20201002104319.jpg
করোনা: আমানত সংগ্রহে পিছিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো

করোনা: আমানত সংগ্রহে পিছিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত জুন মাসের শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানত বেড়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা হয়। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর সংগ্রহ ছিল দুই লাখ ৯১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রসার ঘটলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমানত সংগ্রহের দিক দিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

জুন মাস শেষে মোট আমানতের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের অংশ কমে ২৪.৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

মার্চের শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে ২৫.০৪ শতাংশ ছিল ইসলামি ব্যাংকগুলোর দখলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতি তিন মাসে এ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে ব্যাংকটি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ঋণের দিক থেকে অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর।

মার্চের শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা বিনিয়োগ বা ঋণ ছিল ২৪.৯৩ শতাংশ। জুনে এই হার বেড়ে ২৫.০৩ শতাংশ হয়।

ইসলামি ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক ব্যাংকিং করে না বলে তারা ঋণকে বিনিয়োগ হিসেবে ধরে। তারা মুনাফা ভাগাভাগির প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বিনিয়োগ দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত জুন মাসের শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানত বেড়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা হয়। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর সংগ্রহ ছিল দুই লাখ ৯১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া একই সময়ে সব ব্যাংকের বিতরণ করা ১১ লাখ ৬৩৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ছিল দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

বর্তমানে আটটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামি ব্যাংকিং করছে, যাদের শাখা রয়েছে ১ হাজার ২৭৪টি। এ ছাড়া নয়টি প্রথাগত ব্যাংকের ১৯টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা আছে। এ ছাড়া অন্য ১২টি ব্যাংকের ১৫৫টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো আছে।

গত মার্চ ও এপ্রিলে যমুনা, স্ট্যান্ডার্ড ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি তাকওয়া নামে ইসলামি ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

এ দিকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় সুকুক নামের একটি ইসলামি বন্ড চালুর নীতিমালা জারি করেছে।

ট্রেজারি বন্ড ও বিলে ইসলামি ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারে না। সুকুক চালু হলে এ ধরনের ব্যাংকগুলোও বন্ডে বিনিয়োগ করে বাড়তি মুনাফা করতে পারবে।

এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলে নিউজবাংলাকে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।

শেয়ার করুন