× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
বদলে যাওয়া ব্যাংক খাতে দুষ্ট ক্ষত ঋণ কেলেঙ্কারি
google_news print-icon

বদলে যাওয়া ব্যাংক খাতে দুষ্ট ক্ষত ঋণ কেলেঙ্কারি

বদলে-যাওয়া-ব্যাংক-খাতে-দুষ্ট-ক্ষত-ঋণ-কেলেঙ্কারি
দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা গত এক যুগে ৯ কোটি থেকে বেড়ে ১১ কোটি হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, বুথ ব্যাংকিং এখন জনপ্রিয়।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ফলে গত এক যুগে ব্যাংক খাতের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। এখন আর পাঁচ-ছয় কিলোমিটার হেঁটে ব্যাংকের শাখায় যেতে হয় না। ব্যাংকের সেবাই গ্রাহকের দোরগোড়ায় চলে এসেছে।

তবে ব্যাংকিং বিষয়টি আর কোনো ভবনের কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কার্যালয়ের বাইরেও চলছে ব্যাংকের লেনদেন। এর ফলে ব্যাংকে আমানতকারী ও আমানত বেড়েছে। পেমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়নের ফলে গড়ে উঠছে অনলাইননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য।

আওয়ামী লীগ সরকারের একটানা ১২ বছরের নেতৃত্বে ব্যাংক খাতের এই উন্নয়নের মধ্যেও কয়েকটি ঋণ অনিয়মের ঘটনা এ খাতের দুষ্ট ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।

দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১১ কোটি ২৭ লাখ। এসব হিসাবে জমা আছে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। এ তথ্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের। অথচ ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকে আমানতকারীদের হিসাব ছিল ৯ কোটি ২১ লাখ। মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা এক যুগের নেতৃত্বে দেশের ব্যাংক খাতের বিস্তৃতির এটি একটি উদাহরণ। এই সময়ে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৪৭টি থেকে বেড়ে ৬১টিতে দাঁড়িয়েছে। শাখার সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৭২৩টিতে।

বদলে যাওয়া ব্যাংক খাতে দুষ্ট ক্ষত ঋণ কেলেঙ্কারি

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় ব্যাংক সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, বুথ ব্যাংকিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ কোটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মাসে লেনদেন হচ্ছে ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

১২ বছর আগে প্রতি মাসে রেমিট্যান্স আসত গড়ে ১০০ কোটি ডলারেরও কম। এখন মাসে রেমিট্যান্স আসে ২০০ কোটি ডলারের বেশি।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫৩৫ কোটি ডলার। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রিজার্ভ ৪ হাজার ৩১৭ কোটি ডলার।

ব্যাংক খাতের এই বিপুল বিস্তৃতির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্তর্ভূক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযুক্তির আত্মীকরণের ভূমিকাকেই বড় করে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭৭ সাল থেকে ব্যাংক খাতের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ নুরুল আমিন। এনসিসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

ব্যাংক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নুরুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, আশির দশকের শেষ দিকে দেশে দুই-একটি ব্যাংকে ছোটখাটো কাজের জন্য কম্পিউটারে ব্যবহার শুরু হয়। তখন বিদেশি ব্যাংকগুলো প্রযুক্তির ব্যবহারে কিছুটা এগিয়ে ছিল। নব্বইয়ের দশকে বেশ কিছু নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন ওই ব্যাংকগুলোতে অনেক কর্মকর্তা বিদেশি ব্যাংক থেকে এসে যোগ দেয়। তারাই মূলত বেসরকারি ব্যাংকের কাজে কম্পিউটারের ব্যবহারে আগ্রহ দেখায়। তবে তখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত ছিল।

২০০০ সালের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্পের আওতায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে থাকে। এরপর অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক এগিয়ে যায়। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো অনলাইননির্ভর ব্যাংকিংয়ে আসে মূলত ২০১০ সালের পর।

আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান ‘মানবিক ব্যাংক’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাইজেশনের ওপর অনেক বেশি জোর দেন। ওই সময়টাতেই ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট, অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজসহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা চালু হয়।

এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। এখন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চেক নিকাশ হচ্ছে। সময় কম লাগছে। এক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে আরেক ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা যাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে অনেক ধরনের লেনদেন করছেন গ্রাহকেরা। পেমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়নের হাত ধরেই দেশে ই-কমার্স বিকশিত হচ্ছে।

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে গত দশকে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, এমনটা আর কখনও দেখা যায়নি। প্রতিটি ব্যাংকে নারী উদোক্তাদের জন্য আলাদা ডেস্ক, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রণোদনার ঋণেও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে মাথায় রেখে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়াতে আবারও কৃষিঋণের লক্ষ্য বেঁধে দেয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই অর্থবছরে ১১ হাজার ১১৬ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ২২ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকার। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে কৃষিঋণ বিতরণ।

যে কৃষকেরা লুঙ্গি পরে ব্যাংক শাখায় যেতে ভয় পেত, তাদের মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১ কোটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে কৃষকদের।

বদলে যাওয়া ব্যাংক খাতে দুষ্ট ক্ষত ঋণ কেলেঙ্কারি

গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার পার্থক্য ঘুচিয়ে আনতে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শহরে একটি শাখা খুললে গ্রামেও একটি শাখা খোলার নির্দেশনা দেয়। আগে এই অনুপাত ছিল ৪:১।

এ ছাড়া বর্গাচাষিদের ঋণ দেয়া, চার শতাংশ রেয়াতি সুদে মসলা চাষে ঋণ, প্রকাশ্যে কৃষিঋণ বিতরণসহ কৃষিবান্ধব অনেক নির্দেশনা এই এক যুগে এসেছে। ২০১০ সালে এসএমই ঋণ নীতিমালা এ খাতের ঋণপ্রাপ্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি আনে।

অংশগ্রহণমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, বৈদেশিক লেনদেন সহজীকরণ, সবুজ অর্থায়ন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, ইলেকট্রনিক কেওয়াইসির মাধ্যমে ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলা, গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে ডজনখানেক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু, সিআইবি অনলাইন চালু, স্কুল ব্যাংকিং চালুসহ অসংখ্য অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতিমালা বাস্তবায়ন হয়েছে গত এক যুগে।

তবে গত এক যুগে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব কর্মকাণ্ডকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। এমনকি প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়াতে গিয়ে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা উদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
করোনার বিপর্যয় থেকে উত্তরণে বাধা ঋণের বোঝা: বিশ্বব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইডি ও জিএম হলেন ৬ জন
জনস্বার্থ সংস্থার ঋণে নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংরক্ষণের নির্দেশ
বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিসি-এসপিকে পদ্মা ব্যাংকের নতুন বছরের শুভেচ্ছা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
New polarization in Sylhet Awami League

সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ

সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ
নাসির উদ্দিন (বাঁয়ে) ও মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কোলাজ: নিউজবাংলা
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জয়লাভের পর সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজের বলয় তৈরিতে সচেষ্ট হন তিনি। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

ভেতরে ভেতরে সিলেট আওয়ামী লীগের নতুন মেরুকরণ আর বিরোধ চলছিল বছরখানেক ধরেই। বিশেষত গত জুনে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জয়লাভের পর সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজের বলয় তৈরিতে সচেষ্ট হন তিনি। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

এ থেকেই দেখা দেয় বিরোধ। তবে এই বিরোধ এতোদিন গোপনেই ছিল। প্রকাশ্যে ঐক্যের সুরই উচ্চারিত হচ্ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে। তবে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান এবং সিলেট সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর দুটি পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে।

কারো নাম উল্লেখ না করেই সিলেট আওয়ামী লীগের এই দুই প্রভাবশালী নেতা সম্প্রতি পরষ্পরকে বিষাদাগার করে বক্তব্য দেন। এতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আর নতুন মেরুকরণ।

সিলেটে আওয়ামী লীগে বিভক্তি দীর্ঘদিনের। এক সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী গ্রুপে বিভক্ত ছিল সিলেট আওয়ামী লীগ। কথিত রয়েছে, এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরোধের কারণে তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সিলেটে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর স্পিকার গ্রুপের হাল ধরেন সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসাইটে রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেটে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তৎকালীন সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলয়ে। তবে সরকার ও দলে মুহিতের প্রভাবের কারণে সেসময় কামরান অনুসারীরা তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

এসব প্রভাবশালী নেতাদের প্রয়াণে সিলেটে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়। এতে অভ্যন্তরীণ বিরোধও অনেকটা কমে আসে। তবে সিলেটে আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ দেখা দেয় নগরের রাজনীতিতে হঠাৎ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আর্ভিভূত হওয়ার পর।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান প্রবাসে থেকেও অনেকদিন ধরেই সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন না কখনোই। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ) আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

গত সিলেট সিটি নির্বাচনে চমক হিসেবে হাজির হন আনোয়ারুজ্জামান। আওয়ামী লীগের স্থানীয় ডাকসাইটে নেতাদের টপকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে সহজেই জয় পান আনোয়ারুজ্জামান। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দলের কোনো পদে না থেকেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হন বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত এই নেতা। গড়ে তোলেন নিজস্ব বলয়।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নিজের প্রভাবের প্রমাণও দেন আনোয়ারুজ্জামান। এই নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট-৩ আসন থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে রনজিত সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই তিনজনই আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বন্ধু। তাদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনে জয়লাভ পর্যন্ত আনোয়ারুজ্জামান বিশেষ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে।

এরপর থেকেই সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন আনোয়ারুজ্জামান। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাও আনোয়ার বলয়ে যুক্ত হন। এই সময়ে সরকার এবং প্রশাসনে নিজের প্রভাবেরও জানান দেন আনোয়ারুজ্জামান।

সর্বশেষ গত মাসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও ১১ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে আনোয়ারুজ্জামান বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এসে সিলেটের রাজনীতিতে আনোয়ারুজ্জামানের এই আধিপত্য নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই। ভেতরে ভেতরে তারা ক্ষুব্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে এতোদিন প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেননি। তবে ছাইচাপা এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যন নাসির উদ্দিন খানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে।

গত ১৪ মে সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে কারো নাম উল্লেখ না করেই নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘অনেকে বিদেশে বসে মাল কামিয়েছেন। অনেক আন্দোলন করেছি। আজ মনে হয়, আমরা পরগাছা। সুবিধাভোগীরা অনেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে গেছেন। এখন কেউ কেউ মনে করেন, তার বাবার সম্পত্তি হয়ে গেছে সিলেট। আমরা টাকা খরচ করে অনেককে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছি। সেটা ভুললে চলবে না। আমার পাওয়ার আছে, আমার অমুক আছে-তমুক আছে, সেটা থাকবে না। জনগণ যদি না থাকে, সংগঠন যদি না থাকে কারও অস্তিত্ব থাকবে না। রাজনীতিতে দুঃসময় এলে তারা থাকবে না, আমাদের দেশে থাকতে হবে– আমাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। আমি বললাম, তারা চলে যাবে।’

নাসির উদ্দিন খান কারো নাম উল্লেখ না করলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই বলছেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করেই এমনটি বলেছেন নাসির।

নাসির যে অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য রাখেন সে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা।

নাসিরের এই বক্তব্যের চারদিন পর গত শনিবার (১৮ মে) সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে নিজেদের নবাব ভাববেন না। কার দৌড় কতটুকু জানা আছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বলতে চাই না।

এ সময় মেয়র আরও বলেন, কে কী বলল, তা দেখার বা শোনার সময় নেই। সবাই ঠান্ডা মাথায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। আপনারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, শেষ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

নিজের বক্তব্যে মেয়র কারো নাম উল্লেখ না করলেও তার এই বক্তব্যের সাথে ১৪ মে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খানের দেওয়া বক্তব্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী।

চারদিন আগে নাসির উদ্দিন খানের এমন বক্তব্যে নিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে তুমুল আণোচনার মধ্যেই ‘কার দৌড় কতটুকু জানা আছে’ বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন আনোয়ারুজ্জামান।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদের চারজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোননয় প্রত্যাশী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রায় এক ডজন নেতা। তাদের টপকে প্রবাস থেকে এসে দলীয় মনোনয়ন পান আনোয়ারুজ্জামান। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা। নির্বাচনে জয়ের পর দলেও প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। এতে তার উপর ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। তবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে ঘনিষ্টতার কারণে তার বিরুদ্ধে এতোদিন কেউ মুখ খোলেননি। নাসির উদ্দিনের বক্তব্য এই ক্ষোভেরই বহিপ্রকাশ।

তবে এ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিবিশেষকে উদ্দেশ করে কথা বলিনি। যারা দলকে মূল্যায়ন করে না, উড়ে এসে জুড়ে বসে, তাদের অবস্থান স্থায়ী হয় না- এটিই বোঝাতে চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে কর্মী ও দলকে মূল্যায়ন করতে হবে। হাওয়ার ওপর চললে হবে না। আমার এমন বক্তব্য যদি কারও গায়ে লাগে, বলার কিছু নেই।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দলে কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ বলেন, আমাদের মধ্যে মতের অমিল হতে পারে তবে কোনো বিরোধ নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধ। তবে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ কর্মীদের কারণেই আমরা নেতা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Locals say that bamboo is dangerous on railway bridges

রেল সেতুতে বাঁশ, ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা

রেল সেতুতে বাঁশ, ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা
বাঁশের ফালিগুলোকে স্লিপারের সঙ্গে লোহার পেরেক দিয়ে আটকানো হয়েছে। কোলাজ: নিউজবাংলা
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলের এই সেতুতে অনেক পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কিছু কাঠের স্লিপার রয়ে গেছে। কিছুদিন পর পর কাঠের স্লিপারগুলো যেন না সরে যায়, এ জন্য বাঁশের ফালি ব্যবহার করে আটকানো হয়েছে।’

জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের জামালপুর কোর্ট স্টেশন থেকে মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি একটি সেতুতে পুরাতন কাঠের স্লিপারের ওপরে দুই পাশে লোহার স্লিপারের বদলে বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশের ফালিগুলোকে স্লিপারের সঙ্গে লোহার পেরেক দিয়ে আটকানো হয়েছে।

এ ছাড়া পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কাঠের স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে পারে সেখানে বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার বিকেলে জেলার মেলান্দহ উপজেলার চর বানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের জামালপুর কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন ও মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি চরপলিশা বেতমারি গ্রামের একটি বিলের ওপর অবস্থিত রেলওয়ে সেতুতে এমন চিত্র দেখা যায়।

সেতুটি দিয়ে ঢাকা থেকে জামালপুর হয়ে মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত প্রতিদিন ১০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলের এই সেতুতে অনেক পুরাতন ক্ষয়ে যাওয়া কিছু কাঠের স্লিপার রয়ে গেছে। কিছুদিন পর পর কাঠের স্লিপারগুলো যেন না সরে যায়, এ জন্য বাঁশের ফালি ব্যবহার করে আটকানো হয়েছে।’

‘সেতুর মাঝখানে একটা স্লিপার একেবারেই ক্ষয়ে গেছে। ট্রেন চলাচলের সময় বিকট শব্দ হয়। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বেতমারি গ্রামের হাসিনা বেগম বলেন, ‘রেললাইনের কাছে বাড়ি হওয়ায় ট্রেন গেলে রাত বিরাতে চমকে উঠি। মনে হয় ব্রিজ ভেঙে পড়বে। এখানে বাঁশ ব্যবহার করা ঠিক হয় নাই। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি যেন ঠিকমতো মেরামত করা হয়।’

স্থানীয় আতিয়ার রহমান বলেন, ‘মাঝে মাঝে লোক আসে ঠিক করার জন্য। আমরা অনেকবার বলছি মেরামত করার জন্য, কিন্তু তারা শোনে না। রেল সেতুতে বাঁশের ব্যবহার ঠিক হয় নাই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে।’

সেতুতে লোহার স্লিপার লাগানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এ ধরনের বাঁশের ব্যবহার সেতুতে আছে কিনা জানি না, তবে কাছাকাছি ঝিনাই নদের রেল সেতুতে বাঁশের ব্যবহার ছিল এবং সদ্য সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, বাঁশ দিয়ে স্লিপারগুলো ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি খোঁজ নেবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন:
ভাঙা সেতুতে ভোগান্তি ৪০ গ্রামের মানুষের
২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫ কোটি টাকা টোল তুলেছে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুতে ৮ ঘণ্টায় পৌনে দুই কোটি টাকা টোল আদায়
নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে সিরাজগঞ্জে এক শ্রমিক নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে নদীতে, বহু হতাহতের শঙ্কা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
What parents said about Babars Everest victory

বাবরের এভারেস্ট জয় নিয়ে যা বললেন মা-বাবা

বাবরের এভারেস্ট জয় নিয়ে যা বললেন মা-বাবা লুৎফুন্নাহার ও লিয়াকত আলী দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা
বাবা-মা জানান, তাদের স্বপ্ন ছিল বাবর আলী চিকিৎসক হবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে হাঁটেননি তিনি। বরং হাঁটতে শুরু করলেন পাহাড়-সমতলের দুর্গম পথে পথে। হাঁটতে, হাঁটতে বাবর আলী স্বপ্ন দেখলেন এভারেস্ট জয়ের।

‘আমার ছেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এভারেস্ট জয় করেছে আমার বাবর। এটা বাবা হিসেবে আমার জন্য খুবই গর্বের, তবে পাহাড় থেকে নেমে না আসা পর্যন্ত আমাদের চিন্তা দূর হবে না।’

সংবাদমাধ্যমকে রোববার দুপুরে এ কথাগুলো বলছিলেন এভারেস্ট জয় করা বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলীর বাবা লিয়াকত আলী।

লিয়াকত আলী ও লুৎফুন্নাহার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান বাবর আলী। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে চিকিৎসক হবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে হাঁটলেন না ছেলে।

বরং হাঁটতে শুরু করলেন পাহাড়-সমতলের দুর্গম পথে পথে। হাঁটতে, হাঁটতে বাবর আলী স্বপ্ন দেখলেন এভারেস্ট জয়ের।

তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর গ্রামের নজু মিয়া হাট এলাকায়। বাবা লিয়াকত আলী কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। মা লুৎফুন্নাহার বেগম গৃহিণী।

তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বাবর দ্বিতীয়। বড় ভাই ব্যারিস্টার, অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। বাবর আলী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে এমফিল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিটি সম্পন্ন করেন।

একমাত্র বোন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কক্সবাজার জেলা আদালতে কর্মরত। সবার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিকাশের মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে আছেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় রোববার সকালে লাল-সবুজের পতাকা উড়ালেন বাবর আলী।

সন্তানের এভারেস্ট বিজয়ে বাবরের বৃদ্ধ বাবা-মা খুশিতে আত্মহারা, একই সঙ্গে শঙ্কিতও। ছেলে ঠিকমতো শৃঙ্গ চূড়া থেকে নেমে তাদের বুকে ফিরে না আসা পর্যন্ত কাটবে না এ শঙ্কা।

মা লুৎফুন্নাহার বেগম বলেন, ‘সবসময় টেনশনে ছিলাম। এখনও আছি। বাবর এভারেস্টের দিকে যাত্রা করার পর থেকে ঘুম আমার চোখ থেকে চলে গেছে। গত দেড় মাসে মনে হয় দিনে আমি দুই ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। নামাজ পড়ে আল্লাহকে বলেছি, আল্লাহ আপনি আমার ছেলেকে সুস্থভাবে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে দেন।

‘আল্লাহ আমার ছেলেকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন, কিন্তু আমি তো মা। যতক্ষণ পর্যন্ত সে পাহাড় থেকে নেমে না আসবে, ততক্ষণ তো আমার টেনশন যাবে না।’

গত ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাবর আলী তার এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। পরদিন ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তার এভারেস্ট জয়ের অভিযান। ৪ এপ্রিল নেপালের কাঠমান্ডু থেকে পৌঁছান লুকলাতে। ১০ এপ্রিল এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি।

এরপর এক মাস ধরে অপেক্ষার পালা। ১৪ মে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। ওইদিনই তিনি দ্বিতীয় ক্যাম্পে, ১৮ মে তৃতীয় ক্যাম্পে এবং ১৯ মে ভোরে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছান। ১৯ মে সকালে তিনি ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতায় শৃঙ্গে আরোহণ করে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেন।

এভারেস্ট জয়ের আগে আরও অনেক পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন বাবর। চার হাজার ৯৮৪ মিটার উচ্চতার সারগো রি থেকে ছয় হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আমা দাবলাম, অন্তত নয়টি পর্বতশৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড আছে বাবরের ভাণ্ডারে।

২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্ট জয় করে নামার পথে মারা যান সজল খালেদ। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর গত ১১ বছরে আর কোনো বাংলাদেশি এভারেস্টের পথে যাননি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Two children of tea workers with GPA five want to become doctors
এসএসসি-২০২৪

চিকিৎসক হতে চায় চা শ্রমিকের জিপিএ ফাইভ পাওয়া দুই সন্তান

চিকিৎসক হতে চায় চা শ্রমিকের জিপিএ ফাইভ পাওয়া দুই সন্তান এসএসসিতে ভালো ফলের খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু টাকা দেন স্বর্ণালী তেলী ও অরুপ সিংহকে। কোলাজ: নিউজবাংলা
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অদম্য মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণে অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী সাফল্য পেয়েছে। তাদের প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

পারিবারিক অভাব-অনটনের মধ্যেও নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে গেছে অরূপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী। এর ফলও পেয়েছে দুজন। এসএসসির চলতি বছরের পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দুই চা শ্রমিকের এ দুই সন্তান।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া এ দুই শিক্ষার্থীর মা-বাবার পাশাপাশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে দুই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে। এখন তাদের লক্ষ্য চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা।

কমলগঞ্জের শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়ে পাস করে কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক বীরেন্দ্র সিংহের ছেলে অরূপ সিংহ। অন্যদিকে ক্যামেলীয়া ডানকান ব্রাদার্স ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় চা শ্রমিক সুদর্শন তেলীর মেয়ে স্বর্ণালী তেলী।

এসএসসিতে ভালো ফলের খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু টাকা দেন দুই শিক্ষার্থীকে। তাদের প্রশাসন থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।

অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলীর ভাষ্য, উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে তারা।

চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেছে তারা।

অরূপ সিংহের বাবা বীরেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘কষ্ট করে এত দূর এসেছে তারা। আমাদের যত কষ্ট হোক, সন্তানদের পড়াশোনা করাব। মানুষের মতো মানুষ করে তুলব। পাশাপাশি সকলের সহযাগিতা কামনা করছি।’

একই ধরনের বক্তব্য দেন স্বর্ণালী তেলীর বাবা সুদর্শন তেলী।

শমশেরনগর এএটিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির ধর চৌধুরী বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও অরূপ সিংহের মনোবল ছিল দৃঢ়। তার সাফল্যে আমরা গর্বিত।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অদম্য মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণে অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী সাফল্য পেয়েছে। তাদের প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে, কমেছে জিপিএ ফাইভ
শতভাগ জিপিএ ফাইভ ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে
সিলেটে পাসের হার জিপিএ ফাইভ কমার যে কারণ জানাল বোর্ড
মাদ্রাসা বোর্ডে দেশসেরা এনএস কামিল মাদ্রাসা
পাসের হার ও জিপিএ ফাইভে এবারও এগিয়ে ছাত্রীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Many diagnostic and clinics are running without license in Kurigram

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি: নিউজবাংলা
মমতা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘কচাকাটা এলাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। সেজন্য সিভিল সার্জন অফিসের স্টাফ সিরাজুলকে চা খাওয়ার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করার টাকা পাঠায় দিলে তিনি সব করে দেন।’

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স বিহীন এবং লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে বহু ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ৯৩টি। এর মধ্যে এসব অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে ১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চারটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় নানা রোগের। ব্যবস্থাপত্র দেয়ার জন্যও আছেন চিকিৎসক। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে দেখা যায় আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে অনায়াসে, তবে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স। লাইসেন্সের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

একই উপজেলার আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ জেলার ৯টি উপজেলার অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কয়েক বছর ধরে নবায়ন করা নেই। অথচ দিব্যি চলছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালক হুমায়ুন কবির লাইসেন্স না পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম নেই দাবি করেন তিনি, কিন্তু একজন রোগীর দেয়া কাগজপত্র দেখালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেরিয়ে যান।

কয়েকজন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে সেখানে জুতার দোকান ছিল। ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হওয়ার পূর্বে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান, কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে মৃত ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠাতা দেখানো হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ডক্টরস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালক হায়দার আলী বলেন, ‘নতুন লাইসেন্স কিংবা নবায়ন প্রাপ্তির আবেদন করে বা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শন শেষে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’

মমতা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘কচাকাটা এলাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। সেজন্য সিভিল সার্জন অফিসের স্টাফ সিরাজুলকে চা খাওয়ার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করার টাকা পাঠায় দিলে তিনি সব করে দেন।’

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মুর্শেদ বলেন, ‘লাইসেন্স এবং নবায়ন না থাকলে কোনো ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। ইতোমধ্যে ১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা এবং চারটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Allegations of irregularities in half a kilometer road renovation work in Madaripur

মাদারীপুরে আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

মাদারীপুরে আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা
এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

মাদারীপুর জেলা সদরে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ কাজে বাধা দিতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে পুরানবাজারের কাঁচাবাজার থেকে রাস্তি ইউনিয়নের কুমার নদের পাড় পর্যন্ত এ রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন রাস্তি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। শিডিউল অনুসারে কাজ করা হচ্ছে না, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তার সংস্কার করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে নামমাত্র পাথর দিয়ে বেশি পরিমাণ বালুর ব্যবহার করছে। দায়সারা কাজ করা হলে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সদর উপজেলার রাস্তির পুরান বাজার থেকে কুমার নদেরপাড়ের ব্যবসায়ীদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। রাস্তা তৈরিতে উপকরণ কম এবং মালামাল নিম্নমানের হলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে রাস্তাটি ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তারা জানান, গ্রামবাসী এসব অনিয়মে বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান নিজে ও তার লোকজন তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা নিম্নমানের কাজের জন্যে ঠিকাদার ও সরকারি লোকজনকে দায়ী করছেন।

মিঠু হাওলাদার নামে একজন বলেন, ‘রাস্তাটি আমাদের প্রাণের দাবি ছিল। যে কারণে স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খানের প্রচেষ্ঠায় কাজটি শুরু হয়েছে, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কম সিমেন্ট দিয়ে বেশি বালু আর খোয়া দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করছে। ফলে যেকোনো সময় রাস্তাটি দেবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া পুরানো ইট দিয়ে গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঠিকাদারকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের বাধা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।’

হাতাহাতির বিষয়টি জেনে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন ও এসও হেল্লাল হোসেন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যে মেসার্স ইসতি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও বাস্তবায়ন করছে রাস্তির চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যাদেশ পেয়ে এ বছরের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।

তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে বাস্তবায়নকারী এলজিইডিকে সরেজমিনে গিয়ে কাজ তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ মেনে নেয়া যাবে না।’

আধা কিলোমিটারের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। পরে এলজিইডির মাধ্যমে কাজটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
মাদারীপুরে থ্রি হুইলার খাদে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত
বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, দুই ছেলে পলাতক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Returned from the well of death thanks to all including the creator
নওগাঁর বাড়িতে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাইদুজ্জামান

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরেছি, সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরেছি, সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে নওগাঁর বাড়িতে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম সাইদুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাজে ফিরবেন কি না জানতে চাইলে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব। আমি কন্টিনিউ করতে চাই। একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এতদিন গেছে। তাই ছয় মাস ছুটিতে থাকব। পরিবারকে সময় দেব। তারপর কাজে ফিরে যাব।’

বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার নওগাঁর এএসএম সাইদুজ্জামান। ভারত মহাসাগরে সোমালীয় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন স্বজনের কাছে। জেলা শহরের পলিটেকনিক এভিনিউয়ে দুবলহাটি রোডের বাড়িতে পৌঁছার পর সবার চোখেই ছিল আনন্দ অশ্রু।

সাইদুজ্জামান নওগাঁর স্থানীয় একটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। বুধবার দুপুরের দিকে রাজশাহী বিমানবন্দরে সাইদুজ্জামান পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর নিজ বাড়িতে পৌঁছলে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

বুধবার বিকেলে সাইদুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করছেন। স্ত্রী মানহা তাহরিন শতধার চোখ-মুখে প্রাপ্তির হাসি। অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন। শিশু সন্তানটিও যেন কোল থেকে নামছেই না। সব মিলে পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। চলছে নানা আয়োজন। তাকে দেখতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষ।

কেমন কেঁটেছিল দীর্ঘ ৬৩ দিন জানতে চাইলে সাইদুজ্জামান আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে এসেছি। সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। পরিবারের কাছে ফিরতে পারব কিনা সেই নিশ্চয়তা ছিল না।

‘জীবনের ওই ক’টা দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখন অনেক ভালো লাগছে। ভেবেছিলাম হয়তো আর কোনদিন কারও সঙ্গে দেখা হবে না। আল্লাহর রহমতে আর বাবা মায়ের দোয়ায় সুস্থভাবে ফিরে এসেছি। আমাদের উদ্ধারে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত রুট দিয়েই জাহাজ নিয়ে যাচ্ছিলাম। রেড জোনের মধ্যে আমরা ছিলাম না বা অতিক্রমও করিনি। প্রথমে জলদস্যুদের ছোট বোট দেখে মনে হয়েছিল তারা হয়তো ফিশিং বোট ব্যবহার করছে মাছ ধরার জন্য। পরে তো আমাদের ঘিরে ফেললো ওরা।

‘জলদস্যুরা সামান্য ধাক্কাধাক্কি করেছে আমাদের সঙ্গে। এর বেশি কোনো কিছু হয়নি। রোজার সময় ছিল। জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলেও খাওয়া নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে আমরা বেঁচে ফিরব কিনা তা নিয়েই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’

সাইদুজ্জামান বলেন, ‘জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতি আসবে তা কখনও ভাবতে পারিনি। দুর্বিষহ দিন কেটেছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে। এরকম দিন যেন কারও জীবনে না আসে।

‘সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পেরেছি, এটাই বড় কথা। অনেক ভালো লাগছে। প্রধানমন্ত্রী, জাহাজ কোম্পানি, মিডিয়াসহ সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

জাহাজে ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে এমভি আব্দুল্লাহর এই চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব। আমি এটা কনটিনিউ করতে চাই। আমার সাথে জাহাজে যেসব সহকর্মী ছিল তারাও মনোবল হারায়নি। একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এতদিন গেছে। তাই ৬ মাস ছুটিতে থাকব। পরিবারকে সময় দেব। এই সময়টা নিজের মতো করে কাটাব। তারপর আবার কাজে যোগদান করব।’

সাইদুজ্জামানের মা কোহিনূর বেগম বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা সন্তান আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। ছেলেকে কাছে পেয়ে কী যে শান্তি লাগছে তা বুঝাতে পারব না।

‘নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। ছেলের পছন্দের বিভিন্ন খাবার রান্না করছি। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা আসছে। সবাই খুব খুশি। সরকার, জাহাজ কোম্পানিসহ সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মানহা তাহরিন শতধা বলেন, ‘স্বামীকে ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এতগুলো দিন আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুস্থভাবে বাড়িতে আসায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জাহাজ কোম্পানিসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

প্রসঙ্গত, মোজাম্বিক থেকে ৫৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২৩ বাংলাদেশি নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জিম্মি করে। ১৪ এপ্রিল ভোরে জাহাজটি জলদস্যুমুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজটি থেকে বোটে নেমে যায়।

এরপর ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জাহাজটি দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে ভেড়ে। বহন করা কয়লা খালাস শেষে ২৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নতুন ট্রিপের পণ্য লোড করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি। সেখান থেকে চুনাপাথর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি আব্দুল্লাহ। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির ঠিক এক মাস পর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছায় এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি আব্দুল্লাহ’। আর জাহাজের ২৩ নাবিককে ফিরে পান স্বজনরা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এমভি আব্দুল্লাহ
তুরস্ক নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রামে
কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজের ধাক্কা
এমভি আবদুল্লাহ দেশের পথে
কয়লা খালাস শেষে আরেক বন্দরে যাচ্ছে এমভি আবদুল্লাহ, ফেরার প্রস্তুতি

মন্তব্য

p
উপরে