20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
গোদাগাড়ীতে চালু হচ্ছে নৌবন্দর

গোদাগাড়ীতে চালু হচ্ছে নৌবন্দর

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত পদ্মা নদীর এই নৌপথে বাণিজ্য চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বন্দর চালু করতে আগামী এক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো হবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নৌবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে পদ্মা নদী হয়ে উপজেলার সুলতানগঞ্জে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য বন্দরটি চালু করা হবে।

এর অংশ হিসেবে সোমবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেক গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্পিড বোটে পদ্মা নদীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকা দেখে আসেন তিনি। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত পদ্মা নদীর এই নৌপথে বাণিজ্য চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

বন্দর চালু করতে আগামী এক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো হবে। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা এখন নৌপথটির অবকাঠামো পর্যালোচনা করছেন।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নৌপথটি চালু হলে ভারতের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য যোগাযোগ আরও সহজ হবে। নৌপথে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা যায়। রাজশাহী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটারের একটি নৌপথের অনুমোদন থাকলেও তা কার্যকর নেই।

নতুন পথটি সংক্ষিপ্ত করে গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর পর্যন্ত পণ্য চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এই পথটির দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার।

অনেকটা আড়াআড়িভাবে পদ্মা নদী পাড়ি দেবে পণ্যবাহী নৌযান। শুষ্ক মৌসুমে প্রতি নৌযানে ২০০-৩০০ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। বর্ষায় নাব্য বেশি থাকলেও পদ্মায় স্রোত থাকে বেশি। তখন পণ্য পরিবহন কিছুটা কঠিন হবে।

গোদাগাড়ী এলাকায় একটি শুল্ক কার্যালয় চালুর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে মুর্শিদাবাদের ‘পাকুর পাথর’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়কপথে সেই পাথর আমদানি করতে খরচ বেশি পড়ছে। গোদাগাড়ী-মায়া নৌপথটি পাকুর পাথর আমদানিতে বেশি ব্যবহার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

পরিদর্শন শেষে এক সভায় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেক বলেন, ‘গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে নৌপথ চালু করলে দুই দেশই উপকৃত হবে। আজকে আমরা নদীর নাব্যসহ সবকিছু দেখে গেলাম। খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে নৌপথটি চালু করতে চাই।’

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহিদুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন।

অন্যদের মধ্যে গোদাগাড়ী পৌর মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মালেক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য