× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
টিকার টাকা আসবে কোথা থেকে
google_news print-icon

টিকার টাকা আসবে কোথা থেকে

টিকার-টাকা-আসবে-কোথা-থেকে
বিনা মূল্যে সবাইকে টিকা দিতে চায় সরকার। শুধু অক্সফোর্ডের টিকা কিনলে ১৬ কোটি লোকের জন্য ৩২ কোটি ডোজ টিকা কিনতে খরচ পড়বে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণে লাগবে আরও অর্থ।

আপাতত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির উদ্ভাবিত টিকাই নিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে তিন কোটি টিকা কেনা হবে। প্রতি ডোজ ৫ ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৫ টাকা। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

যদি সব টিকা অক্সফোর্ডের কেনা হয়, তাহলে সরল অঙ্কে ১৬ কোটি লোকের জন্য ৩২ কোটি ডোজ টিকা কিনতে খরচ হবে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

করোনা খাতে সরকারের বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকার পুরোটা ব্যয় করলেও টিকা কেনার ব্যয় কুলাবে না। এ ছাড়া টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণে বিপুল অবকাঠামো তৈরির পেছনে অনেক টাকা খরচ হবে। বিতরণ ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ লাগবে।

এই বিপুল এলাহি কারবারের জন্য কতটুকু প্রস্তুত সরকার?

এই প্রশ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেজ্ঞদের।

অক্সফোর্ডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও মডার্নার টিকাও আছে প্রতিযোগিতায়। ওই দুই কোম্পানির কোনোটার টিকা কিনলে আরও বড় বাজেট লাগবে। কেননা এই দুই কোম্পানির টিকা কয়েক গুণ ব্যয়বহুল। সে তুলনায় অক্সফোর্ডের টিকা সস্তা।

করোনার টিকা বিনা মূল্যে বিতরণের কথা ভাবছে সরকার। যদি তাই হয়, তাহলে সরকারের ভতুর্কি আরও বাড়বে। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে বাজেট ঘাটতি। এ অবস্থায় বিনা মূল্যে টিকা দিলে সরকারের আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের সবার জন্য ভালো মানের করোনার টিকা নিশ্চিত করতে হলে প্রচুর অর্থের দরকার। এত অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য কি সরকারের আছে? যদি না থাকে তাহলে জোগান কোথা থেকে আসবে?

করোনার টিকা হাতে পাওয়ার পর এর ব্যবস্থাপনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান মনে করেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি ‌টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে সেটি বাস্তবায়নের কৌশল তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থায় তিন কোটি টিকা সংরক্ষণের সামর্থ্য সরকারের আছে। টিকা কেনার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যে টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণ করা যাবে, সেই টিকাই কেনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে টিকা কেনার অর্থের উৎস নিয়ে নিশ্চিন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার টিকার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দই দেয়া আছে। যদি তাতে না কুলায় অন্য খাত থেকে টাকা এনে এখানে বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হবে। কারণ করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পরিষ্কার।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ততটা নির্ভার হতে পারছেন না। তারা মনে করেন, করোনার টিকা সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। বিতরণ ব্যবস্থা সরকারের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া না হলে এটি সফল হবে না।

থোক বরাদ্দে টান পড়বে

চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন মিলে মোট বরাদ্দ ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এর বাইরে করোনা সংকট মোকাবিলায় ‍বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে ব্যয় বরাদ্দ থাকে, তার ৯০ শতাংশ যায় বেতন-ভাতা ও প্রকল্পের কেনাকাটায়। ফলে টিকা এলে কিনতে হবে থোক বরাদ্দের টাকা থেকেই। তেমনটাই জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, একটা কৌশলগত সুবিধার দিক হলো টিকা কিনতে একসঙ্গে সব টাকা লাগবে না। ধাপে ধাপে টিকা আনা হবে। কাজেই এবারের বাজেটে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া আছে, তাতে কোনো সমস্যা হবে না।

টিকা আসবে বিভিন্ন দেশ থেকে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথম ধাপে টিকা কেনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৮০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়। এরই মধ্যে ৭৩৫ কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজির অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন করার মতো সক্ষমতা নেই দেশের।

ডা. নজরুল বলেন, ‘টিকা উৎপাদন যেমন, তেমনি বাজারজাতকরণও একটি জটিল প্রক্রিয়া। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ টিকা চায়। বিশেষ করে ধনী দেশগুলো; বাংলাদেশও চায়। তবে আমাদের ধনী দেশগুলোর মতো টাকার জোর নেই। এর মধ্যে অনেক ধনী দেশ ভ্যাকসিনের সংগ্রহে অগাম টাকা দিয়ে রেখেছে।’

ডা. মো. নজরুল বলেন, ‘ধনী দেশের তুলনায় আমাদের দেশের সক্ষমতাও অনেক কম। অন্যান্য দেশ মাথাপিছু ১০টি টিকা নিশ্চিত করলেও বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে ১০০ জনে ১০ জনের টিকা।

‘আমরা সরকারকে অগ্রিম টাকা দেয়ার পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। তবে অনেক পরে সরকার টিকা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেনর (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ডা. মাহবুব-ই রশিদ বলেন, টিকা আনার পর সরকার কীভাবে বিতরণ ও সংরক্ষণ করবে, সে বিষয়ে একটি বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, সংরক্ষণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কিছু হিমাগার আছে। এগুলোর অবকাঠমোর অবস্থা ভালো নয়। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এসব হিমাগার সংস্কার করতে হবে।

বিনা মূল্যে টিকা দিলে জটিলতা বাড়তে পারে। সরকারের ওপর চাপ কমাতে বিতরণ ব্যবস্থায় বেবসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কেননা তিন কোটি টিকা দিয়ে দেশের সব জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদের আরও টিকা লাগবে এবং তা আনা হবে পযার্য়ক্রমে।’

অর্থের জোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘থোক বরাদ্দ থেকে টিকার জন্য বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া বাড়তি টাকা পেতে বিশ্বব্যাংক এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার কাছে আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেকই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাজেই করোনার টিকা কেনায় টাকার কোনো সমস্যা হবে না।’

সরকারের পরিকল্পনা

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সঠিক সময়ে টিকা পেতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে প্রধান উপদেষ্টা করে ২৬ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন কর্মকৌশল তৈরি করছে। যারা টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন করবে তাদের একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে।

এ কাজ শেষ হলে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য সব স্তরে আবশ্যকীয়ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ধারণক্ষমতা মূল্যায়ন, নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম জোরদার, নিরাপদ টিকা তদারকি নিশ্চিত টিকা আমদানি ও মাঠ পর্যায়ে বিতরণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে বাজেট ও কী পরিমাণ জনবল লাগবে সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ জন্য একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে।

কারা আগে টিকা পাবে

টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে একই নিয়ম মানা হয়। বয়স্ক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখ কাতারে (ফ্রন্টলাইনার) যারা আছেন, প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। বাংলাদেশেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যকর্মী ও সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের প্রথমে করোনা টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দেশে ষাটোর্ধ্ব লোকজনকে এ টিকা দেয়া হবে। এরপর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যারা করোনার মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের ও প্রথম ধাপে টিকা দেয়া হবে বলে জানান অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

টিকা সংরক্ষণ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে যেসব টিকা সংরক্ষণাগার রয়েছে, সেগুলোক আগামী ডিসেম্বরের করোনা টিকা রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা সংরক্ষণের জন্য নতুন ফ্রিজ কেনার কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এগুলো কিছু সরকার কিনবে; কিছু দাতারা দেবে।

সিরাম ইন্সটিটিউটের তথ্য বলছে, দুই থেক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকা সংরক্ষণ করতে হবে। এমন তাপমাত্রার মধ্যে হলে টিকা সংরক্ষণে কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া নতুন কোনো কোম্পানির কাছ থেকে টিকা নেয়ার আগে তাপমাত্রার বিষয়টি মাথায় রাখবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফ্রিজ কেনা শেষে বিমানে করে টিকা দেশে নিয়ে আসা হবে। এরপর নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সেন্ট্রাল মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে। দেশের তাপমাত্রা নিশ্চিত করে ফ্রিজে করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে টিকা।

আরও পড়ুন:
সবার জন্য টিকা নিশ্চিতে জোর জি-২০ নেতাদের
যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকা ‘ডিসেম্বরেই’
মডার্নার টিকা ‘২৫-৩৭’ ডলার
করোনার টিকার প্রয়োগ কবে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Case in the name of 7 people including former DG of Health and Dr Sabrina

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ও ডা. সাবরিনাসহ ৭ জনের নামে মামলা

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ও ডা. সাবরিনাসহ ৭ জনের নামে মামলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও ডা. সাবরিনা ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অন্যদের যোগসাজশে মী আরিফুল চৌধুরীর ওভাল গ্রুপের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারকে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুমতি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন।

করোনা টেস্টের ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া ও জাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বুধবার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, জেকেজি হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুল চৌধুরী, অফিস স্টাফ আ স ম সাঈদ চৌধুরী হুমায়ুন কবির ওরফে হিমু, তানজিনা পাটোয়ারী ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের মালিক জেবুন্নেসা রিমা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্য এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে জেকেজি হেলথ কেয়ার নামক একটি লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অন্যদের যোগসাজশে অভিজ্ঞতাহীন, নিবন্ধনবিহীন, ট্রেডলাইসেন্সবিহীন তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর ওভাল গ্রুপের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারকে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুমতি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন।

সূত্র আরও জানায়, বিনামূল্যে বুথ থেকে করোনার স্যাম্পল কালেকশনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে বুথ থেকে স্যাম্পল কালেকশন না করে আসামি ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর নির্দেশে তার অফিসের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট ফি হিসেবে প্রতিটি টেস্টের জন্য আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে ভুয়া ও জাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে ১৫ হাজার ৪৬০টি রিপোর্ট প্রস্তুত করে তা সেবাগ্রহীতাদের কাছে সরবরাহ করে প্রতারণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা অর্থ সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি এবং লকডাউন চলাকালীন ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন সময়ে লকডাউনের মধ্যে মাত্র তিন মাসে ওভাল গ্রুপ এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ভেলবিল সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যা করোনা টেস্টের টাকা বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬৮/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Father seeks help for terminally ill daughter

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত পৃথির জন্য সাহায্য চান বাবা

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত পৃথির জন্য সাহায্য চান বাবা সাবিকুন নাহার পৃথির নাক, কানসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দিয়ে রক্তপাত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
চিকিৎসকরা মনে করছেন, পৃথি হয়তো বিদেশের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তার বাবাও সেটা বিশ্বাস করেন।

দুরারোগ্য রোগে দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত সাবিকুন নাহার পৃথি। তার নাক, কানসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দিয়ে রক্তপাত হয়।

চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইবনে সিনা হাসপাতালসহ অন্য অনেক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ভারতের দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত হাসপাতাল আর্টিমিসে নিয়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও রোগের সঠিক নির্ণয় ও নিরাময়ে ব্যর্থ হন তার বাবা। অবশেষে এখন ঢাকায় ফেরত এসে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ বছরের পৃথি।

হাসপাতালের চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ভর্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডের হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, পৃথি হয়তো বিদেশের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তার বাবাও সেটা বিশ্বাস করেন।

ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন পৃথির বাবা। তাই দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বিশিষ্ট সমাজসেবীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন তিনি। পৃথিকে সাহায্য পাঠানো যাবে নিচের নম্বরে।

Account Name: Md. Alamin, Account no: 0771340027137, Social Islami Bank limited.

Mobile no: 01761351181, 01986591650

আরও পড়ুন:
ভুল চিকিৎসা বলার অধিকার বিএমডিসি ছাড়া কারও নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগীর প্রতি অবহেলা সহ্য করব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দাবদাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ
আরও এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে
চিকিৎসকের ওপর হামলা বা চিকিৎসায় অবহেলা কোনোটাই মেনে নেব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Life and Health Limited and Bangkok Hospital Thailand press conference

লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড ও ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডের সংবাদ সম্মেলন

লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড ও ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডের সংবাদ সম্মেলন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকক হসপিটালের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন ব্যাংকক হসপিটালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিইও ডা. ধুন দামরংসাক এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শক্তি রঞ্জন পাল।

লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড ও থাইল্যান্ডের স্বনামধন্য ব্যাংকক হসপিটাল সোমবার যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকক হসপিটালের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন ব্যাংকক হসপিটালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিইও ডা. ধুন দামরংসাক এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শক্তি রঞ্জন পাল।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নীলাঞ্জনা সেন এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্ণধার ও অপারেশন্স অ্যান্ড মার্কেটিং পরিচালক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ রেজওয়ান।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক
তাপপ্রবাহে মাগুরার হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা
প্রায় এক ঘণ্টা পর নিভল শিশু হাসপাতালের আগুন
রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আগুন
পাবনায় ভুল চিকিৎসায় দুই প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল সিলগালা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Life and Health and Payathai Paholiothin Hospital held a joint press conference

লাইফ অ্যান্ড হেলথ ও পায়াথাই পাহোলিওথিন হসপিটালের যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাইফ অ্যান্ড হেলথ ও পায়াথাই পাহোলিওথিন হসপিটালের যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুই প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পায়াথাই পাহোলিওথিন হসপিটালের পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. ভিরায়া পাওচেরন।

থাইল্যান্ডের স্বনামধন্য হসপিটাল পায়াথাই পাহোলিওথিনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশি রোগীদের সরাসরি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করছে লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেড।

এ বিষয়ে শনিবার একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পায়াথাই পাহোলিওথিন হসপিটালের পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. ভিরায়া পাওচেরন।

ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের ডিভিশনাল ব্যবস্থাপক পাসিনি পাতানাসিরি, আন্তর্জাতিক বিপণন ব্যবস্থাপক জ মিন উ এবং লাইফ অ্যান্ড হেলথ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নীলাঞ্জন সেন, অপারেশন অ্যান্ড মার্কেটিং পরিচালক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ ও এম ফয়সাল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীর কাছে টাকা দাবির অভিযোগ
দেড় মাসে তৃতীয়বারের মতো আগুন ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে
গাজীপুরে হাসপাতালের লিফটে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যু
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Every hospital in the country has antivenom Health Minister

দেশের প্রতিটি হাসপাতালে এন্টিভেনম আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি হাসপাতালে এন্টিভেনম আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: সংগৃহীত
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘চিকিৎসা আছে। তবে সর্প দংশনে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ভ্যাকসিন না থাকায় রোগী মারা গেছে- দয়া করে এই ভুল তথ্য কেউ দেবেন না।’

দেশের প্রতিটি হাসপাতালে রাসেলস ভাইপারের এন্টিভেনম রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন আয়োজিত ‘রাসেলস ভাইপার: ভয় বনাম ফ্যাক্ট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। সূত্র: বাসস

সর্প দংশনে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন না থাকায় রোগী মারা গেছে- দয়া করে এই ভুল তথ্য কেউ দেবেন না। ভুল তথ্য দিলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। রাসেলস ভাইপারের এন্টিভেনম বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালে আছে।’

সামন্ত লাল বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের অনেক হ্যান্ডস আছেন; মেম্বার আছেন, চেয়ারম্যান আছেন। রোগী হাসপাতালে আনার দায়িত্ব যদি আপনারা নেন এবং দ্রুত চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসেন, তাহলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে। রোগী যথাসময়ে হাসপাতালে আনতে হবে। সেটা তো আর চিকিৎসকরা পারবে না।’

রাসেলস ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবাই নিরলস কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ডাক্তার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আমি মনে করি, দেশের মানুষের রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক একদিন চলে যাবে।’

সেমিনারে বৈজ্ঞানিক সেশনে বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আবু রেজা, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন মো. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ রাসেলস ভাইপার সাপ এবং এন্টিভেনম নিয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিনের সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. টিটু মিঞার সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিনের মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকের ওপর হামলা বা চিকিৎসায় অবহেলা কোনোটাই মেনে নেব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘পশুপাখির মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিস্তার লাভ করেছে’
ঈদের দিন আকস্মিক তিন হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ঈদের ছুটিতে কখন কোন হাসপাতালে যাব বলব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Air pollution kills 2000 children every day in the world report

বায়ুদূষণে বিশ্বে প্রতিদিন ২ হাজার শিশুর মৃত্যু: প্রতিবেদন

বায়ুদূষণে বিশ্বে প্রতিদিন ২ হাজার শিশুর মৃত্যু: প্রতিবেদন প্রতীকী ছবি/নিউজ এইটিন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বায়ুদূষণের সংস্পর্শে ৮১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা সব মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ তামাক ব্যবহার ও দুর্বল খাদ্যাভ্যাসকেও ছাড়িয়ে গেছে বায়ুদূষণ।

বায়ুদূষণের সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে সারা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার শিশু মারা যায়। উচ্চ রক্তচাপের পর অকালে মৃত্যুর জন্য এটি দ্বিতীয় প্রধান ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে বুধবার এ দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বায়ুদূষণের সংস্পর্শে ৮১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা সব মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ তামাক ব্যবহার ও দুর্বল খাদ্যাভ্যাসকেও ছাড়িয়ে গেছে বায়ুদূষণ।

ছোট বাচ্চারা বায়ুদূষণের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাটির বার্ষিক স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার প্রতিবেদনের অংশীদার। এ ছাড়া এ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন পরিচালিত গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডি থেকে দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণ পাঁচ বছরের কম বয়সি সাত লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী। এর মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য কয়লা, কাঠ বা গোবরের মতো নোংরা জ্বালানি ব্যবহার করে ঘরের ভেতরে রান্না দায়ী। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই হয়েছে আফ্রিকা ও এশিয়ায়।

হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল হেলথের প্রধান পল্লবী পান্ত বলেন, ‘এগুলো এমন সমস্যা, যা আমরা জানি যে সমাধান করা সম্ভব।’

প্রতিবেদনটিতে আরও দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষই প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর মাত্রার বায়ুদূষণে শ্বাস নেয়। ৯০ শতাংশেরও বেশি মৃত্যু পিএম ২.৫ নামের ক্ষুদ্র বায়ুবাহিত দূষণের সঙ্গে যুক্ত। পিএম ২.৫ নিশ্বাসে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য ছিল বায়ুদূষণের মাত্রার সঙ্গে এ ধরনের রোগের হারকে যুক্ত কর, কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিসংখ্যান সত্ত্বেও প্রতিবেদনটি এখনও বায়ুদূষণের প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করতে পারে বলে পান্ত জানান। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বায়ুদূষণ কীভাবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ বা তাপের জন্য শুষ্ক জ্বালানি ব্যবহারে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী উষ্ণ হওয়ায় ওজোনদূষণ আরও খারাপ হতে পারে। ২০২১ সালে প্রায় এটি পাঁচ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল।

আরও পড়ুন:
খুলি ও টুকরো টুকরো মাংস উদ্ধার: নিখোঁজ শর্মিলার বাবার মামলা
ঢাকা মেডিক্যালে যমজ নবজাতকের একটিকে চুরি
খুলি নিয়ে টানাটানি করছিল কুকুর, বস্তায় মিলল টুকরো টুকরো মাংস
হাওরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
নিখোঁজের ১৭ দিন পর বাড়ি ফিরছে শিশুটি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There are preparations to deal with dengue Health Minister

ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সামন্ত লাল সেন বলেন, সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি যথেষ্ট। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওষুধপত্র, স্যালাইনসহ হাসপাতালে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

রোববার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। খবর বাসসের

সামন্ত লাল সেন বলেন, সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি যথেষ্ট। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।

যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা উচিত।

জেনেভা সফর নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ফাইলেরিয়া নির্মূল এবং বিশ্বে প্রথম কালাজ্বর নির্মূল করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ৭৭তম সাধারণ সভায় তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মহাপরিচালক বলেছেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ হতে পারে একটি যথাযথ রোল মডেল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যাবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) মো. আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

মন্তব্য

p
উপরে