ঋণ জালিয়াতিতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি মনে করছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের প্রণোদনা সুবিধা দেয়া ঠিক হবে না।
খেলাপি ঋণ সম্পর্কে তার অভিমত, এটি কমেছে, তবে তা কাগজে-কলমে। করোনার মধ্যে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হতে পারে বলে আশাবাদী তিনি।
করোনাকালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্সসহ অর্থনীতির নানা ইস্যুতে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজেনেসের অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু কাওসার ও শেখ শাফায়াত হোসেন।
করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ পর্যন্ত ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব প্যাকেজ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জগুলো কী?
করোনা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমরা অনেক পণ্য আমদানি-রফতানি করি। বৈদেশিক লেনদেন করি। দেশের অভ্যন্তরে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আগে থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অনিয়ম –দুর্নীতিসহ নানাবিধ সমস্যা ছিল, করোনার মধ্যে তা আরও প্রকট হয়েছে।
আমাদের সমস্যা অন্যদের তুলনায় একটু বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে সরকার। আমি মনে করি, প্যাকেজগুলো মোটামুটি বিস্তৃত। আমাদের যে পরিমাণ সম্পদ আছে সে তুলনায় এসব প্যাকেজ যথাযথ। সমস্যা হলো, প্যাকেজগুলো ব্যাংকনির্ভর। ফলে এই প্যাকেজ বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ।
প্যাকেজগুলো বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নগদ জমার বাধ্যবাধকতা (সিআরআর) ও নীতি সুদহারে ছাড়সহ নানা ধরনের সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর নগদ অর্থ চলে এসেছে। ব্যাংকগুলো বলতে পারবে না যে, তারা টাকার অভাবে ঋণ দিতে পারছে না। চার-পাঁচ মাসের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া রফতানি ও কৃষিখাত যথাযথভাবে অগ্রাধিকার পায়নি, ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। অনেকে চাকরি হারিয়েছে, অনেকে অর্ধেক বেতনে কাজ করছে। রফতানি খাত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও তৈরি পোশাক খাতের বৈচিত্র্যকরণ না হওয়ায় এ খাতেও কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধি আশাব্যাঞ্জক, কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন হবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখনও সেভাবে আসেনি।
প্রণোদনা তহবিলের বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বড় ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র উদ্যাক্তরা তুলনামূলক কম সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ জিডিপির ২৫ শতাংশ অবদান রাখা এসএমই খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনার বক্তব্য কী?
এটা দুঃখজনক ব্যাপার। কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি দেখলে হবে না, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে আসে। এসব খাতে যথাযথভাবে প্রণোদনা না দিলে নতুন কর্মসংস্থান হবে না। এখানে বড় ঘাটতি আছে।
বড় শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ ইতোমধ্যে শেষ। ব্যাংক কর্মকর্তারা বড় গ্রাহকদের প্রতি বেশি নমনীয়। এটা ঠিক নয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা গতানুগতিক কাজ করছেন। তাদের উচিত এখন যুদ্ধের ময়দানে যেভাবে সবাই কাজ করে, তেমনটা করা।
ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা কখনো ঋণ পায়নি, বেশি টাকা দরকার তাদেরই। অথচ, ব্যাংক বলছে, লেনদেনের রেকর্ড না থাকলে ঋণ পাবে না।
এই অজুহাত দেখালে হবে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতিটি ব্যাংককে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ বিতরণে আলাদা করে নির্দেশ দিতে হবে।
এসএমই খাতের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংককে আলাদা করে বসতে হবে। দলবল নিয়ে বসে কোনো কাজ হয় না। আমি গভর্নর ছিলাম। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে সব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসলে তারা অনেক নীতি বাক্য বলে একসময় চলে যাবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে বাড়তি প্রণোদনার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
এ দাবি তারাই করছে, যারা প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। যারা যত সুবিধা পান, তত বেশি সুবিধা চান।
কারা নতুন করে দাবি তুলেছে তা সবাই জানে। ছোট-মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের দাবি করতে পারছে না। তাদের কণ্ঠ অনেক ক্ষীণ।
আমি মনে করি, বড়দের জন্য প্যাকেজ সুবিধা চট করে বাড়ানো ঠিক হবে না। কারণ, এর জন্য সরকারের বাজেটের বিষয় রয়েছে। অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা আছে। যেটা করা দরকার তা হলো, বর্তমান প্যাকেজের আওতায়, ছোটদের জন্য দেয়া বরাদ্দ দ্রুত শেষ করা।
করোনার মধ্যে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও খলাপি বলা যাবে না। ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনেকই সমালোচনা করে বলেছেন, খেলাপিদের আরও ছাড় দিয়েছে সরকার। আপনি কী মনে করেন?
কিছুদিন পর আবার দাবি উঠবে এই সুবিধাও আরও বাড়িয়ে দাও। যত বেশি সুবিধা দেবে সরকার, ততই চাইবে ঋণ খেলাপিরা।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, করোনার আগে যেসব ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি টাকা ফেরত দেয়নি, কিংবা পরিচালনার ভুলে যাদের ব্যবসা ডুবে গেছে- তারা যদি এখন প্রণোদনা নিয়ে ব্যবসা চালাতে চায় সেটা কঠিন হবে। এদের পেছনে টাকা ঢালা অপচয় হবে। যাদের ব্যবসা সম্ভাবনাময়, তাদেরকে সুবিধা দিলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
সুবিধার সময় আরও বাড়ানো উচিত বলে কি আপনি মনে করেন?
একটা সময়ের পর এ সুবিধা তুলে নিতে হবে। সুবিধার তো শেষ নেই। যত বেশি দেয়া হবে, প্রত্যাশা ততই বাড়বে। এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে।
২০০৯ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা। সেটা এখন বেড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
একের পর এক ঋণ অবলোপন সুবিধা দিয়ে ব্যাংকগুলোর স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) থেকে কু-ঋণ বাদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে (প্রভিশনিং) বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বেশি মুনাফা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এভাবে কাগজে-কলমে খেলাপিঋণ কম দেখানো হচ্ছে।
এখন সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া দরকার ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার ওপর। তাছাড়া ঋণজালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে খেলাপি ঋণ বাড়তেই থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন ব্যবসার স্বার্থে এ ছাড় দেয়া হয়েছে। আপনি কি মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্তে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে?
কথাটা ঠিক নয়। যদি ধরে নেই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ছাড় দেয়া হয়েছে তাহলে এর প্রতিফলন কোথায়? কর্মসংস্থান কি বেড়েছে? মানুষের আয় কি বেড়েছে? ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা কি ঘুরে দাঁড়িয়েছে? এখনো তেমন কিছু আমরা দেখতে পাইনি।
করোনা মহামারির মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ অর্জনকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
রিজার্ভ বাড়ার অনেক কারণ রয়েছে। রফতানির তুলনায় আমদানি এখন কম। এটা একটি বড় কারণ। নিট বৈদেশিক আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি অবদান রাখছেন প্রবাসীরা। আমি তাদের বলি ‘আনসাং হিরো’। তাদের অনেকেই হয়ত দেশে ফিরে আসবে বলে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।
রফতানি খাতে সরকারকে অনেক ধরনের প্রণোদনা দিতে হয়। সে তুলনায় রেমিট্যান্সে প্রণোদনা কম। তবে শিল্প খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কম বলে রিজার্ভ বাড়লেও তাতে লাভ নেই।
সার্বিক অর্থনীতিতে এই রিজার্ভের কোনো প্রতিফলন দেখছি না। হ্যাঁ, একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে রিজার্ভ বাড়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রা শক্তিশালী হচ্ছে ।
ব্যাংকে অলস টাকা থাকার বিষয়টি যেমন, বাড়তি রিজার্ভও আমার কাছে তেমন মনে হয়। তার মানে আবার এই নয় যে, বাড়তি রিজার্ভ হঠাৎ করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ কিংবা অবকাঠামো খাতে ব্যয় করতে হবে। সেটা আবার হিতে বিপরীতে হতে পারে।
ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি কমিশন গঠনের দাবি বহু পুরানো। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে সরকার। এ কমিশন করা কী উচিত?
অবশ্যই দরকার। কেন সরকার পিছিয়ে গেল বুঝলাম না। ব্যাংক খাতে নানা ধরনের সংস্কারের ফলে ২০০৯ সালের আগে এ খাতের ইতিবাচক অবদান ছিল।
গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাতের আইনি কাঠামো কিছুটা পেছনে হেঁটেছে। আইন সংশোধন করে ব্যাংক পরিচালনায় একই পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এটা মোটেই ঠিক হয়নি। এজন্যই কমিশন দরকার।
সরকার যদি কমিশন না করতে চায়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ব্যাংক খাতের বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ ও নীতি কাঠামো প্রণয়নের কাজ হতে পারে।
তবে হইচই করে বা ঢাকঢোল পিটিয়ে কোনো কিছু করার দরকার নেই। এখানে আলোচনা হবে খোলামেলা। কয়েকজন মিলে গোপনে বৈঠক করে পরে একটি প্রতিবেদন দিলে, তা আলোর মুখ দেখবে না।
আইএমএফের সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের শীর্ষ তিনে থাকবে বাংলাদেশ। মাথাপিছু জাতীয় আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে...
গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভালো করছে। অন্য অনেক দেশের তুলনায় সত্যিই ভালো করছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রবৃদ্ধির এই সংখ্যাটি একটি সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই সংখ্যাটি মানুষের পুরোপুরি কল্যাণ বহন করে না।
মানুষের জীবন যাত্রার মান, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, যাতায়াতের সুব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন-এসব সূচকের সঙ্গে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সামাঞ্জস্য নয়। প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও মানুষের জীবন মানে যে উন্নতি হচ্ছে তেমনটি নয়। প্রবৃদ্ধির সুফল সবাই যাতে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
সামনে অর্থনীতির প্রধান চ্যলেঞ্জগুলো কী?
অর্থনীতি কিছুটা মন্থর হলেও গতিহীন হয়ে পড়েনি। এটা একটা ভালো দিক। তবে কয়েকটি খাত যেমন- কৃষি ও কর্মসংস্থানে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল শস্য নয়, প্রযুক্তিগত চাষাবাদ, উদ্যানতত্ত্ব এসব খাতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। কেননা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা একটা বড় বিষয়। শুধু চালে স্বয়ংসম্পন্ন হলে চলবে না, অন্য খাতেও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং যারা দেশে ফিরে আসছে তাদের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে হবে।
আইএমএফ সম্প্রতি বলেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর গতি ফের শ্লথ হয়ে গেছে। আপনি কী মনে করেন?
বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রথম থেকেই শ্লথ হয়ে পড়েছে। চীন ছাড়া সব দেশেরই অবস্থা একই। সেক্ষেত্রে আগের মতো জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮/৯ শতাংশ হবে না। তবে অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে হলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা ও কর্মসংস্থানে বেশি নজর দিতেই হবে।
দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির যে ধারা তার সঙ্গে পুঁজিবাজারের তেমন সামঞ্জস্য নেই, আপনার বক্তব্য কী?
এটা ঠিক যে, আমাদের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। অন্যান্য দেশে দেখা যায়, সেখানকার অর্থনীতি বাড়তে থাকলে পুঁজিবাজার অর্থায়নের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়। আমাদের দেশে এটা উল্টো। এখানে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সবাই ব্যবসা করতে চায়, পরে খেলপি হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন ব্যাংক নির্ভর শিল্পখাত দেখা যায় না।
সময় এসেছে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের দিকে যাওয়ার। এখান থেকে অর্থ নিয়ে বড় শিল্প কারখানায় দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমরা সেদিকে যেতে পারছি না।
পুঁজিবাজারের সমস্যা আছে। এখানে তথ্য পাচার ও নানা ধরনের কারসাজি হয়। দুইবার বড় কেলেঙ্কারি হলেও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের কোনো বিচার হয়নি।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারি দিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করা যাবে না। ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আরও আসতে হবে। বন্ড বাজার শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে এখন সবই সরকারি বন্ড, করপোরেট খাতে বন্ড বাড়াতে হবে।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফ ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আপনার মতে এবার জিডিপি কত হতে পারে?
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পূর্বাভাস নিয়ে আমি কখনোই সন্তুষ্ট নই। এসব সংস্থার হিসাবে বিস্তর ব্যবধান। তবে চলতি অর্থবছরে সরকার নির্ধারিত ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে না। আমার ধারণা, এবার প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হতে পারে।
করোনার মধ্যে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলে তা হবে অনেক ভালো। কারণ, পৃথিবীর অনেক দেশেরই এবার ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে না, সে দিক থেকে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে মাসব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যাক্টিভেশন’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন হয়। দুই আয়োজনেই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের ২৭টি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে নগদ ব্র্যান্ডেড ক্যারাভানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং জনপ্রিয় ক্রীড়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপজুড়ে চলবে আয়োজনটি।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, স্পোর্টস কুইজ, ফুটবলভিত্তিক গেমস এবং প্লেস্টেশন ৫ গেমিং প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে মিনি ফুটবল, নগদ ব্র্যান্ডেড জার্সি, রিস্টব্যান্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
প্রথম দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের টেনিস কোর্টে। এতে জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় মাতসুশিমা সুমাইয়া অংশ নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন কুইজ, ফুটবলভিত্তিক আয়োজন ও গেম শোতে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রিয় ফুটবল তারকার সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজনীন নাহার নিপা বলেন, ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন সত্যিই আমাদের চমকে দিয়েছে। মাতসুশিমা সুমাইয়ার মতো তারকাকে কাছ থেকে দেখা এবং বিভিন্ন ফুটবল ও গেমিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের এই আমেজ আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নগদকে ধন্যবাদ।
একই দিনে ঢাকা কলেজেও অনুষ্ঠিত হয় নগদের বিশ্বকাপ অ্যাক্টিভেশন কর্মসূচি। সেখানে শিক্ষার্থীরা স্পোর্টস কুইজ, গেমস ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নগদের হেড অব মার্কেটিং এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদ উল্লেখ করেছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। নগদ প্রতিদিন নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত আর্থিক সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলছে।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ কুইজ ও রিচার্জভিত্তিক ক্যাম্পেইনও চালু করেছে নগদ। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার পাশাপাশি বিদেশে জাতীয় ফুটবল দলের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ২১ টি কর্পোরেট শাখার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপসহ সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স সংগ্রহের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও ২০২৬ সালের সকল ব্যবসায়িক সূচকসমূহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর্পোরেট শাখা প্রধানগণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এসময় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসুমা আলম, মো. আবুল বাশার ও রূবানা পারভীন, মহাব্যবস্থাপকগণ, সার্কেল প্রধান ও কর্পোরেট শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, উদ্ভাবন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন বস্ত্র প্রস্তুতকারক, সোর্সিং পেশাজীবী, ক্রেতা, ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিল্প নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনাব রাজেশ ভগত (চেয়ারম্যান ও এমডি, ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া), জনাব মুরালি বালকৃষ্ণ (জয়েন্ট ডিরেক্টর, টেক্সপ্রোসিল), জনাব মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু (সভাপতি, বিজিবিএ) এবং জনাব মোহাম্মদ হাতেম (সভাপতি, বিকেএমইএ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সপোর্ট উইং প্রধান জনাব আব্দুর রহিম খান।
ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৩০০-এর বেশি বুথ অংশগ্রহণ করছে, যা চারটি নির্ধারিত প্রদর্শনী হলে বিস্তৃত। প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফাইবার, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, কৃত্রিম ফাইবার, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, কম্প্লায়েন্স সলিউশন, ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি এবং টেকসই বস্ত্র উদ্ভাবন।
টেক্সপ্রোসিল, মেটেক্সিল এবং পিডেক্সসিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’-এ ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে, যারা তুলা, এমএমএফ, টেকসই ফেব্রিক এবং মূল্য সংযোজিত সোর্সিং সমাধান উপস্থাপন করছে। ‘চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়ন’-এ চীনের প্রধান বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক অংশগ্রহণ করছে, যারা ফ্যাশন ফেব্রিক, ফাংশনাল ম্যাটেরিয়াল, প্রযুক্তিগত বস্ত্র এবং পোশাক অ্যাকসেসরিজ উপস্থাপন করছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল প্যাভিলিয়ন’ এই পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে, যেখানে তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং এবং উজবেকিস্তান থেকে আগত প্রদর্শকরা সোর্সিং পেশাজীবীদের জন্য উন্নত বস্ত্র প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্স ফেব্রিক উপস্থাপন করছেন।
জনাব আব্দুর রহিম খান বলেন, "উদ্ভাবন, কম্প্লায়েন্স এবং দক্ষ মানবসম্পদে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও বস্ত্র সোর্সিংয়ের পরবর্তী অধ্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, ইনটেক্স বাংলাদেশের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।"
জনাব রাজেশ ভগত বলেন, "ইনটেক্স বাংলাদেশের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো এই শিল্পখাতকে উচ্চমানের সরবরাহকারী, বৈচিত্র্যময় পণ্য উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ প্রদান করা। এই প্ল্যাটফর্মটি একটি বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্ব বাজারে যুক্ত হতে পারে — কেবল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে।"
প্রদর্শনীর পাশাপাশি, হল ৪-এর ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ’-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন: “স্কেলিং সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্রস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনস” (১৮ জুন, টেক্সটাইলজেনেসিসের সহযোগিতায়) এবং “ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স” (২০ জুন, ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায়), যেখানে আলোচনা করা হচ্ছে ট্রেসেবিলিটি, টেকসইতা এবং বিশ্ব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে।
এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ভারত, হংকং, চীন, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোর্সিং পেশাজীবী এবং ক্রেতা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি পেয়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) মোহাম্মদ মামুন ফারুক।
তিনি এখন হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের (ডব্লিউবিডি) প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামুন ফারুক ১৯৯৯ সালে সিটি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগ দেন। ব্যাংকিং পেশায় তার অভিজ্ঞতা ২৬ বছরের বেশি সময়ের।
এমটিবিতে তিনি শাখা ব্যাংকিং, ট্রেড অপারেশনস ও রিলেশনশিপ ব্যাংকিং এবং করপোরেট ব্যাংকিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক স্থাপনা শান্তা পিনাকলে নতুন আউটলেট চালু করেছে বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সুন্দরা’।
নতুন এই আউটলেটে ১৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিউটি, পারফিউম, স্কিনকেয়ার ও অন্যান্য লাইফস্টাইল পণ্য পাওয়া যাবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্টোর নেটওয়ার্কের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফরম sundora.com.bd -এর মাধ্যমেও গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজারে পরোটার চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বুধবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাজীপুরে অবস্থিত কারখানায় একটি নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন কিনে স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান বাজার চাহিদা মোকাবিলা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কোম্পানি মনে করছে, নতুন উৎপাদন লাইন চালু হলে পরোটা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়বে।
তবে নতুন উৎপাদন লাইনের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, স্থাপনের সময়সীমা কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে— এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএসইর প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোল্ডেন হারভেস্টের অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন ২১৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ কোটি ৫৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬২১টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ, বিক্রেতা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দারাজের বিনিয়োগ ও পরিচালনা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি এ অবস্থান স্পষ্ট করে। দারাজ জানিয়েছে, আলোচিত বিষয়গুলো তাদের বর্তমান কৌশলগত অগ্রাধিকার বা দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতিফলন নয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
গত এক বছরে দারাজ প্ল্যাটফর্মে ৭ হাজারের বেশি নতুন বিক্রেতা যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতা ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে দারাজ। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অনুদান দেওয়া হয়।
দারাজ বাংলাদেশের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “দারাজ বাংলাদেশে তার কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।”
দারাজ জানিয়েছে, বিক্রেতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহক অভিজ্ঞতার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারে তারা কাজ চালিয়ে যাবে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তারকে সামনে রেখে শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিষ্ঠানটি মনে করে।
মন্তব্য