মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সময়ে বাস্তব সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে পজিটিভ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
জানুয়ারি ১৬, ২০২০ তারিখে পুঁজিবাজারে যখন লেনদেন তলানিতে চলে যাচ্ছিল, বিনিয়োগকারীরা যখন হতাশায় ভুগছিল, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং আইসিবি যখন বিনিয়োগে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছিল, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের পলিসি মেকারদের সাথে একটি সভা করেন। উক্ত সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছয়টি short-term ও long-term measures পুঁজিবাজারে প্রয়োগ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো
- পুঁজিবাজারে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়িয়ে সক্ষমতা বাড়ানো;
- মার্চেন্ট ব্যাংক ও ইনস্টিটিউশনদের জন্য সহজ ক্রেডিট সুবিধা;
- রাষ্ট্র ও মালিকানাধীন আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানো;
- স্টক মার্কেটে কনফিডেন্স আনার পদক্ষেপ নেয়া;
- ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া এবং
- আইপিওর মাধ্যমে ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানি, বহুজাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা।
ইতিমধ্যেই প্রত্যেক ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ডিভিডেন্ড দেয়ার ব্যাপারে যুগান্তকারী আইন পাস করেছে, অর্থাৎ কোম্পানির Retained Earnings থেকে একটি অংশ ডিভিডেন্ড অবশ্যই দিতে হবে এবং ডিভিডেন্ড হিসেবে ক্যাশ যা দেবে, তার ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে পারবে।
গত ১০ বছর যদি আমরা দেখি প্রায় সকল কোম্পানি শুধু বোনাস শেয়ার দিতে উৎসাহিত ছিল। এতে করে স্পন্সর/ডিরেক্টর/প্রমোটাররা লাভবান হতো আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
কোভিড-১৯-এর কারণে বাজার যখন তলানিতে চলে যাচ্ছিল, তখন ১৯ মার্চ ২০২০ তারিখে প্রত্যেক শেয়ারে একটি যৌক্তিক ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যা ছিল একবারে ঐতিহাসিক। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম একটি নির্দিষ্ট প্রাইসের নিচে ট্রেড হবে না।
অনেকে আমরা ফ্লোর প্রাইস নিয়ে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু আজ প্রমাণ হয়, ওইটা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সর্বনিম্ন দামে শেয়ার বিক্রি থেকে রক্ষা করেছে।
কোভিড-১৯-এর কারণে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বর্তমান সরকার বাজেটে যে সুযোগ দিয়েছে, তা আরও ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী। সুদের হার ছয়-নয় নির্ধারণ করা, কালো টাকা সাদা করার সহজ সুবিধা যা পুঁজিবাজারের তারল্যের জন্য অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে, তাতে করে বাজারে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে, যা পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে বড় ধরনের সহায়তা করছে।
বন্ড মার্কেটকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য Up-Front এ ট্যাক্স কর্তনের প্রভিশনটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে লেনদেনের ওপর আরোপিত ট্যাক্স বিনিয়োগকারীর স্বার্থে বিলুপ্ত করা হয়েছে। জিরো কুপন বন্ডের আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে। বন্ড মার্কেট নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর সুফল দেশব্যাপী পেতে শুরু করবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক প্রস্তাবিত টাকা ১০০০ কোটি মিউনিসিপ্যাল বন্ডের একটি বড় উদাহরণ।
বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সরকার পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা/জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল লিস্টেড কোম্পানি, ব্রোকার, স্টক এক্সচেঞ্জ ডিলার, ইস্যুয়ার, মার্চেন্ট ব্যাংকার, অডিটর, অ্যাসেট ম্যানেজার, অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন কোম্পানিসহ সকলকে সঠিক আইন মেনে ব্যবসা করার স্বার্থে নির্দেশ প্রদান করেছে।
কোনো প্রকার অনিয়ম বা প্রতারণা করা চলবে না। যেমন: স্পন্সর/ডিরেক্টর/প্রমোটার সবাইকে (একক ও সম্মিলিতভাবে) ২% থেকে ৩০% শেয়ার ধারণ করতে হবে। পুঁজিবাজারের জন্য এটা খুব ভালো দিক যে, ইতিমধ্যেই ভালো মৌলভিত্তিক অনেক কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২% থেকে ৩০% শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা পরিপালন করেছে।
আমি মনে করি যেসব কোম্পানি ২% থেকে ৩০% শেয়ার ধারণ প্রতিপালনের জন্য সময় চেয়েছে, তাদের তা প্রদান করা যেতে পারে। যারা এ বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণ উদাসীন, তাদের পর্ষদ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা উচিত।
কোম্পানিগুলোতে ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। যোগ্য ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর নিয়োগ দিতে হবে যারা নিজ স্বার্থের বাইরে শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করবে। তারা স্পন্সর ডিরেক্টরদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।
সরকার পুঁজিবাজারে সুশাসনে প্রচণ্ড গুরুত্বারোপ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার Z-Category কোম্পানির মানদণ্ড ঢেলে সাজানো হয়েছে। কোম্পানির যারা নিয়মিত এজিএম করে না, ডিভিডেন্ড দেয় না, পুঞ্জীভূত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে বেশি ইত্যাদি।
Z-Category Settlement Period change করা হয়েছে। স্পন্সর/ডিরেক্টর/প্রমোটারদের Block Module এ রাখা হয়েছে। Dutch-Action Method চালু করা হয়েছে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে। লক-ইন পিরিয়ড শুরু হয় প্রথম লেনদেনের তারিখের ওপর ভিত্তি করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজার নিয়ে ১০ বছর আগে তার দূরদর্শী বক্তব্যে বলেছিলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আসবে পুঁজিবাজার থেকে। ব্যাংক শুধু দেবে স্টার্ট আপ/ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল। এর জন্য ভালো ভালো সরকারি শেয়ার পর্যায়ক্রমে ক্যাপিটাল মার্কেটে ছেড়ে বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। কিন্তু আমাদের যারা এটা বাস্তবায়ন করবেন, তারা সে সময় বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিনিস্ট্রি অব ফাইন্যান্স/ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিনিস্ট্রি/ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জেসহ অন্যরা সে রকম কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি, যার ফলে ব্যাংক থেকে সব শিল্পপতি লোন নিতে পছন্দ করেন, কারণ সেখানে কোনো জবাবদিহিতা নাই।
এই কারণে বিগত ১০ বছরে ব্যাংক প্রদত্ত বিপুল পরিমাণ লোন, Non-Performing Loan-এ পরিণত হয়েছে, যা অর্থনীতিতে ঋণখেলাপির একটি কালচার তৈরি করেছে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিএসইসি গত ১০ বছরে অনেক আইন সংশোধন করেছে, রুলস তৈরি করেছে, আবার নিজেদের মতো আইন/রুলস বানিয়েছে যা পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো এক্সচেঞ্জে প্রযোজ্য নয়। পুঁজিবাজার চলবে কঠোর নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে। সুবিধামতো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ইনডেক্সকে নিয়ন্ত্রণ করাও ছিল একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। বাজার চলবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই বাজারকে ভালো করার সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর প্রয়োগও শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা কখন কোন শেয়ার কিনবে, কেন কিনবেন, কোন দামে কিনবেন, এসব তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তারা চায় Circular Trade, Insider trade ও মার্কেট ম্যানিপুলেশন যাতে বন্ধ হয়, বিভিন্ন লিস্টেড সিকিউরিটিজের Earnings Per Share, Price Earnings Ratio, Net Asset Value, Companies Growth, Reserve, Business Expansion এর তথ্য যেন ঠিক থাকে।
সরকারের পলিসি হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ পার্টিসিপেশন বাড়ানো। সেই জন্য ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ডিপোজিটের সুদের হার কম হওয়ায় বাজার যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই পুঁজিবাজার হবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার টাকার প্রধান উৎস এবং ব্যাংক থেকে টাকা নেয়ার চাপও কমে যাবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিভিডেন্ড পলিসির কারণে সকলে এর সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রতিটি ভালো লিস্টেড কোম্পানি ভালো ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়া শুরু করছে এবং এই বছরে কোভিড-১৯ সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ভালো মুনাফা করেছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ৯ মাসের মুনাফা এর ভালো উদাহরণ।
আমার বক্তব্য হলো এখন আমরা যারা পুঁজিবাজারের সাথে জড়িত, যেমন: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ ব্যাংক, মিনিস্ট্রি অব ফাইন্যান্স, লিস্টেড কোম্পানি, ট্রেক হোল্ডার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সবাই যার যে দায়িত্ব আছে, তা যদি সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে এবং অর্থনীতিতে ভালো অবদান রাখবে।
আমরা যেন ইমোশন দিয়ে না চলি, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলি, বাজারে যার যার অবস্থান থেকে সঠিক কাজগুলো করি। এখানে ব্যর্থতার সুযোগ নাই।
যার যার দায়িত্বের জবাব তাকেই দিতে হবে। তিনি যদি নেতৃত্বে থাকেন তাহলে ইমোশন থেকে বের হয়ে কাজ করতে হবে।
বন্ড মার্কেট, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এসএমই মার্কেট, এটিবি বোর্ডকে effective করতে হবে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট যেমন Sukuk, ETF চালু করতে হবে। আমরা যেন একক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ না করি, যে যেখানে দায়িত্বে আছি, নিয়ম মেনে কাজটা করি। কারও ব্যর্থতার দায় কেউ নেবে না। আমাদের সেটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। দিনের শেষে সবাইকে তার কাজের জবাবদিহিতা করতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সে যত প্রভাবশালী হোক।
আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করি, সবাই মিলে বিনিয়োগকারীদের সঞ্চিত টাকার একটি অংশ পুঁজিবাজারে আনার পথ করে দেই, যাতে করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে; অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় এবং সর্বোপরি দেশ অনেক এগিয়ে যায়। অন্তত আগামী ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ বাজার মূলধন জিডিপি অনুপাত বর্তমান ১৪ শতাংশ থেকে অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়।
লেখক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে মাসব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যাক্টিভেশন’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন হয়। দুই আয়োজনেই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের ২৭টি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে নগদ ব্র্যান্ডেড ক্যারাভানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং জনপ্রিয় ক্রীড়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপজুড়ে চলবে আয়োজনটি।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, স্পোর্টস কুইজ, ফুটবলভিত্তিক গেমস এবং প্লেস্টেশন ৫ গেমিং প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে মিনি ফুটবল, নগদ ব্র্যান্ডেড জার্সি, রিস্টব্যান্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
প্রথম দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের টেনিস কোর্টে। এতে জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় মাতসুশিমা সুমাইয়া অংশ নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন কুইজ, ফুটবলভিত্তিক আয়োজন ও গেম শোতে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রিয় ফুটবল তারকার সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজনীন নাহার নিপা বলেন, ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন সত্যিই আমাদের চমকে দিয়েছে। মাতসুশিমা সুমাইয়ার মতো তারকাকে কাছ থেকে দেখা এবং বিভিন্ন ফুটবল ও গেমিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের এই আমেজ আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নগদকে ধন্যবাদ।
একই দিনে ঢাকা কলেজেও অনুষ্ঠিত হয় নগদের বিশ্বকাপ অ্যাক্টিভেশন কর্মসূচি। সেখানে শিক্ষার্থীরা স্পোর্টস কুইজ, গেমস ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নগদের হেড অব মার্কেটিং এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদ উল্লেখ করেছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। নগদ প্রতিদিন নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত আর্থিক সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলছে।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ কুইজ ও রিচার্জভিত্তিক ক্যাম্পেইনও চালু করেছে নগদ। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার পাশাপাশি বিদেশে জাতীয় ফুটবল দলের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ২১ টি কর্পোরেট শাখার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপসহ সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স সংগ্রহের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও ২০২৬ সালের সকল ব্যবসায়িক সূচকসমূহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর্পোরেট শাখা প্রধানগণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এসময় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসুমা আলম, মো. আবুল বাশার ও রূবানা পারভীন, মহাব্যবস্থাপকগণ, সার্কেল প্রধান ও কর্পোরেট শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, উদ্ভাবন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন বস্ত্র প্রস্তুতকারক, সোর্সিং পেশাজীবী, ক্রেতা, ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিল্প নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনাব রাজেশ ভগত (চেয়ারম্যান ও এমডি, ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া), জনাব মুরালি বালকৃষ্ণ (জয়েন্ট ডিরেক্টর, টেক্সপ্রোসিল), জনাব মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু (সভাপতি, বিজিবিএ) এবং জনাব মোহাম্মদ হাতেম (সভাপতি, বিকেএমইএ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সপোর্ট উইং প্রধান জনাব আব্দুর রহিম খান।
ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৩০০-এর বেশি বুথ অংশগ্রহণ করছে, যা চারটি নির্ধারিত প্রদর্শনী হলে বিস্তৃত। প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফাইবার, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, কৃত্রিম ফাইবার, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, কম্প্লায়েন্স সলিউশন, ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি এবং টেকসই বস্ত্র উদ্ভাবন।
টেক্সপ্রোসিল, মেটেক্সিল এবং পিডেক্সসিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’-এ ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে, যারা তুলা, এমএমএফ, টেকসই ফেব্রিক এবং মূল্য সংযোজিত সোর্সিং সমাধান উপস্থাপন করছে। ‘চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়ন’-এ চীনের প্রধান বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক অংশগ্রহণ করছে, যারা ফ্যাশন ফেব্রিক, ফাংশনাল ম্যাটেরিয়াল, প্রযুক্তিগত বস্ত্র এবং পোশাক অ্যাকসেসরিজ উপস্থাপন করছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল প্যাভিলিয়ন’ এই পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে, যেখানে তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং এবং উজবেকিস্তান থেকে আগত প্রদর্শকরা সোর্সিং পেশাজীবীদের জন্য উন্নত বস্ত্র প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্স ফেব্রিক উপস্থাপন করছেন।
জনাব আব্দুর রহিম খান বলেন, "উদ্ভাবন, কম্প্লায়েন্স এবং দক্ষ মানবসম্পদে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও বস্ত্র সোর্সিংয়ের পরবর্তী অধ্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, ইনটেক্স বাংলাদেশের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।"
জনাব রাজেশ ভগত বলেন, "ইনটেক্স বাংলাদেশের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো এই শিল্পখাতকে উচ্চমানের সরবরাহকারী, বৈচিত্র্যময় পণ্য উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ প্রদান করা। এই প্ল্যাটফর্মটি একটি বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্ব বাজারে যুক্ত হতে পারে — কেবল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে।"
প্রদর্শনীর পাশাপাশি, হল ৪-এর ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ’-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন: “স্কেলিং সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্রস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনস” (১৮ জুন, টেক্সটাইলজেনেসিসের সহযোগিতায়) এবং “ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স” (২০ জুন, ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায়), যেখানে আলোচনা করা হচ্ছে ট্রেসেবিলিটি, টেকসইতা এবং বিশ্ব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে।
এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ভারত, হংকং, চীন, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোর্সিং পেশাজীবী এবং ক্রেতা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি পেয়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) মোহাম্মদ মামুন ফারুক।
তিনি এখন হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের (ডব্লিউবিডি) প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামুন ফারুক ১৯৯৯ সালে সিটি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগ দেন। ব্যাংকিং পেশায় তার অভিজ্ঞতা ২৬ বছরের বেশি সময়ের।
এমটিবিতে তিনি শাখা ব্যাংকিং, ট্রেড অপারেশনস ও রিলেশনশিপ ব্যাংকিং এবং করপোরেট ব্যাংকিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক স্থাপনা শান্তা পিনাকলে নতুন আউটলেট চালু করেছে বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সুন্দরা’।
নতুন এই আউটলেটে ১৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিউটি, পারফিউম, স্কিনকেয়ার ও অন্যান্য লাইফস্টাইল পণ্য পাওয়া যাবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্টোর নেটওয়ার্কের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফরম sundora.com.bd -এর মাধ্যমেও গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজারে পরোটার চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বুধবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাজীপুরে অবস্থিত কারখানায় একটি নতুন পরোটা উৎপাদন লাইন কিনে স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান বাজার চাহিদা মোকাবিলা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কোম্পানি মনে করছে, নতুন উৎপাদন লাইন চালু হলে পরোটা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়বে।
তবে নতুন উৎপাদন লাইনের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, স্থাপনের সময়সীমা কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে— এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএসইর প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোল্ডেন হারভেস্টের অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন ২১৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ কোটি ৫৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬২১টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ, বিক্রেতা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দারাজের বিনিয়োগ ও পরিচালনা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি এ অবস্থান স্পষ্ট করে। দারাজ জানিয়েছে, আলোচিত বিষয়গুলো তাদের বর্তমান কৌশলগত অগ্রাধিকার বা দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতিফলন নয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
গত এক বছরে দারাজ প্ল্যাটফর্মে ৭ হাজারের বেশি নতুন বিক্রেতা যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতা ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে দারাজ। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি অনুদান দেওয়া হয়।
দারাজ বাংলাদেশের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “দারাজ বাংলাদেশে তার কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।”
দারাজ জানিয়েছে, বিক্রেতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহক অভিজ্ঞতার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারে তারা কাজ চালিয়ে যাবে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তারকে সামনে রেখে শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিষ্ঠানটি মনে করে।
মন্তব্য