× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

ফ্রান্স থেকে পণ্য আসে ‘কম’, রফতানি পাঁচ গুণ

ফ্রান্স-থেকে-পণ্য-আসে-কম-রফতানি-পাঁচ-গুণ
বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার ফ্রান্স। গত অর্থবছরে দেশটিতে রফতানি হয়েছে ১৭০ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী আমদানি ৩২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

ফ্রান্সের সঙ্গে বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে। দেশটি থেকে বাংলাদেশ যত টাকার পণ্য আমদানি করে রফতানি করে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে ১৭০ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা দুই হাজার ৭২৮ কোটি টাকার পণ্য দেশে এসেছে।

বাংলাদেশের পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাকের একটি বড় বাজার ফ্রান্স। বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি পোশাক পণ্য রফতানি হয়, তার মধ্যে ফ্রান্সের অবস্থান তৃতীয়।

অন্যদিকে শিল্পের বেশ কিছু কাঁচামাল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, বেশ কিছু খাদ্যপণ্য আর জীবন্ত পশু পাখির জন্য দেশটির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ২৫ কোটি ডলারের জার্সি, ৩৪ কোটি ডলারের ট্রাউজার, দুই কোটি ১৫ লাখ ডলারের অন্যান্য তৈরি পোশাক, প্রায় চার কোটি ডলারের বক্ষবন্ধনী, দুই কোটি পাঁচ লাখ ডলারের চিংড়ি ও কাঁকড়া, ৩৯ লাখ ডলারের স্লিপিং ব্যাগ, ১৭ লাখ ডলারের সবজি ফ্রান্সে রফতানি হয় গত অর্থবছরে।

এছাড়া বাইসাইকেল, টাইলস, জুতা, সিন্থেটিক ফাইবারের তাবু, টাওয়েল, কম্বল, টি-শার্ট, সুগন্ধি চালসহ বেশ কিছু পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে যেসব পণ্য আসে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে জীবন্ত পশু পাখি। ২০১৮-১৯ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ডলার।

৪৭ লাখ ডলারের দুধ ও মাখন আমদানি হয় দেশটি থেকে।

এ ছাড়া বিট লবণ, চিনির সিরা, বেকিং পাউডার, কীটনাশক, সুতা, লোহা ও ইস্পাত, নোঙ্গর, বৈদ্যুতিক পণ্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও একই জাতীয় পণ্য, হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ, আপেল, অলিভ অয়েল, মেডিকেল ফার্নিচার, ঘড়ি, টেলিফোন সেট, স্মার্টকার্ড, বিয়ারিং, ছুরি-চাকু, ইমিটেশন গয়না, বই, প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল, দামি সুগন্ধিসহ দুইশর বেশি ধরনের তৈরি পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল ফ্রান্স থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে আসে।

এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।

বর্তমানে এই চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ট্রেড সার্ভিস ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহমুদুল হক। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।

এই চেম্বারটি ১৯৯৬ সাল থেকে দুই দেশের পণ্যের বাজার বাড়াতে নিয়মিত প্রদর্শনীসহ নানা ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নিট পণ্য রফতানির বড় বাজার ফ্রান্স। এই দেশটিতে আমরা আরও বেশি পণ্য রফতানি করতে চাই। বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্রান্সে পণ্য রফতানিতে অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।’

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনা ফ্রান্সের জন্যও সুবিধাজনক। এ কারণে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, ‘চীন বা ভিয়েতনাম বা অন্য কোনো দেশ থেকে পোশাক আমদানি করতে হলে ফ্রান্সের খরচ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। কেননা ওইসব দেশ, বিশেষ করে চীনে পোশাক-পণ্যের দাম বেশি, শুল্কও বেশি। বাংলাদেশ পোশাক রফতানির ওপর অনেক ধরনের শুল্কছাড় পায়। সেক্ষেত্রে পোশাক নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ফ্রান্সের খুবই ভালো একটি গন্তব্য।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Two children of tea workers with GPA five want to become doctors
এসএসসি-২০২৪

চিকিৎসক হতে চায় চা শ্রমিকের জিপিএ ফাইভ পাওয়া দুই সন্তান

চিকিৎসক হতে চায় চা শ্রমিকের জিপিএ ফাইভ পাওয়া দুই সন্তান এসএসসিতে ভালো ফলের খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু টাকা দেন স্বর্ণালী তেলী ও অরুপ সিংহকে। কোলাজ: নিউজবাংলা
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অদম্য মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণে অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী সাফল্য পেয়েছে। তাদের প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

পারিবারিক অভাব-অনটনের মধ্যেও নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে গেছে অরূপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী। এর ফলও পেয়েছে দুজন। এসএসসির চলতি বছরের পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দুই চা শ্রমিকের এ দুই সন্তান।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া এ দুই শিক্ষার্থীর মা-বাবার পাশাপাশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে দুই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে। এখন তাদের লক্ষ্য চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা।

কমলগঞ্জের শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়ে পাস করে কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক বীরেন্দ্র সিংহের ছেলে অরূপ সিংহ। অন্যদিকে ক্যামেলীয়া ডানকান ব্রাদার্স ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় চা শ্রমিক সুদর্শন তেলীর মেয়ে স্বর্ণালী তেলী।

এসএসসিতে ভালো ফলের খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু টাকা দেন দুই শিক্ষার্থীকে। তাদের প্রশাসন থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।

অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলীর ভাষ্য, উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে তারা।

চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেছে তারা।

অরূপ সিংহের বাবা বীরেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘কষ্ট করে এত দূর এসেছে তারা। আমাদের যত কষ্ট হোক, সন্তানদের পড়াশোনা করাব। মানুষের মতো মানুষ করে তুলব। পাশাপাশি সকলের সহযাগিতা কামনা করছি।’

একই ধরনের বক্তব্য দেন স্বর্ণালী তেলীর বাবা সুদর্শন তেলী।

শমশেরনগর এএটিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির ধর চৌধুরী বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও অরূপ সিংহের মনোবল ছিল দৃঢ়। তার সাফল্যে আমরা গর্বিত।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অদম্য মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণে অরুপ সিংহ ও স্বর্ণালী তেলী সাফল্য পেয়েছে। তাদের প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে, কমেছে জিপিএ ফাইভ
শতভাগ জিপিএ ফাইভ ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে
সিলেটে পাসের হার জিপিএ ফাইভ কমার যে কারণ জানাল বোর্ড
মাদ্রাসা বোর্ডে দেশসেরা এনএস কামিল মাদ্রাসা
পাসের হার ও জিপিএ ফাইভে এবারও এগিয়ে ছাত্রীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Many diagnostic and clinics are running without license in Kurigram

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি: নিউজবাংলা
মমতা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘কচাকাটা এলাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। সেজন্য সিভিল সার্জন অফিসের স্টাফ সিরাজুলকে চা খাওয়ার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করার টাকা পাঠায় দিলে তিনি সব করে দেন।’

কুড়িগ্রামে লাইসেন্স বিহীন এবং লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে বহু ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ৯৩টি। এর মধ্যে এসব অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে ১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চারটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় নানা রোগের। ব্যবস্থাপত্র দেয়ার জন্যও আছেন চিকিৎসক। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে দেখা যায় আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে অনায়াসে, তবে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স। লাইসেন্সের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

একই উপজেলার আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ জেলার ৯টি উপজেলার অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কয়েক বছর ধরে নবায়ন করা নেই। অথচ দিব্যি চলছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালক হুমায়ুন কবির লাইসেন্স না পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম নেই দাবি করেন তিনি, কিন্তু একজন রোগীর দেয়া কাগজপত্র দেখালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেরিয়ে যান।

কয়েকজন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভূরুঙ্গামারী পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে সেখানে জুতার দোকান ছিল। ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হওয়ার পূর্বে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান, কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে মৃত ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠাতা দেখানো হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ডক্টরস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালক হায়দার আলী বলেন, ‘নতুন লাইসেন্স কিংবা নবায়ন প্রাপ্তির আবেদন করে বা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শন শেষে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’

মমতা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘কচাকাটা এলাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। সেজন্য সিভিল সার্জন অফিসের স্টাফ সিরাজুলকে চা খাওয়ার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করার টাকা পাঠায় দিলে তিনি সব করে দেন।’

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মুর্শেদ বলেন, ‘লাইসেন্স এবং নবায়ন না থাকলে কোনো ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। ইতোমধ্যে ১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা এবং চারটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Allegations of irregularities in half a kilometer road renovation work in Madaripur

মাদারীপুরে আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

মাদারীপুরে আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা
এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

মাদারীপুর জেলা সদরে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ কাজে বাধা দিতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে পুরানবাজারের কাঁচাবাজার থেকে রাস্তি ইউনিয়নের কুমার নদের পাড় পর্যন্ত এ রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন রাস্তি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। শিডিউল অনুসারে কাজ করা হচ্ছে না, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তার সংস্কার করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে নামমাত্র পাথর দিয়ে বেশি পরিমাণ বালুর ব্যবহার করছে। দায়সারা কাজ করা হলে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সদর উপজেলার রাস্তির পুরান বাজার থেকে কুমার নদেরপাড়ের ব্যবসায়ীদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। রাস্তা তৈরিতে উপকরণ কম এবং মালামাল নিম্নমানের হলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে রাস্তাটি ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তারা জানান, গ্রামবাসী এসব অনিয়মে বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান নিজে ও তার লোকজন তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা নিম্নমানের কাজের জন্যে ঠিকাদার ও সরকারি লোকজনকে দায়ী করছেন।

মিঠু হাওলাদার নামে একজন বলেন, ‘রাস্তাটি আমাদের প্রাণের দাবি ছিল। যে কারণে স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খানের প্রচেষ্ঠায় কাজটি শুরু হয়েছে, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কম সিমেন্ট দিয়ে বেশি বালু আর খোয়া দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করছে। ফলে যেকোনো সময় রাস্তাটি দেবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া পুরানো ইট দিয়ে গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঠিকাদারকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের বাধা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।’

হাতাহাতির বিষয়টি জেনে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন ও এসও হেল্লাল হোসেন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যে মেসার্স ইসতি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও বাস্তবায়ন করছে রাস্তির চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যাদেশ পেয়ে এ বছরের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।

তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে বাস্তবায়নকারী এলজিইডিকে সরেজমিনে গিয়ে কাজ তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ মেনে নেয়া যাবে না।’

আধা কিলোমিটারের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। পরে এলজিইডির মাধ্যমে কাজটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
মাদারীপুরে থ্রি হুইলার খাদে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত
বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, দুই ছেলে পলাতক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Returned from the well of death thanks to all including the creator
নওগাঁর বাড়িতে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাইদুজ্জামান

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরেছি, সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরেছি, সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে নওগাঁর বাড়িতে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম সাইদুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাজে ফিরবেন কি না জানতে চাইলে এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব। আমি কন্টিনিউ করতে চাই। একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এতদিন গেছে। তাই ছয় মাস ছুটিতে থাকব। পরিবারকে সময় দেব। তারপর কাজে ফিরে যাব।’

বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর চিফ ইঞ্জিনিয়ার নওগাঁর এএসএম সাইদুজ্জামান। ভারত মহাসাগরে সোমালীয় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন স্বজনের কাছে। জেলা শহরের পলিটেকনিক এভিনিউয়ে দুবলহাটি রোডের বাড়িতে পৌঁছার পর সবার চোখেই ছিল আনন্দ অশ্রু।

সাইদুজ্জামান নওগাঁর স্থানীয় একটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। বুধবার দুপুরের দিকে রাজশাহী বিমানবন্দরে সাইদুজ্জামান পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর নিজ বাড়িতে পৌঁছলে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

বুধবার বিকেলে সাইদুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করছেন। স্ত্রী মানহা তাহরিন শতধার চোখ-মুখে প্রাপ্তির হাসি। অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন। শিশু সন্তানটিও যেন কোল থেকে নামছেই না। সব মিলে পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। চলছে নানা আয়োজন। তাকে দেখতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষ।

কেমন কেঁটেছিল দীর্ঘ ৬৩ দিন জানতে চাইলে সাইদুজ্জামান আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে এসেছি। সৃষ্টিকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। পরিবারের কাছে ফিরতে পারব কিনা সেই নিশ্চয়তা ছিল না।

‘জীবনের ওই ক’টা দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখন অনেক ভালো লাগছে। ভেবেছিলাম হয়তো আর কোনদিন কারও সঙ্গে দেখা হবে না। আল্লাহর রহমতে আর বাবা মায়ের দোয়ায় সুস্থভাবে ফিরে এসেছি। আমাদের উদ্ধারে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত রুট দিয়েই জাহাজ নিয়ে যাচ্ছিলাম। রেড জোনের মধ্যে আমরা ছিলাম না বা অতিক্রমও করিনি। প্রথমে জলদস্যুদের ছোট বোট দেখে মনে হয়েছিল তারা হয়তো ফিশিং বোট ব্যবহার করছে মাছ ধরার জন্য। পরে তো আমাদের ঘিরে ফেললো ওরা।

‘জলদস্যুরা সামান্য ধাক্কাধাক্কি করেছে আমাদের সঙ্গে। এর বেশি কোনো কিছু হয়নি। রোজার সময় ছিল। জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলেও খাওয়া নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে আমরা বেঁচে ফিরব কিনা তা নিয়েই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’

সাইদুজ্জামান বলেন, ‘জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতি আসবে তা কখনও ভাবতে পারিনি। দুর্বিষহ দিন কেটেছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে। এরকম দিন যেন কারও জীবনে না আসে।

‘সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পেরেছি, এটাই বড় কথা। অনেক ভালো লাগছে। প্রধানমন্ত্রী, জাহাজ কোম্পানি, মিডিয়াসহ সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

জাহাজে ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে এমভি আব্দুল্লাহর এই চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব। আমি এটা কনটিনিউ করতে চাই। আমার সাথে জাহাজে যেসব সহকর্মী ছিল তারাও মনোবল হারায়নি। একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এতদিন গেছে। তাই ৬ মাস ছুটিতে থাকব। পরিবারকে সময় দেব। এই সময়টা নিজের মতো করে কাটাব। তারপর আবার কাজে যোগদান করব।’

সাইদুজ্জামানের মা কোহিনূর বেগম বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা সন্তান আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। ছেলেকে কাছে পেয়ে কী যে শান্তি লাগছে তা বুঝাতে পারব না।

‘নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। ছেলের পছন্দের বিভিন্ন খাবার রান্না করছি। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা আসছে। সবাই খুব খুশি। সরকার, জাহাজ কোম্পানিসহ সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মানহা তাহরিন শতধা বলেন, ‘স্বামীকে ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এতগুলো দিন আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুস্থভাবে বাড়িতে আসায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জাহাজ কোম্পানিসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

প্রসঙ্গত, মোজাম্বিক থেকে ৫৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২৩ বাংলাদেশি নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জিম্মি করে। ১৪ এপ্রিল ভোরে জাহাজটি জলদস্যুমুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজটি থেকে বোটে নেমে যায়।

এরপর ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জাহাজটি দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে ভেড়ে। বহন করা কয়লা খালাস শেষে ২৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নতুন ট্রিপের পণ্য লোড করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি। সেখান থেকে চুনাপাথর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি আব্দুল্লাহ। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির ঠিক এক মাস পর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছায় এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি আব্দুল্লাহ’। আর জাহাজের ২৩ নাবিককে ফিরে পান স্বজনরা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এমভি আব্দুল্লাহ
তুরস্ক নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রামে
কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজের ধাক্কা
এমভি আবদুল্লাহ দেশের পথে
কয়লা খালাস শেষে আরেক বন্দরে যাচ্ছে এমভি আবদুল্লাহ, ফেরার প্রস্তুতি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Garage mechanic Arju made a jeep with old parts

পুরাতন যন্ত্রাংশ দিয়ে জিপ বানালেন গ্যারেজ মেকানিক আরজু

পুরাতন যন্ত্রাংশ দিয়ে জিপ বানালেন গ্যারেজ মেকানিক আরজু ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে জিপের নামকরণ জুবায়ের হোসাইন করেছেন আরজু। ছবি: নিউজবাংলা
জামশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান বলেন, ‘আরজু মিয়া গরিব হলেও সৎ ও কর্মঠ মানুষ। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে আয়-রোজগার করে আসছেন। কয়েক বছর আগে আরজু নিজে একটা গ্যারেজ দিয়েছে। গ্যারেজে কাজের পাশপাশি মেধা খাটিয়ে আরজু খুব সুন্দর একটা গাড়ি তৈরি করেছেন।’

পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি আরজু মিয়া (৩২)। দারিদ্র্যের কারণে কিশোর বয়সে যোগ দেন মোটরসাইকেল ও রিকশাভ্যান মেরামতের গ্যারেজে।

দীর্ঘদিন অন্যের গ্যারেজে কাজ করার পর বাড়ির পাশের রাস্তার কাছে নিজেই মোটরসাইকেল-রিকশা-ভ্যান মেরামতের গ্যারেজ দেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের দক্ষিণ সারারিয়া এলাকার এ তরুণ। সেই গ্যারেজে বসে নতুন গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখেন তিনি। দুই বছর চেষ্টার পর তার সেই স্বপ্ন রূপ নিয়েছে বাস্তবে।

পুরাতন যন্ত্রাংশ দিয়ে আরজু তৈরি করেছেন দৃষ্টিনন্দন জিপ। তার এ গাড়িটি এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে সিংগাইরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাচারিচালিত কালো রঙের জিপে চালকের আসনসহ পাঁচটি আসন আছে। এতে ট্রাক্টরের চাকা ব্যবহার করা হয়েছে।

যেকোনো পরিস্থিতিতে চলাচলের উপযোগী করে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান আরজু মিয়া।

এ গ্যারেজ মেকানিক বলেন, ‘গ্যারেজে কাজের পাশপাশি একটা গাড়ি তৈরির জন্য একটা একটা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করি। এরপর আস্তে আস্তে সেগুলো জোড়া দিতে থাকি। এভাবে দুই বছর ধরে গাড়ির পেছনে অতিরিক্ত সময় দিয়েছি।

‘অবশেষে কিছুদিন আগে গাড়িটির কাজ শেষে হয়েছে। এরপর গাড়িটি নিয়ে ঘুরতে বের হই।’

ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে জিপের নামকরণ জুবায়ের হোসাইন করেছেন আরজু।

তার ভাষ্য, ‘আমি যে গাড়িটি তৈরি করেছি, তাতে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। টাকা থাকলে এক মাসের মধ্যে একটা গাড়ি তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু টাকার অভাবে দুই বছর সময় লেগেছে।

‘সরকার যদি আর্থিক সহায়তা করে, তাহলে গাড়ি তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিতে পারব। কারণ পর্যটক এলাকায় এ ধরনের গাড়ির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের ভাঙাচোরা রাস্তায় নিরাপদে চলতে পারবে এবং যাত্রীরা আরামে যাতায়াত করতে পারবে।’

আরজুর স্ত্রী বিথী আক্তার বলেন, ‘সংসারে অভাব- অনটনের মধ্যেও তিনি (আরজু) সবসময় ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছেন। আমরা পরিবারের সদস্যরাও তাকে উৎসাহিত করেছি। কারণ সবসময় তিনি চিন্তা করতেন নতুন কিছু একটা করি।

‘এখন তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমাদের সাথে মানুষও অনেক খুশি হয়েছে। তার বানানো গাড়ি দেখতে প্রতিদিন দেশের অনেক জায়গা থেকে লোকজন আসে।’

জিপ নির্মাতার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আরজু যখন মানুষের দোকানে (গ্যারেজ) কাজ করত, তখন থেকেই বিভিন্ন জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া (গবেষণা) করত। বিয়ের আগে তো বাড়িতেই অনেক যন্ত্রপাতি নিয়ে এটা সেটা বানাত।

‘ওর (আরজু) খুব শখ ছিল পুরাতন জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু করার। অবশেষে আল্লাহ ওর (আরজু) মনের ইচ্ছা পূরণ করছে। ওর গাড়ি দেখে আমরা সবাই অনেক খুশি হইছি।’

তৈরির পর থেকেই আরজুর জিপ নিয়ে আলোচনা চলছে জামশা ইউনিয়নের অলিতে-গলিতে।

জামশা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান বলেন, ‘আরজু মিয়া গরিব হলেও সৎ ও কর্মঠ মানুষ। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে আয়-রোজগার করে আসছেন। কয়েক বছর আগে আরজু নিজে একটা গ্যারেজ দিয়েছে। গ্যারেজে কাজের পাশপাশি মেধা খাটিয়ে আরজু খুব সুন্দর একটা গাড়ি তৈরি করেছেন।

‘আরজুর গাড়ি দেখতে মনোমুগ্ধকর ও বেশ আরামদায়ক। তার গাড়ি তৈরির বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে। দেখি আরজুর জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় কি না।’

আরও পড়ুন:
মানিকগঞ্জে স্বর্ণ চোরাচালানে পাঁচজনের যাবজ্জীবন
নাইক্ষ্যংছড়িতে পালিয়ে এলো আরও ১৪৬ বিজিপি সদস্য
এবার বাংলাদেশে আশ্রয় মিয়ানমারের ২৯ সীমান্তরক্ষীর
চ্যাটজিপিটি ‘হ্যাক’ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস, দাবি ওপেনএআইয়ের
গার্মেন্টকর্মী ধর্ষণ: যাবজ্জীবন সাজার আসামি গ্রেপ্তার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
I will not only vote but also protect my vote

‘শুধু ভোট দেব না, নিজের ভোট পাহারাও দেব’ 

‘শুধু ভোট দেব না, নিজের ভোট পাহারাও দেব’  ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
রিকশাচালক বাসেত আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝি না। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিসাইডিং অফিসার গড়িমসি করেছে। দাঙ্গা বেধেছে, মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাই না।’

‘নির্বাচন এলে ক্ষমতাবানরা নানা রকমভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। ভোট নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। ভোটের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, ভোট কারচুপিও কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু এবার ঠাকুরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধু নিজেদের ভোট দেব না, ভোট পাহারাও করব।

‘যদি আমার মূল্যবান ভোট নিয়ে কারসাজি হয়, তবে আমার কেন্দ্রে তা প্রতিহত করব। কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে প্রতিবাদী হব।’

তপ্ত রোদে রিকশা চালিয়ে এক হাতে চা ও অন্য হাতে বন রুটি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলাকার ভোটার আবদুল বাসেত আলী মিয়া।

সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে চায়ের দোকানে অন্য ভোটাররাও তার কথা শুনে ‘ঠিক, ঠিক’ বলে সমর্থন করছিলেন।

রিকশাচালক বাসেত আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝি না। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিসাইডিং অফিসার গড়িমসি করেছে। দাঙ্গা বেধেছে, মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাই না।

‘যদি নিজের ভোট নিজে রক্ষা করতে না পারি, তবে আমরা সবাই অপরাধী। তাই চিন্তা করেছি শুধু ভোট দিব না, ফলাফলে যেন গড়িমসি না করতে পারে, জাল ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে পারে, এর জন্য নিজের ভোট চোখ-কান খোলা রেখে পাহারা করব। ফলাফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়ব। আমি মনে করি প্রত্যেকটা ভোটার এমন পাহারাদার হলে আমাদের ভোট বিফলে যাবে না।’

চায়ের দোকানে বসা বর্ষীয়ান ভোটার জমসেদ আলীর প্রশ্ন, ‘লোকমুখে শুনছি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে স্থানীয় এমপি নাকি কোনো এক প্রার্থীকে সমর্থন করছে। এমপি নিরপেক্ষতার কথা বললেও তার নাম ভাঙিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা থামেনি। এমন হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না তো কী? ভোটাররা তো ধারণা করে বসে আছে ভোট দিয়ে কী হবে, এমপি যাকেই চাইবে সেই জিতবে।’

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে এ ভোটারের।

এই বৃদ্ধের কথার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তরুণ ভোটার রবিনাথ বর্মণ ও আনোয়ার হোসেন।

তাদের একজন বলেন, ‘যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের মূল্য কি নেই? যদি এমনটাই হয়, তাহলে নির্বাচনের অর্থ আমরা কি বুঝি? আমরা প্রত্যেকে যদি এমন ভীতিকর ধারণা থেকে নিজেদের বের করে নিজের চিন্তা কাজে লাগিয়ে যোগ্য লোককে ভোট দিই এবং সে ভোট রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হই, তবে কোনো প্রভাবই আমাদের প্রবাহিত করতে পারবে না।

‘অতএব আমরা ভোট দেব। ভোটের দিন ক্ষমতা বলেন আর প্রভাব, তা শুধু ভোটারের। কোনো এমপির নয়, কোনো মন্ত্রীর নয়, কোনো একটি পরিবারের নয়। আমরা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে একটি পক্ষপাতহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বুঝে নেব। যদি কোনো রকম প্রহসনের আভাসও পাই, তবে তা আমরা ভোটাররা রুখে দেব।’

নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা শুধু চায়ের দোকানে নয়; এটি ছড়িয়েছে ফসলের মাঠেও।

ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের দুই পাশে আবাদি জমি। সেখানে আমন ধানের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের কাজ করছিলেন একদল কৃষক। ভোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সেখানেও।

সব মিলিয়ে প্রচার-প্রচারণা আর প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, মাইকিং ও গণসংযোগে প্রাণবন্ত ও মুখরিত নির্বাচনি প্রান্তর। সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশার কমতি নেই এসব ভোটারের।

কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘আমরা তো ভোট দিই। কিন্তু অনেক বছর ধরে ভোটের মজা পাই না। ভোটের প্রতি আস্থা উঠে গেছে। আমরা আমাদের ভোটের আমানত রক্ষা করতে পারি না। যদি আমাদের ভোট চুরি হয়, এর দায় আমাদেরই।

‘যে যাই বলুক না কেন, বাক্সের ব্যালট পাহারা না দিতে পারলে ভোটের মূল্য কোনো দিনও থাকবে না। কাজেই আমরা প্রহসনের নির্বাচন চাইব না; প্রভাবের নির্বাচন চাইব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, আপনার ভোট আপনি দেবেন। কোনো নেতার কথায় এবং কারও চোখ রাঙানিতে আমার ভোট প্রবাহিত হবে না। আমি পছন্দমতোই ভোট দেব। যদি আমার ভোট নিয়ে কোনো ছলাকলা হয়, তবে পালাবার সব পথ আটকে দেব।’

আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা প্রার্থীরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি রওশনুল হক তুষার।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন করে প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।

যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ভোটারের সংখ্যা চার লাখ ৮৭ হাজার ১৭৫। আগামী ২১ মে ১৮৫টি কেন্দ্রে এসব ভোটার তাদের ভোট দেবেন।

রুহিয়া থানার ভোটকেন্দ্রগুলো এবং সদর থানার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত এখনও চলছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে যা বললেন রিটার্নিং অফিসার

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সোলেমান আলী বলেন, ‘নির্বাচনে আচরণবিধি দেখার জন্য তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। নির্বাচনের দিন যাতে পৌরসভাসহ প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকে, সে জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে জানিয়েছে। এ ছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, পুলিশ তো থাকবেই।’

নির্বাচনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো ব্যক্তির প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এমন করে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া আছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারগণ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
আটঘরিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, আহত ১০
খালিয়াজুরীতে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন দুই বিএনপি নেতা
পুলিশ সাংবাদিক পিটিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার মিঠু চেয়ারম্যান
সিরাজগঞ্জে ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায়’ ২ তাঁত ফ্যাক্টরি ভস্মীভূত
চতুর্থ ধাপে ৭৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
He lost his leg in an accident and got heaven GPA five wants to be a doctor

দুর্ঘটনায় পা হারানো জান্নাত পেয়েছে জিপিএ ফাইভ, হতে চায় চিকিৎসক 

দুর্ঘটনায় পা হারানো জান্নাত পেয়েছে জিপিএ ফাইভ, হতে চায় চিকিৎসক  যশোরের শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে অংশ নেয়া মিফতাহুল জান্নাত হতে চায় চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত
এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পাওয়া জান্নাত বলে, ‘জিপিএ ফাইভ পাওয়ায় আমি খুব খুশি। আমি ডাক্তার হতে চাই। যত কষ্টই হোক, ভালো করে লেখাপড়া করে আমি ডাক্তার হব। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।’

চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মিফতাহুল জান্নাত।

যশোরের শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে অংশ নেয়া এ ছাত্রী হতে চায় চিকিৎসক।

মিফতাহুল জান্নাত শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জান্নাতের বাবা উপজেলার নাভারণে একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি জমি বিক্রি দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে নিয়ে যান। সেখানে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসি) কৃত্রিম পা লাগানো হয় জান্নাতের।

জান্নাতের পরিবার আরও জানায়, চিকিৎসার পেছনে রফিকুলের প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়, যার ফলে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। মেয়েকে নিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন থাকায় প্রি-ক্যাডেটের চাকরি চলে যায় তার। পরে বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেয়েকে দেখাশোনার পাশাপাশি মাসিক সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে রফিকুলকে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে রফিকুলের পরিবার। মিফতাহুল জান্নাত তার বড় সন্তান। ছোট সন্তান মুন্তাকিম রাফি উপজেলার নাভারণ রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

রফিকুল জানান, স্কুলের বেতন ও বাড়িতে টিউশনি করে মাসে ১০ হাজার টাকার মতো আয় হয় তার। এ দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করান তিনি।

এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পাওয়া জান্নাত বলে, ‘জিপিএ ফাইভ পাওয়ায় আমি খুব খুশি। আমি ডাক্তার হতে চাই।

‘যত কষ্টই হোক, ভালো করে লেখাপড়া করে আমি ডাক্তার হব। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।’

জান্নাতের বাবা রফিকুল বলেন, ‘মিফতাহুল জান্নাত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছিল। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। এতে আমি খুশি।

‘ওর কষ্টটা আমি বুঝি। আমার খুব সামান্য আয়। তা দিয়েই ওকে আমি লেখাপড়া করিয়ে যাচ্ছি। জান্নাত ডাক্তার হতে চায়। যত কষ্টই হোক, আমি তাকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব।’

বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ‘মিফতাহুল জান্নাত খুব মেধাবী ছাত্রী। এসএসসি পরীক্ষায় সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। দুর্ঘটনায় এক পা হারালেও সে মনোবল হারায়নি। এক পায়ের ওপর ভর করে আস্তে আস্তে বড় হয়েছে সে। চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া।

‘জান্নাত অত্যন্ত গরিব পরিবারের মেয়ে। আর্থিক সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে সে লেখাপড়ায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

যেভাবে দুর্ঘটনা

২০১৯ সালের ২০ মার্চ সকালে জান্নাত বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। সে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। এমন সময় ভ্যানটি নাভারণ বাজারের সালেহা সুপার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে উল্টো দিক থেকে আসা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের একটি পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় জান্নাত মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। ওই সময় চালক পিকআপটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন। এতে তার ডান পা ও ডান হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জান্নাতকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলেন।

আরও পড়ুন:
যশোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহানারা বেগম আর নেই
নারী কর্মকর্তা লাঞ্ছনা: যুবলীগ নেতা ম্যানসেল বহিষ্কার
কাটা পড়ছে যশোর রোডের ভারতীয় অংশের ৩০৬ বৃক্ষ
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৩ চাকরি
প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে স্বপ্ন জয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তানিয়া

মন্তব্য

p
উপরে