× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
বাংলাদেশকে এসএমই খাতকে গুরুত্ব দিতে বলল কানাডা
google_news print-icon

বাংলাদেশকে এসএমই খাতকে গুরুত্ব দিতে বলল কানাডা

বাংলাদেশকে-এসএমই-খাতকে-গুরুত্ব-দিতে-বলল-কানাডা
বাণিজ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে সহায়তায় স্বীকৃতি পাওয়া ২৯ ট্রেড প্রফেশনাল। ছবি: নিউজবাংলা
কানাডার হাইকমিশনার জানান, কানাডার অনেক বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক তাৎপর্য বিবেচনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে কানাডা সরকার সব সময়ই অগ্রাধিকার দেয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাই কমিশনার বেনোইট প্রিফনটেইন। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশও এটা অনুসরণ করতে পারে।

শনিবার ‘এক্সপোর্ট লঞ্চপ্যাড বাংলাদেশ’ শীর্ষক ট্রেড প্রফেশনালদের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসএমই খাত নিয়ে নিজ দেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন বেনোইট।

তিনি জানান, কানাডার ৯০ শতাংশ মানুষ এসএমইখাত নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশও এটা অনুসরণ করতে পারে। এ জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

রাজধানীর হোটেল আমারিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে দেশের নয়টি শিল্প, ব্যাংক, ট্রেড, চেম্বার ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে মোট ২৯ জন বাংলাদেশি ট্রেড প্রফেশনালকে বাণিজ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সহায়তার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে কানাডা-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা তুলে ধরেন হাইকমিশনার বেনোইট প্রিফনটেইন। জানান, কানাডার অনেক বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

‘এখানকার উদ্যোক্তারা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। বড় কোম্পানিরগুলোর পাশাপাশি এসএমই খাতের উদ্যাক্তারাও কৃষি খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কানাডা সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, বাংলাদেশ সরকারও এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এসএমই খাতের গুরুত্ব নিয়ে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে সরকার।

‘এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চলমান অর্থনীতির যে ভিত্তি তার নেপথ্যে এসএমই খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এসএমই পণ্য শুধু দেশেই নয়, চাহিদা মেটানোর পর আমরা এখন রফতানিও করছি।’

মন্ত্রীর দাবি, করোনার ধাক্কায় দেশের অন্যান্য খাতের মতো এসএমই খাত কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বেড়েছে উৎপাদন ও সেবার প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা। সেখানে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা।

টিপু মুনশি বলেন, বর্তমানে কানাডায় এক বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হচ্ছে। আমরা এসএমই পণ্য রফতানি বাড়িয়ে এই আয় আরও বাড়াতে চাই। এসএমই পণ্যের রফতানি বাড়লে খাতটিও টেকসই হবে।

কানাডায় বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘কানাডা অনেক বড় বাজার। আমরা সব ধরনের পণ্য রফতানি করে কানাডার বাজারটাকে ধরতে চাই। আগামী তিন বছরে দেশটির সঙ্গে চলমান রফতানি আয় দ্বিগুণ করতে চাই।

‘সম্প্রতি সেখানকার একটি প্রদেশে পলিথিনের ব্যবহার সেখানে নিষিদ্ধ করেছে। বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের সেখানে পাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ বেড়েছে। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’

কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাস্তবমূখী প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের পরিচালক হানি সালেম সম্বল, টিএফও কানাডার নির্বাহী পরিচালক স্টিভ টিপম্যান, অতিরিক্ত বাণিজ্য সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান ও নারী উদ্যোক্তা ইশরাত জাহান চৌধুরী প্রমুখ।

সনদদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই), বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি), ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ডিসিসিআই), এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি), এসএমই ফাউন্ডেশন (এসএমইএফ), ওমেন এন্ট্রারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডব্লিওইএবি) এবং ওমেন এন্টারপ্রেনার নেটওয়ার্ক ফর ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিওইএনডি)।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার টাকা দ্রুত ছাড় চায় এসএমই ফাউন্ডেশন
করোনায় এসএমইর জন্য সম্ভাবনা
এসএমই প্রণোদনা: সময় বাড়ল ঋণ বিতরণের
ক্ষুদ্রশিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণে পরিবর্তন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Increasing reserves by borrowing is not sustainable Ahsan Mansoor

ধার করে নিয়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি টেকসই হয় না: আহসান মনসুর

ধার করে নিয়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি টেকসই হয় না: আহসান মনসুর পল্টনে শনিবার ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: নিউজবাংলা
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচার বন্ধের মতো টেকসই পথে হেঁটে রিজার্ভ বাড়াতে হবে। প্রবাসী আয়ে যে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করে দেয়া দরকার। কারণ ডলারের দাম বাজারভিত্তিক হয়ে গেছে। এসব প্রণোদনা খাচ্ছে দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে যুক্ত স্বার্থান্বেষী মহল।’

দেশের ব্যাংক খাতে নানামুখী সংস্কারের প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

নির্বাচনের আগে আর্থিক খাত সংস্কারে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ। জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতে এখন ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজনটা দেশের স্বার্থেই।

রাজধানীর পল্টনে শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ড. আহসান এইচ মনসুর এসব কথা বলেন।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রসঙ্গে ড. মনসুর বলেন, ‘অন্য দেশ বা সংস্থা থেকে ধার করে এনে রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, যা কখনোই টেকসই হবে না। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচার বন্ধের মতো টেকসই পথে হেঁটে রিজার্ভ বাড়াতে হবে।’

প্রবাসী আয়ে যে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে মত দেন ড. মনসুর। ‘ডলারের দাম বাজারভিত্তিক হয়ে গেছে। এসব প্রণোদনা খাচ্ছে দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে যুক্ত স্বার্থান্বেষী মহল’, মন্তব্য করেন তিনি।

আহসান মনসুর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কার আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও কিছুই হয়নি। এটা খুবই হতাশাজনক।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে সেটা ভালো। তবে তাদের দেয়া সংস্কার শর্তগুলো নিজেদের স্বার্থেই পূরণ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমানত খেয়ে ফেলেছি। এভাবে কতদিন ব্যাংক চলবে? ব্যাংক খাত নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার। সেটা বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়ে নয়, করতে হবে সরকারকে। ব্যাংক খাতে আজ কেন এই অবস্থা তা খুঁজে বের করতে হবে।’

‘দেশের অর্থ বাইরে যাওয়া বন্ধ না হলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বর্তমানে ব্যাংকের আমানত ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানুষের ব্যাংকের প্রতি আস্থা কমে গেছে, যা ফেরাতে হবে। দেশের আর্থিক খাতের এই সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই, অভিমত দেন এই অর্থনীতিবিদ।

ড. মনসুর বলেন, ‘বর্তমানে টাকা ছাপিয়ে অচল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে রক্ষার নামে টাকা ছাপানো অব্যাহত রাখা হলেও মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

‘শুধু তাই নয়, টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টাকা ছাপানো বন্ধের বিকল্প নেই।’

তথ্য লুকানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ বলা হলেও তা আসলে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এই খাতের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না করে কার্পেটের নিচে রেখে দিলে একসময় গন্ধ বের হবে। এভাবে সমস্যা জিইয়ে রাখলে কোনো সমাধান আসবে না।

‘ঋণ আদায় না করে ঋণের সুদকে আয় দেখিয়ে মুনাফা দেখাচ্ছে অনেক ব্যাংক। সেই মুনাফার অর্থ থেকে দেয়া হচ্ছে লভ্যাংশ। সরকারকে ট্যাক্সও দিচ্ছে তারা। আসলে কোনো আয়ই হয়নি, উল্টো আমানতের অর্থ লুটে খাচ্ছে। ঘরের থালাবাটি বেচে ব্যাংকগুলো কোরমা-পোলাও খাচ্ছে।’

এভাবে চললে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে পারবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’: ড. দেবপ্রিয়
মানবসম্পদ উন্নয়ন না হলে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা
‘এনবিআরের মূল সমস্যা লিডারশিপ’
প্রবৃদ্ধিতে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The excuse of rain in the vegetable market is the added suffering of the buyer

সবজির বাজারে বৃষ্টির অজুহাত, ক্রেতার বাড়তি ভোগান্তি

সবজির বাজারে বৃষ্টির অজুহাত, ক্রেতার বাড়তি ভোগান্তি ফাইল ছবি।
রাজধানীতে শুক্রবার ভোর থেকেই ছিল ভারী বর্ষণ। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। আর কাঁচাবাজারে সবজির দাম যেন এদিন সেই ভোগান্তি আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে সব সবজির দামই বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীতে শুক্রবার ভোর থেকেই ছিল ভারী বর্ষণ। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। আর কাঁচাবাজারে সবজির দাম যেন এদিন সেই ভোগান্তি আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির অজুহাতে এদিন সবজির দাম আগের দিনের তুলনায় ছিল বেশি।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজিই বিক্রি হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি দামে। টমেটো ২০০ টাকা কেজি এবং পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এ ছাড়া প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৫০- ১৭০ টাকায়, শসা ৮০-১২০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ২৬০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে হঠাৎ করে বেগুনের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। লম্বা বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৮০-১০০ টাকায়। আর সবুজ গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০- ১০০ টাকায়। কালো গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর মেরাদিয়া হাট বাজার, গোড়ান বাজার, খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজারসহ বেশকিছু বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল ৮০-৯০ টাকায়, পেঁপে ৫০-৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৭০- ৮০ টাকায়, পটল ৫০-৬০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি ১০০- ১২০ টাকায়, কচুর লতি ৮০- ১০০ টাকায়, কচুরমুখী ১০০- ১২০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায়। প্রতিটি লাউ ৭০- ৮০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা করে।

সবজির বাজারে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দাবি করছেন, বন্যায় ও বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাজারে নাকাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। প্রতিনিয়তই বাজারে এসে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষের।

প্রায় দেড় মাস ধরে কোরবানির ঈদের আগে থেকেই বাজারে পেঁয়াজের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়।

দক্ষিণ বনশ্রীর এলাকার এক মুদি দোকানি জানান, গত সপ্তাহ দেশি পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা হয়েছে। এই দাম শুনলে ক্রেতারা তেমন একটা কিনতে চায় না। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কম হলেও বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে নিম্নমানের ভারতীয় পেঁয়াজ মিশিয়ে বিক্রি করছেন অনেকে। ফলে দেশি পেঁয়াজের দামে বিক্রি হচ্ছে কম দামি ভারতীয় পেঁয়াজ। যদি ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যেত তাহলে দাম হতো সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
দেশজুড়ে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য চলছে
আলু পেঁয়াজ ডিমের দাম কঠোরভাবে তদারকি হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাজারে আগুন, ডিম-সবজি-মাছের দাম বাড়ছেই
ঘোষণার ৫ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম
ময়মনসিংহে এক মাসে কেজিতে ৮০ টাকা বাড়ল ব্রয়লারের দাম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trade in local currency will strengthen economies in SAARC countries Governor

সার্কভুক্ত দেশে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে: গভর্নর

সার্কভুক্ত দেশে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে: গভর্নর শুক্রবার চট্টগ্রামে রেডিসন ব্লু’র মোহনা হলে সার্ক ফাইন্যান্স সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিময় ঝুঁকি ও লেনদেন খরচ কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, সার্কভুক্ত দেশে স্থানীয় মুদ্রা বাণিজ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্কের সদস্য দেশগুলোতে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার চট্টগ্রামে রেডিসন ব্লু’র মোহনা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন: সার্ক দেশগুলোর জন্য সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সার্ক ফাইন্যান্স সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় মুদ্রা চালুর ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা, নীতি উদ্ভাবন এবং কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমন্বিত আঞ্চলিক অর্থনীতির পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।

আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার দীর্ঘসময় ধরে আধিপত্য করে আসছে। বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ লেনদেন এ মুদ্রার মাধ্যমে হয়ে আসছে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আলোকে এবং ভারসাম্যহীনতার ফলে অনেক দেশ একটি একক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমে আসবে। এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিময় ঝুঁকি ও লেনদেনের খরচ কমবে।

‘নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য করলে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারি। স্থানীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। সেক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও রূপান্তরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন রির্জাভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার চিফ জেনারেল ম্যানেজার আদিত্য গায়হা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সায়েরা ইউনুস।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে গভর্নরের তাগিদ
সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, ডিসেম্বরে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়
বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে গভর্নর রউফের অবস্থানের অবনমন
মুডি’স-এর ঋণমান কমানো ভূরাজনৈতিক, এতে কিছু আসে যায় না: গভর্নর
চার বছরের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস লেনদেন: গভর্নর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
GI recognition for Gopalganj bronze jewellery

গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনাকে জিআই স্বীকৃতি

গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনাকে জিআই স্বীকৃতি
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা নিবন্ধনের জন্য বৃহস্পতিবার ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১২ অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।’

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের গহনা। এটি জেলার দ্বিতীয় পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বাসসকে শুক্রবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা নিবন্ধনের জন্য বৃহস্পতিবার ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১২ অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক জার্নালে প্রকাশ করা হয়।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই স্বীকৃতির ফলে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়া ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারিগরদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তা সহায়ক হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। এতে ব্রোঞ্জ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এলাকার আর্থ-সামজিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে।’

চলতি বছরের ১২ মার্চ জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি চেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়। এর আগে গোপালগঞ্জের রসগোল্লা জেলার প্রথম পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

ব্রোঞ্জ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সুভাষ বৈদ্য বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে প্রায় ১শ’ বছর আগে গড়ে উঠেছে ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির পল্লী। পরে এটি জলিরপাড় ইউনিয়নের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এই পল্লীকে কেন্দ্র করে এখানে ব্রোঞ্জ মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার সুখ্যাতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এটি বিদেশের বাজারে ছড়িয়ে যায়।

‘কিন্তু এই শিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। তাই সম্প্রতিকালে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্রোঞ্জের গহনা আমাদের বাজারের প্রায় ৫০ ভাগ দখল করে নিয়েছে। তারপরও জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনা শতাধিক পরিবার টিকিয়ে রেখেছে। জলিরপাড় ব্রোঞ্জ মার্কেটে এখনও ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে এখনও ব্রোঞ্জের গহনা বিক্রি হচ্ছে।’

ব্রোঞ্জ গহনা প্রস্তুতকারক জলিরপাড় গ্রামের জগদীশ শীল বলেন, ‘ব্রোঞ্জ গহনা তৈরির তামা, দস্তা ও পিতলের দাম বেড়েছে। সহজপ্রাপ্যতা কমেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্রোঞ্জ গহনার রং খুব চকচকে। আমাদের গহনার রং তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

‘সুদৃশ্য, মনোহর ও সৌখিন দামী গহনার বাজার ভারত ও চীনের দখলে চলে গেছে। তাই কানের দুল, হাতের বয়লাসহ যেসব গহনার চাহিদা রয়েছে এমন সব গহনা আমরা তৈরি করি। সরকার এ শিল্পকে আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সব ধরনের সহযোগিতা করলে আমরা ব্রোঞ্জ গহনার শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব।’

জগদীশ আরও বলেন, ‘এখানে এখনও মানসম্পন্ন কারিগর রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে তাদের কাজে লাগিয়ে আমরাও দামি গহনা তৈরি করতে পারি। এতে শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীরা আরও বেশি উপার্জন করতে পারবেন। একইসঙ্গে এই শিল্প দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করবে।’

আরও পড়ুন:
গোপালগঞ্জের রসগোল্লা পেল জিআই পণ্যের স্বীকৃতি
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল মুক্তাগাছার মণ্ডা
টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য ঘোষণা করেছে সরকার
টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বত্ব পেতে অবশেষে আবেদন
টাঙ্গাইলের শাড়িতে ভারতের জিআই স্বত্ব মানা যায় না 

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market passed a good week of bad

’মন্দের ভালো’ সপ্তাহ পার করল পুঁজিবাজার

’মন্দের ভালো’ সপ্তাহ পার করল পুঁজিবাজার ফাইল ছবি।
ক’দিন আগে দুশ-তিনশ কোটির ঘরে নেমে যাওয়া ডিএসইর মোট লেনদেন এ সপ্তাহে ছুঁয়েছে হাজার কোটির ঘর। সব মিলে পুরো সপ্তাহের হিসাবে সূচকের বড় কোনো উত্থান না হলেও লেনদেন নিয়ে সন্তুষ্ট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

টানা পতনের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। এ নিয়ে পরপর তিন সপ্তাহ ধরে অল্প হলেও বেড়েছে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সপ্তাহে অবশ্য সূচকের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। কদিন আগে দুশ-তিনশ কোটির ঘরে নেমে যাওয়া ডিএসইর মোট লেনদেন এই সপ্তাহে ছুঁয়েছে হাজার কোটির ঘর। সব মিলে পুরো সপ্তাহের হিসাবে সূচকের বড় কোনো উত্থান না হলেও লেনদেন নিয়ে সন্তুষ্ট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

মতিঝিলের একটি ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারী হানিফ মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব বিনিয়োগকারী এতদিন চুপচাপ বসে ছিলেন তারাও সজাগ হতে শুরু করেছেন। সূচক ও লেনদেন কিছুদিন বাড়লেই অনেক বিনিয়োগকারী আবার সক্রিয় হবেন। বাজার যেভাবে নিচে নেমেছে এখান থেকে লাভ হওয়ার কতটা সম্ভাবনা আছে তা বিনিয়োগকারীরা ঠিকই জানেন।’

তবে সেজন্য এক/দুই সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস ধরে বাজার ইতিবাচক ধারায় থাকার ওপর জোর দেন এই বিনিয়োগকারী।

‘দেখুন, এখন চীনে বিএসইসি বিনিয়োগ সম্মেলন করছে। অনেকেই বলছেন চীন থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আসবে। আসুক বা না আসুক মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণাটা তৈরি হলেই মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে এটা নিশ্চিত,’ যোগ করেন হানিফ।

সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচ কর্মদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে চার হাজার ৪৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৮৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। লেনদেনের এই পরিমাণ আগের সপ্তাহের গড় লেনদেনের চেয়ে ৪৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। ডিএসইতে এর আগের সপ্তাহে চার কর্মদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিলো ৬১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। গড় কিংবা মোট লেনদেন নিয়ে নিউজবাংলার কাছে সন্তুষ্টির কথা জানান বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারের সঙ্গে থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শিমুল বলেন, ‘পুঁজিবাজারে লেনদেন ভালো হওয়া মানেই বাজার ভালো হওয়ার লক্ষণ।

‘অনেকদিন ধরে বাজারে খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে শেয়ার মার্কেটের ইতিহাস বলে- কিছুদিন খারাপ থাকার পর আবার বাজার ভালো হয়। আমাদের দেশের বাজার অবশ্য কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। এখানে যারা প্লেয়ার তারা অ্যাকটিভ হলেই বাজার ভালো হয়।’

তাহলে কি আপনার হিসাবে প্লেয়াররা আবার অ্যাকটিভ হচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চারদিকে একটা খবর শুনতেছি যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নাকি বাজার অনেক ভালো থাকবে। অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী আবার বাজারে ফিরতে শুরু করেছে বলেও শুনেছি। দেখুন, লেনদেন তো হাজার কোটিও হলো একদিন। আমাদের মতো ক্ষুদ্ররা তো এতো লেনদেন করতে পারে না।’

এদিকে ডিএসইতে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে বাড়তে দেখা যায় সব সূচক। তবে শেষ দুদিনের মূল্য সমন্বয়ে তা স্থায়ী হতে পারেনি। সপ্তাহের শুরুর দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিলো পাঁচ হাজার ৪৯৭ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার দিনশেষে তা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ পয়েন্টে।

অর্থাৎ পুরো সপ্তাহে ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট। পাশাপাশি ডিএসইর এসএমই ইনডেক্স প্রায় ৩০ পয়েন্ট বেড়ে সপ্তাহ শেষে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৫০৮ পয়েন্টে। তবে এ সপ্তাহে কমেছে ডিএসইর নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক।

লেনদেন ইতিবাচক থাকার সপ্তাহেও কমেছে ডিএসইর বাজার মূলধন। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিলো ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা সপ্তাহ শেষে এসে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পুরো সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন খোয়া গেছে ৭ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।

এদিকে পুরো সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ১৫৪টির। আর অপরিবর্তিত ছিলো ২২টি কোম্পানির শেয়ার দর।

পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থাকে মন্দের ভালো বলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, লেনদেনের এই ধারা বজায় থাকলে সাইডলাইনে থাকা বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারমুখী হবে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে দু-তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার ইতিবাচক জায়গায় যাবে। তবে এই বাজারেও কিছু শেয়ার নিয়ে কারসাজি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সেসব শেয়ার না কেনার পরামর্শ দেন তিনি।

‘যদি আপনি মনে করেন আমার বিবেচনায় আমি শেয়ারটি কিনবো, তাহলে ওটি কিনে বিপদে পড়লে দোষ শুধুই আপনার’, মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকারি চাকুরেদের বিনিয়োগের খবরে বড় উত্থান পুঁজিবাজারে
ডিএসইতে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ২৮ হাজার কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক ও লেনদেনে গতি, নেতৃত্বে বিমা খাত
সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bank to publish monetary policy online amid exclusion of journalists

সাংবাদিকদের বর্জনের মধ্যে অনলাইনে মুদ্রানীতি প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

সাংবাদিকদের বর্জনের মধ্যে অনলাইনে মুদ্রানীতি প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইল ছবি।
ঐতিহ্যগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতি দিয়ে থাকে। গভর্নর ও প্রধান অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় ব্যাখ্যা করেন। সাংবাদিকদের বর্জনের মধ্যে এবার সেই ঐতিহ্য ভেঙে জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি অনলাইনে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঐতিহ্য থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের বর্জন এড়াতে মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) অনলাইনে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঐতিহ্যগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য উপস্থিত থাকেন। গভর্নর ও প্রধান অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় ব্যাখ্যা করেন। মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জিং নানা প্রশ্নেরও জবাব দেন তারা।

তবে সেই ঐতিহ্য ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অনলাইনে হালনাগাদের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। সংবাদ সম্মেলনের পরিবর্তে আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৩টায় মুদ্রানীতি (এমপিএস) অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আগে মুদ্রানীতি প্রকাশের সম্মেলন কভার করতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিল।

‘আমরা এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করি না, যেখানে কর্মকর্তাদের অনুমতি পেলেই কেবল সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কথা বলার জন্য একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। ইআরএফ এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগের মতোই ঝামেলামুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকারের দাবি পূরণ না করলে ইআরএফ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠান বর্জন অব্যাহত রাখবে।’

আরও পড়ুন:
ঋণমুক্ত হওয়ার পথ সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
রপ্তানি তথ্যে অসঙ্গতির জন্য দায়ী এনবিআর ও ইপিবি
এক বছরে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
এক সপ্তাহে রিজার্ভ বেড়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার
আর্থিক অভিজাতদের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: সিপিডি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Signing of MoU between Rupali Bank and Pension Authority

রূপালী ব্যাংক ও পেনশন কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

রূপালী ব্যাংক ও পেনশন কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্প্রতি কাকরাইলে পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে কবিরুল ইজদানী খান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি কাকরাইলে পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কবিরুল ইজদানী খান এবং রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সার্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এখন থেকে সব স্কিমের মাসিক কিস্তি আদায়সহ দেশে ও বিদেশে এর যাবতীয় প্রচার-প্রচারণায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে রূপালী ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইলে পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কবিরুল ইজদানী খান এবং রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. মুর্শীদুল হক খান, যুগ্ম সচিব এ. কে এম আতিকুল হক, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শরীফ উদ্দিন, ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কাউসার মোস্তাফিজ ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ডিএমডি হলেন ফয়েজ আলম
নতুন অর্থমন্ত্রীকে রূপালী ব্যাংকের অভিনন্দন
নোয়াখালীর কবিরহাটে রূপালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন
রূপালী ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো উদ্বোধন
দুস্থদের মাঝে রূপালী ব্যাংকের খাবার বিতরণ

মন্তব্য

p
উপরে