বিএসইসির চিঠির পর পুঁজিবাজারে বড় পতন

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দরপতন দেখল পুঁজিবাজার। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিএসইসির চিঠির পর পুঁজিবাজারে বড় পতন

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বলেছি, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া যেগুলোর দাম বেড়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তবে এটি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়মিত কাজ। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। আর বাজারে উত্থান পতন নিয়মিত ঘটনা। আজ পড়েছে, আবার দেখবেন কাল উঠে যাবে।’

গত এক মাস ধরে তেজি পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্টো চিত্র।

অস্বাভাবিক দাম বাড়া কোম্পানি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিএসইসির তদন্তের চিঠির পরদিন পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হলো।

সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৯১ পয়েন্ট।

এর আগের দিন বিএসইসি এক চিঠিতে জানায়, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বা কমেছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত হবে।

গণমাধ্যমে এই চিঠির খবর আসার পরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই বাড়তে থাকে বিক্রির চাপ।

শুরুতে সূচক সামান্য বাড়লেও বেশিরভাগ শেয়ারের মূল্য পতনের ঘটনায় আধা ঘণ্টা পর থেকেই পতন হতে থাকে সূচকের।

পতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হয়েছে মাঝেমধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত বড় দরপতনের হতাশা নিয়েই বিনিয়োগকারীরা দিন শেষ করেন।

সম্প্রতি এত বড় দরপতন পুঁজিবাজারে হয়নি।

বিএসইসির চিঠির পর পুঁজিবাজারে বড় পতন
সাম্প্রতিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা ফিরতে শুরু করায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বেড়েছে ভিড়

বর্তমানে যেসব কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে তার শীর্ষে আছে বেক্সিমকো লিমিটেড ও রবি।

তবে টানা ১৩ কার্যদিবস সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃদ্ধির পর রবির শেয়ার দর বুধবার দিনভর উঠানামা করেছে প্রথমবারের মতো। চার শতাংশ বেড়েছে এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য।

অন্যদিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের দাম দিনের শুরুতে কমলেও পরে তা ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে ৩০ পয়সা কমে দাম দাঁড়িয়েছে ৭৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এই দুই কোম্পানির শেয়ারকে ঘিরেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল দিনভর। লেনদেনের শীর্ষ দুই স্থান ধরে রেখেছে রবি ও বেক্সিমকো।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বলেছি, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া যেগুলোর দাম বেড়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তবে এটি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়মিত কাজ। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই।

‘আর বাজারে উত্থান-পতন নিয়মিত ঘটনা। আজ পড়েছে, আবার দেখবেন কাল উঠে যাবে। আসলে গত কয়েক বছরের অনিশ্চয়তার কারণে কিছু একটা করলেই বাজার পড়ে যায়। পরে আবার ঘুরেও যায়।’

বিএসইসির চিঠির পর পুঁজিবাজারে বড় পতন
বড় দরপতন হলেও আগের দিনের তুলনায় ১২৬ কোটি টাকা বেড়ে লেনদেন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১০৮ কোটি টাকা

বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএসইসি যে নির্দেশনা দিয়েছে তা বাজারবান্ধব। এ ধরনের নির্দেশনা না আসলে যে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ছিল তা বাড়তেই থাকত। তখন যারা শেয়ার ধরে রেখেছিল তারা বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগকারীদের অভ্যাস হচ্ছে যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে তখন কেনা শুরু করে। তখন কারসাজিকারীরা বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা উত্তোলন করে নেন। এখন পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধন হোক বা বিএসইসির নির্দেশনার কারণে হোক- মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছুটা নিরাপদ হলো।’

পরিসংখ্যানে লেনদেন

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ২১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০১ পয়েন্ট।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫৯ পয়েন্ট।

লেনদেন হওয়া ৩৫৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ২৪৮টির এবং পাল্টায়নি ৫৫টির।

একই চিত্র চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ- সিএসইতেও। সেখানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৪৯ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৪০ পয়েন্ট।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ১৯৮টির এবং পাল্টায়নি ৩৩টির।

মোট লেনদেন হয়েছে ১৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এদিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এআইবিএল ফাস্ট ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, যার শেয়ারের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে ছিল এশিয়া ইন্স্যুরেন্স।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল মেঘনা কনডেন্স মিল্কের, যার দর কমেছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিআইএফসি। তারপর ছিল এ্যামারেল অয়েল ও তাল্লু স্পিনিং।

বিক্রির চাপে বেড়েছে লেনদেন

বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও সূচকের পতন হলেও বেড়েছে লেনদেন। গত সপ্তাহের মতো আবার দুই হাজার কোটির ঘরে গেছে লেনদেন।

আগের দিনের তুলনায় ১২৬ কোটি টাকা বেড়ে বুধবার দিন শেষে লেনদেন দাঁড়ায় দুই হাজার ১০৮ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।

দিন শেষে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে রবির। কোম্পানিটির ছয় কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৩৬ কোটি টাকায়।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের দুই কোটি ৯৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৯টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকায়।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের তিন কোটি ২৪ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩৬ কোটি টাকায়।

তারপর ছিল ব্যাংক খাতের কোম্পানির আইএফআইসি এবং চতুর্থ স্থানে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা।

আরও পড়ুন:
ওটিসিতে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ
অস্বাভাবিক লেনদেন ও দাম বৃদ্ধি তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির
দুই বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
২২ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে লেনদেন কমল হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য