আলুর দামে ‘পরতা পড়ছে না’ হিমাগার মালিকদের

আলুর দামে ‘পরতা পড়ছে না’ হিমাগার মালিকদের

হিমাগার মালিকদের দাবি, উৎপাদন পর্যায়েই কেজিতে আলুর খরচ পড়েছে ২২-২৩ টাকা। হিমাগার পর্যায়ে এ কারণেই বেশি দাম। সরকার নির্ধারিত দাম অনেক কম হওয়ায় হিমাগারে আলুর ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশের ৯৩টি হিমাগারে সংরক্ষিত আছে ২২-২৩ লাখ টন আলু। তবে এসব আলু বাজারে ছাড়ছেন না হিমাগার মালিকেরা। সঙ্কটের সময় সরকারের বেঁধে দেয়া দাম পুনর্বিবেচনা করতে উল্টো তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এরই মধ্যে হিমাগার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার নির্ধারিত দামে আলু বাজারে ছাড়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এরপরেও রাজধানীর পাইকারি বাজারে সোমবার আলু ঢুকতে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন।

চিঠিতে দাবি করা হয়, উৎপাদন পর্যায়েই কেজিতে আলুর খরচ পড়েছে ২২-২৩ টাকা। হিমাগার পর্যায়ে এ কারণেই আলুর দাম বেশি। তবে সরকার নির্ধারিত দাম অনেক কম হওয়ায় হিমাগারে আলুর ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।’

হিমাগার মালিকদের দাবি ‘খরচে পরতা পড়ছে না’, এ কারণেই হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে না।

সরকার নির্ধারিত দাম ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ দাবি করে তা পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

আলুর বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে হিমাগার পর্যায়ে প্রতিকেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত দামে আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে কি-না তা তদারক করতে জেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে নির্দেশনাও দিয়েছে সরকার।

মোশাররফ হোসেনের পাঠানো চিঠিতে, আলুর বেঁধে দেয়া দাম পর্যালোচনার জন্য যেসব জেলায় হিমাগার রয়েছে সেসব জেলার অন্তত দুই জন করে কৃষক, ব্যবসায়ী ও আড়তদার, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং এফবিসিসিআই প্রতিনিধির সমন্বয়ে বৈঠক করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে ডিসেম্বরে বাজারে নতুন আলু আসার কথা থাকলেও করোনা ও বন্যার কারণে এবার তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয় চিঠিতে। এ অবস্থায় ঘাটতি এড়াতে সাময়িকভাবে আলু রফতানি বন্ধের নির্দেশনাও চেয়েছেন হিমাগার মালিকেরা।

আলু রফতানি বন্ধ হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আসতে হবে। সেটা এলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

জানা গেছে, করোনার পাশাপাশি কয়েক দফা বন্যার সময়ে সরকার ত্রাণ হিসেবে চালের সঙ্গে আলু বিতরণ করেছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও আলু পাঠানো হয়েছে। এ কারণে এবার আলুর বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রচুর বৃষ্টিতে শাসক-সবজি নষ্ট হয়েছে। সবজির চড়া বাজারের কারণেও বেড়েছে আলুর চাহিদা।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন দাবি, এ বছর দেশে আলু উৎপাদনও কমেছে। ২০১৭ সালে দেশে আলুর উৎপাদন ছিল এক কোটি সাত লাখ টন। ২০১৮ সালে উৎপাদন হয় এক কোটি তিন লাখ টন। ২০১৯ সালে উৎপাদন কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় এক কোটি নয় লাখ টনে। তবে চলতি বছর মাত্র ৯০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে।

প্রতিবছর হিমাগারগুলো ৫৫ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করে। তবে এ বছর সংরক্ষণ করা গেছে ৪৫ লাখ টন আলু। এখন মজুদ থাকা ২২-২৩ লাখ টনের মধ্যে বীজ আলু রয়েছে ১০ লাখ টন। এটা বাদ দিলে আলুর প্রকৃত মজুদ এখন ১০-১১ লাখ টন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য