নভেম্বরের মধ্যে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ

সরকারি পাটকল বন্ধের প্রতিবাদে বাম সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

নভেম্বরের মধ্যে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ

এ পর্যন্ত আটটি পাটকলের জন্য এক হাজার ৭৯০ কোটি ৫২ লাখ টাকা অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে। এ টাকা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।

আগামী মাসের (নভেম্বর) মধ্যে বন্ধ হওয়া পাটকল শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ ঘোষিত পাটকলগুলো নিয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ পাটকলগুলো দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা অগ্রগতির পর্যায়ে চলে এসেছি। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।

‘সে অনুযায়ী পাটকলগুলো কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, তার উদ্যোগ আমরা নেব।’

মন্ত্রী জানান, পাটকলগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি), লিজভিত্তিক বা অন্য যে প্রক্রিয়ায়ই চালু হোক না কেন, এগুলোর আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি আমদানি ও প্রতিস্থাপন করতে যে সময় প্রয়োজন, সেটা দিতে হবে।

তার দাবি, প্রক্রিয়া শুরু হলে একটি যন্ত্রপাতির এলসি খুললে তার দেশে আসতে তিন মাস লাগে। এরপর তা প্রতিস্থাপনেও দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। সেই সময়টুকু নেয়া হবে। এর আগে বন্ধ কারখানাগুলোর শ্রমিকদের সব পাওনা আগামী মাসের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ হওয়ার পরও বিজিএমসির প্রয়োজনীয়তা কি, এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, পাটকলগুলো সাময়িক বন্ধ থাকছে। সার্বিকভাবে পাটকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। উপযুক্ত মডেলে মিলগুলো আধুনিকায়ন ও ফের চালু করা হবে।

তিনি বলেন, এসব কলের তদারকি ও বিজেএমসির অন্যান্য সম্পত্তি যথাযথ ব্যবহারে সংস্থাটির প্রয়োজন হবে। তবে জনবল হয়তো একটা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।

ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

তিনি জানান, গত ১ জুলাই বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ২৫টি কলের ২৪ হাজার ৬০৯ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ চার হাজার কোটি টাকা চলতি বছরে এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একই সঙ্গে ২০১৩ সালের পর অবসরপ্রাপ্ত ১০ হাজার ১০৭ জনের সাকুল্য পাওনা প্রায় এক হাজার কোটি টাকাসহ মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকাও পরিশোধ করতে বলেন।

এ প্রক্রিয়ায় ৫০ শতাংশ নগদ, বাকি ৫০ শতাংশ তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিব বলেন, ৬০ দিনের নোটিসের পরিবর্তে শ্রম আইন-২০০৬-এর বিধান অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের বেতনও পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় অর্থ এরই মধ্যে ধাপে ধাপে ছাড় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আটটি পাটকলের জন্য এক হাজার ৭৯০ কোটি ৫২ লাখ টাকা অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে। এ টাকা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর আরও দুটি কলের (চট্টগ্রাম হাফিজ জুট মিল ও খুলনার স্টার জুট মিল) শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রক্রিয়ায় আগামী মাসের মধ্যে সব কলের শ্রমিকদের পাওনা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ শেষ করা হবে।

শেয়ার করুন