করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে জোয়ার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা- ছবি এপি

করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে জোয়ার

সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ৪৯ শতাংশ

করোনার মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে উল্লম্ফন অব্যাহত আছে। সদ্যসমাপ্ত সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে। গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪৬ শতাংশ বেশি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের একটি অংশ চাকরি হারিয়েছেন, দেশে ছুটিতে এসে ফিরতে পারছেন না কয়েক লাখ কর্মী। আশঙ্কা করা হয়েছিল, প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে মার্চ থেকে রিজার্ভে প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিকর হয়। এপ্রিল, মে, জুন মাসে প্রবৃদ্ধির আয় বাড়ে আরও।

চলতি অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাই থেকে প্রবাসী আয় আসতে থাকে রেকর্ড পরিমাণ। তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের কিছু বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৭১ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

ব্যাংকাররা বলেছেন, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা, নিয়ম-কানুন সহজ করা, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী অবৈধ হুন্ডি বন্ধের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দিতে করতে প্রবাসীদের গত অর্থবছর থেকে নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এ সুবিধা গ্রহণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার নিদের্শনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এতে জটিলতা তৈরি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে নথি ছাড়াই একসঙ্গে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত তুলতে পারবেন প্রবাসীরা -এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

বিদেশে যাতায়াত কমতে থাকায় হাতে হাতে রেমিট্যান্স আসাও বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারণেও ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপ্রবাহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক প্রবাসী দেশে আসার অপেক্ষায় আছেন। তারা সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ার এটি একটি কারণ হতে পারে। আবার বিশ্বব্যাপী এখন হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন কমে গেছে। ফলে বৈধ পথে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।’

বৈধ পথে অর্থ পাঠালে সরকারি প্রণোদনার বিষয়টিও উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় দেশে অনেক পরিবারের আয় যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বলেন, ‘পরিবারের সহায়তায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তারা (প্রবাসী শ্রমিকরা)।’

চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। আর আগস্টে আয় আসে ১৯৬ কোটি ডলার।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে আসে। এটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় যা ১৭৯ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

শেয়ার করুন