ব্যাংকের শেয়ারে ফিরছে বিনিয়োগকারীরা

ব্যাংকের শেয়ারে ফিরছে বিনিয়োগকারীরা

গত পাঁচ বছরের লভ্যাংশ ঘোষণার ইতিহাস ঘেঁটে নিউজবাংলা দেখেছে, শেয়ার মূল্যের তুলনায় কেবল নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে কোনো সঞ্চয়ী স্কিমের চেয়ে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পেয়েছেন অন্তত ১০টি ব্যাংক থেকে।

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক উত্থানের মধ্যে নড়চড় না থাকা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই টানা দুই দিন বাড়ল ব্যাংকের শেয়ার।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংকের শেয়ার দর এখন এক বছরের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য অন্য শেয়ারের তুলনা করলে ব্যাংকের শেয়ারের দর এখনও অনেক কম। গত এক বছরে বাজারের মূল্য সূচক বেড়েছে এক হাজার আটশ পয়েন্ট। বহু কোম্পানির শেয়ার দর দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি চার গুণ হয়েছে।

সে হিসাবে ব্যাংকের শেয়ার দর বছরের সর্বোচ্চ দামে উঠলেও সেগুলো আসলে এখনও তলানিতেই বলা যায়।

এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে দর কমে একটির, দুটির দর অপরিবর্তিত থাকে, আর দাম বাড়ে ২৭টির।

পরের কার্যদিবস রোববার ৩০টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমে তিনটির, অপরিবর্তিত থাকে তিনটির, বাড়ে বাকি ২৪টির। সূচক পতনের এই দিন সবচেয়ে বেশি দাম বাড়া ১০টি কোম্পানির পাঁচটি ব্যাংক।

আরও পড়ুন: এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

টানা ‍দুই দিন এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণে বেড়েছে সিটি ব্যাংকের দর।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, মোট লেনদেনে ব্যাংকের হিস্যা দেখেও।

রোববার মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা, যার ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ অবদান ছিল ব্যাংক খাতের। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার যা ছিল ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

টানা দুই দিন বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার

বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্য’ এর সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১০ সালের পর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের দর কমেছে। তারপর থেকে খুব কম সময়ের জন্য এ খাত থেকে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পেয়েছেন। মূলত মুনাফা না থাকায় আগ্রহ হারিয়েছে বিনিয়োগাকরীরা। তারা মুনাফা পেলে আবার ফিরবেন।’

তবে ব্যাংক খাতে মুনাফা কম হয়, লভ্যাংশের ইতিহাস এটা বলে না।

গত পাঁচ বছরের লভ্যাংশ ঘোষণার ইতিহাস ঘেঁটে নিউজবাংলা দেখেছে, শেয়ার মূল্যের তুলনায় কেবল নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে কোনো সঞ্চয়ী স্কিমের চেয়ে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পেয়েছেন অন্তত ১০টি ব্যাংক থেকে।

বর্তমানে এফডিআরের মুনাফা ছয় থেকে সাত শতাংশে নেমেছে, তার শেয়ার দরের সঙ্গে তুলনা করে নগদ মুনাফার যে ইল্ড, তা ১৬ শতাংশও দিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক।

তার পরেও গত পাঁচ বছরে টানা ভালো মুনাফা দিয়ে এসেছে, এমন ১৫টির মতো ব্যাংকের দরও ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। ১০ টাকার নিচেও আছে কয়েকটি ব্যাংক যেগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির অর্থাৎ বছরে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে মুনাফা দিয়ে থাকে।

বেশ ভালো মুনাফা দেয়া হলেও ২০১০ সালে ধসের পর থেকে এই শেয়ারগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর শেয়ার সংখ্যা বিপুল পরিমাণ ও চাহিদা কম থাকায় দাম পড়তে থাকে।

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ মনে করেন, গত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ে যে নানা ঘটনা এসেছে গণমাধ্যমে তাতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন।

তবে এই বিশ্লেষক এও মনে করেন, ব্যাংক খাতের বহু কোম্পানির শেয়ার দর অবমূল্যায়িত। অর্থাৎ যত দাম থাকা উচিত, তার চেয়ে কমে লেনদেন হচ্ছে।

বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি

২০২০ সালে এবি ব্যাংকের শেয়ারের দর ছিল ১৩.৮০ টাকা, যা গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর। বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৩.৫০ টাকায়।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ২৩.১০ টাকায়। গত এক বছরে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২৪ টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান শেয়ার দর ১৮ টাকা, যা গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি। এক বছর আগে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৮.৯০ টাকা।

ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান শেয়ার দর ৫১.১০ টাকা। এক বছরে ব্যাংকের সর্বনিম্ম দর ছিল ২৭.২০ টাকা, আর সর্বোচ্চ দর ছিল ৫২.৫০ টাকা।

সিটি ব্যাংকের বর্তমান শেয়ার দর ৩৩.৪০ টাকা, যা গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি। এক বছর বা ৫২ সপ্তাহে ব্যাংকের সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৩৩.৫০ টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের গত এক বছরে সর্বোচ্চ দর ছিল ১৪ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১২.৯০ টাকায়।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ৭০.২০ টাকায়।

তবে অন্য শেয়ারের তুলনা করলে ব্যাংকের শেয়ারের দর এখনও অনেক কম।

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৩.১০ টাকায়, যা গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি। এক বছরে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৩.৬০ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের গত এক বছরে সর্বোচ্চ দর ছিল ১১.৩০ টাকা। বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১১ টাকায়।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান শেয়ার দর ৪.৬০ টাকা। কিন্ত এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৫.২০ টাকায়।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৬ টাকায়, যা গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর থেকে মাত্র ৮০ পয়সা পিছিয়ে আছে। এক বছরে আগে ব্যাংকের সর্বোচ্চ দর ছিল ১৬.৮০ টাকা।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ৩০.৮০ টাকায়। আর এক বছর আগে এ ব্যাংকের শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩২ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ১৯.৭০ টাকায়, যা এক বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি। ব্যাংকেটির গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল ২০.২০ টাকা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার ১৩.৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে, যেখানে ব্যাংকটির এক বছরের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১৪.২০ টাকা।

সাউথ ইস্ট ব্যাংকের বর্তমান শেয়ার দর ১৩.৩০ টাকা। ব্যাংকের গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল ১৪.৮০ টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারের দর আর ১০ পয়সা বাড়লে পৌছে যাবে গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরে। বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ৯.৬০ টাকায়, যেখানে এক বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল ৯.৭০ টাকা।

এক বছরের সর্বোচ্চ দরে পৌছাতে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়তে হবে মাত্র ৬০ পয়সা। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৪.৪০ টাকা, আর এক বছরের সর্বোচ্চ দর ১৫ টাকা।

একইভাবে আর ৫০ পয়সা বাড়লে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের দরও পৌঁছে যাবে এক বছরের সর্বোচ্চ দরে। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১১.৭০ টাকায়, আর এক বছরের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১২.২০ টাকা।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংক কর্মীদের যাতায়াত-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে

ব্যাংক কর্মীদের যাতায়াত-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে

প্রত্যেক ব্যাংকে কর্মীদের নিজস্ব পরিবহনে আনা-নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যাতায়াতব্যবস্থা না করতে পারলে কর্মীদের যাতায়াত ভাতা প্রদানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে ব্যাংক কর্মীদের যাতায়াত-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রত্যেক ব্যাংকে কর্মীদের নিজস্ব পরিবহনে আনা-নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কোনো ব্যাংক যাতায়াত-ব্যবস্থা না করতে পারলে কর্মীদের যাতায়াত ভাতা প্রদানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

এ সার্কুলার সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১২ এপ্রিল করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সেটি এখানেও বহাল থাকবে।

ওই বিধিনিষেধ ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা স্ব-স্ব ব্যাংক করার কথা থাকলেও অধিকাংশ ব্যাংক সেটা পরিপালন করেনি।

বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

রূপালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাদল মিয়া বলেন, ‘চলমান বিধিনিষেধে কোনো যানবহনের ব্যবস্থা না থাকায় অফিসে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এভাবে আর কয়েক দিন চলতে থাকলে বেতনের বড় অংশ যাতায়াতেই খরচ হয়ে যাবে।

‘প্রধান কার্যালয়ে কর্মরতদের যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও শাখা পর্যায়ে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।’

অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘লকডাউনে ব্যাংকের শাখা খোলা; সেটা সমস্যা না। তারা সেবা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু লকডাউনে জরুরি সেবাদানকারী ব্যাংকারদের সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধা হিসেবে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।’

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ঠিকমতো রিকশা পাওয়া যায় না।

‘রিকশা পাওয়া গেলেও পুলিশের বাধায় আর রিকশা নিয়ে আসা যায় না। আবার রিকশার সংখ্যা কম থাকায় ভাড়াও অনেক বেশি।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই কিলোমিটারে একটি ও জেলার প্রধান শাখা সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি শাখা রবি, মঙ্গল বৃহস্পতিবার খোলা থাকছে।

সবশেষ সার্কুলারে বলা হয়, ‘১৩ এপ্রিল জারিকৃত সার্কুলারে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্ব-স্ব অফিসে আনা-নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, সরকারঘোষিত বিধি-নিষেধ চলাকালে ব্যাংক সকল ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

‘সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ব্যাংকে আসা-যাওয়ার জন্য গণপরিবহনের অপ্রতুলতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীরা অধিক ব্যয় ও ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। যাতায়াত সমস্যা নিরসনে ব্যাংক তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব পরিবহনসুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হলো।’

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ‘কোনো কারণে যাতায়াত-সুবিধা নিশ্চিত করতে অসমর্থ/ব্যর্থ হলে ব্যাংকে আসা-যাওয়ার জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকারি বিধিনিষেধ চলাকালে যাতায়াত ভাড়ার প্রকৃত ব্যয় অধিক বিধায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যৌক্তিক হারে ব্যবস্থা যাতায়াত ভাতা প্রদান করবে। ব্যয়ের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে স্ব-স্ব ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের কার্যোত্তর অনুমোদন গ্রহণ করবে।’

এ নির্দেশনা ১৪ এপ্রিল থেকে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ চলাকালে প্রযোজ্য থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সময়সীমা প্রাথমিকভাবে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল এবং পরবর্তী সময়ে ২১ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

এ সময় ব্যাংক লেনদেনে চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। আর আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে আড়াইটা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিমা-মিউচুয়াল ফান্ড

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিমা-মিউচুয়াল ফান্ড

বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে আড়াই ঘণ্টায় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ফাইল ছবি

তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধের প্রথম দিনে লেনদেনে এসেছে চমক। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় লেনদেন পৌঁছেছে হাজার কোটি টাকায়। এদিন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল তালিকাভুক্ত বিমা খাত ও মিউচুয়াল ফান্ড।  

সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের অষ্টম দিনে উত্থানে শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। করোনা পরিস্থিতিতে তৃতীয় পর্যায়ের চলমান বিধিনিষেধ নতুন করে বেড়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধের পুরো সময়টিতে সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধের প্রথম দিনে লেনদেনে এসেছে চমক। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় লেনদেন পৌঁছেছে হাজার কোটি টাকায়। এদিন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল তালিকাভুক্ত বিমা খাত ও মিউচুয়াল ফান্ড।

লেনদেন বেশি বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের

বৃহস্পতিবার লেনদেনে বিনেয়াগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে বরাবরেরর মতোই তালিকাভুক্ত বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ডে। ফলে এ দুই খাতের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। লেনদেনে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১১টির। দর পাল্টায়নি ২টির। আর লেনদেন হয়নি ১টির। বাকি ৩৬টির দর বেড়েছে।

এদিন লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে বিমা খাতের ছিল ৫টি। এর মধ্যে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এ ছাড়া তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমকি ৪৫ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ দর বেড়েছে।

এ ছাড়া ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির। দর কমেছে ৯টির। আর দর পাল্টায়নি ২টির।

গত সপ্তাহের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে পালাক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে তালিকাভুক্ত এই দুই খাত। গত বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছিল ৩৬টির। তারপর রোববার দর বাড়ে ১৩টির। মাঝে দুদিন নেতৃত্বে ছিল বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। তারপর আবারও বুধবার ওর বৃহস্পতিবার উত্থানে ফিরেছি মিউচুয়াল ফান্ড। সঙ্গে পাল্টা দিয়ে বেড়েছে বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারদর।

এ সময়ে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দিলেও তাতে খুব বেশি আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীদের। তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১০টির। দর পাল্টায়নি ১২টির আর দর কমছে ৯টির।

বাজার বিশ্লেষক

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, পুঁজিবাজার যেহেতু ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, সেহেতু এ সময়ে খারাপ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ারও সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা যেন দ্রুত মুনাফার লোভে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে।

তিনি বলেন, খারাপ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ে মূলত যাদের হাতে এসব শেয়ার আছে সেগুলো বিক্রি করার জন্য। সচরাচর দেখা যায়, এসব কোম্পানির শেয়ারদর একবার বাড়লে আর বাড়ে না। দীর্ঘ সময় পর আবার বাড়ে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এ সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগকরলে ঝুঁকি কম থাকবে।

সূচক ও লেনদেন

লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টায় পুঁজিবাজারের প্রধান সূচকে ছিল উত্থান-পতন। তারপর আর সূচকে পতন দেখা যায়নি। লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত ছিল উত্থানে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৪ দশমিক ০৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে।

এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১৩৫টির। দর পাল্টায়নি ৭৬টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৮৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭২৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ৯৫টির। দর পাল্টায়নি ৫১টির। লেনদেন হয়েছে মোট ৩৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ওলটপালট অর্থনীতি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলমান ধারা দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি নিম্নমুখী হবে। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোতেও নেতিবাচক ধারা নেমে আসবে। 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় আবার মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অনুমানের চেয়েও অনেক নেমে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকেরও উদ্বেগের শেষ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলমান ধারা দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি নিম্নমুখী হবে। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোতেও নেতিবাচক ধারা নেমে আসবে। আর এতে একদিকে যেমন করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাবে অর্থনীতিতে পড়া নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার কার্যক্রমে ভাটা পড়বে, তেমনি নতুন সংকট যোগ হয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেবে।

দেশের সার্বিক হালনাগাদ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব শঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, দ্বিতীয় ঢেউ দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির যে খারাপ অবস্থা হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এতে মানুষের আয় কমবে; কমবে ব্যয় করার সক্ষমতা। সবকিছু স্থবির থাকায় স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা ও উৎপাদন কমবে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় খুব বেশি কিছু করার আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ কারও কাছে নেই। তবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে টিকায় বেশি জোর দিতে হবে।’

আরেক অর্থনীতিবিদ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউয়ের কারণে অর্থনীতি খাদে পড়েছিল। সেখান থেকে আমরা প্রায় উঠে আসছিলাম। এর মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এতে অর্থনীতি আরও খাদে পড়েছে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, রমজান এবং ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে যে লেনদেন হতো, তাতে বিপর্যয় নেমে এলো।

‘এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি ৪-৫ শতাংশও হয়, সেটাও আমাদের জন্য বড় অর্জন হবে বলে আমি মনে করি।’

আহসান মনসুর বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কঠোর লকডাউন দিয়েছে। নিশ্চয়ই ভেতরে একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তা সবাইকে জানানো হয়নি। তবে ওই পরিকল্পনা অবশ্যই স্মার্ট, বাস্তবসম্মত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন প্রণোদনা দিতে শুরু করেছে সরকার। আমি এখানে পরিষ্কার করে একটি কথা বলতে চাই, প্রথম দফায় সোয়া লাখ কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কিন্তু সন্তোষজনক নয়।

‘এখন পর্যন্ত মোট প্রণোদনার অর্ধেকের মতো বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র। বড় বড় উদ্যোক্তারা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেলেও ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তেমন পায়নি। নতুন প্রণোদনার ক্ষেত্রে যেনো তেমন না হয়, সেটা খুব ভালো করে বিবেচনায় রাখতে হবে।’

‘অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্বার্থে চলমান নীতিসহায়তাগুলো অব্যাহত রাখা ও প্রণোদনা বাস্তবায়নে তদারকি আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মূল্যের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কায় গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে অর্থনীতির সূচকগুলোর অবস্থা বেশ তলানিতে পড়ে যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেও তা অব্যাহত থাকে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে তা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

করোনার আগে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ। এপ্রিল থেকে তা কমতে থাকে। এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে তা কমে নেতিবাচক পর্যায়ে ২০ শতাংশে নেমে যায়। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে তা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তবে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা আবার বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়ায়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে এই হারে আবার নিম্নগতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে বাণিজ্য খাতের ঋণ বেড়েছিল ১৩ শতাংশ। গত এপ্রিল থেকে জুনে তা কমে ৬ শতাংশে নেমে যায়। পরে তা বেড়ে আগের অবস্থানে উঠে আসে। এখন আবার কমতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে চাহিদা কমায় গত এপ্রিল ও মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমে গিয়েছিল। সেপ্টেম্বর থেকে চাহিদা কিছুটা বেড়েছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানোর কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।

জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ০২ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

সাত বছর পর ২০২০ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের ঘর অতিক্রম করে ৬ দশমিক ০২ শতাংশে ওঠে। নভেম্বরে অবশ্য সামান্য কমে তা ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে আসে।

পরের দুই মাস ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও এই সূচক নিম্নমুখী ছিল। ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বেসরকারি খাতে কর্মীদের বেতন সেবাখাতে সবচেয়ে কমেছে। গত আগস্ট পর্যন্ত কমে তা আবার বাড়তে শুরু করেছিল। নতুন করে তা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাবে আমদানি কমায় বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ কমে আসছিল। গত সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি বাড়তে থাকে। ফলে এখন আবার বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ (১১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) ডলারে উঠেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

তবে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড় হওয়ায় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বেড়েছে। আমদানি কমায় কমেছে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়। এতে চলতি হিসাবের ভারসাম্যের ঘাটতির পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে ঘাটতি ছিল ২১১ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি ডলার। শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি যেমন কমেছে, তেমনি এলসি খোলার হারও কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, এই অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মোট ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

সর্বশেষ মার্চ মাসে ৩০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের মার্চের চেয়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

এই তথ্য বলছে, মহামারির মধ্যেও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

মহামারিকালে বাংলাদেশের অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তারা ১৮ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের একই চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি।

এই নয় মাসে বিদেশি ঋণ সহয়তা বেড়েছে ১০ শতাংশের মতো।

শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী শিল্পপণ্য আমদানির পরিমাণ কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ২ শতাংশ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে এ খাতের ঊর্ধ্বগতি নিম্নমুখী হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

‘আর এতে বিনিয়োগে কমবে’ মন্তব্য করে আহসান মনসুর বলেন, ‘কোভিডের আগে থেকেই আমাদের বিনিয়োগের অবস্থা ভালো না। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ জিডিপির ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত অর্থবছরে এডিপি (সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়ন বেশ কম ছিল। চলতি অর্থবছরের নয় মাসের যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে অবস্থা আরও খারাপ। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়. বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখ পড়ছে।’

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্জিত হয় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

মহামারির মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কঠিন এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

গত ১২ এপ্রিল প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এবার ২ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

৩০ জুন শেষ হবে ২০২০-২১ অর্থবছর। এরই মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। মহামারির মধ্যে আরেকটি বাজেট তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রথা অনুযায়ী আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

করোনায় ছোট ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি

করোনায় ছোট ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি

প্রথম দফায় ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরু হলে দোকান খোলা রাখার দাবিতে নিউমার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করেন দোকানমালিক ও কর্মচারীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এক দিন দোকান বন্ধ থাকলেই ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। বৈশাখ, রমজান ও ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় মোট পুঁজি বিনিয়োগ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। লকডাউনের কারণে সব ব্যবসা এখন ধসের পথে।

পড়ালেখা শেষ করে প্রযুক্তি যন্ত্রাংশের ব্যবসায় দুই মাস ধরে যুক্ত আরিফ খান। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। কিন্তু লকডাউন এসে স্বপ্নভঙ্গের মতো অবস্থা। দোকান খোলা যাচ্ছে না। মানুষজনও নেই। এভাবে আর দুই সপ্তাহ চললে কঠিন সংকটে পড়তে হবে তাকে।

লকডাউনে রাজধানীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় নিয়োজিত লাখ লাখ ব্যবসায়ীর একই হাল। দোকানপাট বন্ধ থাকায় একদিকে বিপাকে মালিকেরা, অন্যদিকে কর্মচারীদেরও ত্রাহি অবস্থা।

প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, বিপণিবিতান। ফলে দোকানকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের বাড়ছে লোকসান। করোনাভাইরাস মহামারিতে এক বছর ধরেই ব্যবসায় মন্দা।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ৫ এপ্রিল থেকে চলাচলে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে ১৪ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফা এবং সবশেষে ২১ এপ্রিল থেকে তৃতীয় দফা লকডাউন আরোপ করা হয়। দোকানপাট, শপিং মল ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকায় পয়লা বৈশাখ, রোজাকেন্দ্রিক বাণিজ্য থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিপর্যয়

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি। প্রতি প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৪ জন কর্মচারী ধরা হলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২ কোটি ১৪ লাখ। বলা হচ্ছে, কর্মচারীদের এপ্রিলের বেতন মে মাসে দিতে হবে। আর ঈদের কারণে মের বেতন মে মাসেই দেয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ঈদ বোনাস।

দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, একজন কর্মচারীর ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা ধরলেও এপ্রিল-মে মাসের বেতন এবং বোনাস একসঙ্গে দিতে হবে। শতভাগ বোনাস ধরে হিসাব করলে একজনকেই পরিশোধ করতে হবে ৪৫ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে ২ কোটি ১৪ লাখ ব্যবসায়ীর এটা পরিশোধ করতে প্রয়োজন ৯৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

ব্যবসায় ক্ষতি কত?

এক দিন দোকান বন্ধ থাকলেই ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা। বৈশাখ, রমজান ও ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় মোট পুঁজি বিনিয়োগ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। লকডাউনের কারণে সব ব্যবসা এখন ধসের পথে। কারণ, এই বিনিয়োগের কোনো টাকাই এখন আর ফেরত আসবে না। পাইকারি ব্যবসা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলালউদ্দিন জানান, সাধারণ ছুটিতে কেনাবেচা বন্ধ থাকায় দোকানগুলোর দিনে ক্ষতি হচ্ছে মোট ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একেকটি দোকানে গড়ে দিনে বিক্রি ধরা হয় ২০ হাজার টাকা। আর এই বিক্রির ক্ষেত্রে লভ্যাংশ ধরা হয় ১০ শতাংশ। এতে দৈনিক লাভের ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৭৪ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

আত্মহত্যার হুমকি

লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকায় বাড়ছে দীর্ঘশ্বাস। গত বছর ব্যবসায় মন্দা প্রকট আকার ধারণ করে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এবারও যদি এমন হয়, তাহলে আর বাঁচার উপায় নেই। ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এত খারাপ অবস্থা যে আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতা হেলালউদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি প্রায় ১০০ ব্যবসায়ী বলেছে তারা আত্মহত্যা করবে, যদি ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে।’

এমন অবস্থায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিলে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

২৫-২৬ এপ্রিল দোকান খুলে দেয়ার ইঙ্গিত

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে লকডাউনের সময়সীমা। তবে এর আগেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন।

দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘লকডাউনে গার্মেন্টস, শিল্প-কারখানা, ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজার সবকিছু খোলা। কিন্তু দোকান কেন বন্ধ, সেটা বোধগম্য নয়। বড় ব্যবসায়ীদের সব খোলা আছে, কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সবকিছুই বন্ধ।’

তিনি বলেন, ‘২৫ এপ্রিল থেকে দোকান খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি।’

হেলাল উদ্দিন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাংকসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঋণ নিয়ে তারা বিনিয়োগ করেছেন। এখন খুললে আগের মতো ব্যবসা না হলেও কিছুটা তো ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ অথবা ২৬ এপ্রিল সীমিত পরিসরে সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করে দোকান খুলে দেয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দোকানপাট খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্মার্ট সুরক্ষা’ ব্যবস্থা পরিপালন করতে হবে।

নিউমার্কেট দোকানমালিক সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, দোকানপাট খুলে দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব ব্যবসায়ী ব্যর্থ হবে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে।

ঢাকা মহানগর দোকানমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু নিউজবাংলাকে বলেন, ব্যবসায়ীদের এখন আর কোনো উপায় নেই।

পেটে ভাত নেই। তাই যেকোনো সময় তারা রাস্তায় নামতে পারে। এত বড়সংখ্যাক মানুষকে বুঝিয়ে রাখা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, কঠোর তদারকির মাধ্যমে দোকানপাট খুলে দেয়া হোক। তা না হলে বিপর্যয় তৈরি হবে।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের

বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের

জাপানের মেইডা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার তায়েরো মাইদা, বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার জেনারেল ম্যানেজার কেনজি কানাজাওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। ছবি: নিউজবাংলা

মাইদা করপোরেশন জাপানের সিকান টানেল এবং টোকিও বে অ্যাকোয়া-লাইনের মতো বড় আকারের পাবলিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি, বিশাল বাজার ও প্রাণভরপুর তারুণ্যকে কাজে লাগাতে চায় জাপানি জায়ান্ট মাইদা করপোরেশন। জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দূতাবাস সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল জাপানের মেইডা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার তায়েরো মাইদা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার জেনারেল ম্যানেজার কেনজি কানাজাওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনার বিষয়ে দূতাবাসের কমার্স কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে লেবার কাউন্সিলরের সঙ্গে আলোচনা করেন।

মাইদা কর্পোরেশন জাপানের সিকান টানেল এবং টোকিও বে অ্যাকোয়া-লাইনের মতো বড় আকারের পাবলিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

মাইদা করপোরেশন জাপানের সবচেয়ে বড় নির্মাণ প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান। যা ১৯১৯ সাল থেকে সে দেশের অবকাঠামো ও প্রকৌশল খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত গভীর সমুদ্র বন্দর, পোতাশ্রয়, পাতালরেল, স্টেডিয়াম, রেললাইন, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ড্যাম, মহাসড়ক, টানেল, সেতু, বাণিজ্যিক ভবনের মতো বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণে তারা জাপানে অপ্রতিদ্বন্দ্বি।

জাপান ছাড়াও ইন্দো প্যাসেফিক অঞ্চল, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও চীনে তাদের ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এমকেকে করপোরেশন তাদেরই একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি।

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিটেইল শপ, ওয়ার হাউজের ব্যবসাও রয়েছে কোম্পানিটির।

তাদের উল্লেখযোগ্য নির্মাণের মধ্যে রয়েছে টাগুকুরা ড্যাম, এরিমাইন ড্যাম, সেইকন টানেল, টোকিও বে অ্যাকুয়া লাইন, ট্যানোজ সেন্ট্রাল টাওয়ার, ফুকুওকা ডোম বা স্টেডিয়াম, হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, কাপ সিউই মুন ব্রিজ হংকং ও টোকিও টাওয়ার।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা শিগগিরই: অর্থমন্ত্রী

দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা শিগগিরই: অর্থমন্ত্রী

৩৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন নগদ দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ টাকা ছাড়ের লক্ষ্যে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, রিকশাচালকসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ শিগগিরই নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে টাকা ছাড়ের লক্ষ্যে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অনৈতিক বিষয়ক ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে কায়িক পরিশ্রম করা দিনমজুর মানুষ। লকডাউনে তাদের আয়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ কারণে বিশাল এ জনগোষ্ঠীর ৩৫ লাখ পরিবারকে এককালীন নগদ দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সুবিধাভোগীদের কাছে নগদ টাকা সরাসরি পৌঁছানো হবে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

করোনার কারণে দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যাওয়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্হা নেয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে গরিব থেকে বের করে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য। তাদের সুরক্ষায় আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ অগাধিকার দেয়া হবে।’

করোনার কারণে নতুন করে কতজন দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে এসেছে সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে গবেষণার তথ্য জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অচিরেই এই তথ্য প্রকাশ করা হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ৩৫ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে বিতরণ করলে সরকারের বাড়তি প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লাগবে। চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে এ টাকা ছাড় করা হবে।

এর আগে করোনার প্রথম দফায় গত বছরের এপ্রিলে দুই কোটি পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার কোটি টাকা করে দেয়া হয়। তাতে খরচ হয় মোট তিন হাজার কোটি টাকা। প্রথম দিকে এ টাকা বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তালিকা সংশোধন করা হয়।

অর্থনৈতিক বিষয়ক ও ক্রয় কমিটির বৈঠকে বুধবারের মোট আটটি দর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন

কালো টাকার ‘জাদু’ করোনার অর্থনীতিতে

কালো টাকার ‘জাদু’ করোনার অর্থনীতিতে

অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ব্যাপক সুযোগ দেন। এ সুযোগের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শুধু আবাসন ও পুঁজিবাজারই নয়, ব্যাংকসহ অন্য সব খাতেও গতির সঞ্চার হয়েছে।

করোনার বছরে এসে ঝাঁকে ঝাঁকে কালো টাকা রূপ বদলে সাদা হতে শুরু করেছে। এতে প্রকাশ্য হচ্ছে ব্যক্তির দীর্ঘ বছরের পুঞ্জীভূত অপ্রদর্শিত অর্থ, যা ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে অর্থনীতির মূলস্রোতে।

এভাবে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থের ধাক্কায় বছরজুড়ে করোনায় দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতির পালেও লেগেছে উত্তরণের হাওয়া। গতি ফিরছে আবাসন খাতে। আমানত বাড়ছে ব্যাংকে। এর পাশাপাশি কালো টাকার প্রবাহে এক দশক ধরে তলানিতে পড়ে থাকা শেয়ারবাজারও তার গতি ফিরে পেতে শুরু করেছে।

ব্যক্তির উপার্জিত আয়ের যে অংশ তার আয়কর বিবরণীতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় থাকে, সেটাই অর্থনীতিতে কালো টাকা হিসেবে গণ্য। সমাজে ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, আমলা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ; উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এমনকি করযোগ্য নিম্ন মধ্যবিত্তদেরও নানা পরিমাণে অর্থ অপ্রদর্শিত থাকে।

তবে সমস্যা এর স্বাভাবিক লেনদেন বা বিনিয়োগে। ব্যাংকে রাখাতেও ভয় থাকে এই অপ্রদর্শিত অর্থের। কেউ রাখলেও সেখানে বেনামি হিসাবের প্রবণতাই বেশি। এতেও সংশয় রয়েছে সম্পর্কের টানাপোড়েনে। ফলে প্রায়শ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই কালো টাকা গড়ায় না শিল্প-কারখানা বা অন্য কোনো খাতের বিনিয়োগে। যে কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই টাকা অপচয় হয়, ব্যয় হয় ব্যক্তি কিংবা পরিবারের সদস্যদের বেহিসাবি ভোগ-বিলাসে। বাকি অর্থের জায়গা হয় বাড়ির অন্দর মহলে, সিন্দুকে, খাটের নিচে বিশেষ ড্রয়ার কিংবা দেয়াল কেটে বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি সুরক্ষিত কোনো স্থানে।

দেরি হলেও কালো টাকা এভাবে লুকিয়ে রাখায় এখন ছেদ পড়ছে। সরকারের এক ঘোষণায় কালো টাকার মালিকরাও যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। এখন তারা নির্ভয়ে বের করে আনছেন এই অপ্রদর্শিত অর্থ, যা আইনি কৌশলের সুযোগে রূপ বদলে সাদায় রূপান্তরিত হচ্ছে। দিনদিন কালো টাকা সাদা হওয়ার প্রবাহও বাড়ছে।

করোনায় বিধ্বস্ত অর্থনীতি সচল করতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ব্যাপক সুযোগ দেন।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি টাইম রিকয়্যারস এক্সট্রা অর্ডিনারি মেজারস’ - অর্থাৎ বিশেষ সময়ে বিশেষ উদ্যোগের দরকার। এই উদ্যোগের আওতায় মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বা ফ্ল্যাট ও জমি কিনে নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ সাদা করা যাবে। এভাবে অবৈধ আয় বৈধ, অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব বাড়বে।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর এই আশাবাদের বাস্তব প্রতিফলনও ঘটেছে দেশের অর্থনীতিতে। কালো টাকা সাদা হয়ে এখন অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এ সুযোগের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শুধু আবাসন ও পুঁজিবাজারই নয়, ব্যাংকসহ অন্য সব খাতেও গতির সঞ্চার হয়েছে।

গত কয়েক বছরের মন্দায় আবাসন খাত ছিল বিপর্যস্ত। এখন তা চাঙা। কালো টাকা প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় প্লট, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনার চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ খাতের উদ্যোক্তার সক্ষমতা বেড়েছে।

চাকুরিচ্যুতদের পুনরায় কাজে ফেরার সুযোগ যেমন হচ্ছে, কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। আবার এসব কিছুর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব সক্ষমতাও বেড়েছে, যা দেশের জনকল্যাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন পদক্ষেপেও সরকারকে সাহস যোগাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর ছিল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার আয়কর বিবরণী জমার শেষ দিন। ওই দিনের হিসাব শেষে এনবিআর জানায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে রাখা সুবিধা অনুযায়ী জুলাই-ডিসেম্বর এই ছয় মাসে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন ৭ হাজার ৪৪৫ জন করদাতা। তারা এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা সাদা করেছেন, যা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সরকার এ প্রক্রিয়া থেকে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৯৪০ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সেনাবাহিনীসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা সাদা করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

আওয়ামী লীগের আগের দুই মেয়াদে যথাক্রমে ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা এবং ৪ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল।

কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অফিশিয়ালি টাকাগুলো আসাতে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই টাকাগুলো অর্থনীতির মূল স্রোতে আসায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হবে এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

এতে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই টাকা আরও সাদা হোক।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে কিছু কালো টাকা আছে। এ টাকা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নানা অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার হচ্ছে, আবার পাচার হয়ে বাইরেও চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এখন চলতি বাজেটে কম কর দিয়ে প্রশ্নহীনভাবে টাকা সাদা করার সুযোগ থাকায় একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কালো টাকা খুব অল্প সময়ের ভেতরে সাদা হয়েছে। অর্থবছরের আরও ছয় মাস বাকি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সেখানেও একটা বড় অঙ্কের কালো টাকা সাদা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকার রূপ বদলের এই প্রক্রিয়া সাময়িক সময়ের জন্য বা নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে এবং সেটা ঠিক আছে। কারণ এ ধরনের উদ্যোগ অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য বাড়াতে টনিক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বেশি দিন চলতে দিলে অর্থনীতির জন্য তা হবে আত্মঘাতী। কারণ এটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর এবং আইনের দৃষ্টিতেও অনৈতিক।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আগেও বিভিন্ন সময় দেয়া হয়েছে। কিন্তু তেমন সাড়া মেলেনি। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

করোনা পরিস্থিতিতে হুন্ডি প্রক্রিয়ায় শ্লথ হয়ে যাওয়া বা পাচারের রুটগুলোতে বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প হিসেবে সেই অর্থ আবাসন খাতে কিংবা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কেউ রেখেছে ব্যাংকেও।

তিনি বলেন, টাকা কালো কিংবা সাদা যে অবস্থাতেই থাকুক সেটি অর্থনীতির চলমান প্রবাহের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে থাকে। তাকে মূলস্রোতে আনার কথা বলে যে অনৈতিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তা অতি অন্যায্য। এর মাধ্যমে সৎ ও নিয়মিত করদাতার সঙ্গে চরম অন্যায় ও বৈষম্য করা হয়েছে।

এ এইচ মনসুর বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী লাভ দেখছেন। আর আমি দেখছি অর্থনীতির চরম ক্ষতি করা হয়েছে।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কালো টাকার মালিককে টাকা সাদা করতে মাত্র ১০ শতাংশ কর ধরা হয়েছে। সেখানেও টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না এনবিআর। এমনকি ওই আয় কোনো দুর্নীতির মাধ্যমে এসেছে না নিষিদ্ধ ও অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত হয়েছে, তা দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) খতিয়ে দেখবে না।

অন্যদিকে নিয়মিত ও সৎ করদাতাকে দিতে হবে ৩০ শতাংশ কর। মনসুর দাবি করেন, এই অসাম্যের নীতি ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশের কর ব্যবস্থা পুরোপুরি নষ্ট হবে এবং করদাতাকে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনে উৎসাহ জোগানো হবে, যার প্রথম প্রভাবটি পড়বে চলতি অর্থবছরেই।

সরকার রাজস্ব বাড়বে মনে করলেও নিয়মিতরা নিরুৎসাহিত হওয়ার দরুন দেখা যাবে অর্থবছর শেষে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাতেই হোঁচট খেতে হয়েছে।

চলমান অর্থনীতিতে এই কালো টাকার পরিমাণ কত তার সরকারি বা বেসরকারি সঠিক হিসাব নেই কারও কাছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন সংস্থার দেয়া হিসাবের গড় পর্যালোচনা থেকে ধারণা করছেন, দেশে বর্তমানে কালো টাকার পরিমাণ হবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি।

বিশ্বব্যাংকের ২০০৫ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০২-২০০৩ সালে কালো টাকার পরিমাণ ছিল মোট জিডিপির ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ২০১১ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, ২০১০ সালে কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপির ৬২ দশমিক ৭৫ ভাগ। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত গড়ে এই কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপির ৩৫ দশমিক ৬ ভাগ। আর ১৯৭৩ সালে ছিল জিডিপির মাত্র ৭ ভাগ।

আরও পড়ুন:
দেশের পুঁজিবাজারে আগ্রহী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ
আনুপাতিক হারে শেয়ার: সর্বোচ্চ আবেদন ৫০ হাজার
পুঁজিবাজার: প্রতিদিন ৪৫ মিনিট অ্যাপ বন্ধ
এফডিআরের চেয়ে ব্যাংকের শেয়ারে মুনাফা বেশি

শেয়ার করুন