশগুলোয় চড়া দামে রাইস ব্র্যান অয়েল বিক্রি হচ্ছে। এসব দেশে এই তেলের জনপ্রিয়তা অন্য তেলের চেয়ে বেশি। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার খাতটির প্রতি ব্যাপকভাবে নজর না দিলে দেশে রাইস ব্র্যান অয়েলের স্থানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত অচিরেই শূন্যের কোটায় নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যসব ভোজ্যতেলের তুলনায় চালের কুঁড়ার তেল বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

চালের কুঁড়ার তেল বেশি পুষ্টিকর

বাজারে প্রচলিত অন্যসব ভোজ্যতেলের তুলনায় চালের কুঁড়া থেকে উৎপাদিত তেল বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবেও এর স্বীকৃতি আছে।

বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা (বিসিএসআইআর) বলছে, ভোজ্যতেলে যেসব খাদ্যগুণ থাকা উচিত, তা জলপাই তেলের পর সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাইস ব্র্যান অয়েলে। এতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।

তাছাড়া, এই তেল শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, নানা ধরনের রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, রোগ প্রতিরোধী শক্তিকে উন্নত করে ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

কাঁচামাল পুরোটাই দেশি উপজাত

সয়াবিন, সরিষা, সূর্যমুখী ও পাম অয়েলসহ এখন পর্যন্ত যত রকমের ভোজ্যতেল ব্যবহার হচ্ছে, তার কোনোটির কাঁচামালেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বাংলাদেশ। ফলে চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেলের সরবরাহ সচল রাখতে এসব তেলের কাঁচামাল অথবা ক্রুড বিদেশ থেকে আনতে হয়। এর বিপরীতে রাইস ব্র্যান অয়েলের কাঁচামাল অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই পুরোপুরি জোগান পাওয়া যায়। দেশের ধানকলগুলোয় উপজাত হিসেবে এটি তৈরি হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিইএ) গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বর্তমানে অটো, সেমিঅটো ও সাধারণ রাইস মিলে ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার টন চালের কুড়া উৎপাদন হচ্ছে। এর থেকে তেল পাওয়ার হার গড়ে ১৬ শতাংশ ধরলেও বছরে ৭ লাখ ৬৮ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল পাওয়ার কথা। অথচ দেশে সবকটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিলে বছরে ৩ লাখ টন কুঁড়া ব্যবহার করছে, যা থেকে বছরে গড়ে তেল তৈরি হচ্ছে ৪৫ হাজার থেকে ৪৮ হাজার টন। এটাও পুরোপুরি বাজারজাত করা যাচ্ছে না চাহিদার অভাবে।

রাইস ব্র্যান অয়েলের দাম সয়াবিন ও পাম অয়েল থেকে কিছুটা বেশি। ছবি: নিউজবাংলা

ভোক্তার অভ্যাস নেই, দামও বেশি

কেন দেশে এ তেলের বাজার সম্প্রসারণ করা গেল না, এমন প্রশ্নের জবাবে মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেডের পরিচালক অর্জুন মজুমদার নিউজবাংলাকে জানান, দেশে অনেক দিন ধরে মানুষ রান্নার কাজে সয়াবিনের তেল ব্যবহার করে আসছে। অভ্যাস বদল করে ভোক্তারা এখনও রাইস ব্র্যানে আসক্ত হতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হচ্ছে রাইস ব্র্যানকে গ্রহণযোগ্যমাত্রায় পরিশোধন করলে তা দেখতে কালচে লাল বা অনেকটা সরিষার তেলের মতো দেখায়। অথচ ক্রেতারা চকচকে রঙের স্বচ্ছ তেল পছন্দ করেন। আবার রাইস ব্র্যানকে বেশি চকচকে করতে গেলে এর ন্যাচারাল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে অবশ্য চকচকে করেই বাজারে ছাড়ছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পদার্থ অতিমাত্রার ব্যবহারের কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেশি পড়ছে।

‘প্রতি লিটার উৎপাদনেই খরচ পড়ে যাচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। এটা খুচরা বাজারে কোম্পানিভেদে ১৬০ টাকা বা এর বেশি দাঁড়ায়। একদিকে ক্রেতার অনাগ্রহ, অন্যদিকে বাড়তি দামের নেতিবাচক প্রভাবে সয়াবিনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি রাইস ব্র্যান। বরং এখনও ভোজ্যতেল হিসেবে সয়াবিন-পাম অয়েলের নিয়মিত ক্রেতা ৯৯ ভাগেরও বেশি।’

অর্জুন মজুমদার জানান, এই দেশে হরহরামেশাই বিদেশি পণ্য বিক্রি হয়। বিদেশি বলে দ্বিগুণ দামে কিনতেও ক্রেতার আপত্তি হয় না। যত আপত্তি এই রাইস ব্র্যানে। ক্রেতার দৈন্যতা, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সয়াবিন-পাম অয়েলের বাজারজাতে আগ্রাসী তৎপরতা এর জন্য দায়ী।

অয়েল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জাকিরুল ইসলাম ডলার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে করোনা টিকা সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যেভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হয়েছে, রাইস ব্র্যানকে ঘরে ঘরে নিয়ে যেতে এমন একটা গণপ্রচারণার প্রয়োজন ছিল।

‘এ ক্ষেত্রে উৎপাদকেরা তো পারেননি বটেই, রাষ্ট্রীয়ভাবেও রাইস ব্র্যানকে সেভাবে ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমরা ভোক্তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। এর বহুবিধ উপকারিতা সম্পর্কেও তাদের জানান দিতে ব্যর্থ হয়েছি।’

ভোক্তা কম হওয়ায় দোকানগুলোতে রাইস ব্র্যান অয়েল খুব একটা পাওয়া যায় না। ছবি: নিউজবাংলা

দেশি বাজারের চেয়ে রপ্তানিতে ঝোঁক

কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট (প্রা.) লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক তাপস চন্দ্র দেবনাথ নিউজবাংলাকে জানান, দেশে ভোক্তারা এ তেল খেতে চায় না। চাহিদা কম। প্রতিযোগিতা বেশি। দামও বেশি।

তিনি বলেন, এসব কারণে প্রতিযোগিতায় রাইস ব্র্যানের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধাক্কা সামলাতে না পেরে ইতিমধ্যে কেবিসি এবং যমুনা অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট লিমিটেড, আল নূর অয়েলসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এ তেল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে কেউ কেউ রাইস ব্র্যানের ক্রুড অয়েল বিদেশে রপ্তানি করছেন। এসব কারণে দেশের বাজারে রাইস ব্র্যানের সরবরাহ কমে গেছে।

রাইস ব্র্যান অয়েলের কাঁচামাল চালের কুঁড়া আসে দেশের চালকলগুলো থেকে।

তাপস চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চালের কুঁড়া পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কুঁড়ার সরবরাহ সেভাবে মিলছে না। চাহিদা অনুযায়ী কুঁড়া সব সময় না পাওয়া এবং স্থানীয়ভাবে কুঁড়ার দাম বেশি হওয়ার কারণেও উৎপাদন পর্যায়ে দাম বেশি পড়ছে। তবে দেশে এর বাজার বড় না হলেও বিদেশে চাহিদা প্রচুর। আমরা এখন রপ্তানি বাজারটাকে ধরার চেষ্টা করছি। সে ভরসাতেই উৎপাদকরা এখন রপ্তানিতে মনোযোগী হতে শুরু করেছে। তবে এর জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা দরকার।’

ভোজ্যতেল আমদানিতে ১৬ হাজার কোটি টাকা

দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ১৯-২০ লাখ টন। এ চাহিদার বিপরীতে তেলজাতীয় শস্য উৎপাদন হচ্ছে ১০ লাখ টন, যা থেকে ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার ৯২ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

ভোজ্যতেল আমদানিতে প্রতিবছর দেশের খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউয়ে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভোজ্যতেল আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৮৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাইস ব্র্যানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে এ চাহিদার অন্তত ৫০ ভাগ দেশীয় উৎস থেকে পূরণ করা যেত। এতে আমদানিতে বেঁচে যেত বৈদেশিক মুদ্রা।

রাইস ব্র্যানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গবেষণা হয়েছে। লক্ষ্যের পথে হাঁটতে একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (গবেষণা) প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে খাতটির উন্নয়নে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা। কিন্তু সময় গড়ালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের আমদানি ব্যয় কমাতে ২৭৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। তেলজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ ও আমদানি ব্যয় কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। যা বাস্তবায়িত হলে বাজারে ভোজ্যতেলের সিন্ডিকেট বলতে আমরা যা শুনি তার আধিপত্য কমাবে। এতে বাজার স্থিতিশীলতা বজায় থাকার পাশাপাশি দামও ক্রেতার সীমার মধ্যে থাকবে।’

কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগেও দেখা মিলেনি রাইস ব্র্যানের বাজার সম্প্রসারণের কার্যকরী পরিকল্পনা।

বাজারে রয়েছে নানা ব্র্যান্ডের রাইস ব্র্যান অয়েল। ছবি: নিউজবাংলা

বাজারে যেসব ব্র্যান্ড

পাবনার ঈশ্বরদীতে ২০১১ সালে রশিদ অয়েল মিলস লিমিটেড ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে ধানের কুঁড়ার তেল উৎপাদন শুরু করে। প্রায় একই সময়ে উৎপাদনে আসে ময়মনসিংহে অ্যামারেল অয়েল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ‘স্পন্দন’। এছাড়া বগুড়ার মজুমদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ‘স্বর্ণা’, কেবিসি অ্যাগ্রোর ‘হেলথ কেয়ার’, রশিদ অয়েল মিলস লিমিটেডের ‘হোয়াইট গোল্ড’, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘বাসমতি’, আলি ন্যাচারাল অয়েলের ‘কল্যাণী’, মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেডের ‘পিওর গোল্ড’, আল নূর অয়েলের ‘আল নূর’, ওয়েস্টার অ্যাগ্রোর ‘ব্রানোলা’, যমুনা অ্যাগ্রোর ‘সেরা’, এসিআই কোম্পানির ‘নিউট্রিলাইফ’, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের ‘ফরচুন’সহ আরও কয়েকটি রাইস ব্র্যান অয়েল বাজারে রয়েছে।

এছাড়া অ্যাগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল, তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আব্দুল মোনেম, রায় হার্ট অয়েল লিমিটেড, প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড উৎপাদনে এসেছে। তবে এখন সুপারশপগুলোয় দু-তিনটি ব্র্যান্ড ছাড়া বেশির ভাগ ব্র্যান্ডের উপস্থিতি চোখে পড়ে না বললেই চলে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

তামাক ব্যবসা থেকে সেরা করদাতা

তামাক ব্যবসা থেকে সেরা করদাতা

কর দিয়ে ১৪ বার পুরস্কার পাওয়া ব্যবসায়ী কাউস মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

৭০ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে ব্যাংক থেকে নেননি কোনো ঋণ। সরকারকে কর দিচ্ছেন ৫৩ বছর ধরে। ১৪ বার ভূষিত হয়েছেন বিভিন্ন রাজস্ব পুরস্কারে। মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে জিতলেন সেরা করদাতার সম্মাননা। পুরস্কারটি হাতে পেয়ে ব্যবসায়ী কাউস মিয়া উত্তরাধিকারীদের উদ্দেশে বললেন, ‘নিজে খাবা, গরিবরে দিবা’।

‘মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা করদাতার সম্মাননা’ নিতে এসে নিজের ৭০ বছরের ব্যবসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজি মো. কাউস মিয়া। নিজের বাবার মতো তিনিও উত্তরাধিকারীদের উদ্দেশে বললেন, ‘নিজে খাবা, গরিবরে দিবা’।

জাতীয় রাজস্ব ভবনে শুক্রবার কাউস মিয়ার হাতে সেরা করদাতার সম্মাননা স্মারক, মানপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

এ সময় নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে কাউস মিয়া বলেন, ‘আপনারা যে আয়োজন করছেন, তাতে আমার মনে যে আনন্দ, ৭০ বছর ব্যবসা করেও আমি এই আনন্দ পাইনি।’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে ‘মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা করদাতার সম্মাননা’ কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সর্বোচ্চ করদাতাদের বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে ব্যক্তি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি সর্বোচ্চ করদাতার সম্মান অর্জন করা এবং জাতীয় রাজস্ব খাতের সকল পুরস্কার পাওয়া কাউস মিয়াকে মুজিববর্ষে সেরা করদাতা নির্বাচন করা হয়।

কাউস মিয়ার জন্ম ১৯৩১ সালে ২৬ আগস্ট চাঁদপুর শহরে। তার পিতা আলহাজ আব্বাস আলী মিয়া ব্যাপারী ও মাতা ফাতেমা খাতুন। পূর্বপুরুষেরা তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যে বাস করতেন।

নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে কাউস মিয়ার। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কিশোর বয়সেই তিনি চাঁদপুর শহরে ব্যবসায়ী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন। সে সময় তিনি ১৮টি ব্র্যান্ডের বিস্কুট, সাবান ও সিগারেটের এজেন্ট হন। পরে আলোচনায় আসেন তামাক ব্যবসা দিয়ে। তার হাকিমপুরী জর্দা দেশে এক নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

২০ বছর ব্যবসা করার পর ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জে এসে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ৪০টি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউস মিয়া। আগা নবাব দেউড়ীতে থেকে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন তিনি।

একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা কাউস মিয়া সরকারকে কর প্রদান শুরু করেন ১৯৬৮ সাল থেকে। ৬৩ বছর একনিষ্ঠ ও স্বপ্রণোদিতভাবে নিয়মিত কর প্রদান করে আসছেন।

কর প্রদানে সততা, আন্তরিকতা ও স্বপ্রণোদনার স্বীকৃতিস্বরূপ কাউস মিয়াকে জাতীয় রাজস্ব খাতের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড সিআইপি মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা জেলার ‘কর বাহাদুর’ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। কর প্রদানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ধারাবাহিকভাবে ১৪ বার বিভিন্ন রাজস্ব পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

‘মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা করদাতার সম্মাননা’ পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হন কাউস মিয়া। বলেন, ‘আজকে আমি আনন্দিত। সবাইকে অনেক জানাচ্ছি। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাকে যে স্মরণ করছেন, সে জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। এনবিআরের চেয়ারম্যান এই মুজিবর্ষে আমাকে স্মরণ করেছেন এ জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

কাউস মিয়ার হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ‘মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা করদাতার সম্মাননা’। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যবসায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার স্মৃতি তুলে ধরে কাউস মিয়া জানালেন, তিনি এখনও অনেক ব্যবসায় জড়িত। অনেক ব্যবসা বাদও দিয়ে দিয়েছেন। প্রথম জীবনে করেছেন ৪০-৪২টা ব্যবসা।

‘আমার বাড়িঘর ও অনেক সম্পদ আছে। আমি সাতজন জমিদারের নাতি, আমার নানারা সাত ভাই ছিল। আজকেও এখন সব সম্পত্তি আমার কাছে আছে, সবাইকে বলছি আমাদের জায়গা সম্পদ তোমরা নিয়ে নাও। আমার ছেলে সন্তানদের নামে জায়গা আছে। ঢাকা শহরে আমার বড় জায়গা আছে। আল্লাহই দিছে, ব্যবসা করেই করছি।’

কাউস মিয়া জানালেন, তিনি নিজে বা পূর্ব বংশের কেউ কখনও ব্যাংক থেকে ঋণ নেননি। অনীহা রয়েছে রাজনীতিতেও।

‘ব্যাংক থেকে আমার পূর্ব বংশেও কেউ ঋণ নেয়নি, আমিও নেইনি। আমার পূর্ব বংশের কেউ রাজনীতি করেননি, আমিও করি না। ছেলেকেও করতে দেই না।

‘আমার ছেলের বংশ থেইক্যা কেউ সরকারি চাকরি করেন নাই। আমার বাবার কথা হইল রাজনীতিতে যাইবা না। নিজে খাবা গরিবরে দিবা। এইটাই তোমাদের সম্পদ।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিম জানান, সবাইকে একবাক্যে স্বীকার করতে হবে যে, মুজিববর্ষে জাতীয় পর্যায়ে সেরা করদাতা হিসেবে কাউস মিয়াকে নির্বাচন করাটা যথার্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কর প্রদান একটি আইনি নির্দেশ, রাষ্ট্রের তরফ থেকে বাধ্য করার একটি বিষয়। তবে আজীবন কাউস মিয়া কর প্রদানকে দায়িত্ববোধ হিসেবে নিয়েছেন। কর প্রদান করাটিকে আনন্দ হিসেবে নিয়েছেন। এটি একটি রাষ্ট্রীয় বিরল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

‘উনার (কাউস মিয়া) এই কর প্রদানের প্রতি আগ্রহ, ভালোবাসা দেখে আমাদের মনে হয়েছে যে, তিনি এই সম্মাননা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

গাড়ি আমদানির জট খুলছে মোংলা বন্দরে

গাড়ি আমদানির জট খুলছে মোংলা বন্দরে

গত চার মাসে নিলামে ওঠে পাঁচ শতাধিক গাড়ি। এর মধ্যে ৯৯টি ছাড় করতে পেরেছেন ক্রেতারা। আটকে থাকা গাড়িগুলোর দ্রুত খালাসের বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সমাধান হলে নিলামে আগ্রহ বাড়ে ক্রেতাদের।

মোংলা বন্দরে গাড়ির জট খুলতে শুরু করেছে। নিলামের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোংলা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা গাড়িগুলো নিলামে তোলায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছাড় করে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই জট কমেছে।

গত চার মাসে নিলামে ওঠে পাঁচ শতাধিক গাড়ি। এর মধ্যে ৯৯টি ছাড় করতে পেরেছেন ক্রেতারা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মোংলা কাস্টম হাউজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মামলার কারণে খালাস কার্যক্রম ব্যহত হয়। ফলে বন্দর শেড ও ইয়ার্ডে গাড়ির জট লাগে।

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা গাড়ি বন্দরে পৌঁছার ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করিয়ে না নিলে সেগুলো নিলামে চলে যায়। বিক্রির জন্য কাস্টম কর্তৃপক্ষ গাড়ি নিলামে তোলে।

তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মামলার কারণে নিলাম প্রক্রিয়ায় ক্রেতাদের সাড়া মেলেনি।

আটকে থাকা গাড়িগুলোর দ্রুত খালাসের বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সমাধান হলে নিলামে আগ্রহ বাড়ে ক্রেতাদের।

একই সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তাদের গাড়ি ছাড় করায় আগ্রহ দেখানোর ফলে মোংলা বন্দরে গাড়ির জট আস্তে আস্তে খুলেছ। তবে প্রচুর গাড়ি পড়ে রয়েছে এখনও।

সরেজমিনে বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, শুল্ক জটিলতার কারণে শেড ও ইয়ার্ডে খালাসের অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে টয়োটা, নিশান, নোয়া, এক্সজিও, প্রোবক্স, প্রিমিও, লেক্রাস, পাজেরো, পিকআপ, এলিয়ান ও মার্সিডিজসহ অসংখ্য গাড়ি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোংলা বন্দর দিয়ে কয়েক হাজার গাড়ি আমদানি হয়েছে।

বর্তমানে বন্দরের শেড ও ইয়ার্ডে ২ হাজার ৬৪৩টি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬১টি গাড়ি ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আমদানিকৃত। এগুলো নিলামযোগ্য।

মোংলা কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. হোসেন আহমেদ নিউজ বাংলাকে বলেন, আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস করা হচ্ছে।

অনেক পুরাতন গাড়ি আছে, যেগুলো আমদানিযোগ্য ছিল না। এসব গাড়ির বিষয়ে সরাসরি দেখছে এনবিআর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমতি দিলে গাড়িগুলো নিলামে ওঠানো যেতে পারে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছয় মাস আগেও বন্দরে অনেক গাড়ি ছিল। যে কারণে জট লাগে। বারভিডার সঙ্গে আলোচনা ও এনবিআরের নির্দেশনা মেনে চলায় জট আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা বাকি গাড়িগুলো একযেগে নিলামে বিক্রি হবে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে আলোচনা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ক্লিয়ারেন্স পারমিটের কারণে যে সব গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, সেগুলোর বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লিলিয়ারেন্স পারমিট পেলে দ্রুত নিলামে বিক্রি করতে পারব।‘

করোনার কারণে গাড়ি আমদানি কমলেও রাজস্ব আদায়ে তেমর প্রভাব পড়ে নি বলে জানান তিনি।

চলতি অর্থবছরে বছর মোংলা কাস্টম হাউজ ৫ হাজার ২৬৬কোটি টাকা রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২ হাজার ৭শ কোটি টাকা।

অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে আদায় আরও বাড়বে বলে জানান কাস্টম কমিশনার হোসেন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

সামনে এগিয়ে যেতে পরিকল্পনা এখনই

সামনে এগিয়ে যেতে পরিকল্পনা এখনই

নিয়ম অনুযায়ী সিডিপির স্বীকৃতি অর্জনের পর তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু আমরা ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় পাচ্ছি। বাড়তি সময় আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। প্রস্তুতি পর্বে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশকে যে স্বীকৃতি দিয়েছে সেটা সম্মানের।

এই যোগ্যতা অর্জন যে সম্মানের সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে উত্তরণের পর আমাদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। এ জন্য পণ্যের উৎপাদন খরচ, বৈচিত্র্যকরণ, দক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে বিশ্বমানের শিল্প-কারখানা তৈরি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে।

পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। দক্ষ শ্রমিক, অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা গেলেই এটি করা সম্ভব।

এ অর্জনের সম্ভাবনা হচ্ছে দেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হবে। আমাদের যখন কোনো ঋণের জন্য গ্যারান্টি প্রয়োজন হবে তখন বাড়তি সুবিধা দেবে।

জাতি হিসাবে আমরা যে সক্ষম জাতি সেটা অনেকবার প্রমাণ হয়েছে। দুর্যোগ, মহামারি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন আছে।

সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এখন সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে পরিকল্পনা প্রয়োজন এখনই। এই পরিকল্পনায়, কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তার বিস্তারিত রোডম্যাপ থাকতে হবে।

শিল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে এটি নিয়ে কাজ করছে। গ্যাসের সমস্যা ছিল। সেটি সরকার এলপিজি (তরল গ্যাস) দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। এটি ভালো দিক।

এ ছাড়া শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের যে সমস্যা ছিল তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশে যোগ্যতা অর্জন এখন শুধু উদ্যোগ নিলেই এগিয়ে যেতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী সিডিপির স্বীকৃতি অর্জনের পর তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু আমরা ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় পাচ্ছি। বাড়তি সময় আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। প্রস্তুতি পর্বে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সেটা সরকার নির্ধারণ করবে। তবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাড়তি সুবিধা দেবে। সরকার এই পরিকল্পনা কীভাবে, কাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করবে সেটি নির্ধারণ করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে বাড়তি বিনিয়োগ পাব এটা প্রত্যাশা করা যায়। কিন্তু কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসে, তাকে যদি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে এ অর্জন বিনিয়োগের বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

এ জন্য বিনিয়োগের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। বর্তমানের সমস্যাগুলো থেকে গেলে প্রথম দিকে বিনিয়োগ আসলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ী হবে না। তাই, প্রস্তুতিপর্বে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে যেতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করায় এখন চাইলেই এ সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে স্বল্প সুদে ঋণ, দাতা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সহায়তা, কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। ফলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।

যেসব দেশের বাণিজ্যসুবিধা হারাব সেসব দেশের সঙ্গে এখনই আলোচনা করতে হবে। তাদের সঙ্গে প্রয়োজনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিসহ বাণিজ্যসুবিধা পাওয়া যাবে, এমন বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে।

এখন যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে দক্ষ শ্রমিক। দক্ষ শ্রমিক ছাড়া কোনোভাবেই উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব না। আমাদের দেশে গার্মেন্টসে প্রচুর শ্রমিক আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে দক্ষ শ্রমিক নেই বললেই চলে। দক্ষ শ্রমিকের জন্য বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে এখনও।

মীর নাসির হোসেন, সাবেক সভাপতি এফবিসিসিআই

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, সাখাওয়াত হোসেন সুমন

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ২১ মামলার তদন্তে সময় আড়াই মাস

বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ২১ মামলার তদন্তে সময় আড়াই মাস

আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট ২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় ৫৬ মামলার মধ্যে ২১ মামলার তদন্ত আড়াই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এসডি সার্ভে ফার্মের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালত বলেছে, এ সময়ের মধ্যে দুদক তদন্ত শেষ করতে না পারলে আসামি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া যদি জামিন আবেদন করেন তাহলে বিচারিক আদালত জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

নির্দেশনায় আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া-সংশ্লিষ্ট ২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, এ কে এম ফজলুল হক ও শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ১৯৬ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আসামি ইকবালের বিরুদ্ধে। তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা ২১টি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

ইকবালের আইনজীবী মমতাজ পারভীন বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারার ৫ উপধারা অনুযায়ী যেকোনো মামলায় ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিতে হয়। দায়রা জজ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সে মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এই মামলাগুলোর তদন্ত সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দুই হাজার দিনের বেশি হয়ে গেছে। তারপরও তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এসব যুক্তি তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়েছিল।

‘আদালত জামিন প্রশ্নে যে রুল জারি করেছিল তা নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে জুন-জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন থানায় ২১টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ১৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ এসব মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে চিঠি দেয় দুদক। এরপর সে হাজির না হয়ে ওই বছরের ৬ মে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি।

আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১৮ জুন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার আগাম জামিন বহাল রাখে।

পরে ১৪ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে ফের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তবে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এরপর থেকে কারাগারেই আছেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া।

গত বছর মার্চে হাইকোর্টে একটি মামলায় জামিন আবেদন করেন তিনি। তখন ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে রুল জারি করে। পরে বাকি ২০ মামলায় বিভিন্ন সময় বিচারিক আদালতে তিনি জামিন চাইলে সেসব আবেদন খারিজ হয়।

বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট ইকবালকে একটি মামলায় জামিন দেয়। বাকি ২০ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদেশ দিল হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

মহামারিতেও সঞ্চয়পত্রে জোয়ার

মহামারিতেও সঞ্চয়পত্রে জোয়ার

ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কিনতে গ্রাহকদের ভিড়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ লক্ষ্য ধরা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই থেকে জানুয়ারি এই সাত মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৭০২ কোটি টাকা।

ব্যাংকে সুদের হার কমছেই, এই পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েই চলছে। মহামারিকালে নিশ্চিত মুনাফা হাতছাড়া করতে চাইছে না মানুষ।

চলতি অর্থবছরে সরকার এই খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল, বছরের সাত মাসেই তার চেয়ে ৫ হাজার ৭০২ কোটি টাকা বেশি ঋণ হয়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ লক্ষ্য ধরা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই থেকে জানুয়ারি এই সাত মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৭০২ কোটি টাকা।

এই সাত মাসে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকার। আর মানুষ ভেঙেছে ৩৯ হাজার ৯১৮ কোটি টাকার।

আর সুদ হিসেবে সরকার পরিশোধ করেছে ১৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া ঋণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি।

গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকার।

কোন মাসে কোন সঞ্চয়পত্র বিক্রি

গত সাত মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র যার অংক ১৩ হাজার ৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২৭৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।

আগস্টে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ৪ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।

আর অক্টোবরে আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। ওই মাসে বিক্রি হয় ৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

নভেম্বরেও বিক্রির পরিমাণ কম হয় আগের মাসের তুলনায়। ওই মাসে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।

ডিসেম্বরে আরও কমে হয় ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। তবে জানুয়ারিতে বিক্রি হয় চলতি অর্থবছরের সবচেয়ে বেশি যা ডিসেম্বরের সাড়ে তিন গুণের মতো।

সঞ্চয়পত্রে আগ্রহ বেশি যে কারণে

ব্যাংকগুলোতে এখন সর্বোচ্চ সুদ হার ছয় শতাংশ। তবে ভল্ট উপচে পড়ার কারণে এখন টাকা নিতে খুব একটা আগ্রহী নয় ব্যাংক। বড় অংক আর দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় না হলে তিন থেকে চার শতাংশের বেশি সুদ দিতে চাইছে না তারা।

ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আরও বেশি লাভজনক হতে পারে। তবে সেখানে ঝুঁকিও ব্যাপক। এটিও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে চলার এক কারণ।

মূলত চার ধরনের সঞ্চয়পত্র সাধারণ মানুষ কেনে, যার সর্বনিম্ন সুদ হার ১১.০৪ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ ১১.৭৬ শতাংশ।

একক মাস হিসেবে শুধু জানুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

অথচ গত বছরের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর দুই এক মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয়পত্র ভেঙেছিল মানুষ। কিন্তু জুলাই থেকেই পরিস্থিতি পালটে যায়।

সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ করতে চায় না। এ জন্য নানা কড়াকড়িও আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। এ কারণে বিক্রি বেড়েই চলেছে, যদিও এটি বছর শেষে সরকারি কোষাগারে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রেখে এখন তেমন মুনাফা মিলছে না। সেক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র নিরাপদ। এই মাধ্যমে মুনাফা বেশি, পাশাপাশি অর্থের সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ হলে, সরকারের সুদ দায় বাড়ে। কারণ এখানে সুদ ১০ ভাগের বেশি।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য সব ক্ষেত্রে সুদের হার কমে গেছে। আগে ব্যাংকে আমানত রাখলে ৭ বা ৮ শতাংশ সুদ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেটা ৫ শতাংশে নেমে গেছে। এজন্য নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষ ঝুঁকছে। এখানে ১১ বা তার চেয়ে বেশি সুদ দেয়া হয়।’

বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে চায় সরকার

বিপুল পরিমাণ সুদ দিতে হয় বলে সরকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে নানাভাবে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকাকালে তিনি সুদ কমানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে নিজ দলের তীব্র আপত্তির মুখে সে প্রস্তাব থেকে সরে আসেন।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় বহু নেতার বক্তব্য ছিল, অবসরে যাওয়া বা সাধারণ প্রান্তিক মানুষ যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন না, তারা টাকা রেখে মুনাফা দিয়ে সংসার চালান। তাদের জন্য সরকার বাড়তি সুদ দিলে সেটাকে সেবা হিসেবেই ধরা যায়।

এরপর বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সরকার বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করে দেয়। এখন একক নামে ৫০ লাখ টাকা আর যৌথ নামে এক কোটি টাকার বেশি কেনা যাচ্ছে না।

আবার মুনাফার উপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্তও আরোপ করা হয়েছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় কমেছে ব্যাংক ঋণ

চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি আর সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে।

এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ব্যাংকমুখী হচ্ছে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে।

এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ করেনি সরকার। উলটো আগের নেওয়া ঋণের প্রায় ৩১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা শোধ করেছে।

এতে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। অথচ এ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্টো চিত্র
এবার বেশি দর হারানো ২০ কোম্পানিই বিমার
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নিলামের দিন নির্ধারণ
পুঁজিবাজারে কারসাজি: জরিমানা পৌনে পাঁচ কোটি
বিমা খাত: সেই চিঠি নিয়ে যা বলল আইডিআরএ

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg