× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ
google_news print-icon

২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

২০৩৫-সালে-সিঙ্গাপুরকে-ছাড়িয়ে-যাবে-বাংলাদেশ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইবিআরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের পেছনে পড়ে যাবে মালয়েশিয়া, নরওয়ে, সুইডেনের মতো দেশগুলো। বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, ইউরোপের নরওয়ে, সুইডেনের মতো দেশকেও পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।

তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি পরিণত হবে ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিচার্স’ (সিইবিআর) - এর একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বিশ্বের ১৯৩টি দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর করা ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক লিগ টেবিল ২০২১’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৪১তম। করোনার কারণে একই অবস্থান থাকবে ২০২১ সালেও।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ৫৯তম এবং ২০১৫ সালে ছিল ৪৮তম।

২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

সিইবিআরের প্র্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উন্নতি হবে বাংলাদেশের। এই সময়ে অবস্থান দাঁড়াবে ৩৪তম। বর্তমানে এই অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ মিসর। এর ১০ বছর পর বর্তমান থাইল্যান্ডের অবস্থানে (২৫তম) চলে আসবে বাংলাদেশ।

২০৩৫ সালে বাংলাদেশ যেসব দেশকে ছাড়িয়ে যাবে তার মধ্যে রয়েছে- মালয়েশিয়া (২৮), সিঙ্গাপুর (৪০), ডেনমার্ক (৪৩), হংকং (৪৪), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩২), মিসর (৩৪), নরওয়ে (৩৭), আর্জেন্টিনা (৪৫), ইসরায়েল (২৯), আয়ারল্যান্ড (৩১), অস্ট্রিয়া (৪১), নাইজেরিয়া (২৭), বেলজিয়াম (38), সুইডেন (৩০), ইরান (৩৫) ও তাইওয়ান (২৬)।

তখন বাংলাদেশের ঠিক ওপরে থাকবে পোল্যান্ড, ২৪তম; আর ২৩তম স্থানে থাকবে সুইজারল্যান্ড।

২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও বিশ্লেষক বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিইবিআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ ও ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক গড় জিডিপি অতিক্রম করবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ৫ হাজার ১৩৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশকে নিন্ম মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে পরিণত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হবে ৩১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪২ হাজার কোটি ডলার।

২০৩০ সাল নাগাদ জিডিপি দাঁড়াবে ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এর পাঁচ বছর পর অঙ্কটি ছুঁইছুঁই করবে এক ট্রিলিয়ন, তথা ১ লাখ কোটি ডলার।

সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির আগ পর্যন্ত জিডিপিতে বাংলাদেশ ভালো একটি অবস্থান ধরে এগিয়েছে। জনসংখ্যা বাড়ার হার মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও গত পাঁচ বছরের প্রতি বছরই গড়ে ১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেছে দেশ।

২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনাভাইরাস সংকট ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারায় ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে চীন।

এই অবস্থানে যেতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দেশটিকে অপেক্ষা করতে হতো। করোনা সংকট তা দ্রুততর করবে।

২০৩০ সালে ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। তখন পাকিস্তানের অবস্থান দাঁড়াবে ৩৬তম। শ্রীলঙ্কার অবস্থান দাঁড়াবে ৬৭তম এবং নেপালের অবস্থান হবে ৯৫তম।

২০৩৫ সালে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে জাপানের অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু ভারতের উত্থানে ২০৩০ সালের পর তাদের অবস্থান দাঁড়াবে চতুর্থ। জার্মানিকে পঞ্চম স্থানে পাঠিয়ে জাপানের অবস্থান হবে চতুর্থ।

আর পঞ্চম স্থান থেকে সরে যুক্তরাজ্যের অবস্থান হবে ষষ্ঠ।

শীর্ষ দশ থেকে সরে যাবে ইতালি, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের জায়গায় ঢুকবে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও রাশিয়া।

আরও পড়ুন:
করোনাতেও বাংলাদেশ ভালো আছে: পরিকল্পনা মন্ত্রী
রপ্তানি খাত নিয়ে ভয়ের কারণ নেই: শামস মাহমুদ
দেশ আগের চেহারায় ফিরবে ২০২২ সালে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The image that was seen in the shutdown is the Bankpara of Motijheel

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে বৃহস্পতিবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশ দিয়ে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আহমেদ সুলতান/নিউজবাংলা
মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

কোটা সংস্কার আন্দেলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার অন্যান্য অংশের মতো বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মতিঝিলেও দেখা গেছে থমথমে পরিস্থিতি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও অনেকটা গ্রাহকশূন্য ছিল ব্যাংকগুলো।

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকপাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান ব্যাংকাররা।

তারা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ব্যাংক লেনদেন নেই বললেই চলে। লেনদেনে ভাটা পড়েছে অবশ্য ঢাকার প্রায় সব ব্যাংকের শাখাতেই। আন্দোলন আর বুলেটের শব্দে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, ফকিরাপুল ও গুলিস্তান এলাকার কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া যায়। খুব প্রয়োজনে দুই-একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসেন। তারাও শঙ্কার মধ্যে লেনদেন করে দ্রুত ব্যাংক ত্যাগ করেছেন।

মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে ঝুঁকি নিয়ে অফিসে এসেছি। পরিস্থিতি এত খারাপ হবে জানলে আজকের জন্য ছুটি নিতাম।’

সকাল থেকে মতিঝিলে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। পুরো এলাকায় চলাচলের প্রধান বাহন ছিল রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মাঝে মাঝে চলাচল করছিল প্রাইভেট কার।

যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আতঙ্ক।

নিজাম নামের একজন প্রাইভেটকারচালক জানান, তার বস একটি প্রাইভেট ব্যাংকে টাকা তুলতে এসেছেন।

গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আরামবাগ থেকে এসেছি। তাই এখনও কোনো ঝামেলায় পড়িনি, তবে মালিক বলেছে, কোন গ্যাঞ্জাম দেখলে সাথে সাথে গাড়ি কোথাও পার্কিং করে নিজেকে সেভ রাখতে।’

এদিকে ভয় আর শঙ্কা নিয়ে জীবনের তাগিদে কাজে নেমেছেন রিকশাচালকরা, যাদের একজন জানান, তাদের পেটের দায়ে আয় না করলে চলবে না বলেই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গণপরিবহনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। যারা উত্তরা, মিরপুর এলাকার দিকে যাবে, তারা শুধু মেট্রোরেলে করে অনায়াসে যেতে পারছিলেন।

অন্য সব গন্তব্যের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফকিরাপুলের বাসস্ট্যান্ডেও কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।

ফকিরাপুলের জনতা ব্যাংকের লেনদেনের চিত্রেও ফুটে উঠেছে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব। নিয়মিত যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে কাউন্টারে মাত্র দুই একজন গ্রাহক চোখে পড়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন লেনদেন স্বাভাবিক।

দিলকুশা এলাকার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শাখা ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিস। সেখানেও ফুটে উঠেছে কমপ্লিট শাটডাউনের ছাপ।

গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করার কারণে পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন করতে আসতে কাউকে দেখা যায়নি।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ একেবারেই কম। স্বাভাবিক দিনে যেখানে লম্বা লাইন হয়ে থাকে, সেখানে প্রতিটি কাউন্টারে একজন-দুইজনের বেশি উপস্থিতি নেই।

‘কারণ বাইরে লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন সাধারণ জনগণের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা বেশি। সারাক্ষণ বাজছে পুলিশের সাইরেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘থেমে থেমেই গোলাবারুদের শব্দ। এসব কারণে শাখায় লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The workers demanded a 50 percent reduction in the business of Sonali Life

সোনালী লাইফের ব্যবসা ৫০ শতাংশ কমার দাবি কর্মীদের

সোনালী লাইফের ব্যবসা ৫০ শতাংশ কমার দাবি কর্মীদের সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের লোগো। ফাইল ছবি
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠার ১০ বছরে এই প্রথম গ্রাহকের বিমা দাবির সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করতে পারেনি সোনালী লাইফ। বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকের কারণে উল্টো পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রশাসক ও কর্মীদের কলহে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৫০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে বলে বুধবার দাবি করেছেন কর্মীরা।

রাজধানীর মালিবাগে সকালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠার ১০ বছরে এই প্রথম গ্রাহকের বিমা দাবির সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করতে পারেনি সোনালী লাইফ। বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকের কারণে উল্টো পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মীদের অভিযোগ, মালিকানা বদলের পাঁয়তারায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।

দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল বিমা উন্নয়ন কতৃপক্ষ, তবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসকের বিরুদ্ধেই উঠে আসে নানা অনিয়মের অভিযোগ। প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতিতে যান কর্মীরা।

প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যৌক্তিক কারণ ছাড়াই শীর্ষ নির্বাহীদের বরখাস্ত করেন তিনি, যা পরে উচ্চ আদালত রহিত করে। এ ছাড়াও প্রশাসকের বিরুদ্ধে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে নিজস্ব লোকজন নিয়োগের অভিযোগও আছে।

কর্মীদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ করা হয় প্রশাসকের বিরুদ্ধে।

তাদের দাবি, বিমা খাতে অভিজ্ঞতাহীন প্রশাসক সাবেক এ সেনা কর্মকর্তাকে সরিয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হোক। সেই সঙ্গে আট লাখ গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মোহ অডিট করা হোক।

ওই সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন বিমা প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।।

যদিও এর আগে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত এসএম ফেরদৌস।

আরও পড়ুন:
টাকা দেয়ার নামে ঘোরাচ্ছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, অভিযোগ গ্রাহকের
‘কারণ ছাড়া’ দরবৃদ্ধি প্রগতি লাইফের
আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও হলেন আনোয়ার শফিক
এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হামজা, ভাইস চেয়ারম্যান হালিমা
সন্ধানীর লভ্যাংশহীন ফান্ডের সাবস্ক্রিপশন শেষ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Startup Bangladesh cancels investment proposal in Ten Minute School in Ayman

আয়মানের টেন মিনিট স্কুলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল স্টার্টআপ বাংলাদেশের

আয়মানের টেন মিনিট স্কুলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল স্টার্টআপ বাংলাদেশের টেন মিনিট স্কুলের লোগো ও তার প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। কোলাজ: নিউজবাংলা
ফেসবুকে স্টার্টআপ বাংলাদেশের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘টেন মিনিট স্কুল- এর জন্য ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাতিল করা হলো।’

শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও লেখক আয়মান সাদিক প্রতিষ্ঠিত অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে তোলা একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।

কোটা সংস্কার আন্দোলন সমর্থন করে আয়মান সাদিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টের পর তার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বানের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সিদ্ধান্তের কথা জানায় ফান্ডটি।

ফেসবুকে স্টার্টআপ বাংলাদেশের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘টেন মিনিট স্কুল- এর জন্য ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব স্টার্টআপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাতিল করা হলো।’

আজ বেলা ১১টা ১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টার্টআপ বাংলাদেশের পোস্টটি শেয়ার করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে শনিবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেন আয়মান সাদিক। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় পোস্ট করেন তিনি।

তা ছাড়া তার প্রতিষ্ঠান টেন মিনিট স্কুল কালো ছবি দিয়ে সোমবার রাতে ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজের প্রোফাইল ছবি আপডেট করে।

আরও পড়ুন:
বিয়ের পিঁড়িতে আয়মান আর মুনজেরিন
দর্শকরা তাকে বলছে ‘ফুলের মতো’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Imrans party PTI is being banned in Pakistan

পাকিস্তানে ইমরানের দল পিটিআই নিষিদ্ধ হচ্ছে

পাকিস্তানে ইমরানের দল পিটিআই নিষিদ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। ফাইল ছবি
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সংবাদ বলেছেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পিটিআই’র অস্তিত্ব রাখা যাবে না। আমরা পিটিআইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি।’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নিষিদ্ধ করতে চলেছে দেশটির সরকার। তাদের দাবি, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

সোমবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পিটিআই’র অস্তিত্ব রাখা যাবে না।’

তারার বলেন, ‘বিদেশি তহবিল মামলা, ৯ মে দাঙ্গা এবং সাইফার মামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পাস করা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি, পিটিআই-কে নিষিদ্ধ করার মতো যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে।

‘আমরা পিটিআইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করার অধিকার দিয়েছে।’

বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। ইমরান খানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করতে গিয়েছিলেন।’

এদিকে এই ঘটনাকে পিটিআই’র বিরুদ্ধে নতুন দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। তারা লিখেছে, এই পদক্ষেপ কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলকে জাতীয় পরিষদে একক বৃহত্তম দল হতে বাধা দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।

কী আছে ১৭ অনুচ্ছেদে

পাকিস্তানের সংবিধানের ১৭ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সরকারি চাকরিতে না থাকা পাকিস্তানের প্রত্যেক নাগরিকের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার বা সদস্য হওয়ার অধিকার থাকবে। তবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে সেই দলের ওপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে।

আরও বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে বা এ ধরনের কাজ করছে, কেন্দ্রীয় সরকার এমন ঘোষণা দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:
শেষ মামলায় ইমরান দম্পতি খালাস, কারামুক্তিতে বাধা নেই
বাংলাদেশের উন্নতি দেখে আমাদের লজ্জা হয়: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানে মাজারে যাাওয়ার পথে ট্রাক উল্টে নিহত ১৩

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Walton won the gold medal in the National Export Trophy

জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেল ওয়ালটন

জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেল ওয়ালটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’র স্বর্ণপদক গ্রহণ করছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী। ছবি: ওয়ালটন
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী বলেন, ‘একসময়ের সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে। নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত গর্বের। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ালটনকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

২০২১-২০২২ অর্থবছরে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

আগের অর্থবছরেও জাতীয় রপ্তানি ট্রফি অর্জন করেছিল বহুজাতিক এ ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৩২টি পণ্য খাতের মোট ৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে স্বর্ণ পদক অর্জন করে ওয়ালটন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি।

পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী বলেন, ‘একসময়ের সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছে। নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত গর্বের। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ালটনকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

তিনি জানান, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন শিল্পের টেকসই বিকাশে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করছে ওয়ালটন। বর্তমানে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার ৪০টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন রপ্তানি করছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য।

আরও পড়ুন:
বিশ্বমানের হাইটেক পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের ভবিষ্যত তৈরি করেছে ওয়ালটন: জার্মান রাষ্ট্রদূত
ওয়ালটনের স্মার্ট ফ্রিজে যুক্ত হলো ‘এআই ডক্টর’ ফিচার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওয়ালটন এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘রিলায়েন্স এন্টারপ্রাইজ’ উদ্বোধন
ঈদের আগে ওয়ালটনের নতুন মডেলের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য বাজারে
ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল শুরু মঙ্গলবার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Order to dismiss Sonali Lifes five executives stayed in High Court

সোনালী লাইফের পাঁচ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশ হাইকোর্টে স্থগিত

সোনালী লাইফের পাঁচ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশ হাইকোর্টে স্থগিত
অনিয়ম, দুর্নীতি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ করে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। ভেঙে দেয়া হয় পরিচালনা পর্ষদ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ৭ জুলাই নতুন প্রশাসক কোম্পানির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই পাঁচ কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ শীর্ষ নির্বাহীকে বরখাস্তের নির্দেশনা স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে কোম্পানির বর্তমান প্রশাসক, আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে তাদের বরখাস্তের আদেশ বাতিল কেন স্থায়ীভাবে হবে না তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের ডিভিশন বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল অনিয়ম, দুর্নীতি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ এনে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ করে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। একইসঙ্গে ভেঙে দেয়া হয় তখনকার পরিচালনা পর্ষদ। প্রশাসক হিসেবে সে সময় নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস।

তবে তারপরও সোনালী লাইফে সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন প্রশাসকের বিরুদ্ধে একের পর অভিযোগ আনেন সোনালী ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ৭ জুলাই নতুন প্রশাসক কোম্পানির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার নির্দেশনা দেন। সেই তালিকায় ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আজিম ও সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ।

তবে তাদের বরখাস্তের প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সোনালী লাইফের এই পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা। রোববার ওই নির্দেশনা স্থগিত করে আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।

এদিকে সোনালী লাইফে টানা পঞ্চম দিনের মতো চলছে আন্দোলন ও কর্মবিরতি। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগসহ আটটি দাবি নিয়ে কঠোর আন্দোলন চলছে রাজধানীর মালিবাগে কোম্পানিটির প্রধান অফিসে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, অনিয়ম বন্ধের কথা বলে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি নিজেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।

সোনালী লাইফের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক সাহিল অভিযোগ করেন, নতুন করে আরও বহিষ্কারের তালিকা তৈরি করেছেন প্রশাসক। তিনি জানান, শীর্ষ ওই পাঁচ কর্মকর্তার পর আরও ১৩ জনকে ছাঁটাই করেছেন প্রশাসক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌসের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।’

এদিকে এমন কর্মবিরতি আর নানা সংবাদ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সোনালী ইন্স্যুরেন্সের অনেক গ্রাহক। অনেকেই প্রধান শাখায় এসে কর্মীদের কাছে জানতে চাচ্ছেন তাদের ইন্স্যুরেন্স পলিসির পরিস্থিতি নিয়ে।

উপরন্তু নতুন করে যারা ইন্স্যুরেন্স করতে আসছেন তারা সেবা পাচ্ছেন না বলেও জানান আন্দোলনকারী কর্মীরা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dhaka Chamber calls for reforming the tax system

কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান ঢাকা চেম্বারের রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই ভবনে রোববার আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন আশরাফ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেছেন, ‘বাজেটে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পুরো কর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।’

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বড় অংকের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেটে শুধু রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান বাস্তবতায় এনবিআরকে দেয়া রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেক বিশেষজ্ঞ অবাস্তব বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকা চেম্বার মনে করে বাজেটে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পুরো কর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা তৈরির পরামর্শও দিয়েছে এই ব্যবসায়ী সংগঠন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও কর ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হলে পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।’

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই ভবনে রোববার ‘শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর এবং আয়কর ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ব্যবস্থাপনা মেনে চলবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে হবে। তাহলে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো করদানে উৎসাহিত হবে, কর ফাঁকির প্রবণতা কমে আসবে।’

রাজস্ব আহরণের সব ক্ষেত্রে অটোমেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের মাধ্যমেই বিদ্যমান বৈষম্য ও ঘাটতি নিরসন করা সম্ভব। রাজস্ব আদায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হলে করের জাল সম্প্রসারণ হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার সভাপতি করপ্রদানকারীরা যেন হয়রানির শিকার না হন সেদিকে নজর দেয়ার জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। মেশিন দিয়ে কর আদায় বাড়ানো গেলে হয়রানি বন্ধ হবে বলেও মত দেন তিনি।

বিদ্যমান ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক আইনে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে উল্লেখ ডিসিসিআইয়ের মেম্বার ব্যবসায়ীদের তিনি সেগুলো মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এনবিআর কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিদ্যমান ভ্যাট আইন সম্পর্কে অনেক ব্যবসায়ী এখনও ভালো জানেন না। এখানে কিভাবে রেয়াত পাওয়া যাবে তা জানলে তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ হবে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে সার্বিকভাবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। ফলে করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
আইএমএফের ঋণ অনুমোদন স্বস্তির: ঢাকা চেম্বার
‘কর্মী ছাঁটাই না করে টিকে থাকাটা হবে বড় সাফল্য’
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং: ডিসিসিআই
মেয়র তাপসের সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সাক্ষাৎ
ঢাকা চেম্বারের নতুন সভাপতি সামির সাত্তার

মন্তব্য

p
উপরে