বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বিমান-জাহাজ চায় পাকিস্তান

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বিমান-জাহাজ চায় পাকিস্তান

ডিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকসমূহে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘ফলে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অত্যন্ত আগ্রহী।’

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আকাশ ও নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দীকি।

বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ডিসিসিআই সভাপতি তাকে জানান, পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসার সব বিধিনিষেধ তুলে দেয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ অত্যন্ত আশাবাদী। বাংলাদেশের কৃষি ও সমুদ্র অর্থনীতি এ দুই খাতে দুই দেশের এক সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলারের।

সৌজন্য সাক্ষাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকসমূহে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ‘ফলে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অত্যন্ত আগ্রহী।’

দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি ‘যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন’ স্থাপন করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কমিশনের সর্বশেষ সভা হয় ২০০৫ সালে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার এ সময় বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয়ভাবে চালুর প্রস্তাব করেন।

একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন এবং করাচি ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহন কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর আহ্বান জানান তিনি।

পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসার সব বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ অত্যন্ত আশাবাদী বলে পাকিস্তানের হাইকমিশানরকে জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

এ সময় তিনি বলেন, ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ ২০২১-এর বিটুবি কার্যক্রমে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সংখ্যক উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু করতে চায়।

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে ডিসিসিআই প্রতিবছরই ‘বিজনেস ক্লেভ’ আয়োজন করবে। তিনি সার্কভুক্ত আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে উভয় দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আরও উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি ‘দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজওয়ান রাহমান।

তিনি বলেন, ‘ডিসিসিআই বিজনেস ইন্সটিটিউট (ডিবিআই) স্থানীয় বাজার ও উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে থাকে। পাকিস্তানের তরুণ উদ্যোক্তারাও এতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।

ডিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এন কে এ মবিন, সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন এবং পাকিস্তান দূতাবাসের কমার্শিয়াল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সুলেমান খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য