ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ‘কস্ট অডিট’ ফর্মুলা কার্যকরের দাবি

ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ‘কস্ট অডিট’ ফর্মুলা কার্যকরের দাবি

দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে অযাচিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ‘কস্ট অডিট’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান দি ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।

ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হামিদ উল্লা ভূইয়ার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন আকন্দ এফসিএমএর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময়ে এই দাবি জানানো হয়। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে।

‘কস্ট অডিট’ ফর্মুলা হচ্ছে ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের একটি বিশ্বস্বীকৃত মানদণ্ড। আইসিএমএবির দাবি, দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থেই এর বাস্তবায়ন জরুরি। এটা বাস্তবায়িত হলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাপর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মতবিনিময়ে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকা এবং দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এফআরসি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

জবাবে এফআরসি চেয়ারম্যান সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে কস্ট অডিট বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন। আইসিএমএবির সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযাগিতার ক্ষেত্রসমূহ আরও প্রসারিত করার কথাও জানান তিনি।

মতবিনিময়ে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আলী হায়দার চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক মাহবুব উল আলম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন

দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন

মোট এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (জিওবি) থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে।

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন এডিপি অনুমোদন হয়।

সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠকে যুক্ত হন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোট এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (জিওবি) থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে।

তবে এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশন থেকে পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার নতুন এডিপিতে বড় অবকাঠামো প্রকল্প, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন গুরুত্ব পেয়েছে।

বরাদ্দে শীর্ষ দশ খাত

খাত হিসাবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ। এ খাতে ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ২৭.৩৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ৪৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা বা ২০.৩৬ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে।

এ ছাড়া, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাতে ১০.৫৪ শতাংশ বা ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা, শিক্ষা খাত ১০.২৯ শতাংশ বা প্রায় ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাত ৭.৬৮ শতাংশ বা ১৭ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাত এডিপির ৬.৩৪ শতাংশ বা ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি খাত ৩.৭৮ শতাংশ বা ৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৩.৪০ শতাংশ বা ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাত ২.০৬ শতাংশ বা ৪ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাত ১.৫৯ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। মোট এডিপির ৯৩ শতাংশেরর বেশি রয়েছে এ ১০ খাতে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে শীর্ষে যারা

আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ ছাড়া, বিদ্যুৎ বিভাগ ২৫ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১৩ হাজার কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৯ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ২২ কোটি টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্দাতেও সফল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ভালো লভ্যাংশের আভাস

মন্দাতেও সফল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ভালো লভ্যাংশের আভাস

সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে অর্থবছর শেষ করা চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তিনটিই ব্যাপক আয় করেছে। আর জুনে অর্থবছর গণনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে ৩০টি ফান্ডের মধ্যে ২৮টি মুনাফায় আছে। গত ১০ বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে না পারা ফান্ডগুলো এবার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এই খাতের।

গত বছরের ২ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ে ৯৭৭ পয়েন্ট। এই সময়ে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর বেশির ভাগই ব্যাপক মুনাফা করে।

ইউনিটপ্রতি দাম পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টাকা ছিল যেগুলোর, সেগুলো ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা বা তার চেয়ে বেশি মুনাফা করার ঘটনাও ঘটে।

পরের প্রান্তিকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সূচক বাড়ে আরও ৫৪০ পয়েন্ট। এই সময়েও ফান্ডগুলো ইউনিটপ্রতি বেশ ভালো মুনাফা করে। আগের প্রান্তিকের চেয়ে কম হলেও এই সময়েও কোনো কোনো ফান্ড ইউনিটপ্রতি দেড় বা দুই টাকা মুনাফা করে।

তবে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাজারে ছন্দপতন ঘটে। এই প্রান্তিকে সূচক পড়ে ৩৪০ পয়েন্ট।

তবে বাজারে পতন হলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লোকসান দিয়েছে এমন নয়। এই প্রান্তিকে ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে মুনাফা করেছে ২৭টি। বাকি ১০টির মধ্যে দুটি ফান্ড বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েছে।

আর আটটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি এক পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ পয়সা লোকসান করে। তবে আগের দুই প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ মুনাফার কারণে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বেশ ভালো অঙ্কের আয় করায় এবার লোভনীয় লভ্যাংশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লভ্যাংশের ক্ষেত্রে আশা দেখাচ্ছে এপ্রিল থেকে বাজারে দেখা দেয়া চাঙ্গাভাব। গত ১১ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৬৪০ পয়েন্ট। ফলে এটা ধরাই যায় যে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে ফান্ডগুলো বেশ ভালো মুনাফা করেছে। ফলে বাকি দেড় মাসে বাজারে বড় পতন না হলে জুন ক্লোজিংয়ে ভালো লভ্যাংশ দেবে-এটা ধরা যায়।

পুঁজিবাজারে ৩৭টির মধ্যে জুনে অর্থবছর গণনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে-এমন ফান্ডের সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে ২৮টি ফান্ডই মুনাফায় আছে। দুটি লোকসানে।

ফলে গত ১০ বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে না পারা ফান্ডগুলো এবার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের।

অন্য শেয়ারের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নীতিমালায় পার্থক্য আছে। যেকোনো শেয়ার যতই আয় করুক, তার কত অংশ বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হিসেবে দিতে হবে, তার কোনো আইন নেই। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বার্ষিক সাধারণ সভায় বিনিয়োগকারীদের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। যদিও তাদের মতামতে লভ্যাংশ পাল্টেছে, এমন ঘটনা বিরল।

অন্যদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী যত আয় হবে তার ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে নগদ অর্থের পাশাপাশি রিইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ইউনিট দেয়ার সুযোগ থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড আয়ের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে। এই ফান্ডটি গত বছর ব্যাপক লোকসান করেছিল এবং তাদের সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের আয়ে। এতে ফান্ডের মৌলভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করে বিএসইসি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমিতি মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো সম্প্রতি সময়ে ভালো আয় করেছে। এটা সত্য। এর একমাত্র এটার উপর ভিত্তি করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমানে যে আয় তাতে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই সিংহভাগে বিনিয়োগ করা যায়।’

অবশ্য ফান্ডগুলো যখন খারাপ করছিল, তখন বিনিয়োগকারীরা মুখে ফিরিয়ে নেয়ায় ফান্ডের বাজার মূল্যে ব্যাপক পতন হলেও যখন ভালো করছে, তখন দাম সেভাবে বাড়ছে না।

আয় ভালো হওয়ার পরও কেন বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে না এর কারণ ব্যাখ্যায় ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা এখন দ্রুত মুনাফা নিতে চায়। তারা শেয়ার কিনে সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হিসাব করে। কিন্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড কখনও বিনিয়োগকারীদের এভাবে মুনাফা দেবে না। এখানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হবে। বছর শেষে ভালো মুনাফা পাবে।’

প্রান্তিকের ঘোষণা যে ইঙ্গিত দিচ্ছে

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৫টি মার্চের প্রান্তিক ঘোষণা করেছে। আর দুটি ফান্ড মার্চে অর্থবছর শেষে ঘোষণা করেছে লভ্যাংশ।

যে চারটি ফান্ড এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার প্রতিটিই এবার ব্যাপক মুনাফা করেছে। সর্বনিম্ন মুনাফা করা ফান্ডও ইউনিটপ্রতি এক টাকা ১২ পয়সার বেশি আয় করেছে।

১০ টাকার নিচে দাম এমন ফান্ডও এক টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর একটি ফান্ড এক টাকা ৬২ পয়সা আয় করেও কেবল ১৬ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যদিও এটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের নীতিমালার পরিপন্থি।

মন্দাতেও সফল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ভালো লভ্যাংশের আভাস

জুন ক্লোজিং ফান্ডগুলোর তিন প্রান্তিক শেষে মুনাফায় যেগুলো

গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৬১৭ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করে ১ টাকা ৬১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ পয়সা মুনাফা করার পর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৬৬ পয়সা।

এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করে ১ টাকা ৯৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ১৩ পয়সা লোকসান দেয়ার পরও তাদের আয় এক টাকা ৮২ পয়সা।

এশিয়ান টাইগার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় ছিল ৭৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৬১ পয়সা যোগ হওয়ায় নয় মাসের আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৩৯ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান বছরে প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে মন্দা বাজারেও আয় বাড়ে আরও ১২ পয়সা। নয় মাস শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ২০ পয়সা।

সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা দুই পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে পতনের মধ্যেও তাদের আয় বাড়ে ১৭ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ১৯ পয়সা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৯ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭১ পয়সা।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮৪ পয়সা। মন্দা বাজারে তৃতীয় প্রান্তিকে ১ পয়সা করে লোকসান হলেও নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৮৩ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬০ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে যোগ হয় আরও ১০ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭০ পয়সা।

এফবিএফআইএফ ইনকাম ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৭৬ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে এক পয়সা লোকসান হলেও নয় মাস শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৫ পয়সা।

গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে চার টাকা দুই পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে এসে লোকসান করে ১০ পয়সা। নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে তিন টাকা ৫১ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৭ পয়সা, আর তৃতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা। নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২৫ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ২৫ পয়সার কিছু বেশি। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও চার পয়সার বেশি আয় হওয়ার পর নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ১৬ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় হয়েছে ৩১ পয়সা।

আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় হয় ১৫ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় হয়েছেছে ৩০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৩৬ পয়সার কিছু বেশি। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও চার পয়সার কিছু বেশি আয় হওয়ার পর নয় মাসে আয় হয়েছে ৪১ পয়সা।

আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৭২ পয়সা আর তৃতীয় প্রান্তিকে ৪ পয়সা মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৬ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড অবশ্য খুব একটা ভালো করতে পারেনি। বছরের প্রথম ছয় মাসে সাত পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে চার পয়সা মিলিয়ে তারা ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১১ পয়সা।

এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় করে এক টাকা ৯৯ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৯৭ পয়সা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তাদের আয় ইউনিটপ্রতি দুই টাকা ৯৬ পয়সা।

ফিনিক্স ফিনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৯ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে হয় আরও ১৯ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮ পয়সা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬৭ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে মন্দা বাজারে আয় হয় আরও ৪ পয়সা। সব মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা।

পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৫২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা লোকসান দেয়ার পরেও তাদের নয় মাসে আয় এক টাকা ৪৪ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৩৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৭ পয়সা। সব মিলিয়ে আয় হয়েছে ৪১ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে দুই টাকা ৩৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও ৩৫ পয়সা যোগ হওয়ায় নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৬৯ পয়সা।

সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে আয় করে এক টাকা ৭৬ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৮৩ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দুই টাকা ৫৮ পয়সা।

এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোফ ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় করে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৪৮ পয়সা যোগ হওয়ায় তিন প্রান্তিক শেষে আয় এক টাকা ৫৮ পয়সা।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৫৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ২৩ পয়সা। সব মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়ায় এক টাকা ৮১ পয়সা।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ড দুই প্রান্তিকে ইউনিট প্রতি আয় করে এক টাকা ৭০ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৩৯ পয়সা। সব মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ১৪ পয়সা।

ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৯১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান দিয়েছে ৮ পয়সা। নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৮৩ পয়সা।

মন্দাতেও সফল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ভালো লভ্যাংশের আভাস

লোকসানে দুটি

জুনে অর্থবছর শেষ হয়, এমন দুটি ফান্ড নয় মাসে মাসে এক হাজার তিনশ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পরেও লোকসানে আছে ।

এর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি ৬৩ পয়সা আর পরের তিন মাস লোকসান করে ৩৯ পয়সা। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে এক টাকা দুই পয়সা।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি ৫৬ পয়সা আর তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান দেয় ৪৩ পয়সা। সব মিলিয়ে ‍তিন প্রান্তিকে লোকসান দাঁড়িয়েছে ইউনিটপ্রতি ৯৯ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক যে ফান্ডের

সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হয় এমন ফান্ড এল আর গ্লোবার বাংলাদেশ ফান্ড ওয়ানের। মার্চে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই ফান্ডের আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৩২ পয়সা। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সূচক কমলেও তারা আয় করেছে ৮৬ পয়সা।

ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও দ্বিতীয় প্রান্তিক ঘোষণা হয়েছে মার্চে। এই প্রান্তিকে তারা ইউনিটপ্রতি ১৪ পয়সা লোকসান দিলেও ছয় মাস শেষে ইউনিটপ্রতি ৯৩ পয়সা মুনাফায় আছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে চাঙ্গা বাজারে এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিক যে তিনটির

এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান মন্দা বাজারেও ইউনিটপ্রতি ৩৩ পয়সা আয় করেছে। এই ফান্ডটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ১২ পয়সা। আর লভ্যাংশ দিয়েছে সাড়ে ৭২ পয়সা করে।

প্রাইম ফাইনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২৮ পয়সা। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ৭৭ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছে ৭০ পয়সা।

ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্স ফান্ড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত লোকসান দিয়েছে ৯ পয়সা। এই ফান্ডটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে আয় করে এক টাকা ৬৮ পয়সা। যদিও আগের বছর লোকসান ছিল এক টাকা ৮০ পয়সা।

মার্চে লভ্যাংশ ঘোষণা যে দুটির

দুটি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে গত মার্চে। দুটিই এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করেছে।

এর মধ্যে এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড এক টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে ইউনিট প্রতি এক টাকা সাড়ে ২২ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ইউনিটপ্রতি ৬২ পয়সা লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ফান্ডটি।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৯৫ পয়সা মুনাফা করে এবার লভ্যাংশ দিয়েছে এক টাকা ১৫ পয়সা। গত বছর ইউনিটপ্রতি ৯৭ পয়সা লোকসানের কারণে তারা কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

শেয়ার করুন

এনআরবিসি উড়ছে, প্রাইমের পালেও হাওয়া

এনআরবিসি উড়ছে, প্রাইমের পালেও হাওয়া

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার দর টানা সাত কার্যদিবস বাড়ল এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। সাত কার্যদিবসে দাম বেড়েছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯৩ শতাংশ, আর ১২ কার্যদিবসে বেড়েছে ১৪ টাকা ৩০ শতাংশ বা ১২৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংকের দাম তিন কার্যদিবসে বেড়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা বা ৪০ শতাংশ আর ১০ কার্যদিবসে বেড়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা বা ৭১ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং খাতের নতুন কোম্পানি এনআরবিসির উত্থান থামার নাম নেই। টানা আট কার্যদিবস দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে আসার পর বিক্রেতা উধাও হয়েছে এই ব্যাংকের। এবার যোগ হয়েছে আরেক ব্যাংক প্রাইম।

দুই মে থেকে ১১ কার্যদিবসে ব্যাংকটির দাম বেড়েছে ১০ টাকার বেশি। এর মধ্যে টানা দুই দিন সব বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমাও ছুঁয়েছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দিন সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে আসার পর কিছুটা কমেছে।

তার পরেও দুই দিনে ব্যাংকটির শেয়ার মূল্যে যোগ হয়েছে ৫ টাকা ১০ পয়সা।

লকডাউনে ব্যাংকের মুনাফা ও লভ্যাংশ কমে যাওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের শেয়ার মূল্যের তুলনায় ব্যাপক হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিগুলো। আবার চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের চেয়ে বেশি হারে মুনাফা করতে থাকার তথ্য আসে।

এরপর থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। আর এই খাতে দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে হতাশা আছে, তা কাটবে কি না, এ নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

৩১টি ব্যাংকের মধ্যে হাতে গোনা এক দুইটি ছাড়া দাম বেড়েছে প্রায় সব কটিই। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মার্চে তালিকাভুক্ত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক বা এনআরবিসি এবং প্রাইম ব্যাংকের।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলো ভালো করছে। বেশির ভাগই ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। এটি এ খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত যেসব ব্যাংকের খারাপ ঋণ কম, আর্থিক অবস্থা ভালো সেসব ব্যাংকের শেয়ারদরই এখন বেশি বাড়ছে।’

প্রাইম ব্যাংকে উত্থান

২০২০ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে শুরু থেকেই। গত গত সাত-আট বছর ধরে ব্যাংকটি সংকটে যাচ্ছিল এবং এ কারণে শেয়ারও দাম হারায়।

তবে ২০১৫ সালের পর থেকে ব্যাংকটি নগদ লভ্যাংশে মন দেয় এবং শেয়ার দরের তুলনায় এই লভ্যাংশ প্রতি বছরই হয়েছে আকর্ষণীয়।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য প্রাইম ব্যাংক তার শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তবে দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে এছাড়া গত ১২ মে প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে মার্চ) মুনাফার হিসাব। যদিও দাম ২০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছিল আগেই।

এই তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের ‍তুলনায় এই প্রান্তিকে প্রায় তিন গুণ মুনাফা করেছে ব্যাংকটি।

গত ২ মে থেকে যখন দাম বাড়া শুরু হয় সেদিন ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। ১২ মে প্রান্তিক প্রকাশের দিন তা বেড়ে হয় ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

এর পর থেকে তিন কার্যদিবসেই বাড়ল ৭ টাকা ৯০ পয়সা। প্রথম দিন বাড়ে এক টাকা ৮০ পয়সা, দ্বিতীয় দিন বাড়ে দুই টাকা ১০ পয়সা, আর তৃতীয় দিনে বাড়ে আরও দুই টাকা।

তিন কার্যদিবসে দাম বাড়ে ৪০ শতাংশ আর ১০ কার্যদিবসে বেড়েছে ৭১ শতাংশ।

বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার দর ২৫ টাকা ৬০ পয়সা। এটি গত পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ দাম।

তবে ব্যাংকটির মূল্য আয় অনুপাত এখনও বেশ আকর্ষণীয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাবে এই অনুপাত বা পি রেশিও ৪.৭৮, যা পুঁজিবাজারে সবচেয়ে কম পি রেশিওর একটি।

এর অর্থ ব্যাংকটি যে হারে আয় করছে, আর এখন যে দাম সে টাকা উঠতে বিনিয়োগকারীদের সময় লাগবে ৪.৭৮ বছর। পুঁজিবাজারে ১০ থেকে ১৫ পি রেশিওকেই আকর্ষণীয় হিসেবে ধরা হয়।

এনআরবিসি উড়ছে, প্রাইমের পালেও হাওয়া

থামেছে না এনআরবিসির দর

গত মার্চে লেনদেন শুরু করা এই ব্যাংকের শেয়ার আইপিওধারীদের হতাশ করেছে। গত দুই বছরে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছাড়া যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে তার প্রায় প্রতিটি প্রথ দিন ৫০ শতাংশ ও দ্বিতীয় দিনও সম পরিমাণ বা তার কাছাকাছি বেড়েছে।

কিন্তু এনআরবিসি প্রথম তিন ৩২ শতাংশ বাড়ার পরের কয়েকদিন টানা কমতে থাকে। এক পর্যায়ে ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির শেয়ার পর ১১ টাকায় নেমে আসে।

তবে ২৭ এপ্রিল থেকে এই ব্যাংকটির দাম একটু একটু করে বাড়তে থাকে। ১১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৪০ পয়সা হতে সময় লাগে পাঁচ কার্যদিবস। এরপর দেয় লাফ। টানা সাত কার্যদিবসে ১০ শতাংশ বা আশেপাশে দাম বৃদ্ধির পর বিক্রেতা শূন্য হয়ে মঙ্গলবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

সাত কার্যদিবসে দাম বেড়েছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯৩ শতাংশ, আর ১২ কার্যদিবসে বেড়েছে ১৪ টাকা ৩০ শতাংশ বা ১২৩ শতাংশ।

এই পরিমাণ দাম বাড়ার পরেও এই ব্যাংকের পি রেশিও এখন ১০.৯৩, যা বিনিয়োগের জন্য বেশ আকর্ষণীয় হিসেবেই বিবেচনা করা যায়।

ব্যাংকটি তার শেয়ারধারীদের ২০২০ সালের জন্য সাড়ে সাত শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৩৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশে আগামী ২০ মে বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ব্রিফকেসে বাজেট কেন

ব্রিফকেসে বাজেট কেন

সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের নানান প্রথা। এগুলোর কোনো কোনোটির উৎস কয়েক শ বছর।

বাজেট ঘোষণার দিন পত্রিকায় প্রায়ই একটি ছবি ছাপা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে প্রবেশ করছেন ব্রিফকেস হাতে।

এই ছবি দেখে মানুষ ‍বুঝতে পারে অর্থমন্ত্রী বাজেট দেয়ার জন্য সংসদে ঢুকছেন। ব্রিফকেসের ভেতর থাকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার কপি।

কিন্তু ব্রিফকেসে বাজেট কেন? কেন অন্য কোনো ধরনের ফোল্ডারে নয়? অনেকের মনে এ প্রশ্ন। এর পেছনে ইতিহাস খুঁজলে জানা যায় অজানা কাহিনি।

‘বাজেট’ শব্দটি ইংরেজি। বাংলায় এর পরিভাষা এখনও তৈরি হয়নি। সরকারি কাজে সর্বত্রই ইংরেজি বাজেট শব্দটিই ব্যবহার হয়।

বাংলা একাডেমির অভিধানে বলা হয়, ১৯০২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় বাজেট শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে মধ্যযুগের ইংরেজি শব্দ ‘বুজেট’ থেকে। বুজেট শব্দের অর্থ ‘মানিব্যাগ’ বা টাকার থলে।

অর্থনীতি গবেষক ও সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খান রচিত ‘বাংলাদেশ বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’ বইয়ে উল্লেখ ‌আছে, রবার্ট ওয়ালপুল নামে যুক্তরাজ্যের একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন ১৭২৫ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত। তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে সারা বছরই ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে কর হ্রাসের প্রস্তাব পেতেন।

সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে নতুন করারোপ বা করহার পরিবর্তনের পরামর্শ আসত। নতুন ব্যয়ের দাবিও বিভিন্ন মহল তার কাছে পাঠাত। এসব দাবি তিনি একটি বুজেট বা মানিব্যাগে ভরে রাখতেন।

অর্থবছরের শেষ দিকে যখন বাজেট তৈরি শুরু হতো, তখন তিনি মানিব্যাগ থেকে সেসব নোট বের করে সেগুলোর ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করতেন। ইতিহাস বলে, এভাবে বাজেট-ব্যবস্থার উৎপত্তি মানিব্যাগ থেকে।

শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়। ফলে বাজেট-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাড়তে থাকে। এত বেশি দাবি আসে যে, এসব প্রস্তাব শুধু একটি মানিব্যাগে সংকুলান সম্ভব হয় না। ফলে মানিব্যাগের জায়গায় আসে ব্রিফকেস।

ড. আকবর আলি খান বলেন, বাজেট গোপন রাখা হয়। কোনো কারণে বাজেট ফাঁস হয়ে গেলে অর্থমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হয়। কাজেই সংসদে পেশ করার আগে বাজেট গোপন রাখতে হয়।

সব দেশেই অর্থমন্ত্রীদের ব্রিফকেস সঙ্গে নিয়ে সংসদে বাজেট ঘোষণার রেওয়াজ দেখা যায়। তবে ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তার প্রথম বাজেটটি ঘোষণার সময় ব্রিফকেসের পরিবর্তে লালসালুতে মোড়া বাজেট ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে সংসদে ঢুকেছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যের লাল শাড়ির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে ওই বছরের বাজেট ডকুমেন্ট সাজিয়েছিলেন তিনি।

শেয়ার করুন

নয় দিন পর সংশোধনে লেনদেনে জোয়ার

নয় দিন পর সংশোধনে লেনদেনে জোয়ার

পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে গতকালের চেয়ে আরও বেশি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

ঈদের ছুটি শেষে রোববার বাজারে লেনদেন হয় এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। পরদিন তা আরও বেড়ে হয় এক হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। আর তার পরদিন লেনদেন হলো এক হাজার ৭১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এটি গত চার মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন। গত ১৭ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

টানা নয় কার্যদিবস উত্থানের পর পুঁজিবাজারে সামান্য দরপতন হলো। তবে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনায় ব্যাপক আগ্রহের কারণে লেনদেন আরও বেড়েছে।

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমে ১০ পয়েন্ট। গত ৩ মের পর এই প্রথম সূচক কমল।

তবে সূচক কমলেও লেনদেন আগের দিনের চেয়ে আরও বেড়ে পৌনে দুইশ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে।

ঈদের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে গত ১০ বছরেও এত বেশি লেনদেন হয়নি বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ।

ঈদের ছুটি শেষে রোববার বাজারে লেনদেন হয় এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। পরদিন তা আরও বেড়ে হয় এক হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

আর তার পরদিন লেনদেন হলো এক হাজার ৭১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এটি গত চার মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন। গত ১৭ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

তবে সে সময়ের তুলনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে এখন লেনদেন কম হচ্ছে এক ঘণ্টা।

গত বছরের জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে যে টানা উত্থান দেখা যায়, সেটি চালু থাকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত। ডিসেম্বরের শেষে ও জানুয়ারির শুরুতে পুঁজিবাজারে টানা ১০ দিন গড়ে দুই হাজার কোটি টাকার আশেপাশে লেনদেন হয়।

তবে ১৪ জানুয়ারি থেকে আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে বাজার সংশোধনে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৮২১ পয়েন্ট সূচক পতনে লেনদেনও নেমে আসে তলানিতে। এক পর্যায়ে একদিন তা ৩০০ কোটি টাকার নিচেও নেমে আসে।

তবে ৫ এপ্রিল থেকে পুঁজিবাজারে আবার দেখা দেয় সুবাতাস। এরপর ২৯ কার্যদিবসে সূচক বাড়ে ৭৪১ পয়েন্ট। সূচক বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বাধাগুলা দূর করার উদ্যোগ নিতে থাকে বিএসইসি।

এসব চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর গত ২০ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। এরপর সব মিলিয়ে আরও চার দিন এক হাজার কোটি টাকার নিচে থাকে লেনদেন।

তবে রোজায় দেখা দেয় এক ব্যতিক্রম প্রবণতা। ঈদের আগে আগে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেন। তবে এবার দেখা দেয় উল্টো প্রবণতা। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনায় মন দেন। গত ২৯ এপ্রিলের পর ১২ কার্যদিবসে লেনদেন একবারও এক হাজার কোটি টাকার নিচে নামেনি।

উত্থান ধরে রেখেছে বিমা খাত

মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেনে শেয়ার দরের উত্থান ধরে রেখেছে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। এদিন লেনদেন বিমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫টির। কমেছে ১২টির; দর পাল্টায়নি তিনটির।

পুঁজিবাজার ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগের তিন কার্যদিবস ধারাবাহিকভাবে কমেছিল এ খাতের শেয়ার দর। দর পতনের এই ধারা অব্যাহত ছিল রোববার পর্যন্ত। কিন্ত ঈদের ছুটির পর দ্বিতীয় লেনদেন থেকে আবার সক্রিয় হয়ে উঠে এ খাতের শেয়ার দর। যা গত দুই কার্যদিবস ধরে অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া দশ কোম্পানির মধ্যে পাঁচটিই ছিল বিমা খাতের।

সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের। শেয়ার দর ৪৮ টাকা থেকে হয়েছে ৫২ টাকা ৮০ পয়সা।

এরপর আছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর ৪০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ১০ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সে শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা ৭০ পয়সা।

জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা ৩০ পয়সা।

ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দরও বেড়েছে ৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ তালিকায় আছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স।

টেকেনি বস্ত্র খাতের উত্থান

পুঁজিবাজার ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে হঠাৎ করে উত্থানে আসে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলো। এ খাতের প্রায় সবগুলো কোম্পানির অর্থবছর শেষ হচ্ছে জুনে। ফলে আগামী তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর চূড়ান্ত মুনাফার বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রস্তাব আসবে।

এমন আলোচনায় এ খাতের উত্থান হলেও ঈদের ছুটির পর এক কার্যদিবস শেয়ার দর বাড়লেও এখন আবার কমছে।

মঙ্গলবার এ খাতের ৫৬টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ২০টির, কমেছে ৩২টির; দর পাল্টায়নি চারটির।

সোমবার লেনদেন শেষে এ ধারাতেই পতন হয়েছিল বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর।

এদিন অনালিমা ইয়ার্ডের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা দশমিক ৯৪ শতাংশ।

শাশা ডেনিমের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৪০ পয়সা বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

স্টাইল ক্রাফটের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ঢালাও কমেছে নন ব্যাংক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের

ব্যাংক প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নতুন মাত্রা দিয়েছে পুঁজিবাজারে। এ খাতের সিংহভাগ কোম্পানির এরই মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যান্য খাতের তুলনায় ছিল অনেক ভালো।

পাশাপাশি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে উত্থান ছিল পুঁজিবাজারে। তবে ঈদের ছুটির পর একদিন ব্যাংক খাতের উত্থান দেখা গেলেও পর পর দুদিন পতনের মুখে এ খাত।

মঙ্গলবার ব্যাংকখাতে তালিকাভুক্ত ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ছয়টির, কমেছে ২৪টির; দর পাল্টায়নি একটির।

একই ভাবে মিউচ্যুাল ফান্ড খাতের ৩৭টির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র একটি ফান্ডের, কমেছে ২৮টির; দর পাল্টায়নি আটটির।

আর নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩টির মধ্যে একটির দর পাল্টায়নি, একটি লেনদেন হয়নি; বাকি ২১টির দর কমেছে।

ফলে দর পতন হওয়ার শীর্ষ কোম্পানিগুলোর তালিকার শীর্ষে ছিল নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ফার ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫ শতাংশ।

সূচক ও লেনদেন

মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮২৯ পয়েন্টে।

শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮১ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে।

এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।

একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৮৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৬০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

এনআইডি সংশোধন ফি দেয়া যাবে বিকাশে

এনআইডি সংশোধন ফি দেয়া যাবে বিকাশে

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ‘সরকারি ফি’ আইকন। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার অন্যান্য বিল পরিশোধও এই আইকনেই যুক্ত হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, ডুপ্লিকেট এনআইডি সংগ্রহসহ সব ধরনের সেবার ফি পরিশোধ করা যাবে বিকাশে।

এর মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ‘সরকারি ফি’ আইকন। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার অন্যান্য বিল পরিশোধও এই আইকনেই যুক্ত হবে।

এখন নিজের সুবিধামতো সময়ে, সুবিধাজনক স্থান থেকে এনআইডির সব সেবার ফি বিকাশে পরিশোধ করা যাবে। পাওয়া যাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব সেবা।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যাংকে না গিয়েই নিরাপদে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবা নেয়া অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে বিকাশে এনআইডি ফি পরিশোধ।

গ্রাহকরা এনআইডির তথ্য সংশোধন, অন্যান্য তথ্য সংশোধন, ডুপ্লিকেট এনআইডির আবেদন, ডুপ্লিকেট এনআইডির জরুরি আবেদনসহ সব সেবার ফি বিকাশে পরিশোধ করতে পারবেন।

ফি পরিশোধ করতে বিকাশ অ্যাপের পে বিল থেকে ‘সরকারি ফি’ আইকন নির্বাচন করতে হবে। এনআইডি সার্ভিস থেকে যে নির্দিষ্ট সেবা প্রয়োজন তা নির্বাচন করতে হবে এবং এনআইডি নম্বর দিয়ে পরবর্তী ধাপে গেলে সেবা অনুসারে টাকার অঙ্ক নির্বাচিত হয়ে যাবে। পরের ধাপে পিন দিয়ে ট্যাপ করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

পেমেন্ট হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক রিসিট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন যা ভবিষ্যৎ প্রমাণের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবার ফি ছাড়াও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ নানান ধরনের ফি পরিশোধ করা যায়।

শেয়ার করুন

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে

আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এবং মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে।

করোনা মহামারির মধ্যেও অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এজন্য আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেটে পদ্মায় সড়ক ও রেলসেতুসহ এ ধরনের প্রকল্পে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এসব প্রকল্পের অনুকূলে চলতি বছরের চেয়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। প্রকল্পগুলোতে সম্মিলিতভাবে ৩৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি বৈঠকে নতুন এডিপি অনুমোদন হয়। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠকে যুক্ত হন।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নতুন এডিপিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে সড়ক-বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ মেগা প্রকল্পও অগ্রাধিকার পেয়েছে। এসব প্রকল্প সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তাদের প্রয়োজনমতো যতটা চাহিদা দিয়েছে, ততটাই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটির যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মেট্রোরেলসহ অন্য বড় প্রকল্পগুলোয়।

ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এবং মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। অন্য দিকে বরাদ্দ কমছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প, মেট্রোরেল-৬ এবং পায়রা বন্দরের দুই প্রকল্পে।

সব মিলিয়ে সাতটি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে এ বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত এডিপিতে কমিয়ে ২৯ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়। সে হিসাবে আগামী এডিপিতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশ।

রূপপুর প্রকল্প

এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ আছে ১০ হাজার ১৬৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগামী এডিপিতে তা ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা হয়েছে। ফলে বরাদ্দ বেড়েছে ৮ হাজার ২৫৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। দেশের একমাত্র পারমাণবিক এ বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার। প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে তা করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৯৩ শতাংশ। আগামী বছরের জুনেই সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার আশা রয়েছে।

পদ্মায় রেলসেতু

পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ৫ হাজার ৪৫৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। নতুন এডিপিতে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ৬৩১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অন্যান্য প্রকল্প

মাতারবাড়ি ২৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর সংশোধিত বরাদ্দ আছে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে রাখা হয়েছে ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। বেড়েছে ১ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা।

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ আছে ৯৯০ কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ বেড়েছে ৪৩৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুট চালুর প্রাথমিক লক্ষ্য থাকলেও কোভিড পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শেষের দিকে হওয়ায় চাহিদা কমছে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল)-৬ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ আছে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বরাদ্দ কমছে ৭৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

পায়রাবন্দরকে গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এখন সাধারণ নৌবন্দর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে পায়রাবন্দরের বরাদ্দ কমেছে ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ আছে ৬৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে প্রস্তাব করা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বরাদ্দ কমছে ৩৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে চলতি বছর বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। আগামী বছরের জন্য তা ২৭০ কোটি টাকা করা হয়েছে। কমেছে ২৩০ কোটি টাকা।

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের বাইরে সরকার আরও কিছু বড় প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

নতুন এডিপির আকার

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে এনইসি। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা জোগান দেয়া হবে। এডিপির এই আকার চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় ২০ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বেশি। এ ছাড়া সংশোধিত এডিপির তুলনায় তা ২৭ হাজার ৬৮১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি।

শেয়ার করুন