20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
প্রবাসী শ্রমিক: যৌথ সভায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

সৌদি আরবে ফেরার টিকিটের দাবিতে গত এক মাসে বেশ কয়েকদিন বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবাসী শ্রমিক: যৌথ সভায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

গত এপ্রিল থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৯৬ হাজার শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এপ্রিল থেকে জুন ২০২০ সময়কালে কোনো নতুন শ্রমিক বিদেশ যেতে পারেননি।

করোনাকালে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরা ও বিদেশে যেতে না পারার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতি জানানো হয়েছে আহ্বান।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগ জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া এই সভায় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন ভার্চুয়ালি। করোনার কারণে প্রথমবারের মতো এই সভা হচ্ছে অনলাইনে। সভা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি বন্ধের কারণে গৃহবন্দি অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না।’

গত এপ্রিল থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৯৬ হাজার শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এপ্রিল থেকে জুন ২০২০ সময়কালে কোনো নতুন শ্রমিক বিদেশ যেতে পারেনি।

তবে সম্প্রতি কর্মীরা কর্মীরা বিদেশে ফিরে কাজ শুরু করছেন বলেও জানান মন্ত্রী। জানান, চলতি অর্থবছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুই লাখ ৮৪ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের অগ্রগতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই দেশ আজ উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।’

করোনায় বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসা শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। ভিসা ও কাজের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বহুজনের। কিন্তু বিমানের টিকিট সংকটে তারা ফিরতে পারছেন না। টিকিটের দাবিতে গত এক মাসে ঢাকায় বেশ কয়েকদিন বিক্ষোভও হয়েছে।

করোনার মধ্যেও রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন কামাল। বলেন, ‘বাড়তি রেমিট্যান্স আসার পেছনে বর্তমান সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।’

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান করোনার সংকট কাটিয়ে উঠতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত এপ্রিল ও মে মাসে বিদেশে গমনকারীদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। তাদের সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।

চলতি অর্থবছরে এ জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ২৪ কোটি ডলারের ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের কষ্টের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংককে আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী সব প্রবাসী কর্মীদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

প্রণোদনা প্যাকেজের ইতিবাচক প্রভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘গরিব ও দুস্থদের সামাজিক সুরক্ষায় নগদ টাকা বিতরণ, কম দামে চাল সরবরাহ, বিনামূল্যে ত্রাণ বিতরণসহ নানা জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কারণে খুব দ্রুতই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসছে।’

সভায় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও আইএমফের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্ট উয়িং শেফার, আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আবদুল হাদী আরগান্ধিওয়াল, ভূটানের অর্থমন্ত্রী লায়নপো নামগে শেরিং, ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমির, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা যুবরাজ খাতিওয়াদা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহাকারী এবং দারিদ্র্য দমন ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সানিয়া নিশতার এবং শ্রীলংকার শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জি এল পিরিস প্রমুখ অংশ নেন।

শেয়ার করুন