× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

hear-news
player
print-icon

করোনার মধ্যেও ভারত যাওয়ার পথ খুলল

করোনার-মধ্যেও-ভারত-যাওয়ার-পথ-খুলল
বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালুর ঘোষণা দিল ভারত। ছবি: ইউএনবি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশিদের জন্য নয় শ্রেণির ভিসা চালু করল ভারত। তবে যারা ঘুরতে যেতে চান, তাদেরকে আরো অপেক্ষায় থাকতে হবে। কারণ, পর্যটন ভিসা চালু করেনি।

শুক্রবার ভারতীয় হাইকমিশন চিকিৎসা, ব্যবসা, চাকরি, এন্ট্রি, সাংবাদিক, কূটনীতিক, কর্মকর্তা, জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের কূটনীতিকদের জন্য ভিসা চালুর জন্য আবেদনের কথা জানিয়েছে।

শিগগিরই অন্যান্য সব শ্রেণির ভিসা দেয়া শুরু করবে দেশটি।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে গত ১২ মার্চ থেকে সব দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া স্থগিত ঘোষণা করেছিল ভারত।

সূত্র: ইউএনবি

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of electricity has increased five times in Germany during the drought

জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ

জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ জার্মানির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের জ্বালানি সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাইন নদীর পানি কমে যাওয়া। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নদীটি দৃশ্যত নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে। সড়ক বা রেলপথে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হলেও সেটি অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ।

চলমান দাবদাহ ও খরায় ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে আসায় জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা রাশিয়া গ্যাস রপ্তানি সীমিত করেছে ইউরোপে, অন্যদিকে গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে পুরো মহাদেশ। এমন পরিস্থিতি ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। শীতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেলে এ সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউরোপের জ্বালানি সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাইন নদীর পানি কমে যাওয়া। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নদীটি দৃশ্যত নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে।

সড়ক বা রেলপথে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হলেও সেটি অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ।

এ বিষয়ে এএমই গ্রুপের এক নোটে বলা হয়, ‘রাইন নদীর পানির স্তর নেমে যাওয়া এসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার জোগান ব্যাহত করবে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইউরোপিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জে জার্মানির বিদ্যুতের প্রতি মেগাওয়াটের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৪২০ ইউরো হয়েছে। এটি এক বছর আগের দামে চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

প্রচণ্ড তাপ ও খরায় জলবিদ্যুতের জোগান দেয়া নদী, জলাধারগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নরওয়ের অসলোভিত্তিক জ্বালানি প্রযুক্তি কোম্পানি ভলুর পানি বিশেষজ্ঞ সিলজে এরিকসেন হলমেন বলেন, ইউরোপে শুষ্ক অবস্থা কাটার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। এটা এ কারণে নয় যে, শুধু এ গ্রীষ্মটাই শুষ্ক; সময়টা দীর্ঘ হওয়ায় খরার প্রভাব আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
মেশিনে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলছিল যুবকের দেহ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্য বৈপ্লবিক: কাদের
পিকনিকের লঞ্চ বিদ্যুতায়িত: নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
পিকনিকের লঞ্চ বিদ্যুতায়িত, নিখোঁজ ১

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shares are returning to the floor after falling throughout the week

সপ্তাহজুড়ে পতনে ফ্লোরে ফিরছে শেয়ারদর

সপ্তাহজুড়ে পতনে ফ্লোরে ফিরছে শেয়ারদর
প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা পদ্ধতি শেয়ারের ক্রয়মূল্যে নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সপ্তাহে সূচক ৩৩১ পয়েন্ট বাড়লেও চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন পতনে ১৬৩ পয়েন্ট কমে হতাশা আরও গাঢ় হয়েছে। আগের সপ্তাহে আর্থিক ক্ষতি তারা যতটা পোষাতে পেরেছিলেন, চলতি সপ্তাহে সেটি উধাও হয়ে গেছে।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার আগের দিন বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ছিল ১১৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে আগের পাঁচ দিনের গড়মূল্য হিসাব করে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর নির্ধারিত হয় ১১৫ টাকা ৭০ পয়সা।

গত সপ্তাহে শেয়ারদর বেড়ে ৪ আগস্ট উঠে ১২৭ টাকা ৯০ পয়সায়। চলতি সপ্তাহের চার কর্মদিবসে যতটুকু বেড়েছিল, সেখান থেকে প্রায় সবটুকুই হারিয়ে এখন দর নেমে দাঁড়িয়েছে ১১৭ টাকা ১০ পয়সায়।

কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই একই চিত্র। শক্তিশালী মৌলভিত্তিক গ্রামীণ ফোনও তার ফ্লোর প্রাইস ২৮৬ টাকা ৬০ পয়সার কাছাকাছি ২৮৭ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে।

নতুন সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর শেয়ারপ্রতি সাড়ে ১২ টাকা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারদর যতটা বেড়েছিল, তার প্রায় পুরোটাই এক দিনেই নাই হয়ে গেছে।

লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে লেনদেন শুরু হতেই ১৫ টাকা ৪০ পয়সা কমে গেছে শেয়ারদর।

বেক্সিমকো ও গ্রামীণফোনের মতো চিত্র শত শত কোম্পানির। প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা পদ্ধতি শেয়ারের ক্রয়মূল্যে নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সপ্তাহে প্রতিদিন বাড়লেও পরের সপ্তাহের প্রতিদিনই পড়ল পুঁজিবাজার।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৮ পয়েন্ট, সোমবার ৪৫ পয়েন্টের পর মঙ্গলবার আশুরার ছুটি শেষে ৭৮ পয়েন্টের পতনে জেঁকে বসা আতঙ্কে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার উধাও হয়ে গেছে শেয়ারের ক্রেতা। ৩২ পয়েন্ট সূচকের পতনের পর ৯ কর্মদিবস পর লেনদেন নেমে এলো পাঁচ শ কোটির ঘরে।

আগের সপ্তাহে ৩৩১ পয়েন্ট সূচকের উত্থান বিনিয়োগকারীদের যতটা আশাবাদী করেছিল, চলতি সপ্তাহে ১৬৩ পয়েন্টের পতন তার চেয়ে বেশি হতাশ করেছে বিনিয়াগকারীদের। আগের সপ্তাহে আর্থিক ক্ষতি তারা যতটা পোষাতে পেরেছিলেন, চলতি সপ্তাহে সেটি উধাও হয়ে গেছে।

ফ্লোর প্রাইসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন লেনদেন ছিল ৪৪১ কোটি ৭৭ লাখ ৮২ হাজার। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর টানা চার কর্মদিবস লেনদেন বেড়ে এক হাজার দুই শ কোটি ছুঁই ছুঁই হয়ে যাওয়ার পর টানা পাঁচ দিনে সূচক ৩৩১ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ার পর হতাশা কাটার আলোচনা তৈরি হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুঁজিবাজারে দর সংশোধন, এরপর ধস নামার ৯ মাস পর প্রথমবারের মতো এমন একটি আলো ঝলমলে সপ্তাহ পার করার পর চলতি সপ্তাহে পুরো বিপরীত চিত্র।

আগের সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল হলেও চলতি সপ্তাহ দেখা দেয় অস্থিরতা। ১০৮ টাকা থেকে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে খোলাবাজারে দর উঠেছে ১২০ টাকা। যুক্তরাজ্যের পাউন্ড ছুঁয়েছে দেড় শ টাকা।

এই অবস্থায় অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি নানা ধরনের গুজব-গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারলেই যেন বাঁচে। বাজারে বিপুল বিক্রয় চাপ, কিন্তু ক্রেতার অভাব- এই অবস্থায় শেয়ারদর আরও কমছে। কিন্তু ফ্লোর প্রাইসের কারণে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের নিচে নামা সম্ভব নয়, এই অবস্থাতেও অনিশ্চয়তার কারণে কিনতে চাইছে না তারা।

যেমন ফ্যামিলি টেক্সের ফ্লোর প্রাইসে ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৩টি শেয়ারের বিক্রেতা থাকলেও একজন ক্রেতাও ছিল না।

পাঁচটি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি, একটি কোম্পানির একটি, একটি কোম্পানির দুটি, ছয়টি কোম্পানির এক শর নিচে, আরও ছয়টি কোম্পানির পাঁচ শর নিচে, আরও তিনটি কোম্পানির এক হাজারের কম, আরও ১৪টি কোম্পানির তিন হাজারের কম, আরও ৯টি কোম্পানির পাঁচ হাজারের কম শেয়ার হাতবদল হয়েছে। যদিও বিক্রেতা ছিল লাখ লাখ শেয়ারের।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব সহায়তা দেব: নতুন গভর্নর
ভালো স্টার্টআপকে পুঁজিবাজারে চান বিএসইসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trying to survive by cutting costs

খরচ কমিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা

খরচ কমিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সবজি, মাছসহ অন্যান্য খাদ্যপণের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলেছে চাকরিজীবী সজিব খান ও তার পরিবারকে। অলংকরণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা নেই। সংসারে ৫ জন মানুষ। এখন খাওয়া কমিয়ে দেয়া ছাড়া উপায় কী? আগে সপ্তাহে তিন দিন মাছ খেতাম এখন সেটা এক দিন করতে হবে। ন্যূনতম পোশাক দিয়ে চলতে হবে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া উপায় নেই: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ঢাকার বাংলামোটরে এসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সজিব খান। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বাসভাড়া দিতেন ৪০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধির পর ২০ টাকা বেড়ে সেই ভাড়া হয়েছে ৬০ টাকা।

অর্থাৎ আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে ৪০ টাকা। তবে ব্যয় বৃদ্ধির এই হিসাবই শেষ নয়।

গুলিস্তান থেকে বাংলামোটরে আসা-যাওয়া করেন তিনি। আগে এই পথে ভাড়া নিত ১০ টাকা করে। চার কিলোমিটার পথের ভাড়া এখনও ১০ টাকাই হয়। কিন্তু বাসগুলো আদায় করছে ১৫ টাকা করে ৩০ টাকা।

অর্থাৎ এই পথেও ১০ টাকা মিলিয়ে প্রতি দিন সজিবের বাসভাড়া বেড়েছে ৫০ টাকা। মাসে ২৬ দিন অফিস করলে বাড়তি ব্যয় করতে হবে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সবজি, মাছসহ অন্যান্য খাদ্যপণের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলেছে সজিবকে।

তিনি বলেন, ‘মাসে বেতন ২৫ হাজার টাকা। এই বেতন নিয়ে এমনিতেই সংসারে টানাটানি অবস্থা। তার মধ্যে হঠাৎ করেই যদি বাসভাড়াই ১ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয় বাড়ে, তাহলে জীবন ধারণ করাই কঠিন হবে।’

খরচ কমিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বেড়েছে বাসভাড়া। ছবি: নিউজবাংলা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বেড়েছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। স্কুল, বাজার, কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস, নৌযান অর্থাৎ জ্বালানি তেলনির্ভর সব যানবাহনে বেড়েছে ভাড়া। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে অন্যান্য নিত্যপণ্যে।

করোনা-পরবর্তী বিশ্বে যখন নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি, এর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা পৃথিবীকেই ফেলে দিয়েছে বিরাট অনিশ্চয়তার মধ্যে। অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, তার সঙ্গে বেড়ে যাওয়া খরচের সঙ্গে যখন নাভিশ্বাস, সে সময় জ্বালানি তেলের দামে দিল লাফ।

ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা আর অকটেন-পেট্রলের দাম ৪৪ ও ৪৬ টাকা করে বাড়ানোর পর দেশে বাসভাড়া বেড়েছে নগর পরিবহনে কিলোমিটারপ্রতি ৩৫ পয়সা, দূরপাল্লায় ৪০ পয়সা।

কিন্তু ভাড়া আসলে যতটা হওয়ার কথা, আদায় চলছে তার চেয়ে বেশি। আবার ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দর। আবার কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় এক টাকা বাড়লে ছোট নোটের অভাবে আদায় হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা। সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

কেউ শক আহ্লাদের পেছনে ব্যয় কমাচ্ছে, কেউ সন্তানদের পেছনে ব্যয় কমাচ্ছে, কেউ ঘুরাঘুরি বাদ দিচ্ছে, কেউ আড্ডায় কম যাচ্ছে, কেউ বা কম খাচ্ছে।

খরচ কমিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি সবজি, মাছসহ অন্যান্য খাদ্যপণের দাম বেড়ে গেছে। ফাইল ছবি

পরিবহন ব্যয়ে লাফ

মিরপুর-১ নম্বর থেকে নিজের মোটরসাইকেলে করে ফার্মগেটে বেসরকারি ব্যাংকে অফিস করেন বিল্লাল হোসেন। বাইকে ৫০০ টাকার তেল নিলে আগে ৬ থেকে ৮ দিন চলাচল করা যেত। এখন সেই পরিমাণ তেল কিনতেই ব্যয় হবে ৬৫০ টাকার বেশি। অর্থাৎ মাসে ব্যয় বাড়বে অন্তত ৬০০ টাকার বেশি।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘মাসের এই ব্যয় সমন্বয় করতে হবে অন্য কোনো চাহিদা বাদ দিয়ে। বেতন যেহেতু এক টাকাও বাড়েনি, তাই এই ব্যয় সমন্বয় করতে ইচ্ছার মৃত্যু ঘটাতে হবে।’

নিজের বাইক আছে বলে বিল্লালের খরচ তাও কিছুটা কম বেড়েছে। শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ধানমন্ডির সায়েন্সল্যাব মোড়ের অফিসে যাওয়া আলিম উদ্দিনের বেড়েছে আরও বেশি।

মাঝবয়সী এই ব্যক্তি জানান, বাসেই যাতায়াতের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু যেখান থেকে তিনি বাসে চাপেন, সেখান থেকে উঠাই কঠিন। মাসের অন্তত ২০ দিনই ব্যর্থ হন। এরপর উপায়ান্ত না দেখে বাইকে করে যান।

তিনি বলেন, ‘আগে বাইকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় যাওয়া যেত। কিন্তু এখন আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা চায়।’

আক্ষেপ করে আলিম উদ্দিন বলেন, ‘সর্বসাকুল্যে বেতন পাই ৪২ হাজার টাকা। পথেই চলে যায় বড় অঙ্কের অর্থ। এর সঙ্গে দুই বাচ্চার স্কুলের ব্যয়, সংসারের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে চোখেমুখে অন্ধকার অবস্থা। বলেন, মাসের ২০ দিন রাইড শেয়ারে যেতে যদি ৫০ টাকা করে বেশি দিতে হয় তাহলে মাস শেষে বাড়তি ব্যয় দাঁড়াবে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই টাকার সংস্থান কোথা থেকে আসবে?’

ফার্মগেট থেকে মিরপুর ৬০ ফিট রোডের একটি স্কুলে এসে শিক্ষকতা করেন তৌহিদা আহমেদ। ফার্মগেট থেকে টেম্পোতে এত দিন ভাড়া ছিল ২০ টাকা। সেই ভাড়া ৬ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৬ টাকা।

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই করোনার কারণে স্কুলের বেতন কমিয়ে দিয়েছে, তার পরও আসা-যাওয়ায় এভাবে ব্যয় বাড়লে চাকরি করে লাভ কী?’

মিরপুর-৬০ ফিট রোডের পাকা মসজিদ থেকে মিরপুর-২ নম্বরের মণিপুর স্কুলের মূল শাখায় ছেলেকে টেম্পোতে নিয়ে এবং ফিরতে এত দিন শায়লা ইসলামের ব্যয় হতো ৪০ টাকা। জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া বেড়ে এখন হয়েছে ৬০ টাকা। জনপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে এখন ভাড়া হয়েছে ১৫ টাকা। অর্থাৎ সামান্য এই পথ যাতায়াতেই দিনে ব্যয় বেড়েছে ২০ টাকা। তাহলে মাসের ২৫ দিন স্কুলে যাওয়া আসায় ব্যয় বাড়ছে ৫০০ টাকা।

ব্যয় সামাল দিতে চাহিদায় কাটছাঁট

রাজধানীর নিকুঞ্জ নিবাসী পার্থ রায় বলেন, ‘মাসে দুই দিন মাংস খাবার রেওয়াজ ছিল পরিবারে। কিন্তু এখন এক দিন খাওয়া যাবে কি না সন্দেহ।’

তিনি বলেন, ‘নিকুঞ্জ থেকে মৌচাক পর্যন্ত যেতে বাসভাড়া বেড়েছে। বাসে যাওয়া কঠিন হওয়ায় রাইড শেয়ারে যেতে হয়। সেখানেও বাড়তি ব্যয় করতে হবে।’

সংসারে ব্যয়ের খতিয়ান তুলে ধরে বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি খাবারের ব্যয় কমিয়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে বাসাভাড়া ৫০০ টাকা বেড়েছে। মে মাসে পানির বিল ৫০০ থেকে এক হাজার করেছে বাসার মালিক। সন্তানের স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য দিনে আগে ভাড়া লাগত ৩০ টাকা করে ৪০ টাকা। এখন লাগে ৬০-৭০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দামই বাড়তি। অফিসে যাওয়া-আসা করতেও বাসভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু আয় দুই বছর আগে যা ছিল, এখনও তা-ই আছে। সংসার চালাতে এখন প্রতি মাসেই ধারকর্জ করে চলতে হচ্ছে।’

পরিত্রাণ কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা নেই। সংসারে ৫ জন মানুষ। এখন খাওয়া কমিয়ে দেয়া ছাড়া উপায় কী? আগে সপ্তাহে তিন দিন মাছ খেতাম এখন সেটা এক দিন করতে হবে। ন্যূনতম পোশাক দিয়ে চলতে হবে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া উপায় নেই।’

‘অনেক ব্যয় কাটছাঁট করে টিকে থাকতে হবে’

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই মানুষ ব্যয়ে চাপে আছে, তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে সামনে এসেছে। আয় না বাড়লেও ব্যয় বৃদ্ধিতে স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘সীমিত আয়ের মানুষ, যাদের আয় নির্দিষ্ট তাদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। করোনা-পরবর্তী সময়ে এত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি কেউ হয়নি। এ থেকে উত্তরণ কীভাবে, সেটাও জানা নেই।

‘করোনার সময়ে অনেকের আয় কমে যায়। ধারদেনা করে চলার চেষ্টা করেছে সবাই। অনেকে গ্রামে গিয়ে বিকল্পভাবে চলার চেষ্টা করছে। মানুষ যখন একটু ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়া নতুন করে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। মানুষ তো কোনো না কোনোভাবে বেঁচে থাকবে। পারিপার্শ্বিক অনেক ব্যয় কাটছাঁট করে জীবনযাত্রায় টিকে থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The government will measure the impact of the increase in oil prices

তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাপবে সরকার

তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাপবে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খতিয়ে দেখবে সরকার। অলংকরণ: মামুন হোসাইন
তেলের দাম বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে কতটা পর্যুদস্ত করছে, তা খতিয়ে দেখবে অর্থ মন্ত্রণালয়। দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিম্ন আয়ের মানুষকে কীভাবে আরও স্বস্তি দেয়া যায়, সে বিষয়েও সুপারিশ থাকবে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সার্বিক অর্থনীতির ওপর। দাম বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। বাড়তে শুরু করেছে কৃষি, শিল্প ও সেবার খরচ। এতে শঙ্কায় রপ্তানিকারকরা। মহাদুশ্চিন্তায় আছেন ভোক্তা। স্থির আয়ের সঙ্গে বাড়তি অস্বাভাবিক ব্যয়ের হিসাব মেলাতে প্রতিনিয়ত অসহনীয় হয়ে উঠছে জনজীবন।

তেলের দাম বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে কতটা পর্যুদস্ত করছে, তা খতিয়ে দেখবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।

বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। এটি সার্বিক অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে, তার মূল্যায়ন করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। খুব শিগগিরই এ মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ মূল্যায়নের মাধ্যমে যে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত হবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতায় ফেরাতে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষকে কীভাবে আরও স্বস্তি দেয়া যায়, সে বিষয়েও সুপারিশ থাকবে এই অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এ পর্যালোচনাটি দাম বাড়ার আগে হওয়া উচিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রিভার ট্রান্সপোর্ট এজেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাকিবুল আলম দীপু জানান, মার্কেট সার্ভে না করে একটা পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সারা দেশের সমস্ত কর্মকাণ্ডে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, সেটি পর্যালোচনা করা হয়নি। সেটি সহনীয় ও পরিকল্পিতভাবে না হওয়ায় এখন তার বোঝা দেশের সব জনগণ, তথা অর্থনীতির ওপর পড়ছে। সরকারকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে একটি বিশদ মূল্যায়ন করা এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া। না হলে মূল্য দিতে হবে অর্থনীতিকে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্যোগটি ইতিবাচক, তবে সেটি খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আবার শুধু প্রভাব বের করলেই হবে না; কীভাবে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়, তার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ও করতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি দ্রুত রুগ্ন হয়ে পড়বে এবং তার অস্থির আচরণ আরও বাড়তে থাকবে।’

আহসান মনসুর কৃষকদের হাতে সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছে দেয়া, নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের তালিকায় পণ্য বাড়ানো এবং জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন খাতগুলোতে ভর্তুকি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটেও এতদিন দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপের কারণে কমে আসছিল ঊর্ধ্বগতির মূল্যস্ফীতিও, কিন্তু গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘটনা পাল্টে দেয় গোটা অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ। এটি নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে সব শ্রেণির ভোক্তা ও ব্যবহারকারীকে। জীবনযাত্রার ব্যয় আগামী দিনে কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ সবার।

যদিও দাম বাড়ানোর আগে আগে অর্থনীতিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব কতভাবে পড়তে পারে সে বিষয়ে বিশদ কোনো পর্যালোচনা করেনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা দেখেছে শুধু নিজেদের লাভ-ক্ষতি। তাদের হিসেবে দেখানো হয়, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকি বাঁচবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

এক লাফে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ১১৪ টাকা। আগে এর দাম ছিল ৮০ টাকা। এতে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৬ টাকা লিটারের পেট্রলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১৩০ টাকা। অন্যদিকে ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৯ টাকার অকটেনের নতুন দাম করা হয় ১৩৫ টাকা।

এ পরিমাণ ভর্তুকি বাঁচাতে গিয়ে অর্থনীতির সব খাতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের কারণে কত হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে, সেটি ভেবে দেখা হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিদ্যমান বাস্তবতায় চাপে থাকা অর্থনীতির সুরক্ষা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এখন সেদিকেই গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-ব‌রিশাল রু‌টে লঞ্চের খরচ বেড়ে দ্বিগুণ
পাম্পে পাম্পে হানা, কম তেলে জরিমানা
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র সমাবেশে পুলিশের লাঠিপেটা
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহবাগে গণঅবস্থান
ট্যাংকলরির ধর্মঘট স্থগিত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Now the pound is running after the dollar not even a hundred and a half hundred

ডলারের পর এবার ছুটছে পাউন্ড, মিলছে না দেড় শতেও

ডলারের পর এবার ছুটছে পাউন্ড, মিলছে না দেড় শতেও
কার্ব মার্কেটে ব্যাংক রেটের চেয়ে ৩৫ টাকা বেশি দামে পাউন্ড বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যাংকগুলো ২৫ টাকা বেশি দরে নগদ পাউন্ড বিক্রি করছে।

শুধু ডলার নয়, টাকার বিপরীতে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দরও ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট থেকে বুধবার ১ পাউন্ড কিনতে হাতে গুনে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। ব্যাংকগুলো নিয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।

তবে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকা-পাউন্ডের বিনিময় হার ছিল ১১৪ টাকা ৩৯ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে দরে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন করে তাকে আন্তব্যাংক রেট বা ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে এক-দেড় টাকা বেশি দরে নিজেদের মধ্যে লেনদেন করে এবং গ্রাহকদের কাছে নগদ বিক্রি করে।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কার্ব মার্কেটে ব্যাংক রেটের চেয়ে ৩৫ টাকা বেশি দামে পাউন্ড বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যাংকগুলো ২৫ টাকা বেশি দরে নগদ পাউন্ড বিক্রি করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বুধবার ডলার-পাউন্ডের বিনিময় হার ছিল ১ ডলার ২২ সেন্ট। অর্থাৎ ১ পাউন্ডের জন্য লেগেছে ১ ডলার ২২ সেন্ট।

রুবায়েত ইসলাম সৌরভ উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য যাবেন, বেশ কিছু পাউন্ডের প্রয়োজন। বুধবার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ঘুরে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছিলেন না। দুপুর ২টার দিকে প্রতি পাউন্ডের জন্য ১৪৫ টাকা চাওয়া হয়। ৪টার দিকে সেই পাউন্ড ১৫০ টাকায় কিনেছেন সৌরভ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘খুব প্রয়োজন ছিল। এতো টাকা দিয়ে পাউন্ড কিনতে হবে কখনই ভাবিনি। ভেবেছিলাম ডলারের দাম বেশি; এখন দেখছি পাউন্ডও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ১৫০ টাকা দিয়েই কিনেছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খোলাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুধু ডলার নয়, পাউন্ডও পাওয়া যাচ্ছে না। এমন বাজার আগে কখনও দেখিনি।’

মানি এক্সচেঞ্জে নজরদারি, পুলিশের অভিযান, দামে কারসাজির অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেয়া- কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর; কমছে টাকার মান।

পাগলা ঘোড়ার মতোই ছুটছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম। সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরের চেয়ে ২৫ টাকা বেশিতে এখন ১২০ টাকায় খোলাবাজারে কিনতে হচ্ছে মুদ্রাটি। দেশের ইতিহাসে এর আগে এই ঘটনা কখনও ঘটেনি।

গত ২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দর উঠেছিল ১১২ টাকা। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির পর কয়েক দিন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১০৮ টাকায় থিতু হয়।

কিন্তু চলতি সপ্তাহ থেকে আবার শুরু হয় ঊর্ধ্বগতি। সোমবার খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয় ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দর সেদিনও ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। পরদিন তা আরও ৩০ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৯৫ পয়সা। এরপর দিন খোলাবাজারে আবার লাফ দেয় ডলার। এক দিনে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা।

ব্যাংকগুলো নগদ ডলারও বেশি দামে বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বুধবার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা দরে। এসআইবিএল থেকে নগদ ডলার কিনতে লেগেছে ১০৩ টাকা ২৫ পয়সা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক ১০৪ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে। সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়। জনতা ব্যাংক থেকে নগদ ডলার কিনতে লেগেছে ১০৩ টাকা।

খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লে মুদ্রা বিনিময়ের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ব্যাংক থেকে ডলার কিনে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে থাকে। এখন ব্যাংকেও ডলারের সংকট। এ জন্য অনেক ব্যাংক এখন উল্টো খোলাবাজারে ডলার খুঁজছে।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশে ডলারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডলারের দাম। এ জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিনিয়ত দামও বাড়াচ্ছে। তারপরও সংকট কাটছে না।

ডলারের দৌড় থামাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও কমছে না মুদ্রাটির তেজিভাব, কাটছে না সংকট।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে কয়েক মাস ধরে। বেড়েই চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দর। কমছে টাকার মান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৭ শতাংশের মতো; আর এক বছরে কমেছে ১২ শতাংশের বেশি।

বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’আনতে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ মাস ৮ দিনে (১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট) বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ১৫০ কোটি (দেড় বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ হিসাবে এই ১ মাস ৮ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৪ কোটি ডলার বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে কখনোই এত কম সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছে এত বেশি ডলার বিক্রি করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

অথচ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন ও আমদানি ব্যয় কমায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজার থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না
ডলার ক্রয় ৮৩.৯৫ টাকা, বিক্রি ৮৪.৯৫ টাকায়
ডলার ক্রয় ৮৩.৯৫ টাকা, বিক্রি ৮৫ টাকায়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Diesel will last 18 days on 30 petrol octane

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন
দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

দেশে বর্তমানে ৩০ দিনের ডিজেল মজুত রয়েছে। আর ১৮ দিনের পেট্রল ও ৩২ দিনের জেট ফুয়েল রয়েছে। এছাড়া দেশে যে অকটেন মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ১৮ থেকে ১৯ দিনে চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Increase in fuel prices will further increase inflation Finance Minister

জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘জ্বালানির সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তার প্রভাব সার্বিক অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ওপরে পড়বে। অর্থাৎ দাম বাড়লে, খরচ বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বুধবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এপ্রিল, মে ও জুনে দেশের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হয়। জুলাইয়ে এসে কিছুটা কমে এলেও এখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই মূল্যস্ফীতি আগের চেয়েও বেড়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানির সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তার প্রভাব সার্বিক অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ওপরে পড়বে। অর্থাৎ দাম বাড়লে, খরচ বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।’

এ পরিস্থিতিতে গরিব মানুষ কষ্টে আছে, তাদের এই কষ্ট লাঘবে সরকার কী করবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্যই সরকার। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের কষ্ট অনেক বেশি হয়। ইতোমধ্যে তাদের কষ্ট লাঘবে সরকার ওএমএস, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা থেকে গরিব মানুষকে সুরক্ষা দিতে আরও কী সহায়তা দেয়া যায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ডলারের দাম বৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক সংকট। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের দেশে দেশে বাড়ছে ডলারের দাম। যারা যুদ্ধ করছে তাদেরও বাড়ছে, যারা যুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন তাদেরও বাড়ছে।

‘বাংলাদেশেও তার প্রভাব আছে। তবে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। শিগগিরই ডলারের দাম স্বাভাবিক হবে।’

শিগগিরই দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনীতিতে সার্বিক ক্ষতির প্রভাব কেমন হবে তার কোনো অ্যাসেসমেন্ট করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের মতো করে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। এখন দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পণ্যমূল্য বাড়ছে। যার প্রভাব পড়বে মানুষের জীবনযাত্রা ও উৎপাদমুখী সব কর্মকাণ্ডে।

‘এখন এই প্রভাব কতটা প্রকট হতে পারে বা কতটা সহনীয় থাকবে সে বিষয়ে নিশ্চয় অর্থ মন্ত্রণালয় একটা প্রভাব খতিয়ে দেখবে।’

একই সঙ্গে অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এই পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডলারের বাজারে অস্থিরতার সময় দেশি-বিদেশি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে পদ থেকে অব্যাহতির বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কোনো কিছুই নিয়মের বাইরে হওয়া উচিত নয়। ব্যাংক চলে নিয়মের মধ্যে। নিয়মেই বলা আছে কী পরিমাণ টাকা ব্যাংকে রাখা যাবে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা যাবে, আরও কী করতে হবে সেটিও বলা আছে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তি পেতে তো হবেই।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংকে সুদহারের নয়-ছয় নিয়ে উভয় সংকট
মূল্যস্ফীতির পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাব মানছেন না অর্থমন্ত্রী
সরকারি হিসাবেই এখন আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় মানুষের
নয় বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি
মূল্যস্ফীতিতে জাপানে পেঙ্গুইনদের ‘অনশন’

মন্তব্য

p
উপরে