20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সাড়ে চার লাখ নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে

সাড়ে চার লাখ নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকে ঘরে বসে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর গ্রাহক বেড়েছে দ্বিগুণ।

ঘরে বসে ব্যাংক লেনদেন করবেন বলে অনেকেই এখন ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক হচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক বেড়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮২ জন।

গ্রাহক বাড়ার এই হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে যোগ হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পযন্ত দেশের ব্যাংকগুলোর ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২১ হাজার। সেই হিসাবে এই সেবার ১৫ শতাংশ গ্রাহকই চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে যোগ হয়েছে।

এর মধ্যে গত আগস্টে যোগ হয়েছে ৭৯ হাজার ২১৯ গ্রাহক, যদিও জুলাই মাসে গ্রাহক বাড়ার হার আরো বেশি ছিল। প্রায় এক লাখ নতুন গ্রাহক যোগ হয়েছিল ওই মাসে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই যখন ঘরে থাকতে শুরু করে, তখন অনেকেই ইন্টারনেট ব্যাংকিংকে বেছে নেয় টুকিটাকি লেনদেনের জন্য।

ঢাকার বনানীতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোহাম্মদ ফায়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই মহামারির সময় গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যেতে হয়নি। ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠিয়ে দেই।‘

এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ডের বিলও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়া যায় বলে জানান ওই গ্রাহক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকেরা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হিসাবে টাকা পাঠাতে পারছেন। টাকা পাঠানো বা ক্রেডিট বিল পরিশোধ ছাড়াও বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যালান্স রিচার্জ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে এর গ্রাহকেরা ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন করেন, যা এর আগের মাসের লেনদেনের তুলনায় প্রায় নয় শতাংশ বেশি।

গত মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে মে মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত দেশের পরিবহন, অফিস আদালত সব কিছু বন্ধ ছিল। এ সময় কেবল জরুরি কিছু সেবা ও সীমিত আকারে ব্যাংক লেনদেন চালু ছিল। ব্যাংকের শাখায় ভিড় এড়াতে অনেকেই তখন ব্যাংকে যাওয়া বন্ধ রাখেন এবং বিকল্প উপায় হিসেবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বেছে নেন।

গত জুন মাসে ৭ হাজার ৪২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, একটি সংক্রামক ব্যাধি আমাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা নতুন করে ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে এখন আগের থেকে অনেক বেশি জোর দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য