20201002104319.jpg
ডিম আলোতে ধরে, ঝাঁকিয়ে কী লাভ

ডিম আলোতে ধরে, ঝাঁকিয়ে কী লাভ

‘ডিম কয়েকদিন কেসে থাকলে চারপাশে একটি দাগ তৈরি হয়। তখন অনেক ক্রেতা মনে করেন, এই ডিম নকল বা জোড়া লাগানো।’

ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় সবার জানা। তবে বাজার থেকে ভালো ডিম কী করে বেছে নিয়ে কিনবেন- সেই কৌশলও রপ্ত করা দরকার।

ডিম কিনে জিততে চাইলে কিছু টিপস জানতেই হবে।

নোয়াখালীর ব্যবসায়ী দুলাল বাবু ২৮ বছর ধরে ডিমের ব্যবসা করছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে।

দুলাল জানালেন, আড়তে এখন দেশি মুরগির ডিম বলতে গেলে কারো কাছেই নেই। দেশি হিসেবে যেসব ডিম বিক্রি হচ্ছে সেগুলো সবই ক্রস বা সোনালি মুরগির ডিম।

তার কথায়, খাঁটি দেশি মুরগির ডিম কিনতে বাজারে গেলে ঠকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

এর বাইরে ফার্মের ডিমের আবার দুটি ভাগ। কোনোটি সাদা, কোনোটি লাল।

দুলাল জানান, লাল ডিম বাসা-বাড়িতে বেশি চলে। সাদা ডিমের খদ্দের সাধারণত হোটেল-রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা।

ফার্মের লাল মুরগির ডিমের রঙ লাল, আর সাদা মুরগীর ডিমের রঙও হয় সাদা। ঢাকার বাজারে সাধারণ ক্রেতার বেশি পছন্দ ফার্মের লাল ডিম, দামও সাদার তুলনায় কিছুটা বেশি। ফার্মের লাল ডিমের হালি ৩৭ টাকা হলে, সাদা ডিম বিক্রি হয় ৩৫ টাকায়।

২৫ বছর ডিম ব্যবসায় জড়িত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলছেন, সাদা ডিমে কুসুমের তুলনায় তরল অংশে পরিমাণ বেশি, ফলে এই ডিম ভাজলে একটু বড় দেখায়। তাই রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীদের কাছে এই ডিমের কদর বেশি।

‘নকল ডিম’ নিয়ে নানান সময়ে গুজব ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে এর কোনো ভিত্তি নেই- বলছেন ব্যবসায়ীরা।

দুলাল বাবু গত ২৮ বছরে একবারও কথিত চাইনিজ প্লাস্টিকের ডিম দেখেননি।

তিনি বলেন, ‘ডিম কয়েকদিন কেসে থাকলে চারপাশে একটি দাগ তৈরি হয়। তখন অনেক ক্রেতা মনে করেন, এই ডিম নকল বা জোড়া লাগানো।’

আর সঞ্জয় জানান, ডিম কখনো নকল হওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বিভিন্ন রকমের মুরগির কারণে ডিমেও ভিন্নতা দেখা যায়।

বাজারে গিয়ে কোন দিকে বেশি নজর দেন ডিমের ক্রেতা?

চাকরিজীবী রেদোয়ানুল আমিন পরিবারের জন্য সব সময়ে কেনেন লাল ডিম, তবে কেন- জানা নেই।

রেদোয়ানুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিম সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই, বাজারে লাল ডিম বেশি বিক্রি হয় তাই আমিও কিনি।’

আরেক ক্রেতা ইকবাল হোসেনও বিশেষ কিছু না ভেবেই কেনেন লাল ডিম। তবে পচা ডিম চেনার কৌশল তার ভালোই জানা।

ইকবাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানিতে রাখার পর যে ডিম ভেসে থাকে সেটি আসলে পচা।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি আড়ত থেকে পচা ডিম কেনার আশঙ্কা অনেক কম। কারণ ফার্ম থেকে সরাসরি ডিম আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। তবে ঝামেলা হতে পারে খুচরা দোকানে।

অনেক দোকানি আলোর বিপরীতে ডিম ধরে ক্রেতাকে তুষ্ট করেন। তবে এভাবে পচা ডিম চিহ্নিত করা খুব কঠিন বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

অনেকে ঝাঁকিয়েও ডিম বোঝার চেষ্টা করেন। তবে ব্যবসায়ী দুলালের দাবি, এই কৌশল একেবারেই ভুল। ঝাঁকুনিতে অনেক সময়ে ডিমের কুসুম গলে যেতে পারে। আর তখন ভালো ডিমকেও পচা ভেবে নেন ক্রেতা।

কারওয়ান বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ডজন লাল ডিমের পাইকারি দাম ছিল ১০৬ টাকা। আর ফার্মের সাদা ডিম প্রতি ডজন ১০২ টাকা ও ক্রসের ডিম ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহের মতোই আছে ডিমের বাজার।

শেয়ার করুন