মাছের ছড়াছড়ি, মাংসের দেখা মেলে না

মাছের ছড়াছড়ি, মাংসের দেখা মেলে না

সেন্টমার্টিনে মাংসের এমন আকালের প্রধান কারণ, এখানে বাণিজ্যিকভাবে গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন বা লালনপালন হয় না। তাই বাজারে পাওয়া যায় না মাংস। এতে মাংসের স্বাদ থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছেন দ্বীপবাসীও।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে লোকবসতি শুরু প্রায় ১২৫ বছর আগে। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত দ্বীপে স্থায়ী বসবাস সাড়ে আট হাজার মানুষের।

দ্বীপ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখানে খাবারের তালিকায় থাকে মাছের ছড়াছড়ি। কিন্তু শত চেষ্টায়ও মেলে না মাংসের দেখা। রুচি পাল্টাতেও মাছের বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এ দ্বীপে রয়েছে শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। রয়েছে কিছু রেস্তোরাঁও। সবগুলোই বাহারি সামুদ্রিক মাছে ঠাঁসা। এগুলোতেও মেলে না কোনো ধরনের মাংস।

সেন্টমার্টিনে মাংসের এমন আকালের প্রধান কারণ, এখানে বাণিজ্যিকভাবে গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন বা লালনপালন হয় না। তাই বাজারে পাওয়া যায় না মাংস। এতে মাংসের স্বাদ থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছেন দ্বীপবাসীও।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তথ্যমতে, পুরো দ্বীপে রয়েছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ গরু ও ৬০টি মহিষ। ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা হাজারখানেক। এ ছাড়া অল্প কিছু পরিবার হাঁস-মুরগি পালন করে।

মাছের ছড়াছড়ি, মাংসের দেখা মেলে না

সংখ্যায় খুবই কম হওয়ায় পরিবারগুলোতে নিজেদের খাওয়ার জন্যও এগুলো খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই কেবল একটা-দুটো পশু জবাই করে মাংসের প্রয়োজন মেটানো হয়।

আট বর্গ কিলোমিটার আয়তনের (৮৬২ একর ৬৩ শতাংশ) সেন্টমার্টিন দ্বীপের গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩.৬ মিটার। বছরজুড়ে প্রতিদিন এখানে চলে জোয়ার-ভাটার খেলা। কৃষিপণ্যের উৎপাদনও খুব একটা হয় না। বেশিরভাগ অধিবাসীই সাগরে মাছ ধরাকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে।

বাকিদেরও কৃষিতে খুব একটা আগ্রহ নেই। এরপরও প্রয়োজন মেটাতে কিছু মানুষ আলু, টমেটো, মুলা, গাজর, বেগুন ও তরমুজ উৎপাদন করেন। কিন্তু পর্যটকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের উৎপাদিত এই ফসল চার মাসের বেশি চাহিদা মেটাতে পারে না।

বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় সব কিছুই তাদের টেকনাফ থেকে কিনে আনতে হয়। ইঞ্জিনচালিত বিশেষ নৌকায় এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। ঝুঁকিপূর্ণ; খরচও খুব বেশি।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক পাঁচটি জাহাজও এসব পণ্য তোলে না। সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনাই যেখানে কষ্টসাধ্য সেখানে মাংসের মতো দামি ও পচনশীল খাবার বহনে আগ্রহী হয় না সাধারণ মানুষ।

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, এখানে মাংস খাওয়া হয় না বললেই চলে; কারণ উৎপাদন ও সরবরাহ দুটোই কম। বাণিজ্যিকভাবে কয়েকটি দোকানে ব্রয়লার পাওয়া যায়। সেটিও একবার শেষ হলে ফের আনতে সপ্তাহ পেরিয়ে যায়।

পুষ্টির ঘাটতি কীভাবে পূরণ হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বীপবাসী এ পরিবেশে অভ্যস্ত। তাদের তেমন সমস্যা হয় না। সামুদ্রিক তাজা মাছে প্রোটিনও বেশি। তা দিয়েই ঘাটতি পূরণ হয়। সমস্যা কিছুটা হয় পর্যটকদের।

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এ উত্তরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড তৈরি হবে। এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যোগ হবে।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠলে নানা সুবিধা হারানোর পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে হাজির হবে। তবে এর বিপরীতে অনেক আপেক্ষিক ও অদৃশ্য সম্ভাবনার দরজাও খুলে যাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

তাৎক্ষণিক দেখা বা ভোগ করা না গেলেও এসব অদৃশ্য সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে উন্নয়ন সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

বিশ্লেষকেরা এ সংক্রান্ত পর্যালোচনায় সম্ভাবনাগুলোকে চার ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তারা বলেছেন, এ উত্তরণের কারণে বাংলাদেশের সামনে যেসব সুযোগ উন্মোচন হবে, তা সময়াবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে উন্নয়নশীল দেশের স্থিতি টেকসই হবে। পাশাপাশি ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উন্নত দেশে পা রাখার যাত্রাকেও সহজ করবে।

আপেক্ষিক এই সম্ভাবনাগুলো হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি বাড়া, উত্তরণের ধাক্কা সামলাতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, বিশ্বায়নের অবাধ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়া এবং এই তিন কারণে দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া। এটি দেশে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি কমাবে এবং উন্নত দেশের অবকাঠামো তৈরির পথ সুগম করবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল ব্র্যান্ড তৈরি হবে। এটা এক ধরনের আপেক্ষিক সুফল।

‘এ ধরনের পদোন্নতি বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যোগ হয়।’

উদ্যোক্তাদের মধ্যে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উদ্যোক্তারা এতদিন অগোছালো ছিল। সনাতনী ধরনের উৎপাদনে যুক্ত ছিল। এখন এই উত্তরণের প্রভাবে দেশে ছোট-বড় সব উদ্যোক্তার মধ্যে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সনাতনী চেতনার পরিবর্তন ঘটবে। এটা করতেই হবে।

‘এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। উৎপাদন কর্মকাণ্ডে মনস্তাত্ত্বিক এই পরিবর্তনের প্রভাব মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গতি সঞ্চার করবে।’

প্রতিযোগী সক্ষমতার উন্নয়ন বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পাওয়ার পরও পরবর্তী ৫ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা নিতে পারবে বাংলাদেশ। এ সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে। উৎপাদক এবং শ্রমিক সবার কর্মদক্ষতারই উন্নয়ন ঘটবে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটবে। সংযোজিত হবে বিশ্বের সব আধুনিক যন্ত্রপাতির।

‘এতে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। এসবের প্রভাবে বাংলাদেশের শিল্পপণ্য উৎপাদনে অনেক বৈচিত্র্য আসবে, যা বিশ্বায়নের অবাধ প্রতিযোগিতায় উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াবে।’

বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নশীলের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করলেও এর দরুণ আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে তার সম্ভাবনার মূল্য সীমাহীন।’

তার দাবি, ‘সরকার বিনিয়োগ উন্নয়নে যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে আগামীতে ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নতি ঘটেবে। এর ফলে দেশে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে।

‘এটা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে। আমদানিতেও গতি সঞ্চার হবে। এসবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। তবে এর সবকিছুই নির্ভর করছে আমরা কতটা নিজেকে সক্ষম করে তুলতে পারছি তার ওপর।’

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশের সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছেছে। এ জন্য বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ গর্বিত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপি বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে চূড়ান্ত ঘোষণার পর শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় মূল্যায়ন শেষে শুক্রবার মধ্য রাতে এ ঘোষণা দেয়ার পর শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবণ থকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে এ খুশির খবর দিয়ে বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়ার বাংলাদেশ।’

উত্তরণের এই ঘটনাকে এক ‘অনন্য অর্জন’ বলে মন্তব্য করেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এলডিসির তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশের সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এই অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছেছে। এ জন্য বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অনন্য অর্জন

শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন। এতে আরও উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি, এই অর্জন বড় ভূমিকা রাখবে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটে উন্নয়নশীল দেশের কাতারভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় মূল্যায়ন শেষে শুক্রবার রাতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সিডিপির সুপারিশের পর সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশের কী করা উচিত, চ্যালেঞ্জসমূহ কী- সব বিষয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে। তারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন। এতে আরও উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি, এই অর্জন বড় ভূমিকা রাখবে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় জোর দিতে হবে: আহসান এইচ মনসুর

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এলডিসি থেকে আগেই বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো। আরও আগে স্বীকৃতি পেলে বেশি খুশি হতাম।’

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘটনা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। তবে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। গরিব দেশগুলোকে সহজ শর্ত ও কম সুদে ঋণ দেয় উন্নয়ন সহযোগীরা। এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।

‘অবশ্য এখন আর বাংলাদেশকে গরিব দেশ হিসেবে দেখে না দাতারা। ২০১৬ সাল থেকে মিশ্রিত দেশ (ব্লেনডেড) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নমনীয় ঋণ এবং কিছু ক্ষেত্র বাজারভিত্তিক ঋণ দেয় তারা।’

ঋণ পরিশোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যে ধরনের সক্ষমতা থাকা দরকার, বাংলাদেশের তা আছে বলে মন্তব্য করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে সস্তা ঋণ সুবিধা বাতিল হলেও তেমন অসুবিধা হবে না।

‘আমরা অত গরিব নই, যতটা ভাবা হয়। সক্ষমতা বাড়ছে। আরও বাড়াতে হবে। আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হতে পারে বাজার সুবিধা নিয়ে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। তখন বিশ্ব বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।’

তিনি বলেন, প্রস্তুতি পর্বে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় রয়েছে, তাই এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। সময় বাড়িয়ে প্রস্তুতি না নিয়ে ঘুমালে কোনো লাভ হবে না। শিল্পকারখানার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।’

বিশ্বে বাংলাদেশের মার্যাদা বাড়াবে: . মোস্তাফিজুর রহমান

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পান্নত দেশ-এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের মার্যাদা বাড়াবে। দেশের ভাবমূর্তি ব্র্যান্ডিংয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এটি দেশের জন্য বড় অর্জন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রবাসে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তাদের জন্যও এ অর্জন সহায়ক হবে। এ ছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই পেতে যে ক্রেডিট রেটিংয়ের প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

‘একই সঙ্গে বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করতে চান বা বিদেশে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী তাদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।’

তবে উন্নয়নশীল দেশে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলেও মনে করছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজেটে যেসব খাতে ভর্তুকি সুবিধা দেয়া হয়, তা আর থাকবে না। কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় পণ্য রপ্তানির সুবিধা থাকবে না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদনে মেধাস্বত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। দেশীয় পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এত দিন যে প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিলাম সেখান থেকে বের হয়ে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক চ্যালেঞ্জ সামাল দেয়া যাবে।

এ অর্জন স্বাধীনতা-উত্তর অর্থনীতির বড় মাইলফলক: গোলাম মোয়াজ্জেম

এলডিসি থেকে উত্তরণকে দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাইলফলক বলে মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘এত দিন বাংলাদেশকে উদীয়মান ও বিকাশমান শক্তি হিসেবে আকার-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়েছে। এবার সেটার বাস্তব প্রতিফলন ঘটল।’

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘কৃষি, সেবা, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্সে অগ্রগতি- সব মিলিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। জাতিসংঘের ঘোষণার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘উত্তরণের ফলে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শক্তিশালী অবস্থান রাখার সুযোগ অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সে কারণে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, রপ্তানি, সেবা খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে।

‘প্রস্তুতি পর্বে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানি ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক দিয়ে রপ্তানি করতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।’

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ওষুধ খাতের পেটেন্ট সুবিধা যাতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকে সে বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।’

নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে: শামস মাহমুদ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে এটা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেকগুলো উপাদান থাকে। ব্যবসার পরিবেশকে উপযুক্ত করার জন্য সরকারের অনেক নীতি থাকে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হলে এসব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’

এলডিসি থেকে উত্তরণে অনেকগুলো সমস্যা তৈরি হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এগুলো সমাধানে ভূমিকা নিতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে অগ্রাধিকার বাণিজ্যসহ মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

শামস মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে, কিন্তু গত তিন বছর ধরে একটা পণ্যের যে দর থাকে সেটা কমছে। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে যেসব ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যেত সেগুলো আর থাকবে না।’

রাজস্ব বিভাগে সংস্কারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে না। সরকার যেসব বিনয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

ই-অকশন চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টমস

ই-অকশন চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টমস

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

উদ্বোধনের পর একটি নিলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও ওয়েবসাইটে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে পুরোনো পদ্ধতিতেই নিলাম করে যাচ্ছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

ই-অকশন (অনলাইন নিলাম) চালু করেও পিছু হটল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ফিরে গেল পুরোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। ফলে ই-অকশনের সুবিধা এখনই পাচ্ছেন না নিলামে অংশগ্রহণকারীরা।

পুরোনো প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় দেশের কাস্টম হাউসগুলোতে ই-অকশন চালুর উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২৭ অক্টোবর এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (মূসক নীতি) সদস্য মাসুদ সাদিক।

উদ্বোধনের পর একটি নিলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও ওয়েবসাইটে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতেই নিলাম করে যাচ্ছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (নিলাম) ফয়সাল বিন রহমান বলেন, অনলাইন নিলামের জন্য কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সেই প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব অনলাইন নিলামে ফেরার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অনলাইন নিলামে অংশগ্রহণকারীরা পণ্যের দর, তালিকা, ছবি দেখতে পাবেন নিজ কর্মস্থলে বসে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পূরণ করে ঘরে বসেই নিলামে অংশ নেয়া যাবে। দেখতে পাবেন কোন ক্যাটালগের সর্বোচ্চ বিডার বা দরদাতা কে হয়েছেন। এতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে নিলামকাজ সম্পন্ন হবে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো অনলাইন নিলামের আয়োজন করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সেই নিলামে ১৬ লট পণ্যের মধ্যে ১২ লট পণ্যই অবিক্রীত রয়ে গেছে। নতুন নিয়ম হওয়ায় অনেক পুরোনো বিডারই এ নিলামে অংশ নেননি।

এদিকে অনলাইন নিলাম নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা হতাশ। তাদের মতে, অনলাইন নিলাম অবশ্যই ভালো পদ্ধতি। তবে এর জন্য যতটুকু মান অর্জন করার কথা বিডার কিংবা কাস্টম– কেউই তা অর্জন করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিয়মিত বিডার এবং আর রেজা প্রতিষ্ঠানের মালিক সৈয়দ জহিরুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দরপত্রের সাথে আমরা ব্যাংক পে-অর্ডার জমা করে দিতাম। যারা লোয়েস্ট বিডার তাদের পে-অর্ডার ৪ থেকে ৬ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত পেতাম। কিন্তু ই-অকশনের ক্ষেত্রে নিয়ম করা হয়েছে, দরপত্র জমা দেয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। এতে বিডারদের সময়ক্ষেপণ হবে এটি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ই-অকশনে যারা সর্বোচ্চ বিড করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই কেবল ব্যাংক পে-অর্ডার জমা দিতে হবে– এই নিয়ম রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত ই-অকশনের কোনো সুফল পাচ্ছি না।’

আর অ্যান্ড এইচ সিন্ডিকেটের কর্ণধার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অনলাইন নিলামে অংশ নিইনি। কারণ, ওই নিলামে পে-অর্ডারের টাকা কখন ফেরত পাওয়া যাবে, তা বলা হয়নি। সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি বা দুটি কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু কাস্টমস ২০০ থেকে ৩০০ আইটেমের নিলাম ডাকে। এতে ৪৫০-৫০০ জন অংশ নেন। পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করা কঠিন কাজ।’

উপকমিশনার ফয়সাল বিন রহমান বলেন, ‘প্রথম নিলামে কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। আমরা যেভাবে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দিতে চেয়েছিলাম, সেভাবে দেয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ই-পেমেন্ট পদ্ধতি এখনও ই-অকশনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। আরও কিছু ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার নিলামযোগ্য পণ্য পড়ে আছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে নিলামযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য পড়ে রয়েছে। এতে আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার রাখতে প্রায়ই স্থান সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। তাই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ নিলাম প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ হিসেবে ই-অকশনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। তাদের মতে, এ পদ্ধতিতে নিলামপ্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুততর হবে।

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

পোশাক খাতে নতুন সংগঠন বায়লার আত্মপ্রকাশ

পোশাক খাতে নতুন সংগঠন বায়লার আত্মপ্রকাশ

শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশনের (বায়লা) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা।

বায়লার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার হোসেন সায়েম আর সাধারণ সম্পাদক ইনডেট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল শাহরিয়ার আহমেদ।

দেশে পোশাক শিল্প খাতে যুবা উদ্যোক্তাদের নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জাতীয় রপ্তানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের পশ্চাৎসংযোগ এবং অগ্রগামী শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত যুবা উদ্যোক্তারা সংঘটিত হয়ে নতুন এই সংগঠনের নাম দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশন (বায়লা)।

শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশনের (বায়লা) প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার হোসেন সায়েম। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইনডেট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল শাহরিয়ার আহমেদ। তাদের নেতৃত্বে সংগঠনটিতে ১৬ জন বোর্ড মেম্বার ছাড়াও শতাধিক সদস্য রয়েছেন। তবে প্রতিদিনই এক সদস্য সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

যাত্রার শুরুতে সংগঠনের নেতারা জানান, ‘এর সব সদস্য অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়সী। সংগঠনটি নতুন প্রযুক্তির প্রসার ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে (আরএমজি) আরো এগিয়ে নিতে তরুণ নেতৃত্ব হিসাবে কাজ করবে।’

এছাড়া পোশাক শিল্পের নান্দনিকতা বৃদ্ধির এবং নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। নতুন নতুন সুযোগ ও সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চাৎ সংযোগ এবং অগ্রগামী শিল্পের উন্নয়নের লক্ষেও খাতসংশ্লিষ্ট নেতৃস্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ করে সব শিল্পের উন্নয়নে বায়লার কাজ করে যাওয়ার কথা জানানো হয়।

বায়লার বাকি বোর্ড মেম্বারদের মধ্যে হাসিন আরমান ট্রেজারার, সাকিব আহমেদ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, রাফি মাহমুদ ও এম কে আলম ভাইস প্রেসিডেন্ট, আকিব জাফরি শারীফ অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি।

বায়লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট একেএম সেলিম ওসমান এমপি, বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী এবং বিজিএমইএ-এর সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান।

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ

চ্যালেঞ্জটা শুধু সরকারের নয়, সবার: পারভেজ

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

আমরা যেসব দেশ থেকে কোটামুক্ত, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিলাম, সেসব দেশের সঙ্গে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে সেগুলো সরকারের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই সম্মানের এই অর্জনের সুফল পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

‘বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুনভাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে এই অর্জন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের রেটিং বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনা সহজ হবে।’

টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আনোয়ার পারভেজ একাধারে ইভেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান।

দেশের গার্মেন্টস শিল্প এখনও অনেক দেশ থেকে কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে বিদ্যমান সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হলে সমাধান কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সুযোগসুবিধা এখন ছাড় দিতে হবে। এ জন্য আমরা যেসব দেশ থেকে কোটামুক্ত, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিলাম, সেসব দেশের সঙ্গে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’

এ জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। সরকারকে এ জন্য অ্যাকশন-প্ল্যান তৈরি করতে হবে।’

‘আমরা ক্রমশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে যাচ্ছি। আমরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও প্রবেশ করেছি। যেখানে টিকে থাকতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন। দক্ষ জনবল প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম দফায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করে। তারপর নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেতে হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সিডিপির দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও বাংলাদেশ প্রতিটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মানদণ্ডের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। সে অনুযায়ী ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা বাংলাদেশের।

করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠাসহ সব প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্ন করতে বাড়তি দুই বছর সময় পেয়েছে বাংলাদেশ।

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে যে আমরা বাড়তি দুই বছর সময় পেয়েছি। আমাদের এটা মনে রাখতে হবে সময় চলে যায়। তাই সময় পাওয়া গেছে এ জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলে হবে না। আমাদের কর্মপরিকল্পনাগুলো এখনই চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নে নেমে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

সক্ষমতা প্রমাণের যাত্রা শুরু, পেল আট চ্যালেঞ্জের বার্তা

সক্ষমতা প্রমাণের যাত্রা শুরু, পেল আট চ্যালেঞ্জের বার্তা

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে রপ্তানিতে থাকবে না শুল্ক সুবিধা, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় অর্জন ব্যাহত হবে, রেয়াতি ঋণ সুবিধা মিলবে না, বাড়বে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি, মেধাস্বত্ব সুবিধা উঠে যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করতে হবে, প্রবাসী আয় কমবে এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি বাড়বে।

উন্নয়নশীল দেশে চূড়ান্ত উত্তরণে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণের যাত্রা শুরু হলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ উত্তরণ জাতি হিসেবে আত্মতৃপ্তি এবং মর্যাদার হলেও এটি একই সঙ্গে কঠিনতম চ্যালেঞ্জেরও। কারণ উত্তরণের সুফল ভোগ করার জন্য কিছু মূল্যও দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগামীতে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে প্রতিদিন মোটা দাগে আটটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা থাকবে না, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় অর্জন ব্যাহত হবে, রেয়াতি ঋণ সুবিধা মিলবে না, বাড়বে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি, মেধাস্বত্ব সুবিধা উঠে যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করতে হবে, প্রবাসী আয় কমবে এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি বাড়বে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরণের মধ্য দিয়ে পাওয়া এসব চ্যালেঞ্জের মূল বার্তা হলো আগামীতে বাংলাদেশকে নিজের সক্ষমতা দিয়েই চলতে হবে। কারও দয়ায় আর নয়।

“এখানে চ্যালেঞ্জের মূল কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবেশ-পরিস্থিতি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনুকূলে নয়। এ ‘বৈরি’ পরিবেশের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে নিজের সক্ষমতা দেখাতে হবে।”

আরেক শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উত্তরণের বহুমাত্রিক সুফল আছে। তবে সেটি আমরা কতটা মসৃণভাবে ভোগ করতে পারব, তা নির্ভর করছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত সেই সক্ষমতা প্রমাণের ওপর।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উত্তরণে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি আসবে রপ্তানি খাতে। যেসব বাজার বাংলাদেশকে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, উত্তরণের কারণে ২০২৬ সালের পর তা আর থাকবে না।

এতে প্রতি ১০০ টাকার রপ্তানিতে আগের চেয়ে সাড়ে ৭ টাকা বেশি খরচ দিতে হবে। অর্থাৎ এ পরিমাণ আয় কম হবে। ফলে তখন প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এটা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রবল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) জরিপে উল্লেখ করা হয়, রপ্তানি আয় ৫.৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে প্রতি বছর মোট রপ্তানি আয়ের দেড় বিলিয়ন থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে হারাতে হবে।

উত্তরণের আরেকটি ঝুঁকি হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর স্বল্প সুদ, বিনা সুদের ঋণ এবং অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর ফলে বাংলাদেশকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হবে। ফলে স্বল্প রাজস্ব আয় দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। এ প্রক্রিয়ার সঠিক সমন্বয় না হলে অভ্যন্তরীণ অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।

এ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশেই উত্তরণের পর প্রবৃদ্ধিতে পতন দেখা গেছে। বৈদেশিক সাহায্য এবং রেমিট্যান্সেও পতন ঘটে। ফলে তাদের যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তার ওপর একটা নতুন চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কর আদায়ের পরিমাণ না বাড়লে এ সমস্যা আরও জোরালো হয়।

আবহাওয়াগত বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এ সমস্যা আরও প্রকট হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের স্থানচ্যুতি ও জীবিকার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক অবস্থানে প্রায় নয় লাখ রোহিঙ্গার ব্যয়ভারও এ অর্থনীতিকে বহন করতে হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব আগামীতে শুধু অর্থনীতি নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে, যা মোকাবিলা করার সক্ষমতা বাংলাদেশকে নিজস্বভাবে অর্জন করতে হবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের যে নীরব বিপ্লব শুরু হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় উন্নয়নশীলে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।

‘জাতিসংঘের দেয়া এ স্বীকৃতি সরকারের আগামী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গতিশীল করে তুলবে। তাই যেসব চ্যালেঞ্জগুলো সামনে আসবে, সেগুলো সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা ঠিক করে উত্তরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ২০১৮ সাল থেকেই শুরু করেছে সরকার।’

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তোফায়েল আহমেদ।

আরও পড়ুন:
৯৯৯ এ কল, সাগর থেকে পর্যটক উদ্ধার
বেহাল জেটি: সেন্টমার্টিনে কমছে পর্যটক
সেন্টমার্টিনে আটকা ৪৫০ পর্যটক

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg