20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
উন্নয়নকাজে গতি ফিরছে 

উন্নয়নকাজে গতি ফিরছে 

সেপ্টেম্বরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি উন্নিত হওয়ায় কাজের গতি বাড়ছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে বাস্তবায়ন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, জুনে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে মাস ভিত্তিক বাস্তবায়ন ভাল হলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি একই জায়গায় থমকে আছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে (জুলা্‌ই –সেপ্টেম্বর ) উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল একই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৩ দশিমক ৪৯ শতাংশ।

তবে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অবস্থা খুবই খারাপ। আলোচ্য সময়ে ওই সব মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন এক শতাংশেরও কম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলো: পরিবেশ, বাণিজ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

উন্নয়ন কাজে গতি ফিরেছে দেশে।
দেশে এডিপি বাস্তবায়নের হার। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত জুনে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে এডিপি ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

করোনায় স্বাস্থ্য সেবা, সামাজিক সুরক্ষাসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাজেট ঘোষণার পরপরই কম গুরুত্বপর্ণূ প্রায় তিন শতাধিক প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে অর্থবিভাগ।

এতে সাশ্রয় হয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ করোনা প্রতিরোধে সরঞ্জাম আমদানিসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

আইএমইডির প্রতিবদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছেরর প্রথম তিন মাসে মোট বরাদ্দের মাত্র ১১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর বিদেশি ঋণ ৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। বাকিটা সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তরা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি উন্নিত হওয়ায় এডিপি কাজের গতি বাড়তে শুরু করেছে। শুস্ক মৌসুমে গতি আরো বাড়বে।

অর্থবছরে শুরুতে বর্ষা থাকায় কাজ করতে চান না ঠিকাদারেরা। নভেম্বর থেকে বর্ষা আসার আগ পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ পুরোদমে চলে। ফলে অর্থবছর শেষে বাস্তবায়ন বেশি হয়।

গত মার্চে দেশে করোনা রোগী প্রথম সণাক্ত হওয়ার পর সরকার লকডাউন ঘোষণা করলে উন্নয়ন কাজ থমকে যায়। এর প্রভাবে গত অর্থবছর এডিপি বাস্তবায়ন সর্বনিম্ম পর্যায়ে নেমে আসে।

বাংলাদেশ এডিপি বাস্তবায়নের হার গড়ে ৯৫ শতাংশ হলেও করোনার প্রাদুর্ভাবে গত অর্থবছরে তা নেমে আসে ৮০ শতাংশে। যদিও সরকারি হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, এটি ৬০ শতাংশের বেশি হবে না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য