অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আরও বিনিয়াগের জন্য নরওয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকায় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। এই দেশে কেউ বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কাজেই নরওয়েরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।’
নরওয়েকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জাহাজ তৈরি ও মেরামত কারখানা, পানিসম্পদ ও নদী ড্রেজিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে নরওয়ের ব্যবসায়ীদের।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবেশ, সুশাসন, জেন্ডার ও মানবাধিকার, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ রয়েছে নরওয়ের।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত অর্থমন্ত্রীকে বলেন, ‘নরওয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘনিষ্ঠ করতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চাই আমরা।’
বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এসপেন রিকটার। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে বাংলাদেশে প্রথম এসেছিলেন তিনি। সেই বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। এ সময়ে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছে মন্তব্য করে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।
ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাধা প্রদানের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে ঘটা এই অনভিপ্রেত আচরণকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, এই বিষয়ে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজকের দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাবো।’
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি গত রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত জেরার মুখে পড়তে হয় এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে এবং তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও, তিনি এই আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ পাসপোর্ট ফেরত চান। এরপর তিনি দিল্লি না ঢুকে কলম্বো হয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মর্যাদা ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য থাকা সত্ত্বেও এমন ব্যবহার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দাবি করবে বলে জানা গেছে। সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির সাথে এমন ব্যবহার আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল নগরীর ভেতর থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে ঢাকার দুই প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নগর পরিবহনের সংস্কার নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা একমত হন যে, নগরীর প্রধান প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অবস্থিত এই তিনটি টার্মিনাল যানজটের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই জনভোগান্তি কমাতে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যানজট নিরসনে এটি বর্তমান প্রশাসনের তৃতীয় দফার বৈঠক ছিল, যেখানে নগরীর ট্রাফিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
‘ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন’ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গত রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে নামার পরই নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ভারতীয় নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) তার নাম শনাক্ত হওয়ায় তাকে আটকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডা. জাহেদ নিজেই তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হওয়ায় তাকে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে ঘটেছে। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে তার নাম অপসারণ করা হলেও ভারতের অভিবাসন বিভাগের ডেটাবেসে সেই তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয় এবং তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় উপদেষ্টা সফরটি বাতিল করে দ্রুত দেশে ফেরার পথ বেছে নেন।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।
একইসঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মুশফিকুর রহমানকে।
রোববার (১৪ জুন) সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিই ১০ সদস্যবিশিষ্ট। দুই ক্ষেত্রেই জামায়াত ইসলামীর দুইজন এবং এনসিপির একজন করে এমপিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, চাঁদপুর-২ আসনের জালালউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসন মইনুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবদিন। আর এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহ।
অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নোয়াখালী-১ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন, পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, সংরক্ষিত নারী আসনের শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ। এছাড়া, এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠন করা বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ বেঞ্চে প্রথম কার্যদিবসেই ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ এই বেঞ্চ গঠন করেছেন। প্রথম কার্যদিবসে তালিকাভুক্ত ২০টি মামলার মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সি শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা।’
তিনি জানান, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি মামলার শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মুলতবি চাওয়া হবে না। আছিয়া হত্যা মামলার অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারকরা জানান, কার্যতালিকার শুরুতে থাকা ২০১৯ সালের মামলাগুলোর আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। সে কারণে সেসব মামলার শুনানিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগ থাকলে আছিয়ার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
রোববারের কার্যতালিকায় থাকা ২০টি মামলার মধ্যে মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাশাপাশি ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার শুনানির জন্যও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এ টিম বিরতিহীনভাবে মামলাটির শুনানি পরিচালনা করবে, যাতে নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।
রোববার নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।
তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।
সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।
এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব
নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।
মন্তব্য