20201002104319.jpg
কলকাতায় পদ্মার ইলিশের ‘দাদাগিরি’

কলকাতায় পদ্মার ইলিশের ‘দাদাগিরি’

মাছ ক্রেতা অজয় সাহা বলেন, 'পদ্মার ইলিশ তো ভালোই। কিন্তু অনেকে আবার এই সুযোগে দীঘা বা বম্বের ইলিশ বেচে দিচ্ছে পদ্মার নামে। দীঘা তবু পাতে দেওয়া যায়, বম্বের আরব সাগরের ইলিশ তো সিলভার কার্পের থেকেও খারাপ!'

ইলিশ নিয়েই এখন সরগরম কলকাতার বাজার। আসল হোক, বা নকল, সবই বিকোচ্ছে পদ্মার নামে। দামও চড়া। তারপরও হাতের নাগালে মাছ পেয়ে খুশি কলকাতাবাসী। কারণ শরতের উৎসব মৌসুমে করোনাকালেও মিলছে ইলিশ।

পদ্মার পাশাপাশি কলকাতার মানুষদের কাছে গঙ্গার ইলিশও বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এখন আর গঙ্গায় তেমন ইলিশ মেলে না। স্থানীয় বাজারগুলোতে যা পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই সমুদ্রের ইলিশ। এবার পদ্মার ইলিশ আসায় স্বস্তিতে ভোজনরসিকেরা।

দেশের চাহিদা মেটাতে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে। তবে গত বছর পূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রফতানির ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার ইলিশ রফতানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

পশ্চিমবঙ্গের বাজারে সবজির আকাল চললেও বর্ষায় এবার ইলিশ মিলছে প্রচুর। দীঘা থেকে বঙ্গোপসাগরের ইলিশ তো আছেই। রয়েছে ডায়মন্ডহারবারের মোহনারও ইলিশ।   তবে সবার সেরা পদ্মার ইলিশ! মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে তা আসতে শুরু করেছে। বনগাঁর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রথম দিনই এসেছে ২০ টন ইলিশ। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই মাছ ভারতে ঢুকেই বাজিমাত করে দিয়েছে।

কলকাতার পাইকারি বাজারগুলোতেই এক হাজার থেকে ১২শ' রুপি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এক কেজির বড় ইলিশগুলি। খুচরা বাজারে ১৬শ' থেকে দুই হাজার রুপি পড়ছে কেজি প্রতি দাম। এমনকি, জাটকাও ৪০০ রুপি কেজি দরে গরীবের থলিতে ঢুকছে পদ্মারই নামে।

ইলিশপ্রেমী দেবাশিষ মন্ডল বলেন, বড্ড দাম। তবু ভালো, পাওয়া তো যাচ্ছে। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ খেতে পারবেন। আর গরীব বা নিম্নবিত্তদের দেখেই শান্তি! লকডাউনের ফলে অনেকেরই তো আয়-রোজগার কমে গিয়েছে।

তবে দাম বেশি মানতে নারাজ মাছ বিক্রেতা ননী সাহা। দমদমের এই খুচরো মাছ বিক্রেতার সাফ কথা, 'যেমন দাম, তেমন সাইজ! দাদা, পদ্মার ইলিশ বলে কথা, খরচা তো একটু হবেই। লোকে তো দেদার কিনছে।'

মাছ ক্রেতা অজয় সাহা বলেন, 'পদ্মার ইলিশ তো ভালোই। কিন্তু অনেকে আবার এই সুযোগে দীঘা বা বম্বের ইলিশ বেচে দিচ্ছে পদ্মার নামে। দীঘা তবু পাতে দেওয়া যায়, বম্বের আরব সাগরের ইলিশ তো সিলভার কার্পের থেকেও খারাপ!'

পশ্চিমবঙ্গের মাছ আমদানি সংস্থার সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মুকসুদ বলেন, গত বছর ৫০০ টন ইলিশ এলেও এবার আসবে ১৫০০ টন। ফলে ইলিশের চাহিদা অনেকটাই মিটবে। বাংলাদেশ সরকার ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আমদানির সময় বেঁধে দিয়েছে।

ইলিশ রফতানি করার অনুমতি দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ দিয়ে মুকসুদ জানান, ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ঢাকা। কিন্তু গত বছর থেকেই পূজার আগে ইলিশ আসছে।

শেয়ার করুন